«

»

Aug ১৫

সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব।

সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব। ১৫ মহাপদ্ম বছর আগে এর আকৃতি ছিল পদার্থের ভিত্তি প্রোটনের চাইতে সহস্র লক্ষগুণ ক্ষুদ্র! আজ তার আকৃতি ২০ মহাপদ্ম আলোকবর্ষ। মানুষের জ্ঞানের সামনে একমাত্র কোরআনই সর্ব প্রথম সম্প্রাসারণশীল মহাবিশ্ববাদ প্রস্তাব করেছিল। 

ইডুইন হাবলের হাবল টেলিস্কোপ আবিস্করের পর মানুষ বিস্ময় হয়ে তাকিয়ে দেখল গ্যালাক্সি, সেই থেকে প্রশ্ন- এগুলো কত দুরে অবস্থিত? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে, পেল আর এক নতুন তথ্য গ্যালাক্সি গুলো দুরে সরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর অধিকতর দুরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো আরো অধিক দ্রুত গতিতেদুরে সরে যাচ্ছে, এবং এক সময় হরিয়ে যাচ্ছে মহাবিশ্বের সীমাহীন শূন্যতার কোন এক মহাগহ্বরের অতল তলে। এ যেন এক বিস্ময়ের মাঝে আর এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এটা তো সেই ১৯২৯ সালের কথা, এখনো ১০০ বছর হয়নি। কিন্তু আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে একমাত্র আল কুরআন-ই এ দাবিগুলো উপস্থাপন করেন সর্বপ্রথম। আর যারা বিজ্ঞান জানেন- তাদের কাছে এর থেকে মিরাকল (বিস্ময়) আর কি হতে পারে!
চলেন আমরা আল-কুরআনের পাতা উল্টে দেখি, শুধু মাত্র কয়েকটি শব্দে কত নিখুত ভাবে পেশ করেছে এই সম্প্রাসারণের কথা। 

“আমি আকাশমন্ডলীকে সৃষ্টি করিয়াছি শক্তিবলে- নিশ্চয়ই আমি উহাকে সম্প্রাসারণ করেতেছি” (৫১:৪৭)।

“নক্ষত্র সমষ্টির (গ্যালাক্সি) শপথ, যাহারা পশ্চাত গমনে রত। এবং যা ভাসিয়া বেড়ায় ও অদৃশ্য হইয়া যায়” (৮১:১৫-১৬)।

শুধু গ্যালাক্সি গুলোই সম্প্রাসারিত হচ্ছে না, গ্যালাক্সির আভ্যন্তরীণ নক্ষত্র গুলোও দুরে সরে যাচ্ছে বা সম্প্রাসারিত হচ্ছে প্রতিক্ষণ। এরই প্রস্তাব পাওয়া যায় ৩৬:৩৮ নং আয়াতে।

“সূর্য তাহার গন্তব্যের (যেখানে ধ্বংসপ্রপ্ত হবে) উদ্দেশ্যে ভ্রমনে নিরন্তর। ইহা মহাপরাক্রমশলী মহাজ্ঞানীর ব্যবস্থিত নির্ধারন” (৩৬:৩৮)।

পরিশেষে বলা যায়, সম্পূর্ণ মহাকাশ যেন সম্প্রাসারনের নেশায় মত্ত, যা আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় আবারও 
এইগুলিই প্রমাণ যে আল্লাহ সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাদের আহ্বান করে তাহা সত্যবিবর্জিত (৩১:৩০)।

৩ comments

  1. 3
    মাহফুজ

    পবিত্র কোরআনের বিজ্ঞান বিষয়ক আয়াতগুলো সম্পর্কে আপনার আগ্রহ আছে জেনে ভাল লাগল।
    এখানে আমন্ত্রণ- Isn't Al-Qur'an Scientific? / আল-কোরআন কি বিজ্ঞানময় নয়?

  2. 2
    Shahriar

    Jajak-allah… Fantastic write.

  3. 1
    Milon

    আহা, বিজ্ঞান ময় কোরানের কি অপূর্ব বাখ্যা। কিন্তু একটা কথা মাথায় কাজ করছে না। আল্লাহ সাতটা আসমান তৈরি করেছেন, যা কিনা খুঁটি ছাড়াই স্রষ্টার অসীম ক্ষমতায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক আসমান থেকে আরেক আসমানের দূরত্ব ৭০ হাজার বছরের পথ। প্রথম আসমান পানির তৈরি, ২য়য় আসমান আরেক পদার্থের তৈরি, এমনকি একটা আসমান পবিত্র ইয়াকুত পথরের দ্বারা তৈরি।

    এক আসমান থেকে আরেক আসমানের দূরত্ব ৭০ হাজার বছরের পথ যে কতখানি, তা না হয় ব্যাখ্যা নাই ই করলাম। কিন্তু এটা তো সত্য, দূরত্ব যখন আলোক বর্ষ দ্বারা হিসাব করা হচ্ছে, তখন ৭০ হাজার বছরের পথেরও অনেক দূর পর্যন্ত পর্যবেক্ষন করা যাচ্ছে, যেখানে আসমানের কোন খবরই নাই। তবুও না হয় ধরেই নিলাম যে, আসমান আছে। কিন্তু বিগ ব্যাং এর পরে দীর্ঘ একটা সময় ধরে যে প্রচন্ড গতিতে মহাবিশ্ব সম্প্রসারন হয়ে চলেছে, এবং ভবিষ্যতেও চলবে, এতে কি আসমান ভেংগে চুড়ে মহাবিশ্বের প্রসারন ঘটবে, নাকি আসমানও স্রষ্টা উপরের দিকে উঠিয়ে নিচ্ছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.