«

»

Mar ০৬

সাঈদী কি নিষ্ঠুর রাজনীতির নির্মম শিকার হলেন?

ব্লগার রাজীব হত্যা ব্যাকফায়ার করার পর শাহবাগের আন্দোলন উজ্জীবিত রাখার জন্য এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ব্লগারদের অপকর্ম থেকে উদ্ভুদ পরিস্থিতি থেকে দৃষ্টি অন্যত্র সরানোর জন্য আর একটি কোরবানী অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। সাঈদী সাহেব এই কোরবাণীর একটি নিষ্ঠুর শিকার।

 সাঈদী সাহেবের পক্ষে-বিপক্ষে দেওয়া সকল সাক্ষীর প্রতিটি বক্তব্য আমি পড়েছি। সরকারী সাক্ষীদের বেশীর ভাগ ছিল ফকির-পাকড়া, চোর-বাটপার, ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে মুক্তি যুদ্ধের সপক্ষে বা বিপক্ষে কোন প্রকার সংস্রব রয়েছে এই সকল সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে আমি খুঁজে পাইনি। বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপের মধ্যেও এই একই ধারনার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি বলেছেন, “সাঈদী সাহেবের বিচার একটি গ্রামীন শালিস বই কিছু নয়।” ফাঁসী হওয়ার মতো অপরাধ কি গ্রাম্য শালিসে ফয়সালা হয়? হয় না। অধিকন্তু ‘দেল্লা রাজাকার’ আর ‘দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর’ পিতা যে একই ব্যক্তি ছিলেন তাও গ্রহনযোগ্য ভাবে প্রমানিত হয়নি। তাই ভেবে দেখা দরকার যে, নাটকে ভুল করে আব্বাসকে আক্কাস বানিয়ে মারামারির যে নাটক করা হয়েছে, এখানেও তা হয়েছে কিনা। একজন নিরপরাধ ব্যক্তির শাস্তি হোক এটা অবশ্যই আপনারা চান না। কিন্তু বলতে পারেন, বিশা বালীর ভাই সুখরঞ্জন বালীর কোর্টের দরজা থেকে গুম, ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রীর পুরনো মামলা, আর ১৫ জন সরকারী সাক্ষীর অনুপুস্থিতে তাদের পক্ষে তদন্তকারী অফিসারের সাক্ষী গ্রহনের মতো পরিস্থিতির পর কারো বিরুদ্ধে ফাঁসীর রায় হয় কিভাবে? প্রকৃতপক্ষে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ কেলেঙ্কারী প্রকাশ হওয়ার পর ফাঁসিতো দুরের কথা, সাঈদী সাহেবের দু’চার দিনের জন্যও শাস্তি হওয়ার কথা ছিলনা। তবুও আটটি অভিযোগে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃর্তু দন্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগটি আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। বিচারক নিজেই বলেছেন, সাঈদী সাহেব নাকি একজন সাধারন রাজাকার ছিলেন। রাজাকারদের কি তখন এমন ক্ষমতা ছিল যে তারা পাকিস্তানি সৈন্যদের খাদ্যে ভাগ বসাতে পারতো? পাকিস্তানি সৈন্যরা ছিল তখন ধর্ষনের মূখ্য খরিদ্দার। আর রাজাকারের অবস্থান ছিল তাদের চাকর-বাকরের মতো। মনিব তার মহামূল্যবান খাদ্য সামগ্রী চাকর-বাকর সহ ভাগ বাটোয়ারা করে খাবেন এমন মানষিকতা আর করো থাক না থাক পাকিস্তানী সৈন্যদের অবশ্যই ছিলনা। তবুও বলা হয়েছে ধর্ষন প্রমাণিত হয়েছে। তাই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শাস্তি দেওয়ার সময় এবিষয়টি কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে যে, তখন স্থানীয় ভাবে সকল সাধারন রাজাকারদের জন্য একজন রাজাকার কমান্ডার ছিল। যদি থেকে থাকে, তাহলে কমান্ডার এবং তার অধিনস্ত অন্য সকলকে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র একজন তথাকথিত রাজাকারের শাস্তি হয় কি ভাবে? আমার মনে হয়, শাস্তি সাব্যস্ত করার সময় পাকিস্তানী সৈন্যদের কথা ভূলে গিয়ে রাজাকারদেরকেই প্রকৃত পাকিস্তানী সৈন্য মনে করে শাস্তি সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচারপতি নিজামুল হক বলেছিলেন যে, সরকার একটা রায়ের জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে। তাই এই পাগলামি থামানোর জন্য বিচারের এরকম রায় প্রদান করা হয়েছে কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার। তবে মনে রাখবেন, বিচার পাগলা-পাগলি থামানোর মতো কোন কাজ নয়। বিচার একটি পবিত্র আমানত। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যায়ের বিচার করে এই আমানত রক্ষা করতে হয়। অন্যায়ের সাথে কম্প্রমাইজ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আসলে শাহবাগের উত্তপ্ত চত্বর থেকে উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিচারের জন্য মূলত কোন বিচারপতিই খুঁজে পাওয়া উচিত ছিলনা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য রাজা রাজবল্লব, উমির চাঁদ, ঘষেটি বেগম, মোহাম্মদী বেগ, মীর জাফর আলী খাঁনের এই দেশে কোন কিছুরই যেন কমতি থাকতে নেই। না হয়, বিচারে যা’ই হোক, রায় হতে হবে ফাঁসী, এই শর্ত মেনে নিয়ে মানুষ বিচারকের দায়িত্ব গ্রহন করেন কি ভাবে। আসলে বিচারকের ঘাড়ে শাহবাগ বসিয়ে রাখার পরও যখন বিচারপতিগন বিচার কাছে বিব্রতবোধ করেন না তখন বুঝতে হবে ‘ডালমে কুঁচ কালা হায়।’

দুনিয়াতে বর্তমানে সাদার ছেয়ে কালো বেশী ক্ষমতাবান বলেই ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বা বিচারিক খুঁন কথাটি জন্ম হয়েছে। তাই পৃথিবীর অনেক দেশেই অনেক নিরীহ মানুষ হচ্ছেন এই ‘বিচারিক খুঁনের’ নির্মম শিকার। কিন্তু ‘বিচারিক খুঁনের’এই মসিবতটি সাঈদী সাহেবের ঘাড়ে পড়লো কেন? – কারন রাজনীতি। বড় রকমের বার্গেনিং এর জন্য রড় সীপ দরকার। সাঈদী সাহেব একটি বড় সীপ। এই মুহুর্তে জমায়েতে ইসলাম ও সাঈদী সাহেবের চেয়ে বড় সীপ বাংলাদেশে নেই। জামায়াতে ইসলাম রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে; আর সাঈদী সাহেব পারেন মানুষের মনকে টেনে বের করে আনতে মনের ভিতর থেকে। সরকার হয়তো তাই নিজেদের পাহাড় পরিমান ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য সাঈদী ও জামায়েত উভয়কেই তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। এতে হয়তো সরকার আশা করছেন তাদের নিম্ন লিখিত উদ্দেশ্য গুলো হাসিল হতে পারে:

১. নির্বাচনী ওয়াদার নামে রাজনৈতিক ফায়দা লাভ
২. জামাতকে নি®কৃয় করে আসন্ন নির্বাচনে বিজয় লাভের সম্ভাবনা তৈরী
৩. সম্ভব হলে প্রেসিডেন্সিয়াল পার্ডনের বিনিময়ে জামাতের বিএনপি ত্যাগের ব্যবস্থা
৪. উদ্ভুদ পরিস্থিতিকে মূলধন করে জামাতের রাজনীতি অবসান
৫. প্রয়োজন মত অন্যান্য ষ্টেটিজিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ——    

কিন্তু সাঈদী সাহেব এখন কি করবেন?

সাঈদী সাহেবকে যে সকল অপরাধে মৃর্তুদন্ড দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম অপরাধ ‘ধর্ষন’। ধর্ষন জনিত অপরাধে ইউসুফ (আঃ) কে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের মতো তখনকার মিশরের কর্তৃপক্ষও জানতো যে ইউসুফ (আঃ) দোষী ছিলেন না। সাঈদী সাহেবও তাই। এক সময় কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় একটি বড় সমস্যা সমাধানের জন্য  ইউসুফ (আঃ) কে মুক্তি দানের প্রয়োজন হয়েছিল। ইউসুফ (আঃ) তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারন ধর্ষনের মতো একটি মিথ্যা অভিযোগ মাথায় রেখে মুক্ত থাকার চেয়ে কারাগারে থাকাটাকেই তিনি ভাল মনে করেছিলেন। ইউসুফ (আঃ) এর বয়স কম ছিল, তবুও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। কিন্তু সাঈদী সাহেবের বয়স ৭৩ বছর। আরো কয়েকটাদিন বেঁচে থাকার জন্য ধর্ষনের মতো একটি মিথ্যা অপবাদ মাথায় নিয়ে সরকারের পাতা ফাঁদে তিনি পা দিতে পারেন না। আর যদি তা’ই হয় তাহলে এই বিচারকে ঘিরে সরকারের নেওয়া অনেক ষ্টেটিজি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বিশেষ করে দন্ড কার্যকর করার দিন বগুড়ার মতো যদি সারা দেশের নারী-পুরুষ মিলে দেশের সকল পুলিশ ফাঁড়ী দখল করে ফেলে তাহলে পাকিস্তানী ও বিহারীরদের মতো বর্তমান সরকার ও সাহায্যকারী কারো জন্যই ভাল হবে না। জাতী বিরাট সংকটে নিপতিত হবে।

মনে রাখবেন, আল্লাহ্ বলেছেন

“তোমরা পরিকল্পনা কর, আমিও পরিকল্পনা করি; কিন্তু আমি সকল পরিকল্পনাকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনা কারী।” – আল-কোর’আন।   

 

http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=jqULfkk1_zs

৩২ comments

Skip to comment form

  1. 11
    ওমর ফারুক

    লম্পট মুনাফিক সাইদির পক্ষে ওকালতি দেখে অবাক হলাম না। যুগে যুগে এমন দাজ্জালের মুরিদ চিরকালই ছিল।

    এই লোক প্রথমে মিথ্যাচার করল ১৯৭১ এ তার বয়স ছিল নাকি ১১-১২ বছর !! পরে ধরা পরল তার ছেলেই মারা গিয়েছে ৪৫ বছর বয়সে। এর মানে ১০ বছর বয়সে সাইদি বাপ হয় !!

