«

»

Apr ০৬

জীবনকশা: প্রিয় লেজ

আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে বসে, ‘ভাই, কোন্‌ লেজটি আপনার সবচে’ প্রিয়?’ আমি নাক-মুখ খিঁচে নির্দ্বিধায় বলে দেবো, ‘ব্যাকটেরিয়ার লেজ।’ কেন? কারণ, ধরার বুকে এত সহজ-সরল সুন্দরতম লেজ আর দ্বিতীয়টি নেই। আর সহজ-সরলের পাশাপাশি সৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসা মানুষের চিরন্তন। হুঁহুঁ বাবা! থাকতেই হবে।

আমি যদিও আদর করে ব্যাকটেরিয়ার লেজ বলছি, বিজ্ঞানীরা কিন্তু এটাকে লেজ বলেন না। সবকিছুতে কঠিন কঠিন নাম না দিলে ব্যাপারটা বোধহয় ঠিক বিজ্ঞান বিজ্ঞান লাগেনা। তাই বিজ্ঞানীরা একে “ফ্ল্যাজেলা” (একবচনে ফ্ল্যাজেলাম) বলে আমাদের মতো অগা-মগাদের দাঁত ভাঙ্গার পথ খোঁজেন। ফ্ল্যাজেলা আর লেজ যেহেতু একই ব্যাপার, তাই আমরা একে ব্যাকটেরিয়ার লেজ বলেই ডাকবো। দেখি কে কি করতে পারে!

আমরা কমবেশি সবাই জানি ব্যাকটেরিয়া এক ধরণের জীবাণু। এরা দেখতে কেমন? ব্যাকটেরিয়া দেখতে গোলগাপ্পু কিউট হতে পারে, লোহার রডের মতো সোজা হতে পারে আবার সাপের মতো সর্পিলাকারও হতে পারে। [১]

 

চিত্র-১ঃ কিছু ব্যাকটেরিয়া

এদের মাঝে কিছু ব্যাকটেরিয়ার লেজ (আসলে ফ্ল্যাজেলা) থাকে। কারো এক পাশে একটা লেজ থাকে, কারো বা একগুচ্ছ। কারো কারো দুই পাশেই লেজগুচ্ছ থাকে আবার কেউ কেউ এমন আছে যে সারা শরীর জুড়েই তীব্র লেজের ঘনঘটা। আণুবীক্ষণিক এই ব্যাকটেরিয়ার সূক্ষ্ম লেজগুলো দেখতে অনেকটা চুলের মতো। আর এটাতো সবাই জানিই যে আমরা মিলিয়ন মিলিয়ন কোষ দিয়ে তৈরী হলেও, ব্যাকটেরিয়া শুধু একটামাত্র কোষ দিয়ে তৈরী। তো সেই কোষের দেয়াল ভেদ করে এই লেজ(গুলো) বের হয়ে আসে আর এরাই ব্যাকটেরিয়াকে নড়াচড়া করতে, সাঁতার কেটে সুবিধাজনক জায়গায় যেতে সাহায্য করে। [২]

2

 

চিত্র-২ঃ ব্যাকটেরিয়া ও তাদের লেজ

এই লেজ বড়ই মজার, বড়ই ইন্টারেস্টিং। কত মজার ব্যাপার যে এই লেজের মাঝে লুকানো আছে, তার কিছুটা আজ এখানে বকরবকর করার চেষ্টা করবো।

খুব ভালোভাবে দেখলে দেখা যায়, ব্যাকটেরিয়ার কোষ ভেদ করে বেরিয়ে আসা এই লেজ আসলে চাবুকের মতো। পরিবেশ থেকে পাওয়া নানান রকম ক্যামিকেল সিগন্যালে সাড়া দিয়ে এই লেজ করে কি, মোটরের মতো সাঁইসাঁই করে ঘুরে ঘুরে ব্যাকটেরিয়াকে ঠিক জায়গামতো নিয়ে যায়।

