«

»

Aug ১৩

রমজানের প্রথম চাঁদ বছরে একদিনই উদিত হয়।

এ বছরও উত্তর আমেরিকার সকল মুসলমান মিলে আমরা একই দিন রোজা রাখতে পারিনি। সঙ্গত কারনে তাই একই দিন ঈদ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। অথচ এবার নব্বই শতাংশ সম্ভাবনা ছিল যে, একই দিন রোজা শুরু করা সম্ভব হবে। কিছু লোক রোজা রাখা শুরু করেছে ১৯ জুলাই শুক্রবার বুধবার থেকে। আবার অনেকে রোজা শুরু করেছে ২০ জুলাই শনিবার থেকে। রোজা ঈদ নিয়ে এটা আমাদের জন্য এখন একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিনত হয়েছে। গত দুবছর আগে আমরা রোজা শুরু করেছিলাম ১১ আগষ্ট বুধবার আর অন্য গ্র“প যথারীতি শুরু করেছে ১২ আগষ্ট বৃহ¯প্রতিবার থেকে। সিয়াটল উত্তর আমেরিকার সর্ব পশ্চিমে সর্ব শেষ বড় শহর। এখানের রেডমন্ড নামে ছোট্ট জায়গাটিতে মাত্র তিনটি মসজিদ। এই তিনটি মসজিদের মধ্যে সাউথ এশিয়ান ডমিনেন্ট মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেশী। কিন্তু এই মসজিদের ইমাম সাহেব একটি বিশেষ মতাদর্শের অনুসারী। তিন মসজিদের ইমামগন একত্রে মিলে বৈঠক করেছে; কিন্তু অনেক যুক্তি তর্ক দিয়েও এই বড় মসজিদের ইমাম সাহেবকে বুধবার থেকে রোজা রাখার ব্যাপারে রাজি করাতে পারেনি। এমনকি কিছু লোক চাঁদ দেখেছে বলে কসম কাড়লেও তাদের কথা গ্রহ্য করা হয়নি। অগত্যা ঐক্যের খাতিরে সবাইকে বৃহ¯পতি বার (ভুল দিন) থেকেই রোজা রাখতে হয়েছে। টরন্টোতেও এরকম ঐক্যের প্রচেষ্টা করা হয়েছিল অনেক বার। কিন্তু এই একই গুষ্টির অনমনীয় (আনকম্প্রোমাইজিং) মনোভাবের জন্য ঐক্য ধরে রাখা যায়নি। ফলে মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি পরিহার করার সহজ উপায় হিসাবে আরব কমিউনিটি সহ অন্যান্য অনেকে মক্কা শরীফের সাথে একই দিন ইদ-রোজা পালন করে আসছে। নর্থ আমেরিকা পৃথিবীর সর্ব পশ্চিমে। মক্কা সৌদী আরবে অবস্থিত। সৌদী আরবের অবস্থান পৃথিবীর মাঝখান বরাবর। বিখ্যাত ‘গোল্ডেন রেশিও’ অনুযায়ী মক্কা পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু। একই কারনে একে মহাবিশ্বের কেন্দ্র হিসাবেও অভিহিত করা যায়। কারন কাবা’র ঠিক উপরে বয়তুল মামুর অবস্থিত, তার উপর র্আশ-কুরসি এবং আল্লাহ্। আল্লাহ্কে ঘিরেই মহাবিশ্বের সব কিছু এন্টিক্লকওয়াইজ আবর্তন করে থাকে। সৌদী আরবের সাথে নর্থ আমেরিকার সময়ের ব্যবধান আট থেকে এগার ঘন্টা। আবার বিপরীত দিকে বাংলাদেশ থেকে অষ্ট্রেলিয়ার পর্যন্ত এই ব্যবধান যথাক্রমে চার থেকে এগার ঘন্টা। মক্কার সাথে পৃথিবীর যে কোন স্থানের সময়ের ব্যবধান বার ঘন্টার নিচে। কোন স্থানের সাথে সময়ের ব্যবধান বার ঘন্টার নিচে থাকলে ঐ স্থান অনুসারে মাস শুরু করা যায়। এই পরিসংখ্যান মক্কা শরিফের সাথে একই দিন রোজা শুরু করার ব্যাপারে একটি উল্যেখযোগ্য তথ্য। অপর দিকে মক্কা ইসলামের কেন্দ্র বিন্ধু। কা’বা মুসলমানদের সর্বোচ্চ সম্মানিত তীর্থস্থান। কা’বা শরীফের ঠিক উপরে বায়তুল মামুর যার নিচ বরাবর আদম আ: কা’বা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর বেহেশতের ঠিক উপরে অবস্থিত রয়েছে আল্লাহ্র আরশ ও কুর্সি। আল্লাহ্ সকল সৃষ্টি কর্ম শেষ করে এই আরশ কুর্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সারা দুনিয়ার মুসলমান আমরা সবাই আল্লাহ্র দিকে ফিরে নামাজ পড়ে থাকি (ইন্নি অ’য্যাহ্তু অ’যহিয়া লিল্লাজি ফাতারাস্সামা অয়তি অল্ আরদ)। এবং আঠার হাজার মাখ্লুকাতকে সাথে নিয়ে আমরা হজ্জ্ব ওমরাহ্র মাধ্যমে এই কা’বাকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ্কে তাওয়াফ করে থাকি প্রতিনিয়ত প্রতিদিন। কা’বা শরীফের অবস্থানও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগেই বলা হয়েছে, দুনিয়ার কোন জায়গার সাথে কা’বা ও মক্কা শরীফের সময়ের ব্যবধান (টাইম ডিফারেন্স) বার ঘন্টার বেশী নয়। সময়ের ব্যবধান বার ঘন্টার কম থাকলে ইসলামের অনেক অনুষ্ঠানই একই দিন পালন করা সম্ভব। মাসের প্রথম দিনের চাঁদ পশ্চিম আকাশে উদিত হয়। তাই মক্কা শরীফে চাঁদ উদিত হয়েছে বলা হলে, কোন অবস্থাতেই বলা যায় না যে, উত্তর আমরিকায় চাঁদ উদিত হয়নি। মুসলিম একটি উম্মাহ। আর পৃথিবী এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ। কোন ভিলেজে যদি ধর্মপ্রান কোন একজন মুসলমান বলে যে সে চাঁদ দেখেছে, তাহলে সকল মুসলমানের চাঁদ দেখা হয়ে যায়। সিরিয়া মক্কা শরীফ থেকে পশ্চিম দিকে। সিরিয়ায় চাঁদ উঠলে মক্কায় চাঁদ উঠবে এটা স্বাভাবিক। তাই মক্কায় চাঁদ দেখা না গেলেও যখন একজন এসে বললেন যে সিরিয়ায় চাঁদ দেখা গিয়েছে, রাসুল স: মক্কায় রোজা ভাঙ্গার হুকুম দিয়েছিলেন। উত্তর আমেরিকা যেহেতু মক্কা শরীফ থেকে পশ্চিম দিকে, সঙ্গত কারনেই মক্কায় রোজা রাখা হলে উত্তর আমেরিকায় রোজা রাখা বাধ্যতা মূলক হয়ে যায়।