    তারপরে ধরা পরল নির্বাচনী সনদে সাইদি নিজেই লিখেছে তার জন্ম ১৯৪০ এ।

    যে লোকের জন্মেরই ঠিক নাই, নিজের জন্ম নিয়েই যার মিথ্যাচার তার পক্ষে যারা কথা বলে তারা যে কী পরিমাণ আইকিউ ধরে বুঝাই যায় !!

     

     

     

  2. 10
    sami23

    দৈনিক সংগ্রাম প্রত্রিকায়ে দেওলোয়ার হোসেন সাঈদির  বিচারে একটি পত্রিকা  আজকে(১৭ মাচ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় তা নিম্নরূপে।
    রাজাকার দেলোয়ার সিকদারের কৃত অপরাধে মৃত্যুদন্ড হলো বিশ্বখ্যাত আলেমের

    শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ড ঐ জেলার রাজাকার বা স্বাধীনতা বিরোধীদের যে তালিকা দিয়েছেন তাতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম ছিল না। ঐ তালিকার ৪৬ নং ক্রমিকে পরিষ্কার উলে­খ আছে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারের নাম দেলোয়ার সিকদার। তার পিতার নাম রসুল সিকদার। অথচ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম তার দাখিল এবং আলিম পাসের সার্টিফিকেটে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আছে। তার পিতার নাম ইউসুফ সাঈদী। এই দু’টি ডকুমেন্ট প্রসিকিউশনই (সরকার পক্ষ) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছেন। তারপরেও সেটা আমলে না নিয়ে দেলোয়ার সিকদার ওরফে দেলু ওরফে দেইল্যা রাজাকারের অপরাধ বিশ্বখ্যাত আলেমে দ্বীন ও মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা সাঈদীর ঘাড়ে চাপিয়ে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে যেমনটি চেয়েছেন সরকার এবং তাদের লালিত-পালিত শাহবাগীরা। এই রাজাকার দেলু সিকদারের গ্রামও ভিন্ন। তার গ্রামের নাম চিলা যা পিরোজপুর শহরের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অদূরে। অন্যদিকে আল­vমা সাঈদীর গ্রামের নাম সাইদখালী। সর্বোপরি ঐ দেলোয়ার সিকদারই যে বর্তমান দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্রও দাখিল করেননি প্রসিকিউশন।
    অনুসন্ধানে জানা যায়, চিলা গ্রামের সিকদার বাড়ির রসুল সিকদারের ৬ জন পুত্র সন্তান ছিল। তারা হলেন- ১। এনায়েত সিকদার, তিনি ব্যবসা করতেন বর্তমানে কিছু করেন না। ২। বেলায়েত সিকদার গৃহস্থালীর কাজ করেন। ৩। দেলোয়ার সিকদার (অবিবাহিত) কুখ্যাত রাজাকার ছিল, পিরোজপুর দখলদারমুক্ত হবার পরপরই মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তেজিত জনতার হাতে নিহত হয়। প্রসিকিউশন ডকুমেন্টের ৩ নাম্বার ভলিউমের ২১৩ নং পৃষ্ঠায় ৪৬ নাম্বার ক্রমিকে তার নাম রাজাকার হিসেবে উলে­খ আছে। এই তালিকাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক প্রণীত তালিকা। ৪। মতিয়ার রহমান সিকদার বাস মালিক সমিতিতে চাকরি করে, ছেলে-মেয়ে আছে। ৫। ফুল সিকদার (মৃত)। ৬। চান সিকদার এনজিও কর্মী। তিনি ছাড়া সবাই সিকদার বাড়িতে বসবাস করে।
    দেলোয়ার সিকদারের দাদা অর্থাৎ রসুল সিকদারের পিতার নাম আঃ ওহাব সিকদার। রসুল সিকদারের স্ত্রীর নাম বড়ু বিবি। ৬ ছেলের পাশাপাশি তার ছিল ৩ জন কন্যা সন্তান। তারা হলেন- ১। রিজিয়া বেগম-স্বামী মখলেস  সান্নামত, ২। আনো বেগম-স্বামী মকু মিয়া, গ্রাম-খানা কুনারি, ৩। মন্ড বেগম-আফজাল চৌকিদার।
    মুক্তিযুদ্ধ শুরচ হওয়ার পর এই দেলোয়ার শিকদার ওরফে দেলু শিকদারের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হত্যা ও গণহত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, স্বাধীনতাকামী মানুষদের বাড়িঘর পাক হানাদার বাহিনীকে দেখিয়ে দেয়াসহ বহুবিধ অপরাধের সাথে জড়িত ছিল সে। তার অঞ্চল ছিল নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি (বর্তমান জিয়ানগর থানা) এলাকা। পিরোজপুর শত্রচমুক্ত হওয়ার পর পিরোজপুর ও নাজিরপুরের মধ্যবর্তী একটি স্থান থেকে স্থানীয় মানুষ তাকে আটক করে প্রথমে গণধোলাই দেয়। পরে তাকে পিরোজপুর শহরে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হলে মুক্তিকামী মানুষ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তার লাশও শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বা কেউ খোঁজ করেনি।
    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মামলা নং ICT-BD Case No. 01 of 2011 এ বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারচল হকের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল গত ২৮ শে ফেব্রচয়ারি ২০১৩ তারিখে প্রদত্ত রায়ে তার বিরচদ্ধে আনীত মোট ২০টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে  মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ট্রাইব্যুনাল চার্জ নং-৮ এবং ১০-এ মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন এবং অন্য অভিযোগসমূহে লঘুদন্ড হবে বিবেচনায় পৃথক কোন দন্ডাদেশ প্রদান করেন নাই। মোট ৩৮টি অনুচ্ছেদে ২৫৬টি প্যারায় এই রায় প্রদান করা হয়েছে।
    প্রসিকিউশন সরকার পক্ষের মামলা হলো ফরমাল চার্জ সাক্ষীদের জবানবন্দী এবং প্রদর্শিত দলিলপত্র থেকে দেখা যায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যিনি ঐ সময় তাদের কথিত মতে দেলু বা দেলোয়ার শিকদার নামে পরিচিত ছিল, যে পারেরহাটে মুদির ব্যবসা করতো। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরচ হলে তিনি ভাল উর্দু জানার কারণে পাকিস্তান আর্মির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং পাকিস্তান আর্মিদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েন বা পাকিস্তান আর্মিদের ঐ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সহায়তা প্রদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে আত্মরক্ষার্থে পিরোজপুর হতে যশোরের বাঘারপাড়া থানার দহকলা গ্রামের রওশনের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া খেয়ে আত্মগোপন করে সৌদি আরব চলে যান, ১৯৮৬ সালে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পিরোজপুরে ধর্মসভা করে।
    আসামী পক্ষের মামলা হলো তিনি কখনও দেলু বা দেলোয়ার শিকদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, তিনি কখনই মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন না। তিনি স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকে ওয়ায়েজীন হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল করতেন। বিশেষত যশোর জেলায় ওয়াজ মাহফিল করতেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরচর আগে যশোরের নিউমার্কেট এলাকায় নিউ টাউনে বসবাস করতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরচ হলে তিনি নিউ টাউন হতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহণ করার পর মাহিরনের পীর সাহেব সদরচদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে পরবর্তীতে দহকলার রওশন আলীর বাড়িতে জুলাই-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং পরে নিজ এলাকায় ফেরত আসেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ সমাপ্ত হবার পরও বেশ কিছুদিন নিজ এলাকায় থাকার পর খুলনায় যান এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াজ মাহফিল করতে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর নির্বাচিত হন। এরপরে তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তিনি জনপ্রিয় ওয়ায়েজীন হওয়ার কারণে তার বিরচদ্ধে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে যার সাথে তার ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। এই অভিযোগসমূহকে আল­vমা সাঈদী শতাব্দীর নিকৃষ্টতম মিথ্যাচার হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
    মাওলানা সাঈদীর বিরচদ্ধে আনীত যে সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি রায়ে আরও কিছু বিষয় উলে­খ আছে যেমন, তিনি রাজাকার ছিলেন, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে রওশন আলীর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন বা তার নাম দেলু ছিল মর্মে ট্রাইব্যুনাল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন সেগুলো সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধান করা প্রয়োজন। মামলা পরিচালনার সময় এসব বিষয় আসামীপক্ষ সঠিকভাবে উপস্থাপন করলেও রায়ে তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি।
    প্রথমত :- তার নাম সংক্রান্ত তথ্য : প্রসিকিউশন পক্ষ হতে বরাবর তার নাম দেলু, দেইল­v বা দেলু শিকদার হিসেবে দাবি করা হইলেও মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ কোন প্রামাণ্য তথ্য ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন নাই। ফরমাল চার্জে তাকে ঐ নামে অভিহিত করা হইলেও ইহার সমর্থনে প্রসিকিউশন পক্ষ কোন দালিলিক প্রমাণ হাজির করে নাই। এমনকি এই মামলার নালিশ দায়েরকারী অর্থাৎ PW-1 মাহবুবুল আলম হাওলাদার নিজে বাদি হয়ে জিয়ানগর থানায় যে এজাহার দায়ের করেন বা এই মামলার অপর সাক্ষী PW-6 আব্দুল মানিক পসারী পিরোজপুর থানায় যে মামলা দায়ের করেন তাতেও দেলোয়ার শিকদার বা দেলু শিকদার বা দেইল­v উলে­খ ছিল না যা আসামীপক্ষ হতে প্রদর্শনী F এবং W হিসেবে চিহ্নিত হয়। উপরন্তু যে সমস্ত সাক্ষী বিজ্ঞ প্রসিকিউটরগণ নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এবং পরিকল্পতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দীতে দেলু শিকদার কথাটি না থাকলেও সাক্ষীদের আদালতে দেলোয়ার সিকদার বলতে বাধ্য করেছে। সাক্ষীরা যে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দীতে দেলোয়ার শিকদার কথাটি বলেন নাই তা তদন্তকারী কর্মকর্তা PW-28 জেরায় স্বীকার করেছেন। আসামীর নাম ১৯৭১ সাল পর্যন্ত শিকদার ছিল মর্মে দাবি করলেও প্রসিকিউশনের দাখিল করা প্রদর্শনী হতে দেখা যায় যে সাঈদী সাহেবের ১৯৫৭ সালের দাখিল সার্টিফিকেটে তার নাম দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং তার পিতার নাম ইউসুফ সাঈদী লেখা আছে। শিক্ষা জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা অর্থাৎ ১৯৫৭ সালের দাখিল সনদে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী লেখা থাকলেও প্রসিকিউশন পক্ষ পরবর্তীকালের অর্থাৎ ১৯৬০ সালের আলীম সনদের বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভুলভ্রান্তিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মানুযায়ী সংশোধিত আলীম সনদেও সংশোধনের পূর্বেও সিকদার কথাটি লেখা ছিল না। উপরন্তু এই মামলার গুরচত্বপূর্ণ সাক্ষী PW-23 মধুসুদন ঘরামী জেরায় এটা স্বীকার করেছেন যে, পারেরহাটে রাজাকার বাহিনী গঠনকারীদের মধ্যে ছিল দেলোয়ার শিকদার, পিতা- রসুল সিকদার যিনি স্বাধীনতার পরে গণরোষে নিহত হয়। তিনি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ডকে সনাক্ত করেন নাই এই ক্ষেত্রে সহজেই অনুমেয় যে প্রসিকিউশন পক্ষ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে দেলোয়ার শিকদার হিসেবে চিত্রায়িত করার যে অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল তার রায়ের প্যারা পনেরতে আসামীর বর্ণনায় যে সমস্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেছে তা একপেসে এবং সাক্ষ্য প্রমাণ নির্ভর নয়।
    http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=111623

