«

»

Dec ২১

মুসলিম জাতি – কতটা ইসলামিক – কতটা জাতীয়তাবাদ

একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরী – ইসলাম একটা বৈশ্বিক জীবন ব্যবস্থা। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে – যে কোন সমাজে একজন মানুষ সহজেই কোরান আর হাদীস অনুসরন করে জীবন যাপন করতে পারবে – এই ব্যবস্থাই আল্লাহ মানবজাতির জন্যে নির্ধারন করেছেন। 

 
“নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম” (৩:১৯) 
 
প্রচলিত রিলিজিয়ন বা ধর্ম বলতে যা বুঝানো হয় – যা শুধুমাত্র ইশ্বরের উপাসনা বা কোন বিশেষ বিষয়ে ভক্তির প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই যা সীমাবন্ধ থাকে – বাস্তব জীবনের সাথে এর তোমন কোন সম্পর্ক থাকে না। ইসলাম তার থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন। তাই দেখি উপরে আয়াতে বলা হয়ে “দ্বীন” অর্থাৎ “জীবন ব্যবস্থা”।  যা আসলে একটা বৈশ্বিক ব্যবস্থা – কোন জাতি, অঞ্চল বা গোত্রের জন্যে নির্দিষ্ট করে এই ব্যবস্থা আসেনি। 
 
এখানে যে প্রশ্নটা বারবার আসছে – ইসলামের অনুসারীগন – যাদের মুসলমান হিসাবে পরিচিতি আছে – তাদের কি একটা “জাতি”তে সংঘবদ্ধ হতে হবে? 
 
আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার লক্ষ্যে একটু গভীর ভাবে বিষয়গুলো দেখার চেষ্টা করবো।  মুসলিম জাতি বিষয়টা দেখার আগেই প্রথমই দেখা যাক – মুসলমান কে? 
 
“এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।“ (২:১৩২)
 
এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে – ইব্রাহিম (আঃ) এর পূর্বেই মুসলমান পরিচয়টা ছিলো। মুলত আদম(আঃ) থেকেই মুসলমান পরিচয় আসবে – কারন আদম(আঃ) সুষ্পষ্ঠ ঘোষনা দিয়ে জানাচ্ছেন যে উনি অনুগত বান্দাদের একজন। 
 
“তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।“(২:১৩৫) 
 
তারপর যদি আমরা এই আয়াতটা দেখি – দেখবো একটা ধারাবাহিতার মাধ্যমে মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সঃ) এর আগমন ঘটেছে এবং কোরানে পূর্বের কিতাব গুলোর ধারাবাহিকতার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। 
 
এই আয়াতের বাস্তবতা হলো আমাদের জন্যে ফরজ যে হজ্জ্ব – সেখানেতা মুলত সরাসরি ইব্রাহীম (আঃ) এবং আদম (আঃ) এর পদাংক অনুসরন করা হয়। বলা যেতে পারে হজ্জ্ব হচ্ছে পূর্বের নবী-রসুলদের সুন্নাহর অনুসরন করা – যা মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সঃ) অনুসরন করে গেছে এবং আমাদের জন্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেখে গেছেন। সুতরাং কোরানের শিক্ষা হলো – মোহম্মাদ (সঃ) এর অনুসারী ( উম্মতে মোহাম্মদ) গনই একমাত্র মুসলমান না। উম্মতে মোহাম্মদ(সঃ) মুলত মুসলমানদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। এখানে আরেকটা আয়াত দেখা যেতে পারে – যা আমাদের ভাবনাকে আরো প্রসারিত করবে – 
 
“নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না”। (২:৬২)
 
আর মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সঃ) এর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ ছিলো এমন – 
 
“বল, আল্লাহ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহীমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ভাবে সত্যধর্মের অনুসারী। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না”। (৩:৯৫) 
 
খুবই গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করতে হবে যে – মোহাম্মদ(সঃ) নিজে কখনও বলেনি আমার ধর্মের অনুগত হও। কারন মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ মনোনিত জীবন ব্যবস্থা (ধর্ম) একটা – তা হলো ইসলাম আর তার অনুসারীরা হলো মুসলমান। 
 
