«

»

Dec ০১

আল-কুরআন, পরমানু ও কোয়ার্ক

atomএক নাস্তিক আল-কুরআনে পরমানু কথা আছে শোনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, যদিও আল-কুরআন নাযিল হওয়ার সহস্র বছর পূর্বেই মানুষ পরমানুর কথা জানতো; আসলে এটা তাজ্জাব হওয়ার মত কোন বিষয় নয়। কারণ কুরআনে এমন অনেক তথ্য আছে, যে গুলি সত্যি আশ্চার্য হওয়া মত বিষয়। তারপরও নাস্তিক মহোদয় আল-কুরআনে অনুবাদ ও অভিধান তন্নতন্ন করে পরমানু (যাররাতুন) এর যে অর্থকরন করলেন তা সত্যি আশ্চার্য হওয়ার মত বিষয়।

 

তার ব্যাখ্যা মতে যাররাতুন এর অর্থ হবে- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। আসলে যাররাতুন শব্দের যত অর্থকরন করা হয়েছে তার বিশ্লেষণ থেকে এটা প্রতিয়মান হয় যে, এ শব্দটির গ্রহণ যোগ্য অর্থ হবে বস্তুর ক্ষুদ্রতম অংশ; এবং ৩৪ নং সূরার ০৩ নং আয়াতের প্রেক্ষাপট টেনে এনে বলা যায়- যার ওজন আছে। অর্থাদ “পদার্থের সেই ক্ষুদ্রতম অংশ যার ওজন আছে বা বস্তুর সূহ্মতম ওজন বিশিষ্ট অংশ

 

নাস্তিক মহোদয় অবশ্য বলেছিলেন- কয়েক দিন পরে হয়তো উক্ত আয়াতের অনুবাদ দেখবো “ইলেকট্রন” বা “প্রোটন” বা ফোটন- পজিট্রন-এন্টি নিউট্রিনো .. ইত্যাদি। আমি তার সেই আশার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি, এটাই হলো সবচেয়ে বড় আশ্চার্যের ব্যাপার। নাস্তিক মহাশয় কে বলতে চাচ্ছি আমি আপনার অর্থ কেই ১০০% সঠিক বলে মেনে নিয়েছি, তবে ৩৪ নং সূরার ০৩ নং আয়াতে উল্লেখিত যাররাতুন শব্দের আগের শব্দটি মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থকরণ করেছি মাত্র। তাহলে আয়াটির অর্থ হয়-

 

“অবিশ্বাসীরা বলে, আমরা সেই সময়ের (কিয়ামতের) সম্মুখীন হব না। বল, কেন হবে না, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে এটার সম্মুখীন হতেই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ, যিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁর অগোচর নয় বস্তুর সূক্ষ্নতম ওজন বিশিষ্ট অংশ কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু বরং এর প্রত্যেকটি লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে” (সূরা সাবা, ৩৪:৩)।

 

 

আর বিজ্ঞানের কল্যানে এখন আমরা জানি, পদার্থের ক্ষুদ্রতম ওজন বিশিষ্ট কণার নাম হল- কোয়ার্ক। আসলে কোয়ার্ক পর্যন্ত কণিকা গুলো পদার্থের আওতায় পড়ে, তারপরের সূক্ষ্ন কণিকাগুলো আর পদার্থ থাকেনা- যেমন ফোটন কণা।  ফোটন কণার স্থিতি ভর শূন্য, অর্থাদ তার স্থির অবস্থায় কোন ভর নেই। যাই হোক কোয়ার্ক অপেক্ষা বড় কণাগুলো হল- ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন, পরমানু ইত্যাদি এবং ক্ষুদ্র কণাগুলো হল- ফোটন, গ্লুয়ন, গ্র্যাভিটন ও হ্যাড্রন ইত্যাদি। তবে নাস্তিক মহাশয়কে একটু নিরাশ করে বলতে চাই, এখানে আমি আপনার কথা মত এ আয়াতের অর্থ ““ইলেকট্রন” বা “প্রোটন” বা ফোটন- পজিট্রন-এন্টি নিউট্রিনো” করব না। এ আয়াতের গ্রহণ যোগ্য অর্থ হলো-  

 

“অবিশ্বাসীরা বলে, আমরা সেই সময়ের (কিয়ামতের) সম্মুখীন হব না। বল, কেন হবে না, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে এটার সম্মুখীন হতেই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ, যিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁর অগোচর নয় বস্তুর সূক্ষতম ওজন বিশিষ্ট অংশ কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু বরং এর প্রত্যেকটি লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে” (সূরা সাবা, ৩৪:৩)।

 

আর এ আয়াতটি আমাদের কে হয়তো কোয়ার্কের কথাই বলে। বরং আমরা তো নিজের অজ্ঞতা কারণে আল-কুরআনকে সহস্র বছর পিছিয়ে দিয়ে ছিলাম, যদিও আল-কুরআন ছিল সহস্র বছর অগ্রগামী। 

৩ comments

  1. 2
    arman hossain

    Sodo tnx dia apnak soto korbo na Admin.
    Dua kori Allah jeno apnak vlo rakhy…r update post
    Korbeb plz.

  2. 1
    মাহফুজ

    ভাল প্রচেষ্টা, 
    এখানে আমন্ত্রণ- মৌলকণা সম্পর্কে বিজ্ঞান ও আল-কোরআনের মৌলিক তথ্য

    1. 1.1
      সুলতান মাহমুদ

      Mahfuz ভাই, ধারুন! পোষ্টটা পড়ার পর আমার লেখাটা নিতান্তই তুচ্ছ মনে হচ্ছে। আর আমার কাছে মনে হচ্ছে যাররাতুনের অর্থটি আমি এই লিংক থেকে-ই কপি করেছি। কারণ যখন যাররাতুন লিখে google সার্চ দিয়ে ছিলাম, তখন যাররাতুনের অর্থ  (আমি যে রকম অর্থ আশা করে ছিলাম) সরাসরি পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে লিংকটি ছিল somewhereinblog এর; কিন্তু তখন বিস্তারিত পড়া হয়নি। ধন্যবাদ আপনাকে, লিংকটি না দিলে এত সুন্দর একটি পোষ্ট কখনো পড়া-ই হতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.