«

»

Nov ১০

৭১ এর গণহত্যা, পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনা আর কিছু প্রাসংগিক বিষয়

(১)

শুরু করি কিছু নিজের ঘটনা দিয়ে। দেশের বাইরে আসার পর যখন প্রথম স্বশরীরের কিছু পাকিস্তানী ক্লাসমেট পেলাম – সেই সময়ের অনুভুতি ছিলো মারাত্মক। পাকিস্তানীদের দেখলেই মাথায় রক্ত চড়ে যেতো। কিন্তু ওরা যেহেতু বুঝতো না – বুঝতে দিতাম না – তাই সব সময় ওরা ব্রাদার ব্রাদার করে ঘেষাঘেষি করতো। একসময় আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলাম – ৭১ নিয়ে ওরা কিভাবে? কিভাবে ৭১ মূল্যায়ন করে। 
 
খুবই দুঃখজনক হলো – ওরা যা জানে তা খুবই ভয়াবহ ইতিহাসের বিকৃতি। ওদের স্কুল কলেজে পড়ানো হয় – ১৯৭১ সালে ভারতের ষড়যন্ত্রে পাকিস্তান তাদের পূর্ব অংশ হারায়। ওদের ইতিহাস শিক্ষা মুলত ভারত বিদ্বেষ নির্ভর। সব বিষয়ে ভারতের দোষ – এই মনোভাব নিয়ে এরা বড় হয়।
 
যখনকার কথা বলছি – তখন ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তেমন দলিলপত্র ছিলো না – একদিন অনেক খোজাখুজি করে কিছু ছবি প্রিন্ট করে ওদের দিয়েছিলাম – তারপর থেকে ওদের বেশীর ভাগ আমাকে এড়িয়ে চলতো। 
 
(২)
 
পরবর্তীতে যখন কানাডা চলে আসি – তখন একই নেইবারহুডে পাকিস্তানীদের সাথে বসবাস থেকে শুরু করে সহকর্মী হিসাবে পাকিস্তানীদের পেয়ে যাই। যেহেতু ইতোমধ্যে পাকিদের ইতিহাস জ্ঞান সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারনা পেয়ে গেছি – তাই ওরা যখনই ব্রাদার ব্রাদার করে ঘেষাঘেষির চেষ্টা করতো – তখনই কয়েকটা প্রশ্ন ওদের করতাম –
 
প্রশ্নগুলো ছিলো – 
 
১) তুমি বাংলা জানো না কেন, ৭১ সাথে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ (৫৬%) বাংলাভাষী ছিলো, তুমি কেন বাংলা শিখোনি?
 
২) ভাইতো ভাগ হলো ভারতের ষড়যন্ত্রে – কিন্তু ভাই এর যে সম্পদ তোমরা রেখে দিলে – তা কি সঠিক হলো?
 
৩) যে সকল সৈন্য তোমাদের বাংলাদেশী বোনদের ধর্ষন করেছিলো – তাদের বিচার করা হলো না কেন?
 
এই তিনটা প্রশ্ন করার পর ব্রাদাররা আর ঘেষতো না। তার উপরে আছে পাকিস্তানীদের উর্দু বাতচিত – দেখামাত্রই "হাল ক্যায় হ্যায়?" – মহা বিরক্তিকর। এরা রীতিমতো তর্ক জুড়ে দেয় – কেন আমি উর্দু জানি না। কি সমস্যার কথা! সেই সমস্যা সমাধানে একটা পথ বের করেছি – পাকিস্তানী দেখলেই বাংলায় জিজ্ঞাসা করি – "শইলডা বালা?" পাকিস্তানী দোকানে গেলে বাংলায় জিজ্ঞাসা করি -ওই দোকানদার – ২% মিল্ক আছে? (ছেলে সাথে থাকলে হেসে মরে যায়) যারা দেশের বাইরে থাকেন আপনারও চেষ্টা করে দেখতে পারেন এই কৌশল – ওদের চেহারা যা হয় – দেখার মতো বটে!
 
(৩) 
 
এতোক্ষন যা বললাম – তাতে আশা করি অনেকে ধারনা করতে পারছেন যে – ৭১ এর গণহত্যা আর ধর্ষনসহ যে যুদ্ধাপরাধ করেছে পাকিস্তানী বাহিনী তার জন্যে ক্ষমা চাওয়ার মতো সামাজিক শিক্ষা বা বোধ এখনও পাকিস্তানে জন্ম নেয়নি। ১৯৭৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে সিমলায় যে চুক্তি হয় তাতে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধত্তোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যে সকল বিষয় একমত হয়েছিলো – তারমধ্যে ছিলো -বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দীর প্রত্যবর্তন। সেই সুবাদে ভারত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে দিল্লীতে একটা সমঝোতা স্বাক্ষর করে – সেখানে বাংলাদেশের শর্ত ছিলো – পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে এসে ৭১ এর অপরাধের জন্যে বাংলাদেশের জনগনের কাছে ক্ষমা চাইবে এবং পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙ্গালীদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকি-যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কোন ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু পাকিস্তান কখনই সেই কাঙ্খিত ক্ষমা চায়নি। 
 
(৪)
 
পাকিস্তান কখনই ক্ষমা চাইবে না। কারন সেইটা তাদের জাতীয় চরিত্রের মধ্যে পড়ে না। ওরা ৭১ থেকে আজও যাদের দ্বারা শাসিত – সেই সেনাবাহিনীর অফিসারদের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার মতো রাজনৈতিক, সামাজিক এবং নৈতিক বোধের চরম অভাব আছে সেই দেশটিতে। এখনও পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বেলুচিস্থানে এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গণহত্যা, ধর্ষন চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং যারা আশা করেছিলো বা করছেন পাকিস্তান কখনও বাংলাদেশের গণহত্যার জন্যে ক্ষমা চাইবে – তারা চরম ভুলের মধ্যে বসবাস করছেন। তাই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলে – অতীত ভুলে যাও – তখন অবাক হই না – কারন হয় সে মূর্খ অথবা অতীত নিয়ে বিব্রত। কে চায় তাদের লজ্জাকর অতীত মনে রাখতে! কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে সেই অতীত যেমনটা কষ্টের – তেমনি গৌরবের – তাকে ভুলে যাওয়ার মতো কথা বলতে পারে শুধু মাত্র পাকিস্তানীরাই।
 
 
(৫)
 
আমরাও একটা সময় চরম বিপথগামী হওয়ার পথে ছিলাম। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা আর জেল হত্যার পর মুলত পাকিপন্থীরা ক্ষমতায় এসে বিকৃত ভাবে (অনেকটা পাকিস্তানী স্টাইলে) শর্টকাট একটা ইতিহাসের ভার্ষান আমাদের প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা শুরু করেছিলো। সেখান মুক্তিযুদ্ধের মুল শ্লোগান "জয় বাংলা" প্রতিস্থাপন করা হয়েছিলো "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" (পাকিস্তান জিন্দাবাদের আদলে) আর মুক্তিযুদ্ধে মহানায়কদের (বিশেষ করে প্রবাসী সরকারের বিষয়টি পুরোপুরি আড়াল করে) বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের গণকবরগুলো তখনও মাটিতে পুরোপুরি মিশে যায়নি – মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী এবং লঞ্ছিত অপমানিত মা-বোনারা তখনও ঘরে ঘরে লজ্জিত জীবন যাপন করছিলো – তাই নতুন প্রজন্ম এই বিকৃত ইতিহাসকে বর্জন করলো। যদিও তাদের মধ্যে একটা অংশ বিপথগামী হয়েই রইল। সেই কারনে আজও দেখি গোলাম আজমের মতো একটা কুখ্যাত গণহত্যার হোতাকে রক্ষার জন্যে একদল তরুণ রাস্তায় পুলিশ পেটায়। তবে সৌভাগ্যের বিষয় হলো – এদের সংখ্যা খুবই নগন্য – প্রকৃত ইতিহাস জানা প্রজন্মের পাল্লা ভারী হওয়াই চল্লিশ বছর পর কুখ্যাত গণহত্যাকারীদের আমরা আদালতের কাঠগড়ায় দেখছি। 
 
(৬)
 
শেষ কথা হলো – পাকিস্তান নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। নিজেদের পাপেই নিজেরা ভারাক্রান্ত্র। ইসলামের কথা বলে – মুসলিমদের আবাসস্থল হিসাবে জন্ম নেওয়া দেশে প্রতি শুক্রবারে বোমাবাজি হয়। সেনাবাহিনীর প্রবল প্রভাবে দেশের মানুষ একরম নপুংষক হয়ে বেঁচে আছে। জংগীবাদ, উগ্রপন্থীদের পাশাপাশি ড্রাগ স্মাগলিংএর স্বর্গরাজ্য একন পাকিস্তান। পাকিস্তানের মানুষের অহংকার ছিলো ক্রিকেট – তা আজ তাদের জন্যে লজ্জার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও দেখেছি প্রবাসী পাকিস্তানীরা মাথা উঁচু করে অহংকারী ভংগীতে কথা বলতো বাঙালীদের সাথে – এখন ওরা আমাদের দেখলে মাথা নীচু করে রাখে – পারতপক্ষে তর্ক করে না। সাধারন ভাবে পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন এবং একটা স্থিতিশীল দেশের সস্ভাবনায় খুবই হতাশ। এক সময় পাকিস্তানীদের একদল স্বপ্ন দেখতো – একদিন বাংলাদেশের মানুষ "ভুল বুঝতে" পারবে এবং ভাই ভাই এক হয়ে যাবে। এখন যদি জিজ্ঞাসা করা হয় – ওরা লজ্জিত ভংগীতে হেসে বলে – "কি জন্যে তোমরা আমাদের সাথে আসবে!" 
 
পাকিস্তানীরা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বরে – কিন্তু নৈতিক ভাবে পরাজিত হওয়ার আর একটু বাকী আছে – আশা করা যায় – সেই পরাজয় তারা মেনে নেবে অচিরেই। কিন্তু বাংলাদেশের ভিতরে যে পাকি-মনোভাবের একটা প্রজন্ম আছে – যারা এখনও বাংলাদেশের জন্মের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ – মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের জন্যে কি এনে দিয়েছে – তা বুঝতে অপরাগ – সেই পাকি-মানসিকতার লোকজনকে নিয়ে বাংলাদেশকে আরেকটু ভুগতে হবে। অবশ্যই এরাও পরাজিত হবে – যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে এদের পতন শুরু হবে – শেষ হবে নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া দেশের স্বকীয়তা আর স্বাধীনতার গুরুত্ব উপলদ্ধির মাধ্যমে।

৪৭ comments

Skip to comment form

  1. 14
    omorfarukmeghna@gmail.com

    উপরের আলোচনায় অনেক ত্যানাপেচানি দেখলাম। ইনিয়ে বিনিয়ে বাঁশের কেল্লার মত মিথ্যাচার। কিছু বিষয় নিয়ে সরাসরি বলতে চাই-

    ১। পাকিস্তান নামের নাপাক ব্যর্থ রাষ্ট্রকে ঘৃণা করতে ১৯৭১ ই যথেষ্ট। যাদের যথেষ্ট মনে হয় না তারা তাদের মা-বোনকে তাঁদের ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিতে পারেন।

    ২। পাকিস্তানকে ইসলামি বা মুসলিম দেশ বলার কোন কারণ নেই। যেই দেশে মাসজিদে বোমা হামলা নিত্যকার ঘটনা, ঈদের সালাতেও যেখানে বোমা মারা হয় এবং দেশের সংবাদ মাধ্যম- নিরাপত্তা বাহিনী- জনসাধারণ তারপরেও নিরুত্তাপ, কোন পরিবর্তন আনে না বরং হামলাকারীদের পক্ষেই বড় একটা সমর্থন দেয়- তারা মুসলিম তো দূরের কথা-মানুষই না। পাকিস্তান মুসলিম উম্মার জন্য লজ্জার না। কর্কট ব্যাধির নাম।

    ৩। যুদ্ধাপরাধীর বিষয় নিয়েও তেনাপেচানি দেখলাম। জামাত হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীর গো-ডাউন। বাকি সব দলেও আছে। কিন্তু নিউক্লিয়াস হচ্ছে জামাত। কাজেই ট্রাইবুনালের সব থেকে বড় কোপ জামাতের উপরে পড়বেই। আর ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রাক্তন এমপির ফাঁসির আদেশ হয়েছে যুদ্ধাপরাধ মামলায়। এটা অনেকে গোপন করে যারা লম্পট ভণ্ড সাইদিকে চাঁদে দেখে। যাদের বিচার হচ্ছে তাদের ১ জন ও নিরাপরাধ কিনা জিজ্ঞেস করলে উপরের অনেকেই আবার ত্যানাপেচানি শুরু করে। যাদের গ্রেফতার করা হয় নি- তাদের করা হবে। যাদের বিচার হচ্ছে- তারা নিরাপরাধ কিনা বলেন।

    ৪। ভারত নামের রাষ্ট্রের প্রতি অনেকের মত আমারো এলার্জি আছে। কিন্তু এটা পাকিস্তান বিদ্বেষকে ব্যালান্স করার জন্য না। পরিষ্কার কথা। ভারত বন্ধু- শত্রু হবে আমার দেশের স্বার্থেই। পাকিদের সাথে তার শত্রুতা- প্রেম আমার কাছে বিবেচ্য নয়।

    ৫। লীগ যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেছে এবং ভালোভাবেই করছে মাশা আল্লাহ। ৯৬ এ এই মুনাফিক রাজাকারদের সাথে এক টেবিলে বসে যে পাপ করেছিল তার মোচন করছে। লীগ ছাড়া অন্য কোন দল করছেনা। যদি করে সমর্থন পাবে। সোজা হিসাব।

    ৬। এই দেশে হিন্দির আগ্রাসন নিয়ে কথা বলতে গেলে আগের নিজে কতটুকু বাঙালী সেটা প্রমাণ করতে হবে। জামাত-শিবিরের  মুখে হিন্দি আগ্রাসন নিয়ে শোনা শিয়ালের মুরগী-প্রেমের মত।

    ৭। পশ্চিম পাকিস্তানীরা ১৯৭১ এ এসে যুদ্ধে করেনি- এইসব বলে সাফাই গাওয়া রামছাগল কিংবা মূর্খের পক্ষেই সম্ভব। সারা দুনিয়ার সবাই জানতো এখানে গণহত্যা হচ্ছে তার তেনারা জানতেন না !!! না জানার ভান করে আর কত ?

  2. 13
    সরোয়ার

    একটা ছেলে যখন বল নিয়ে দৌড়ানোর সময় — তখন সে দৌড়াছে জীবন বাঁচানোর জন্যে — তাকে কি কারো কাছে ইতিহাসের জন্যে হাত পাততে হয়।  যে তার বাবার লাশের জন্যে নদীর তীরে দাড়িয়ে লাশ পর্যবেক্ষন করেছে — যে গনকবরের লাশ সনাক্ত করার জন্যে প্রচন্ড দুর্গন্ধ সহ্য করা গভীর আগ্রহের গলিত লাশগুলোর দিকে তাকিয়েছিলো — তার কি কোন ইতিহাস পড়ার দরকার্ আছে।

    -- খুবই মর্মান্তিক। ইসলামের দোহাই দিয়ে যারা এসব জাস্টিফাই করতে চায়, তাদেরকে অসুস্থ মনে হয়।

  3. 12
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    আলোচ্য লেখাটি পড়ে মনে হয়েছে আসম জিয়াউদ্দিন সাহেব সাধারণভাবে পাকিস্থানীদের ‘দাদাগিরি এটিটুড’ –এর বিরুদ্ধে বলতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে অনেক সময় মনে হয়েছে, এই ‘এটিটুড’ ইস্যু দু’টি দেশকে শেষ পর্যন্ত কখনো একসাথে রাখতে পারতো না। ইউটিউবে জুলফিকার আলী ভুট্টোর কিছু ভাষণ শুনলে ব্যাপারটি অনেক পরিস্কার হবে।

    এটিতো সত্য যে সাধারণ পশ্চিম পাকিস্থানী জনগণ তখন বাংলাদেশে এসে যুদ্ধ করেনি। এটিও সত্য যে পাকিস্থানী আর্মিরা বাংলাদেশে কি আচরণ করছে সেটি তাদেরকে তখন জানতে দেওয়া হয়নি। ইন্টারনেটে তথ্য, হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্ট, এসবের কারণে এখন তারা অনেক কিছু জানছে, জানে।
    আজ হোক, কাল হোক তারা রেকগনাইজ করবে, একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তান ছিল জালিমের ভূমিকায়- আর ক্ষমা জালিমকেই চাইতে হবে। নিষ্ঠুর, অন্যায় কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইবে না, অথচ আমরা মজলুমকেই ক্ষমা করে দিতে বলবো- এতটা হৃদয়হীন হতে হবে কেন?