এই বিষয়ে আরেকটা আয়াত দেখা যেতে পারে –
 
তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনেও, যাতে রসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। (২২:৭৮) 
 
এরপরও যদি আমরা প্রচলিত সংজ্ঞায় মুসলিম নেশন থিয়োরী বিশ্বাস করি – তা প্রচার করার চেষ্টা করি তা কতটা সঠিক হবে সেই বিষয়ে ভাবনার গভীর বিবেচনার দাবী রাখে। অন্যদিকে পরষ্পরের কাছে পরিচিত হওয়ার একটা উপায় হিসাবে প্রচলিত জাতি সত্বার পরিচায়ক বা একীভূত একটা সম্প্রদায় বা ভৌগলিক অথবা ঐতিহাসিক কারনে একই ভুখন্ডে বসবাসকারী বা একই সংস্কৃতি ধারন করা একদল মানুষ যখন নিজেদের পরিচয়দানের জন্যে একটা জাতি হিসাবে চিহ্নিত হয় – তাতে সমস্যা নেই। কারন আল্লাহ এভাবেই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন – 
 
“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন”।(৪৯:১৩)
 
সুতরাং দেখা যাচ্ছে পরিচিত জন্যে জাতিগত ভাবে বিভক্তির বিষয়ে  কোন সমস্যা নেই। এই বিষয়ে হাদিস থেকে পাওয়া যাবে একই ভাষ্য – বিশেষ করে মদীনা সনদের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার শুরু হয়েছিলো – তার মধ্যেও আমরা জাতির সংজ্ঞা পেতে পারি। 
 
মদীনা সনদের মূল ধারাগুলো ছিল:
 
১) সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে। (বাকী ১২ টি ধারা পড়ুন)
 –
 
উপরে আলোচনায় দেখা যাচ্ছে জাতিগঠনের জন্যে ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে বসবাসকারীদের বিশ্বাসের বিষয়টিকে প্রাথমিক বিবেচনায় আনা হয়নি। যা আধুনিক জাতি গঠনের সাথে সাঞ্জস্যপূর্ণ এবং ইসলামের ইউনিভার্সালিটির অনুসরন করছে। বর্ণ, ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা আর গোষ্ঠীর ধারনাকে বাতিল করেই তো ইসলাম মানবতার প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং জাতি হিসাবে পরিচয়ের জন্যে কেন সেগুলো ফিরিয়ে আনা ভুল হবে বৈকি। মুসলিম জাতির যে ধারনা প্রচার করা হয় তার বিষয়ে। এবার আলোচনা সামান্য আলোচনা করা যেতে পারে। মুলত “মুসলিম জাতি” – এই ধারনার ভিত্তি হলো রসুল মোহাম্মদ (সঃ) এর অনুসারীগন একটা “জাতি”তে পরিনত হবে। এই ধারনা কোরানের শিক্ষার সাথে কোন ভাবেই খাপ খাচ্ছে না। কারন এতে উম্মতে মোহাম্মদ (সঃ)কে একটা সংকীর্ন গন্ডিতে বেঁধে ফেলার একটা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে দেখা যায়। 
 
এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কিছু গোষ্ঠী সুচতুর ভাবে মুসলিম নেশন থিয়োরী প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এরা হলো প্রধানত – বিশ্বাসীদের মাঝে যারা ইসলামকে অনুসরন করে না এবং মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহকে (সঃ) কে রসুল হিসাবে মেনে নিতে অস্বীকার করে তারা “মুসলিম জাতি” হিসাবে উম্মতে মোহাম্মদকে আলাদা করতে রাখার চেষ্টা করে – যাতে তাদেরকে সহজ টার্গেটে পরিনত করা যায়। আর যারা ইসলামের একেশ্বরবাদকে মানে না এবং তার ধ্বংস চায় – যেমন ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের “মোহামেডিয়ান” হিসাবে চিহ্নিত করেছে অনেক ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদের রূপকারগন– যারা ইসলামকে অনুপ্রবেশকারীদের ধর্ম এবং দখলদারদের মতবাদ হিসাবে বিশ্বাস করে এবং একেশ্বরবাদের বিরোধীতা করে। 
 
