«

»

Nov ২২

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল

১ম অংশঃ

নাস্তিকরা যখন বিভিন্ন ভ্রান্ত তত্ত্ব দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে, পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং আমাদের (মানুষ) সৃষ্টিতে কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই, এবং ব্যর্থ হয়। তখন বিশ্বাসীকে প্রশ্ন করে বসে- স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? কারণ বিশ্বাসীকে গায়েল করার জন্য নাস্তিকদের এটা প্রধান ও শেষ হাতিয়ার। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিসরে যুক্তি ও তথ্য উপাত্তার মাধ্যমে তাদের এই হাতিয়ারে আঘাত করতে চাই বিজ্ঞানের আলোকে। আর বিজ্ঞানের প্রধান ও অন্যতম একটি বিভাগ হল পদার্থ বিদ্যা*। আর পদার্থ বিজ্ঞানের গুরুত্ব পূর্ণ একটি অধ্যায় হল শক্তি। আর শক্তি সম্পর্কে একটি সূত্র আছে, যার নাম শক্তির নিত্যতার সূত্র। শক্তির নিত্যতার সূত্রের পূর্বে প্রচলিত ছিল ভরের নিত্যতার সূত্র। চিরায়ত বলবিদ্যার মতে ভরকে পরম বলে ধারণা করা হতো- অর্থাৎ বস্তুর ভর অবিনশ্বর, সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই। কিন্তু আইনস্টানের আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব থেকে পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি সূচীত হয়।আর সেটি হলঃশক্তি ও ভর সমতুল্য।এই উপলব্ধিটি এসেছে আইনস্টাইনের বিখ্যাত E = mc2 সূত্র থেকে। আর E=mc² সূত্র ভরের এই নিত্যতার সূত্রে আঘাত হানে। যার ব্যবহারিক প্রমাণ মেলে জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরনের মধ্যমে। এই ভয়ঙ্কর বিষ্ফোরনে এটাই প্রমাণিত হল ভর নষ্ট হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তারপর ভরের নিত্যতার সূত্র রূপ নেয় শক্তির নিত্যতার সূত্র হিসেবে (শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই)। আর এই নিত্যতার সূত্র পদার্থ বিদ্যার অন্যতম ভিত্তি? আর কেন-ই বা এই নিত্যতার সূত্রের প্রয়োজন। কারণ আপনার, আমার, আমাদের চারপাশের যা কিছুই আছে পৃথিবী সমেত সমগ্র মহাবিশ্ব (বস্তু জগত), অর্থাৎ অস্তিত্বশীল সকল কিছুর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য প্রথমে প্রয়োজন এমন একটা কিছু, যার কোনো সৃষ্টি নাই। সৃষ্টি ছাড়া কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকলেই কেবল প্রমাণ করা সম্ভব আপনার, আমার, সব কিছুর অস্তিত্ব আছে। তা-না হলে কোন ভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব নয় আপনার, আমার অস্তিত্বের কথা। সুতরাং আপনার, আমার আস্তিত্ব যখন আছে, তখন অবশ্যই ধরে নিতে হবে, এমন একটা কিছু অবশ্যই আছে যার কোনো সৃষ্টি নেই। তাহলেই স্বপ্রমাণ বস্তু জগতের অস্তিত্বের। একই ভাবে পদার্থ বিদ্যার অস্তিত্ব আছে প্রমানের জন্য প্রয়োজন শক্তির নিত্যতার সূত্রের। আমরা যদি শক্তি সম্পর্কে আরো ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে পারি, এবং দেখি যে শক্তও কোন উৎস থেকে সৃষ্টি, সেই দিন শক্তির নিত্যতার সূত্র রূপ লাভ করবে- শক্তির সৃষ্ট উৎসের নিত্যতার সূত্র হিসেবে। তারপরও প্রয়োজন নিত্যতার সূত্রের, প্রয়োজন এমন কিছুর যার সৃষ্টি নেই ও চিরকাল ধরে ছিল। অতএব সব কিছুরই সৃষ্টির প্রশ্ন করা যায় না। এক পর্যায়ে গিয়ে থামতেই হবে এই সৃষ্টির প্রশ্নের ব্যাপারে। যেমন পদার্থ বিদ্যা গিয়ে থেমেছে শক্তির সৃষ্টির প্রশ্নের কাছে। অর্থাৎ- শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। এই মহাবিশ্বে শক্তির পরিমান ধ্রুব। শক্তি এক বা একাদিক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে, যার ফল স্বরূপ মহাবিশ্বের সকল অস্তিত্ব।
তাহলে নাস্তিকবাদ এই প্রশ্ন করতে পারে না- স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? আর বিশ্বাসীরা স্রষ্টা পর্যন্ত গিয়ে থেমে যান সৃষ্টির প্রশ্নের ব্যাপারে। এটা প্রয়োজন আস্তিকদের নিজের অস্তিত্ব প্রমানের জন্য। কারণ কোন অস্তিত্বশীল-ই চাইবেনা এটা যে, আমার অস্তিত্ব নাই (অস্তিত্বশীল থাকা স্বত্বেও)।

২য় অংশঃ

স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল এর ১ম অংশে বিজ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে উত্তর দেওয়ার প্রয়াস করেছি। ২য় অংশে কুরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। সুধী পাঠকের অবগতির জন্য বলছি, আমি একজন তুচ্ছ জ্ঞানের সাধারণ মানুষ। ভূল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, এবং যুক্তি যুক্ত মনে হলে গ্রহন করবেন। তবে মহান আল্লাহ সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যাই চুড়ান্ত এটা ভাববেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতালা বলেন- তাঁর অনন্ত জ্ঞানের কোন বিষয়ই কেউ আয়ত্ত্ব করতে পারে না (২:২৫৫)। অর্থাৎ মানুষ আমার সম্পর্কে তুচ্ছ জ্ঞানই লাভ করতে পারবে (আল কোরআন)। নিম্মে কয়েকটি গুরুত্ব পূর্ণ আয়াত দেওয়া হল যে গুলো আল্লাহ তালার অস্তিত্বের প্রকাশ-

(আল্লাহ)! তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত- তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত (৫৭:৩)।

ইহার (সৃষ্টির) উপর অবস্থিত যাবতীয় বস্তু ধ্বংসের অধীন। শুধু তোমার সম্মানিত প্রভুর সত্ত্বা লয়হীন ও অনন্তস্থায়ী(৫৫:২৬-২৭)।

আল্লাহর অস্তিত্ব ব্যতীত সমস্ত কিছুই নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে(২৮:৮৮)।

আল্লাহ! তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব…..(২:২৫৫)।

তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নাই… (২৮:৭০)।

তিনিই আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, তাঁর সন্তান হইবে কিরূপে (৬:১০১)।