    বাপ-চাচারা যখন সম্পত্তি ভাগাভাগি করে আলাদা হয়ে যায়, তখন হয়তো বড় চাচার পাতে রুই মাছের মাথা তুলে দিতে দিতে বড় চাচী আঁচল টেনে হাসি চেপে বলে- শুনেচো… ছোটজনের ছেলে গাবলু এবারো ক্লাস এইটে উঠতে পারেনি। ওদিকে বড়জনের ছেলে হাবলুটাও যে ম্যাট্রিক এবার নিয়ে তিনবার দেবে সেটা উহ্য থাকে। কিন্তু এসবের পরেও ‘চাচারা মেরেও খায়, আবার ফিরেও চায়’, প্রাচীন এই আপ্তবাক্য তো আর মিথ্যা হয়ে যায় না। যেকোন মৃত্যু মানুষকে স্তব্ধ করে। কোন মানুষ পাকিস্থানে মসজিদের বোমায় নিরীহ মুসল্লিদের মৃত্যুতে উল্লসিত হবেন- এমনটি মনে হয় না।

    এম আহমদ সাহেবের ‘মেজাজের স্ফুটনাঙ্ক তাপমাত্রা’ (আবেগাঙ্ক) সদালাপের পাঠক-লেখক এভারেজের চেয়ে কম। ইসলামের বিরুদ্ধে চারিদিকের সম্মিলিত আক্রমণের মধ্যে আমরা যখন মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে চাইছি, তখন তিনি পুরো সদালাপের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই একে “মূর্খ” বলছেন, তাকে বলছেন “আপনার মত লোকজন নিরাশা নিয়েই বাঁচতে হবে”, আরেকজনকে বলছেন “আর না হলে, আমার serious কোন প্রসঙ্গে কখনো মন্তব্য করতে যাবেন না”। তবে বটম লাইনে তিনি স্থিরধী হয়ে সঠিক কথাটি পরিস্কার করে বলেছেন- “আমার আবেগ ইসলামকে কেন্দ্র করেই। ভুল-শুদ্ধ এই কেন্দ্রেই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যে মূল্য কবর অতিক্রম করবে সেটাই প্রকৃত মূল্য।

    সদালাপে আমরা অন্তর থেকে চাইনা কোন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, দেশ, বা জাতির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে। নিজের ‘মা’-কে ভাল বলতে, অন্যের মা-কে নিন্দা করতে হয়না। সদালাপেও যদি আমরা মন খুলে কথা না বলতে পারি, তাহলে আর কোথায় পারবো; একইসাথে সদালাপেও যদি কারো লেখার বিরুদ্ধে  নির্দ্ধিধায়, নিঃসঙ্কচিত্তে লিখতে না পারি, তাহলে আর কোথায় পারবো?

    ধন্যবাদ। সম্পাদক, সদালাপ।

    1. 12.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      "আলোচ্য লেখাটি পড়ে মনে হয়েছে আসম জিয়াউদ্দিন সাহেব সাধারণভাবে পাকিস্থানীদের ‘দাদাগিরি এটিটুড’ –এর বিরুদ্ধে বলতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে অনেক সময় মনে হয়েছে, এই ‘এটিটুড’ ইস্যু দু’টি দেশকে শেষ পর্যন্ত কখনো একসাথে রাখতে পারতো না। ইউটিউবে জুলফিকার আলী ভুট্টোর কিছু ভাষণ শুনলে ব্যাপারটি অনেক পরিস্কার হবে।

      -- সম্পাদকের কাছ থেকে এমন একটা নোটের পর লেখক হিসাবে একজন কতটা আত্নবিশ্বাস ফিরে পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যা বলতে চেয়েছি -- তার মধ্যে পাকিস্তানীদের প্রতি ঘৃনার প্রকাশ হয়েছে বলে মনে হচ্ছিলো না। কিন্তু আলোচ্য মন্তব্যকারী পুরোপরি প্রিকনসিভড একটা দৃষ্টিকোন থেকে আমাকে আক্রমন করেছেন। যা উনি নিজেই বলেছে উনার মন্তব্যে -- 

       আগে অনেকবার চেয়েছি, অনেক কথা আমার দারুণ দৃষ্টি-কটু লেগেছে, তারপর সরে গিয়েছি, কিছু বলা হয়নি। আজকে বরং বলেই ফেললাম।

       
      যাই হোক অবশেষে উনি ব্যক্তি আক্রমন হয়েছে এমন কথাগুলো "উইথড্র" করেছেন। ধন্যবাদ জানাই। 
       
      শেষ কথা হলো --  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্যে "নাস্তিক শাহরিয়ার কবির" বা "আম্বালীগ" এর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। একটা ছেলে যখন বল নিয়ে দৌড়ানোর সময় -- তখন সে দৌড়াছে জীবন বাঁচানোর জন্যে -- তাকে কি কারো কাছে ইতিহাসের জন্যে হাত পাততে হয়।  যে তার বাবার লাশের জন্যে নদীর তীরে দাড়িয়ে লাশ পর্যবেক্ষন করেছে -- যে গনকবরের লাশ সনাক্ত করার জন্যে প্রচন্ড দুর্গন্ধ সহ্য করা গভীর আগ্রহের গলিত লাশগুলোর দিকে তাকিয়েছিলো -- তার কি কোন ইতিহাস পড়ার দরকার্ আছে। 
       
      দুর্ভাগ্য মাত্র একটা জেনারেশন পরই আমাকে তীর্যক বাক্যবানে জর্জরিত হতে হচ্ছে ইতিহাস নিয়ে। বাঙলাদেশের যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে তারা কিন্তু সিভিলিয়ানই ছিলো। সিভিলিয়ান বলে তাদের রেহাই দেওয়া হয়নি। তারপরও কারো প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ পোষন করি না। সে পাকিস্তানী বা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের সমর্থকই হোক। কিন্তু বিচারের দাবী থেকে আমাকে বিরত রাখার চেস্টা মেনে নেওয়া কঠিন। যারা এখনও "ভুলে যাও ৭১" বলার ধৃষ্টতা দেখায় -- তাদের প্রতি ঘৃণা পোষন করার মধ্যে অমানবিক কোন কিছু দেখি না -- বরঞ্চ যারা পশুত্বকে মানবতার আড়ালে লুকাতে চায় -- তাদের বরি অমানবিক। ৭১ এ পাকিস্তানী বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর আরআল শাসম বাহিনী কৃতকর্মকে যারা আড়াল করতে চায় ইসলামের শান্তির বানীর আড়ালে -- আমি তাদের মুখোশটা খুলে দিতে চাই। যারা ইসলামের নামে "পাকিস্তানের অখন্ততাকে ইসলাম অস্তিত্বের সাথে মিশিয়ে"গনহত্যা, ধর্ষন লুটপাটকে জায়েজ মনে করে -- তার জন্যে সামান্য অনুকম্পা বা লজ্জা বোধ করে না -- তাদের ইসলামের শত্রু বলতে কোন দ্বিধা বোধ করি না। 
       
      সদালাপ নিয়ে অনলাইনে অনেক কটুকথা শুনা যায় -আর যদি সদালাপ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃত বিতর্কের স্থান হয় -- তা হবে সদালাপের শত্রুদের জন্যে মোক্ষম সুযোগ। আশা করি সদালাপ মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে ইসলামের নামে যারা একটা লজ্জাজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছিলো -- সেই বিষয়ে সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবে। সত্যকে সত্য বলে মানার মধ্যে কোন অপমান বা নীচুতা নেই -- নীচুতা হলো সত্যকে মিথ্যার আড়ালো লুকানোর চেষ্টা করা। জামায়াত-শিবির গত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশে সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে দেবার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে -- আবারো বলছি -- জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের তাকওয়া নিয়ে কোন বিচার করার মতো মূর্খতা যে আমাকে না পেয়ে বসে। কিন্তু জামায়াত -- শিবির যে ভন্ডের দল তা বলার জন্যে কোন জটিল গবেষনার দরকার নেই বলেই মনে করি। যেমন -- নারী নেতৃত্ব হারাম ফতোয়া জামাতের নেতাদের মুখেই শুনেছে বাংলাদেশের মানুষ আর তারাই দেখেছে জামায়াত কিভাবে নারী নেতৃত্বের কাছে নিজেদের সমর্পন করছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বুয়েটের গ্রেফতারকৃত শিবির নেতার কম্পিটারের হার্ড ডিস্কের ৭০% পর্নগ্রাফীতে ভরে আছে -- আর ২ গিগা ভরা আছে কোরানের অডিও এবং ভিডিও ফাইল। জামায়াতের ভন্ডামীর যদি বিস্তারিত প্রমান দিতে হয় -- তাহলে প্রস্তুত আছি। এই পোস্টে আর কোন বিতর্ক না হোক -- সেই আশাই করছি। 

    2. 12.2
      শামস

      বেশ কয়েকদিন নেট থেকে একেবারে বাইরে ছিলাম। এখন সদালাপে ঢুকেই কিছু মন্তব্য দেখেই মনে হল খুব গরম অবস্থা। এডমিনকে এই নোটটার জন্য ধন্যবাদ। এই নোটটার দরকার ছিল।
       

    3. 12.3
      এম_আহমদ

       
      @ এডমিন।
      আপনার লেখায় ধৈর্নিয নিয়ে যে কমেন্ট এসেছে তার আলোকে দুটি কথা বলতে চাচ্ছি। নাস্তিকদের পেস্টারিং মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ‘মূর্খ’ শব্দটি অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে দেখছি এবং আপনিও দেখে থাকবেন। এই শব্দ না হলেও অন্য মাত্রার শব্দ প্রতিপক্ষকেও ব্যবহার করতে দেখবেন। ধৈর্য মাপার জন্য আপনি হয়ত কোনো ব্লগারের অসংখ্য মন্তব্যের রেঞ্জ ও ব্লগ-প্রকৃতি থেকে বিভিন্নভাবে সাজাতে পারেন এবং বিভিন্ন মাত্রাও পেতে পারেন। আমি ধৈর্যের সাথে আপনাদের ব্লগে অনেক অবদান রেখেছি। নিজের ব্লগ ছাড়াও সম্ভবত হাজারেরও ঊর্ধ্বে মন্তব্য দিয়েছি, সেগুলোর ধৈর্য, মান, ও শ্রমের ধৈর্যও দেখা যেতে পারে। অসংখ্য বিষয়ে অসংখ্য উত্তর দিয়েছি। সদালাপে  অনেক পাঠকে আহবান করেছি। ধৈর্যের সাথে অনেকের ব্লগে গিয়ে মন্তব্য করেছি, কোথাও কোথাও রেফ্রেন্সিয়াল মন্তব্য করেছি। সেগুলো থেকেও উদাহরণ এনে ধৈর্য প্রমাণ করা যেতে পারে। আবার অনেকের ব্লগে মন্তব্য করতে সচেষ্ট থেকেছি যাতে করে অন্যান্য ব্লগের মোকাবেলায় সদালাপের মান উন্নয়ন হতে পারে। 
      অনেক ধর্মীয় বিদ্বেষী কথা বার্তা দেখেছি। সবাইকে ঐক্যের কথা বলেছি। কেউ কোন দল ভাল, কোন দল best এমন কথা বললে, আমি বলেছি ‘আমাদের সবটিই best’. নানান বিভেদের মন্তব্য এসেছে তবুও সবাইকে ঐক্যের কথা বলেছি। যেকোনো মূল্য ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখতে বলেছি। ধৈর্য এগুলোতেও দেখা যেতে পারে। ধন্যবাদ। 

  4. 11
    সাদাত

    এম আহমদ ভাইয়ের মন্তব্যটা আমাকে হতাশ করলো। এমন মন্তব্য আমি সদালাপে একদম আশা করি নাই, আর উনার কাছ থেকেও নয়।

    1. 11.1
      এম_আহমদ

      অনেক প্রশ্ন করা যাবে। সংক্ষেপে করলে উওত্তরের জন্য সুবিধা হবে।
      আপনি নিচের বিষয়ে কি ধারণা পোষণ করেন? 
       
      (১) আপনি কি পাকিস্তানী বিদ্বেষ সমর্থন করেন?  
      (২) পাকিস্তানীদেরকে দেখলে কি আপনার মাথা গরম ওঠে? 
      (৩) আপনি একাত্তরের জন্য পাকিস্তানের সিভিলিয়ানদের দায়ী করেন? 
      (৪) জামাতের লাখ লাখ লোককে কি আপনি ভণ্ড, মুনাফিক মরে করেন? 
      (৫) কোন পাকিস্তানী আপনার দিকে ভাই ভাই বলে আসলে আপনি কি তাকে অবজ্ঞা করেন? 
      (৬) আপনি কি পাকিস্তানের দুদর্শার জন্য খুশী? 
      (৭) পাকিস্তানে প্রতি জুমাবারে কি বোমা ফোটে? 
      এগুলোর সাথে ইসলামের কোন কোন ধরণের সম্পর্ক কাজ করে তার আলোকে আমার মন্তব্য কিভাবে নিরাশ করে সেটা বলবেন। 

      1. 11.1.1
        সাদাত

        ১. না, ২. না, ৩. না, ৪. না, ৫. না, ৬. না, ৭. জানি না।

        তবে আমার আর জিয়া ভাইয়ের ব্যাপার এক না। একাত্তরে তিনি তার বাবা হারিয়েছেন, মাকে নিগৃহীত হতে দেথেছেন; আমি তখনও জন্মই নেইনি আর এমন কোন বড় ধরণের কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীণ আমাকে হতে হয় নাই। কাজেই এই লেখায় পাকিস্তানিদের প্রতি জিয়া ভাইয়ের আক্রোশকে আমি সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই দেখেছি।

        আপনি জিয়া ভাইয়ের লেখার প্রতিটি বাক্য বা শব্দের ব্যাপারে প্রতিবাদ করুন, সেটা কোন সমস্যা না। সমস্যা হলো আপনি ক্রমাগতভাবে ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন। আপনি আপনার বক্তব্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন করলে একটা গঠনশীল বিতর্ক হতে পারতো, কিন্তু আপনার মন্তব্যের পরে সেইরকম আলোচনা বা বিতর্কের কোন পরিবেশ বজায় আছে বলে মনে হচ্ছে না।

      2. 11.1.2
        এস. এম. রায়হান

        জিয়া ভাইকে উদ্দেশ্য করে ব্যক্তি আক্রমণাত্মক কথাগুলো যেহেতু প্রত্যাহার করেছেন, যদিও উনার লেখায় কোন রকম ব্যক্তি আক্রমণ ছিল না, সেহেতু এ নিয়ে আমার আর কিছু বলার নাই।
         
        এবার স্বাভাবিক কিছু আলোচনায় আসা যাক। আপনি উপরে সাদাত ভাইকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছেন এবং উনি সবগুলো প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন, যদিও এই ধরণের প্রশ্ন কাঙ্খিত ছিল না। এই সূত্র ধরে আমিও আপনার প্রতি আপাতত তিনটি প্রশ্ন রাখছি:
         
        ১। পাকিস্তান বলতে ১৬-১৮ কোটি জনগণের একটি দেশকে বুঝানো হয়। আপনি কি মনে করেন এই ১৬-১৮ কোটি জনগণের সবাই ধোয়া তুলসি পাতা?
         
        ২। আপনি কি মনে করেন পাকিস্তানের সমালোচনা করার মতো কিছুই নাই?
         
        ৩। ৭১-এর গণহত্যা ইস্যুতে বাংলাদেশের উচিত পাকিস্তানকে আগে ক্ষমা করে দেয়া নাকি পাকিস্তানেরই উচিত বাংলাদেশের প্রতি আগে ক্ষমা চাওয়া?

