«

»

Oct ০৮

চলমান সভ্যতার সংঘাতে মুসলমানদের অবস্থান

চলমান সভ্যতার সংঘাতে নাস্তিকতার অবস্থান পোস্টের প্রেক্ষিতে নাস্তিকদের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছিলাম। এই লেখায় চেষ্টা করবো মুসলমানদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতে। মুল আলোচনায় যাওয়ার আগে গত পোস্টের একটা প্রসঙ্গের কিছু ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি। আমরা আমাদের চারপাশে যে সংঘাত সংঘর্ষ দেখছি – যার সুস্পষ্ট টার্গেট হলো ইসলাম – মুসলমানরা নয়। কথা আরও পরিষ্কার করে বলা যায় – ইসলামের কোর ভ্যালুজ থেকে সরে গিয়ে যদি কেউ ভোগবাদের কাছে আত্নসমর্পন করে – সে মুসলমান হলেও চলমান সংঘাত থেকে মুক্ত। শুধু মুক্ত নয় – সে হয় সমাদৃত। যেমনটা দেখছি টরন্টোর মুল শহরের ভিতরেই নির্মিত হচ্ছে মিলিয়ন ডলারের ইসলামিক হেরিটেজ সেন্টার। দেখে শুনে মনে হবে কানাডা বোধ হয় মুসলমানদের জন্যে একটা স্বর্গ রাজ্য। আসলে আগা খান হলেন কানাডার সম্মানিত নাগরিক – যিনি কানাডা ভ্রমণে এলে প্রধানমন্ত্রী ভোজের আয়োজন করেন – অন্যদিকে কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী একটা নির্দেশ দিয়েছেন – কানাডার নতুন নাগরিকদের শপথ নেওয়ার শর্ত হিসাবে মুখমণ্ডলের উপর কোন আবরণ রাখা যাবে না। যেখানে কানাডার আইনে নারীরা নিজেদের শরীরের অর্ধাংশ উন্মুক্ত রেখে রাস্তায় চলাচল করার অধিকার ভোগ করে – সেখানে শপথ গ্রহণের জন্যে মুখ খোলা রাখার নির্দেশের মাধ্যমে পোশাকের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিশ্চয়ই একটা অর্থ বহন করে। তেমনি দেখি ইশরাদ মানজি, অথবা তারেক ফাত্তার মতো ইসমাইলীরা মূলধারার মিডিয়াতে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলার জন্যে ব্যস্ত থাকেন – অন্যদিকে কানাডার প্রতিটি মসজিদে গোয়েন্দা লাগানোর জন্যে মিলিয়ন ডলারের বাজেট বরাদ্ধ থাকে। মূলত মুসলমান হিসাবে যারা ইসলামকে অনুসরণ করেন – তারা ইসলামের উপর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলাই বাহুল্য। আর যদি ট্র্যাডিশনাল বা কালচারাল মুসলমান হিসাবে জীবন বেছে নেয় কেউ – তবে তাদের সমস্যা নেই। তারাই মুসলমানদের উপর নেমে আসা যে কোন মানব সৃষ্ট দুর্ভোগে অ্যাপোলোজেটিক হবে এবং মুসলিমদের দোষারোপ করতে থাকবে। 