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ নাই এবং তাহার সহিত অপর কোন উপাস্য নাই (২৩:৯১)।

বল- আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
এবং কেহই তাঁর সমকক্ষ নয় (১১২:১-৪)।

শক্তির সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই তুচ্ছ, শক্তির নিত্যতার সূত্র ছাড়া এর সম্পর্কে বেশি কিছু জানা নেই। তবে ধারনা করা হয় ফোটন কণা সহ, মৌলিক বল সৃষ্টিকারি বিভিন্ন চক্রণ বিশিষ্ট্য ফোটন কণা গুলো শক্তির গুচ্ছ বা প্যাকেট। আর এই ফোটন কনা গুলোই সৃষ্টি করে পদার্থের প্রথম ভিত্তি কোয়ার্ক। কারণ কোয়ার্ক পর্যন্ত কণাগুলো কে পদার্থ হিসেবে ধরা যায়। ফোটন কণাগুলো হল আলোক কণা বা বিভিন্ন বলবহী কণা। কোয়ার্ক ৬ ধরণের, এই কোয়ার্ক গুলোই পরমানুর মূল ভিত্তি ৩টি স্থায়ী কণিকা- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন সৃষ্টি করে। ফোটন কণা সম্পর্কে আমদের যথেষ্ট জ্ঞান থাকলে ও, তারপর (শক্তি সম্পর্কে) আমাদের অর্জন শূন্যের কোটায়। যেহেতু ফোটন কণার পর শুধু শক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সুতরাং শক্তিই হল সব কিছুর আদি ভিত্তি, এবং কোন অস্তিত্ব (পদার্থ) ধ্বংসের পর শক্তিতে পরিনত হয়, তাই শক্তিই হল অন্ত। শক্তি সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি তাহল- শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। এই মহাবিশ্বে শক্তির পরিমান ধ্রুব। শক্তি এক বা একাদিক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে, যার ফল স্বরূপ মহাবিশ্বের সকল অস্তিত্ব। এবার আপনার সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে কুরআনের- ৫৭:৩, ৫৫:২৬-২৭, ২৮:৮৮, ২:২৫৫, ২৮:৭০, ৬:১০১, ২৩:৯১ ও ১১২:১-৪ নং আয়াত গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। দেখবেন শক্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানের ধারনা ও আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আল্লাহর ভাষ্য একেবারে হুবহু মিলে যাচ্ছে।

৫৭:৩ নং আয়াতে আল্লাহ আদি ও অন্ত, ৫৫:২৭ নং আয়াতে আল্লাহর সত্ত্বা লয়হীন ও অনন্তস্থায়ী এবং ২:২২৫ নং আয়াতে আল্লাহ চিরঞ্জীব সত্ত্বা বলে দাবি করেছেন। ৫৫:২৬, ২৮:৮৮ নং আয়াতে বলাহয়েছে আল্লাহর অস্তিত্ব ব্যতীত সমস্ত কিছুই নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে অথবা ধ্বংসের অধীন। এর আলোকে আমরা বলতে পারি- আল্লাহর সৃষ্টি বা ধ্বংশ নাই।

২৮:৭০, ৬:১০১, ২৩:৯১ ও ১১২:১-৪ নং আয়াতের প্রেক্ষিতে আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয় সত্ত্বার দবিদার। এবং ১১২:৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ কাউকে জন্ম দেননি (জন্ম গ্রহণ ও জন্ম দান), অর্থাৎ এখানে এটাই নির্দেশ করে যে আল্লাহর সত্ত্বা ধ্রুব। কারণ আল্লাহ জন্ম গ্রহণ করলে আল্লাহর সত্ত্বা ধ্রুব থাকত না, অনুরূপ ভাবে তিনি কাউকে জন্ম দিলেও।

(প্রথমে-ই, যদি ভূল ব্যাখ্যা করে থাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করছি) ৫৫:২৬, ২৮:৮৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহর অস্তিত্ব ব্যতীত সৃষ্টির উপর অবস্থিত যাবতীয় বস্তু নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে। বস্তু যে নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা আমরা আগেই জেনেছি। অর্থাৎ কোয়ার্ক হল বস্তু জগতের সর্বশেষ অস্তিত্ব, কোয়ার্কের পর পদার্থের আর কোন অস্তত্ব থাকে না, পদার্থ হয়ে যায় শক্তি (এক অদৃশ্য সত্ত্বা)। সুতরাং শক্তিকে যদি আল্লাহর সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এখানে শক্তিকে আল্লাহর সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করার পিছনে আর একটি ব্যাখ্যা হল, কুরআনে আল্লাহর যত গুলো নাম আছে সব গুলোই গুণবাচক নাম। এই গুণবাচক নাম গুলোর মধ্য কয়েকটি হল- আল ক্কাভিও, আল ক্কাদিরু, আল আজিজু, যুত তাওল এবং যুল কুওয়্যাত। এই নাম গুলোর মূল শব্দ সরাসরি শক্তি বা এনার্জি কে নির্দেশ করে। অনুরুপ ভাবে আর একটি নাম হল আল নূর, যার অর্থ আলো। শক্তি এবং আলো দুইটিই শুধু গুণ গত অস্তিত্ব নয়, সত্ত্বা গত অস্তিত্ব বটে। মহান আল্লাহ হয়তো এখানে তাঁর গুণ গত বৈশিষ্ট্যর পাশাপাশি সত্ত্বা গত বৈশিষ্ট্যর কথাও বলেছেন। যা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন সমগ্র সৃষ্টি জগত। তাই বস্তু জগত ধ্বংশ হয়ে তাঁর সত্ত্বায় বিলীন হয়ে যায়। ইহার (সৃষ্টির) উপর অবস্থিত যাবতীয় বস্তু ধ্বংসের অধীন। শুধু তোমার সম্মানিত প্রভুর সত্ত্বা লয়হীন ও অনন্তস্থায়ী(৫৫:২৬-২৭)। তাহলে আমরা বলতে পারি,

মহান স্রষ্টার সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। তিনি চিরকাল থেকে ছিলেন এবং অনন্তকাল থাকবেন, তিনি শাস্যত চিরঞ্জীব।

পরিশেষে সুধী পাঠকের নিকট একটা প্রশ্ন, আপনি কি মনে করেন শক্তি থেকে এমনিতেই সবকিছু সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, নাকি এর পিছনে কোন বিজ্ঞ স্রষ্টা কৃতিত্ব রয়েছে। যিনি অথবা যেখান থেকেই হোক! আমাদের ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে, তাঁকেই স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করতে আমাদের সমস্যা কোথায়। একটু ভেবে দেখেন সৃষ্ট হিসেবে আমরা কতই নিকৃষ্ট, স্রষ্টা কেই মেনে নিতে পারছি না।
(মহান আল্লাহ আমার (আমাদের) ধারনা থেকে অনেক উর্ধে, আমার এ তুচ্ছ জ্ঞানে তাঁর সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞানই লাভ করতে পারব, সুস্পষ্ট ধারনা অর্জন করা কখনো সম্ভব নয়)।