এরকম একটা সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার লেজ চল্লিশটারও বেশি বিভিন্ন রকমের প্রোটিন একত্রিত হয়ে তৈরী হয়। ভাবা যায়? প্রোটিন নিজেই এক অতি জটিল আণুবীক্ষণিক জিনিস। একদম সঠিক সাইজের, সঠিক সজ্জা আর সঠিক গঠনের না হলে, ঠিকভাবে ফোল্ডিং বা ভাঁজ না হলে প্রোটিন নিজেই তার কাজ করতে পারেনা, অচল আর চিৎপটাং হয়ে পড়ে থাকে। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো ভুল গঠনের, ভুল ফোল্ডিং বা ভাঁজের প্রোটিন জীবদেহের ভয়ংকর অসুখের কারণ হয়, এমনকি একটা ভুল গঠনের প্রোটিন মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণির জীবননাশের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।[৩] যেখানে ঠিকঠাক মতো একটা প্রোটিন তৈরী হওয়াও বেশ জটিল আর সুক্ষ্ম একটা ব্যাপার, সেখানে চল্লিশটারও বেশী ঠিকঠাক প্রোটিন একত্রিত হয়, আবার একত্রিত হয়ে একটা অর্থপূর্ণ মোটরের মত ফাংশানাল লেজ তৈরী করে। ব্যাপারটা কেমন জানি মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো!

3

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

চিত্র-৩ঃ ইলেট্রিক্যাল মোটর

 

মানুষ যে মোটর ডিজাইন করে সেই মোটরে অনেকগুলো জিনিস একসাথে কাজ করে। বিশাল হ্যাপা বলা যায়। সেই মোটরে রোটর থাকতে হয়, স্ট্যাটর থাকতে হয়, ড্রাইভ শ্যাফট থাকতে হয়, বুশিং, ইউনিভার্সাল জয়েন্ট থাকতে হয়, প্রপেলার থাকতে হয়। মজার ব্যাপার হলো গিয়ে, ব্যাকটেরিয়ার লেজের গঠনেও ভালোভাবে খেয়াল করলে রোটর, স্ট্যাটর, ড্রাইভ শ্যাফট, প্রপেলার, ইউনিভার্সাল জয়েন্ট ইত্যাদি পার্টসগুলো খুঁজে পাওয়া যায়, যেগুলো একত্রিত হয়ে কাজ করে, আর লেজটাকে হুবহু মানুষের বানানো মোটরের মত কাজ করতে, বাঁই বাঁই করে ঘুরতে সাহায্য করে। [৪] আমাদের দেখা ইলেক্ট্রিক্যাল মোটর যেরকম, ব্যাকটেরিয়ার লেজও (ফ্ল্যাজেলা) সেরকম তবে অতি আণুবীক্ষণিক একটা মোটর। যখন ব্যাকটেরিয়ার কোষের ভেতরের পর্দা দিয়ে পজিটিভ চার্জের হাইড্রোজেন আয়ন যায় তখন সেটা লেজের ঘূর্ণণের শক্তি যোগায়, ঠিক যেভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহ ইলেকট্রিক মোটরকে ঘোরায়। [৫, ৬] যতই এই সহজ সরল লেজ নিয়ে গবেষণা চলছে, ততই এর যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো একে একে বের হয়ে আসছে। [৭, ৮, ৯, ১০]

একটা ইলেট্রিক্যাল মোটর হচ্ছে মানুষের বুদ্ধিমত্তা থেকে তৈরী হওয়া ডিজাইনের একেবারে নিখুঁত উদাহরণ। একটা মোটরের বিভিন্ন পার্টস দেখলেই বোঝা যায় এর প্রত্যেকটা অংশের পেছনের নিখুঁত চিন্তাভাবনা আর অসাধারণ প্ল্যানিং। আসলে আমার কাছে একটা মোটর হচ্ছে একটা আর্ট, শিল্প। থ্রী-ডি আর্ট বা তার চেয়েও বেশি কিছু বলা যায়। যেই থ্রী-ডি আর্টটা একটা অনন্য মাস্টারপীস, একটা অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার চিহ্ন হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে। এই মাস্টারপীসের মাঝে থাকা এতগুলো উপাদানের প্রত্যেকটা একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে পরস্পরের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে আর কার্যকরী হয়, ঘুরতে থাকে। একেবারে প্রত্যেকটা পার্টস তার নিজের জায়গাতে ঠিকভাবে এবং ঠিক সময়ে থাকলেই কেবল একটা যন্ত্র চলতে পারে। একটা অংশও যদি এদিক ওদিক হয় তাহলে পুরো মেশিনটাই অকেজো হয়ে যায়। তাই খুব সাবধানে ঠিক অংশটা ঠিকভাবে তৈরী হতে হয়, সঠিক জায়গায় থাকার জন্যে নিখুঁত আর সুক্ষ্মভাবে প্ল্যানিং করতে হয়, সবকিছু অশেষ যত্ন নিয়ে বুদ্ধি খাঁটিয়ে ডিজাইন করতে হয়। সব যন্ত্রপাতিই পদার্থবিদ্যা আর রসায়নবিদ্যার সূত্রগুলো মেনে চলতে বাধ্য। মজার ব্যাপার হচ্ছে পদার্থবিদ্যা আর রসায়নবিদ্যার সব সূত্র মিলেও কিন্তু একটা যন্ত্র তৈরী করে ফেলতে পারেনা, কক্ষনো না। যতক্ষণ না কেউ একজন এসে সবকিছু নিয়ে গভীরভাবে ভেবে, প্ল্যান করে একটা নিখুঁত ডিজাইন করছে, সবকিছু ঠিকঠাকভাবে তৈরী করছে, এবং ঠিকভাবে একটার পাশে একটা বসিয়ে এটাকে চালু করছে ততক্ষণ পর্যন্ত একটা মেশিন তৈরী হয়না।