যাই হোক – এবার আসল কথা আসা যাক। চলমান এই সংঘাত শুরুর সময়টা হলো তখন থেকেই যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্থানের সাথে সাথে ইসলামের পতাকা নেমে যাচ্ছিলো এবং সংকুচিত হচ্ছিলো ইসলামের শাসনের পরিধি। এক সময় এই শাসনের আলো পুরোটাই নিভে যায় আর অন্ধকার নেমে আসে মুসলমানদের উপর। তারপর শুরু হয় একটা অনন্ত অন্ধকারের চলা। বর্তমানের যে সংঘাত তা যদি ভৌগলিক দিক থেকে দেখি দেখবো – কাশ্মীর থেকে প্যালেস্টাইন, বসনিয়া থেকে কসোভা, সোমালিয়া থেকে পাকিস্তান, ইরাক থেকে আফগানিস্তান, ফিলিপিন্স থেকে চেচনিয়া দগদগে ঘায়ের মতো বিশ্ব মানচিত্রে বীভৎসতা ছাড়াচ্ছে। তার সাথে যোগ হয়েছে আরব বসন্তের নামে নতুন একটা ফ্রন্ট এবং সিরিয়ার সংঘাত। এক কথায় মুসলমানরা বিশ্বের কোথাও শান্তিতে নেই। শাররীক, মানসিক দুর্ভোগ আর যন্ত্রনা তাদের তাড়া করছে প্রতিনিয়ত। আমি এখানে মুসলমান বলতে বুঝাচ্ছি যারা ইসলামের অনুসারী – যারা কোরানের প্রতিটি শব্দকে মেনে চলা তাদের জীবনের জন্যে ফরজ করে নিয়েছে – যারা রসুল (সঃ)-কে তাদের জীবনের রোল মডেল হিসাবে অনুসরণ করে। অনেকে বলার চেষ্টা করে – মুসলিম প্রধান দেশেতো মুসলমানরা ভাল আছে। কথা বলার পর একটু ভাবনার জন্যে কিছুক্ষণ চক্ষু বন্ধ করুন। বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক – সেখানে মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ হলেও ইসলাম সংখ্যালঘু মতাদর্শে পরিণত হয়েছে। সমাজ আর রাষ্ট্রের কোথাও ইসলামের কোর ভ্যালুজকে শাসনের নিয়ামক গ্রহণ করা হয়নি। সুদ, মদ আর ব্যভিচার সেখানে আইনসিদ্ধ – পতিতারা লাইসেন্স নিয়ে দেহ বিক্রি করে তার থেকে যে ট্যাক্স আসে তা রাষ্ট্র খরচ করে – মদের কথাও সেই – সুদ তো রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির চালিকা শক্তি। মূলত ইসলামী শাসন যাদের হাতে পরাজিত হয়েছিলো – সেই ব্রিটিশদের করা আইনকানুনই বাংলাদেশের চালিকা শক্তি। একই চিত্র দেখা যাবে মুসলিম ল্যান্ড হিসাবে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই।

তাহলে আমরা দেখছি – পুরো সংঘাতটাই হচ্ছে ইসলামকে দমিয়ে রাখার জন্যে – অথবা নিশ্চিহ্ন করার জন্যে। কোথাযও এই সংঘর্ষ হচ্ছে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের আকারে – কোথাও হচ্ছে নিজেদের পরষ্পারিক বিভেদের সুযোগে উপদেষ্টার আকারে অথবা দারিদ্র্যতার সুযোগে সাহায্যের সুযোগে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের সর্বত্রই এই পুঁজিবাদের নামে ভোগবাদ বনাম ইসলামের সংঘাতটাই আমরা দেখছি।

(২)

এই সংঘাতে মুসলমানদের সার্বিক অবস্থাটা বুঝার জন্যে আমাদের একটু ইতিহাসের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ ইসলামের ইতিহাসে এই ধরনের বেদনাদায়ক পরিস্থিতি এই প্রথম না – আগেও এসেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – মঙ্গোলদের আক্রমণ। হালাকু খাঁর নেতৃত্বে মঙ্গোলরা যখন ইসলামী খেলাফতের এক পাশ থেকে অন্য পাশ ঝড় বইয়ে দিচ্ছিলো – যখন শহর আর জনপদগুলো রক্তের বন্যা বইছিল – যখন মুসলমানদের লাশের গন্ধে বিজয়ী মঙ্গোলরা শহরের বাইরে গিয়ে বসবাস করছিলো – তখনও মুসলমানদের অবস্থা ছিলো এই রকমের। বাগদাদের খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ ভোগ বিলাস আর সংগীত নৃত্য উপভোগে এতোই মশগুল ছিলেন যে – মঙ্গোলদের ছোড়া তীর তার খাস কামরার পর্দা ভেদ করে নৃত্যরত শিল্পীকে বিদ্ধ করলে উনি বিচলিত না হয়ে আরেকটা নৃত্যশিল্পী আনার আদেশ দিচ্ছিলেন। এতো বড় সাম্রাজ্যের মানুষরা ছিলো বিভ্রান্ত – অপ্রস্তুত। তাদের মধ্যে অনেকেই মঙ্গোলদের পক্ষে যোগ দিয়েছিলো শাসকশ্রেণীর ভোগবাদীতায় অতিষ্ঠ হয়ে। অনেকেই আত্নসমর্পন করেছিলো – অনেকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে মঙ্গোলদের সাহায্য প্রার্থী হয়েছিলো আর একদল লোক কঠিনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মঙ্গোলের নিয়ম ছিলো দুর্বলদের নিশ্চিহ্ন করা – এরা আত্নসমর্পনকারী জনপদে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে – কিন্তু প্রতিরোধকারীদের এড়িয়ে চলে গেছে। সেই সময়কালেও মুসলমানদের মাঝে মতাদর্শের বিরোধ চরমভাবে জেগে উঠেছিলো। বাগদাদের রাজসভায় উচ্চপদে আসীন ছিলো যে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তারা খলিফাকে আত্নসমর্পনে প্ররোচিত করে – ফলাফল হয়েছিলো নির্মমভাবে রাজ-পরিষদসহ খলিফাকে হত্যা করে মঙ্গোলরা – আর ধ্বংস করে সমৃদ্ধ লাইব্রেরীগুলো।