        1. 11.1.2.1
          এম_আহমদ

           
          [১] প্রথম প্রশ্নের মানি কি তা ভাল করে বুঝিনি। তবে পাপ জাতীয় কিছু হলে তো এই দুনিয়ায় কেউ তুলসী পাতা নন। সেখানে তো হত্যা রাহাজানিসহ কত পাপ কাজ হয়। তবে যদি একাত্তরের হত্যা কেন্দ্রিক প্রশ্ন হয় তবে পাকিস্তানে এখনও আর্মীর লোক জীবিত রয়েছেন যারা আইনুগ দৃষ্টিতে মুক্তি পেলেও নৈতিক দৃষ্টিতে তুলসী পাতা নন। তবে আমি অগ্রসর হয়ে আরও বলব যে সিভিল সার্ভিসে কর্মরত যারা একাত্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিল তাদের ব্যাপারেও আপনার প্রশ্ন বর্ধিত করা যেতে পারে। তারা নিশ্চয় তুলসী পাতা নন; দুনিয়ার বিচারে কিছু না করা গেলেও তাদের সেই intelligence এর কারণে কাল কিয়ামতে জবাবদিহি করতে হবে।  
           
          [২] অবশ্যই আছে। যেকোন দেশ নিয়ে।
           
          [৩] এখানে যে অর্ডার দিয়েছেন তা সিফফীনের ন্যায় লাগছে। যৌথ আলোচনা ও প্রোসেসের [এগুলো তো প্রোসেস ছাড়া হবেই না] পর যখন পাবলিক সম্পূখে আসবে তখন অবশ্যই পাকিস্তান আগে আসতে হবে। 

  5. 10
    সরোয়ার

    নানা কারণে ব্যস্ত থাকায় সদালাপে আগের মত আসতে পারি না। এই পোষ্টে জিয়া ভাইকে ব্যক্তিগত আক্রমন দেখে অবাক হলাম। জামাত ইসলামকে রিপ্রেজেন্ট করে না। সত্যিকারের মুসলিম অবশ্যই ৭১-এ জঘণ্য ও ঘৃণীত অপরাধের জন্য দুঃখবোধ করতে বাধ্য এবং অপধাধীদের বিচার চাওয়া ঈমানী দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জিয়া ভাই, দয়া করে আপনি বিচলিত হবে না। জামাতি দলের লোকজনের কাছে ইসলামের চেয়ে ক্ষমতা বড়। আপনি তাই যথার্থ বলেছেন-

    এরা ইসলামের কথা বলে — কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে একটাও ইসলামী ইস্য নিয়ে আলোচনা করে না — আমেরিকা ইরাক আক্রমনে এরা বিচলিত না — আফগানিস্তানে বোমাপড়লে এরা নিরব হয়ে যায়।

    জামায়াত হলো ইসলাম বিরোধীদের তৈরী একটা সংগঠন — যখন আমেরিকা গ্লোবাল ওয়ার অন টেররের নামে মুসলামদের জীবন অতিষ্ট করে তুলছিলো — তখন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূত জামায়াতকে মিত্র হিসাবে প্রচারে জন্যে তাদের মঞ্চে গিয়ে বসে — মডারেট মুসলিম দল হিসাবে সনদ দেয়।

    আমি  দেশের কিছু জামাতের একনিষ্ঠ কর্মীদের দেখেছি যাদের বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্থানের প্রতি দরদ বেশী। তারা অন্যায় তো স্বীকার করবেই না, ববং যারা অন্যায়ের বিচার চায় তাদেরকে ইসলামের শত্রু বানিয়ে দেয়! আপনার অভিমতের সাথে একমত প্রকাশ করছি-

    জামায়াতে ইসলাম সম্পর্কে পরিষ্কার যে কথাগুলো বুঝি — তা হলো জামায়াতের নেতাকর্মীরা কতটা ভাল মুসলিম — কতটা খারাপ মুসলিম — তা বলার মতো বা বিচারের ধৃষ্টতা আমার নেই। অনেকেই হয়তো অনেক ভাল মুসলিম — কিন্তু দল হিসাবে জামায়াত একটা ভন্ডের দল। এরা ইসলামের নামে একটা সংগঠনকরে — যেখানে কোমলমতি শিশুদের ধরে এনে মগজ ধোলাই করে — বিশেষ করে দারিদ্রতাকে ব্যবহার করে এরা শিশু বয়সেরই বাচ্চাতে টার্গেট করে কর্মী হিসাবে। যখন এ্ই কর্মীরা বড় হয় তখন তাদের বিচার বোধ থাকে না — ইসলাম আর গোলাম আযমকে এক করে ফেলে। ইসলাম রক্ষা আর সাইদী রক্ষা এক করে ফেলে। দল হিসাবে এরা ইসলামের কথা বললেও এই পর্যণ্ত রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি আর চতুরতা ছাড়া আর কিছুই দেখায়নি।

    আপনার ব্যক্তব্যের সারাংশের সাথে সহমত পোষণ করছি-

    জামায়াত মুলত বাংলাদেশে ইসলাম প্রসারে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে ৭১ এ তাতের ভুমিকা এবং তার উপর অবিচল থাকায় — ইসলাম সম্পর্কে একটা নেতিবাচক চিত্র আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে ফুটে উঠছে। বিশেষ করে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে বিরোধীদের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে জামাত। এরা নিজের দেশে মা বোনের ধর্ষনের জন্যে সামান্য দু;খপ্রকাশ করা মতো সভ্যতা অর্জন করতে পারেনি — কিন্তু মুখে ইসলামের মহান বানী প্রচার করে। এইটা মানুষের কাছে কৌতুকের মতোই মনে হয়।

    1. 10.1
      এম_আহমদ

      জামাত ইসলামকে রিপ্রেজেন্ট করে না।

       
      এটা কি বাংলাদেশ তবলীগ জামাতের সিদ্ধান্ত? 

      1. 10.1.1
        এম_আহমদ

        অর্থাৎ সেন্ট্রাল শুরার সিদ্ধান্ত? 

    2. 10.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       
      সারোয়ার 
       
      ধন্যবাদ। 
       
      দিনশেষে পাঠকরাই সবচেয়ে বড় বিচারক -- সেইটাই আশার কথা। 

      1. 10.2.1
        এম_আহমদ

        আপনার উত্তর বুঝি নি। আপনি বলেছিলেন, 'জামাত ইসলামকে রিপ্রেজেন্ট করে না'। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, এটা কি বাংলাদেশ তবলীগ জামাতের  সেন্ট্রাল শুরার সিদ্ধান্ত?

  6. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সবাইকে ধন্যবাদ। আমার মনে হয় আমি ঠিকমতো আমার কথাগুলো বুঝাতে সমর্থ হইনি -- অথবা আমার বিষয়ে কারো কারো ব্যক্তিগত বিদ্বেষের সীমা অতিক্রম করে গেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আমি ব্যর্থ। তবে আমার নৈতিক অবস্থান যদি কারো মনোঃকষ্টের কারন হয় তাতে করার কিছু নেই। কারন আমি আমার মায়ের ধর্ষকদের ধর্ষনে কতটা পেরেশানী হয়েছে তা নিয়ে মনোবেদনায় ভুগি না। আমি মনে করি -- মায়ের ধর্ষকদের যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত। পিতা হত্যাকারী বা বোনের সম্ভমহরনকারীদের প্রতি সামান্য করুনাবোধ না জাগা যদি আমার ব্যর্থতা হয় -- সেই ব্যর্থতাকে আমি মাথা পেতে নিতে লজ্জিত হবো না। 
     
    ভাষা নিয়ে বিতর্ক করার কোন ইচ্ছা ছিলো না -- শুধুমাত্র পাকিদের মনোভাব বুঝানোর জন্যেই ভাষা প্রসংগ এসেছে । এখানে বলা ভাল -- যে যারা আমাকে বাবার সন্মান রক্ষা করতে ইচ্ছুক নয় -- যারা আমার পিতার লাশকে সামান্য করব দেওয়ার কোন প্রয়োজন বোধ করে -- শেয়াল কুকুরের খাবারে পরিনত করেছে -- ধর্ম নামে -- বা মানবতার নামে তাদের প্রতি সামান্য সন্মান দেখানো কোন দায় বোধ করি না। আমার এইটা অধিকার -- যা সুষ্পষ্ট বিধানে দেওয়া আছে। আর ক্ষমার প্রসংগতো তখন আসে যখন ক্ষমা চাওয়া হয়। যারা মনেই করে না তারা কোন অপরাধ করেছে -- তাদের ক্ষমা করানর সুযোগ কই!
     
    এম আহাদের মন্তব্য আমাকে বিব্রত করলেও অবাক করেনি -- কারন এই চেয়ে উন্নত আচরন আশা করাই ভুল। তবে অবাক হই সদালাপে এসেও ব্যক্তিগত আক্রমনে শিকার হতে হচ্ছে -- সদালাপের রীতিনীতি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তুলবো না -- কিন্তু সদাশয় সম্পদক এম আহাদের মন্তব্যে কারনটা দেখলেই হয়তো বুঝতে পারবেন -- উনি কতটা পোস্টের লেখার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেনর -- কতটা উনার জমানো ঘৃনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। উনি বলছে -- "অনেক কথা আমার দারুণ দৃষ্টি-কটু লেগেছে, তারপর সরে গিয়েছি, কিছু বলা হয়নি। আজকে বরং বলেই ফেললাম। 
    পাকিস্তানী, বিহারী আর আওয়ামীলীগ বিষয়ক অপ্রাসংগিক কথাগুলোর বিষয়ে হয়তো কিছু বলা যেতো -- কিন্তু সেগুলোও ব্যক্তি পর্যায়ে চলে যাবে -- সেই ভয়ে আপাতত এড়িয়ে যাওয়াই সংগত বিবেচনা করছি। 
     
    আক্রান্ত ব্যক্তির জন্যে দুইটা পথ খোলা থাকে -- একটা সমান পরিমান প্রতিশোধ নেওয়া -- ক্ষমা করে দেওয়া। দুইটা  জন্যেই কিছু শর্ত আছে। ্অপেক্ষায় থাকলাম -- দেখি এম আহাদ বিষয়টি উপলদ্ধি করতে সমর্থ হন কি না। নতুবা সদালাপের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার দায় আশা করি পাঠক লেখকরা আমার উপর চাপিয়ে দেবার আগে একটু চিন্তা  করবেন। 
     
    এখানে কিছু কথা বলার প্রয়োজন মনে করছি -- বিশেষ করে সকল পাঠকদের কাছে আমার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার। 
     
    ১) আমাকে আওয়ামীলীগের সমর্থক হিসাবে ট্যাগ করার একটা প্রবনতা দেখি কিছু সেনসিটিভ লোকজনের মধ্যে -- যারা জামাত-বিএনপির সমালোচনাকে আওয়ামীলীগের সমর্থন হিসাবে বিবেচনা করেন। মুল যে ইস্যুতে অনলাইনে লেখালেখি করি -- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার আর নাস্তিকদের ইসলাম বিদ্বেষ। যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসাবে জামাত অবশ্যই আমার সমালোচনার টার্গেট আর সহযোগী হিসাবে বিএনপি। 
    ২) ভারত নিয়েও অনেকের অভিযোগ আছে -- ভারতকে আমি হিন্দু রাষ্ট্র বিবেচনা করি না -- যদিও ভারতের অনেক আইনকানুন হিন্দু ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। ভারতকে অকারনে ঘৃনা করাকে অর্থহীন মনে করি। ভারত বিদ্ধেষ থেকে ভারতে সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের ব্যবসা বানিজ্যকে প্রসারিত করার বিষয়টি যৌক্তি বিবেচনা করি। 
    ৩) ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করাকে শ্রেফ মূর্খতা মনে করি -- এমনতর কথা বিশ্বাস করি না যে কোন দল অন্য দলের চেয়ে বেশী ধর্ম চর্চা করে। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ধার্মিক আছেন যারা নানান রাজনৈতিক মতাদর্শ বিশ্বাস করে। সেই বিবেচনায় ইসলামের সাইনবোর্ড লাগানো দলগুলোই একমাত্র মুসলমানদের আশ্রয়স্থল এই কথাগুলো নিতান্তই ভুল বিবেচনা করি। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ সমর্থক হলেই তার মুসলমানিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে -- এই ধরনে চিন্তাকে নিতান্তই হীনমনত্যতা বিবেচনা করি। 
     
    ৪) জামায়াতে ইসলাম সম্পর্কে পরিষ্কার যে কথাগুলো বুঝি -- তা হলো জামায়াতের নেতাকর্মীরা কতটা ভাল মুসলিম -- কতটা খারাপ মুসলিম -- তা বলার মতো বা বিচারের ধৃষ্টতা আমার নেই। অনেকেই হয়তো অনেক ভাল মুসলিম -- কিন্তু দল হিসাবে জামায়াত একটা ভন্ডের দল। এরা ইসলামের নামে একটা সংগঠনকরে -- যেখানে কোমলমতি শিশুদের ধরে এনে মগজ ধোলাই করে -- বিশেষ করে দারিদ্রতাকে ব্যবহার করে এরা শিশু বয়সেরই বাচ্চাতে টার্গেট করে কর্মী হিসাবে। যখন এ্ই কর্মীরা বড় হয় তখন তাদের বিচার বোধ থাকে না -- ইসলাম আর গোলাম আযমকে এক করে ফেলে। ইসলাম রক্ষা আর সাইদী রক্ষা এক করে ফেলে। দল হিসাবে এরা ইসলামের কথা বললেও এই পর্যণ্ত রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি আর চতুরতা ছাড়া আর কিছুই দেখায়নি। দলের নেতারা বিলাসী জীবন যাপক করে -- নিজেদের ছেলে মেয়েদের বিদেশে পড়তে পাঠায় -- পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত করে আর রাস্তায় তাদের রক্ষার জন্যে নির্ভর করে মাদ্রাসায় পড়া গরীব মেধাবী ছেলেমেয়ের উপরে। এরা ইসলামের কথা বলে -- কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে একটাও ইসলামী ইস্য নিয়ে আলোচনা করে না -- আমেরিকা ইরাক আক্রমনে এরা বিচলিত না -- আফগানিস্তানে বোমাপড়লে এরা নিরব হয়ে যায়। 
     
    জামায়াত মুলত বাংলাদেশে ইসলাম প্রসারে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে ৭১ এ তাতের ভুমিকা এবং তার উপর অবিচল থাকায় -- ইসলাম সম্পর্কে একটা নেতিবাচক চিত্র আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে ফুটে উঠছে। বিশেষ করে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে বিরোধীদের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে জামাত। এরা নিজের দেশে মা বোনের ধর্ষনের জন্যে সামান্য দু;খপ্রকাশ করা মতো সভ্যতা অর্জন করতে পারেনি -- কিন্তু মুখে ইসলামের মহান বানী প্রচার করে। এইটা মানুষের কাছে কৌতুকের মতোই মনে হয়। 
     
    জামায়াত হলো ইসলাম বিরোধীদের তৈরী একটা সংগঠন -- যখন আমেরিকা গ্লোবাল ওয়ার অন টেররের নামে মুসলামদের জীবন অতিষ্ট করে তুলছিলো -- তখন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূত জামায়াতকে মিত্র হিসাবে প্রচারে জন্যে তাদের মঞ্চে গিয়ে বসে -- মডারেট মুসলিম দল হিসাবে সনদ দেয়। 
     
    জামায়াতকে আমি আমেরিকান ন্যাশন অব ইসলামের মতো একটা সংগঠন হিসাবে বিবেচনা করতে চাই -- যারা ধর্মপ্রান মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্তিতে টেনে নিয়ে ইসলামের শিক্ষা থেকে সমাজকে বঞ্চিত করছে। 
     
    সুতরাং যারা বাংলাদেশে ইসলামকে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য একটা মতাদর্শ হিসাবে দেখতে চান -- তাদের উচিত জামায়াতের আসলে চেহারাটা প্রকাশ করা। আমি তাই্ করছি। 
    আমার এই অবস্থান যদি কারো মনেঃকষ্টের কারন হয়ে থাকে -- তাহলে শুধু দুঃথ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবো না। কারন আমি আমার জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেই এই সিদ্ধান্তে এসেছি এবং আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের অধিকাংশ ধর্মপ্রান মানুষ এই একই ধারনা পোষন করে। 
     
    কারো ব্যক্তিগত মনোঃকষ্টের কারন হয়ে থাকলে দুঃখিত। তবে যদি কেউ আদর্শিক ভাবে আমার অবস্থান নিয়ে বিতর্ক করতে চান -- অবশ্যই স্বাগতম। আর যদি কেউ ব্যক্তি আক্রমন করে আমার মুসমানিত্ব, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে চান -- সেইটা আপনার একান্তই রুচী এবং শিক্ষার বিষয় -- আমি হয়তো সেই পযায়ে যাবো না। 
     
    সবাইকে ধন্যবাদ। 
     

    1. 9.1
      এম_আহমদ

       
       

      কিন্তু সদাশয় সম্পদক এম আহাদের [sic এম আহমদের] মন্তব্যে কারনটা দেখলেই হয়তো বুঝতে পারবেন — এম আহাদের [sic এম আহমদের] মন্তব্যে কারনটা দেখলেই হয়তো বুঝতে পারবেন — উনি কতটা পোস্টের লেখার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেনর — কতটা উনার জমানো ঘৃনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন

      ঘৃণা: আপনি ইচ্ছামত শব্দ ব্যবহার করলেই বাস্তবতা আপনার দিকে যাবে না। আপনার অনৈসলামী, মানবতা বিরোধী পাকিস্তানী বিদ্বেষের সমালোচনা করা হয়েছে আপনি পারলে সেটা করুন। পারবেন না তাই সেদিকে যানও নি। গোল-পোস্টের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে ‘ফাউল হয়েছে, ফাউল হয়েছে চিৎকার’ করলে তা ফাউল হয়ে যায় না। আপনাকে আমি ঘৃণা করতে যাব কেন? আপনার সাথে তো আমার কোন বাদা-বাদী নেই। আপনি আমার কোন সম্পদ দখল করেননি, আমার টাকা মেরে খাননি, আমার মারামারি-কাটাকাটি হয়নি। তাছাড়া আপনার ব্লগে উপযাচক হয়ে নাস্তিকদের মন্তব্যের জওয়াব দিয়েছি। এতে আমার অনেক সময় গিয়েছে। আমি ঘৃণা করব কেন? আপনাকে তো আমি চিনিও না। আমি শুধু আপনার unjustifiable পাকিস্তানি বিদ্বেষের কথা উল্লেখ করেছি। I fight against racist and fascists. এটা আমুতেও করেছি। ইংল্যান্ডেও। যারা অমানুষ তাদের মানবতা বিরোধী চিন্তা তাদের সামনেই তুলে ধরি। ইসলামে ঘৃণার কথা আসে তখনই যখন কোন জালেমের অন্যায় কর্ম বাধা পথ থাকে না অথবা দেয়ার মত কোন অবকাশ থাকে না, কেবল তখনই অন্তর দিয়ে ঘৃণার প্রশ্ন আসে। আমি আপনার ফ্যাসিস্ট কথা ও আচরণের প্রতিবাদ করতে পারছি, আপনি দাঁড়াতেই পারছেন না। খামাখা ফাউল চিৎকার করে এডমিন ডাকছেন। অথচ আমাদের আলোচনার রেকর্ড বিরাজ করছে। বরং আপনার চিন্তায় দারুণ flaw, আপনি এক বস্তুর অবস্থানকে অন্য বস্তুতে দেখেন। আপনাকে ঘৃণা করার প্রশ্নই ওঠে না।