     

  3. 9
    বিদ্রোহী

    তা ভাই আপনার এই নিবন্ধ লিখতে এত দেরী করলেন যে ! সেই রাজাকার মানবতা বিরোধীদের বিচার নিয়ে একমাসের বেশী ধরে সারা দেশ ব্যপী টাল মাটাল কাজ কারবার চলছে, এ ব্লগ সাইটে দেখি কোন সাড়া শব্দ নেই। এতদিন দেখতাম এ সাইটে সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গীত গাইত, বলত যারা তখন মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে তাদের বিচার হওয়া দরকার। অথচ গোটা সময়ই  জুড়ে নি:ঝুম নিস্তব্ধ এ সাইটে। মাঝে মাঝে ঢু মারি , দেখতে আসি কিছু কি কেউ লিখল কি না। কিন্তু না । সবাই ঘুমাচ্ছে। এখন যখন পরিস্থিতি একটু ঘোরালো , তখন শুরু হয়ে গেছে সাইদি বন্দনা , অর্থাৎ রাজাকার বন্দনা। এই তাহলে আপনাদের প্রকৃত চরিত্র??? ধিক আপনাদের ধিক!

    1. 9.1
      আহমেদ শরীফ

      সাঈদির বিপক্ষে যে কমেন্টগুলো হচ্ছে সেগুলো কি চোখে পড়ছে না ? ভাল চোখের ডাক্তার দেখান তাহলে। এ সাইটে কারো বন্দনা নয় বরং আলোচনা-পর্যালোচনা হয় শোভন যুক্তিঋদ্ধ পরিবেশে। সাঈদির পক্ষে কেউ কথা বললে বিপক্ষ যুক্তির তরবারীও ঝলসে উঠবে সঙ্গে সঙ্গে, কিন্তু পরিণত জ্ঞান-যুক্তি-বুদ্ধি-পারষ্পরিক সৌজন্য-স্থৈর্যের সাথে। কারো কারো কাছে এটি অন্যরকম মনে হওয়ার কারণ হচ্ছে এখানে অকারণ আবেগে সর্বক্ষণ হুদাই লাফালাফি করার মত একঝাঁক 'কচিকাঁচা' মার্কা টিন-এজার ব্লগার নেই। বহুদর্শী পরিণত ব্যক্তিদের ব্লগ এটা।

      'পরিস্থিতি ঘোরালো' কান্ডজ্ঞানহীন ফালাফালি করা কিছু নাবালক অতি উৎসাহীদের অপরিণামদর্শিতার কারণেই হয়েছে। যাদের ফালাফালি করার এনার্জি আছে ঠিকই, কিন্তু যথোপযুক্ত ধৈর্য-স্থৈর্যের সাথে তরীকে অশান্ত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যাত্রীদের ওকূলে পৌঁছানোর দক্ষতা নেই।

    2. 9.2
      এস. এম. রায়হান

      ঘুরে ঘুরে ভবের ঘুরেরা সব জায়গায় ঘুরে বেড়ালেও চোখে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী উগ্র সাম্প্রদায়িক চশমা থাকার কারণে দিনের আলোর মতো সত্যকেও দেখতে না পেলে আমগো কিসুই এসে যায় না।
       
      প্রবাসী বাঙালীদের প্রতি আহ্বান – আসুন শাহবাগের আন্দোলনের সাথে একাত্ম হই।
       
      শাহবাগ গণজাগরণ-দু’হাজার তের
       
      জামাত-শিবিরের ব্যাপারে সংসদে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন

  4. 8
    মুনিম সিদ্দিকী

    জিয়াভাই,
    ৩০ লাখ কিংবা ১জন, ২লাখ কিংবা ১জন, এখানে সংখ্যা বড় নয় বড় হচ্ছে অপরাধ। একজনকে হত্যা করা, ধর্ষণ করা সেটিও মানবতা বিরুধী ইসলামী নীতি বিরুধী অপরাধ। এই ধরণের অপরাধীদের অবশ্য শাস্তি পাওয়া উচিত।
    পাকিস্তানী বা এদেশীয় সহযোগীরা যেহেতু অন্যায় ভাবে হত্যা, ধর্ষণ করেছিল বিধায় এর প্রতিকারার্থে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যে সব মানবাধিকার বিরুধী অপরাধ কি এই দেশ স্বাধীন দেশে হচ্ছেনা? না কি পাকিদের এবং তাদের দোসরদের কৃত কর্ম অপরাধ বলে গণ্য হলেও স্বজাতীর মাংস স্বজাতী খেয়ে নিলেও কোন অপরাধ হবেনা? ইসলামী ভ্রাতৃত্বের কথা বাদ দিয়ে বাংগালী ভ্রাতৃত্ব বোধের নমুনা দেখুন- স্বাধীন বাংলাদেশের ৪২ বছরে ঠিক কতজন আন্দোলনরত মানুষকে স্বাধীন দেশের বিভিন্ন সরকার কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে? কতজন বাংগালী নারীকে বাংগালী কর্তৃক ধর্ষণ করা হয়েছে তাঁর কয়টির বিচার করা হয়েছে?  বাংগালী কর্তৃক বাংগালি হত্যা বা ধর্ষণের জন্য কি লজ্জা হয়না? আর কতিপয় অপরাধীর অপরাধের জন্য কি গোটা বাংগালী জাতিকে ঘৃণা করতে থাকবেন? না। বাংগালী হিসাবে এই সব অপরাধ চাপা দিয়ে যাবেন?
     
    যাক কথা যেটি তা হচ্ছে যে, সাইদীর বিষয়ে এখনও চুড়ান্ত কিছু বলা উচিত হচ্ছে কি? এখনও আপিল বাকি। যদি আপীলে সাইদী নির্দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আপনি কি সাইদীর কাছে ক্ষমা চাইবেন? না। রায় মানিনা বলে তালগাছবাদিদের মত আবার শাহবাগে গণজাগরণের ডাক দিবেন?
     

