«

»

Aug ১৭

বানরজাতীয় প্রাণীর সাথে মানুষের জীনগত মিল ৯৮%, তাই আমরা বানরজাতীয় প্রাণীর নিকটাত্মীয়!

নাস্তিকদের যুক্তি, বানরজাতীয় প্রাণির সাথে মানুষের জীনগত মিল ৯৮% তাই বানর এবং মানুষ একটি কমন জিনোম থেকে উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ডিএনএ টেস্ট (ডিএনএ এর মিল থেকে প্রমাণ) করে যেমন সন্তানের বাবার পরিচয় পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি মানুষের ডিএনএ এই মিল প্রমাণ করে আমরা বানরজাতীয় প্রাণির বংশধর। আসলে কি তাই, গাণিতিক ভাবে প্রমাণ করা যায় এই মিল কখনো প্রমাণ করে না আমরা বানরজাতীয় প্রাণির বংশধর; বরং এ মিল থাকাটাই স্বাভাবিক।

যেমন ডিএনএতে চারটি ক্ষার পাওয়া যায়, এগুলো হল এডেনিন (সংক্ষেপে A), সাইটোসিন (C), গুয়ানিন (G) এবং থাইমিন (T) । এই চারটি ক্ষার বা বেস দ্বারা তৈরি হয় ডিএনএ কোডিং, যার মধ্যে জীবের সকল প্রকার বৈশিষ্ট্য লিপি বদ্ধ থাকে। অর্থাৎ যেন ৪ টি অক্ষর দ্বারা রচিত এমন এক বিশাল দিক নির্দেশনা, যার দ্বারা পরিচালিত হয় একটি জীবের সমগ্র জীবন, শুধু তাই নয় উক্ত জীবের পরবর্তী বংশধরও পরিচালিত হয় উক্ত নির্দেশনায় (সামান্য কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে)। আর সকল প্রাণের ক্ষেত্রে এই ডিএনএ কোডিং এর রয়েছে এক অভূত পূর্ব মিল। যেমন- বানরজাতীয় প্রাণির সাথে আমাদের ডিএনএ কোডিং এর মিল ৯৮%; আর নাস্তিরা এই সাদৃশ্য কেই পুঁজি করে জেনেটিক প্রমাণ দিয়ে থাকে আমরা বানরজাতীয় প্রাণির বংশধর। আসলেই কি এই মিল প্রমাণ করে আমরা বানরজাতীয় প্রাণির বংশধর, আমি আসলে এটিই গাণিতিক ভাবে দেখাতে চেষ্টা করব।

মনে করুন, কেউ একটি বিশাল প্রেমের কাব্য রচনা করলো ইংরেজি ভাষায়; আর একজন বিবর্তনের সাপেক্ষে বিজ্ঞানের যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন করে একটি বিশাল বই লিখলও একই ভাষায়। যদিও ২ টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়, তথাপি লিখা হয়েছে ইংরেজি A থেকে Z পর্যন্ত ২৬ টি অক্ষর দিয়ে; তাই বইগুলোর সমগ্র অক্ষর গুলোকে একটি সরিতে এনে একটির নিচে আর একটি রাখলে দেখা যাবে যে অনেক মিল রয়েছে। যেহেতু ২টি বই-ই লিখা হয়েছে ইংরেজি A থেকে Z পর্যন্ত ২৬ টি অক্ষর দিয়ে (যদিও ডিএনএ কোডিং মিলানো এরকম না)।
উদাহরণ স্বরূপ,
UCEP-Amir Hossain Dobash School = এটি একটি স্কুলের নাম ও
With due respect I would like to inform = এটি অ্যাপ্লিকেশনের শুরুর অংশ।
U C E P A M I R H O S S A I N D O B A S H S C H O O L
W I T H D U E R E S P E C T I W O U L D L I K E T O I
এখনে লক্ষ্য করে দেখুন, ৮ নং কলামে R-R, ১৭ নং কলামের O-O এবং ২৬ নং কলামের O-O অক্ষর গুলো মিলে গেছে। এখানে মোট অক্ষর আছে ৫৪টি এবং এদের মধ্যে মিল রয়েছে ৬টি অক্ষরের, তাহলে এখানে সাদৃশ্যের শতকরা হার প্রায় ১১%।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, বিষয় বস্তু ও ভাবার্থ যাই হোক; যেহেতু একই প্রতীক ব্যবহার করে তথ্য গুলো লেখা হয়েছে, তাই তাদের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ভেবে দেখুন, উপরের ২টি বই ইংরেজি ২৬টি প্রতীকের পরিবর্তে মাত্র ২টি প্রতীক ব্যবহার করে লিখেছেন। যেমন কম্পিউটার ০ (শূন্য) আর ১ (এক) ছাড়া কিছুই বোঝেনা। অর্থাৎ সকল কার্য সম্পূর্ণ করে 0 ও 1 ব্যবহার করে। ধরুন আপনি কিবোর্ড এর “A” Key তে ক্লিক করেছেন, কিন্তু প্রসেসর যে ডাটাটি পাবে তাহলো ৮ বিটের একটি বাইনারি ডাটা 01000001। এভাবে A থেকে Z পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের জন্য ৮ বিটের একটি বাইনারি ডাটা রয়েছে। তাই আপনি মহাকাব্য রচনা করলেও কম্পিউটারে 0 ও 1 ই সংরক্ষিত হবে।
আপনি লিখলেন (MONKEY), কিন্তু কম্পিউটার লিখবে-                                 (01001101 0100111101001110 01001011 01000101 01011001)।
M= 01001101;
O= 01001111;
N= 01001110;
K= 01001011;
E= 01000101;
Y= 01011001;