      আমার মনে হয় আমি ঠিকমতো আমার কথাগুলো বুঝাতে সমর্থ হইনি — অথবা আমার বিষয়ে কারো কারো ব্যক্তিগত বিদ্বেষের [অপ্রমাণিত ফালতু চিৎকার] সীমা অতিক্রম করে গেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আমি ব্যর্থ। তবে আমার নৈতিক অবস্থান যদি কারো মনোঃকষ্টের কারন হয় তাতে করার কিছু নেই।

      আপনার ফেসিস্ট এবং রেসিস্ট কথাবার্তার criticism-কে যদি কারো ‘বিদ্বেষ’ মনে করে থাকেন, তবে সেটা অন্যের চিন্তাকে ভুল পথে চালানোর একটা অপপ্রয়াস। পাকিস্তানের প্রতি আপনার মন্তব্য যদি বুঝাতে ব্যর্থ হন এবং এতে বিদ্বেষ ও ফ্যাসিবাদ প্রকাশ পেয়ে যায় তবে সেই ‘অনৈতিক’ এবং ‘অমানবিক’ মন্তব্যের জন্য আপনি অনুতপ্ত হতে পারেন এবং নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারতেন। একাত্তরের বিষয়ে সিভিলিয়ানরা মোটেই দায়ী নয় এবং সেই আবেগ বিবৃত করে পাকিস্তানী বিদ্বেষ justify করা যায়না। আপনি flimsy চিন্তাকে আকরে ধরে সব সময় ধর্ষণ আর হত্যার দোহাই দিতে থাকেন, এবং সেই আবেগ দিয়ে যারা দোষী নয় তাদেরকে সংশ্লিষ্ট করতে চান। জার্মানিতে ইয়াহুদী মারা হয়েছিল –সেই আবেগে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আক্রোশ প্রকাশ জায়োনিষ্ট গোষ্ঠীর যেমন প্রতারণা, তেমনি একাত্তরের মর্মান্তিক ঘটনা পাকিস্তানের সিভিলিয়ানদের উপর ধারণ করাও প্রতারণতা। যাদের দুষ্কর্মের কোন যুক্তি নেই কেবল তারাই আলোচনায় red herring ধরে। আপনার বিদ্বেষ justify করতে না পেরে দুটি straw man দাঁড় করিয়েছেন: একটি ভারত আর অপরটি জামাত। খৃষ্টীয়ান বাইবেল থামাররা এভাবে হাস্যকর যুক্তির যুক্তির অবতারণা করে। ‘জিসাস আল্লাহর পুত্র, কেননা তিনি তা বলেছেন, আল্লাহর পুত্র তো মিথ্যা বলতে পারেন না।’ জামাতিরা অপরাধী কেননা গোটা জাতি বলছে (গোটা জাতি কারা? নাস্তিক শাহরিয়ারদের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংযুক্ত লোক আমার আম্বালীগের লোক), এই দুই পক্ষ সম্বলিত ‘গোটা-জাতির’ দলীল মিথ্যা হতে পারে না।’ এখানকার সাক্ষী গোপাল আর দলীলের অবস্থা আগেই উল্লেখ করেছি আর করে লাভ নেই আর গোটা-জাতির কথা বলেও লাভ নেই, সেটা সবাই জানে। কিন্তু জামাতের সাথে লাখ লাখ সিভিলিয়ানের প্রতি আক্রোষ justify এর কি আছে?
       
      এখানে ভারত বিদ্বেষীও কেউ নেই। এই straw man তৈরি করে তা ফেলে দিয়ে কিছুই প্রমাণিত হয় না। আমাদের অনেক ফ্রেন্ড-বন্ধু ভারতী। আপনি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বিবেচনা করেন, কি করেন না, that neither here nor there. আপনি করলেই বা কি আর না করলেই বা কি? আপনি কে? অযথা ভারত বিদ্বেষের টেনে এনে বলেন, আপনি ভারত বিদ্বেষী নন। কিন্তু এই ফেরেশতা তো আবার পাকিস্তান বিদ্বেষী!

      জামায়াতে ইসলাম সম্পর্কে পরিষ্কার যে কথাগুলো বুঝি — তা হলো জামায়াতের নেতাকর্মীরা কতটা ভাল মুসলিম — কতটা খারাপ মুসলিম — তা বলার মতো বা বিচারের ধৃষ্টতা আমার নেই। অনেকেই হয়তো অনেক ভাল মুসলিম — কিন্তু দল হিসাবে জামায়াত একটা ভন্ডের দল।

      আপনার ধ্যান-ধারণাতে অনেক অযৌক্তিক প্রকাশ পায়। আপনি এই রোগে ভুগছেন। প্রথম প্যারাগ্রাফে এটা উল্লেখ করেছি। জামাতের নেতা-কর্মীরা ভাল মুসলিম না খারাপ তা বিচারের ‘ধৃষ্টতা’ দেখাবেন না কিন্তু  “দল হিসাবে জামায়াত একটা ভণ্ডের দল।”এমন ধরণের আলোচনায় কোন পক্ষের মাথা examine করিয়ে আনার প্রশ্ন ওঠতে পারে। আমার উপলদ্ধি থেকে বলছি আপনার অনেক বিষয় systemic ভাবে দেখার স্থান  প্রশ্ন সাপেক্ষ। একাত্তরের ব্যাপারে কোথাও হয়ত আধ্যাত্মিক কিছু ব্যাপার থেকে থাকতে পারে এবং তা হলে তা address করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনার ব্যাপারে আমার অবশিষ্ট sympathy-এর কারণে আপনাকে তবলীগ জামাতে যেতে বলেছিলাম। এবং এটা এখনো বলব। আপনার যুক্তির দুর্বলতা দেখিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোন লাভ নেই। তবে আপনাতে একাত্তর কেন্দ্রিক যে আক্রোশ আর জ্বালায় দেখা যায় তা ত্থেকে পরিত্রাণ পেলে শান্তি ব্যতীত কিছুই আসবে না। জামাত একাত্তরের আগেও ছিল, এখনো আছে এবং আগামীতেই থাকবে। Disputable অভিযোগ দিয়ে তাদেরকে উৎখাত করতে পারবেন না। তাদেরকে ব্যান করে দিলেও তা নিঃশেষ হবে না। এটা একটি আন্দোলন ও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দর্শন। আপনি তাকে ধ্বংস করতে হলে সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দর্শনকে সেই খোলাফার যুগ থেকে ধরে স্থানে স্থানে তাদের ভুল দর্শিয়ে দিলেই তা করা হবে। এটা প্রোপাগাণ্ডা করলে শেষ হবে না, তারাও পালটা প্রোপাগান্ডা করতে পারবে।  
       
      ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আরও সংঘবদ্ধ অনেক দল রয়েছে। সকলের মধ্যে সেই ইসলামি রাষ্ট্র বা খেলাফত প্রতিষ্ঠার চিন্তা-দর্শন রয়েছে। এমন কোন ইসলামী দল পাওয়া যাবে না খেলাফতী রাষ্ট্রের বা রাষ্ট্র ধারণার বিপক্ষে। এখানে চিন্তার ঐক্য থাকলেও সেই রাষ্ট্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা হবে, এই নিয়ে দলে দলে পার্থক্য। সবার কিছু দর্শন রয়েছে। আমি যতটুকু জানি তবলীগ জামাতও, in principle,  ইসলামী খিলাফতের বিপক্ষের  কোন দল/প্রতিষ্ঠান নয়। তবে তাদের অবস্থান ভিন্ন, স্থান/কাল ও সেই কাজের উপযুক্ত আখলাক ও আমলদার লোকের অস্তিত্ব সাপেক্ষ।
       
      এখানে সব দলের মধ্যে যদি জামাতের ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণা ভুল থাকে, তবে সেই ভুলের স্থান কোরান, হাদিস ও ঐতিহাসিকতার আলোকে আলোচনা করুন। এটা বিদ্বেষের কিছু দেখা যাবে না এবং এতেই আপনি তাদের ধ্বংসের পথ খুজতে পারবেন। আবার তারা যদি ভুল হয় তবে বাকিদের মধ্যে কারা শুদ্ধ তাও দেখাতে পারেন। তারপর আমরা দেখব আপনার সাথে একমত হতে পারি কি না। এটাই হচ্ছে সিস্টেমেটিক পথ। আপনি যদি ইসলামী রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা শুরু করেন, আমাকেও সেখানে পাবেন। আপনি সেই দিগন্ত উন্মোচন করলে, আপনার পথে আমিও হেঁটে দেখব। আমরা জ্ঞানের পথে সবাই ছাত্র। কিন্তু এগুলো না করে আপনার বিদ্বেষ প্রকাশ ও একাত্তরকে সেই বিদ্বেষের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রতিবাদ করি। এটা  ঠিক নয় এবং এটা আপনাকে কেউ বলে দিলে সে আপনার বিদ্বেষী হয় না।
       
      বর্তমানে আপনার কথা বার্তায় যে বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা হচ্ছে ইসলামের বিপক্ষে নাস্তিকরা যেভাবে ঢালাওভাবে মন্তব্য করে যায়, তাদের মত। অর্থাৎ সেখানে পড়াশুনা করে কিছু নিয়ে আসা দেখা যায় না, বরং ওদের মত অন্যের সারাংশ কোথায় থেকে আনার মত দেখায়। তারা কেবল অভিযোগের কিছু লিস্ট বহন করে বেড়ায়। হাজার ব্যাখ্যা পেলেও সেই লিস্ট থেকে নড়বে না। আপনার লিস্টে থাকে খালেদা, তারেক, পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, জামাতিরা মুনাফিক, ভণ্ড, যুদ্ধাপরাধী, এরা এই, এরা সেই ইত্যাদি। আপনার কথাবার্তা তৈরি করা, আপনার ধ্যান-ধারণা অযৌক্তিক। আপনি এই রোগে ভুগছেন। প্রথম প্যারাগ্রাফে এটা উল্লেখ করেছি। জামাতের নেতা-কর্মীরা ভাল মুসলিম না খারাপ তা বিচারের ‘ধৃষ্টতা’ দেখাবেন না কিন্তু  “দল হিসাবে জামায়াত একটা ভণ্ডের দল।” আপনি আমার সাথে কথা হলে আপনার মাথা examine করিয়ে নিয়ে আসতে হবে। 
       
      বর্তমানে আপনার কথা বার্তায় যে বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তা হচ্ছে ইসলামের বিপক্ষে নাস্তিকরা যেভাবে ঢালাওভাবে মন্তব্য করে যায়, তাদের মত। অর্থাৎ সেখানে আপনার কোন জ্ঞান প্রকাশ পায় না, ওদের মত অন্যের সারাংশ কোথায় থেকে আনার মত। তারা কেবল অভিযোগের কিছু লিস্ট বহন করে। হাজার ব্যাখ্যা পেলেও সেই লিস্ট থেকে নড়বে না। আপনার লিস্ট থাকে খালেদা, তারেক, পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, জামাতিরা মুনাফিক, ভণ্ড, যুদ্ধাপরাধী, এরা এই এরা সেই। আপনার কথাবার্তা তৈরি করা, আদালতে কি ঘটছে তা দেখেও দেখবেন না, গোটা জাতির অর্ধেকাংশ কি বলছে তা শুনেও শুনবেন না। আপনি মিলিট্যান্ট প্রকৃতির ভাষা ব্যবহার করেন। আপনি ইতিহাসের সবজান্তা, কিন্তু ইতিহাস তথ্যে প্রশ্ন করলে সে উত্তরে যেতে পারবেন না। It appears that in all the responses and style ligual uses there are fundamental  traits of fundamentalism.   অনেক রেডিমেড কথার সাথে হয়ত শাহরিয়ার কবির গং ও নাস্তিক পক্ষের মিল দেখা যাবে। কিন্তু আদালতে কি ঘটছে তা দেখেও দেখবেন না, গোটা জাতির অর্ধেকাংশ কি বলছে তা শুনেও শুনবেন না। আপনি ইতিহাসের সবজান্তা, কিন্তু ইতিহাস তথ্যে প্রশ্ন করলে সে উত্তরে যেতে পারবেন না। কিন্তু এগুলোতে কারও কিছু যায় আসে না। কিন্তু বিদ্বেষ প্রকাশে যায় আসে।  
       
      শেষ কথা এই দুনিয়ায় মানুষ তার আপন পথেই কাজ করে। কেউ কারো তকদীর থেকে সরাতে পারবে না। আমি আপনার সিভিলিয়ান বিদ্বেষকেই শুধু তুলে ধরেছি। আপনি নিজেকে সংশোধন করতেও পারেন, আবার তা নিয়ে ব্যবসাও করতে পারেন। আপনার ইচ্ছা।
       
      আপনি যখন এডমিন ডেকেন তখন আমার কিছু কথা বলার আছে। আর তা হল এই যে এখানে কেউই যেন বিদ্বেষ ছড়াতে না পারে, তা ধর্মীয় বিদ্বেষ হোক, দলীয় বিদ্বেষ হোক অথবা জাতীয় বিদ্বেষ।
       
      হয় সবাই একই কায়দায় পারস্পারিকভাবে এবং ‘সমতুল্য-শ্রেণীর’ শব্দে একে অন্যের দলকে আক্রমণ করতে পারবে, আর না নয় সবাই নিজেদেরকে সংযত রাখবে। আমি দ্বিতীয়টির পক্ষে। ধর্ষণ, চুরি, রাহাজানি, গুম, হত্যা এধরণের অভিযোগের ব্যাপক লিস্ট তো অনেক দলের বিপক্ষেও আছে। তবে কারো যুক্তিটা যেন এমন না হয় যে একাত্তরের অভিযুক্ত ধর্ষক ও অপরাধীর মোকাবেলায় বিগত ৪০ বৎসরের accumulative ধর্ষক, হত্যাকারি, ছিনতাইকারি, পুকুরচোর স্বর্গরাজ্য গড়ার অধিক উপযুক্ত। হয় সবাই কথা বলবে, না সবাই নিবৃত্ত থাকবে।    
       
      রাজনীতি মানুষের জীবনের সাথে জড়িত। তাই অনেক সময় অনেক মন্তব্য করতে পারে। আমরাও যে মন্তব্য করি না, তা নয়। বরং কথার জোয়ারে কেউ যেন ভেসে গিয়ে যদি জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, দলের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আসে এবং persistent হয়ে পড়ে তখন তো তা অবশ্যই মডারেট হতে হবে।  

      1. 9.1.1
        এম_আহমদ

        জিয়া সাহেব, বিষয়টি নিয়ে আমি আরেকটু চিন্তা করেছি। বিশেষ করে রায়হান ভাইয়ের কমেন্টের ব্যক্তি কেন্দ্রিক মন্তব্য। আমি তাই, আমার argument এর যেখানে ব্যক্তিকে স্পর্শ করেছে সে স্থানগুলো উথড্র করলাম। কিন্তু আমার principal বক্তব্য ঠিক থাকলো। ধন্যবাদ।
         
        যে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছি তা কয়েক যুগ থেকেই এভাবেই করে এসেছি। ইউনিতে যেসব শিক্ষকদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি সেখানেও কম্রোমাইজ না করেই করেছি। আপনি জেনে থাকতে পারেন যে ব্রিটেনে ফ্যাসিবাদ/রেসিজম রয়েছে। কোন নির্দোষ মানুষ অপরের value অথবা assumption কারণে নিগৃহিত হলে তা যেন ক্ষেত্রভেদে তার মানবতা কেড়ে নেয়।
        ভাল থাকুন।

      2. 9.1.2
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

         

        (গোটা জাতি কারা? নাস্তিক শাহরিয়ারদের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংযুক্ত লোক আমার আম্বালীগের লোক), 

         
        -- পুরো কমেন্ট আপনি যা বলেছেন তা যে ব্যক্তি আক্রমন ছাড়া আর কিছু না -- তা বুঝার জন্যে ধন্যবাদ। তবে একটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা -- তা হলো কোন কোন সময় একটা শব্দই হাজার শব্দকে সরিয়ে লেখকের বক্তব্যকে প্রকাশ করে দেয়। ঠিক তেমনি একটা শব্দ এখানে ব্যবহার করেছেন আপনি -- "আম্বালীগ"। 
         
        যত বড়বগ তত্বীয় কথাই বলুন -- এই বিকৃত শব্দের ব্যবহার প্রকৃত পক্ষে আপনার আসল রূপটাকে চিনতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ। 

  7. 8
    মুনিম সিদ্দিকী


    undefined

    ফুয়াদ দীনহীন says:

    নভেম্বর 11, 2012 at 5:42 পূর্বাহ্ন (UTC 6) | Edit comment

    @শাহবাজ নজরুল,
    ঢাকার নবাব ফ্যামেলি কাশ্মির থেকে এসেছিলেন, যতদূর জানি সিপাহী বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করার জন্য পুরষ্কার পেয়েছিলেন তারা। 
     
    বাংলা সব সময় জন মানুষের ভাষা ছিল। এলিটরা একেক সময় একেক ভাষা ব্যাবহার করেছে। এখন যেমন তারা ইংরেজির ব্যাবহার করে।