সেই সময়ে পুরো সমাজ ছিলো বিভ্রান্ত – কারণ ভোগের কারণে সেই সময়ের মানুষের মধ্যে একটা বড় অংশ ইসলামের মুল থেকে সরে গিয়েছিলো। ফলে বিপদের সময় তাদের সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। আর যারা ইসলামের মূলধারার মাঝে নিজেদের ধরে রেখেছিলেন ছিলো তারা টিকে গিয়েছিলেন।

আজ যদি ভালভাবে লক্ষ্য করি একই দৃশ্য দেখবো – ইসলামের উপর আক্রমণকারীরা সামরিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সকল সেক্টরে সমানভাবে সক্রিয়। আর মুসলমানদের মাঝ থেকে একদল তাদের সাহায্যকারী – একদল সমর্থক হয়ে সমর্থন দিচ্ছে। লিবিয়ায় বোমা বর্ষণের সময় আমাদের কোন একটা দেশ বা নেতা এর নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনৈক্য আর ক্ষমতার লোভে মুসলমানদের নিজেদের মাঝের শত্রুতার সহযোগী হিসাবে তাদের বন্ধু বানাচ্ছি। একদল চেষ্টা করছে প্রতিরোধ করতে – তারা অন্যের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটু ভাল ভাবে দেখলে দেখবো নেতৃত্ব-হীন উদ্দেশ্যহীন হয়ে পুরো মুসলিম উম্মাহ একটা বিভ্রান্তির মধ্যে আছে। এই বিভ্রান্তির কারণে একদল হয়তো চরম পথ অনুসরণ করছে – আরেকদল নিজেদের লুটিয়ে দিচ্ছে বিপক্ষের পদতলে।

এই অবস্থার থেকে মুক্তির কোন আশা আছে কি?

অবশ্যই এই অবস্থা থেকে মুক্তি আসবে। সেইটাই হলো বিধান যে ইসলামের মশালটা পৃথিবীর বুকে সমুজ্জ্বল হয়ে জ্বলবে – কিন্তু সেই মশালের বাহক কে হবে তা নির্ধারণের যে পূর্বশর্ত আছে তা যখন পূরণ হবে তখনই দেখা যাবে বিজয়ের আলো। কত সময় লাগবে এই অমানিশা কেটে গিয়ে ভোরের আলো দেখতে তা বলা মুশকিল। এই সময়কালের বিষয়টা বুঝার জন্যেও যদি আমরা আবারো মঙ্গোলের সময়কালের ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেই তবে হয়তো একটা উত্তর পেতেও পারি। দেখবো যে যখন মঙ্গোলরা ইসলামের মশাল নিভিয়ে একের পর এক জনপদে রক্তের বন্যা বইয়ে দিচ্ছিলো – সেই সময় যারা নেতৃত্বে ছিলেন – তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ করতে। আগেই বলেছি – এদের অনেকেই লজ্জাজনক ভাবে নিহত হয়েছিলেন (যেমনটা দেখছি সাম্প্রতিক কালেও সাদ্দাম আর গাদ্দাফির বিষয়ে) – অনেকে পদানত হয়ে কোনভাবে জীবনটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন – তখন একটা দলের উদ্ভব হয়। ইতিহাসে তাদের বলা হয় "মমলুক"। এরা হলো ক্রীতদাস। যখন উচ্চ বংশের ছেলে সন্তানরা ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে শ্রমবিমুখ হয়ে উঠেছিলো – তখন ক্রীতদাসদের নিয়ে অনেক শাসক বিশেষ বাহিনী বানিয়ে ছিলেন। শক্তি, মেধা আর বিশ্বাসে এরা হয়ে উঠেছিলো নির্ভরতার প্রতীক। এই মমলুকরা এক  পর্যায়ে অলস আর ভোগী মিশরের শাসককে বিতাড়িত করে ক্ষমতায় চলে আসে। যখন হালাকু খানের বাহিনী মিসরের দ্বারপ্রান্তে হাজির হয়ে মিসরের সম্রাটের কাছে আত্নসমর্পনের জন্যে দূত পাঠায় – তখন মিসরের মমলুক শাসক সাইফুদ্দিন কুটুজ তাদের প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন এবং মঙ্গোল দূতদের হত্যা করে একটা চরম বার্তা পাঠায় মঙ্গোলদের শিবিরে। হালাকু খানের দুর্ধর্ষ বাহিনী সাইফুদ্দিন কুতুজ মমলকুদের হাতে পরাজিত হয় আইনে জলুট যুদ্ধে এবং মঙ্গোলদের বিজয় অভিযান সমাপ্তি ঘটে। সেখান থেকে ইসলামের পুনরুত্থান শুরু হয়। তারপরের ইতিহাস আমরা জানি – মঙ্গোলদের অধিকাংশই কালক্রমে ইসলাম গ্রহণ করে – এবং পৃথিবীতে ইসলামের মশাল পুনঃস্থাপতি করে।