এবছর ১৯ জুলাই শুক্রবার থেকে রমজান রাখা শুরু হয়েছে। মক্কায় রোজা রাখার জন্য সৌদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঈদ রোজার ব্যাপারে যদি কোন দেশের, কোন সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ঐ দেশের মুসলিম জনসাধারন তা মেনে চলতে বাধ্য। এমনকি সরকার যদি অমুসলিমও হয়, তবুও দেশের মুসলমান জনগনকে সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। অবস্থানগত কারনে সৌদ আরব মুসলিম উম্মাহর অভিবাবক। কারন মক্কা মদিনা ইসলামের এই উল্লেখযোগ্য দুটি স্থান সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধাধীন। কা’বা মক্কায় অবস্থিত। মুসলিম উম্মাহর সকল ধমীয় কর্ম কান্ড পরিচালিত হয় কাবাকে কেন্দ্র করে। সঙ্গত কারনেই তাই মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলোর ব্যাপারে নীতি নির্ধরণী নির্দেষ দেওয়ার দায়িত্ব সেীদি সরকারের রয়েছে। আর সৌদী সরকারও এই দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে যতœবান বলেই আমার বিশ্বাস। তাই প্রতিবারের মত এবারও সৌদি সরকার রোজা শুরুর ব্যাপারে আগে ভাগেই ঘোষনা দিয়ে দিয়েছিল। সৌদী আরব চাঁদ দেখার সাথে সাথে এষ্ট্রনমিক্যাল তথ্যও বিবেচনা করে থাকে। আল্লাহ্ মহা বিজ্ঞানী। আমরা দুনিযাতে আল্লাহ্র প্রতিনিধি। আল্লাহ্ জ্ঞান বিজ্ঞানে পারদর্শী করে আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এষ্ট্রলজিক্যাল তথ্য এখন সেকেন্ড মিনিটের হিসাবে সত্য হয়। হজ্জ্ব রোজা নামাজ অনেক কিছুই আমরা এই তথ্যের ভিত্তিতে পালন করে থাকি। চাঁদ যে স্থানে অবস্থিত থাকলে চাঁদ উদিত হয়েছে বলে মনে করা যায়, চাঁদ যদি ওখানে অবস্থান করে তাহলে সৌদী সরকারের সিদ্ধান্ত ভূল হয়নি। সৌদি সরকার শুক্রবার থেকে রোজা রাখার ঘোষনা দিয়েছে। সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নর্থ আমেরিকায় আরব কমিউনিটি সহ অনেকেই শুক্রবার থেকে রোজা শুরু করেছে। আর অন্যান্যরা, যারা মূলত সাউথ এশিয়ান বেইজড, তারা রমজান শুরু করেছে পরবর্তী দিন ২০ জুলাই শনিবার। বলা হয় যে, স্বচক্ষে চাঁদ দেখার বিষয়টিকে এরা বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের মতে চোখে দেখে চাঁদের অবস্থান নিশ্চিত হলেই শুধু রমজান শুরু করা সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় না যে, এই চোখে চাঁদ দেখার বিষয়টিই তাদের কাছে মূখ্য বিবেচ্য বিষয়। একবার রমজান শুরুর একদিন আগে দিনের বেলায় আমাকে আমার এক বিশেষ পরিচিত জন টেলিফোনে আফসুস করে জানালেন যে, ‘এ বছরও বুঝি একই দিন রোজা শুরু করা সম্ভব হলো না’। ভদ্রলোক সবার সাথে থাকেন এবং সবদিকে ভাল যোগাযোগ রাখেন। এতে বুঝা যায় সৌদী আরবের সাথে রোজা না রাখার সিদ্ধান্ত অপর দলটি চাঁদ দেখার আগেই নিয়ে নিয়েছিল। বস্তুত: সব সময়েই দেখা যায় যে, আরব কমিউনিটি সহ  অন্যান্যরা যেদিন রোজা শুরু করে, সাউথ এশিয়ান বেইজড এই গ্র“পটি রোজা শুরু করে তার পরের দিন থেকে। ফলে এবছরও যে তারা শুক্র বারের পরির্তে যথারীতি শনিবার থেকে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমনটা মনে করা অমুলক নয়। এমতাবস্তায় হেলাল কমিটির সিদ্ধান্তের কথাটি একটি অজুহাত কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। হেলাল কমিটি যদি চোখে চাঁদ দেখার বিষয়টির উপর সত্যই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন তাহলে  বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকায় একই দিন চাঁদের জন্ম হলেও একই দিন চাঁদ দেখা যেতে পারে না এবং এই দুই দুরবর্তী স্থানে রোজা শুরু হতে পারে না একই সময়। তাই চোখে চাঁদ দেখার অজুহাত দাঁড় করিয়ে তারা এই দুই দুরবর্তী স্থানে একই দিন কিভাবে রোজা শুরু করেছে তা ভেবে দেখা দরকার। বস্তুত: ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনের হিসাবে একই দিন হওয়াতে এবছর উত্তর আমেরিকায় যারা শনিরার খেকে রোজা রেখেছে তারা রোজা শুরু করেছে বাংলাদেশের চেয়ে এগার থেকে পনর ঘন্টা পর, এবং সৌদি আরব থেকে সাত থেকে এগার ঘন্টা পর। কারন বাংলাদেশ থেকে উত্তর আমরিকার সময়ের ব্যাবধান এগার থেকে পনর ঘন্টা, এবং সৌদি আরব থেকে আট থেকে এগার ঘন্টা। অর্থাৎ এদের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রথম রোজা শেষ করে যখন ইফতার খাওয়ার সময় হয় তখন এখানে প্রথম রোজার সেহরী খাওয়ার সময় হয় মাত্র। ঈদের অবস্থাও এই একই রকম। চাঁদ প্রথম উত্তম আমরিকা থেকে দেখা গেলেও উত্তর আমারিকাবাসী এই গ্র“পটি ঈদ করে থাকেন প্রকৃতপক্ষে শাওয়ালের চাঁদ জন্মের দ্বিতীয় দিন এবং মক্কা শরীফের হিসাব অনুযায়ী তৃতীয় দিন। এদের প্রধান কার্যালয নাকি দিল্লি-নিজামউদ্দীন। দিল্লি-নিজামউদ্দীনের নির্দেশে এই বিভক্তির জন্ম হয়ে থাকলে তা আমাদের জন্য অবশ্যই মঙ্গল জনক নয়। কারন মুসলমাদের জন্য মক্কা-মদিনা বাদ দিয়ে দিল্লি-নিজামউদ্দীন অনুশরন করার মধ্যে কোন উইজ্ডম নেই।