“একটা গাড়ির ইঞ্জিন কোত্থেকে এলো” এই প্রশ্নটাকে প্রাকৃতিক নিয়মকানুন বা সূত্রাবলী দিয়ে কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়না। মোটর খুবই অসাধারণ আর খুবই জটিল একটা যন্ত্র এবং এর প্রতিটা বৈশিষ্ট্যই এমন ইউনিক যে একজন বুদ্ধিমান ডিজাইনার ছাড়া একটা মোটর তৈরী হওয়া সম্ভব না। এটা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয়না, কমনসেন্স থাকলেই চলে।

4

 

চিত্র-৪ঃ ব্যাকটেরিয়ার কল্পিত কথোপকথন

ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, মোটর আর যন্ত্রপাতি শুধুমাত্র গাড়ির ইঞ্জিনের হুডের নিচেই ঢাকা থাকেনা। জীবের কোষের ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায়, এটা নানান রকম যন্ত্রপাতিতে ঠাসা এক অদ্ভুত কর্মব্যস্ত নগরী। বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে বায়োকেমিস্ট্রির অগ্রযাত্রা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি জীবের ভেতরের অধিকাংশ বায়ো-ক্যামিকেল সিস্টেম একেবারে মলিকিউলার লেভেলের মেশিন হিসেবেই কাজ করে। হ্যাঁ, একেবারে মেশিনের মতোই! আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই মেশিনগুলোর মাঝে থাকা বেশ কিছু বায়ো-মলিকিউলার মোটর অদ্ভুতভাবেই মানুষের তৈরী করা ইঞ্জিনের ডিজাইনের সাথে মিলে যায়। যদিও, এই বায়ো-মেশিনগুলো মানুষের তৈরী যন্ত্রপাতির চেয়ে আরো অনেক অনেক বেশি সুক্ষ্ম আর ডিজাইনের দিক থেকেও অসাধারণ। [১১]

আজ পর্যন্ত জীব-কোষের ভেতরে আমাদের আবিস্কার করা বায়ো-মেশিনগুলোর অতিসূক্ষ্ম আর অত্যন্ত জটিল গঠন, দুর্দান্ত কার্যক্ষমতা, আর অসাধারণ ডিজাইনের নৈপূন্যতা বারবার ধাক্কা দিয়ে মনে করিয়ে দেয় একজন সুপিরিয়র বিজ্ঞানীর কথা, একজন অসাধারণ আর্কিটেক্টের কথা, একজন ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রান্ডমাস্টারের কথা এবং একজন সুপারস্মার্ট বায়োলজিস্টের কথা।

কি অদ্ভূত! কি অসাধারণ! অলৌকিকতার দরকার নেই, কোন মিরাকল ঘটে যাওয়ারও দরকার নেই। শুধুমাত্র একটা সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার একটা সাধারণ লেজের অসাধারণ দোলার জ্ঞানই সচেতন মানুষের উদ্ধত, অহংকারী মাথাকে একজন অসাধারণ সত্ত্বার সামনে শ্রদ্ধায় আর বিনয়ে নত করে মাটিতে লুটিয়ে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট।


রেফারেন্স:

১] Michael J. Pelczar, Microbiology, 5th edition, 74

২] Michael J. Pelczar, Microbiology, 5th edition, 78

৩] Nelson and Cox, Lehninger Principles of Biochemistry, 4th edition, 150

৪] David F. Blair, “How bacteria sense and swim,” Annual review of Microbiology 49 (October 1995): 489-520

৫] David F. Blair, “Flagellar movement driven by proton translocation,” FEBS Letters 545 (June 12, 2003): 86-95;

৬] Christopher V. Gabel and Howard C. Berg, “The speed of the flagellar rotary motor of E. coli varies linearly with protonomotive force,” Proceedings of the National Academy of Sciences, USA 100 (July 22, 2003): 8748-51

৭] Scott A. Lloyd et al., “Structure of the C-terminal Domain of FliG, a component of the rotor in the bacterial flagellar motor,” Nature 400 (July 29, 1999): 472-75;

৮] William S. Ryu et al, “Torque-generating units of the flagellar motor of E. coli have a high duty ratio,” Nature 403 (January 27, 2000): 444-47;

৯] Fadel A. Sametry et al., “Structure of the bacterial flagellar hook and implication for the molecular universal joint mechanism,” Nature 431 (October 28, 2004): 1062-68;

১০] Yoshiyuki Sowa et al., “Direct observation of steps in rotation of the bacterial flagellar motor.” Nature 437 (October 6, 2005): 916-79

১১] Dr. Fazale Rana, The Cell’s Design, 69-70


১৬ comments

Skip to comment form

  1. 7
    Md Abdullah

    আপনি একটা জটিল জিনসকে খুব সহজ ভাবে বুঝিয়েদিলেন।

  2. 6
    শামস

    ডারউইন এর ব্ল্যাকবক্স  নামে একটা বই আছে, এর উপর একটা ভিডিও দেখেছিলাম

    ব্যাকটেরিয়ার ফাংশন যে কতো জটিল এটা যদি ডারউইন তখন জানতে পারতো তাহলে সেই এই বিবর্তনবাদ তত্ত্ব দিতো কিনা সন্দেহ হয়েছিল! ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদীদের কাছে এটাই সরলকোষ!

    দারুণ লিখেছেন।

     

    1. 6.1
      মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

      অজস্র ধন্যবাদ সময় দিয়ে পড়ার জন্যে ভাইয়া 😀 ভিডিওটা দেখতে চাই। লিঙ্ক আছে কি আপনার কাছে?
       

  3. 5
    শাহবাজ নজরুল

    সদালাপে স্বাগতম! আপনার লেখাটা দেখেও আগে পড়া হয়নি -- যদিও এসেছে বেশ ক'দিন হলো। মনে হয় রায়হান ভাইয়ের কথাটাই ঠিক -- 'শিরোনাম'টা আরেকটু যুতসই হলে ভালো হতো।  যাইহোক, লেখার প্রসঙ্গে আসি। লেখাটা অসাধারণ লেগেছে। আপনার ভাষা সাবলীল, উপস্থাপনা চমত্কার, লেখার অগ্রগমন নিপাট। ছবিগুলো কি হাতে এঁকেছেন? ভালো হয়েছে। মনে হচ্ছে ছবি তুলে আপলোড করেছেন। নিচের ছবির ফোকাসটা  কিছুটা ব্লারি হয়ে গেছে।  সার্বিক অর্থে চমত্কার লেখা। আরো লেখা আশা করছি। 

    1. 5.1
      মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

      অজস্র ধন্যবাদ ভাইয়া। জাজাকাল্লাহু খাইরান।

      জ্বী। ছবিগুলো হাতে আঁকা। আরো ঠিকভাবে আঁকা উচিৎ ছিলো কম্পাস দিয়ে। অলসতাই আমাকে ডুবালো।

      ইন শা আল্লাহ আরো লিখবো। দুয়া করবেন।
       

  4. 4
    মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

    ২য় লেখাটি গুছিয়েছি। তারপরে পাবলিশ বাটনে ক্লিক করছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এক ঘন্টা ধরে চেষ্টা করেও পোস্ট দিতে পারছি না।

     

    সবগুলো লেখাই কি এডিটরকে মেইল করে পাবলিশ করতে হয়? প্লিজ কেউ জানলে দ্রুত জানাবেন।

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      প্রথম পাতার একেবারে উপরের দিকে আপনার একটি পোস্ট আছে। কাজেই দ্বিতীয় লেখাটি কিছুদিন পরে পোস্ট করলে ভালো হতো। একই লেখকের পর পর দুটি পোস্ট ভালো দেখায় না।

      1. 4.1.1
        মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

        @এস. এম. রায়হান:

        আহ! 🙁 ওকে ভাইয়া। হরতাল পেয়ে সারাদিন কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। নেক্সট টাইম থেকে মাথায় রাখবো। কিন্তু যাই হোক, পোস্ট তো করা যাচ্ছে না।

        এটার সমাধান কি?