ইতিহাস বিবেচনায় ধারনা করছি আমাদের অপেক্ষা করতে হবে একদলের উত্থানের জন্যে – তারা কোথা থেকে আসবে – কিভাবে আসবে বলা সম্ভব নয়। তবে যদি মমলুকদের ইতিহাস পর্যালোচনা করি দেখবো – এইটা সহজেরই বলা যায় যে –  কালচারাল মুসলিমরা বা ট্র্যাডিশনাল মুসলিম নেতারা ব্যর্থ হয়ে ধ্বংসের দিকে দ্রুত ধাবমান। এই প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ দেওয়া যাক – যেখানে দেখবো আমাদের নেতৃত্বে যে পণ্ডিতব্যক্তিবর্গ আছেন তারাও যে কি পরিমাণ বিভ্রান্ত তা বুঝা যাবে এই ঘটনা থেকে। বাংলাদেশের রামুতে মুসলমান নামধারীরা বৌদ্ধদের জনপদে হামলা করেছে – সন্ত্রাস করেছে – যা কোন বিবেচনায়ই ইসলামের পথ না। কিন্তু আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইসলামী পণ্ডিতদের থেকে একদল বেড়িয়ে এসে এই ঘটনাকে নিন্দা করতে দেখা গেলো না। শুধুমাত্র মদিনা সনদের কথা বিবেচনা করেই এই বিষয়টিকে নিন্দা করা যেতো – কিন্তু একটা মুসলিম প্রধান দেশে সংখ্যা গরিষ্ঠতার সুযোগে যখন মুসলমানরা সংখ্যালঘুর উপর সন্ত্রাস করে এবং মুসলমানদের নেতৃবৃন্দ তাকে নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয় – তাহলে বুঝা যায় তারা কতটা বিভ্রান্তিতে আটকে আছে। অন্যদিকে যদি এই হামলা আল্লাহর রাস্তায় জেহাদও হয় – তার পক্ষেও কথা বলা দরকার –নীরবতা মানে তো গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো। বস্তুত এই নীরবতার কারণ তো আর কিছু নয় – সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থতাই এর পিছনে বড় কারণ। পার্থিব বিষয়গুলোতে আমরা এতো বেশী নিজেকে লিপ্ত করে ফেলেছি যে – নিজের নফস কোন্‌ সময় আলো থেকে সরে অন্ধকারে চলে যাচ্ছে তা লক্ষ্য করার সময়ও পাইনি। এইটাই হলো এই সময়ের সবচেয়ে বড় লক্ষণ যে সবাই বিভ্রান্তিতে (ফিতনা) ভুগবে এবং ঘটনা প্রবাহের সাথে গা ভাসিয়ে দিয়ে ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একই দৃশ্য দেখবো – একটা দেশের মুসলমানদের উপর ফেলার জন্যে টন টন বোমা নিয়ে আসা হচ্ছে – তাকে পরিবহনের বিষয়ে সহায়তা দিচ্ছে আরেকদল মুসলমান। মুসলমানদের উপর চালক বিহীন বিমানের ব্যবহারের জন্যে বিমানঘাঁটি তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে একদল মুসলিম আর ব্যবহৃত হচ্ছে মুসলিম প্রধান দেশের ভূমি।

এইটা হলো একটা ফিতনার সময় – রসুল (সঃ) সুস্পষ্ট ভাবে বলে গেছেন মুসলিম উম্মাহকে জাগ্রত করার জন্যে তাদের উপর যে দুর্ভোগগুলো নেমে আসবে তা হলো ১) পরীক্ষা বা বিভ্রান্তি (ফিতনা) সমূহ, ২) প্রাকৃতিক দুর্যোগ (জালজালাহ), ও ৩) গণহত্যা (কতল)-যার সবগুলোই দেখছি আজ মুসলিম বিশ্বে।