এখন দেখা যাক কোর’আন ও হাদিসে এই চাঁদের ব্যাপারে কি বলা হয়েছে। সুরা আল বাকারা ২/১৮৯ এ আল্লাহ্ বলেছেন ”লোকে তোমাকে নুতর চাঁদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তা মানুষের সময় ও হজ্জ্বের সময় নির্দেশ করে”। আর সহী মুসলিম এর, ২৩৬৮ নং হাদিসে আবদল্লাহ বিন্ ওমর থেকে বর্ণিত রসূল স: বলেছেন, ”রমজান মাস ২৯ দিনেও হতে পারে; রমজানের চাঁদ না দেখে রোজা রেখ না, এবং শাওয়ালের চাঁদ না দেখে রোজা শেষ কর না। এবং যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তখন হিসাব কর (এবং ৩০ দিন পূর্ণ কর)”। এই হাদিস অনুযায়ী কোন কারনে চাঁদ দেখা না গেলে হিসাব করতে বলা হয়েছে। ৩০ দিন পূর্ণ কর কথাটি ব্রাকেটের মধ্যে থাকায় মনে করা যায় যে, এটা হাদিস ব্যাখ্যাকারীর নিজের কথা। তবে এখানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে হিসাব কর কথাটিই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। হিসাব বা ক্যালকুলেট বলতে বুদ্ধি বিবেচনার কথাই বলা হয়ে থাকে। জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি এখন এমন একটি মাত্রায় পৌঁছেছে যে, বুদ্ধি বিবেচনার মাধ্যমে চাঁদের উদয় অস্ত সম্বন্ধে এখন ১০০% নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাই যদি নিশ্চিত ভাবে জানা যায় যে চাঁদ যেখানে অবস্থান করলে রোজা রাখা ফরজ হয়ে যায়, তখন যদি কম বুদ্ধি সম্পন্ন কোন ব্যক্তি মনে করে যে, যেহেতু সে চাঁদ দেখেনি এবং তার বুদ্ধিতে মনে হয়না যে চাঁদ উদিত হয়েছে; এমন নির্বোধ অন্ধদেরকে অনুসরণ করতে আল্লাহ্ নিষেধ করেছেন। চাঁদ যখন উদিত হয় কেহ না দেখলও চাঁদ তার অবস্থানেই অবস্থান করে। আমরা দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজই আত্মবিশ্বাসের সহিত বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করে থাকি। কোরবানীর কথাই ধরুন, চাঁদ দেখা যাক আর না যাক ‘আরাফাত দিন’ এর পরবর্তী দিন থেকে কোরবানী করা কি বাঞ্চনীয় নয় ? এস্ট্রনমি এখন এতটা উন্নত যে, এস্ট্রলজারগন দিন, ক্ষণ, মিনিট, সেকেন্ড  হিসাব করে অগ্রিম বলে দিতে পারেন চন্দ্রগ্রহন, সূর্যগ্রহনের মত প্রাকৃতিক ঘটনা (ফিনমিনন) গুলো কখন কোথায় ঘটবে। এবং এগুলো সব সময় ঠিক কথিত সময় সংগঠিত হতে দেখা যায়। নামাজের সময় সূচী এবং ইসলামের আরো অনেক কাজ কর্ম আমরা এস্ট্রলজিক্যাল হিসাব অনুযায়ী পালন করে থাকি। এই একই হিসাবের ভিত্তিতে চাঁদের উদয় অস্ত নির্ধারন করতে কোন অসুবিধা আছে বলে আমার মনে হয় না। আর যেহেতু এগুলো নির্ভর যোগ্য তথ্য ’রাসূল স: এর হিসাব করা’ বলতে আমরা এস্ট্রলজারদের এই হিসাবকেও অর্ন্তভূক্ত করতে পারি। ইসলাম জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার ধর্ম। আল্লাহ্ জ্ঞান বিজ্ঞান দিয়ে পারদর্শী করে আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। মুসলমানদেরকে সর্ব ক্ষেত্রে উইজডম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আজকের দিনের মতো তখন যদি কেহ মোহাম্মদ স: কে হিসাব নিকাশ করে বলে দিতে পারতেন যে চাঁদ এখন যেখানে অবস্থান করছে তাতে চাঁদ উদিত হয়েছে বলা যায়, তিনি চাঁদ উদিত হয়েছে বলেই মনে করতেন। প্রাকৃতিক ফিনমিনন মেনে নেওয়ার মতো সামর্থ্য মোহাম্মদ স: এর ছিল। কথিত আছে, তাঁর ছেলের মৃত্যুর দিন সূর্য গ্রহন হয়েছিল, আর লোকজন বলাবলি করছিল যে, মোহাম্মদ স: এর ছেলের মৃত্যুতে সারা ইউনিভার্স শোক প্রকাশ করছে। কিন্তু তিনি বলেছিলেন চন্দ্র সূর্য গ্রহন এগুলো প্রাকৃতিক কর্মকান্ড (ফিনমিনন)। এগুলোর সাথে তাঁর ছেলের মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নেই। ত্ই তিনি লোকদেরকে এমন কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন। আল্লাহ নিজেও বলেছেন যে, তিনি চাঁদ সূর্যকে আমাদের জন্য নিদর্শন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। এদের গতি প্রকৃতি নির্ধারন করে দিয়েছেন আমাদের দিন, ক্ষণ, বছর গননার সুবিধার্থে। তাই চাঁদ যদি এমন স্থানে অবস্থান করে যেখানে থাকলে চাঁদ উদিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়, তখন আমরা খালি চোখে না দেখলেও চাঁদ উদিত হয়েছে বলেই মনে করা উচিত। অপরদিকে, চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা শেষ কর এই কথার মধ্যেও মনে করার কারন নেই যে, দেখা বলতে শুধু চোখে দেখার কথাই বলা হয়েছে। আসলে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাঁদের উদয় এর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। অপরদিকে, হাদিসে ত্রিশ দিন পূর্ণ করার যে কথা বলা হয়েছে তা যদি সঠিকও হয় তা হলে চোখে চাঁদ দেখার বিষযটি কি গুরুত্বহীন হয়ে যায় না ? এবং এর মধ্যেও কি থেকে যায় না ঈদের দিন রোজা রাখার সম্ভাবনা ? আসলে ধর্মপালনের ক্ষেত্রে ‘অভিপ্রায় বা ইন্টেন্শন’ টাই মুখ্য। আল্লাহ্ কাজের চেয়ে কাজের অভিপ্রায়ের প্রতি বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মনে রাখবেন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে সর্ব যুগের জন্য প্রযোজ্য করে দেওয়া হয়েছে। চৌদ্দশত বছর আগে আটকিয়ে রাখতে বলা হয়নি। জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সাথে সাথে মানুষের কাজের গতি প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায। ইসলাম কাজ হারাম করেনি, হারাম করেছে কাজ সম্পন্ন করার অবৈধ ধরন। আল্লাহ্র হুকুম মত সম্পন্ন করা হলে যে কোন কাজ হালাল হয়ে যায়, আর হুকুম মানা না হলে হালাল কাজও আর হালাল থাকেনা। মনে রাখবেন, বাপ-দাদা কি ভাবে ধর্ম পালন করেছেন তা আমাদের জন্য মূখ্য বিষয় নয়, আমাদের মুখ্য দায়িত্ব কোর’আর-সুনআহ্র অনুশরন করা। বিদায় হজ্জ্বে রসুল (সাঃ) আমাদেরকে বাপ-দাদা, পীর-মুরশাদ, এমনকি সাহাবী (রা’) গনকেও অনুশরনের কথা বলে জাননি; বলেছেন কোর’আন-সুন্নাহ্ অনুশরন করতে। কারন কোর’আন-সুন্নাহ্ অনুশরনের মধ্যেই রাখা হয়েছে মানুষের দুনিয়া-আখেরাতের সকল কামিয়াবী।  

আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। সকল বিজ্ঞানের উৎস আল্লাহ্। আল্লাহ্ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিকল্পিত ভাবে তাঁর সৃষ্টি কার্য পরিচালনা করেন। এবং কোন কিছুই যথেচ্ছা পরিবর্তন করেন না। সকল মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই এক। চাঁদ সূর্যের গতি প্রকৃতিও সেই অনাধিকাল থেকে একই রকম। মানুষ আল্লাহ্র প্রতিনিধি। সব প্রতিনিধিকে মালিক নির্দিষ্ট কাজের জন্য তার মত নির্দিষ্ট যোগ্যতা দিয়ে তৈরী করে থাকে। আল্লাহ্ও আমাদেরকে আমাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান বিজ্ঞান দিয়ে পারদর্শী করেছেন। মোহাম্মদ স: জীবিত অবস্থায় আল্লাহর র্আশ পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। আদম আ: এর মানুষ হিসাবে বেহেশতে থাকার যোগ্যতা ছিল। ঈসা আ: জীবিত মানুষ হিসাবেই এখনো বেহেশতে অবস্থান করছেন। আর আমাদের মতো সাধারন মানুষও এখন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার যোগ্যতা রাখে। মুসলমানরাই একদিন দুনিয়াতে বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন করেছিল। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য আজ আমরা বিজ্ঞানকে মেনে নিতে ভয় পাই। ধর্ম যখন রীতিনীতি (রিসুয়াল) এ পরিনত হয়ে যায় তখন অবস্থার এমনি অধ:পতন ঘটে। মহাকাশ গবেষনার হাতে খড়ি হয়েছিল মুসলমানদের হাতে। বিজ্ঞানের এখন এতটা অগ্রগতি হয়েছে যে, মানুষ এখন চাঁদ সূর্যের সঠিক অবস্থান ও সময়ের সুক্ষাতি সুক্ষ অগ্রিম হিসাব দিতে সক্ষম। এই হিসাব মতে যে দিন যে স্থানে যে সময় যা ঘটবে বলা হয়, দিন ক্ষণ সেকেন্ড মিনিটের হিসাবে তা এখন সঠিক হয়ে থাকে। মানুষ এখন প্রায় সকল ক্ষেত্রে এষ্ট্রোলজিকেল টাইম ব্যবহার করে থাকে সর্বোচ্চ আস্থার সহিত। কা’বা, মক্কা মদিনা  মুসলিম উম্মাহর সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দু। সৌদী সরকার এই কেন্দ্রটি নিয়ন্ত্রন করে থাকে। তাই উম্মাহর সাথে সংস্লিষ্ট তথ্য সমূহ সকলকে আগেভাগে জানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাদের রয়েছে। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য যদি তারা অথেন্টিক বৈজ্ঞানিক তথ্য ব্যবহার করে থাকে তাহলে মুসলিম একটি উম্মাহ হিসাবে আমাদের দ্বিমত থাকা উচিত নয়। বিজ্ঞান এখন যথেষ্ঠ উন্নত, এবং অনেক ক্ষেত্রেই বৈজ্ঞানিক  তথ্য অনেক বেশী সঠিক বলে প্রমানিত হতে দেখা যায়। বৈঞ্জানিক তথ্য ভিত্তিক সিদ্ধান্তের আর একটি সুবিধা রয়েছে এই যে, এতে ইগো ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উগ্রতা এভয়েড করা সহজ হয়। অধিকন্তু বিজ্ঞান যদি বলে, চাঁদ এমন স্থানে উদিত রয়েছে যে, এতে রোজা শুরু করা যায় অথবা ঈদ উৎযাপন করা যায়, তাহলে গায়ের জোরে তার অবস্থান পরিবর্তন করা সম্বব নয়। আর গায়ের জোরে তা অস্বীকার করলে অবশ্যই এমন সিদ্ধান্ত ভূল প্রতীয়মান হতে বাধ্য। অপরদিকে এটা যদি সত্য বলে প্রতীয়মান হয় যে, সৌদি আরবে চাঁদ ঠিকই উদিত হয়েছে, তাহলে উত্তর আমেরিকাতে চাঁদ যে উদিত হয়েছে তাতে সন্দেহ থাকার অবকাশ থাকেনা। ফলে সৌদি আরবে যেদিন রোজা শুরু করা হয় উত্তর আমেরিকাতে কোন অবস্থাতেই রোজা তার পরের দিন হতে পারেনা। অপরদিকে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান (টাইম ডিফারেন্স) মাত্র চার ঘন্টা এবং দুনিয়ার কোন জায়গারই সৌদি  আরবের সাথে সময়ের ব্যাবধান এগার ঘন্টার বেশী নয়। তাই সারা দুনিয়ার সকল মুসলমান আমরা এক উম্মাহ হিসাবে সৌদি আরবের সাথে ঈদ রোজার মতো অনুষ্ঠান গুলো একই দিন পালন করতে পারি।

অনেকে রোজার সাথে নামাজের সময় সূচীর তুলনা করে থাকে। বলা হয় সৌদী আরবের সাথে একই দিন রোজা শুরু করা হলে, সৌদি আরবের সময় নামাজ পড়া হয়না কেন। অনেকে আবার তাচ্ছিল্য করে বলে থাকে সৌদি আরবে বৃষ্টি হলে আমরা কি টরন্টোতে ছাতা ধরে থাকি। এটা একটি কথার কথা। কিন্তু আমাদেরকে  মনে রাখতে হবে যে, নামাজ রোজা যাকাত হজ্জ্ব এগুলো সবই আলাদা আলাদা আকিদা। এবং এক এক আকিদা প্রতিপালনের প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য এক এক রকম। ইন্নামাল আ’মালা বিন্নিয়্যাত। তাই একটার সাথে আর একটা জড়িয়ে ফেলা ঠিক নয়। হজ্জ্বের দিন ক্ষণ সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হযে থাকে। নামাজের সময় নির্ধরিত হয় দিন-রাত্রি ও সূর্যের গতি পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। অপরদিকে রোজা শুরু ও শেষ করা হয় আরবি মাসের হিসাবে চাঁদের গতি বিধির ভিত্তিতে। রোজার শুরু ও শেষের সাথে জড়িয়ে রয়েছে আরও কয়েকটি বিষয় যেমন, ১. রমজানে রোজা শুরুর আগে দু’একদিন নফল রোজা রাখা নিষেধ ২. ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম ৩. লাইলাতুল কদর এর সন্ধান । রমজান মাস যদি সঠিক ভাবে শুরু ও শেষ করা না যায় তাহলে সব গুলো দিনই উলট পালট হয়ে যায়। হয়তো দেখা যাবে লাইলাতুল কদর যেদিন পালন করার কথা তা না হয়ে ভূল দিনে পালন করা হয়েছে। আর অবৈধ দিনে রোজা রেখে অযথা গুনতে হচ্ছে ক্ষতির খেসারত। দু’গ্র“প যখন দু’দিন রোজা শুরু করে সম্ভাবনা থাকে যে এক গ্র“প হয়তো শুরুতে নিষিদ্ধ দিনে রোজা রেখে ক্ষতির শীকার হয়ে যায়। আবার এমনও হতে পারে যে অন্য গ্র“প জোর করে ঈদের দিন রোজা রেখে গুনাহগার হয়ে গিয়েছে। আর যারা শুধু ২৭ রমজান লাইলাতুল কদর খোঁজ করে থাকে তাদের অনেকের পক্ষে হয়ত সারা জীবনেও এই মহিমান্নিত রাতটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে না। তাই যারা এই বিষয গুলোকে গুরত্বপূর্ণ মনে করে, তাদের রোজা শুরু ও শেষ করার বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টি গুরত্বপূর্ণ বলেই রাসুল স: চাঁদের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে রোজা শুরু ও শেষ করতে বলেছেন। যারা চোখে চাঁদ দেখার ব্যাপারে আপোষহীন, ত্রিশ রোজা পূর্ণ হয়ে গেলে অবশ্যই তারাও মনে করেন না যে চোখে চাঁদ দেখার বিষয়টি আসলেই খুব গুরত্বপুর্ণ। ভূলে যাওয়া ঠিক নয় যে, আল্লাহ্ এক, রাসুল এক, কা’বা এক, কোর’আন এক, চাঁদও মাত্র একটি এবং কদরের জন্যও রয়েছে একটি মাত্র রাত্রি। সর্বোপরি মুসলমান একটি উম্মাহর নাম। মনে রাখবেন দু’টি কন্ট্রাডিকশনের মধ্যে একটি ঠিক হয় এবং অন্যটি বেঠিক হয়; না হয় দু’টিই বেঠিক হয়। অমুসলিমদেরকে মুসলিম বানানোর দায়িত্ব দিয়ে আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। মুসলমানরা আমরা একে অন্যের ভাই। এক ভাই অন্য ভাইকে সাহায্য করাই ভাইয়ের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যকার কোন ইগোর কারনে এবাদতের গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অস্বীকার করা ঠিক নয়। ইবলিশের আধিপত্য ছিল, লাখ লাখ বছরের এবাদত ছিল। কিন্তু তার ইগো তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে দেয়নি। খেয়াল রাখতে হবে যে, ইবলিশের মতো পর্বত পরিমান সাওয়াব নিয়ে আমাদেরকেও যেন তার সাথে জাহান্নামে যেতে না হয়। মুসলিম উম্মাহ্’র মধ্যে যারা বিভক্তি সৃষ্টি করে তারা উম্মাহ্ থেকে বহি®কৃত হয়ে যায। এবং এদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আল্লাহ্ একান্ত ভাবে নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন (সুরা আন’আম ৬/১৫৯)। মনে রাখবেন, চাঁদ দেখা না দেখার উপর ভিত্তি করে কারো জান্নাত জাহান্নাম নির্ধারন করা হবে না। জান্নাত জাহান্নাম নির্ধারিত হবে হেদায়েত মানা না মানার ভিত্তিতে।  আল্লাহ্ হাফেজ।