     
    শিক্ষিত লোক হয়ে এই ভাবে কথা বলা কতটুকু যুক্তি সংগত ফুয়াদ ভাই? ঢাকার নবাবদের কাছে আমরা অনেক ঋণী আছি, কোন প্রমাণ  ছাড়া এই ভাবে কথা বলার মানে আছে কি? কেউ যদি এই ভাবে অভিযোগ করে থাকেন তাহলে তলিয়ে দেখুন তারা মুসলিম উম্মাহর বন্ধু হতে পারেন না।

  8. 7
    মুনিম সিদ্দিকী

    আপনারা সবাই ইসলাম নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন বলেই এখানে সমেবেত হয়েছেন। কিন্তু মনে রাখবেন ইসলাম সব বিষয়ে মধ্য পন্থা গ্রহণ করলেও যুদ্ধ এবং বিচারে মধ্যে পন্থা গ্রহণ করে নাই। করেছে চরম পন্থা। ইসলাম প্রতিষথা করতে চায় সারা দুনিয়ায় সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা রাষ্ট্র ব্যবস্থা।  ইসলামে আছে প্রাণের বদলে প্রাণ নেবার আদেশ, তবে এক প্রানের বদলে এক প্রাণ।
    তো সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালে আমাদের বাংলাদেশ যে রক্তক্ষয়ী আত্মবিনাশী ঘটনা ঘটেছিল তাঁর বিচার হওয়া ইসলামী দৃষ্টিতে অবশ্যই করণীয় ছিল। কারণ একে তো যুদ্ধের সাথে জড়িত নয় এমন কাউকে হত্যা করতে ইসলামে হারাম। ভুল বশতঃ কেউ করে বসলে তাকে রক্তপণ দিতে হবে। ৭১ যে ঘটনা ঘটেছিল তা ভুল বশতঃ নয়, এটি ছিল পরিস্কার ফিতনা। পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদেরকে নির্মূল করে মধ্য যুগীয় কায়দায় দাস বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তারা নিরপরাধ মানুষকে নারীকে ধর্ষণ এবং শিশু বৃদ্ধকে হত্যা করেছিল। কাজেই এত বড় হত্যা যজ্ঞের বিচার হওয়া ইসলামী আইনের দাবী।
    ইসলামে আছে যে, কোন নিহত ব্যক্তি আপন জন যদি ক্ষমা করে তাহলে তাকে ক্ষমা করা যায়, কিন্তু ৭১ এ যারা তাদের আপন জন হারিয়েছিলেন তাদের মধ্যে এমন কাউকে কি পাওয়া যাবে যে তিনি তাঁর প্রিয়জন হত্যাকারীকে ক্ষমা করেছিলেন? তাহলে কোন অধিকারে শেখ মুজিব সরকার তা করেছিলেন? আপনারা যারা ইতিহাস জানেন তারা জানেন যে- বংগবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে মৃত্যু দণ্ড প্রাপ্ত আসামী হিসাবেই ছিলেন। কিন্তু উনাকে ছেড়ে দেবার আগে লাহোরে পাবলিক মিটিং এর ভুট্টো গণ রায় নিয়েছিলেন। অথচ শেখ মুজিব সরকার সেই সৌজন্য টুকু নিহতদের আপজনের সাথে করেন নাই। এইটি না করে তিনি উনার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে আমি মনে করি। ফৌজদারী অপরাধের অপরাধীকে জনগণের ক্ষমা ছাড়া তিনি ক্ষমা করতে পারেন না। আর জনগণ যে ক্ষমা করেন নাই তাঁর প্রমাণ আজ এত বছর পরও বাংলাদেশে তাদের সহযোগীদের বিচার।হচ্ছে। আমিও মনে প্রাণে চাই এই ঘটনার বিচার কিন্তু  তা হবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক আদালতে । আর যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিচার করতে এগিয়ে না আসেন তাহলে আমাদের আদালতকেও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করে করতে হবে। যাতে এই বিচার নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতে পারেনা।  কেউ হয়তো বলবেন পশ্চিম পাকিস্তানীদের তো বিচার করার ক্ষমতা আমরা রাখিনা। বা নাই, নাই বা থাকলো ক্ষমতা তাই বলে তাদের কে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন তুলতে পারিনা।আজ না হয় হাজার বছর পরও আমাদের উত্তরসুরীরা এর বিচার করতে সক্ষম হতে পারে। আমি আবার এই বিচার কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের তাঁর রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হোক তা মানতে পারিনা।
    আমি ২০০১ সালে একটি পিটিশন হোস্ট করেছিলাম যাতে আন্তর্জাতিক আদালতে এই বিচার হয় সেই দাবী জানিয়ে, আসুন আপনারা আমার সেই দাবীর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করুন। স্বাক্ষর করুন। http://www.petitiononline.com/massacre/petition.html

  9. 6
    মহিউদ্দিন

    "তবে ব্যাপারগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে, ব্যক্তি আক্রমণাত্মক না হয়ে, জেনারেলাইজড মন্তব্য করতে পারতেন"

    কথা ঠিক আছে তবে অনেক সময় হয়তবা নিজের অজান্তেই তা হয় যায়। মানুষ আবেক প্রবন। তবে এটাকে পারসন্যালি না নিলেই আলোচনা চলতে পারে। Just ignore the emotion and go with the point."

    ইসলামের কথা যখন আসছে তখন বলব ইসলাম প্রতিশোধ থেকে ক্ষমাকেই প্রধান্য দেয়। মক্কাবিজয়ের পর অত্যাচারী কোরাইশদের ষাথে মহা নবীর আচরনের ইতিহাস দেখলেই তা প্রমাণিত হয়।
    এবার আসুন উর্দূ নিয়ে। উর্দু আরবি হরফে একটি পাঁচমিশালি ভাষা যা ভারতের মুসলিমরাই চালু করেছিলেন এবং তা ভারতের সাহিত্যেও রেখেছে অনেক অবদান। পুরানো ভারতীয় ফ্লিমের সব গান  উর্দূ  ভাষাই রচিত । বিশ্বাস না হলে কোন ভারতীয়কে জিচ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। উর্দু পাকিস্থানীদের কোন প্রদেশেরই ভাষা নয় না Panjabi, Sindhi, Baluchi nor NWF Province এর ভাষা তবু তারা এটাকে গ্রহন করে নিয়েছিল তখনকার সময় মুসলিম জাতীয়তা বোধের ইমোশনে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর কমনভাষা পাক ভারতের মুসলিমদের ভাষা মনে করে পাকিস্তানের কেতাবী বা অফিসিয়্যাল ভাষা উর্দুকে গ্রহন করতে তাদের অসুবিধা হয় নি। তাদের জন্য সহজ হলেও বাঙ্গালিদের কাছে নিজের মাতৃভাষাকেই প্রধান্য দেয়া সঠিক মনে হয়েছে যার জন্য রক্তও দিতে হয়েছে এবং বাংলাকেও অফিসিয়্যাল ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছে।আমি মনে করি এতে আমরা কোন দুষ করি নি বরং মায়ের ভাষা খোদার দেয়া দান হিসাবে মনে করেই আমরা তা রাস্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দিতে পেরেছি।
    পুরানো ঘটনাকে নিয়ে যত বেশী ঘাটঘাটি করে আবেগ সৃষ্টি করব তত বেশী আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। এ জন্য দেখবেন আল্লাহ মানূষকে তার পুরানো ব্যথা মনে না রাখার ব্যবস্থা করে রেখেছেন মানুষের প্রকৃতিতে। চিন্তা করেন একজন মানুষ যখন হাসপাতালের একটা বিরাট অপারেমন কাটিয়ে উঠে তখন তার সে সময়ের কষ্ট, আই সি ইউতে থাকার ছটফটানি, সেই ব্যথা সে কষ্ট যদি সে চিরদিন মনে রাখে বা মনে থেকে যায় তাহলে সে মানুষ কি সুস্থ থকতে পারত? আল্লাহ যদি সে সিষ্টেম রাখতেন তাহলে মানুষ তো মরার আগেই মরে যেত।। একটা জাতির বেলাও তা দরকার জাতিকে সামনে নিয়ে যেতে।
    আজ চিন্তা করেন ভিয়েতনামের উপর আমেরিকা কি জুলুম করেছিল।কিন্তু সেই ভিয়তনামীরাও আজ আমেরিকানদেরকে ব্যবসার সুযোগ করে দিতে আপত্তি করছে না।
    আমাদেরকেও আজ শুধু ইমোশন্যল না হয়ে বাস্তবতার সহিত অগ্রসর হতে হবে। আমাদের সুসম্পর্ক উপমহাদেশের সবার সাথে গড়তে হবে আমাদের জাতীয় স্বার্থে।        

    1. 6.1
      শাহবাজ নজরুল

      আজ চিন্তা করেন ভিয়েতনামের উপর আমেরিকা কি জুলুম করেছিল।কিন্তু সেই ভিয়তনামীরাও আজ আমেরিকানদেরকে ব্যবসার সুযোগ করে দিতে আপত্তি করছে না।

      ভিয়েতনাম ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভিয়েতনাম যুদ্ধ যে আমেরিকা অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল -- তা প্রকারান্তরে আমেরিকা নিজেই স্বীকার করে নেয়া। পরিশুদ্ধি ও সামনের দিকে এগিয়ে যাবার সোপান হচ্ছে অতীতের ভুল স্বীকার করে নেয়া। ব্যাখ্যাটা মক্কাবাসীদের ক্ষেত্রেও খাটে। মক্কা বিজয়ের দিন এমন কোনো মক্কাবাসী অবশিষ্ট ছিলেন না যিনি স্বীকার করে নেন নাই যে অতীতে তারা রাসুল (সা.) এর সাথে ঘোরতর অন্যায় করেছিল।
      পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন না। প্রথমত তারা তাদের দোষ কোনভাবেই স্বীকার করবে না -- আর বলে বেড়াবে ভারত দেশ ভেঙ্গে দিয়েছে। ভুলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে সামনে তো অবশ্যই এগুনো উচিত -- তবে তা শুরু করতে হবে কমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং থেকে। তাদের করা ভুল স্বীকার না করা বাদে সামনে এগুনো সম্ভব নয় বলেই মনে হয়।
       

      1. 6.1.1
        এম_আহমদ

        মক্কা বিজয়ের দিন এমন কোনো মক্কাবাসী অবশিষ্ট ছিলেন না যিনি স্বীকার করে নেন নাই যে অতীতে তারা রাসুল (সা.) এর সাথে ঘোরতর অন্যায় করেছিল
         
        মক্কা বিজয়ের পর মাক্কীদের status কোথায় ছিল? তারা কি ভুল স্বীকার করা, না করার কোন অবস্থানে ছিল?  "মক্কা বিজয়ের দিন এমন কোনো মক্কাবাসী অবশিষ্ট ছিলেন না যিনি স্বীকার করে নেন নাই যে অতীতে তারা রাসুল (সা.) এর সাথে ঘোরতর অন্যায় করেছিল" -এই কথাটির সত্যতা  কোন প্রামাণ্য ঐতিহাসিক সোর্স থেকে অথবা হাদিস থেকে দেবেন। আর না হলে, আমার serious কোন প্রসঙ্গে কখনো মন্তব্য করতে যাবেন না।   ভাল থাকবেন। 

      2. 6.1.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        শাহবাজ ভাই মক্কার লোকেরা সে দিন যা কিছু বলেছিল, তাদের মধ্যে অনেকই শুধু প্রাণ বাচাতেই বলেছিল। যার প্রমাণ রাসুল সাঃ  ওফাতের সাথে সাথে তাঁর ইসলাম থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে মক্কার গবর্ণরকে পর্যন্ত পালিয়ে যেতে হয়েছিল।
         
        আমার সাফ কথা ৭১ এর এত বিশাল হত্যাযজ্ঞকে ক্ষমা করার অধিকার আপনার আমার কারো নাই। এখন যদি ক্ষমা করতে হয় তাহলে বাংলাদেশের জনগণের কাজ থেকে তাদের মতামত নিতে হবে, যারা সেই সময় আপন জন হারিয়েছিলেন তারাই একমাত্র পারেন তাদেরকে ক্ষমা করতে না হলে তা কেউ করতে পারবেনা।
        তবে এই বর্বর অপরাধের জন্য আমি ভুট্টো ইয়াহিয়া টিক্কা নিয়াজী সহ ১৯৬ জনকে গালী দিতে পারি অভিশাপ দিতে পারি কিন্তু গোটা একটি রাষ্ট্রের মানুষকে ছোট করতে পারিনা। যদিও বর্তমানে ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত করা হয়ে থাকে তাই সরকারে কর্মকান্ডের জন্য জনগনও দায়ী হয়ে যান বটে কিন্তু সব জনগন তো সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন না।

  10. 5
    Mahfuz

    ১৮৩০ সালে ইংরেজরা অফিসিয়াল ভাষা হিসাবে ফার্সি তুলে দিয়ে ইংরেজী চালু করে ।

    সে সময় উপমহাদেশের মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ও দীন প্রচার, ধর্মীয় কিতাব ও তফসীরের কিতাব ইত্যাদি লিখা ও প্রচারের জন্য উর্দু ভাষা কে নির্দিষ্ট করে এবং প্রায় কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ফার্সি ত্যাগ করে । ফলে সারা উপমহাদেশে উর্দু ছড়িয়ে পরে ।

    বাংলাদেশে ও ব্রিটিশ আমলে মুসলিম রা উর্দু চর্চা করেছে । মুসলিম জমিদার, শিক্ষিত মুসলিম, নবাবরা উর্দু চর্চা করেছেন, ঢাকার নবাব দের ব্যাক্তিগত ডায়েরী যা আহসান মনজিলে সংরক্ষিত- তা উর্দু ও ইংরেজীতে লেখা ।

    উপমহাদেশের ( ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আশপাশ অঞ্চল) বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসলিমরা পারস্পারিক যোগাযোগ উর্দুতে করবার যে কনভেনশন তারা নিয়ে ছিলেন, তা আজও অব্যাহত আছে এবং বাতিল হয় নাই ।

    এর উদাহারন ভারতে গেলে পাবেন । বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় গেলে পাবেন । আখেরী মুনাজাত উর্দু তে হতে দেখা যায় । এটা এই কারনে নয় যে, পরিচালনা কারী উর্দু ভাষী ।

    ভাষা নিয়ে বিদ্বেষ না থাকাই ভাল, সেটা যার ই ভাষা হোক । পাকিস্তানের কোন অঞ্চলের লোকের ই মাতৃ ভাষা উর্দু নয় । পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ-র মাতৃ ভাষা উর্দু নয় ।

    উর্দু মুলত ভারতীয় ভাষা । উপমহাদেশে দুটি ভাষা সৃষ্টিতে মুসলিমদের অবদান আছে, একটি উর্দু, অন্যটি বাংলা ।

    উর্দু ভাষার সাহিত্য সম্ভার বিশাল । আমীর খসরু , মির্জা গালিব, ইকবাল, কৃষণ চন্দর, মুন্সী প্রেমচাঁদ ইত্যাদি অনেকেই -- যারা উর্দু ভাষায় সাহিত্য চর্চা করেছেন । শেষ মোগল সম্রাট রাও সাহিত্য চর্চা করেছেন উর্দু -- এবং তারা অন্দর মহলে ফার্সি বললেও, দরবারে উর্দু বলতেন ।

    আমরা জানি যে ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিন্দি । প্রকৃত পক্ষে ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিন্দুস্তানী -- যা হিন্দি ও উর্দুর মিশ্রণ।

    http://en.wikipedia.org/wiki/Bangla
    http://en.wikipedia.org/wiki/Urdu

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ্মাহফুজ ভাই সালাম, ভাল বলেছেন।  আমি এর সাথে সামান্য কিছু এড করতে চাই।  যদিও উদাহরণ টি ব্যক্তিগত হয়ে যাচ্ছে তারপর উল্লেখ করছি এর জন্য যে, ব্যক্তির কাছে রক্ষিত দলিল দস্তাবেজ দিয়েই কালেই ইতিহাস নির্ণয় করা হয়ে থাকে। আমাদের পরিবারে ঐতিহ্য হিসাবে আমাদের কাছে নবাবী আমল এবং ব্রিটিশ আমলে দলিল দস্তাবেজ রক্ষিত আছে, যা থেকে আমি প্রমাণ পেয়েছি যে, নবাবী আমলে আমাদের জায়গা জমি কিনা বেচার দলিল ফার্সী ভাষায় লেখার প্রচল ছিল। নবাব সুবাদার বা ফৌজার কর্তৃক ভুমি দান বন্টনও ফার্সী ভাষায় লেখা হত। বিয়ের বা তালাকের আকদ নামাও ফার্সী ভাষায় লেখার প্রচলন ছিল। এমন কি দেখেছি আমাদের পুর্ব পুরুষ দাস দাসী ক্রয় বাবত ফার্সী ভাষার দলিল ব্যবহার হত। তারা ছাড়া শিক্ষিত সমাজ ফার্সী ভাষায় সাহিত্য চিঠি পত্র রচনা করতেন। আপনি প্রথমিক বাংলা সাহিত্যে যখন পুথির প্রচল ছিল সেই সব পুথিতে শত শত ফার্সী শব্দের ব্যবহার দেখতে পাবেন। এমনকি ব্রিটিশরা প্রথম দিকে ফার্সী ভাষা ব্যবহার করেছিল। সেই আমলেও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সদস্যরা ফার্সীতেই স্বাক্ষর করতেন।  আপনার যদি এখনও সিলেট অঞ্চলের গ্রাম্য মানুষের ভাষা গভীর ভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে তাতে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে আমদের সিলেট অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষায় অধিক হারে আরবী,ফার্সী তুর্কী শব্দের অপভ্রংশ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলা ভাষা আরবী কিংবা ইংরেজীর মত  সে শব্দের লিঙ্গ নির্ণায়ক  প্রতি শব্দ নাই, শুধু সে দ্বারাই নারী পুরুষকে বুঝিয়ে থাকে কিন্তু সিলেটি ভাষায় তাঁর বিপরীত দেখা যায়। যেমন- হেইন বা হে = সে পুং বাচক, তাই বা তাইন স্ত্রী বাচক। তেমনি = ডিমকে আরবীতে বাইদ বলা হয়ে থাকে আমাদের গ্রাম অঞ্চলে এখনও কেউ কেউ ডিমকে বইদা বলে থাকে, সব বলতে আরবীতে কুল্লু শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকে আমাদের এখানে সবকে কুল্লেতা বলে। যাই হোক এই ব্লগ ভাষা নিয়ে নয় তাই এখানে এই নিয়ে আর আলোচনা করা যাচ্ছেনা, তবে সিলেটের ভাষায় আরবী ফার্সি কারা ব্যবহার করেছিল তা জানতে এই লিংক ঘুরে আসতে পারেন। http://www.alkawsar.com/article/195/print বা http://nirjonbikel.wordpress.com/tag/%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F/