২০ comments

Skip to comment form

  1. 7
    মাহফুজ

    আপনার চিন্তাশীলতাকে মহান আল্লাহতায়ালা যেন আরও সমৃদ্ধ করে দেন-

    মহান স্রষ্টার ব্যাপারে তর্ক নয়- বিশ্বাসই একমাত্র সম্বল।

    তাই তো বিশ্বাসীরা এ মহাবিশ্বের পরতে পরতে স্রষ্টাকে খুঁজে পান। আর যারা অবিশ্বাসী তারা পান না।

    স্বরচিত কবিতা দুটি জুড়ে দিলাম-

     

    'অণু , পরমাণু'

    ক্ষণ ও স্থানের মালিক আল্লাহ্‌
    আদেশ দিলেন কুন্,
    তখন থেকেই সৃষ্টির শুরু
    শুরু হলো প্রসারণ।
     

    জ্যোতির উপর জ্যোতি শক্তি
    জন্ম নিল বলবাহী কণা,
    থাকে এরা চোখের আড়ালে
    অপবর্জন নীতি মানে না।

     

    ভরবাহী কণা কার্কের রূপে
    বস্তু-জগৎ জন্ম নিল,
    অপবর্জন নীতির আঁচলে
    জগৎসমূহ গঠিত হলো।

     

    বলবাহী কত মৌল-কণা
    সংখ্যা অজানা তার,
    গ্লুয়োন, ফোটন তরঙ্গমালায়
    বলের সমাহার;
     

    বলবাহীরা কণা নয় খাঁটি
    নেই যে তাদের ভার,
    নিইট্রিনো নাকি শুন্যের চেয়ে
    অল্প ওজনদার।

     

    একটি নীচু, দুটি উঁচু কার্ক
    প্রোটনের রূপ গঠন করে,
    একটি উঁচু, দুটি নীচু কার্ক
    পরমাণু মাঝে নিউট্রন গড়ে।
     

    বস্তু গঠিত ‘মৌল, যৌগে’
    মৌল, যৌগ গঠিত অণুতে,
    অণুর মাঝে পরমাণু আছে
    পরমাণু হয় নিউক্লিয়াস হতে।

     

    গ্লুয়োন কণা বহন করে
    সবল-বল কেন্দ্রের পানে,
    নিউট্রন আর প্রোটনকে টেনে
    নিউক্লিয়াস গড়ে নিবিঢ় বাঁধনে।

     

    ফোটন প্রবাহ শুরু হলে পরে
    ইলেকট্রন ঘোরে নিউক্লিয়াস ঘিরে,
    সুনিপুন হাতে গড়েছেন খোদা
    অণু, পরমাণু সঙ্গত হারে।

     

    পরমাণু মাঝে ভীষন শক্তি
    সূহ্ম বলয়ে সুপ্ত রয়,
    পরমাণু বোমা গঠিত হলে
    ধ্বংসের বীজ রোপিত হয়।

     

    বিজ্ঞান আর শুভ-চেতনার
    মহামিলনের মিলন মেলায়,
    শুভ-শক্তির উত্থান হোক
    রচিত হোক সুখের বলয়।
    ……………………………

    'প্রত্যাবর্তন'

    গড়েছেন খোদা গোটা মাখলুক
    তারই শক্তির প্রকাশ সাধনে
    স্রষ্টার দান বুদ্ধির বলে
    সক্ষম মোরা জ্ঞান আহরণে,
    জ্ঞানী বিজ্ঞানী গবেষণা করে
    শক্তির রূপ উদঘাটনে
    বিবেকীরা তা কাজে লাগিয়ে
    এই ধরাতলে মঙ্গল আনে,
    কেউ পায় দিশা সত্য পথের
    কেউবা ছোটে নফ্‌সের টানে
    বিবেকহীনেরা মানবতা ভুলে 
    শক্তি খাটায় ধ্বংস সাধনে,
    বস্তু-জগৎ বিলীন হবে
    মহাধ্বংসের সেই মহাক্ষণে
    রইবে শুধু বিপুল শক্তি
    করবে গমন আল্লাহ পানে।
    …………………………………

    1. 7.1
      সুলতান মাহমুদ

      Mahfuz ভাই অনেক সুন্দর কবিতা লিখেছেন, ধন্যবাদ। আসলে ভাই আমরা স্রষ্টকে নিয়ে তর্ক করছি না, আলোচনার মাধ্যমে নিজের ভুল ত্রুটিগুলো সমাধান করতে চেষ্টা করছি…..

      1. 7.1.1
        মাহফুজ

        ভাই, আমরা তো বিশ্বাসী। স্রষ্টাকে নিয়ে আমরা তর্ক করতে যাব কেন?
        আমি তো অবিশ্বাসীদের কথাই বোঝাতে চেয়েছি-  যারা স্রষ্টাকে নিয়ে তর্ক সৃষ্টি কোরে মজা পায়।
        মহান আল্লাহ যেন আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন। তাঁর প্রেরিত বাণী নিয়মিতভাবে অনুধাবন ও আমল করার তৌফিক দান করেন এবং বড় বড় পাপ করার হাত থেকে বেঁচে থাকার ও সরল পথে চলার সামর্থ বৃদ্ধি কোরে দেন।
        ধন্যবাদ-

  2. 6
    সুলতান মাহমুদ

    ফাতমী, এম ইউ আমানকরতোয়া

    ভাই, সকলে প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি; আপনারা কি আমার পোষ্টটি ভাল করে পড়েছেন! কারণ আপনারা শুধু একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। অর্থাদ মন্তব্যে আমাকে যে জিনিসটি বুঝাতে চেষ্টা করছেন- আমি আল্লাহকে শক্তির সাথে তুলনা করে বড় রকমের ভুল করেছি; এবং আমি যদি এর উপর অটল থাকি হয়তো ঈমানও চলে যেতে পারে। আমি আসলে এই পোষ্টে এ ধরনের মন্তব্য হবে ভাবতেও পরিনি, ভেবে ছিলাম- বিজ্ঞানের তথ্য গুলো নিয়ে সমালেচনা হবে (যেমনঃ ফাতেমী ভাই ও আমান ভাই একটু সমালোচনা করেছেন); আর আমি যুক্তি খন্ডন করব। কিন্তু এমন মন্তব্যের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, তাই উত্তর গুলো দিতে সময় লাগবে। তবে ফাতমী, এম ইউ আমানকরতোয়া ভাই মনে কিছু নিবেন না; আপনারা মনেহয় আমার পোষ্টটির মূলভাব বুঝতে পারেন নাই। কারণ প্রথমতঃ শুরুতেই আমার লেখার উদ্দেশ্য তুলে ধরেছিলাম