১৪ comments

Skip to comment form

  1. 6
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ
    @ওয়াহিদুর রহমান

    গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জোরালো আলোচনা। কিন্তু লেখককে সদালাপের নীতিমালার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ 

    ইসলামের আলোচনায় কোরাণের আয়াতের প্রমিত অনুবাদগুলির যেকোন একটি ব্যবহার করতে হবে (এজ ইট ইজ, ব্রাকেটের মধ্যেও নিজের কোন শব্দ প্রবেশ করানো যাবেনা) ও সোর্স উল্লেখ করতে হবে।

    কোরানের ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলা অনুবাদ করা, যেটি আপনি করেছেন, ও তার উপর ভিত্তি করে আলোচনা করা কার্যত মূল্যহীন। এক্ষেত্রে সরাসরি কোরাণের কোন প্রমিত বাংলা অনুবাদ ব্যবহার করুন। আপনার লেখায় হ্যাস্টি জেনারালাইজেসন   লক্ষ্য করছি- যেমন 

    কাবার দিকে মুখ ফেরানোকে প্রচলিত কনসেনসাস অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাস নয়, মুসলিমদের কেবলা কাবা  একে এক্সট্রাপোলেট করেছেন সকল ক্ষেত্রে।

    আরো এলার্মিং হল রেফারেন্স না দিয়ে কোরানের নামে নিম্নলিখিত কথাগুলি বলাঃ

    কাবার আদম (আঃ) বেহেশ্তে অবস্থিত বায়তুল মামুরের ঠিক নিচে বায়তুল মামুরের মতো করে কাবা তৈরী করেছেন। এই বায়তুল মামুরকে কেন্দ্র করেই ফেরেশ্তাগন কাবা শরিফের মতো সব সময় আল্লাহ্কে তাওয়াফ করে থাকেন।

    সদালাপে আল্লাহ বা রাসুলের নামে সুত্রহীন লেখা কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। আয়াতুল কুরশির সে অনুবাদ আপনি দিয়েছেন, সেখান থেকে উপরোক্ত তথ্য বা উপসংহার ড্র করা যায়না।

    ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ।

  2. 5
    এম_আহমদ

    আপনার কথায় অনেক যুক্তি ও ত্যাজ  দেখছি। আমি কেবল গাইবিয়্যাতের ব্যাপারে যুক্তির ব্যবহারে দ্বিমত করলেও পঞ্চেন্দ্রিয় ও বস্তু জগতের সব কিছুতে বিজ্ঞান ও যুক্তির ব্যবহারের পক্ষপাতী। হাদিস ব্যাখ্যার ব্যাপারে যা বলেছেন তা লক্ষ্য করেছি। তবে এটাও সংযোগ করতে চাই যে আমাদের নবী (স.) কোন এস্ট্রলজার/এস্ট্রনমার ছিলেন না। তিনি নব্যুয়তের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করলেও সৈন্য মোতায়েনের ব্যাপারে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছেন। একবার খেজুরের কৃত্রিম পলোনাইজেশনের ব্যাপারে মানা করলে ঐ বৎসর খেজুর কম হল। তখন তিনি বলেছিলেন যে তিনি সকলের মত একজন মানুষ, তিনি এটাকে ঐভাবে বলার পিছনে নব্যুয়তের কিছু না। অর্থাৎ তিনি রাষ্ট্রপ্রধান বা নেতা হিসেবে অনেক কথা বলতেন এবং অনেক সমস্যার দিতেন। চাঁদের অবস্থানগত ব্যাপারে যে সুরাহা করেছিলেন তা কি তিনি নেতা হিসেবে দিয়েছেন, না সেই হাদিসের ‘আক্ষরিক’ অর্থ প্রত্যেক গ্রামবাসী/এলাকাবাসী ওহী নির্দেশিত dictum হিসেবে মেনে নিয়ে নিজ নিজ গ্রামে/এলাকায় ঈদ করবে –একথা হাদিস বেত্তারা একদম সঠিক হয়ে বলতে হবে। এক সময় যাদের সাথে আক্ষরিক অর্থে ছিলাম, তারা দেখেছি কোন সমাধান দিতে পারেননি। সমস্যা সমাধানে শরিয়ার মূল এহসাস মানতে গেলে আক্ষরিকতার সাথে কিছু কম্প্রোমাইজ করতে হয় এতে বাধা হয় না, সবগুলো হাদিস এবং আছারও সামনে রাখা যায়, তেমন কোন সমস্যা হয় না –আর এর ফলে বৃহত্তর ঐক্য অনুভব করা যায়।   
     
    যদিও সকলের সাথে ঐক্যের আলোচনায় কোন কাজ হবে বলে মনে হয় না তবুও বলতে হচ্ছে যে আপনাতে যে যৌক্তিক energy দেখছি তা নিয়ে সমাধানের জন্য কাজ করুন। আল্লাহ উপর ভরসা, তিনি সমাধান দেবেন। তবে সকল পক্ষের মনে খেয়াল রাখা দরকার যাতে আলোচনা শান্ত হয়, দ্বিমত হলে হোক, সবাই তো সমাধানের প্রত্যাশী।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      আরেকটি কথা। যারা সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করার কথা বলছেন সেটা করা যাবে না। অসম্ভব। আপনার বক্তব্যে যদি এতাও থেকে থাকে, তবে আমার দ্বিমত। তবে বিশ্বকে (globe-কে) কয়েকটি বিশেষ region এ বিভক্ত করে সেই গ্লোবেল রিজনের কথা চিন্তা করা যেতে পারে এবং এতে করে হাদিসগুলোও accommodate করা যাবে। এই কাজের জন্য জাদরেল জাদরেল স্কলার এবং এস্ট্রনোমারের প্রয়োজন হবে।

