«

»

Dec ১৬

আকুল আবেদন

সেনাবাহিনীর প্রতি আকুল আবেদন, এই দেশটা কে বাঁচান। আমি রাজনীতি করিনা এবং বর্তমান বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলকে পছন্দও করি না; তাই গত নির্বাচনে আমার জীবনের প্রথম ভোট টা-ই “না” ভোট দিয়ে ছিলাম। আমি গত দুই বছর যাবত দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কর প্রদান করে আসছি। আমি এই দেশটাকে ভালবাসি, নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি, এই দেশ চির উন্নত হয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে- এমন স্বপ্নে নিয়ে ঘুমায় অনেক রাত্রি। দেশের জন্য অনেক কিছু করার স্বপ্ন ছিল, এখনও কিছু-ই করতে পারিনি এবং কিছু করতে পারব কিনা জানিনা? আজ যদি কোন পরাশক্তি এদেশে আক্রমন করত তাহলে আপনাদের কে আকুল আবেদন করতাম না, নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরতাম শত্রুর উপর। কারণ নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি এ ভূমিকে। আমি অবশ্য জোর গলায় বলতে পারি, আমাদের দেশের যতটুকু-ই উন্নত হয়েছে- এতে রাজনৈতিক দলের কোন ভূমিকা নেই, ৯৯% ভূমিকা দেশের আপামর জনগণের। আর রাজনৈতিক দলগুলো সেই অগ্রগতির পথে প্রধান রেজিস্ট‌্যান্স। যদি ক্ষমতার থেকে দেশকে বেশি ভালবাস তো রাজনৈতিক দলগুলো তাহলে, আমদের দেশ আজ অনেক উন্নত থাকত। দূর্ভাগ্য আমাদের আজও এমন কোন দল পায়নি এ দেশ। আর বর্তমানে দেশটা এখন ধ্বংশের মুখে, আমি ১০০% নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি এই দেশটাকে মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ ধ্বংশের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। আর আল্লাহতালা নিজে এসে স্বয়ং এ দেশকে বাঁচাবে না, কারণ আল্লাহ তাঁর নিয়মে এমন বিধান রাখেননি। তিঁনি যা কিছু-ই করেন একটা মাধ্যমে করে থাকেন। হয়তো আল্লাহ যদি এদেশকে রক্ষা করতে চান তাহলে যে কোন ভাবে করতে পারেন, তবে আমার মনেহয় মহান রব (যদি চান) এই দেশকে রক্ষার জন্য মাধ্যম হিসেবে আপনাদের কে নির্বাচন করে রেখেছেন। বর্তমানে দেশেটার ধ্বংসের এই ক্রান্তি লগ্নে আপনারা-ই পারেন দেশটাকে রক্ষা করতে, মনেহয় ২য় আর কোন অপশন নেই! আপনারা রাজনৈতিক দলের টাকাতে চলেন না, চলেন দেশের জনগণের টাকায়। সুতরাং এই দেশকে ও দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন আপনাদের নিজেস্ব ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত, কোন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত নয়। আপনারা দেশের ক্ষমতা আপনাদের হাতে নিয়ে কিছু দিন দেশটাকে পরিচালনা করুন, শান্ত করুন দেশটাকে। তারপর এ দেশের জনগণ যাকে চায়, নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের হাতে তুলে দিন দেশটাকে। কারণ আপনাদের হাতে বেশি দিন ক্ষমতা থাকাটাও দেশের জন্য মঙ্গল জনক নয়। আর আমার বিশ্বাস আপনারা আমার থেকেও বেশি ভালবাসেন এই দেশটাকে, তাইতো নিজের জীবনটাকে দেশের রক্ষার জন্য বিলিয়ে দিচ্ছেন। আর দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে যদি দেশের জন্য কিছু না করতে পারেন, তাহলে ভাববো আপনারা মেরুদন্ড হীন। দেশের জনগণের টাকা মেরুদন্ড হীন সেনাবাহিনীর উদর ভরছে। কারণ যারা এই দেশের শেষ ভরসা তারাই যদি দেশটাকে না রক্ষা করতে পারে, তাহলে তারা কি করে মেরুদন্ড সম্পূর্ণ হবে! ধ্বংসের হাত থেকে এই দেশটাকে বাঁচান, এই দেশের মানুষকে বাঁচান….