    //নাস্তিকরা যখন বিভিন্ন ভ্রান্ত তত্ত্ব দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে, পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং আমাদের (মানুষ) সৃষ্টিতে কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নেই, এবং ব্যর্থ হয়। তখন বিশ্বাসীকে প্রশ্ন করে বসে- স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? কারণ বিশ্বাসীকে গায়েল করার জন্য নাস্তিকদের এটা প্রধান ও শেষ হাতিয়ার।//

    আর যেহেতু তারা বিজ্ঞানের উপর ভাল ধারনা রাখে, তাই তাদেরকে আমি বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে আল্লাহর সৃষ্টি নেই।

    দ্বিতীয়তঃ আমি এমন কথা বলেনি যে “আল্লাহ” শক্তি। হয়তো যুক্তি দ্বারা আল্লাহকে শক্তির সাথে তুলনা করেছি (যা মন্তব্যে উত্তর দেওয়া হবে), তবে একথা বলেনি- আল্লাহ হল শক্তি। সেজন্য আল্লাহকে শক্তির সাথে তুলনা করার পূর্বে প্রথমেই বলেছিলাম-

    //(প্রথমে-ই, যদি ভূল ব্যাখ্যা করে থাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করছি)//

    এবং যুক্তি উপস্থাপনের শেষে বলেছিলাম-

    //(মহান আল্লাহ আমার (আমাদের) ধারনা থেকে অনেক উর্ধে, আমার এ তুচ্ছ জ্ঞানে তাঁর সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞানই লাভ করতে পারব, সুস্পষ্ট ধারনা অর্জন করা কখনো সম্ভব নয়)//

    আর আপনারা আমার উপর সরাসরি যে দায় ভার চাপিয়েছেন “আমি বলেছি আল্লাহ হল শক্তি” সেই দায় ভার নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়; তারপরও যদি চপিয়ে দেন তাহলে তা হবে যুলুম। কেননা তার আর একটি প্রমাণ হল পোষ্টটির ১ম অংশের শেষের দিকে বলেছিলাম-

    //আমরা যদি শক্তি সম্পর্কে আরো ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে পারি, এবং দেখি যে শক্তও কোন উৎস থেকে সৃষ্টি, সেই দিন শক্তির নিত্যতার সূত্র রূপ লাভ করবে- শক্তির সৃষ্ট উৎসের নিত্যতার সূত্র হিসেবে।//

    চলবে………………. 

    1. 6.1
      ফাতমী

      @সুলতান মাহমুদ,

      এবার আমি আপনার লেখার সুর ধরতে পেরেছি। একটা বাক্য লিখার সময় চিন্তা করবেন ঐ বাক্য পড়ে অন্যরা কি ভাববে। যাইহোক, আসলে ধর্ম ও কোরান টেনে আনা আপনার ভুল হয়েছে। দর্শন ও বিজ্ঞানের ভিতরই আপনার থাকা উচিত ছিল, তাহলে আমরা আকিদাগত প্রশ্নগুলো তুলতাম না, কারণ আমাদের বিশ্বাস আল কোরান কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত আর আমরা এর বাহিরে যাই না। আমাদের নতুন কিছু আবিষ্কারের দরকার নেই। 

      আপনি সেকুলার ধারনা গুলির উপর আরেকটু দৃষ্টি রেখে নতুন পোস্ট সাজাতে পারেন। বর্তমান লেখা এডিটিং করে সাবধানতা লিখে দিন "আমার পোস্ট পড়ে কেউ নিজের আকিদা নির্ধারন করবেন না, এবং আল্লাহ মানেই শক্তি এটা আমি বুঝাচ্ছিনা, এটা যুক্তি তর্কের জন্য লিখা" তাহলে সাধারণ মানুষ সাবধান হয়ে যাবে। 

      1. 6.1.1
        সুলতান মাহমুদ

        ফাতমী ভাই,

        //একটা বাক্য লিখার সময় চিন্তা করবেন ঐ বাক্য পড়ে অন্যরা কি ভাববে// ধন্যবাদ এর জন্য; তবে ভাই আমরা মানুষ তাই ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেক সময় নিজের ভুল গুলো নিজের কাছে ধরা পরে না। 

        //বর্তমান লেখা এডিটিং করে সাবধানতা লিখে দিন "আমার পোস্ট পড়ে কেউ নিজের আকিদা নির্ধারন করবেন না, এবং আল্লাহ মানেই শক্তি এটা আমি বুঝাচ্ছিনা, এটা যুক্তি তর্কের জন্য লিখা" তাহলে সাধারণ মানুষ সাবধান হয়ে যাবে// ভাই আমি মনে করি এ ধরনের সাবধানতা লিখার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ কেউ যদি মনোযোগ সহকারে লেখাটা পড়ে (শুধু ভুল ধরার জন্য নয়) তাহলে আমি কি বুঝাতে চেয়েছি স্পষ্ট-ই বুঝবে। 

        //আসলে ধর্ম ও কোরান টেনে আনা আপনার ভুল হয়েছে। দর্শন ও বিজ্ঞানের ভিতরই আপনার থাকা উচিত ছিল, তাহলে আমরা আকিদাগত প্রশ্নগুলো তুলতাম না, কারণ আমাদের বিশ্বাস আল কোরান কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত আর আমরা এর বাহিরে যাই না। আমাদের নতুন কিছু আবিষ্কারের দরকার নেই// ভাই আল-কুরআনের সর্বোচ্চ জ্ঞান কি আপনি আর্জন করে ফেলেছেন; আমিও আল-কুরআনের বাইরে যাই নি, কুরআনের রেফারেন্স সহকারে তথ্য উপস্থাপন করবো। বর্তমানে খুব ব্যস্ত সময় যাচ্ছে, তাই আলোচনা করার সম্ভবপর হচ্ছে না। আর দর্শন ও বিজ্ঞান কুরআনের বাহিরে না, বরং কুরআন তো বিজ্ঞানময় গ্রন্থ, তাই মনেহয় আল্লাহ "বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ" করেছেন। আপনার নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রয়োজন না থাকতে পারে, কিন্তু তা সকলের উপর চাপানো মনেহয় যুক্তিযুক্ত হবে না। সব-ই আলোচনা করবো, হয়তো সময় লাগতে পারে। তবে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আলোচনার ধীর গতির কারণে। 