        এডিটরকেও মেইল করেছি।

  5. 3
    নির্ভীক আস্তিক

    ভাল লিখেছেন। তবে আমাদের স্রষ্টার সন্ধানে থাকার পাশাপাশি বিজ্ঞান, সাহিত্যও করা চাই। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞানের আলচনা আমরা যদি "বিজ্ঞানে স্রষ্টার হাত আছে কি নেই" সেগুলো বাদ দিয়ে চিন্তা করতে পারতাম তবে আমাদের গন্ডি আরো বড় হত। কিন্তু মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায় সেটি ভঙ্গ করেছে সবার আগে। আপনাকে অভিনন্দন। লেখা ভাল লেগেছে। লিখতে থাকুন। যুদ্ধে নেমে সেনাপতির ভূমিকা নিতে পারলে আমি সেপাহী হিসেবে পেছনে আছি 😉

    1. 3.1
      মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

      অজস্র ধন্যবাদ আর জাজাকাল্লাহু খাইরান ভাইয়া (নাকি আপু?)

       

      আপনি ঠিক বলেছেন। বিজ্ঞান নিয়ে ঐভাবে চিন্তা করলেই দ্রুতগামী হওয়াটা সহজ হতো। কিন্তু আমরা পিছিয়ে পড়ছি। কেন? সেটার উত্তরও আপনিই দিয়ে দিয়েছেন।

       

      আর সেনাপতি! হাহাহাঃ ভড়কিয়ে দেবার জন্যে তীব্র তিরস্কার আপনাকে :p সবে তো দূর থেকে যুদ্ধক্ষেত্র দেখছি। তবে আসছি যুদ্ধক্ষেত্রে। সিপাহী হয়ে হলেও। এইটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি আল্লাহ চাইলে।

       

      দ্বিতীয় লেখাটা পোস্ট করতে চাইছি। সব গুছানো শেষ। Publish এ ক্লিক করছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। সাহায্য করতে পারেন কেউ? প্রায় এক ঘন্টা ধরে চেষ্টা করছি 🙁

  6. 2
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে স্বাগতম

    আপনার লেখার কনটেন্টস দেখে বুঝতে পারছি এ বিষয়ে আপনার ভালো দখল আছে। লেখার হাতও চমৎকার। আর এটি যদি আপনার প্রথম লেখা হয় তাহলে বানান-ফরম্যাট ও উপস্থাপনার দিক দিয়েও এক্সিলেন্ট হয়েছে। তবে শিরোনামের কারণে লেখাটি অনেকের নজর এড়িয়ে যেতে পারে। আরেকটু আকর্ষণীয় কোনো শিরোনাম দেয়া যায় কি-না দেখুন। আপনার থেকে নিয়মিত লেখা আশা করছি।

    1. 2.1
      মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

      ভাইয়া, আসসালামু আলাইকুম,

      অজস্র অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার উৎসাহমূলক মন্তব্যের জন্যে 😀 জাজাকাল্লাহু খাইরান কাসীরা।

       

      আমি ব্লগ জগতে নতুন। তাই আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ আমার খুব খুব দরকার হবে। আমি কিন্তু বেশ জ্বালাবো, আগে থেকেই বলে রাখছি। হাহাহাঃ 😀

       

      আসলে লেখাটা লিখেছি ক্লাস নাইন-টেনের বাচ্চাদের জন্যে। জানেনইতো, ক্লাস নাইন-টেন আর ইন্টারমিডিয়েটের বায়োলজি বইতে ইভোলিউশান ঢুকিয়েছে। আমি এই ইভোলিউশান নিয়ে ভুল ধারণা থাকার কারণেই নাস্তিকতায় গিয়ে ডুবেছিলাম। পরে একাডেমিক পড়াশোনার সুবাদে উদ্ধার পাই। পাঠ্যবইতে এই ইভোলিউশান নিয়ে ভুল তথ্যগুলো উপস্থাপন করতে দেখার পর, ফেইসবুকে বেশ চিল্লাচিল্লি করেছি। আমি ছোট মানুষ, কেউ শোনেনি। পরে ভাবলাম, আমিই লিখছি না কেন? অন্তত একটা বাচ্চার কাছেও যদি আমি আলোটা সহজ করে পৌঁছাতে পারি, সেটাই আমার সফলতা।