আপনি লিখলেন (HUMAN), কিন্তু কম্পিউটার লিখবে-                                    (01001000 01010101 01001101 01000001 01001110)।
H= 01001000;
U=01010101;
M= 01001101;
A= 01000001;
N= 01001110;

প্রথমত:
M O N K E Y
H U M A N
এখন আমরা যদি, উপরোক্ত ভাবে অক্ষর গুলোকে সাজায় তাহলে, কোন কলামের ডাটা গুলোর মধ্যে কোন মিল নেই; এক্ষেত্রে সাদৃশ্য ০%।

কিন্তু,
0100110101001111010011100100101101000101 01011001
0100100001010101010011010100000101001110
বাইনারির ক্ষেত্রে ডাটা গুলোর সাদৃশ্য ৬৩.৬৩% (যদি Y এর বাইনারি ডাটা বিবেচনা করি); Y কে বাদ দিলে মিল ৭০%।

দ্বিতীয়ত:

M O N K E Y

M A N H U                                                                                                                 

যদি মিলের জন্য, উপরোক্ত ভাবে অক্ষর গুলোকে সাজায় তাহলে, সাদৃশ্য ৩৬.৩৬% (যদি K কে বিবেচনা করি); K কে বাদ দিলে সাদৃশ্য ৪০%।

কিন্তু,
0100110101001111010011100100010101011001
0100110101000001010011100100100001010101
এক্ষেত্রে বাইনারির ডাটা গুলোর সাদৃশ্য ৭২.৭২%% (যদি K এর বাইনারি ডাটা বিবেচনা করি); K কে বাদ দিলে সাদৃশ্য হবে ৮০%।

এ থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, বিষয় বস্তু ও ভাবার্থ যাই হোক; যদি কোন তথ্য অল্প কয়েকটি প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাহলে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য থাকবে অনেক বেশি।
সুতরাং জীবের ডিএনএ এর ডাটা যেহেতু ৪ টি প্রতীক দ্বারা রচিত (সবসময় AT ও CG জোড় তৈরি করে, সুতরাং বইনারি ২ বিট এর সাথে সামঁজস্যপূর্ণ), তাই তাদের মধ্যে সাদৃশ্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এই মিল কোন ভাবেই প্রমাণ করে না আমরা বানরজাতীয় প্রাণির বংশধর। আর যেহেতু সকল প্রাণীর জৈবিক প্রক্রিয়া (বিষয় বস্তু ও ভাবার্থ) একই তাই ৯৮% মিল থাকাটাই যুক্তি যুক্ত (কিন্তু ২% অমিল যে কত কোটি জেনেটিক লেটারস্ এর অমিল তা হয়ত অাপনাদের জানা অাছে)৷ এটা আমার কথা নয় গণিতের প্রমাণ।
স্পেস জনিত সমস্যার কারণে অক্ষর ও বাইনারি ডাটা গুলো কিছুটা স্থানচ্যুত হয়ে গেছে, তাই সাদৃশ্য গুলো স্পষ্ট করে বুঝা নাও যেতে পারে।