  11. 4
    এম_আহমদ

     
    আমার কিছু মন্তব্য আছে। আপনার কথার পাশে স্কয়ার বন্ধনীতে আমার কথা।
     
    (১) শুরু করি কিছু নিজের ঘটনা দিয়ে। দেশের বাইরে আসার পর যখন প্রথম স্বশরীরের কিছু পাকিস্তানী ক্লাসমেট পেলাম – সেই সময়ের অনুভুতি ছিলো মারাত্মক।  পাকিস্তানীদের দেখলেই মাথায় রক্ত চড়ে যেতো। [এটাই হচ্ছে সাক্ষাৎ ফ্যাসিস্ট অনুভূতি। এটার মধ্যে ইসলাম নেই, আল্লাহ নেই, ন্যায়-পরায়ণতা নেই। এক মুসলমান এটা করতে পারে না।]  কিন্তু ওরা যেহেতু বুঝতো না – বুঝতে দিতাম না – তাই সব সময় ওরা ব্রাদার ব্রাদার করে ঘেষাঘেষি করতো। [এখানে ওদের ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ প্রকাশ পাচ্ছে, তাদের innocence প্রকাশ পাচ্ছে ] একসময় আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলাম – ৭১ নিয়ে ওরা কিভাবে? কিভাবে ৭১ মূল্যায়ন করে। [সাধারণ জনগণ কি ইতিহাস জানে? বাংলার কয় জন ইতিহাস জানে? আপনি নিজে কি ইতিহাস বেত্তা? ইতিহাসতত্ত্ব সম্পর্কে আপনি কি জানেন?]
     
     খুবই দুঃখজনক হলো – ওরা যা জানে তা খুবই ভয়াবহ ইতিহাসের বিকৃতি। [ইতিহাস বিকৃতি কি আপনার দেশে নেই? আমি আপনার কাছ থেকে জানতে চাইব “ইতিহাস জিনিসটা কি?” তারপরই হয়ত আপনার কাছ কোনটি বিকৃত ও কোনটি অবিকৃত বুঝার কথায় যাওয়া যেতে পারে] ওদের স্কুল কলেজে পড়ানো হয় – ১৯৭১ সালে ভারতের ষড়যন্ত্রে পাকিস্তান তাদের পূর্ব অংশ হারায়। [তাই যদি হয়, যদি স্কুলেই পড়ে থাকে তাহলে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি তো innocent, তার ব্যাপারে আপনার এত উষ্মা হবে কেন?] ওদের ইতিহাস শিক্ষা মুলত ভারত বিদ্বেষ নির্ভর। [‘ভারত যড়যন্ত্র করে পাকিস্তান ভাঙ্গিয়েছে’ –এমন কথা যদি সে স্কুলে পড়ে থাকে, তবে তা কি ভারত বিদ্বেষ হয়ে পড়ে? আপনার কাছে ‘বিদ্বেষ’ জিনিসটা কি?] সব বিষয়ে ভারতের দোষ – এই মনোভাব নিয়ে এরা বড় হয়। [that is a generalised statement. ভারতের অনেকের সাথে আমাদের পরিচয়। তাদের কথা বার্তায়ও দেখা যায় পাকিস্তানীরা অমানুষ, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক ঘটে যাওয়া সব কিছু ও এলাকার লোকদের কারণে: এমন অমূলক কথাবার্তা, ধ্যান-ধারণা সকল পক্ষের জনগণের মধ্যে দেখা যাবে। এটা সব দেশেই পাওয়া যেতে পারে, সব যুগে পাওয়া যেতে পারে। তারপর ভারতীয় একজন টপ মিলিটারি অফিসারের পরিবারের সাথে আমার ও আমার এক বন্ধুর পরিচয়। ওদের দৃষ্টিতে ওরাই বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়েছে। এসব কথা দিয়ে কি ইতিহাস গড়ে?]
     
    যখনকার কথা বলছি – তখন ইন্টারনেটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তেমন দলিলপত্র ছিলো না – একদিন অনেক খোজাখুজি করে কিছু ছবি প্রিন্ট করে ওদের দিয়েছিলাম – তারপর থেকে ওদের বেশীর ভাগ আমাকে এড়িয়ে চলতো। [ইন্টারনেট কি আদালতের মত? এখানে যে সব দলিল দেয়া হয়, তার আদালতি এসারটিভ মূল্য কি হতে পারে? এখানে একটি ভিডিও দেখা যাবে যেখানে এক ব্যক্তি বলছে অমুক রাকাজার তার ভাইকে মেরেছে। আবার আরেক ভিডিওতে দেখা যাবে সেই ব্যক্তি বলছে আগেরটা তাকে জোরে বলিয়ে নিয়েছে, অপর ব্যক্তি তার ভাইকে মারেনি। দলিলের technicality interrogate করে non-expert কিভাবে সত্য মিথ্যা যাচাইবাচাই করবে?]    
     
     (২) পরবর্তীতে যখন কানাডা চলে আসি – তখন একই নেইবারহুডে পাকিস্তানীদের সাথে বসবাস থেকে শুরু করে সহকর্মী হিসাবে পাকিস্তানীদের পেয়ে যাই। যেহেতু ইতোমধ্যে পাকিদের ইতিহাস জ্ঞান সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারনা পেয়ে গেছি [মনে হচ্ছে কী একটা পণ্ডিতি এখানে হয়ে যাচ্ছে! আপনার নিজ দেশের লোকদের জ্ঞান সম্পর্কে কোন ধারণা পান? আপনার নিজের জ্ঞানের ধারণা কি? তারপর  মানুষকে মন্দ লকবে {‘পাকি’} উল্লেখ করা কি ইসলাম পরিপন্থি নয়?] – তাই ওরা যখনই ব্রাদার ব্রাদার করে ঘেষাঘেষির চেষ্টা করতো – তখনই কয়েকটা প্রশ্ন ওদের করতাম --[তাদের ‘ব্রাদার ব্রাদার’ করাতে দোষ এপর্যন্ত কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মানুষ আপনার দিকে ভাই ভাই বলে অগ্রশর হচ্ছে আর আপনি arrogance দেখাচ্ছেন। বিদ্যা দেখাতে চাচ্ছেন! সাধারণ জীবনে কে কী পড়ে, কে কতটুকু জানে? একাত্তরের রাজনৈতিক/মিলিটারি বিষয়ের ব্যাপার নিয়ে এই সাধারণরা হয়ে পড়ে আপনার জ্ঞান প্রতিষ্ঠার জরিপি টারগেট!]
     প্রশ্নগুলো ছিলো --
     
     ১) তুমি বাংলা জানো না কেন, ৭১ সাথে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ (৫৬%) বাংলাভাষী ছিলো, তুমি কেন বাংলা শিখোনি? [৫৬% বাংলাভাষী থাকলেই কি তাকে বাংলা শিখতে হত? দারুণ যুক্তি! ৪৪% ভাগের ভাষা শিখাতে কি অসুবিধা আছে? শিক্ষা ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সে কিভাবে জড়িত? আপনার দেশের কয়জন উর্দু জানে? আমাদের যারা অনেকাংশে  ‘হ্যাঁয়, হ্যুয়, ক্যাছা-ট্যাসা’ বলে উর্দু, হিন্দি ও গুজরাটি চালিয়ে দেন তারা উর্দু/হিন্দি/গুজরাটি কোনটিই জানেন না। আমাদের গ্রামের অনেক মহিলারা যারা প্রমিত বাংলাও জানেন না, তারাও বাজারে গিয়ে ভাল করেই উর্দু/হিন্দিতে ‘হ্যাঁয়-হ্যুয়ে’ চালিয়ে যান। আপনার অবস্থা দৃষ্টে মনে আপনার নিজের মানসিকতা শুদ্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে। এটা না করে অপরের পিছনে বিদ্যা জাহির করা হাস্যকর হবে এবং তাই দেখাচ্ছে।]
     
     ২) ভাইতো ভাগ হলো ভারতের ষড়যন্ত্রে – কিন্তু ভাই এর যে সম্পদ তোমরা রেখে দিলে – তা কি সঠিক হলো? [এখানে যে সম্পদের দাবী তুলছেন, সে সম্পদের প্রকৃতি কি, দাবীর basis কি, সম্পদগুলো কি –সেসব প্রশ্ন আপনার নিজের দেশের লোকের উপর জরিপ চালান, দেখেন তাদের কয়জন কি জানে। এভাবে incriminating attitude নিয়ে অপরের দিকে ধাওয়া কেমন হয়?]
     
     ৩) যে সকল সৈন্য তোমাদের বাংলাদেশী বোনদের ধর্ষন করেছিলো – তাদের বিচার করা হলো না কেন? [বিহারীদের উপর ধর্ষণ সম্পর্কে আপনি কি জানেন? আমার পরিচিত একজন পাকিস্তানী আছে, সে এখন একজন বিরাট মিউজিসিয়ান। একাত্তরে তারা সবাই সপরিবারে ঢাকায় ছিল। সে বাংলায় কথা বলে, তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের উপর হামলা আর নিষ্ঠুরতা হয়েছিল। এগুলো উল্লেখ করতে তার শরীর এখনো কাঁপতে থাকে। একাত্তরে তার বয়স ১০ ছিল। এগুলোর উপর আমি লিখবো। ইন্টারনেটে তার ফটোসহ এগুলো আসবে। একতরফা এসব কথা ‘প্রোপাগান্ডিস্ট’ ছাড়া কেউ বলতে পারে না। কথা এখানেও শেষ নয়। যারা সেদিন ধর্ষণ করেছিল এর জন্য কি এই ‘পাকিস্তানীটি’ দায়ী, যার উপর এখন একজন প্রোপাগান্ডিস্ট বিদ্যা জাহির করছেন? তাদের বিচার না হওয়ার জন্য হয়ত শেখ মুজিবের সরকার দায়ী। হয়ত ভারতও দায়ী। বিদ্বেষী হৃদয় সাধারণ একজন পাকিস্তানীকে জিজ্ঞেস করে কি প্রমাণ করবে? এগুলো কি সাধারণ সিভিলিয়ানের remit-এ পড়ে?]
     
    এই তিনটা প্রশ্ন করার পর ব্রাদাররা আর ঘেষতো না। [তারা বুঝে ফেলেছে! তারা হয়ত এটাও স্কুলে পড়েছে যে বাংলাদেশের একদল লোক ভারত-ঘেষা, ভারতের দালাল, পাকিস্তানী বিদ্বেষী। তাই হয়ত পালিয়েছে।] তার উপরে আছে পাকিস্তানীদের উর্দু বাতচিত – দেখামাত্রই "হাল ক্যায় হ্যায়?" – মহা বিরক্তিকর।  এরা রীতিমতো তর্ক জুড়ে দেয় – কেন আমি উর্দু জানি না। কি সমস্যার কথা! [আমরা গত ৩৭ বৎসর থেকে পাকিস্তানীদের দেখছি, কিন্তু উর্দূ না জানলে কেউ “তর্ক” জুড়তে তো দেখি নি। আমি নিজেও উর্দু জানি না। ]
     
     (৩) … ১৯৭৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে সিমলায় যে চুক্তি হয় তাতে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধত্তোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যে সকল বিষয় একমত হয়েছিলো – তারমধ্যে ছিলো -বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দীর প্রত্যবর্তন।  সেই সুবাদে ভারত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে দিল্লীতে একটা সমঝোতা স্বাক্ষর করে – সেখানে বাংলাদেশের শর্ত ছিলো – পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে এসে ৭১ এর অপরাধের জন্যে বাংলাদেশের জনগনের কাছে ক্ষমা চাইবে এবং পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙ্গালীদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকি-যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কোন ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু পাকিস্তান কখনই সেই কাঙ্খিত ক্ষমা চায়নি। [ক্ষমা চাওয়ার শর্তে ৯০,০০০কে এবং খাটি যুদ্ধাপরাধী ১৯৫ জনকে ছেড়ে দেয়া হল?!!!! যুদ্ধাপরাধের issue ক্ষমাতেই ক্ষান্ত হল? ছেড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ‘আগামীতে’ কোন দিন ক্ষমার কথা  আসল কেন? প্রথমে ক্ষমা চেয়েই মুক্তি দেয়া হল কেন? এটা কার দোষ? ঐ পাকিস্তানী সিভিলিয়ানের দোষ?]
     
     (৪) পাকিস্তান কখনই ক্ষমা চাইবে না। কারন সেইটা তাদের জাতীয় চরিত্রের মধ্যে পড়ে না। ওরা ৭১ থেকে আজও যাদের দ্বারা শাসিত – সেই সেনাবাহিনীর অফিসারদের যুদ্ধাপরাধের বিচার করার মতো রাজনৈতিক, সামাজিক এবং নৈতিক বোধের চরম অভাব আছে সেই দেশটিতে। এখনও পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বেলুচিস্থানে এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গণহত্যা, ধর্ষন চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং যারা আশা করেছিলো বা করছেন পাকিস্তান কখনও বাংলাদেশের গণহত্যার জন্যে ক্ষমা চাইবে – তারা চরম ভুলের মধ্যে বসবাস করছেন। [আপনার দেশের মিলিটারির অবস্থা কি? গত ৪০ বৎসরে এখানে কী কী ঘটেছে? পিলখানায় কী হয়েছিল? আপনার বিচার ব্যবস্থা কেমন? চুরি, ডাকাতি, কালোবাজারি, ব্যাঙ্ক ডাকাতি, দৈনিক ধর্ষণ, হত্যা, গুম, রাহাজানি, মাছ-চুরি, বন-চুরি, ভূমি-দস্যিপনা –এগুলো সামনে রেখে আপনি নৈতিকতার কোন শিখরে আরোহণ করেছেন?]  তাই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলে – অতীত ভুলে যাও – তখন অবাক হই না – কারন হয় সে মূর্খ অথবা অতীত নিয়ে বিব্রত। কে চায় তাদের লজ্জাকর অতীত মনে রাখতে! কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে সেই অতীত যেমনটা কষ্টের – তেমনি গৌরবের – তাকে ভুলে যাওয়ার মতো কথা বলতে পারে শুধু মাত্র পাকিস্তানীরাই। [আপনি যেভাবে একটি দেশের জনগণকে নিয়ে যেভাবে কথা বলেন তা শুধু ফ্যাসিস্ট নয় বরং রেসিস্টও বটে!]
     