এই বিভ্রান্তিকর অবস্থায় একজন মুসলমান হিসাবে আমাদের কী করণীয় – সেই বিষয়ে পরের লেখায় আলোচনার ইচ্ছা রইল।

২৪ comments

Skip to comment form

  1. 14
    Mahamud

    চলমান সভ্যতার সাথে ইসলাম যায় না, যাওয়ানোর চেষ্টা করাতে কিছু বোমাবাজ তৈরী হচ্ছে এবং হবে। সুতরাং ইসলামকে হয় মডিফাইড হতে হবে তা না হলে জাদুঘরে যেতে হবে।

    1. 14.1
      ইমরান হাসান

      আপনি এটা কোথায় থেকে পেলেন মাহমুদ ?? চলমান সভ্যতা এর কোন দিকটা আপনার কাছে ইসলাম এর রীতিনীতি অপেক্ষা বেটার মনে হয়েছে ?? 
      For Your Kind Information  ইসলাম সেই ৭০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পৃথিবীতে সায়েন্স আর কালচার এর ফোয়ারা ছুটিয়েছে। অটোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত যে ইসলাম  যুগের সাথে তাল  মিলিয়েই শুধু না বরং নতুন একটা যুগ কে সৃষ্টি করেই এগিয়েছে । 
      আপনাকে আরও একটা কথা বলতেই হবে আমাকে, যে ইসলাম কখন যুগের পিছে পিছে দৌড়ায় না এটা নিজেই একটা নতুন যুগ সৃষ্টি করে আর সেটা বহুদিন থেকেই দেখে আসছি আমরা। 

  2. 13

    একতাই বল। আমাদের মুসলমানদের মধ্যে একতা নেই। ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন বলে দেয় যে কিভাবে মাত্র ৩ হাজার বিদেশী সৈন্য ৫০ হাজারের সামরিক বাহিনীকে হারিয়ে দেয়। তাই অমুসলিম ও নাস্তিকদের যতটা না দায়ী করা তারচেয়ে নিজেদের গভীর পর্যলোচনা করা উচিত। নিজেদের ভুল থেকে শিখে বর্তমানে অমুসলিম ও নাস্তিকদের সাথে একটা সন্ধিতে আসা উচিত।
    সেই সাথে উগ্র-ফ্যাসিষ্ট তালেবান, সোমালিয়ার আল-শাবাব এবং নাইজেরিয়ার বোকো হারামদের বয়কট করতে হবে। সামর্থ্য থাকলে তাদের দমন করতে হবে। ইসলামের দাওয়াত শান্তিপূর্ণ ভাবে চালাতে হবে। জোরাজুড়ি দূর আমরা কাউকে এই নিয়ে অহেতুক বিরক্তও করব না। একবার ইসলাম সমন্ধে জানিয়েছি তাতে কেউ মানলে ভাল আর যারা মানবে না আল্লাহ তাদের বিচার করবেন। এমন একটি আদর্শিক গণতন্ত্র দরকার যেখানে সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারি সেই কারণেই আমাদের মুসলমানদের সবার সাথে একটি সন্ধি করতে হবে।
    (ইসরাইল-ফিলিস্তিন)

    1. 13.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনি পোস্টটা ভাল করে পড়ুন। কি করতে হবে এইটা হলো উপসংহার -- যা পরের পোস্টের আলোচ্য। ধন্যবাদ।

    2. 13.2
      মুকিত

      ptstates
      আপনাদের কাছ থেকে জ্ঞান নেয়ার কোন দরকার নেই ইসলামের ।  ইসলাম একটা সম্পূর্ন জীবন বিধান ও অপরিবর্তনীয়, আল্লাহর এ বিধান পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। আমাদের নবিজী সেটা সম্পূর্ন করে দিয়ে গেছেন। কেয়ামত পর্যন্ত এ বিধানই চলবে। তালিবান খারাপ কোথায়? আমেরিকা আফগানিস্তান আক্রমন না করলে সে দেশ হতো দুনিয়ার একটা আদর্শ দেশ। ইসলাম না জেনে এসব কথা বলা উচিত নয়।