    2. 5.2
      ওয়াহিদুর রহমান

      সবাই তো সমাধানের প্রত্যাশী হউক সে কামনা আমারও  । মন্তব্যের জন্য আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ ।

  3. 4
    বান্দা ইউসুফ

    আপনার লেখাটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।অনেকে বলে থাকেন "তাই বলে কি সৌদির সময়ে আমরাও নামাজ পড়ব নাকি"।যারা এই রকম হাস্যকর যুক্তি দেয় তাদের আর কি বুঝাবেন বলেন। তবে একটা কথা, শুধু সৌদি নয়, যেকোন মুসলিম দেশই যদি প্রথমে চাঁদ দেখে তবে তার পশ্চিমের সকল দেশই পর্যায়ক্রমে রোজা রাখা শুরু করতে পারে, সেটা চোখে চাঁদ দেখুক বা না দেখুক।

    1. 4.1
      ওয়াহিদুর রহমান

      মন্তব্যের জন্য আপনাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ ।

  4. 3
    ফুয়াদ দীনহীন

    বিজ্ঞানিক দৃষ্টিতেই প্রমান করুন কেন সকাল ১২টা সারা পৃথিবীতে একই সময় আসে না ? মানে বাংলাদেশে যখন ১২টা তখন আমিরাকায় আরেকটা সৌদিতে আরেকটা। বিশ্বাস না হলে এখনিই আপনার প্রবাসী আত্মীয়কে ফোন করেন। দেখেন আপনার সময় আর তার সময় একই কি না। তারপর, ঘৃনা ছড়াইয়েন কিংবা ঐক্যের নামে অনঐক্যের বীজ বপন করিয়েন। 

    1. 3.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      উত্তর আমারিকাবাসী এই গ্র“পটি ঈদ করে থাকেন প্রকৃতপক্ষে শাওয়ালের চাঁদ জন্মের দ্বিতীয় দিন এবং মক্কা শরীফের হিসাব অনুযায়ী তৃতীয় দিন। এদের প্রধান কার্যালয নাকি দিল্লি-নিজামউদ্দীন। দিল্লি-নিজামউদ্দীনের নির্দেশে এই বিভক্তির জন্ম হয়ে থাকলে তা আমাদের জন্য অবশ্যই মঙ্গল জনক নয়। কারন মুসলমাদের জন্য মক্কা-মদিনা বাদ দিয়ে দিল্লি-নিজামউদ্দীন অনুশরন করার মধ্যে কোন উইজ্ডম নেই।- ওয়াহিদুর রহমান এফ.সি.এম.এ.

      আপত্তি এই অংশের ভিত্তিতে, কারণ আমার দৃশটিতে কিছু সংখ্যক মুসলিমের উপর অপবাদ দেওয়া হচ্ছে বলে মনেহচ্ছে।

      1. 3.1.1
        ওয়াহিদুর রহমান

        ভাই ফুয়াদ দীনহীন,
        আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার আপত্তি যথাযত। তাবলীগের ভিতরটা জানার আগে এরকম কথায় আমারও মন খারাপ হতো।
        আসলে আল্লাহ্ তার ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দুনিয়াতে মানুষ পাঠিয়েছেন। একজনকে গায়েল করে আর একজন বড় হওয়ার জন্য নয়। কোন ব্যক্তি বিশেষ বা গ্রপকে বিশেষ ভাবে চিন্নিত করার জন্য আমি আমার লেখায় দিল্লি-নিজামউদ্দীনের প্রসঙ্গ আনিনি। এ প্রস্গং এসেছে তাদের কর্ম-কান্ডের সহিত মানুষকে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য।
        নিচে তাবলিগী মসজিদের জন্য প্রচলিত তাদের ইউনিভার্সাল সংবিধান থেকে কয়েকপি ক্লজ উদৃত করলাম; আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এরা মক্কা-মদিনা বাদ দিয়ে শুধু দিল্লি-নিজামউদ্দীনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

        A few clauses from the constitution of the Tablighi mosque:
        1. The conditions to become a member of the mosque:
        Membership Application Form:
        “I … (name)……, a Sunni Muslim belonged to the Hanafi School of Thought, am applying for membership in ………… (name mosque/society) ………………………………….”

        Declaration:
        “I sincerely and solemnly declare that the above information is complete and true to the best of my knowledge and I further declare that I am fully committed to the constitution and procedures of the mosque/society and I shall be committed to work with other members in harmony to achieve the aims and objectives of the mosque / society.”

        2. Nature of the Organization(Article 2 –Nature):
        “The …. (mosque/society)……shall be a charitable, non-profit, non-political, Islamic religious organisation. The …..(mosque/society) ……shall carry out its objectives, all activities and prayers to Almighty Allah in accordance with Al-Quran, Ahadithes and Hanafi Schools of Thought.”

        3. Aims and Objectives of the Mosque:
        Article 4/3: To establish
        Daily Masura (mutual consultation) in the Masjid.
        Daily teaching and learning in the Masjid after a particular pray.
        At least 8 brothers spend 2.50 hours daily to visit Muslims in the locality
        Two weekly visits to Muslims.
        To spend 72 hours in different localities in order to rectify oneself and propagation of Ismam.

        Intended action to achieve this objective:
        Article 6/b -“Holding seminars and lectures on every Saturday/Sunday and on special occasions for adults depending on necessity and availability of opportunities. Muslims and non-Muslims are welcome to attend these seminars free of cost. Preachers during these meetings exhort people to go for rectification and propagating Islam for as many days as their financial condition permits. But the period is not unlimited and is a periodic planned tour scheduled for 40 t0 120 days in a year, 3 days in a month.”
        Who can be Imam:
        Article 6/e – “The Imam shall be Sunni Hanafi Muslim having religious education from Islamic Institutions recognised by the Darul-Ulum, Deoband, India or Mazharul-Ulum of Shaharanpur, India and Hat-hazari, Chittagong, Bangladesh and spent several times 120 days or one year in the propagation of Islam.”
        Who can give Interpretations on Religious Matters:
        Article 8/B – “In case of disputes of differences in option of religious matters, or if further religious guidance / explanation in these matters is required by the MC (Majid Committee), such matters shall be referred, in writing by the MC to Nizamuddin (India), Darul Ulums of Deoband (India), Dewsbury (U.K.), Raiwind (Pakistan), Kakrail Masjid (Bangladesh. The unanimous decision, judgement or explanation received from them shall be considered final and binding and the Islamic activities of the Mosque/Society shall be carried out accordingly. In case of differences of opinion from the aforementioned Institutions, the board of Directors’ decision on the matter shall be considered final.”

        Reference: The Constitution of Baittul Mukkarrum Islamic Society Toronto (Popularly known as Tablighi Mosque).