     (৫) আমরাও একটা সময় চরম বিপথগামী হওয়ার পথে ছিলাম। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা আর জেল হত্যার পর মুলত পাকিপন্থীরা ক্ষমতায় এসে বিকৃত ভাবে (অনেকটা পাকিস্তানী স্টাইলে) শর্টকাট একটা ইতিহাসের ভার্ষান আমাদের প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা শুরু করেছিলো। সেখান মুক্তিযুদ্ধের মুল শ্লোগান "জয় বাংলা" প্রতিস্থাপন করা হয়েছিলো "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" (পাকিস্তান জিন্দাবাদের আদলে) আর মুক্তিযুদ্ধে মহানায়কদের (বিশেষ করে প্রবাসী সরকারের বিষয়টি পুরোপুরি আড়াল করে) বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের গণকবরগুলো তখনও মাটিতে পুরোপুরি মিশে যায়নি – মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী এবং লঞ্ছিত অপমানিত মা-বোনারা তখনও ঘরে ঘরে লজ্জিত জীবন যাপন করছিলো – তাই নতুন প্রজন্ম এই বিকৃত ইতিহাসকে বর্জন করলো। [বিকৃত ইতিহাসের হিস হিস গুঞ্জন তো কেবল আ’লীগে। আ’লীগ ব্যতীত গোটা জাতি অন্য প্লাটফর্মে। ‘জাতি’ জাতি’ বলে চিৎকার করলেও আ’লীগের ভাষ্য সবাই মেনে নিচ্ছে না, নেবেও না। কেননা, যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা ইতিহাস স্বচক্ষে দেখেছেন, বা ইতিহাস রচনা  করেছেন তাদেরকে চ্যাংড়া-পোলাপান ইতিহাস শিখাতে হবে না, কেননা সেই যুদ্ধ সেই রাজনীতি, সেই কাল ও স্থানে কেবল আ’লীগ ছিল না। আরও লোকজন ছিল যারা এখন আ’লীগ করে না। এই দলটিকে অন্যান্য দলের সাথে মুজিবই হত্যা করেছিলেন, ব্যান করেছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন যে মানুষ পায় সোনার খনি আর তিনি পেয়েছিলেন ‘চোরের খনি’, তার আশে পাশে ছিল ‘চাটারের দল’, সুতরাং তার আশে পাশের লোকজন কি লিখবে আর দেশকে কোন বিকৃতি থেকে উদ্ধার করবে সেকথা আ’লীগের কিছু লোক বিশ্বাস করলেও বাকিদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে।] যদিও তাদের মধ্যে একটা অংশ বিপথগামী হয়েই রইল। সেই কারনে আজও দেখি গোলাম আজমের মতো একটা কুখ্যাত গণহত্যার হোতাকে রক্ষার জন্যে একদল তরুণ রাস্তায় পুলিশ পেটায়। [একটি গণতান্ত্রিক দেশে ফ্যাসিস্ট সরকার যখন মানুষের rallyকে  বার বার প্রতিহত করবে, তখন মানুষ তাদেরকে পিটাবে। ইতিপূর্বে বিএনপির অনেক লোকজনকে মারধর করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে, একজন এমপিকে মেরে-ধরে অসভ্যরা নগ্ন করে ফেলেছিল। এই ফেসিস্টদের কোন কথা মানুষের কাছে বিবেচ্য নয়।]  তবে সৌভাগ্যের বিষয় হলো – এদের সংখ্যা খুবই নগন্য – প্রকৃত ইতিহাস জানা প্রজন্মের পাল্লা ভারী হওয়াই চল্লিশ বছর পর কুখ্যাত গণহত্যাকারীদের আমরা আদালতের কাঠগড়ায় দেখছি। [বিচারের আশা আমরাও করেছিলাম। কিন্তু সেখানে দেখা গিয়েছে চোর, মিথ্যাবাদী, ধর্ষক, বউ-পেটানো লোক, অনেক কেসের আসামী, জেল-পলাতক, অপরের সম্পদ দখলকারী এমন অনেক  লোকজনই সাক্ষী (সাক্ষী-গোপাল!)। যারা এতদিন ধরে দলীয়-ইতিহাস-বেত্তা তারা কাঠ-কড়ায় দাঁড়িয়ে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তরে ‘ভ্যা ভ্যা’ করেছে। বলছে, জানি না, বই দেখে বলতে হবে, লাইব্রেরীতে দলীল আছে, ‘আমাদেরকে এত প্রশ্ন করা হচ্ছে কেন?’ ইত্যাদি। ইদানীং একজন হিন্দু সাক্ষী যখন সরকারী পক্ষ ছেড়ে এসে আসামীর পক্ষের সাফাই গাইল তখন এই কেস যারা বাইরে থেকে observe করছিলেন তাদের আশ্চর্যের সীমা রইল না। বিদেশী অনেক অভিজ্ঞ আইনবিদ এটা প্রক্রিয়াকে farce বলে উল্লেখ করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হল যে প্রতিপক্ষের একজন ‘হিন্দু-সাক্ষী’ যখন বলল যে তাকে থানায় নিয়ে বার বার বিপক্ষে সাক্ষী দিতে বলা হয়েছে, টাকার বান্ডিল দেখানো হয়েছে কিন্তু তখনো সে বলেছে, ‘আমি আমার মৃত মাকে বিক্রি করতে পারব না।’ এটা হচ্ছে বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার এক জাজ্বল্য দৃষ্টান্ত যা একজন হিন্দু ধর্মের লোক প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কিন্তু পৌত্তলিক মুসলমান তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কেননা সে খাটি –ওরা মেকি! মানুষ বিচার দেখতে চেয়েছিল, সার্কাস নয়। কাউকে মেরে ফেলতে পারলেই বিচার হয়না। আ’লীগের লোকজন ও অনেক মন্ত্রী আসামীদেরকে কোনভাবে মেরে কথাও আক্রোশ প্রকাশ করেছেন এবং এতে বিশ্বের অনেক লোক তাতে স্তম্ভিত হয়েছেন। ‘তাদের কয়েকটাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেই সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে’ এমন কথা বার বার শুনেছি। এগুলো বিচার নয়। এই প্রসেসকে এখন কেবল আ’লীগের কিছু লোক ছাড়া দেশ বিদেশের বিরাট জনগোষ্ঠী ‘বিচার’ মনে করেনা।]
     
     (৬)  শেষ কথা হলো – পাকিস্তান নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। [নিশ্চয় না। আপনার মত লোকজন নিরাশা নিয়েই বাচতে হবে।] নিজেদের পাপেই নিজেরা ভারাক্রান্ত্র। ইসলামের কথা বলে – মুসলিমদের আবাসস্থল হিসাবে জন্ম নেওয়া দেশে প্রতি শুক্রবারে বোমাবাজি হয়। [প্রতি জুমাবারে বোমাবাজি হয় না-এটা মিথ্যা কথা। এই বোমাবাজি ১০/১৫ বৎসর আগে ছিল না। একটি মুসলিম দেশের দুর্যোগ নিয়ে এভাবে কথা বলা কোন মুসলমানের পক্ষে ঠিক নয়। সারা বিশ্বের মুসলমানগণ তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করছে। আর নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু এবং পৌত্তলিক প্রভাবিত আরেক শ্রেনী এই মুসলমানদের বিপদ উল্লাসে আপ্লুত।] সেনাবাহিনীর প্রবল প্রভাবে দেশের মানুষ একরম নপুংষক হয়ে বেঁচে আছে। জংগীবাদ, উগ্রপন্থীদের পাশাপাশি ড্রাগ স্মাগলিংএর স্বর্গরাজ্য একন পাকিস্তান। পাকিস্তানের মানুষের অহংকার ছিলো ক্রিকেট – তা আজ তাদের জন্যে লজ্জার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও দেখেছি প্রবাসী পাকিস্তানীরা মাথা উঁচু করে অহংকারী ভংগীতে কথা বলতো বাঙালীদের সাথে – এখন ওরা আমাদের দেখলে মাথা নীচু করে রাখে – পারতপক্ষে তর্ক করে না। সাধারন ভাবে পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন এবং একটা স্থিতিশীল দেশের সস্ভাবনায় খুবই হতাশ। [এটার প্রমাণ কি? আমরা যাদেরকে চিনি তাদের কেহই এই হতাশায় হতাশাগ্রস্ত নয়। আপনি এখানে সেই হতাশার দলীল হয়ত দেবেন, আশা রইল। উলটা ইসমান খানকে তো বাংলাদেশের প্রশংসা করতেই দেখি।]এক সময় পাকিস্তানীদের একদল স্বপ্ন দেখতো – একদিন বাংলাদেশের মানুষ "ভুল বুঝতে" পারবে এবং ভাই ভাই এক হয়ে যাবে। [মুসলমানরা তো ভাই ভাই। আগেই ছিল, এখনো আছে। কেবল অমুসলমানরাই ভাই ভাই নয়।] এখন যদি জিজ্ঞাসা করা হয় – ওরা লজ্জিত ভংগীতে হেসে বলে – "কি জন্যে তোমরা আমাদের সাথে আসবে!" [কারা বলে?]
     
     পাকিস্তানীরা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বরে – কিন্তু নৈতিক ভাবে পরাজিত হওয়ার আর একটু বাকী আছে – আশা করা যায় – সেই পরাজয় তারা মেনে নেবে অচিরেই। [কিসের পরাজয় তারা মেনে নেবে? কাদের সামনে সেই মেনে নেওয়াটা হবে?] কিন্তু বাংলাদেশের ভিতরে যে পাকি-মনোভাবের একটা প্রজন্ম আছে – যারা এখনও বাংলাদেশের জন্মের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ – মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের জন্যে কি এনে দিয়েছে – তা বুঝতে অপরাগ – সেই পাকি-মানসিকতার লোকজনকে নিয়ে বাংলাদেশকে আরেকটু ভুগতে হবে। [পাকি-মানসিকতা কি? আ’লীগের কিছু ফ্যাসিস্ট ছাড়া, পাকিস্তানের মুসলমানদেরকে নিয়ে কেই আপনার মত কথা বলতে যাবে না। আমি এখানে, এই ইংল্যান্ডে, বাঙালি পাকিস্তানীদের একসাথে উঠাবসা করতে দেখছি, শিক্ষা সংস্কৃতি থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যে একই সাথে দেখছি, একই জামাতে তবলীগ করতে দেখছি, পাকিস্তানী-বাঙালী মিলে যৌথ ব্যবসা করতে দেখছি, পাকিস্তানি বাঙালীদের মধ্যে বিয়ে শাদি হতে দেখছি, এটা আ’লীগি পরিবারেও দেখছি। বাঙালী পাকিস্তানী মুসলমানদের মধ্যে সদ্ভাব দেখছি। যে কেউ ফ্যাসিস্ট এবং রেসিস্ট হবে তাদেরকে সব দিনই হিটলারের মত পরাজিত হতে হবে।]
     
    শেষ কথা। অনেক কথাই বললাম। এবারে আরো দুটি কথা সংযোগ করি। আমি এখানে যে মন্তব্য করেছি তা বরং ইসলাম এবং অনৈসলামী মূল্যবোধের বিষয় সামনে রেখে। আপনার ধ্যান-ধারণা অন্যায়ের উপর দেখা যাচ্ছে। হিন্দু-বৌদ্ধ, মুসলিম অথবা ব্রিটিশ, পাকিস্তানী, আফগানী –সকল সিভিলিয়ানদের অনেকাংশে এক কাতারের, সবাই মানুষ। কিন্তু কারো উপর generalised বিদ্বেষ রাখতে নেই, এটা ইসলামী নয়। মুহাম্মদ (সা.) মার্জনার শিক্ষা দিয়েছেন। কোন Vendettaকে রাসূল পছন্দ করতেন না। মক্কা বিজয়ে তাই সবাইকে মাফ করে দিয়েছিলেন। Vendetta শুরু হলে সেখানে পরিবারে পরিবারে, গোত্রে গোত্রে যুগপৎ যুদ্ধ চলত। রাসূলের পথই একমাত্র পথ। আমরা নাস্তিকদের ব্যাপারেও বিদ্বেষ পোষণ করি না। আমার নিজের লেখা এজন্য যে তারা আমাদের ধর্মকে আক্রমণ করছে, এবং সেখানে সব সময় পার্থক্য নির্ণয় করি। বলি, ‘ইসলাম-বিদ্বেষী নাস্তিক’ অথবা ‘ইসলাম-বিদ্বেষী হিন্দু’- এতে কেবল বিদ্বেষী পক্ষই উদ্দেশ্য হয়।  আমি বরং উপযাচক হয়ে বলব, আপনার নিজের চিন্তা-ভাবনা re-examine করুন, এবং ইসলামের আলোকেই করুন। আরও অগ্রসর হয়ে বলব, কিছু দিনের জন্য পারলে তবলীগে চলে যান। দু/এক চিল্লা দিলে অনেক পাকিস্তানীদের সাথে অন্য লেভেলে উঠা বসা করার সুযোগ পাবেন। ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের অন্য রঙ দেখতে পাবেন। আমার অনেক পরিচিত আ’লীগার তবলীগে গিয়ে সংশোধিত হয়েছেন। শাহজালাল ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়নের একজন প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল তবলীগে জামাতের সাথে জড়িত হয়ে অনেক ফালতু জাতীয়তাবাদী ধ্যান-ধারণা থেকে সরে এসেছেন। আমিও (আগে) দু/বার গিয়েছি এবং এখনো শনিবারে মাগরিবের নামাজের পরে তাদের সাথে সময় পেলে বসি। সেখানে পাকিস্তানীসহ বিশ্বের অনেক লোকের সমাগম হয়। ভাতৃত্ব অন্যভাবে দেখা যায়। আজকে মুসলিম বিশ্বের এই ছিন্ন-ভিন্ন জাতিকে ঐক্যের দিকে আহবান করার দায়িত্ব আমার আপনার সকলের। অতীতের বিভেদকে কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, কীভাবে সমন্বয় সৃষ্টি করা যায়, সেটাই সকলের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।
     
    ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

       
      আরেকটি কথা বলা হয়নি। আমার অনেক কথা আজ অনেক কড়া হয়ে এসেছে।  আগে অনেকবার চেয়েছি, অনেক কথা আমার দারুণ দৃষ্টি-কটু লেগেছে, তারপর সরে গিয়েছি, কিছু বলা হয়নি। আজকে বরং বলেই ফেললাম। কেননা আমি আমাদের সম্পর্ককে প্রথমত ইসলামের আলোকেই দেখি। আমার আবেগ ইসলামকে কেন্দ্র করেই। ভুল-শুদ্ধ এই কেন্দ্রেই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কথাগুলো কড়া হলেও আশা করব বিবেচনার দৃষ্টিতে দেখবেন। যে মূল্য কবর অতিক্রম করবে –সেটাই প্রকৃত মূল্য। এই মূল্যবোধকে ধারণ করা এবং প্রচার করাই মুসলমান হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।  

      1. 4.1.1
        এস. এম. রায়হান

        আপনাদের উভয়ের কথাতেই কিছু কিছু সত্যতা আছে। তবে ব্যাপারগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে, ব্যক্তি আক্রমণাত্মক না হয়ে, জেনারেলাইজড মন্তব্য করতে পারতেন।

        1. 4.1.1.1
          এম_আহমদ

          ভাই, সিভিলিয়ান বিদ্বেষে উভয় একই সাথে একই সাথে শুদ্ধ হওয়ার কিছু নেই। 

      2. 4.1.2
        শাহবাজ নজরুল

        হ্যাঁ এটা সত্যি যে আপনার মন্তব্য ও উত্তর বেশী কড়া হয়ে গেছে। আশা করি 'সদালাপে' সবাই সদালাপী হয়ে আলোচনা চালাবেন। আর আপনি যেভাবে বললেন, ইসলাম কে সামনে রেখে কথাগুলো বলেছেন, আশা করি আমাদের মধ্যে যে মতপার্থক্য আছে তা ইসলামের খাতিরে বড় করে দেখবেন না। আশা করি ইসলামের রজ্জুকে শক্ত করে ধরে আমাদের মধ্যেকার মতপার্থক্যকে শক্তির উতস হিসেবে দেখবেন। আবেগী না হয়ে আসুন আমরা সবাই গঠনমূলক আলোচনা করে যাই।
         

    2. 4.2
      sami23

      @আহমদ ভাই আপনার কথা সাথে আমি কিছু কথা যোগ করতে চাই।আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধী বিচার যে রাজনৈতিক হাতিয়ার তার একটা ছোট উদারন দেই। আমাদের এলাকা স্বীকৃত রাজাকার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সাহেব নিজেকে মুক্তি যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেন অথচ অন্যান্য আওয়ামী লীগের সদস্যরা উনার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সন্দেহ পোষন করে থাকেন,উনাকে কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন প্রশ্ন করলে তার সুদত্তর দিতে পারেন না।তার ধারাবাহিকতা ফল হিসেবে এলাকা দলই লোকেরা মুক্তিযুদ্ধের লেবাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।তাদের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা  প্রায় কোণঠাসা।দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে যে, আমাদের সবকিছুতে  দলই দৃষ্টিভঙ্গি দেখার প্রবণতা বেশি।বাংলাদেশ যখনি কোন কিছু দলই দৃষ্টিভঙ্গি ছেড়ে প্রকৃত দেশে প্রেমিক মনোভাব গড়ে উঠবে তখনই মহান স্বাধীনতা সার্থক হয়ে উঠবে।

    3. 4.3
      মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

      মন্তব্যটা যদিও একটু কড়া হয়েছে,তবে এর বেশিরভাগ অংশের সাথে আমি একমত।আমার মনে হয় আবু সাইদ জিয়াউদ্দীন ভাই এখনো নিজের "মুসলমান" পরিচয়টাকে "আওয়ামী লীগার" পরিচয়ের উপরে স্থান দিতে পারছেন না।সে কারণেই উনি '৭১-এ গুটিকয়েক পাকিস্তানির অপরাধের জন্য পুরো জাতিটাকেই বারবার ব্যঙ্গ করে "পাকি,পাকি" বলে অপমান করছেন আর নিজেকে নীতি-নৈতিকতায় পাকিস্তানিদের চেয়ে খুবই উন্নত ভাবছেন।

  12. 3
    ফুয়াদ দীনহীন

    -অনেক পাকিস্থানি এখনো রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বুঝে না। তারা দেশের সার্বোভোমত্ত বুঝে না। তারা ব্রিটিশদের শিখানো চিন্তা ভাবনা লালন করে। ইংলিশরা পাঞ্জাবীদের ভারতীয় ইংলিশ বানাতে সাকসেস ফুল হয়েছিল।

    -পাকিস্থান আর্মি, ব্রিটিশ আর্মি থেকে আগত। তাদের মধ্যে মদ খাওয়া এক সময় সাধারণ ব্যাপার ছিল। ব্রিটিশ আর্মির ঐতিহ্য তারা লালন করে।

    -পাকিস্থান তৈরিতে শিয়া এবং কাদিয়ানিদের ইঞ্জেনিয়ারিংয়ের প্রভাব ছিল।

    -পাকিস্থানের সব থেকে বেশী ক্ষতি করা ভুট্টোর দলকেই পাকিস্থানিরা মাঝে মধ্যেই নির্বাচিত করছে। নোটে নেওয়া উচিত, ভুট্ট শিয়া এবং তার বাবা ইন্ডীয়ানদের সিন্দুর নিকট বর্তী এলাকার ক্ষমতা নিতে আহব্বান জানিয়েছিলেন এবং সেই থেকে ঐ অঞ্চল ভারতের অংশ।

    -পাকিস্থানের জন্য সব থেকে বেশী কষ্ট শিকার করা বাংলাদেশে আটকে পড়া বিহারীদের এখনো অবহেলা করে চলেছে।

    -পাঞ্জাবীদের অনেকেই নিজেদের আরিয়ান মনে করে। উচ্চ বংশীয় অহংকার তাদের মধ্যে প্রবল। আমাদের মত কাল মানুষদের তারা পছন্দ করে না।

    -পাকিস্থানের শাষক গুস্টী নবাবজাদারা তাদের নবাবী নিয়েই ব্যাস্থ থাকেন, সাধারণ মানুষদের নিয়ে চিন্তা করার সময় উনাদের নেই।

    -সব মিলিয়ে পাকিস্থান একটি অদ্ভুত রাষ্ট্র এবং সাধারণ পাকিস্থানিরা ক্ষমতাবান ধনী শ্রেনীর খেলার শিকার। ক্ষমতা আসে যায়, নবাবজাদাদের বদল হয়, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের বদল হয় না। তারপরো পাকিস্থানের ভাল কাজগুলির মধ্যে আফগান রিফুজিদের বহু বছরের জন্য জায়গা করে দেওয়ার কথা আমি উল্লেখ করব।

    এক পাকিস্থানির মুখে "আমার সোনার বাংলা" শুনুন-

  13. 2
    এস. এম. রায়হান

    পাকিস্তানী দেখলেই বাংলায় জিজ্ঞাসা করি – "শইলডা বালা?"