তাহলে সমস্যাটা কোথায় আমরা কি ধরতে পারছি? অবশ্য সেপ্টেম্বর ১১ এরপর মুসলমানরা উপলদ্ধি করতে পেরেছে যে – তাদের বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে একটা গ্লোবাল ওয়ারে শত্রুপক্ষ বানানোর জন্যে – প্রকৃতপক্ষে সমাজতন্ত্রের পতনের পর একটা গ্লোবাল লেভেলের শত্রুপক্ষ খুবই জরুরী ছিলো পুঁজিবাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্যে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে কিছু উম্মতে মোহাম্মদ (সঃ)ও তাদের শত্রুদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের পরিচয়কে সংকীর্ন করতে সচেষ্ট হয়েছে – নিজেদেরকে আলাদা করে মুসলমান জাতি হিসাবে পরিচিত করতে চায়। কেন এই কাজে মুসলমানদের মধ্যে একদল উৎসাহী – এর উত্তর দেওয়া যাবে ইতিহাস বিশ্লেষন করে  – এই বিষয়ে গভীরে না গিয়ে শুধু একটা মুল বিষয়ই এখানে দেখানো হবে। শুধুমাত্র ইতিহাস থেকে এইটুকু বলা যায় – পাক-ভারত উপমহাদেশে হাজার বছরের মুসলিম শাসনের পর যখন ইংরেজদের হাতে শাসনভার চলে যায় – তখন উম্মতে মোহাম্মদ(সঃ) কঠিন সময়ের মধ্যে পড়ে যায়। নিজেদের অস্তিত্ব সংকট কাটাতে এরা একটা আত্নরক্ষামুলক অবস্থানে চলে যায়। তাই ছোট বড় সব ক্ষেত্রেই নিজেদেরকে আলাদা পরিচয়ে পরিচিত করতে সচেষ্ট হয় – যা মুলত একটা ডিফেন্স ম্যাকানিজম। শিক্ষা, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা, ভাষার ব্যবহার এমনকি অতিতুচ্ছ নামকরনেও অতি সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। 
 
এখন অবশ্য অবস্থা বদলে গেছে – বিশেষ করে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্টতা থাকলেও ধারাবাহিক ডিফেন্স ম্যাকানিজমের চর্চা অব্যহত রয়েছে। যার ফলে মুসলমানদের আত্ন সমালোচনা বা আত্নসুদ্ধির মাধ্যমে খোলস থেকে বেড়িয়ে আসার চাইতে মুলত বিচ্ছিন্নতা আর অন্যের প্রতিদোষারোপের মাধ্যমেই নিজেদেরকে একটা সংকীর্ন সংঘবদ্ধতা আটকে রেখেছে। 
 
যাই হোক – এই বিষয়ে আলাদা গবেষনার সুযোগ রাখে এবং আশা করি ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরো আলোচনা করা হবে। আপাতত জাতিগত আলোচনায় ফেরা যাক। দেখা যাচ্ছে অনেকে কোরানের একটা আয়াতকে দলিল হিসাবে উপস্থাপন করে “মুসলিম জাতি” তত্ত্বটিকে প্রতিষ্ঠা করা চেষ্টা করেন। সেই আয়াতটি (২১:৯২) দেখা যাক – 
 
 
এই আয়াতের আরো অনেকগুলো ইংরেজী অনুবাদ আছে – 
 
Sahih International: Indeed this, your religion, is one religion, and I am your Lord, so worship Me.
 
Pickthall: Lo! this, your religion, is one religion, and I am your Lord, so worship Me.
 
Yusuf Ali: Verily, this brotherhood of yours is a single brotherhood, and I am your Lord and Cherisher: therefore serve Me (and no other).
 
Shakir: Surely this Islam is your religion, one religion (only), and I am your Lord, therefore serve Me.
 
Muhammad Sarwar: People, you are one nation and I am your Lord. Worship Me.
 
