«

»

Aug ২৬

নোবেল বিজয়ী মাননীয় ড. মোহাম্মদ ইউনুস সমীপে একটা আবেদন

 

নিপাতনে সিদ্ধের মতো মেনেই নিচ্ছি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা অতি বদ – খারাপ। একমাত্র সুশীলগোষ্ঠিই হলো ভাল। আর ড. ইউনুস সাহেব একজন ক্ষণজন্ম মহাপুরুষ – অতি ভাল মানুষ। উনি এই ধরায় না এলে বাংলাদেশের মানুষ দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে মরে যেতো। কথা সেগুলো না। কথা হলো – ইউনুস সাহেব নোবেল পাওয়ার পর হাতির পাঁচ পাও দেখার মতো আচরন শুরু করলেন – উনি দুই নেত্রীকে বাদ দেবার ফর্মূলা দিলেন সেনাবাহিনীকে – কিন্তু নিজেই নিজের তৈরী আইনে ভেংগে ১০ বছর অতিরিক্ত সময় ধরে এমডি পদে বসে থাকলে এবং অবশেষে সুপ্রিমকোর্টের আপীলেও হেরে গেলেন – তারপরও পদের নেশা ছাড়ছেন না – কেন?
 
 একদল লোক বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রথম আলো – ডেইলি স্টার কেন্দ্রিক সুশীলরা নোবেল বিজয়ের আড়ালে সকল বিতর্ককে লুকিয়ে ফেলতে চাইছেন। কেন? ড, ইউনুসের নোবেল বিজয় আসলে নিজের কিছু অর্থিক লাভ আর বিদেশে বত্তৃতা দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আয় ছাড়া কি তেমন কোন কাজে লেগেছে? নোবেল শান্তি পদকের ইতিহাসে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরে খুব কমই এই পদক গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী দৃষ্টি কেড়েছেন – Wangari Maathai (২০০৪) যিনি গাছ লাগিয়ে নিজের দেশকে সবুজ বানানোর কর্মসূচি নিয়ে ছিলেন আর নোবেল পেয়েই পুরো অর্থ দান করে সেই ফান্ডে। এই রকমের আরো অনেক ইতিহাস পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের নোবেল বিজয়ী ইউনুস সাহেব নোবেল পেয়ে প্রবাসীদের আইনে সেই অর্থ এনেছেন যাতে ট্যাক্সও না দিতে হয়। 
 
এখন উনি উঠে পড়ে লেগেছেন দেশের রপ্তানীর উপর একটা চাপ সৃষ্টি করে নিজের এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন করতে। দেশের লক্ষ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক আর পুরো রপ্তানী শিল্পকে জিম্মি করে হলেও উনি উনার নিজের এজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করবেনই। এ্মন একটা আলামত দেখলাম গতকালে নিউইয়র্ক টাইমস এর প্রথম পাতার হেড লাইন নিউজে – সেখানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে পুরো চার কলামের প্রতিবেদন ছেপেছে প্রথম পাতায় – মনে হবে এরা আগে কখনই জানতো না বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বছরের পর বছর বিভাবে কাজ করে। প্রতিবেদন পড়লো বুঝা যাবে এইটা হলো প্রিপারেটরি ওয়ার্ক – এই ধরনের প্রতিবেদন ছাপার পিছনে কোন ভাল উদ্দেশ্য যে কাজ করে না তা বলাই বাহুল্য। 
 
সন্মান অর্জন খুবই সহজ নয় – কিন্তু নষ্ট করা খুবই সহজ। ড. ইউনুস সাহেব আপাতত আওয়ামীবিরোধী ক্যাস্পের সমর্থন পাচ্ছেন – মওদুদ আহমেদ প্রকাশ্যে উনার সমর্থন দিচ্ছে – কিন্তু মানুষ একসময় জানবে যে নিজের ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যে নোবেল বিজয়ী কিভাবে দেশের স্বার্থকে জিম্মি করে বিদেশী শক্তিকে দেশের আভ্যন্তরিণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করেছেন। সেই সময় হয়তো খুব বেশী দুরে নয়।   
 
ড. ইউনুস সাহেব একজন অতি সন্মানিত ব্যক্তি – উনাকে উপদেশ দেবার মতো সাহস বা যোগ্যতা আমার মতো সাধারনের নেই। তারপরও আশা করি দেশের ভিতরেই এমন মানুষ আছে যারা সরকারের সাথে উনার এতটা সমঝোতার জন্যে আলোচনা করতে পারে – বিদেশী শক্তির উপর অতি নির্ভরতা আর রাজনৈতিক ঘোলাজলে নিজেকে না ডুবিয়ে উনি যদি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে সরকারে সাথে একটা সমঝোতা করে সেইটাই হবে সবচেয়ে ভাল। যতটুকু জানি এরশাদ সরকারে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন মুহিত সাহেব গ্রামীন ব্যাংককে প্রচুর সহায়তা দিয়েছেন – ড. ইউনুসের অহংকার এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত মুহিত, আনিসুজ্জামানের মতো বন্ধুদের দুরে ঠেলে দিয়েছে আর সাম্প্রতিক উনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগীও সরকারকে আরো চরম অবস্থানে নিয়ে গেছে। ড. ইউনুস দেশে বন্ধুহীন এই থাটা বিশ্বাস করা কঠিন – যদি উনি উনার দেশীয় বন্ধুদের উপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধানের একটা চেষ্টা করতেন – তা হতো দেশের এবং নিজের জন্যে সবচেয়ে মঙ্গলজনক।