  14. 1
    শাহবাজ নজরুল

    এখানে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পাকিস্তানীদের সাথেই কাজে বা মসজিদে দেখা হয়। অনেকেই বোকা কিসিমের। ধরুন আমাদের সাথেই হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে  -- অথচ কোনো কারণে ওরা বুঝতে পারেনা বাংলাদেশে আমরা সবাই উর্দূ জানিনা কেন? ঠিক কিসের ভিত্তিতে ওদের অনেকেরই মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে বাংলাদেশের সবাই উর্দু জানে -- আমার ঠিক বোধগম্য নয়।

    আপনার দেয়া পদ্ধতি বেশ মজার। অর্থাৎ, 'তুমি বাংলা জানো না কেন' এই প্রশ্ন করা, যখন তারা প্রশ্ন করে আমরা উর্দু জানিনা কেন? তাদের বাংলা জানার কোনো দরকার নেই কিন্তু পক্ষান্তরে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও বাঙ্গালীদের কাছ থেকে স্বগত ভাবেই উর্দু জানার বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবা লোককে হয় মহাবোকা নয় সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার বলতে হয়।

    অবশ্য সব দোষ পাকিস্তানীদের দিয়ে লাভ নেই। আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে অনেক অত্যুতসাহী আছেন যারা পাকিস্তানীদের ইংরেজীতে করা প্রশ্নের জবাবও পারলে চোস্ত উর্দুতে দেন। অর্থাৎ, তাদের মিথ্যা এক্সপেক্টেশন কিংবা ভুল ধারণার জন্যে আমাদের অনেক দাস-মনোবৃত্তির বাঙ্গালীও দায়ী।

    তারপরেও একটা ব্যাপার আশা করা যায়। ন্যায়সঙ্গত লোক ওখানেও আছে নিশ্চয়ই। যেমন আপনি যখন ছবিগুলো দেখালেন তখন তারা আপনাকে যেহেতু এড়িয়ে চলতো, তাতে আশা করা যায় যে তারাও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষই। কেবল তাদের ব্রেন ওয়াশড মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ওদেরকে সুযোগ পেলেই জানতে দিতে হবে আসল ইতিহাস। আমি আশাবাদী মানুষ। আমার মতে পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষ আসলে ভালো। পাকিস্তানও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে তাদের আসল সত্য জানাতে হবে। আর তারপরেও যদি কেউ অপরিবর্তিত থাকে তাহলে সে নেহায়তই অমানুষ।
     
     

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      তাদের বাংলা জানার কোনো দরকার নেই কিন্তু পক্ষান্তরে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও বাঙ্গালীদের কাছ থেকে স্বগত ভাবেই উর্দু জানার বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবা লোককে হয় মহাবোকা নয় সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার বলতে হয়।

      কয়েকটি দেশে বেশ কয়েক বছর থাকার সুবাদে বেশ কিছু পাকিস্তানীর সাথে কথাবার্তা হয়েছে। যারা বাংলাদেশি দেখলেই উর্দুতে কথা বলা শুরু করে তাদের মধ্যে দুই ধরণের লোকই আছে বলে মনে হয়েছে। মহাবোকাদের ধারণা হচ্ছে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান যেহেতু একটি দেশ ছিল, আর তাদের ভাষা যেহেতু উর্দু, সেহেতু বাংলাদেশিদের ভাষাও উর্দু হবে! এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ভারতীয়দের মধ্যেও (পাকিস্তানীদের মতো ব্যাপক হারে না) বাংলাদেশি দেখলে হিন্দিতে কথা বলার একটা প্রবণতা আছে।

      1. 1.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        উর্দু হিন্দী দুই ভাষা বাংলাদেশী মুসলিমরা বলতে  পারবে এবং বুঝতেও পারবে, তাঁর কারণ বাংলা এমন এক ভাষা যা ঐ দুই ভাষার কাছাকাছি। আমরা যে ভাবে কথা বলি সেই বলার মধ্যে হ্যায় গা গী লাগালেই ১০০ ভাগ না হোক কাছাকাছি যাওয়া যাবে। বাংগালী মুসলিমরা উর্দু ভাষা থেকে  অনেক ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে এসেছে, তাই উর্দু অখণ্ড ভারতে বাংগালী মুসলিমদের মধ্যে চর্চা চালু ছিল। কারণ ইসলাম আরব পার হয়ে প্রথম ইরানে এসেছিল। আর সেই সময় থেকেই ইসলামী কিতাবআদি ফার্সী ভাষায় অনুদিত হয়ে আসছিল। এর পর যখন ইসলাম ভারতে আসে তখন আরবী ফার্সী মিলে যে ভাষা মুসলিমদের মধ্যে চালু হয়েছিল সেই ভাষায় তা অনুবাদিত হয়েছিল। কাজেই অখণ্ড ভারতে বাংলার মুসলিমরা বাংলায় খুব কম ধর্মীয় বই অনুবাদ করেছিলেন। তাই যারা ইসলামকে জানতে এবং এই বিষয়ে জ্ঞান হাসিল করতে চেয়েছিলেন তাদেরকে উর্দু বা ফার্সী ভাষার অনুবাদের কাছেই যেতে হয়েছিল। যেটি বলছি তা আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যেই ঐ ভাষা গুলো ঢুকে গিয়েছিল।
        আমি যেটি বলতে চাই তা হচ্ছে আমাদের জীবনে উর্দু ভাষার চর্চা পাকিস্তান হবার পরপর আরোপ করা হয় নাই, তার অনেক শতাব্দী আগ থেকেই আমাদের মাঝে তা প্রচলন হয়ে আসছিল। কিন্তু পশ্চিমপাকিস্তানীদের সাথে রাজনৈতিক সংঘাত বাধার কারণে আমাদের তরুণদের মনে এই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যে, উর্দু একমাত্র পাকিস্তানীদের ভাষা, তাই এই ভাষায় কথা বলা বা চর্চা করা হারাম। অথচ হিন্দীর ভাষার কথা বললে যুগের কথা বলা হয়, বলা হয় ঘরের দরজা বন্দ করে থাকার কথা। আর সত্য কথা বলতে গেলেই প্রতিক্রিয়াশীল তকমা কপালে জুটে যায়।
         
        আমরা বাংলাদেশী মুসলিমরা যেমন হিন্দু বাংগালীদের শাক পাতার তরকারী যেমন খেতে পারি তেমনি পাঞ্জাবীদের বিরুয়ানী রেজালা। তাই উর্দু হিন্দীতে কথা বলা আমার কোন অসুবিদা হয় না। কিন্তু ঐ বেটারা তাদের দাদারও ক্ষমতা নাই একটি বাক্য বাংলা বলার। আমি এই ক্ষমতাকে আল্লাহর দান মনে করি।

        1. 1.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          অনেক বিষয়ে একমত হতে পারলাম না। বাংলাতে ফার্সীর প্রচলন ছিল, কেননা এটা ছিল রাজকীয় ও প্রশাসনিক ভাষা (যেমন নবাব সিরাজুদ্দৌলা'র ভাষা)। আরবীর প্রচলন ছিল ইসলামের আবির্ভাব ও প্রসারের জন্যে। উর্দু'র প্রচলন '৪৭ এর দেশভাগের আগে তেমন প্রচলিত ছিল বলে আমার মনে হয় না। থাকলে কিছু তথ্য/প্রমাণ দিলে ভালো হতো। সীমিত আঙ্গিকে হয়তো ঢাকার নবাব বাড়িতে উর্দুর প্রচলন থাকতে পারে -- তবে নবাব পরিবারের ভাষাও মনে হয় বিহারী ও ফার্সী ভাষা দিয়ে বেশী প্রভাবিত ছিল। আর উর্দু আমার মনে হয় হিন্দী ভাষার বেশ কাছাকাছি, যেজন্যে হিন্দী বুঝলে উর্দূও বোঝা সহজ হয়। কিন্তু উর্দু'র হরফ আরবী থেকে ধার করা বলেই এটা ইসলামী ভাষা হয়ে যায়না। এটার মূলও সংস্কৃত, যেমনটা হচ্ছে বাংলা কিংবা হিন্দীর।
           

        2. ফুয়াদ দীনহীন

          @শাহবাজ নজরুল,
          ঢাকার নবাব ফ্যামেলি কাশ্মির থেকে এসেছিলেন, যতদূর জানি সিপাহী বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করার জন্য পুরষ্কার পেয়েছিলেন তারা। 
           
          বাংলা সব সময় জন মানুষের ভাষা ছিল। এলিটরা একেক সময় একেক ভাষা ব্যাবহার করেছে। এখন যেমন তারা ইংরেজির ব্যাবহার করে।

    2. 1.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      এখন আর উর্দু উর্দু করে চিন্তা করতে হবেনা। পারলে, খোদ বাংলাদেশের মাটিতে তরুণ প্রজন্মের উপর হিন্দির আগ্রাসন ঠেকান!

      1. 1.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আপনি খুবই মজার মানুষ। উদ্দুর পক্ষে সাফাই গেয়ে হিন্দি ঠেকাতে চাচ্ছেন। কেন? হিন্দিতো মুসলমানদেরও ভাষা। কোন ভাষাই ঠেকানো দরকার নেই। আমার লেখায় ভাষা নয় -- কিছু মানুষের মানসিকতা আর সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেছি -- আপনি হয়তো বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন। 
         
        ভাষা হচ্ছে একটা প্রবাহমান বিষয় -- গ্রহন বর্জন করে ভাষা বেঁচে থাকে। যে ভাষা গ্রহন বর্জন করতে ব্যর্থ -- তা হয়ে যায় মৃত ভাষা। যেমন সংস্কৃত আর হিব্রু। বাংলা ভাষা টিকে থাকবে কিনা তা নির্ভর করে বাংলা ভাষীদের অর্থনৈতিক শক্তি উপর। ভাষার উপর নিয়ন্ত্রন বা জোরাজুরি  সুযোগ নেই। পাকিস্থানীরা মহা বর্বর এবং মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে ৫২ সালে। নতুবা অর্থনৈতিক কারনেই উদ্দু পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ভাষা হয়ে উঠতো। যেমনটা দেখছি ইংরেজদের ক্ষেত্রে। শিক্ষিত শ্রেনী গলায় টাই ঝুলানোর সাথে সাথে ইংরজীটা জিহ্বায় ঝুলিয়ে দেয় -- এর কারন হলো অর্থনৈতিক অগ্রসরতার দিকে ঝুকে পড়ার যে প্রবনতা মানুষের আছে তারই বহিপ্রকাশ ঘটে নিজেকে উচ্চশ্রেনীতে দেখানোর মাধ্যমে। 
         

        1. 1.2.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আমি উর্দুর সাফাই নয় ইতিহাস বর্ণনা করেছি মাত্র।
          তবে আমি জানি যে, আপনার জ্ঞানের সাথে আমার লব্ধ জ্ঞানের তুলনা করা যাবেনা। কারণ আমি শিক্ষা দীক্ষায় হীন। আপনি অনেক জ্ঞানী। তবে আমি যা বলছি তা এক মূর্খ কৃষক যেমন তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলে, তা হয়তো শিক্ষিত শ্রেণী মানুষের মত শ্রুতি মধুর বা ব্যাকরণ শুদ্ধ হয় না।
          আজকের বাস্তবতায় আমাদেরকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইংরেজী ভাষা শিখতে হবে, কিন্তু হিন্দী ভাষা কোন মতে নয়। কারণ এই ভাষার মাধ্যমে আমাদের তরুণ তরুণীরা শুধু সিনেমা আর সিরিয়ালের ডায়লগ শিখাতে লারে লাপ্পা করা ছাড়া কোন জ্ঞান গরিমা অর্জন করা যাবেনা।
          তবে একটি কথা -- আপনি জানেন যে, ইউরিয়া সার উৎপাদন কালে বাই প্রডাক্ট হয় পলিথিন যা সহজ লভ্য বলে আমাদের দৈনদিন কাজে ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু এর পরিনাম ভয়াবহ হতে বাধ্য। আবার ধানের কুড়াতে (ভুষি) গোখাদ্য হলে্রও তাঁর বাই্প্রডাক্ট গোবর গন্ধ ছড়ালেও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ নয়।
           
          হিন্দী আর উর্দু আমার কাছে সেই রকম। ধন্যবাদ।

    3. 1.3
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @শাহবাজ 
       
      আমিও আশাবাদী। পাকিস্তানী বলতে যদি জেনারেলাইড করে কথা বলি ভুল হবে। পাকিস্তানের এলাকাভিত্তিক মানুষদের মধ্যে চিন্তা চেতনায় নানান রকমভেদ আছে। যেমন পাঞ্জাবীরা দাম্ভিক -- এদের ভয়ে অন্যরা মুখ বন্ধ করে রাখে। করাচীর লোকজন সফট -- ওরা খুবই ভীতু ধরনের -- পারতপক্ষে দেশের বিষয়ে কথা বলে না। বেনজির ভুট্টো নিহত হবার পর দেখলাম ওদের বিভক্তি -- একদল বলছে ঠিক আছে অন্যদল চুপকরে আছে। পরে ফিসফিস করে বলে -- কথা বলা বিপজ্জনক -- কারন দেশে আত্নীয়স্বজন আছে। 
       
      মুলত দীর্ঘমেয়াদী সামরিক শাসন আর অব্যহত সামন্তপ্রথার কারনে পাকিস্তানে মুক্তবুদ্ধি চর্চার পথ বন্ধ হয়ে আছে। একদল মানুষ অর্থ বিত্তে ক্ষমতায় অনেক বেশী অগ্রসরমান হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর শাসক হয়ে চেপে বসে আছে। তার কিছু আভাস অবশ্যই বাংলাদেশেও দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে শেরে বাংলা একে ফজলুল হককে অবশ্যই স্মরন করতে হয় -- যিনি প্রজাসত্ত্ব আইন করে বাংলাদেশের সাধারন মানুষদের সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে গেছেন। মুলত ৪৭ এর পর বাংলাদেশের ভিন্ন যাত্রার কারনই শেরে বাংলা। 
       
      ধন্যবাদ। 

      1. 1.3.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        মুলত ৪৭ এর পর বাংলাদেশের ভিন্ন যাত্রার কারনই শেরে বাংলা।

        আমি আজও বুঝতে পারিনা, যে শেরে বাংলা পাকিস্তান প্রস্তা্ব করেছিলেন ১৯৪০ সালে, সেই শেরে বাংলা কেন ৪৪।৪৫ এসে মুসলিম লীগের ক্ষমতা পশ্চিমাদের হাতে দিয়ে বসলেন! দিলেন তো দিলেন কিন্তু ভারত ভাগ হবার সাথে সাথে পুর্ব বাংলায় দল বল সহ আসলেন না, মাঠ ফ্রী করে সোরওয়ার্দী নাজিম উদ্দিন গং দের কাছে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ভীত গাড়তে সুযোগ করে দিলেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published.