Mohsin Khan: Truly! This, your Ummah [Sharia or religion (Islamic Monotheism)] is one religion, and I am your Lord, therefore worship Me (Alone). [Tafsir Ibn Kathir]
 
Arberry: 'Surely this community of yours is one community, and I am your Lord; so serve Me.'
 
 http://corpus.quran.com/translation.jsp?chapter=21&verse=92
 
বাংলা অনুবাদ –  (21:92) তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমার বন্দেগী কর। 
 
 
 এখানে দেখা যাচ্ছে যে কোরানের أُمَّة উম্মতিন শব্দটির অর্থ হিসাবে “ধর্ম” “জাতি” সম্প্রদায়” “ভ্রাতৃত্ব” “গোষ্ঠী” ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে আর বাংলায় “ধর্ম” শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে। তাহলে কোন শব্দটি সবচেয়ে বেশী গ্রহনযোগ্য তা বুঝার জন্যে যদি আমরা আগের আয়াতটি দেখি তাহলে অনেকটা পরিষ্কার হবে। 
 
এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম। (২১:৯১) 
 
এখান সুষ্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে যে – এই আয়াতটি যারা খৃষ্টান হিসাবে নিজেদের পরিচয় দেয় তাদের উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এই আয়াতকে দলিল হিসাবে দেখিয়ে যারা “মুসলিম জাতি” কথা বলেন – তারা কতটা সঠিক তা বিশেষ বিবেচনার দাবী রাখে। 
 
উপসংহার – 
 
ইসলাম একটা বৈশ্বিক জীবন ব্যবস্থা। এরা অনুসারীরা মুসলমান। তার জাতি পরিচয় যাই হোক না কেন – তার ভৌগলিক বা নৃত্তাত্বিক জাতীয়তা যাই থাকুন না কেন – তার গায়ের রং – গোষ্ঠীগত পরিচয় যাই হোক না কেন – তার সাথে ইসলামকে মিলিয়ে পরিচয় তৈরী করা ভুল। সেইটা সংকীর্নতা। নিজেদেরকে আলাদা করে একটা সংকীর্ণ অবস্থানে আটকে ফেলার এই আত্নঘাতী প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসা জরুরী। স্পেনের ইসলামী শাসন বা ভারতের ইসলামী শাসনের পতনের কারন দেখিয়ে নিজেকে আলাদা করে পরিচিত করার মধ্যে একটা হীনমন্যতা আছে। আমি একজন “বাঙ্গালী মুসলমান” বা আমি একজন “কানাডিয়ান মুসলিম” পরিচয় দান ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। কারন কানাডিয়ান মুসলিম বলতে আলাদা মুসলিম বা ইসলামের আলাদা শাখা নেই। যখন আমি কানাডিয়ান – আমি কানডিয়ান আর যখন আমি মুসলমান – তখন আমি মুসলমান। এই পরিচয়গুলো একটা আরেকটা পরিপুরক নয় বা সাঘর্ষিকও নয়। প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে আমার পরিচয় গুলো চলে আসবে। যেমন বর্ডারে যখন পাসপোর্ট দেখাবো – তখন আমি কোন ভাবেই বলবো না আমি কোন ধর্ম অনুসরন করি – তা বলা যেমন অপ্রসংগিক হবে তেমন আমার স্থান কাল বুঝার অক্ষমতা প্রকাশ পাবে। অন্যদিকে আমি মসজিদে গিয়ে বলবো না যে আমি একজন কানাডিয়ান – এই পরিচয়ে কোন অর্থ নেই সেখানে।
 
তাই যারা মুসলিম পরিচয়ে একটা জাতীয়তা খুঁজতে চেষ্টা করেন – তাদের একটা বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরী – সেইটা হলো ইসলাম কোন ভাবেই জাতীয়তাবাদের নামে কোন মতবাদ সমর্থন করে না। একটা ঘটনা এখানে বেশ প্রাসংগিক বিবেচনা করছি – 
 
