«

»

Apr ২৪

গনতন্ত্রের স্বার্থে রাজনীতি থেকে সকল অদৃশ্য শক্তির নিয়ণ্ত্রন বন্ধ করা জরুরী

 ইলিয়াসকে পাওয়ার না পাওয়ার চাইতে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হলো – খালেদা জিয়ার ভাষ্য মতে যদি ইলিয়াসকে বিশেষ সংস্থা ধরে নিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে বিষয়টা সত্যই গুরুত্বপূর্ন এবং জটিল। 

আমরা জানি ১৯৭৮ থেকে এই সংস্থাটি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রন করছে – বিশেষ করে সামরিক সরকারের সমর্থনের দল তৈরী – তার জন্যে বিভিন্ন দলে ভাংগন আর রাজনীতিকদের বেচাকেনার বিষয়ে এই সংস্থাটির হাত সক্রিয়। বিএনপি আর জাতিয়পার্টি জন্মের জন্যে এই সংস্থাটির কাছে দায়বদ্ধ।

আমি খালেদা জিয়ার কথা গুরুত্বের সাথে নিতে চাই এই কারনে যে – খালেদা জিয়া নিজেও এই সংস্থাটির উপর নির্ভরশীল ছিলেন বহুকাল। ধারনা করা হতো আ.লীগের প্রতি বিরাগভাজন ছিলো সংস্থাটি। তাই দেখি ২১ এ আগস্টের মতো ভয়াবহ এবং জঘন্য কাজে সংস্থাটি জড়িত হয়েছিলো। কিন্তু ১/১১ এর পর গনেশ উল্টে যায় – সংস্থাটি তারেককে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখার জন্যে তৎপর হয়ে উঠে। অবশেষে তারেক তাদের কাছে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে বিদায় নেয়। 

কিন্তু খালেদা জিয়া বিষয়টিকে সহজ ভাবে ছেড়ে দেবেন না বলেই মনে হয়। বিএনপির অনেক নেতা কর্মীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তারেককে ২য় গুরুত্বপূর্ন পদে বসানো ছাড়া বিএনপির বিগত কাউন্সিলের আর তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি। যা মুলত ছিলো খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত এজেন্ডা। 

এই অবস্থায় বিএনপির সুবিধাবাদী এবং দূর্নীতিগ্রস্ত অংশটি দ্রুতই তারেকের বশ্যতাস্বীকার করে দলের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। তাদের জন্যে তারেকের সাথে যোগাযোগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ন ছিলো। একসময় কমরউদ্দিন এই চ্যানেল নিয়ন্ত্র করতো এবং ইলিয়াস আলি ছিলো তার প্রতিপক্ষ। কমরউদ্দিনের মৃত্যুর পর ইলিয়াস হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম। 

সেই বিবেচনায় ইলিয়াসের অর্ন্তধানে খালেদা জিয়া খুবই জটিল অবস্থায় পড়েছেন। উনি জানেন ইলিয়াস কোথায় আছে এবং সরকারের খোঁজাখুঁজির বিষয়টা অনাবশ্যক। কারন রাজনৈতিক সরকারের হাতে সেই পর্যন্ত পৌছে না। তাই উনি দ্রুত কোন সময় না দিয়েই হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচী দিলেন। মুলত ফোকাসটা যাতে না সরে যায় সেইটাই উনার উদ্দেশ্য। 

এখানে সুষ্পষ্ট বুঝাপড়া চলছে "বিশেষ এসেন্সি" বনাম খালেদা জিয়ার মাঝে। সেই বুঝাপড়া যাতে ব্যহত বা ভিন্ন দিকে না যায় – তাই উনি ইলিয়াসের স্ত্রীকে ডেকে থামিয়ে দিয়েছেন। 

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় বিবেচনা দাবী রাখে – এই বিশেষ সংস্থাটি যদি নিজেদের এজেন্ডা বা সরকারের ইচ্ছায় এই ধরনের কার্যক্রমে জড়িত হয়ে থাকে – তবে তা হবে গনতন্ত্রের জন্যে বিশেষ ক্ষতির কারন। উদাহরন আমরা দেখছি পাকিস্তানে – সেখানকার একই ধরনের সংস্থা কিভাবে শক্তি আর অর্থ ব্যবহার করে রাজনীতিকে কুলশিত করেছে – যার ফলে পাকিস্তানের গনতন্ত্র আর কাঁঠালের আম সত্ত্ব একই পর্যায়ে চলে গেছে। 