  3. 12
    আহমেদ শরীফ

    একদম সমস্যার মূলে চমৎকারভাবে ফোকাস করা হয়েছে। ঈমান ও আ'মালের, অর্থাৎ আল্লাহর আহকামাত ও নবী(সাঃ) এর পবিত্র সুন্নাহ, তথা দ্বীনের পথে ফিরে না আসা পর্যন্ত মুসলমানের রেহাই নেই, মানবজাতিরও মুক্তি নেই। জটিলতা বাড়ছে এর উল্টো চলার কারণে। দুনিয়ার লোভ আর মওতের ভয় পয়দা হয়ে এককালের শার্দূলসদৃশ মুসলিম জাতি আজ বেড়ালসদৃশ হয়ে গেছে। কামাই করে খাওয়ার জন্য আবার খেয়ে কামাই করতে থাকে _ এই দুষ্টচক্রে বিধর্মীদের মতো মুসলমানও আজ বন্দী। পথ একটাই, নিজেরা দ্বীনের দিকে ফিরে আসতে হবে পাশাপাশি সারা বিশ্বমানবের মুক্তির দিশারী হয়ে পথ দেখাতে হবে, মানবজাতির খাঁটি কল্যাণকামী হয়ে দ্বীনের ও মানুষের কল্যাণে ত্যাগী মানসিকতা গ্রহণ করে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। দুনিয়া হোলো 'শয়তানের দোকান' _ প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করতে গেলেই বাসুকি নাগপাশের মত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে হলাহল প্রয়োগে সংহার করতে চাইবে।

    1. 12.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      পথ একটাই, নিজেরা দ্বীনের দিকে ফিরে আসতে হবে --
       
      এইটাই হলো আসল কথা। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।  ্

  4. 11
    ফুয়াদ দীনহীন

    -লেখা একদম একটানে পড়েছি, সরল বর্ণনা। 

    1. 11.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ। 

  5. 10
    তামীম

    পড়া শুরু করার পর পুরো লেখাটা শেষ না করে থামতে পারিনি। 

    আজ যদি ভালভাবে লক্ষ্য করি একই দৃশ্য দেখবো – ইসলামের উপর আক্রমণকারীরা সামরিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সকল সেক্টরে সমানভাবে সক্রিয়। আর মুসলমানদের মাঝ থেকে একদল তাদের সাহায্যকারী – একদল সমর্থক হয়ে সমর্থন দিচ্ছে। লিবিয়ায় বোমা বর্ষণের সময় আমাদের কোন একটা দেশ বা নেতা এর নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনৈক্য আর ক্ষমতার লোভে মুসলমানদের নিজেদের মাঝের শত্রুতার সহযোগী হিসাবে তাদের বন্ধু বানাচ্ছি। একদল চেষ্টা করছে প্রতিরোধ করতে – তারা অন্যের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটু ভাল ভাবে দেখলে দেখবো নেতৃত্ব-হীন উদ্দেশ্যহীন হয়ে পুরো মুসলিম উম্মাহ একটা বিভ্রান্তির মধ্যে আছে। এই বিভ্রান্তির কারণে একদল হয়তো চরম পথ অনুসরণ করছে – আরেকদল নিজেদের লুটিয়ে দিচ্ছে বিপক্ষের পদতলে।

    মনের কথাটাই বলেছেন। 
     

  6. 9
    শাহবাজ নজরুল

    ইতিহাস বিবেচনায় ধারনা করছি আমাদের অপেক্ষা করতে হবে একদলের উত্থানের জন্যে – তারা কোথা থেকে আসবে – কিভাবে আসবে বলা সম্ভব নয়।

     
    হাদিসে এসেছে,

     "There will not cease to be a group from my Ummah manifestly upon the Haqq (Truth). The ones that abandon them will not harm them, until the Order of Allaah comes and they are like that (upon the Truth)."

    কিংবা

    "The example of my Ummah is like of rain. It is not known whether the initial part (of the rain) is good or the latter part."

     
    আপনার লেখাতে যাদু আছে। কখন পুরোটা শেষ হয়ে যায় বুঝিনা। এত কঠিন বিষয় কীভাবে এতো সহজ করে লিখেন? অসাধারণ বিশ্লেষণ!!! পরের পর্বের অপেক্ষাতে রইলাম।
     
     
     

    1. 9.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      অনেক ধন্যবাদ। 

  7. 8
    সাদাত

    হক আর বাতিলের সংঘাত চিরন্তন, আর এই সংঘাতে হকের বিজয় অনিবার্য।

  8. 7
    সরোয়ার

    বুদ হয়ে পড়োলাম। এক কথায় অসাধারণ।

  9. 6
    রাতুল

    ইসলামের কোর ভ্যালুজ থেকে সরে গিয়ে যদি কেউ ভোগবাদের কাছে আত্নসমর্পন করে – সে মুসলমান হলেও চলমান সংঘাত থেকে মুক্ত।………..চরম সত্যি কথা। তার সাথে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মূল পার্থক্যের জায়গাটা আর থাকলো কোথায়? সে আদৌ মুসলিম কিনা সে প্রশ্ন ও করা যেতে পারে। সে তখন সুবিধাবাদী পথ গ্রহণ করবে, এটা অবধারিত।
    আপনার লেখাটা অসম্ভব ভালো লেগেছে। আরও লিখতে থাকুন। 