The Prophet (s) who founded the classless and universal society of Islam, actually brought various nations together and removed their tribal hues. At a gathering of three Muslims from three countries, namely Salman from Pars, Soheib from White Romans and Bilal from Black Ethiopia, an Arab named Gheys-bin- Motateba entered and addressed the above as 'foreigners'. The Prophet (s) said in anger: “Your father is the same and your religion is the same, and the Arabism of which you seem to be proud belongs neither to your father, nor to your mother (meaning Adam and Eve are the parents of all of you)". Then he declared: “He who propagates the creed of tribal solidarity or fights for its sake or offers his life for it, is not of us."
http://www.al-islam.org/islamandnationalism/9.htm (Iqtda al Sirat al Mustaqim P. 39)
 
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, তিরমিযি এবং আবু দাউদে বর্ণিত হচ্ছে, “ নিশ্চয়ই এমন কিছু লোক আছে যারা তাদের মৃত পূর্বপুরুষ নিয়ে বড়াই করে; কিন্তু আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে তারা সেই কালো গুবরে পোকার থেকেই ঘৃণিত যে তার নিজের নাক দিয়ে একটি মলের টুকরা গড়িয়ে নেয়। সাবধান, আল্লাহ্‌ তোমাদের থেকে জাহেলিয়া যুগের বংশ-গৌরব নিয়ে বড়াই করা থেকে মুক্ত করেছেন। হয় মানুষ একজন আল্লাহ্‌ ভীরু বিশ্বাসী অথবা একজন দুর্ভাগা পাপী। সকল মানুষ হল আদমের সন্তান, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি থেকে”।
 
আল্লাহ্‌র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “নিসন্দেহে আল্লাহ্‌ তোমাদের থেকে অজ্ঞতার যুগের অহংকারের কারণে ঔদ্ধত্য এবং বংশ-পূর্বপুরুষ নিয়ে বড়াই করা থেকে মুক্ত করেছেন। এখন লোকসকল দুই প্রকারের। হয় যে একজন মুমিন যে সীমালংঘনকারীদের সম্পর্কে অবগত আছে যারা ভুল করে। তোমরা সকলেই আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরি। লোকদের উচিত হল তারা যেন তাদের জাতি নিয়ে গর্ব করা ত্যাগ করে কারণ তা জাহান্নামের আগুনের কয়লাগুলোর থেকে একটি কয়লা। যদি তারা তা পরিত্যাগ না করে তাহলে আল্লাহ্‌ তাদেরকে সেই নিচু কীটগুলোর থেকেও নীচ হিসেবে বিবেচনা করবেন যারা মল-বর্জ্যের মাঝে নিজেরাই নিজেদের ঠেলে দেয়” (আবু দাউদ, তিরমিযি)
 
অতএব, গোত্রপ্রীতির কিংবা জাতীয়তাবাদের কারণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারটি স্পষ্টভাবে নিষেধ, আবু দাউদে বর্ণিত হাদীসে আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে আসাবিয়াহ’র দিকে ডাক দেয়, (ন্যাশনালিজম বা জাতিয়তাবাদ), বা আসাবিয়াহর কারণে লড়াই করে কিংবা আসাবিয়াহর কারণে মৃত্যুবরণ করে”- আরেকটী হাদীসে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ এবং দেশপ্রেমের সম্পর্কে বলেন, “এগুলো ত্যাগ কর, এগুলো তো পঁচে গেছে” [মুসলিম ও বুখারি]
 
 
সুতরাং মুসলিম পরিচয়ে সাথে অন্য কোন পরিচয় মিশিয়ে যারা নিজেদের পরিচয় দিতে চান বা যারা মুসলিম জাতির কথা বিবেচনা করেন – তারা আশা করি আরো সতর্ক হবেন। 
 
( একজন অতিসাধারন মুসলমান হিসাবে বুদ্ধি বিবেচনা সর্বোচ্চ প্রয়োগের  ভিত্তিতে আমার একান্ত নিজস্ব ভাবনাগুলোই এই লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে। সকল ভুলত্রুটির জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি –  আল্লাহ হচ্ছে সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী) 
 
 