       

      শুরু করে দিলাম লেখা। সিরিজ হিসেবে লেখার ইচ্ছে আছে। জীবনের নকশা নিয়ে লিখবো, তাই নাম দিয়েছি "জীবনকশা"। ইভোলিউশান নিয়ে ফ্যাক্ট আর ভুলগুলো সহজ ভাষায় তুলে আনার চেষ্টা থাকবে, আর ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন কেন অসাধারণ একটা থিওরী সেটার কেইস দাঁড়া করানোর চেষ্টাও থাকবে পাশাপাশি। মানুষ ইভোলিশানের মাধ্যমে আসেনি, এইটা প্রমাণের জন্যে বেশ কিছু কেইস দাঁড়া করিয়ে লেখার ইচ্ছে। এইটুকু কাভার করার সৌভাগ্য যদি আল্লাহ আমাকে দেন, তাহলে আর কথাই নেই। পুরো সিরিজ শেষে ঝাঁপ দেবো, বই হিসেবে পাবলিশ করার জন্যে।

       

      হাহাহাঃ একটা না লিখতেই স্বপ্নের ফুলঝুরি দেখেছেন? হাসছেন, না? হাসেন, সমস্যা নেই।

      কিন্তু আপনি এবং আপনারা আপনাদের সাজানো গুছানো লেখাগুলো নিয়ে বই ছাপাচ্ছেন না, সেইটা একটা সমস্যা। আমি অলস ঠিক আছে, কিন্তু আপনারা এমন হলে কি করে হবে বলুন?

      ওরা কিন্তু বসে নেই।

      ছাপিয়েই যাচ্ছে।

      যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে তো হবে আমাদের।

      একসাথে।

  7. 1
    পাভেল আহমেদ

    সদালাপে স্বাগতম! 🙂

    আশা করি যে ভালো একটা টিম ওয়ার্ক করতে পারবো আমরা!! 😀

    যদিও অনেকদিন লেখালেখি করি না এন্ড ঠিক ওইভাবে ইন্সপায়ারেসনও পাচ্ছি না!!! 🙁

    সমস্যা নেই!!!! কয়দিন পরে আমিও আবার শুরু করবো ইনশাআল্লাহ্‌!!!!!
     

    1. 1.1
      মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

      অসংখ্য ধন্যবাদ পাভেল তুমি উৎসাহ না দিলে ব্লগে আসা হতো না, সাহসও করতাম না। অজস্র ধন্যবাদ আর জাজাকাল্লাহু খাইরান ভাইয়া

       

      এই ব্লগে অজস্র অসাধারণ লেখা। তোমার লেখাও সেইগুলোর মাঝে পড়ে। আমার অবাক লাগে, আমরা এতো বিশাল একটা কমিউনিটি, কিন্তু বই প্রকাশনায় আমরা কেউ আগাচ্ছি না কেন?

       

      বই ছাপানো শুরু করো। করতে হবে।

      আর হ্যাঁ, আমি তোমার চাইতেও ধুম অলস। এই অলসতা আর বিলাসিতাই তো মুসলিমদের ডুবিয়েছে। জাগতে হবে। কাজ করতে হবে। একসাথে আছি যখন, সম্ভব।

      খুব সম্ভব।

      1. 1.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        আমার প্রস্তাবনা বই ছাপানোর উদ্যোগ এখনই নিতে হবে। পাভেল, তোয়াহা আকবর, নির্ভিক আস্তিক আপনারা সবাই আমাকে ইমেইল করেন (snazrul@yahoo.com) । রায়হান ভাই আর সরোয়ার ভাইয়ের ইমেইল আমার কাছে আছে। ইমেইলে বিস্তারিত কর্ম পদ্ধতি ঠিক করা যাবে ইনশাল্লাহ। অপেক্ষাতে থাকলাম।   

         

        1. 1.1.1.1
          মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

          ইমেইল করছি। কিন্তু ইমেইল কেন করবো, সেটাই বুঝিনি।
           

Leave a Reply

Your email address will not be published.