  10. 5
    শামস

    ইসলামের কোর ভ্যালুজ থেকে সরে গিয়ে যদি কেউ ভোগবাদের কাছে আত্নসমর্পন করে – সে মুসলমান হলেও চলমান সংঘাত থেকে মুক্ত।

     
    এব্যাপারে পূর্ণ সহমত। ইসলামের সাথে এই যে সো কলড পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাত সেটাকে আমি মনে করি সঠিক করে বললে হবে "ইসলামের সাথে বস্তুবাদ তথা ভোগবাদ এর সংঘাত'. মানুষ হিসেবে মানবিকতার বাইরে আমরা কমবেশী সবাই বস্তুবাদী। ধর্ম এই বস্তুবাদ তথা ভোগবাদের লাগাম টেনে ধরতে চায়। কোন মুসলিম যখন ভোগবাদে ডুবে যায় তখন সে তা ধর্মকে না মেনেই করে। ভোগবাদের ধর্ম নেই। যদি তুলনামূলক ধর্মালোচনা করা হয় তাহলে ইসলামই সম্ভবত স্পষ্টভাবে ভোগবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মানবিকতার কথা বলে। যেমন সম্পদ কুক্ষিগত না করে, যাকাত দিতে বলে, সম্পদকে হালাল করে নাই যতক্ষণ পর্যন্ত স্বীকার করে নেয় যে তাতে গরীব দূঃখীদের শেয়ার আছে, প্রতিবেশী সমাজের প্রতি বাধ্যবাধকতাকে সুষ্পষ্ট করে ইত্যাদি। কোন অবিশ্বাসী যদি সম্পদ দান করে তবে তা সে কোন সনদ না মেনে করে, যদি বলা হয় মানবিকতার জন্য করে। কিন্তু আসল কথা হল সেই মানবিকতাকে সে সংজ্ঞায়িত করতে পারবে না। ম্যাস পপুলেশনের জন্য একটা সনদ দরকার, যা ধর্ম দিতে পারে, আর ইসলাম এব্যাপারে খুব স্পষ্ট। আর তাতেই দ্বন্দ্ব শুরু। অন্যসব ধর্মীয় বা রাজনৈতিক মতবাদ (চাইনীজ কমিউনিজমও!)  সর্বগ্রাসী ভোগবাদের কাছে নিজেদের শপে দিয়েছে। জীবণ বিধানের বিস্তৃত ও রিজিড রূপরেখা না থাকায় ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মগুলোর সাথে এই বস্তুবাদের দূরত্ব নামেমাত্র! পুজিবাদের আদলে বস্তুবাদ তথা ভোগবাদ সব মতবাদেই তার এলাইদের দ্বারা এর প্রসার ঘটিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমদের মধ্যেও সেই বন্ধুদের পাচ্ছে। কিন্ত সামান্য যা প্রতিবাদ তাও সেই কিছু মুসলিমদের থেকেই। প্রতিবাদকারীরা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার নতুন প্রতিবাদকারীদের জন্মও হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলিমরা সুবিধাজনক কোন অবস্থানে আসতে পারে নাই বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতার জন্য। ২০০১ সালের টুইন টাওয়ারের হামলার পর সংঘাতটা স্পষ্ট হয়। এটা বাস্তবজীবণ থেকে ভার্চুয়াল জগত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ভার্চুয়াল জগত যেই ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হওয়া শুরু করছে, সেই সময়ে বাঙ্গালী মুসলিমদের অনেকেই হঠাত আক্রমণে হতোদ্যম হয়ে পড়ে। ইসলামের কার্যকর ও বাস্তবধর্মী জ্ঞান না থাকায়  বিভ্রান্ত হচ্ছিল। সামান্য কিছু প্রতিরোধকারী ছিল, কিন্তু এটা প্রপাগান্ডাকারীদের তুলনায় কিছুই না। তবে ১০ বছরে পরিস্থিতি বদলেছে, হয়তো আরো বদলাবে। তবে এখনও ভাস্ট মেজরিটি মুসলিম না জেনেই ও বেখেয়াল হয়ে সেই ভোগবাদের ট্রাপে বিভ্রান্ত হচ্ছে। একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, আইডিওলজির দিক থেকে অন্য ধর্মীয় মতবাদ কিন্তু ইসলামকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছে না, যেটি জানাচ্ছে সেটি পুজিবাদী বস্তুবাদ তথা ভোগবাদ। মানুষের সহজাত বস্তুবাদী মোহের জন্য বলতে হবে চ্যালেঞ্জটা ভয়ানক!
    ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। পরের পর্বের অপেক্ষায়।
     