১৬ comments

Skip to comment form

  1. 8
    1. 8.1
      সুলতান মাহমুদ

      ভাই অনেক ভাল লিখেছেন৷

  2. 7
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    নাস্তিকদের যুক্তি, বানরের সাথে মানুষের জীনগত মিল ৯৮% তাই আমরা বানরের পূর্ব পুরুষ।

    কবে, কোথায়, কোন নাস্তিক এই যুক্তি প্রদান করেছে? রেফারেন্স দিন।

    এরকম দুর্বল যুক্তি নাস্তিকদের মুখে গুঁজে দিয়ে সে যুক্তির অসারতা প্রমাণ করা সময়ের অপচয় কিনা ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।

    প্রথম পাতায় এতোগুলি পোষ্ট সদালাপের নীতিমালা ভাঙ্গে। 

    ধন্যবাদ- সম্পাদক, সদালাপ।  

     

    1. 7.1
      সুলতান মাহমুদ

      লেখাতে কিছু ভুল ছিল, এডিট করে নিয়েছি৷ সদালাপের নীতিমালা ভঙ্গের জন্য দুঃখিত৷

      1. 7.1.1
        এস. এম. রায়হান

        শিরোনাম একই রেখে কোথায় কী এডিট করলেন বুঝলাম না। শিরোনাম দেখে আমি মূল লেখা এখনো পড়িনি।

        1. 7.1.1.1
          সুলতান মাহমুদ

          ভাই, শিরোনাম দেওয়া হয়েছে মূলত পাঠকদের অাগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য; তবে অাপনার কথা মত শিরোনামটা পরিবর্তন করতে চেয়ে ছিলাম৷ কি দিব ভেবে পাচ্ছিনা, অাপনি চাহেন তো এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারেন৷

        2. এস. এম. রায়হান

          শিরোনামে ভুল লিখে পাঠকের আগ্রহ সৃষ্টি করার চেষ্টা ভুল। অন্য কোনো ভাবেও পাঠকের আগ্রহ সৃষ্টি করা যেত। তাছাড়া সদালাপের মতো ব্লগে এই ধরণের ভুল শিরোনাম মানায় না।

        3. সুলতান মাহমুদ

          ধন্যবাদ

  3. 6
    শাহবাজ নজরুল

    আরেকটা ব্যপার -- প্রথম পাতায় আপনার ৩ টি লেখা আছে। একটু সময় গ্যাপ দিয়ে লেখাগুলো পোস্ট করুন। 

  4. 5
    এস. এম. রায়হান

    লেখার শিরোনামেই ভুল। লেখার মধ্যে কোনো প্যারাগ্র্যাফ-গ্যাপ নাই। পর পর চারটি লেখা পোস্ট করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এভাবে তাড়াহুড়া করে লেখা পোস্ট করলে হিতে বিপরীত হবে। সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে চিন্তাভাবনা করে লিখুন। তার আগে সদালাপে এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের লেখাগুলো পড়ুন।

  5. 4
    লতিফুল আজম

    লেখাটি পড়লাম। আমি বিজ্ঞানর ছাত্র নই।তবে বুঝতে পারছি আপনার যুক্তি অকাট্য। মানুষের মধ্যে বানরের কোন কোন জীন আছে ঠিকই, যার জন্য মানুষ বাদরামী করে, কিন্তুু তাই বলে মানুষ এর পূর্বপুরুষ বানর নয়। মহান আল্লাহ পাক বানরকে কেন বিবর্তন এর মাধ্যমে মানুষে রূপান্তর করবেন? তঁার সৃষ্টির মহাত্ম পর্যবেক্ষণ করলে বিবর্তনবাদ অবাস্তবিক বলে বিবেচ্য হয়।
     

  6. 3
    সুলতান মাহমুদ

    অামার মনেহয় বানরের পরিবর্তে বানরজাতীয় প্রাণি বলা উচিৎ ছিল৷ কারণ তাদের দাবি বানর ও মনুষ একই জিনোম থেকে উদ্ভব হয়েছে; বানর থেকে মানুষ নয়! কিন্তু বিবর্তনের অধিকাংশ চিত্রে এরকম টা-ই দেখা যায়৷  

  7. 2
    নির্ভীক আস্তিক

    আপনার শিরনাম দেখে তো Confused হয়ে গেলাম। পোষ্টের কিছু পড়ে দেখিনি। "বানরের সাথে মানুষের জীনগত মিল ৯৮% তাই আমরা বানরের পূর্ব পুরুষ" এই কথা আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন ? এরকমটা কেউ দাবি করার কথা না। বিবর্তনবাদী নাস্তিকদের দাবি হচ্ছেঃ "Chims অথবা monkey থেকে তারা Evolved হয় নি, Chimpanzee, Monkey এবং Home Sepience দের common ancestor থেকে থাকতে পারে।" 