যদি খালেদা জিয়ার দাবী সত্য হয় যে ইলিয়াসকে "বিশেষ এজেন্সি ধরে নিয়ে গেছে" – তা হলে বাংলাদেশের সকল গনতন্ত্রকামী মানুষের উচিত বিষয়টির প্রতিবাদ করা। সরকারী এবং বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের বিষয়টি গুরুত্বে সাথে নেওয়া – যাতে সরকারের রাজনৈতিক অংশ যথেষ্ঠ শক্তিশালী হয়ে "গোপন এই সংস্থার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন" – প্রয়োজনে সংস্থাটির রাজনীতিতে হস্থক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। ১৯৯০ সালে যদিও আমরা গনতন্ত্রকে মুক্ত করেছি বলে ধারনা করছি – কিন্তু আমার বিজয় ছিলো অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশে এখন সামরকি বাহিনী সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে আর ছোট বড় সকল রাজনৈতিক দলের ভিতরে বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে এজেন্টদের সক্রিয় রেখে মুলত নিয়ণ্ত্রটা সামরিক বাহিনীর কাছেই আছে। 

রাজনীতিকে মেধাশূন্য করে বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রন বজায় রাখার কাজে বাংলাদেশের মিডিয়ার একটা অংশসহ বুদ্ধিজীবি এবঙ সুশীলরাও জড়িত। এরা দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে বিবাদ মিমাংসা করতে দেয় না – সব সময় উস্কে দিয়ে নিজেদের দিকে মানুষের নজর আটকে রাখে। 

রাজনীতিকে রাজনীতিকদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হলে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে – যে কোন অদৃশ্য শক্তি যে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করতে পারে তার জন্যে চলমান আন্দোলনে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার দরকার হলে তাও করা দরকার।

৭ comments

Skip to comment form

  1. 3
    কিংশুক

    ভয়ংকর কথাবার্তা। দেশ হতে দূর্নীতি, অপশাসন রোধ করে দেশকে সঠিক পথে যে চালিত করবে তাকেই সমর্থন দিবো।

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      এইটা একটা কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। ব্যক্তিগত ভাবে বাংলাদেশে গনতন্ত্রের নামে যা হচ্ছে তা মুলত লুটেরা দূর্নীতিবাজদের রক্ষাতন্ত্র বলাটা খুব ভুল হবে না। একজন ন্যায়পরায়ন শাসক দরকার বাংলাদেশের জন্যে। আশা করি আল্লাহ বাংলাদেশের সহায় হবেন। 

  2. 2
    করতোয়া

    আমার ধারনা গনতন্ত্র ফনতন্ত্র বলে কিছু দেশে আর নাই। সবাই কোন না কোনভাবে অদৃশ্য শক্তির লেজুরবৃত্তি করছে।  যে অদৃশ্য শক্তির আভাস এখানে দেয়া হয়েছে তাদের হাতে অন্য এক ধরনের এজেন্ডা আছে বলে আমার ধারনা। এই রাজনৈতিক গুম আরো দেখবেন ২০১৩ এর শুরু থেকে। তখন শুধু বিএনপি নয় খোদ আওয়ামীলীগেরও রাজনৈতিকরা গুম হতে দেখবেন। এজন্ডা একটাই, দেশের রাজনীতি থেকে এই ২ পরিবারের সম্ভাব্য পারিবারিক ডাইনিষ্টিকে বিতারিত করা। যেহেতু সোকলড ভোটের গনতন্ত্রে সম্ভব হচ্ছে না আবার ক্যু করাও সম্ভব নয় সেহেতু এই ধরনের গুম করার পদ্ধতিটা বেশ লাগসই প্রযুক্তি।
     
    দেশে রাজনৈতিক সোকলড স্থিতিশিলতার নামে কিছু সুশিল নের্তৃত্তকে (সম্ভবত কামাল-ইউনুস) পরিষদকে ক্ষমতায় এনে রাজনীতির প্রচলিত ধারা পরিবর্তনের পাথেয় হিসেবে এই গুম প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে সেই বিশেষ শক্তির সহায়তায়। এতে আমজনতার সুফল আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে। তবে রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসবে সেটা নিশ্চিত।
     