    1. 8.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      একটা বিষয় অন্য বিষয়কে নিয়ন্ত্রন করে না। যেমন জজ মিয়া নাটক দিয়ে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা যাবে না। কেউ মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বাদ দিয়ে বাঙ্গালী ভ্রাতৃত্বকে উপরে নিয়ে যাচ্ছে না। আলোচনা হচ্ছে ইনসাফের কথা। কে কত বড় আলেম -- কার গলার সুর কত সুন্দর -- তা দিয়ে বিচারকে প্রভাবিত করা যায় না। করা উচিতও না। 
       

      যাক কথা যেটি তা হচ্ছে যে, সাইদীর বিষয়ে এখনও চুড়ান্ত কিছু বলা উচিত হচ্ছে কি? এখনও আপিল বাকি। যদি আপীলে সাইদী নির্দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আপনি কি সাইদীর কাছে ক্ষমা চাইবেন? না। রায় মানিনা বলে তালগাছবাদিদের মত আবার শাহবাগে গণজাগরণের ডাক দিবেন? 

      -- সা্‌ইদীর বিচারের রায়ের পর আমি কথা বলা শুরু করিনি। আপনি আর আপনার জামাতি বন্ধুরাই স্বাক্ষীদের ফকির পাকড়া ইত্যাদি বলে হেয় করা শুরু করলেন। তারপর নানান ভাবে প্রমানের চেষ্টা করলেন রাজনীতি সংক্রান্ত কন্সিপেরেসী থিয়োরী দিয়ে যে সাঈদী একজন নির্দোষ মানুষ। যা একটা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা। এখন আমাকে বলছেন -- আমি সাঈদীর কাছে ক্ষমা চাইবো কি না?
      আ্মি তো বিচার মেনেই নিয়েছি। বিচারের প্রক্রিয়া ভুল হওয়ায় অনেক অপরাধী শাস্তি থেকে দুরে চলে যায় -- তারমানে এই না যে সে অপরাধ করেনি। সেই বিবেচনায় হতাশ হবো এবং আশা করবো সঠিক বিচারের। কথা হলো সাঈদীর কর্মকান্ড আমিতো গতকাল জানিনি -- দীর্ঘ দিন ধরেই জেনেশুনে আসছি। 
       
      প্রশ্নটা আমিও আপনাকে করতে পারি, সাঈদীর ফাঁসি হলে আপনি কি এই মিথ্যাচারে পক্ষাবলম্বনের জন্যে ক্ষমা চাইবেন কি না? 

      1. 8.1.1
        সুজন

        বিদ্ধেষী মানসিকতা নিয়ে সত্য জানতে পারবেননা। সত্য জানার জন্য মনকে নিরপেক্ষ করে ফেলতে হবে। প্রথম আলোর বিচার শুরুর আগে থেকেই বিচারাধীন জামায়াতের নেতাদের ফাসি দিয়েই প্রচার করছে। সুতরাং ইসলামপন্হীদের ব্যাপারে বিদ্ধেষী প্রথম আলোর কথাকে কিভাবে মানদন্ড হিসাবে নিবেন?  

  5. 7
    আহমেদ শরীফ

    সাঈদীর প্রথম সনদ অনুযায়ী, তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে দাখিল পাস করেছেন। বিষয়টি অসম্ভব জেনে তিনি ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দাখিল ও আলিম পাসের সনদে নাম ও বয়স পাল্টান। ১৯৫৭ সালে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে দেওয়া দাখিল পাসের সনদ অনুযায়ী সাঈদীর নাম আবু নাইম মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু ২০০৮ সালে নাম পরিবর্তন করে হন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
     

    বিচিত্র এই পৃথিবী বিচিত্র এই দেশ।

     
     
     

    1. 7.1
      মহিউদ্দিন

      ১০ বছর বয়সে আলেম পাশ করার মতো ঘটনা গিনেজ বুকে লেখা থাকার কথা। সাঈদী আলেম পাশ করার ৫১ বছর পর টের পাইলো সে কত বড় ভূয়া — দ্রুত সকল আইন কানুন ভংগ করে সব কিছু ঠিক ঠাক করার চেষ্টা করেছে। সাঈদী যে দেলু রাজাকারই ছিলো তা লুকানোর জন্যেই নাম পরিবর্তন করছে। সেইটা কিন্তু ভুল না।

      ১০ বৎসর পরে সে কী বুঝতে পারলো?  সে ভুয়া? সে আলেম পাশ করেনি? জন্ম তারিখ ভুয়া?  কিছু ফট করে লিখার আগে একটু চিন্তা করাটা কি উচিত না? মানুষের  যদি তার জন্মের তারিখে অথবা তার কোন ডকুমেন্টে কোনও পার্থক্য থেকেই থাকে তাহলে সেটাই কি ঐ দুই ব্যক্তির হত্যার ‘দলীল’ হয়ে যায়?
      সত্যি বলতে কি মাঝে মাঝে মনে হয় কাদের সাথে সংলাপ করব? এখানে কিছু লোকের নির্লজ্জ আচরণ দেখে শুধু হতাশাই বাড়ে! লেখতে মন চায় না।
      কিছু লোক এতই ফ্যাসিস্ট যে তাদের কথা হল তাদের মতামত সবাইকে গ্রহণ করতেই হবে যদি তারা কারো প্রতি কোন অবিচারও করে তবু সেটাকে ন্যায় বলতে হবে, সঠিক বিচার একমাত্র তাদের পক্ষেই সম্ভব তা বলতেই হবে।
      যেহেতু আপনারা জামাত ফোবিয়ার রুগী তাই আপনারা চান বাকী সবার মনে সে ভাইরাস যেন ঢুকানো যায় ।
      ভাই, পৃথিবী এখন ২০১৩ সালে পৌছেছে সে দিন এখন শেষ যে ধমক দিয়ে ফ্যসিইজম কায়েম করা সম্ভব হবে?
      আপনি ভাল করে জানেন যে আপনার ঐ অভিযোগের জবাব ইতিমধ্যে উপরে কারো কথায় এসে গেছে যা আমরা দেখতেই পারছি। কিন্তু তার পরেও আবার সেই একই কথা বলতে হবে, এটা যেন এক উন্মাদনা! যে কথাটি বলছেন তা আদালতে আপনার দলের পক্ষের উপস্থাপিত একটি অপ্রমাণিত বানোয়াট. অভিযোগ। অপর পক্ষের বিবরণ কি ছিল? যুক্তি কি ছিল? এসব কথা ব্যতিরেকে সেই অভিযোগ প্রথম থেকেই মিথ্যাবাদী প্রোপাগাণ্ডিস্টদের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়েই চলেছে।
      এই নেন একটা লিঙ্ক। http://bangladeshwarcrimestrial.blogspot.co.uk/
      এখানে দেখতে পাবেন আত্মপক্ষ সমর্থনের কি সুযোগ দিয়েছে বাদী পক্ষ। এখানে কেসের অনেক বিবরণ আছে। এখানে দেখতে পাবেন চোর, জেল-কাটা আসামী, অপেক্ষমান কেসের আসামী, বউ-পেটা লোক, অপরের সম্পদ হরণকারী, লাকড়ি চোর, গুণ্ডা-পাণ্ডা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এমন অনেক বেইমান সাক্ষীর ফিরিস্তি। কোর্টে অপদার্থের- মতো উত্তর-দেয়া।
      মুনতাসীরের মতে যেকোনো উপায়ে সাঈদীদেরে ফাঁসী দিতে হবে। কেননা এটা হচ্ছে তাদের যুদ্ধ, এতে আপনাদের জয় আসতে হবে। আপনারা এক একজন প্রোপাগান্ডিস্ট। এসব কাজে রাত দিন দেবার সময় আপনার থাকে, আমাদের অনেকের এমন সময় নেই যে জোকের মতো এসব বিষয়ে তেতলামী করতে হবে। ক্ষমতা চিরদিন থাকার উদ্দেশ্য বিরুধী দলকে বিশেষ করে হচ্ছে জামাতকে নির্মূল করতে হবে। মুনতাসীরের মতো লোক যেকোনো উপায়ে সেটাই চান।
      এদিকে দেশের আলেম সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত আলেমের বক্তব্য শুনলে্ জানা যায় দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।

  6. 6
    মোহাম্মদ আদিল

    আওয়ামী লীগ যে শাসনামলের অন্তিম লগ্নে মাস্কিং এজেন্ট হিসেবে যুদ্ধপরাধিদের বিচার নামক প্রহসন বাস্তবায়ন করছে সেটা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জেলা পরযাএর কয়েক জন নেতা স্বীকার করেছেন । এটা তাঁদের ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের শুরুর দিকের প্লেন । জনমতের তোয়াক্কা না করে বিরোধী দলের প্রবল আপত্তির বিপক্ষে কেয়ার টেকার পদ্ধতির বিলোপ সাধন -- যে শেষ পর্যন্ত চেলেনজিং হবে জেনেই দাবার ছক সাজিয়েছে । আওয়ামী অপশাসন , লাগামহীন দুর্নীতি , ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস , সার্বিক ভাবে চরম ব্যারথতা ঢাকার জন্যে এ এক মৃত্যু সঞ্জিবনী গ্যালভানাইযার । সাঈদী একটা টেস্ট কেস , গোলাম আযম পর্যন্ত পৌঁছার আগে জামাতের শক্তি যাচাই করে নেয়া আর কি। ট্রাইব্যুনাল যে লোক দেখানো তা স্কাইপী কেলেঙ্কারী উন্মোচিত না হলেও বোধগম্য । শাহবাগের উইং টা হয়ত কাকতাল , বাকী সব সেট আপ ।
                                                                                                 ধন্যবাদ      