  3. 5
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ভিন্ন একটি প্রশ্ন। ‘ওহেদ’ ও ‘আহাদ’ এই দুইটির মধ্যে পার্থক্য কি? আমরা জানি, ওহেদ অর্থ এক। বলা দরকার ছিল “কুল হু আল্লাহু ওহেদ” কিন্তু বলা হয়েছে “কুল হু আল্লাহু আহাদ”।   দয়া করে বিস্তারিত ব্যখ্যা করে সাহায্য করবেন।  ধন্যবাদ।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      ওয়াহিদ (واحد)–এর অর্থ আসে সংখ্যার মোকাবেলায়। অর্থাৎ দুই নয়, তিন নয়, চার নয় –শুধু ‘এক’। আল্লাহ বলেন, আন্নামা ইলাহুকুম ইলাহুন ওয়াহিদ, তোমাদের ‘ইলাহ’ (মা’বুদ/উপাস্য) শুধু একজনই।

      আহাদ (أحد) –এর অর্থ আসে সাধারণত ভগ্নাংশের মোকাবেলায়। অর্থাৎ অর্ধেকাংশ নয়, তৃতীয়াংশ নয়, চতুর্থাংশ নয়। 'আহাদ' আংশিক ও বিভাজনের ধারণামুক্ত  ‘এক’। এখানে ইংরেজি একটি idiom এর কথা উল্লেখ করতে পারি। কোনো ছেলের ব্যাপারে বলা হয়, He is a chip off the old block. (আক্ষরিক অর্থে), সে তার পিতার একটি ছোট্ট টুকরো অর্থাৎ ছেলেটির কাজ-কর্মে তার পিতার গুণ বা বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। সূরা ইখলাসে যখন বলা হয়, ‘আল্লাহু আহাদ’, তখন এই অর্থ আসে যে তিনি সত্ত্বাগতভাবে ‘এক’, ইউনিক, তিনি কোনো উপায়ে কোনো মানবিক বা এই সৃষ্ট জগতের কোনো কিছুর অংশ বা গুণের অংশ নন –কোনো কিছুর দূরতম ভগ্নাংশ বা সাদৃশ্যপূর্ণ নন। এই ধারণা সূরাটি সামনে রাখলেই পেয়ে যাবেন। এটা আবার সংখ্যার অস্বীকার (negate) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন আমার ঘরে কেউ আসে নি (এখানে কেউ-এর স্থলে ‘আহাদ’ ব্যবহৃত হবে)।  আর এর মোকাবেলায় ইতিবাচক বুঝাতে ওয়াহিদ হবে যেমন আমার ঘরে একজন (ওয়াহিদ) এসেছিল।  

      তবে এই দুই শব্দের ব্যাখ্যা ও ব্যবহার নিয়ে আর দীর্ঘ কথা বলা যেতে পারে এবং কোরানের আয়াতের ব্যবহারও দেখানো যেতে পারে। তবে আমার মনে হয় এতটুকুই যথেষ্ট হবে।

      1. 5.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        অনেক অনেক ধন্যবাদ আহমেদ ভাই। zajak Allah kyir.

      2. 5.1.2
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        প্রিয় আহমদ ভাই,

        আমার ঘরে কেউ আসে নি (এখানে কেউ-এর স্থলে আহাদব্যবহৃত হবে)

        এটা কি ব্যখ্যা করবেন? আমার বুঝে আসেনি। “ওয়াহেদ” ও “আহাদ” এই দুই শব্দের ব্যখ্যা যদি বিস্তারিত করেন, আমি-সহ অনেক পাঠক  উপকৃত হবে।

        ভাল থাকুন।

        1. 5.1.2.1
          এম_আহমদ

          (১) এটা আরবির ব্যবহারিক (usage) ব্যাপার। এজন্য আপনাকে প্রাথমিক আরবি জানার দরকার হবে। কথাটি এভাবে হয়, ما جاء في بيتي أحد, (মা জা’আ ফী বাইতী আহাদ), আমার ঘরে কেউ আসে নি অর্থাৎ একটি লোকও আসেনি। এখানে যদি আহাদের স্থানে ওয়াহিন (واحد) বসিয়ে দেন তবে বাক্য ঠিক হবে না। আমরা সংখ্যা negate করতে বলি لا أحد في البيت (লা আহাদা ফিল-বাইত) ঘরে কেউ নেই। এখানেও আপনি واحد (ওয়াহিদ) বসাতে পারবেন না।

          (২) واحد সাধারণত বিশেষণের ভূমিকায় থাকে। যেমন একটি কলম قلم واحد কালামুন ওয়াহিদুন। এখানে আপনি ওয়াহিদের জাগায় আহাদ দিতে পারবেন না।  সংক্ষেপে হয়ত এই বুঝই ভাল হবে যে আমরা যখন এক থেকে গণনা শুরু করি, তখন এভাবে অগ্রসর হই:  এক, দুই, তিন … আর আরবিতে এভাবে: ওয়াহিদ, ইছনান, ছালাছাহ …।  এখানে আহাদুন, ইছনান বলি না।
          তবে সংখ্যা দশের অঙ্ক পাড়ি দিলে তা এভাবে আসবে, আহাদা আশারা (أحدَ عشرَ) এগারো, এবং একুশে গিয়ে তা আসবে আহাদুন ওয়া ইশরূন (أحدٌ وعشرونَ)। এসব হচ্ছে ব্যাকরণের ব্যাপার।

          (৩) তবে আরবরা বলেন, আহাদ (أحد)   মূলত ওয়াদ (وَحَدٌ) –এর অপর রূপ। স্থানভেদে এবং গোত্রভেদে ওয়াও (و) হামজায় (أ/আলিফে) রূপান্তরিত হয়েছে। তবে সবদিন এটা ছিল ‘এক’ অর্থে এবং লা-শরিক আল্লাহর এক নাম। (মানি ওয়াহাদ ও আহাদ উভয় অর্থই ‘এক’)।

          দেখেন তো এবারে আরও কিছু স্পষ্ট হল কী না।

  4. 4
    করতোয়া

    বৈজ্ঞানিক ভাবে আল্লাহকে বিশ্লেষন করার দরকার কি? আল্লাহ যেভাবে নিজের পরিচয় কোরআনে দিয়েছেন সেভাবেই তাঁর পরিচয়ে আমরা সন্তুষ্টি থেকে তাঁর নির্দেশিদ পথে চালিত হলেই তো লেঠা চুকে যায়। হুদাই বিজ্ঞান দিয়ে আল্লাহকে বিশ্লেষন করতে যেয়ে নিজেকে শিরক পাপের বেড়াজালে জড়ানোর রিস্ক নেয়া ঠিক নয়। 

    আমি যখন ল্যাবে ক্যান্সার রোগীর ক্যান্সার কোষের জেনোমিক্স ষ্ট্যাডি করি তখন প্রথম দিকে মানুষ ও ক্যান্সারাস কোষের জেনোমিক্স সন্নিবেষন দিয়ে আল্লাহকে বোঝার চেষ্টা করেছিলাম তখন দেখলাম পাগল হবার উপক্রম আমার। আমি বাদ দিয়ে সোজা স্প্টা পথে এখন এগুবার চেষ্টা করি। 