    সম্ভবত বর্তমান সরকার এটা আঁচ করতে পেরেছেন বলেই হঠাৎ ত্বত্তাবোধায়ক সরকার থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নিতে চাচ্চেন।

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আমার ধারনা ভুল হলেই ভাল। তবে দেখেশুনে মনে হচ্ছে ঘটনা খুবই পরিকল্পিত। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগেরও অনেক কর্মী গুম হয়েছে বলে একটা খবর দেখলাম। সম্ভবত ১/১১ এর পরিকল্পনার অংশ এই গুম। 
       
      খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনা আসলে একই পথের পথিক। শুধু মাত্র শর্টটার্ম বেনিফিটের লোভে এরা এক হতে পারছে না। তবে একসময় এক হবেন। বিষয়টা খুব দেরি না হলেই ভাল। 
       

  3. 1
    শামস

    ঘটনাতো দেখি খুবই জটিল! গ্রুপটি তাহলে সামরিক সংশ্লিষ্ট, তারাই কি ১/১১ এর কারিগর? আর যাই হোক, তাদের সাথে যে বিএনপির সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না সেটাই মনে হল?
     
     

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার কি মনে হয় হাসিনার পক্ষে সম্ভব খালেদাকে সেনানিবাস থেকে বের করা? সেই কাজটা করেছে আর্মীর একটা অংশ। সেখানে বিএনপি/জামায়াতের অংশ আছে অবশ্যই। 
       
      খুবই দু:খজনক বাংলাদেশের সকল সেক্টর (পেশাজীবি থেকে সাধারন মানুষ সবই) প্রবলভাবে রাজনৈতিক বিভাজনের শিকার। বুয়েটে আগে বিষয়টা লুকানো ছিলো -- এখন বের হয়ে পড়েছে। 
       
      সেনাবাহিনীতেও এই বিভাজন আছে -- তবে তা লুকানো এবং পেশাগত কারনে এরা বিষয়টা নিয়ে বাইরে আসে না। কিন্তু প্রবল বিভাজনের স্রোত যদি সেখানেও লাগে -- তবে বিরাট সমস্যা হবে। দেশে রক্তপাত হবে অনেক। আল্লাহ যে আমাদের সেদিকে না পাঠান। তবে লক্ষন দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ একটা জটিল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে -- সেখানে সংঘাত ছাড়া বের হবা পথ নেই। 

      1. 1.1.1
        শামস

        @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,

        আপনার কি মনে হয় হাসিনার পক্ষে সম্ভব খালেদাকে সেনানিবাস থেকে বের করা?

        এতো জটিল করে ভাবি নাই। আমার মনে হয়েছিল খালেদার উপর হাসিনা একটা প্রতিশোধ নিয়েছিল। কারণ খালেদাও হাসিনাকে সম্ভবত গণভবন থেকে বিতারিত করেছিল। খালেদার বিতারণটা ছিল তার খুব রুণ সময়ে যখন সে একেবারে কোনঠাসা আরে হাসিনা কেবল ক্ষমতায় এসেছে, তাই  হাসিনার পক্ষে এটা করা অসম্ভব কিছু না! তবে এখন মনে হচ্ছে এখানে এত সোজা হিসাব না। আর হিসাবটা যদি এরকম হয়, তাহলে শুধু একটা শক্তিই বিরাজমান সেটা ভাবলে ভুল হবে, হয়তো অনেকগুলো শক্তিই জড়িত। কয়েকমাস আগে সরকারের বিরুদ্ধে একটা বিদ্রোহের চেষ্টা হয়েছিল, সেটাও এরকম একটি শক্তির কাজ হতে পারে। তবে যাই হোক, ক্ষমতা্র রাজনীতি এখন যে লেভেলে পৌছেছে তাতে এই অদৃশ্য শক্তির আরো লাভবান হবার সম্ভবনা বেশী। এর ফলাফল চরম অরাজকতা। সামনে দূঃসময় আসছে!
         

Leave a Reply

Your email address will not be published.