২ comments

  1. 2
    এম ইউ আমান

    দেশের এই কঠিন সময়ে, একজন শান্তি প্রিয় দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে, দেশের মঙ্গল কামনায় আপনার একান্ত আকুতি লেখাটিতে প্রকাশ পেয়েছে। দেশের জন্য এই অনুভূতি আপনার সাথে আরো অনেকের। এই আবেদন আপনি সেনাবাহিনীকে করেছেন অথচ, এটি সেনাবাহিনীর এখতিয়ার বহির্ভূত। সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ বহিঃশত্রুর হাত থেকে স্বদেশকে রক্ষা করা (‘সমরে দেহি মোরা প্রাণ’)। আপনার আবেদন দেশের মানুষের কাছে হলে ভাল হয়। শুনতে খারাপ শোনাতে পারে, কিন্তু এই দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়েই পাঁচ বছর পর পর অনন্তকাল ধরে যেতে হবে, যতদিন আমরা তৈরী না হবো।   

  2. 1
    এম_আহমদ

    আপনার নিরুপায়, মর্মাহত মনের আকুতি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে তাই বলার স্বার্থেই দুটি কথা বলছি।
    আপনি একজন কর দাতা। কিন্তু এর ঊর্ধ্বে আপনি একজন নাগরিক। তবে আপনি অরাজনৈতিক নন। আমার এই লেখাটি পড়ুন। রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে যে কয়টি সিদ্ধান্ত আপনার সামনে ছিল সেগুলো সেগুলোর মধ্য থেকে ‘না-ভোট’ গ্রহণ করে আপনার রাজনৈতিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। আপনি রাজনীতির বাহিরে নন কিন্তু আপনার সামনে উপযুক্ত কোন দল নেই যারা নৈতিক ভিত্তিতে দেশে সুশাসন আনতে পারে। আপনি হয়ত এটাও বুঝতে পেরেছেন যে এই দলগুলো ব্যবসায়ী-তাড়িত, কর্পোরেট স্বার্থে পরিবাহিত। আবার এদের মেরুদণ্ডে রয়েছে বিদেশি আদর্শ ও বিশ্বাস। তাই আপনি ‘না-ভোটে’ গিয়েছেন। কিন্তু এতে দেশের কোনো পরিত্রাণ ছিল না। আজ আপনি দিশেহারা হয়ে কিছু দিনের জন্য সামরিক শাসনের আহবান করছেন। আপনার মত হয়ত আরও লক্ষ লক্ষ লোক তা চাচ্ছেন। আমি জানি না আপনি ‘ড্রাকুলার’ ফিল্ম দেখেছেন কী না। আপনি যেখান থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করছেন হয়ত সেই স্থানটিও ড্রাকুলার তার কামড় দিয়ে ফেলেছে। তাই আজ কী করা হবে? এই আকুতি আর এই নাজুকতার পরিত্রাণ কোথায়? আমার বিশ্বাস আপনি একজন যুবক, দুই বৎসর ধরে কর্ম জীবনে ঢুকেছেন। আজকে নিরাশ হলে চলবে না। সুশাসন আপনাদের জীবদ্দশায় কতটুকু আসতে পারে জানি না, তবে আপনারা যদি নৈতিক নেতৃত্ব গড়ার আহবানে নামেন, যদি প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেন, যদি বিশ্বাসে আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য নিজেদের আশে পাশের মানুষগুলোকে উদ্বুদ্ধ করেন; যদি এভাবেই কাজ চালিয়ে যান, এই সমাজ-পরিবর্তনের আহবান করেন, তবে সম্ভবত আপনাদের জীবদ্দশায় পরিবর্তন দেখবেন। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সুফল খেয়ে মরতে পারবেন বলে মনে হয় না। সমাজ পরিবর্তনের এই কাজ ‘তাল-গাছ’ রোপণের মত। আপনি নন বরং আপনার নাতি-নাতিনরা এর ফল খাবে। আপনার চেয়ে বয়সে আমি অনেক বড় হব এবং এই নৈতিক ও প্রতীকী দাবিতে বলব যে আপনারা রাজনীতি করেন না এমনটি না বলে ‘রাজনীতি করি’ এমনটি বলতে থাকুন এবং আশা নিয়ে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কাজ করুন। ভাল লোকগুলো ময়দান ছেড়ে চলে গিয়েছে বলেই মন্দ লোকেরা যা ইচ্ছা তা’ই করছে। মূর্খরা জ্ঞান দিচ্ছে। আমার ধারণা আপনাদের দেশ কোনো এক ‘অন্ধকারে’ প্রবেশ করে ফেলেছে। আমরা দোয়া করি দেশ যেদিকে মোড় নিয়েছে সেটা থেকে যেন পরিত্রাণ লাভ করুক। আর যদি ফিরার পথ না থাকে তবে এতেই যেন আল্লাহ মঙ্গল দান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.