    1. 2.1
      সুলতান মাহমুদ

      লেখাটা পড়ার অনুরুধ রইল, ভুল গুলো ধরিয়ে দিতে পাড়লে ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ পাব৷

  8. 1
    Milon

    আমি একটা বিষয় আজও বুঝে উঠতে পারি না যে, আস্তিকরা এই একটা বিষয়ে কেন এতো উদাহরন আর ব্যাখ্যা টানে। বিবর্তন বিদ্যার কোন শাখায় কিংবা কোন বইয়ে বানর থেকে মানুষের আবির্ভাবের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে? ডারউইন তো বলেনি বানর থেকে মানুষের উদ্ভব। ডারউইন বানর পর্যন্ত বিবর্তনের মোটামুটি যুক্তিগ্রাহ্য তত্ত্ব হাজির করেছে। কিন্তু উনি মারা যাবার পরে উনার এক শিষ্য মজা করে এ কথা বলতেন যে, বানর থেকে মানুষের আবির্ভাব, আর কালক্রমে সেই মজাটাই ধার্মিকগন সিরিয়াস রুপ দান করেছে।

    আমার জানা মতে বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী বানর, শিম্পাঞ্জী, গরিলা এসব প্রানী বিবর্তনের ভিন্ন ভিন্ন শাখা থেকে আবির্ভূত হয়েছে। আর সেই শাখার সূচনা হয় একটা শাখা থেকে, সেই শাখারই একটা ভিন্ন ধারায় মানুষের আবির্ভাব। মানুষ অতীতেও মানুষ ছিল, বর্তমানেও ঠিক তাই ই আছে, শুধু মাত্র শারীরিক গঠন পরিবর্তন হয়েছে, আর এখনো হয়ে চলেছে অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়ায়। জীবাশ্ম বিজ্ঞান তার জ্বলন্ত প্রমান। কয়েক হাজার বছর পরেও মানুষ আজকের মত হুবহু শারীরিক গঠনে থাকবে না, বিবর্তনের ধারা থেকে এটা স্পষ্ট। তবে কি মানুষ সেই সময় অন্য প্রানীতে রুপ লাভ করবে? কখনোই না। কয়েক হাজার বছর পরের মানুষ আমাদেরকে অন্য নাম দিতে পারে, তাই বলে কি আমরা অন্য প্রানী হয়ে যাবোবো নাকি? আর তারাই কি ভিন্ন কোন প্রানীতে পরিনত হবে? বানর থেকে মানুষ আবির্ভাবের দাবী যে করে, সে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা ছাড়া আর কিছু নয়য়।

    1. 1.1
      নির্ভীক আস্তিক

      দুনিয়ার সব খালি এক ঈশ্বরবাদি ধার্মিকরা করেছে, নারে সোনা মানিক ভাইটি আমার। মুর্খামি করা আসলে একটা রোগে পরিনত হয়েছে। তা ঐ শীর্ষ মজাটাই বা করেছিলেন কেন? নাস্তিক-প্যাগানরা খালি বানরের মত মজা লুটে, নিজেদের উচ্চ মানের বানরের জাত ভাবতেই যেন মানসিক স্বাদ।   সারা দুনিয়ার বই পত্র Document সব কিছুতে নাস্তিকরাই যে এই বিবর্তনবাদকে সত্যদাবী করে ছরাছরি তাতে একটু মাংশল ঠোঁটে আসেনা। মীরজাফরের মত চরিত্র রেখে আর কতদিন। বিজ্ঞান মানেই যে বিবর্তনবাদ সেটাতো মৌলবাদী, যৌগবাদী, জাসদ, বাসদ, কম্যনিস্ট, চীনা পন্থি, মস্কোপন্থি, পাশের বাড়ির প্যাগান নির্বিশেষে সকল নাস্তিক প্যাগানদের মুখের ডগায় তা স্বীকার করতে খুব লজ্জা লাগে বুঝি! এদের কাছে বিবর্তনবাদের সত্যতা ডারউইণের নিজের অস্তিত্বের চাইতেও বেশি সত্য তা তাদের নিজ নাস্তিকতার গ্রহনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এর বই বিতরনের ব্যাপারটা লক্ষ্য করলেই দেখা যায়। 
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.