  7. 5
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    একজন আলেম হিসাবে দাবীদার সাঈদীর পড়াশুনা ও নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত জালিয়াতির বিবরন --
     
    http://www.prothom-alo.com/detail/news/281382
     
    সাঈদীর প্রথম সনদ অনুযায়ী, তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে দাখিল পাস করেছেন। বিষয়টি অসম্ভব জেনে তিনি ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দাখিল ও আলিম পাসের সনদে নাম ও বয়স পাল্টান। ১৯৫৭ সালে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে দেওয়া দাখিল পাসের সনদ অনুযায়ী সাঈদীর নাম আবু নাইম মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু ২০০৮ সালে নাম পরিবর্তন করে হন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
    মেনন বলেন, ‘সাঈদী দুবার নাম পরিবর্তন করেছেন। ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় দুবারই তাঁর নামের ভুল সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির নাম কীভাবে দুবার ভুল হতে পারে! তা ছাড়া বয়স পরিবর্তনের কমিটিতে সিভিল সার্জন থাকার বিধান থাকলেও সেটা ছিল না।’

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      জিয়াভাই প্রথম আলো পত্রিকা এখন আর বিশ্বাস যোগ্য থাকে নাই। কাজেই এই প্রথম আলোর কোন রিপোর্ট আম জনতা গিলে খাবেনা।
      আমাদের দেশে এখনও যথাযথ ভাবে সন্তানদের নাম নিবন্ধিত করা হয়না। তাই আজ থেকে ৬০/৭০ বছর আগে যথাযথ ভাবে নাম নিবন্ধিত করার কথা কি কল্পনা করা যায়? নাম কিংবা জন্ম তারিখ সন বদলের ইতিহাস যদি দেখেন তাহলে আজকের বাংলাদেশর বেশীর ভাগ জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিদের নাম জন্ম তারিখ বদলের ইতিহাস জানতে পারবেন।
      অনেক বাবা মা তাঁরা সন্তানদের জন্ম তারিখ লিখে রাখেন না। পরে যখন স্কুল মাদ্রাসায় সরকারী পরিক্ষার সময় জন্ম তারিখ উল্লেখ করার দরকার পড়ে তখন যে কোন একটি তারিখ পূরণ করে দিয়ে দেন শিক্ষক বা অভিভাবক। এই ভুল যিনি করেন তিনি ঐ ছাত্র নন। তাঁর অভিভাবক বা শিক্ষক। পরিণত বয়সে যখন ঐ ছাত্র বুঝতে পারেন যে তা ভুল হয়েছে তখন অনেকে সংশোধণ করে নেন। এবং এই নেয়াটি বে আইনী নয়। সাইদীও এফিডেফিটের মাধ্যমে যা করেছেন তা বে আইনী কিছু করেন নাই।
      বুঝলাম যে সাইদী ২ বার নাম পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু এই নাম পরিবর্তনের জন্যই যে সেই দেলু রাজাকার আজকের দেলোয়ার হোসেন সাইদী তা কেমন করে প্রমাণিত হল! তা কি বুঝিয়ে বলবেন?
       
      ২য়তঃ সাইদীর আইনজীবী সাংবাদিক সম্মেলনে নিচের দলিলটি দেখিয়ে জানাচ্ছেন যে,
       
       
      স্বাধীনতার পরপর ১৬-৭-৭২ ইংরেজিতে কথিত ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার দায়ে ফিরুজপুর থানাতে ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদি হয়ে যে এফ আই আর করে ছিলেন সেখানে  দেলু রাজাকারের কোন নাম ছিলনা। আমি নিজেও সে এফ আই আরে উল্লেখিত আসামীদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি যে ১নং আসামী হিসাবে উল্লেখ আছে- ফিরুজ পুরের ক্যাম্পের পাকিস্তানী আর্মী। ২ নং এ আছে- দানেশ মোল্লা নামক সিন এন সি রাজাকার। যার বাবার নাম নাইম উদ্দিন মোল্লা ৩নং আসামী হচ্ছেন-আতাহার আলী হাওলাদার বাবা আইন উদ্দিন হাওলাদার সাকিন-বড়ইখালি। ৪নং এ আছে- আশরাফ আলী বাবা আসমত আলী সাকিন-টেংরাখালি। ৫নং আছেন- আব্দুল মান্নান হাওলাদার বাবা হাসিম আলী হাওলাদার সাকিন- বাদুরা।৬নং এ আছেন- আইয়ুব আলী চৌকিদার বাবা আরব আলী এবং ৭ নং আছেন- কালাম চৌকিদার বাবা আব্দুস সোবহান সাকিন- বড়ইখালি।  এবং আদালতের রায়ে উক্ত অপরাধ সংঘটনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৮ই মে ১৯৭১ সাল আর এই এফ আই আরে উল্লেখ আছে ১-১০-১৯৭১।
       
      আপনি কি এই বিষয়ে কিছু আলোকপাত করতে পারবেন?
       
      ৩য়তঃ নেটে মদন সাহা ওরফে বিসা বালির স্ত্রী উষা রানী মালাকার নামের এক মহিলার ভিডিও দেখেছি, যেখানে ঐ মহিলা বলছেন যে, তিনি সাইদীকে চিনেন না। এবং সাইদী তাঁর স্বামীকে হত্যা করেন নাই।
      rel="nofollow">
      এই ভিডিও এর বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন কি?
       
      উপরের ২টি প্রশ্নের উত্তর পেলে আমার মত মানুষ একটি সিদ্ধান্তে আসতে সহায়ক হত।

      1. 5.1.1

        আমাদের দেশে এখনও যথাযথ ভাবে সন্তানদের নাম নিবন্ধিত করা হয়না। তাই আজ থেকে ৬০/৭০ বছর আগে যথাযথ ভাবে নাম নিবন্ধিত করার কথা কি কল্পনা করা যায়? নাম কিংবা জন্ম তারিখ সন বদলের ইতিহাস যদি দেখেন তাহলে আজকের বাংলাদেশর বেশীর ভাগ জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিদের নাম জন্ম তারিখ বদলের ইতিহাস জানতে পারবেন।
        অনেক বাবা মা তাঁরা সন্তানদের জন্ম তারিখ লিখে রাখেন না। পরে যখন স্কুল মাদ্রাসায় সরকারী পরিক্ষার সময় জন্ম তারিখ উল্লেখ করার দরকার পড়ে তখন যে কোন একটি তারিখ পূরণ করে দিয়ে দেন শিক্ষক বা অভিভাবক। এই ভুল যিনি করেন তিনি ঐ ছাত্র নন। তাঁর অভিভাবক বা শিক্ষক। পরিণত বয়সে যখন ঐ ছাত্র বুঝতে পারেন যে তা ভুল হয়েছে তখন অনেকে সংশোধণ করে নেন। এবং এই নেয়াটি বে আইনী নয়। সাইদীও এফিডেফিটের মাধ্যমে যা করেছেন তা বে আইনী কিছু করেন নাই।
        বুঝলাম যে সাইদী ২ বার নাম পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু এই নাম পরিবর্তনের জন্যই যে সেই দেলু রাজাকার আজকের দেলোয়ার হোসেন সাইদী তা কেমন করে প্রমাণিত হল! তা কি বুঝিয়ে বলবেন?

         
        ১০০% সহমত
         

        1. 5.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          ১০ বছর বয়সে আলেম পাশ করার মতো ঘটনা গিনেজ বুকে লেখা থাকার কথা। সাঈদী আলেম পাশ করার ৫১ বছর পর টের পাইলো সে কত বড় ভূয়া -- দ্রুত সকল আইন কানুন ভংগ করে সব কিছু ঠিক ঠাক করার চেষ্টা করেছে। 
           
          সাঈদী যে দেলু রাজাকারই ছিলো তা লুকানোর জন্যেই নাম পরিবর্তন করছে। সেইটা কিন্তু ভুল না। 

      2. 5.1.2
        ওয়াহিদুর রহমান

        ভাই মুনিম সিদ্দিকী আস্সালামু আলাইকুম। অনেক তথ্য বহুল মূল্যবান তথ্যদিয়ে মন্তব্য করায় আপনি আমার বিশেষ উপকার করেছেন। না হয় একাজটি আমাকেই করতে হতো। আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন সাহেব অনেক লেখা পড়া করেন। আমাদের মতো  তিনিও অবশ্যই চান নিরপরাধীর যেন শাস্তি না হয়। আশা করি তিনি সত্য মিথ্যা যাচাই করেই সত্যকে সমর্থন করবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।