    কিংকশুক ভাই এর মন্তব্যটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

  5. 3
    এম ইউ আমান

    এটি একটি পুরানো প্রশ্ন, অনেকেই করেছেন (যেমন বার্ট্রান্ড রাসেল), অনেকেই উত্তরও দিয়েছেন। এই প্রশ্নের বিরুদ্ধে স্ট্রঙ্গেস্ট আর্গুমেণ্ট হলো- এটি একটি ‘লোডেড’ প্রশ্ন- যা এজিউম করে যে, আল্লাহ সৃষ্টি। কিন্তু তিনি তো সৃষ্টি নন, স্রষ্টা।  ‘লোডেড’ প্রশ্ন হলো এমন প্রশ্ন যা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আনজাস্টিফায়েড এজাম্পসন করে করা হয়। “এখনো বউকে পেটান?”- হল এমনি একটি প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি ধরে নিচ্ছে, ১-আপনার বউ আছে, এবং ২-আগে পেটাতেন। এরূপ প্রশ্নের সরাসরি হ্যাঁ অথবা না উত্তর হয়না।

    এই আর্টিকেলে বিজ্ঞান নিয়ে কিছু মিস ইননফরমেশন রয়েছে যেমন-

    তারপর ভরের নিত্যতার সূত্র রূপ নেয় শক্তির নিত্যতার সূত্র হিসেবে (শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই)”।

    ভরের নিত্যতার সূত্রের আবিস্কারকের কৃতিত্ত্ব ল্যাভয়সিয়েকে দেওয়া হয়। আর ফার্স্ট ল অব থার্মোডাইনামিক্স হল এসেনসিয়ালি শক্তির নিত্যতার সূত্র। আইনস্টাইনের E=mc2 মানে হলো, ভর ও শক্তি আলাদা আলাদা ভাবে কন্সার্ভ হয়না বরং একসাথে কনসার্ভড হয়। অর্থাৎ এখন ভরের নিত্যতার সূত্র বা শক্তির নিত্যতার সূত্র বলার কোন মানে হয় না। এখন যা আছে তা হলো, ভর-শক্তির নিত্যতার সূত্র।      

    কিংশুকের মন্তব্যটি ভাল লেগেছে।

  6. 2
    কিংশুক

    আপনার ব্যাখ্যার সাথে বোধহয় সুফি উহাদাতুল উজুদের মিল রয়েছে। কোন কিছুই আল্লাহ পাকের অনুরুপ নয়। তিনি ও তাঁর সৃষ্টি আলাদা। আল্লাহ পাক ওহীর মাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে আমাদেরকে যা জানিয়েছেন এর বাইরে আমাদের যেকোন কুধারনা থেকে আল্লাহ পাক মুক্ত। তাঁর সকল সৃষ্টির সকল সীমাবদ্ধতার উর্দ্ধে তাঁর অবস্থান। এজন্য আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালার জাত সম্পর্কে তিনি যা জানিয়েছেন তার বাইরে বেশী চিন্তা না করে তাঁর সিফাত সম্পর্কে চিন্তা করে আল্লাহর রংগে রঞ্জিত হবার চেষ্টা করাই ভালো।

  7. 1
    ফাতমী

    আপনি এখানে যে সব ভুল করছেন, সেগুলো বিভিন্ন ট্রাম বুঝার ভুল। তার আগে বলে নেই, ভারতীয় হিন্দু দর্শনে শক্তিকে পুজা করা হয়, শিবের স্ত্রী পার্বতী; বাংলায় দুর্গা রূপে। দেবী প্রকৃতি নামে শক্তির রূপ ধরে নেওয়া হয়। যদি প্রকৃতিকে আপনি বস্তু ধরেন, তাহলে হিন্দুইজমে আইনস্টাইনের অনেক আগ থেকে শক্তি থেকে বস্তুর রূপান্তরের ধারনা আছে। আরো ধারনা করা হয়, বাকি দেবতাগণ শক্তির বিভিন্ন রূপ। যেটা বইয়ের ভাষায় শক্তির রূপান্তর হয়, সৃষ্টি বা ধ্বংশ হয় না। 

     

    আপনার ধারণার সাথে বৌদ্ধ দর্শনেরও অনেক মিল আছে। নির্বান হল শক্তির সাথে মিশে যাওয়া। আবার বাংলার কোন কোন মারিফতী কিংবা কাউরো মতে বাউল (বাউলদের মধ্যেও মতামতের ব্যাপক পার্থক্য আছে) দর্শনে পাওয়া যায়, "তুমি ফুল তুমি ফল, তুমি নাকের গন্ধ …. এই যে দুনিয়া কিসেরো নাগিয়ে, এত যত্নে গড়াইয়াছেন সাই"

     

    এই দর্শনগুলি অত্যান্ত পুরাতণ। আমার স্কুলের স্যার আপনার মত একই ভুল করেছিলেন, তিনি বলে ছিলেন, আল্লাহ সর্ব শক্তিমান, আবার শক্তির কোন সৃষ্টি বা ধ্বংশ নেই। 

     

    আমি অনলাইনে আর্গুমেন্ট করতে যেয়ে একজনকে পেয়ে ছিলাম, যে বলতেছিল, আলোই (নূরই) আল্লাহ পাক, যেহেতু আলকে পিয়র এনার্জি হিসাবে বিবেচনা করা যায়। 

     

    কিন্তু মারীফতী দর্শনে মানুষের একটা স্টেইজ আছে, সে স্টেইজে মানুষ (ভুল করে) মনে করে, এই বিশ্ব প্রকৃতিই আল্লাহ পাক, অর্থ্যাত এত দূর বুঝতে পারে শক্তি থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি। তখন শক্তিই আল্লাহ কল্পনা করে। 

     

    আপনার বিষয়ের ভয়ংকরত্ব হল, আল্লাহ পাক যা না, যদি তাকে তা মনে করেন, তাহলে খুব সম্ভবত আপনার বিশ্বাস আল্লাহ পাকের উপর থেকে খারিজ হয়ে গেছে, কারণ আপনি ভিন্ন কিছুকে আল্লাহ মনে করছেন। তাই ভয়ংকর বিষয় নিয়ে কাজ করলে খুব সাবধানে করতে হয়। ইসলামে বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশ্ব জগত এবং আল্লাহ পাক এক নন, এবং আপনার মনের মধ্যে আল্লাহ পাক সম্পর্কে যত ধরনের ধারণা হয়, তিনি সব গুলি ধারনা থেকে মুক্ত। আল্লাহ পাককে জানা যায় না, সেটা বুঝতে পারাই আল্লাহ পাক সম্পর্কে সর্ব্বোচ্চ বুঝা। বাকিটা সম্পর্ণ আল্লাহ পাকের উপর নির্ভর করে, তিনি কোন জ্ঞান আপনাকে দিবেন, কোনটি দিবেন না। আল্লাহ পাকের কোন তুলনা নেই। 