    1. 5.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      অনেক ধন্যবাদ আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্যে। 
      শুধু একটা বাক্য নিয়ে সামান্য আপত্তি জানাতে চাই -- 
       
      তবে এখন পর্যন্ত ইসলাম ও মুসলিমরা সুবিধাজনক কোন অবস্থানে আসতে পারে নাই বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতার জন্য 
      কথাটা বোধ হয় হবে -- বুদ্ধিবৃত্তিক নয় জ্ঞানের দৈন্যতা। অবশ্য পরের বাক্যগুলোতে ্আপনি সেই কথাগুলোই বলেছেন। 
      আবারো ধন্যবাদ। 

      1. 5.1.1
        শামস

        হ্যা সেটা সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারিনি। জ্ঞানের দৈন্যতাটা ওখানে ভাল খাটে। কিন্তু মনে রাখতে হবে জ্ঞান থাকলেও কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে সেটিকে প্রয়োগ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ, যার জন্য দরকার হিকমা।
        ভালো থাকুন, ধন্যবাদ।
         

        1. 5.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          অবশ্যই -- হেকমত হলো আল্লাহ একটা নেওয়ামত। 

  11. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    কোথাও থামি নাই। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। খুব প্রচণ্ড খুরধার লেখনি!!! আপনাকে আমার অভিবাদন জানান ছাড়া আর কিছু বলার নাই। আপনি আমার অভিবাদন গ্রহণ করুন!!!

  12. 3
    এস. এম. রায়হান

    আমু ব্লগের নাম-পরিচয়হীন নির্বোধ কাটমোল্লা এক্ষুণি আপনার পোস্ট ভিজিট করতে আসবে আর আমু ব্লগে যেয়ে বিভিন্ন পোস্টে অপ্রাসঙ্গিকভাবে 'ছাগালাপী' 'ছাগালাপী' বলে ল্যাদাবে। এই মুসলিম বিদ্বেষী কাপুরুষটা বাবা-মা'র দেয়া নাম নিয়ে গালি দেয়ার সাহস পায় না।

  13. 2
    মহিউদ্দিন

    সত্যিই আপনার লিখাটি একটি চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী লিখা হয়েছে। বিশেষ করে কালচারাল মুসলিমরা বা ট্র্যাডিশনাল মুসলিম নেতাদের যে ছবি তুলে ধরেছেন তা একেবারে সঠিক। ভোগবাদীর কাছে আত্নসর্ম্পন করে তারা ধ্বংসের দিকে দ্রুত ধাবমান হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নাই।
    মুসলিম বিশ্ব আজ এক ক্রস রোডে এসে দাঁড়িয়েছে যা মুসলিমদের জন্য এক অগ্নি পরীক্ষা বলা চলে। এ অবস্থায় নিজেদের মধ্যকার মত বিরোধ ভুলে গিয়ে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নাই।  রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ধর্মীয় সহ সকল পর্যায়ে সৎ ও সাহসী এবং সুস্থ চিন্তার নেতৃত্বের দরকার যা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর তা কখনও সম্ভব হবে না ভোগবাদীর কাছে আত্নসর্ম্পন  করলে এবং আমাদের কালচারাল মুসলিম বা ট্র্যাডিশনাল মুসলিম নেতাদের উপর নির্ভর করলে। জাগরণ আসতে হবে নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে। ইসলামকে নিছক একটি ধর্ম হিসাবে মনে না করে ইসলাম যে একটি জীবন ব্যবস্থা সে উপলব্ধি আগে আসতে হবে সবার মনে।
     
     

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ মহিউদ্দিন ভাই,
       
      আপনার মন্তব্য যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটা সারাংশ হিসাবে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বে এখন একমাত্র জীবনদর্শনই অবশিষ্ঠ আছে যা মানুষকে মানবিক ভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেয়। পশ্চিমে বসবাস করে এই বিষয়টা প্রকট ভাবে ধরা পড়ে। ইনশাল্লাহ আমাদের মাঝে এমন এক নেতৃত্ব আসবে যারা আবারও বিশ্বে ইসলামের পতাকা তুলে ধরবে। 

  14. 1
    এস. এম. রায়হান

    চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ। পরের লেখার অপেক্ষায়…

Comments have been disabled.