  5. 2
    শাহবাজ নজরুল

    ওয়াহিদ ভাই,

    সালাম।

    নীচে বৃহষ্পতিবারের (জুলাই ১৯) চাঁদের দৃশ্যমান হবার সম্ভবনা চিত্র দিলাম। এই চিত্র অনুযায়ী সবুজ অংশে খলি চোখে চাঁদ দেখা যাবার কথা। নীল অংশ হচ্ছে ভালো পরিবেশে চাঁদ দেখা যাবার কথা। এভাবে এগুলে লাল অংশে অপ্টিক্যাল সহায়তা নিয়ে চাঁদ দেখার সম্ভবনা আছে। আর কালো অংশে চাঁদ দেখা যাবার কোনোই সভবনা নেই। সৌদি আরব কালো অংশে পড়েছে। এখন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেই জবাব দেন তো সৌদি আরবে কীভাবে বৃহষ্পতিবারে চাঁদ দেখা গেলো, যেখানে সবুজ ও নীল অংশ থেকে চাঁদ দেখার কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি? জবাব বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন আপাতত, শারিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে পরে নাহয় আলাপ করা যাবে।

    --শাহবাজ


     
     

    1. 2.1
      ওয়াহিদুর রহমান

      শাহবাজ নজরুল ভাই।
      মহী ভাইয়ের লিখায় আপনার কিছু কমেন্ট দেখে তো মনে হল আপনি আধুনিক এস্ট্রনমী তথা বিজ্ঞানের হিসাব নির্ভযোগ্য নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন তাহলে এখানে আবার বিজ্ঞানের সাহয্য নিলেন  সৌদির চাঁদ দেখাকে ভুল প্রমান বা সন্দেহ প্রকাশ করতে তার কারন বুঝতে পারলাম না?
      তবে আপনার প্রদত্ত চাঁদের অবস্থান নির্ণয়ের চিত্রটি দেখে আমি উৎসাহিত হয়েছি। কারন এটি একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য। ফিকা কাউন্সিল এবং সৌদী সিদ্ধান্তকারীগনের দাবি তারাও প্রত্যক্ষভাবে চাঁদ দেখা সহ বিজ্ঞান ভিত্তিক এরকম তথ্য বিবেচনা করে থাকেন। ইন্টারনেটের বদৌলতে আজকাল তিলকে তাল বানানো যায়। আপনার প্রদত্ত চিত্রটি সত্য হলে বলা যায় যে তারা ভুল করেছেন। আর ধর্মীয় ব্যাপারে কোন মুসলমান ভুল করলে মুসলমান হিসাবে আমাদের দায়িত্ব এনিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি না করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া। আসুন চাঁদ উদিত হয়নি এটা প্রমাণ করার জন্য যেমন বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করছেন, চাঁদ উদিত হয়েছে কিনা তা প্রমাণ করার জন্যও অন্যান্য বিষয়ের সাথে বিজ্ঞান ভিত্তিক এই তথ্য ব্যবহার করি। কিন্তু মনে রাখবেন কোন অবস্থাতেই মক্কা-মদিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার আল্লাহ্ আমাদেরকে দেননি। আল্লাহ্ বলেছেন:
      To each is a goal to which Allah turns him; then strive together (as in a race) toward all that is good.  Wheresoever you are, Allah will bring you together.  For Allah has power over all things (2/148)। অর্থাৎ (আর প্রত্যেকের একটা প্রত্যক্ষ দিক আছে যার দিকে আল্লাহ্ তার মুখ সেদিকে ফিরিয়ে দেন। অতএব তোমরা সবাই যা সঠিক তা করার জন্য প্রতিযোগীতা কর। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন আল্লাহ্ তোমাদেরকে একত্র করবেন। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।)
      From whencesoever you start forth, turn your face in the direction of the Sacred Mosque; that is indeed the truth from your Lord.  And Allah is not unmindful of what you do (2/149) | অর্থাৎ (আর যেখান থেকেই তুমি শুরু করনা কেন মসজিদুল হারামের দিকে মূখ ফেরাও। নিশ্চয়ই এ তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে প্রেরিতে সত্য। তোমরা যা করছ তা আল্লাহ্র অগোচর নয়।)
      So from whencesoever you start forth, turn your face in the direction of the Sacred  Mosque; and wheresoever you are, turn your face tither: that there be no ground of dispute against you among the people, except those of them that are bent on wickedness; so do not fear them, but fear Me; and that I may complete My favors on you, and you may (consent to) be guided (2/150)। অর্থাৎ (আর তুমি যেখান থেকেই শুরু করনা কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাবে, যাতে যারা সীমালঙ্ঘন করে তারা ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের সঙ্গে তর্ক করতে না পারে। তাই তাদেরকে ভয় করো না, একমাত্র আমাকেই ভয় কর যাতে আমি আমার নেয়ামত তোমাদেরকে পুরোপুরি দিতে পারি, এবং যাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হতে পার।)
      কোর’আনের উপরোক্ত আয়াতগুলো সহ অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ্ পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েছেন যে মুসলমানদের মক্কা-মদিনাকে পরিহার করে চলার উপায় নেই।
      অধিকন্তু এ্যষ্ট্রনমিক্যাল এই তথ্য চাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি উপাদান। কিন্তু আমি আমার লেখায় সৌদী আরব ও সৌদী সরকারের অবস্থান, কমিউনিটির কেহ চাঁদ দেখে থাকলে তার সাক্ষ্য সহ সিদ্ধান্তের সাথে সংস্লিষ্ট আরো অনেক গুলো বিষয় আলোচনা করেছি। চাঁদের ব্যাপারে এই সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই তো বিশেষজ্ঞ কমিটির কাজ। কিন্তু কোনভাবেই শুধু মাত্র খালি চোখে চাঁদ দেখার বিষয়টি বিবেচনা করা ঠিক নয়। কারন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল যদি ত্রিশ দিন পুরো করার কথা বলে থাকেন তাহলে চাঁদ উঠুক আর না উঠুক মক্কা-মদিনাকে কেন্দ্র করে অবশ্যই আমরা সমন্বিত একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
      মনে রাখবেন মুসলিম ঐক্যই মুসলমানদের বড় শক্তি। ধর্ম সম্বন্ধে যারা নানা মতের সৃষ্টি করে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যারা এই শক্তি দুর্বল করে দেয় তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ্ নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন (৬/১৫৯)। আল্লাহ্র সিদ্ধান্ত যেন আমাদের কারো বিরুদ্ধেই না যায়।
                                                                 
       

  6. 1
    সাইফুল ইসলাম

    কারন কাবা’র ঠিক উপরে বয়তুল মামুর অবস্থিত, তার উপর র্আশ-কুরসি এবং আল্লাহ্। আল্লাহ্কে ঘিরেই মহাবিশ্বের সব কিছু এন্টিক্লকওয়াইজ আবর্তন করে থাকে।

    এই তথ্যের উৎস কি?