        1. 5.1.2.1
          jubery

          ভাই আপনি একটু বেশীই আশা করছেন জিয়া সাহেবের কাছে। আপনি নতুন বিধায় উনার লিখার ব্যাপারে আপানার ধারণা নাই। একজন মানুষ চিন্তা চেতনায় কিছু কিছু ব্যাপারে কতটা এক্সট্রিম হতে পারে- তা উনার লিখা না পড়লে অজানাই রয়ে যেত।
          অবাক লেগেছিল যখন উনি লগী বইঠা দিয়ে সাপের মত মানুষ মারাকেও ঠিক বলেছিলেন মোস্তফা কামালের সাথে আলোচনার কোন এক সময়। অবাক হই যখন উনি বলেন- আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না! উনার গত ১২ বছরের লিখা যদি আপনি পড়েন- দেখবেন প্রায় প্রতিটা ইসুভিত্তিক লিখা সুক্ষভাবে আওয়ামীলীগের পক্ষে লিখিত।সরকারের এত খারাপ কিছুর পরেও উনি নিশ্চুপ থাকেন। আওয়ামী সরকারের বিপক্ষে উনি কয়টা ব্লগ লিখেছেন? কিন্তু বিরোধীদলের কোন কিছু উনার চোখ এড়ায় না। এখন যদি বিএনপি পাওয়ারে থাকত- তাহলে দেখতেন সরকারের সমালোচনা করে কত পোস্ট উনি লিখেছেন। উনার লিখা আওয়ামীলীগের পক্ষে যায় – এটা বোঝার জন্য পন্ডিত হওয়া লাগে না।
          আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না হয়েও উনার প্রায় সব লিখা- কিভাবে বছরের পর বছর আওয়ামীলীগের পক্ষে যায়-এটা ভেবে যারপরনাই আমি অবাক হই। উনার লিখাগুলো আপনি সামু ব্লগে গিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন আমি ঠিক বলছি কি ভুল বলছি।
          উনি সুন্দর সুন্দর ইসলামের কথা বলেন-অথচ বিরোধী গণমাধ্যম দিগন্ত টিভি, নয়া দিগন্ত, আমার দেশ, সংগ্রাম, সোনার বাংলা ব্লগসহ সব প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করার পক্ষে- এমনকি বিভিন্ন ব্যবসায়িক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান-ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা, ফোকাস, রেটিনা কোচিং সেন্টারসহ সব প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধের মত অযোক্তিক এবং অন্যায়ের পক্ষে। জামাত/শিবিরের প্রতিষ্ঠান বলে কথা।
          তবে উনার ইসলাম বিষয়ক লিখাগুলো আর কুদ্দুস খান,বিপ্লব পালের সাথে আলোচনাগুলো বেশ ভালো লাগত। উনি ইসলামকে যেভাবে ডিফেন্ড করতেন সেটা প্রশংসনীয়। আল্লাহ উনাকে অবশ্যই সেটার প্রাপ্য দিবেন।

      3. 5.1.3
        দ্য মুসলিম

        জিয়াভাই প্রথম আলো পত্রিকা এখন আর বিশ্বাস যোগ্য থাকে নাই। কাজেই এই প্রথম আলোর কোন রিপোর্ট আম জনতা গিলে খাবেনা।

         সহমত।

      4. 5.1.4
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        ডিনায়াল একটা রোগে -- জামাতিদের সেইটা পেয়ে বসেছে। আপনাকে আগেও বলেছি আপনিও জামাতিদের মতোই আচরন করছেন। 
         

        জিয়াভাই প্রথম আলো পত্রিকা এখন আর বিশ্বাস যোগ্য থাকে নাই। কাজেই এই প্রথম আলোর কোন রিপোর্ট আম জনতা গিলে খাবেনা। 

         সব খাবার সবার জন্যে না। সেইটাতো আমরা জানিও। প্রথম আলো ছেপেছে বলেই তাকে ডিনাই করতে হবে এমন বুদ্ধি মেধা নিয়ে সুস্থ আলোচনা করা যায় কি!
        সাঈদীর আইনজীবিরা প্রমান করতে ব্যর্থ হয়েছে যে দেলু রাজাকার আর সাঈদী আলাদা মানুষ। সেই কথাটা রায়ের শুরুতেই বলা হয়েছে। আপনিও যদি বিচার না মানার দলে থাকেন তবে চোখ বন্ধ রেখে সাঈদী নির্দোষ জিগিরে যোগ দেন -- তাতে সমস্যা নেই। তবে কোর্টে সাঈদীর আইনজীবিরা প্রচন্ড পরিশ্রম করে অনেকগুলো অভিযোগ ভুল প্রমানিত করছে। কিন্তু সবগুলো পারেনি বলেই এই শাস্তি পেয়েছে।
         
        সাঈদীর নিজের করা ফাঁদে্ই নিজে ধরা পড়েছে। প্রথমত বয়স পরিবর্তন আর নাম পরিবর্তনে প্রচুর চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। আইন ভংগ করে নিজের সুবিধা মতো বয়স আর নাম বদল করেছে -- একজন আলেমের জন্যে যা শোভনীয় নয়। সে নিজেকে একজন চতুর লোক হিসাবে প্রমান করেছে। সুতরাং তার জন্যে যে শাস্তি তাই সে পেয়েছে।
         
        মোদ্দা কথা হলো সাঈদী ৭১ র ভুমিকার জন্যেই কোর্টে দোষী সাব্যস্থ হয়েছে -- এখন একদল অন্ধ সমর্থকের সাথে মুনিম সিদ্দিকিও মিছিল করছে সাঈদী নির্দোষ -- আমরা সত্যই একটা ফেতনার মধ্যেই আছি।
         

        1. 5.1.4.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          জিয়াভাই আপনি সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যে জড়িত তা আপনার দলীয় কারেক্টনেস থেকেই প্রমাণিত হয়। কিন্তু আপনারা যত সহজে মানুষকে জাজ করতে পারেন আসলে কি তত সহজে করা যায় বা উচিত?
          আপনার বা আপনাদের কথা থেকে আমি বুঝতে পারি যে আপনারা সেই বুশের থিওরীতেই বিশ্বাসী হয় তুমি আমার পক্ষের হবে নতুবা তুমি শত্রুপক্ষ !!!!! আপনাদের এই চরম হিটলারীয় দর্শনের বাইরে যেন আর কোন সত্য থাকতে পারেনা!
          একটি কথা জানেন কিনা জানিনা, আপনি জানেন যে, প্রতি মুসলিম আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাঃ মনে প্রাণে ভালবাসা হচ্ছে ঈমানী দাবী। আল্লাহর নির্দেশ মুসলিম ভ্রাতৃত্বকে কে সর্বাগ্রে সর্বোচ্চে স্থান দেবার জন্য। যারা আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ রাখতে এই দুনিয়ায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা তো নায়েবে রাসুল সাঃ আমি কেমন করে এমন একজন নায়েবে নবীর উপর ঘৃণা পোষণ করতে পারি?
          কারণ সাইদী সাহেব কি করেছিলেন সেটি আমি দেখিনি! আমার মা বাবা আপন জন বা যাদের কথাকে আমি  সত্য বলে বিশ্বাস করি তারাও তাকে কোন অপরাধ করতে দেখেন নাই। তাই কেমন করে ভাবতে পারি এই মানুষটি ৭১ এ নারী ধর্ষণ করেছিলেন! নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিলেন!
          মনে রাখবেন কোন রাজনীতির জন্য নয়, শুধু একজন উচ্চ আলীম যিনি আল্লাহর দ্বীনকে দুনিয়ায় বুলন্দ করেছেন তিনি কি করে এমন অপরাধ করতে পারেন সেটি মেনে নিতে পারছিনা বলেই আমার এত কথা।
          কিন্তু ভাই আমার ২টি প্রশ্নের যে উত্তর দিলেন না?

        2. মোঃ মোস্তফা কামাল

          মুনিম ভাই, মজার কথা হল সাঈদীর নামের শেষে যে সিকদার টাইটেল থাকার অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ দিচ্ছে যেখানে তার বংশে বাপ, দাদার কারোর নামের শেষেই সিকদার নাই। অথচ আসল অপরাধী দেইল্যার নিজের নামে সহ বাপ দাদার নামের শেষে সিকদার আছে। আর সাঈদীর বাপের সাথে ঐ দেলুর বাপের নামের মিল নাই। সাঈদী তার নামের যতই সংশোধন করুক তার বংশের টাইটেল লুকাতে পারবে না।
          আর কেউ যদি কোন দলের কাছে বিবেক ও বুদ্ধি বন্ধক দিয়ে রাখে সে বার বার মচকাবে কিন্তু ভাঙবে না। সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বেশ কয়েকটা স্বাক্ষীর কেউ চুরির দায়ে ও কেউ যৌতুকের জন্য জেল খাটছে তখন কোন দোষ নাই। আর যারা সাঈদীর পক্ষে স্বাক্ষী দিছে তারা নাকি বলে জামাত হতে ঘুষ খাইছে। এই যদি হয় কারো মনোভাব তার সাথে নৈতিক ভাবে কোন বিতর্ক বা আলাপ চলে না।

        3. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          প্রতি মুসলিম আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাঃ মনে প্রাণে ভালবাসা হচ্ছে ঈমানী দাবী। 

           
          কথাটা বুঝিনি। এইটা কি কোরানের আয়াত, নাকি হাদিসের কথা? 
          যাই হোক -- যারা বিচার কার্যের সাথে জড়িত, বিচারপতি, উকিল সবাই কিন্তু মুসলমান। 
          ই্সলামের কোন বিধানে আলেম হলেই বিচারের উর্দ্ধে উঠে যাবে, এই ধরনের কোন একটা শরিয়ার বিধান দেখাতে পারেন?
          সাঈদী যে অপরাধ করেছে ৭১  তার বিচার হয়েছে, আলেম হউক আর জালেম হউক কেউ্ই বিচারে উর্দ্ধে না। 
          আ্পনি মুসলিম ভাতৃত্বের নামে যা বললেন তার পিছনে কোরাআন হাদিসের কোন দলিল নেই -- বরঞ্চ বিচারের বিষয়ে কঠোর ভাবে নিরপেক্ষ হওয়ার কথা বলা আছে।
          আ্মি কোন পার্টি করি না করি তাতে কি আসে যায় -- সত্যের সাথে মিথ্যা মিশানোর কাজটা যে করি না তা লক্ষ্য রাখবেন। 
          আরেকটা কথা -- আপনি দেখেননি এবং সিলেটে বসে আপনার আপনজনও দেখেনি তাই সাঈদীর বিষয়ে আপনি নিশ্চিত নন -- তারপরও বিচার মানেন না। খুবই মজার কথা বললেন। 
           
           

        4. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

           কিন্তু আপনারা যত সহজে মানুষকে জাজ করতে পারেন আসলে কি তত সহজে করা যায় বা উচিত? 