     

    এই লেখাটি পড়ুনঃ সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহ পাক সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের উত্তর

     

    সাবধানতা, আল্লাহ পাক নিয়ে চিন্তা করলে কখনই ওহীর বাহিরে যাবেন না। ওহী হচ্ছে আল কোরান, এবং এর ব্যাক্ষা আল হাদিস। 

     

    এবার বিজ্ঞানে চলে যাই, শক্তি বলতে আসলে আপনি কি বুঝেন? ভাল করে লক্ষ্য করে দেখবেন, পদার্থ বিজ্ঞানের একটি দার্শনিক ধারনা বা আইডিয়া হল শক্তি। এটা একটা আইডিয়া। অনেকটা এক, দুই, তিন ইত্যাদি সংখ্যাগুলির মত। এগুলো "আইডিয়া" ছাড়া কিছুই নয়। 

     

    আপনাকে ধন্যবাদ। 

     

     

     

    1. 1.1
      সুলতান মাহমুদ

      @ফাতেমী- আপনি ব্লগটি ভালভাবে সম্পূর্ন পড়েছন, অনুরুধ রইল আবার কষ্ট করে সম্পূর্ন ব্লগটা পড়ার। কারণ আপনি এমন কয়েকটি কমেন্ট করেছেন, যে গুলোর কথা পোষ্টে-ই আলোচনা করা হয়েছে। তারপরও আমি তা পরবর্তী কমেন্টে তুলে ধরবো। 

      1. 1.1.1
        ফাতমী

        @সুলতান মাহমুদ,

        বস, আমার শিক্ষক বলেছেন, আল্লাহ পাকের সংজ্ঞা সৃষ্টি করতে যেয়ো না। আপনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, তা ক্লাসিকাল ইমাম গণ অনেক আগেই করেছেন। এই নিয়ে অনেক গুলি মতবাদ আছে। আশেরিয়, আথারি, মাথুরুদি ইত্যাদি থিউলজি আছে, আপনি এখানে কলাম সাবজেক্ট নিয়ে একটু পড়ে ফেলুন http://en.wikipedia.org/wiki/Kalaam

         

        যিনি অথবা যেখান থেকেই হোক! আমাদের ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে, তাঁকেই স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করতে আমাদের সমস্যা কোথায়। একটু ভেবে দেখেন সৃষ্ট হিসেবে আমরা কতই নিকৃষ্ট, স্রষ্টা কেই মেনে নিতে পারছি না।-সুলতান মাহমুদ

        এই বাক্যে সরাসরি আপনি শক্তিকেই ঈশ্বর বা খোদা প্রতিয়মান করতে চেয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ পাক এর থেকে পবিত্র, কারণ আল্লাহ পাক তার সৃষ্টি থেকে আলাদা। এই আর্টিক্যাল পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন http://sunnahonline.com/library/beliefs-and-methodology/180-where-is-allah

         

        যদি আমি আপনার আর্টিক্যাল বুঝতে ভুল করি এবং তাহলে ভুল ধরিয়ে দিন। পরিবর্তী আর্টিক্যাল বা কমেন্টে আপনার জবাব আশা করি। 

         

         

        1. 1.1.1.1
          সুলতান মাহমুদ

          ফাতমী ভাই আসলে এ ব্যাপারটা আমি আগে লক্ষ্য করেনি //যিনি অথবা যেখান থেকেই হোক!// এটা একটা বড় ধরনের ভুল। এটাকে অবশ্যই কারেকশন করতে হবে; ধন্যবাদ আপনাকে। 

          এখনে  

          ''যিনি অথবা যেখান থেকেই হোক! আমাদের ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে, তাঁকেই স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করতে আমাদের সমস্যা কোথায়।"

          এর পরিবর্তে

          "যিনি আমাদের ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করতে আমাদের সমস্যা কোথায়।"

          হলে এই ভুলটা  ঠিক হয়ে যায়। ভাই স্বীকার করছি, এখানে অনেক বড় রকমের ভুল করেছি। আর আপনার সকল কমেন্টের উত্তর সময়ের জন্য এখনো দিতে পারছি না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিতে চেষ্টা করব। 

    2. 1.2
      সুলতান মাহমুদ

      উত্তরঃ @ফাতমী ভাই, //ভারতীয় হিন্দু দর্শনে শক্তিকে পুজা করা হয়, শিবের স্ত্রী পার্বতী; বাংলায় দুর্গা রূপে। দেবী প্রকৃতি নামে শক্তির রূপ ধরে নেওয়া হয়। যদি প্রকৃতিকে আপনি বস্তু ধরেন, তাহলে হিন্দুইজমে আইনস্টাইনের অনেক আগ থেকে শক্তি থেকে বস্তুর রূপান্তরের ধারনা আছে। আরো ধারনা করা হয়, বাকি দেবতাগণ শক্তির বিভিন্ন রূপ এবং বৌদ্ধ দর্শনেরও এর অনেকটা মিল আছে। যেমন নির্বান হল শক্তির সাথে মিশে যাওয়া।//

      আর তাই বলে কি আমি ভুল করেছি! অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গী কি? যে কোন ধর্মের সাথে কি ইসলামের সাদৃশ্য থাকতে পারেনা? আপনার বুঝার জন্য একটি সহজ যুক্তি দেই- এই পৃথিবীতে আল্লাহতালা লক্ষের ও অধিক নবী রাসুল পাঠিয়েছেন। আর প্রত্যেক নবী রাসুলেদের কাছে-ই আল্লাহর বানী আসতো। আর আল্লাহতালা অনেক নবী রাসুলদেরকে বিজ্ঞান বিষয়ক ইলেমও দিয়েছেন এর ইঙ্গিত কুরআনে পাওয়া যায়। কুরআন আমাদেরকে এও বলে প্রত্যেক যুগে যুগে, প্রত্যেকটি জাতির নিকট নবী রাসুল পাঠিয়েছেন। এবং মানুষ যখন আল্লাহর মনোনীত ধর্মকে বিকৃত করে ফেলেছিল তখন আবার ঐ জাতির নিকট নবী রাসুল পাঠিয়েছেন। কিন্তু সকলেই দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি, একদল সব সময়-ই ছিল যারা বিপথগামী। তবে অনেক সীমা লঙ্ঘনকারী জাতিকে আল্লাহতালা ধ্বংস করে দিলেও, বিপথগামী দল পৃথিবীতে সব সময় ছিলেন। তাদেরই হাতে লালিত হয়ে জীবিত আছে সহস্র ধর্ম। তাই যে কোন ধর্মে এমন কোন তথ্যের এক দুইটা শব্দ থাকতে পারে, যা ইসলামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ (যেহেতু প্রত্যেক জাতির নিকট আল্লাহতালা নবী রাসুল পাঠিয়েছেন) হতে পারে। সুতরাং শক্তির এই রূপান্তরের তথ্যটা অন্য ধর্মে আছে বলেই আমকে ভুর করেছি বলতে পারেন না।