    1. 1.1
      ওয়াহিদুর রহমান

      সাইফুল ইসলাম সাহেব আশা করি নিচের কথা গুলো থেকে এ ব্যাপারে একটা ধারনা পাওয়া সম্ভব হবে।
      Ayatul Kursi: 2/255 -- Allah! There is no god but He, -- the Living, the Self-subsisting, Eternal.  No slumber can seize Him nor sleep.  His are all things in the heavens and on earth.  Who is there can intercede in His presence except as He permits?  He knows what (appears to His creatures as) Before or After or Behind them.  Nor shall they compass anything of His knowledge except as He wills.  His Throne extends over the heavens and the earth, and He feels no fatigue in guarding and preserving them for He is the Most High, the Supreme (in glory).
      অর্থাৎ (আল্লাহ্ -- তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, অনাদি। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে শুপারিশ করবে? তিনি ভূত ভবিষ্যৎ জানেন। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই কেহ আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর আরশ স্বর্গ ও মর্ত্যরে ঠিক উপরে অবস্থিত যা রক্ষণাবেক্ষনে তিনি ক্লান্ত হন না। তিনি অতিউচ্চ ও মহামহিম।)
      এই আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ্র আরশ স্বর্গ ও মর্ত্যের ঠিক উপরে অবস্থিত। 
      আদম (আঃ) বেহেশ্তে অবস্থিত বায়তুল মামুরের ঠিক নিচে বায়তুল মামুরের মতো করে কাবা তৈরী করেছেন। এই বায়তুল মামুরকে কেন্দ্র করেই ফেরেশ্তাগন কাবা শরিফের মতো সব সময় আল্লাহ্কে তাওয়াফ করে থাকেন।  
       
      Al Bakara, Ruku 1/18, Ayat (148 – 152)
      2/148 -- To each is a goal to which Allah turns him; then strive together (as in a race) toward all that is good.  Wheresoever you are, Allah will bring you together.  For Allah has power over all things. 
      (আর প্রত্যেকের একটা প্রত্যক্ষ দিক আছে যার দিকে আল্লাহ্ তার মুখ সেদিকে ফিরিয়ে দেন। অতএব তোমরা সৎ কর্মে প্রতিযোগীতা কর। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন আল্লাহ্ তোমাদেরকে একত্র করবেন। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।)
       
      2/149 -- From whencesoever you start forth, turn your face in the direction of the Sacred Mosque; that is indeed the truth from your Lord.  And Allah is not unmindful of what you do.
      (আর যেখান থেকেই তুমি শুরু করনা কেন মসজিদুল হারামের দিকে মূখ ফেরাও। নিশ্চয়ই এ তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে প্রেরিতে সত্য। তোমরা যা করছ তা আল্লাহ্র অগোচর নয়।)
       
      2/150 -- So from whencesoever you start forth, turn your face in the direction of the Sacred  Mosque; and wheresoever you are, turn your face tither: that there be no ground of dispute against you among the people, except those of them that are bent on wickedness; so do not fear them, but fear Me; and that I may complete My favors on you, and you may (consent to) be guided.
      (আর তুমি যেখান থেকেই শুরু করনা কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাবে, যাতে যারা সীমালঙ্ঘন করে তারা ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের সঙ্গে তর্ক করতে না পারে। তাই তাদেরকে ভয় করো না, একমাত্র আমাকেই ভয় কর যাতে আমি আমার নেয়ামত তোমাদেরকে পুরোপুরি দিতে পারি, এবং যাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হতে পার।)
       
      2/(151-152) – A similar (favour you have already received) in that We have sent among you a Messenger of your own, rehearsing to you Our Signs, and sanctifying you, and instructing you in Scripture and Wisdom, and in new Knowledge. Then you remember Me; I will remember you. Be grateful to Me, and do not reject Faith.
       
      (আমি তোমাদেরই একজনকে রসূল করে পাঠিয়েছি যে আমার আয়াতগুলো তোমাদেরকে শেখায়, তোমাদেরকে পবিত্র করে, তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় কিতাব ও তত্ত্বজ্ঞান, আর শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না। সুতরাং তোমরা আমার আদেশ নিষেধ অধ্যায়ন কর, আমিও তোমাদেরকে আমার প্রতিশ্র“ত নেয়ামত দেব, আমার কাছে তোমরা কৃতজ্ঞ হও, আর কৃতঘœ হয়ো না। )
       
      এ জন্যই উপরের আয়াতগুলোতে আল্লাহ্ সকল ক্ষেত্রে আমাদেরকে কাবা’কে ডিরেকশন করতে বলেছেন। 
       
      আর আল্লাহ্র অবস্থান কাবা’র সাথে সংযুক্ত রয়েছে বলেই আমাদেরকে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে এই দোয়াটি পড়তে হয়। 
      6/79 – Fo me, I have set my face, firmly and truly, towards Him Who created the heavens and the earth, and never shall I give partners to Allah.
      (নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।)
       
      পরিশেষে: আমাদের সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে, আল্লাহ্ নিজে মানুষের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ন্ত্রন করেন না। রাসূল (সাঃ) কেও ধর্মের ব্যাপারে শক্তি প্রয়োগ করতে নিষেধ করেছেন। আর আমাদেরকে বলা হয়েছে ‘লাএকরাহা ফিদ্দীন’। ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারে জবরদস্তি না করতে। তাই আসুন জবরদস্তির পথ পরিহার করে আমরা মিথ্যা থেকে সত্য আলাদা করে সত্য মেনে চলার জন্য একে অন্যকে সহায়তা করি। এবং নিচে উদ্দৃত কোর’আনের আয়াত গুলো থেকে বুঝতে চেষ্টা করি যে, আল্লাহ্ ধর্মের ব্যাপারে জবরদস্তি করতে বলেননি কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে মিথ্যা থেকে সত্য আলাদা করতে বলেছেন। 
      If it had been Allah’s plan, they would not have taken false gods; but We made you not one to watch over their doings, nor are you set over them dispose of their affairs ( 6/107)। অর্থাৎ  (যদি আল্লাহ্র পরিকল্পনা থাকতো (বা ইচ্ছা করতেন) তবে তারা মিথ্যা উপাস্য নিতো না বা র্শেক করতো না। আর তাদের জন্য আমি তোমাকে রক্ষক নিযুক্ত করিনি, আর তুমি তাদের অভিবাবকও নও।)
       
      Let there be no compulsion in religion:  Truth stands out clear from Error: whoever rejects Evil and believes in Allah has grasped the most trustworthy hand-hold that never breaks.  And Allah hears and knows all things. (2/256)|  অর্থাৎ (ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। সৎপথ ভ্রান্তপথ থেকে সুষ্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং যে অসত্যকে পরিত্যাগ করে আল্লাহ্কে বিশ্বাস করেছে সে এমন এক শক্ত হাতল ধরেছে যা কখনো ভাংবে না। আল্লাহ্ সব শোনেন, সব জানেন।)
        

      1. 1.1.1
        সাইফুল ইসলাম

        আসসালামু আলাইকুম,
        দুঃখিত, আপনার কোন রেফারেন্স থেকেই স্পষ্টভাবে একথা বোঝা গেলোনা যে বাইতুল মা'মুর কা'বা শরীফের উপরে অবস্থিত। উপরের রেফারেন্সগুলো থেকে কেবল এতোটুকুই স্পষ্ট হয় যে মুসলিমরা কা'বা শরীফের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে।
        আপনি আরেকটি কথা সংযোজন করেছেন কোন রেফারেন্স ছাড়া। তা হলো, "আদম (আঃ) বেহেশ্তে অবস্থিত বায়তুল মামুরের ঠিক নিচে বায়তুল মামুরের মতো করে কাবা তৈরী করেছেন। এই বায়তুল মামুরকে কেন্দ্র করেই ফেরেশ্তাগন কাবা শরিফের মতো সব সময় আল্লাহ্কে তাওয়াফ করে থাকেন।"
        এর উৎস কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.