          -- জাজ আমি করিনি -- করেছে কোর্ট। আর আপনি জামাতিদের সাথে তালগাছটা নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। সাঈদী কোর্টের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দোষী হিসাবে শাস্তি পেয়েছে -- এখন আপনি মুসলিম ভ্রাতৃত্বের টানে সাঈদীর বিচারকে বিতর্কিত করার মিছিলে নেমেছেন। যখন ৭১ এ রাজাকাররা আমাদের মা-বোনদের পাকিদের হাতে তুলে দিতো তখন কিন্তু তারা মুসলিম ভ্রাতৃত্বের চিন্তা করেনি। আপনি বেহুদা ইসলামকে টেনে নিয়ে আসছেন এখানে। কিন্তু আল্লাহ ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যে সবচেয়ে বেশী তাগিদ দিয়েছে -- তা ভুলে যাচ্ছেন। ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত হারানোর পরও আমাদের ভ্রাতৃত্বের নেশা কাটে না -- হায়রে মুসলিম ভাই। 

  8. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সাইদীর পক্ষের আইনজীবিদের মুল চেষ্টা ছিলো দেলু রাজাকার আর বর্তমান দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী এক ব্যক্তি নয় তা প্রমান করা। কিন্তু সাঈদীর করা নাম পরিবর্তনের প্রমান দিয়ে তা ব্যর্থ হয়ে যায় -- ফলে আসামী পক্ষ মুল পয়েন্টে হেরে যায় এবং দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী ওরফে দেলু রাজাকারের কৃতকর্মের জন্যে শাস্তি পেতে হলো। 
     
    দেখুন তার বিস্তারিত:- 
     

    দেইল্লার এইসব কর্মকান্ডের বিচার যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ট্রাইবুনাল-১ এ চলছিলো তখন দেইল্লা রাজাকারের আইনজীবিরা ট্রাইবুনালে প্রমাণ করবার চেষ্টা করছিলো যে একাত্তর সালের যে দেলু শিকদার বা দেইল্লা রাজাকারের কথা অভিযোগে বলা হচ্ছে সেই ব্যাক্তি আর বর্তমানের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এক ব্যাক্তি নয়। এই প্রমাণ করবার চেষ্টা হিসেবে দেলু রাজাকার আদালতে এও বলেছে যে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট যদি দেখা হয় তবে সেখানে তার নাম দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী লেখা রয়েছে। সুতরাং অভিযোগের দেলু বা দেইল্লা রাজাকার সে নয় বরং ভিন্ন ব্যাক্তি।

    কিন্তু বিধি বাম। এডুকেশন ডট নেট নামে একটি ওয়েব সাইট একদিন প্রকাশ করে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নাম ও বয়স কেলেংকারীর কথা। তাদের অনুসন্ধানী রিপোর্ট টি ছিলো অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং সেখানে সকল প্রমাণ দিয়েই কথা বলা হয়েছিলো।
    এই ওয়েব সাইটের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে যে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বলে আজকে আমরা যাকে চিনি সেই সাঈদী দাখিল এবং আলিম পরীক্ষার সার্টিফিকেটে নাম দেয় আবু নাঈম মোঃ দেলোয়ার হোসাইন। উল্লেখ্য যে সাঈদী দাখিল পাশ করে ১৯৫৭ সালে দারুস সুন্নাত শর্শীনা মাদ্রাসা থেকে এবং আলীম পাশ করে ১৯৬০ সালে বরই পাড়া মাদ্রাসা থেকে।

    এসময় সাঈদী তার জন্মতারিখ ব্যাবহার করে ০১-০১-১৯৪৫, যার মানে দাঁড়ায় সাঈদী জন্মের ১২ বছর বয়সেই দাখিল পাশ করে যা এক কথায় সম্ভব না। এখানকার প্রাপ্ত তথ্য থেকেই জানা যায় যে সাঈদী তার আলিম ও দাখিল পরীক্ষার উল্লেখিত ওই নামটি পরিবর্তন করতে উদ্যোগী হয় ২০০৮ সালের ৫ ই নভেম্বর। যার মানে দাঁড়ায় দাখিল পাশ করবার প্রায় ৫১ বছর পর এবং আলিম পাশ করবার ৪৮ বছর পর সাঈদী তার নাম পরিবর্তন করে রাখে দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী।

    নীচে দেলু রাজাকারের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা আলিম পাশ এর সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি দেয়া হোলোঃ

    নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত আইনঃ

    অথচ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত আইনে আছে যে সার্টিফিকেটে নামে ভুল থাকলে এই ভুল সংশোধন করতে হবে পাশ করবার ২ বছরের মাথায়। কিন্তু ৫১ বছর পর সাঈদী কিভাবে তার নাম পরিবর্তন করলো এটার উত্তর কোনোভাবেই দিতে পারেনি নাম ও বয়স সংশোধন সংক্রান্ত তৎকালীন কমিটির সদস্য সাবেক মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হাফিজুর রহমান (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর নূর, এবং মাদ্রাসা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু ছালেহ আহমেদ। উল্লেখ্য যে, এই মোহাম্মদ আব্দুর নূর ২০০৩ সালে সাঈদীর সুপারিশেই তৎকালীন সময়ে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

    নীচের ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে সাঈদী যখন নাম পরিবর্তন করে তখন দৈনিক সংগ্রামে যে এফিডিভেটের বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো সেটি। লক্ষ্য করে দেখুন যে এইখানে সাঈদী তার বয়স লিখেছে ০১-০১-১৯৪৫। 

    এফিডেভিটে যা লেখা রয়েছে তা হুবুহু নীচে উল্লেখ করা হোলোঃ

    ‘আমি দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদী জন্ম তাং ০১-০১-১৯৪৫ ইং পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী বাড়ি নং ৯১৪ শহীদবাগ ঢাকা। আমি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা। আমি পূর্ব পাকিস্তান মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বর্তমানে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডর অধীনে আলিম ও দাখিল পাস করি, দাখিল পাসের সন ১৯৫৭ ১ম বিভাগ রোল নং ৩৯২০ কেন্দ্র সারসিন । দাখিল পরীক্ষায় ভুলবশত: আমার নাম দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদীর পরিবর্তে আবু নাঈম মোহাম্মদ দেলাওয়ার হুসাইন লিপিবদ্ধ হয়েছে। আলিম পাসের সন ১৯৬০ সাল রোল নং ১৭৬০ কেন্দ্র খুলনা বিভাগ ৩য়। আলিম পরীক্ষায় ভুলবশত: আমার নাম দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদীর পরিবর্তে আবু নাঈম মোহাম্মদ দেলাওয়ার হুসাইন লিপিবদ্ধ হয়েছে।প্রকৃতপক্ষে আমার শুদ্ধ ও সঠিক নাম হবে দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদী । এ ব্যাপারে আমি অদ্য ৫/১১/২০০৮ ইং নোটারী পাবলিক ঢাকা এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে আমার নাম সংশোধনের বিষয়ে হলফ করলাম। দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদী, পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী, বাড়ি নং ৯১৪ শহীদবাগ, ঢাকা। সংগ্রাম পি-৭২১২/০৮’

    পাঠক লক্ষ্য করুন, এই এফিডেভিটের মাধ্যমে সাঈদী ২০০৮ এর নভেম্বর ৫, তারিখে কেবলমাত্র তার নাম পরিবর্তন করে।


     
     
     
    প 
     
    প্রথমত দেলু রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে  আসামী পক্ষ সাঈদী দেলু না প্রমানের চেষ্টা করে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এখান স্বাক্ষীর আর্থিক অবস্থা, তার চেহারা, বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা নেওয়ার কোন আইন বাংলাদেশে কেন -বিশ্বের কোথাও না থাকায় আসামী পক্ষ স্বাক্ষীদের নানান ভাবে হেয় করার কোন লাভ কার্যত পায়নি -- ফলাফল -- এই রায়। 

  9. 3
    এম_আহমদ

    আজকে এই ব্লগটি ভিজিট করতে এসে আপনার লেখাটি পড়লাম। দূরে বসে পড়লেও লেখাটির গুরুত্ব অনুভব করলাম এবং ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক (সকল নাস্তিক নয়) এবং মুনাফিক সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় আপনার এই লেখাটি যথার্থ হয়েছে তাই এই লেখাটির প্রতি সমর্থন দিলাম। দেশ আজ ইসলাম, মুনাফিক ও কাফির এই তিন সম্প্রদায়ে বিভক্ত দেখা যাচ্ছে –এখন এই তিনের মধ্যে নিরপেক্ষ থাকার কোন স্থান নেই। 

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      আপনি হযরত সুলাইমানের (আ.) মিথ্যা জেল খাটার কথা উল্লেখ করেছেন। ইব্রাহীমকেও (আ.) ফিরাউনের পরিষদ (মালা') অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপের রায় দিয়েছিল। মিথ্যা বিচার নয়, পুরাতন। বনি ইসরাঈলের অনেক নবিকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এই হত্যার রায় ইহুদীরাই দিয়েছিল। 