       

      //এই দর্শনগুলি অত্যান্ত পুরাতণ। আমার স্কুলের স্যার আপনার মত একই ভুল করেছিলেন, তিনি বলে ছিলেন, আল্লাহ সর্ব শক্তিমান, আবার শক্তির কোন সৃষ্টি বা ধ্বংশ নেই//

      ভাই পুরাতন বলেই আমরা কোন কিছু ফেলে দিতে পারি না? নাস্তিকরা আস্তিকদের থেকে বেশি বুদ্ধিমান নয়, তাই তাদের যে কোন প্রশ্ন-ই আমরা এরিয়ে যেতে পারি না অথবা তুচ্ছ বলে ফেলে দেওয়াটা ঠিক হবে না। সবচেয়ে উত্তম তাদের প্রশ্নের এমন দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া, যেন তারা এমন প্রশ্ন করার আর সুযোগ না পায়। তবে আপনার স্যার ভুল করেছে কিনা আমি সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না।

       

      //আমি অনলাইনে আর্গুমেন্ট করতে যেয়ে একজনকে পেয়ে ছিলাম, যে বলতেছিল, আলোই (নূরই) আল্লাহ পাক//

      ভাই আমার মনেহয় তিনি একটু ভুল করেছেন, মনেহয় বলতে চেয়েছিলেন- আল্লাহতালাই নূরের একমাত্র উতস। “আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন আসমানসমূহ ও যমীনের নূর;….” (সূরাঃ নূর; আয়াতঃ ৩৫)।

       

      //আপনার বিষয়ের ভয়ংকরত্ব হল, আল্লাহ পাক যা না, যদি তাকে তা মনে করেন, তাহলে খুব সম্ভবত আপনার বিশ্বাস আল্লাহ পাকের উপর থেকে খারিজ হয়ে গেছে, কারণ আপনি ভিন্ন কিছুকে আল্লাহ মনে করছেন। তাই ভয়ংকর বিষয় নিয়ে কাজ করলে খুব সাবধানে করতে হয়। ইসলামে বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশ্ব জগত এবং আল্লাহ পাক এক নন, এবং আপনার মনের মধ্যে আল্লাহ পাক সম্পর্কে যত ধরনের ধারণা হয়, তিনি সব গুলি ধারনা থেকে মুক্ত। আল্লাহ পাককে জানা যায় না, সেটা বুঝতে পারাই আল্লাহ পাক সম্পর্কে সর্ব্বোচ্চ বুঝা। বাকিটা সম্পর্ণ আল্লাহ পাকের উপর নির্ভর করে, তিনি কোন জ্ঞান আপনাকে দিবেন, কোনটি দিবেন না। আল্লাহ পাকের কোন তুলনা নেই।//

      ভাই আমি খুব সতর্কতার সাথে পোষ্টি লেখার চেষ্টা করেছি। তবে ভুল হতেই পারে, আর ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক যেহেতু আমি মানুষ। তবে আমি আল্লাহকে অন্য এমন কিছু ভাবিনি যা আল্লাহ নন; বরং আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি আল্লাহতালা আমার ধারনা থেকে অনেক উর্ধে এবং আমার এ তুচ্ছ জ্ঞানে তাঁর সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞানই লাভ করতে পারব, সুস্পষ্ট ধারনা অর্জন করা কখনো সম্ভব নয়। শেষের দুই লাইন পড়েননি এখানে ভুলটা আপনার।

       

      //সাবধানতা, আল্লাহ পাক নিয়ে চিন্তা করলে কখনই ওহীর বাহিরে যাবেন না। ওহী হচ্ছে আল কোরান, এবং এর ব্যাখ্যা আল হাদিস।//

      ভাই ওহীর বাহিরে যাওয়ার সাহস আমার নেই, তবে ওহীর ভিতরে থেকেই বলেছিলাম- প্রথমে-ই, যদি ভূল ব্যাখ্যা করে থাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করছি। আপনি ভাল করে পড়লে হয়তো খেয়াল করতেন- আমি বলেছিলাম “শক্তিকে যদি আল্লাহর সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করি । আর শক্তিকে আল্লাহর সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করার পিছনে ব্যাখ্যা হল, কুরআনে আল্লাহর যত গুলো নাম আছে সব গুলোই গুণবাচক নাম। এই গুণবাচক নাম গুলোর মধ্য কয়েকটি হল- আল ক্কাভিও, আল ক্কাদিরু, আল আজিজু, যুত তাওল এবং যুল কুওয়্যাত। এই নাম গুলোর মূল শব্দ সরাসরি শক্তি বা এনার্জি কে নির্দেশ করে। অনুরুপ ভাবে আর একটি নাম হল আল নূর, যার অর্থ আলো। শক্তি এবং আলো দুইটিই শুধু গুণ গত অস্তিত্ব নয়, সত্ত্বা গত অস্তিত্ব বটে”। হয়তো বলতে পারেন এখানে ওহীর কি আছে? তাহলে বলতে হয়- মহান আল্লাহর এই সুন্দর নাম সমূহ আল-কুরআনে থেকেই নেওয়া।

       

      //এবার বিজ্ঞানে চলে যাই, শক্তি বলতে আসলে আপনি কি বুঝেন? ভাল করে লক্ষ্য করে দেখবেন, পদার্থ বিজ্ঞানের একটি দার্শনিক ধারনা বা আইডিয়া হল শক্তি। এটা একটা আইডিয়া। অনেকটা এক, দুই, তিন ইত্যাদি সংখ্যাগুলির মত। এগুলো "আইডিয়া" ছাড়া কিছুই নয়।//

      ভাই বিজ্ঞানের ভাষায় সাধারনতঃ “কাজ করার সামর্থ্য কে শক্তি বলে”। আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে চাই, শক্তি পরিমাপ যোগ্য। বাকিটা আমান ভাইয়ের মন্তব্যে উত্তরে আলোচনা করব।

      1. 1.2.1
        ফাতমী

        আমি এখন আপনার কথার আগা মাথা কিছু বুঝতে পারতেছিনা। ধরে নিলাম ইহা আমার দুর্বলতা এবং ব্যার্থতা। আমি এ আলোচনায় আর নেই। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.