      কোন ব্লগ আদালত নয় এবং যদি আদালত হত তবে উভয় পক্ষের দলীল সামনে রেখেই সেই আদালত পুনরায় বসত। সাঈদীর নাম অথবা সার্টিফিকেট সংক্রান্ত discrepancy হলে উভয় পক্ষের কথা ও দলীল দেখতে হবে। discrepancy তৈরি করা হল, না অন্য কোন নামের লোকের কোন কিছু সাঈদীর নামে চালিয়ে দেয়া হল, সেটাও দেখতে হবে। কিন্তু তার রায় এসবের উপর হচ্ছে না। যাদের উপর উপযোগ আসছে যে তারা অনেক দলীল 'তৈরি' করেছে, অনেক মিথ্যা সাক্ষী হাজির করছে এবং প্রোপগান্ডিস্টদের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে সেই সব তথ্য সামনে এনে আরেকটি আদালত recreate করার কোন মানি নেই। দেলু রাজাকার ও দেলওয়ার হুসেইন সাঈদী এক ব্যক্তি কী না সেটাই বিবেচ্য এবং বিচারে কোন ধরনের তথ্য স্থান দেয়া হছে এবং কোন ধরণের তথ্য দেখাই হয় নি সেটাই হচ্ছে কথা। অনেক বীর উত্তমও অনেক জরুরি তথ্য ignore হওয়ার কথা উত্তাপন করছেন, অনেক নন-জামাতি এবং আরও অসংখ্য লোক বিগত কয়েকমাস থেকে দুই ভিন্ন ব্যক্তির কথা বলে যাচ্ছেন এবং যে বিশেষ দুই কেসে তার রায় হয়েছে সেগুলো dubious বলছেন। চৌদ্দ দলের এরশাদও বলছেন এই রায় ছিল ছিল শাহবগীদের দাবীর parallel, (বিনপি ও জামাত এবং অনেক ইসলামী দল বাদই দেয়া যাক)।.  আমি তিন বৎসর ধরে আমুতে যে অমানবিক প্রোপাগান্ডা, গালি-গালাজ এবং ফ্যাসিবাদী বিবৃতি-বর্ণনা লক্ষ্য করে আসছি, এগুলো ছিল ফাঁসীর দাবীতে বিচার বহির্ভুত উগ্র-কর্ম। এরশাদের কথাতেও ওদের বিপক্ষে আমি তাই দেখছি।  

      উপরের মন্তব্যে যে তিন শ্রেণীর কথা উল্লেখ করেছি, এ প্রসঙ্গে অভিমত সেই শ্রেণীতেই দেখা যাচ্ছে। 

      1. 3.1.1
        এম_আহমদ

        সংশোধন
        ১) আপনি হযরত সুলাইমানের (আ.) মিথ্যা জেল খাটার=ইউসুফের জেল খাটা …
        ২)  মিথ্যা বিচার নয়, পুরাতন= মিথ্যা বিচার নতুন নয়, পুরাতন …

        1. 3.1.1.1
          ওয়াহিদুর রহমান

          আন্তরিক ধন্যবাদ। অপনার সুচিন্তিত মন্তব্য আমার জন্য অনুপ্রেরনা হয়ে থাকবে। আল্লাহ্ হফেজ।

      2. 3.1.2
        এম_আহমদ

        এরশাদেরও একাধিক জন্মদিন! বাংলাদেশের ভিতরে এবং আমাদের বিদেশিদের মধ্যে লাখো লাখো লোক পাওয়া যাবে যাদের জন্ম দিনের ভিন্নতা রয়েছে। মাওলানা দেলওয়ার হুসেইন সাঈদীর ব্যাপারের, আগের চাইতে আমার অভিমত এখন  আরও বলিষ্ঠ এবং স্পষ্ট যে তিনি, আমার কাছে, নিঃসন্দেহে একজন মহান ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামের একজন খাটি দা'য়ী (داع)। আল্লাহ তাঁকে কবুল করুন। বাঁচিয়ে রাখলে তাকে দীনের আরও খেদমত করার তৌফিক দিন এবং এ পথে তাঁর শাহাদাত হলে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং তাঁর প্রতিপক্ষকে দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছনা ও গঞ্জনা দান করুন। আমীন।

  10. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ধর্ষন জনিত অপরাধে ইউসুফ (আঃ) কে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের মতো তখনকার মিশরের কর্তৃপক্ষও জানতো যে ইউসুফ (আঃ) দোষী ছিলেন না। সাঈদী সাহেবও তাই। এক সময় কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় একটি বড় সমস্যা সমাধানের জন্য  ইউসুফ (আঃ) কে মুক্তি দানের প্রয়োজন হয়েছিল। ইউসুফ (আঃ) তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারন ধর্ষনের মতো একটি মিথ্যা অভিযোগ মাথায় রেখে মুক্ত থাকার চেয়ে কারাগারে থাকাটাকেই তিনি ভাল মনে করেছিলেন। ইউসুফ (আঃ) এর বয়স কম ছিল, তবুও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। কিন্তু সাঈদী সাহেবের বয়স ৭৩ বছর। আরো কয়েকটাদিন বেঁচে থাকার জন্য ধর্ষনের মতো একটি মিথ্যা অপবাদ মাথায় নিয়ে সরকারের পাতা ফাঁদে তিনি পা দিতে পারেন না।

    একটিমাত্র প্লাটফর্ম থেকে বিচার করে লিখা হলে, সেই লিখার গ্রহনযোগ্যতা থাকে না।  আপনি এবং আপনাদের মত মন-মানসিকতার মুসলমান-নামদারি, ইসলাম-বিদ্বেষী নাস্তিকের চেয়েও বিপদজনক। কার সাথে কি তুলনা করে এইসব কি লিখেন?
    “বাড়াবাড়ি”  দোযখের আগুনের চেয়েও ভয়ংকর।

    1. 2.1
      ওয়াহিদুর রহমান

      তাজুল ইসলাম সাহেব, আমার সাথে আপনার ইসলাম নিয়ে কোন কথা হয়নি। শুধু সাঈদী সাহেবের প্রসঙ্গ নিয়ে বলা কয়েকটি বক্তব্য নিয়ে একজন মুসলমানকে নাস্তিকের চেয়ে খারাপ বলা কি ইসলাম সম্মত? আল্লাহ বলেছেন, “যা লেকাল কিতাবু লা রাইবা ফিহি হুদাল্লিল মোত্তাকীন”। অর্থাৎ কোরআন নি:সন্দেহে মোত্তাকীনদের জন্য হেদায়েত। ইউসূফ (আ:) এর ঘটনা পড়ে পুলুকিত হওয়ার জন্য কোরআনে উদ্দৃত করা হয়নি। কোরআনে ঊদ্দৃত করা হয়েছে গাইডেন্স হিসাবে মেনে চলার জন্য। সাঈদী সাহেবের বিচার যদি ইউসূফ (আ;) এর বিচারের মত হয়ে থাকে তাহলে এর পরিনতি একই রকম হতে পারে ধরে নিতে অসুবিধা কোথায়? আর এখানে বাড়াবাড়ি হলো কিভাবে তাও আমি বুঝতে পারিনি। এবং এটা কোন তুলনাও নয়। আমি একজন মানুষ। যেখানে ভুল হয়েছে তা ধরে দিন। আল্লাহ্ আপনাকে তাঁর খলিফার দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। আমি না বুঝে থাকলে তা বুঝানোর চেষ্টা করা দায়িত্ব আপনার রয়েছে। কাকেও সরাসরি দোযখে পাঠিয়ে না দিয়ে দায়িত্ব পালন করুন। দোযখ থেকে রক্ষা পাওয়া এটাই উত্তম পথ। আল্লাহ্ হাফেজ।

  11. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

     সরকারী সাক্ষীদের বেশীর ভাগ ছিল ফকির-পাকড়া, চোর-বাটপার, ফেরিওয়ালা ইত্যাদি 

    -পড়া শুরু করতেই হোচট খেলাম। বাকীটুকু পড়ার ইচ্ছা হলো না। কারন এই লাইনটা চরম রেসিস্ট চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ইসলাম যেখানে আমার শ্রেনীহীন সমাজ তৈরীর শিক্ষা দেয় -- সেখানে "ফকির-পাকড়া" কে আপনি কোন শ্রেনীতে ফেলে তাদের স্বাক্ষীকে উপেক্ষা করার চিন্তা করছেন। 
    জামাতে ইসলাম আসলে একটা কঠিন ভুলের মধ্যে আছে। আপনার মতো একজন বিজ্ঞমানুষও যখন মানুষের মানুষে ভেদাভেদ করে বক্তব্য দিয়ে নেতাদের নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা করেন -- খুবই কষ্ট পাই। আল্লাহ ভাল জানে কে কি করেছে এবং কার আমল নামায় কি আছে -- তবে সাঈদী ্‌এই রায় যে অনেকের ঈমানের কঠিন পরীক্ষা ফেলে দিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। নতুবা একজন মুমীনের পক্ষে কতটা অনুমান নির্ভর কথা বলা সম্ভব, তা আপনি ভেবে দেখেছেন ( লক্ষ্য করুন -- সুরা যায়িয়াত আয়াত ১০) 
     
    ধন্যবাদ। 
     
     

Leave a Reply

Your email address will not be published.