৫০ comments

Skip to comment form

  1. 21
    sami23

    বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সুযোগ রাখে। ইসলাম একটি স্বতন্ত্র জীবন ব্যবস্থা এবং বিশ্বাস।ইসলামের principal আলোকে প্রথা, আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, প্রথা-ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি-অভ্যাস এবং জীবনের ব্যবস্থা রয়েছে আলাদা স্বকীয়তা। যাহা দরুন মুসলিমরা অন্যান্য ধম বিশ্বাস ধ্যান ধারনা চেয়ে আলাদা। মানুষের প্রাথহিক জীবন ব্যবস্থা শুরু থেকে করে ইসলামের মৌলিক সহ মানব জীবনের যাবতীয় বিষয়ে রয়েছে আলাদা সত্ত্বা।এই আলাদা সত্ত্বা ইসলামের অন্যতম মৌলিক উপাদান।মৈত্রী-চুক্তিতে খোদ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক উচ্চারিত একটি মৌল-ধারা ছিল, ‘পৃথিবীর সকল মানুষ বাদ দিয়ে মুসলমান নিজেরাই একটি স্বতন্ত্র জাতি।আল্লাহর নিকট সবাই সমান তাদের উৎস, উৎপত্তির দিক হতে, আর যারা আল্লাহকে অধিক ভয় করে তারাই শ্রেষ্ঠ আর আল্লাহর সামনে সর্বাধিক সম্মানিত।

  2. 20
    আহমেদ শরীফ

    @ মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত,

    সাদাত ভাইয়ের প্রসঙ্গান্তর না ঘটানোর সর্নিবন্ধ অনুরোধ আসার পর জিয়া ভাইয়ের সাথে ওনার নিষ্পত্তি ঘটার আগে এ নিয়ে আর আলোচনার সুযোগ আপাততঃ এই পোস্টে খুব একটা নেই। এখানে পরবর্তীতে বা অন্য কোন পোস্টে আমরা অসম্পূর্ণ আলোচনাটি শুরু করার চেষ্টা করব। এখন আমরা এই পোস্টসহ নতুন পোস্টে দেখব মুসলিম 'উম্মাহ' না 'জাতি' তা নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার বিস্তার।
     
    তবে তার আগ পর্যন্ত আপনার শেষ কমেন্টের কিছু জবাব দেবার চেষ্টা করে ইতি টানতে হচ্ছে।

    রাসুল(সাঃ) রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন,রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জিহাদ করেছেন,জিহাদ করেছেন তার আগেও।

    রাসূল(সাঃ) কখনোই রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন না কারণ 'রাষ্ট্র' নামক ধারণাটির উৎপত্তি ইউরোপে মাত্র উনবিংশ শতাব্দীতে হয়। রাসূল(সাঃ) মুসলমানদের নিয়ে মক্কা বিজয় করেন যার উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠা, প্রচার ও প্রসার। মক্কা বিজয়ের পর তাঁর অতুলনীয় উন্নত মানবিক আচরণ সর্বশ্রেষ্ঠ আখলাক দেখে অভিভূত হয়ে দলে দলে কাফিরগণ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসা শুরু করে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নয়, জিহাদ করেছেন মুসলমানদের প্রধান হিসেবে, একমাত্র আল্লাহর হুকুমে তাওহীদের ভিত্তিতে, তাওহীদ সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে।
     

    ধর্ম একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার,শুধু ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চলে না।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ,রোযা কিংবা হজ-এগুলো সবই ধর্মীয় কাজ।আর এসব করতে শুধু মুসলমানরাই বাধ্য,অমুসলিমরা নয়।কিন্তু চোরের হাত কাটা,ধর্ষকের বা খুনীর মৃত্যুদণ্ড দেয়া-এগুলো সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কাজ।এগুলো করতে না পারলে রাষ্ট্রে শান্তি আসবে না।

    ইসলাম ধর্ম ব্যক্তিগত পর্যায়ে যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যপকভাবে অনুসৃত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরোপ করা বাস্তবে সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত শরাবকে হারাম হিসেবে মানার যোগ্যতা আসে নি ততক্ষণ শরাবকে আল্লাহর তরফ থেকে হারাম ঘোষণা করাও হয় নি। মানার যোগ্যতা যখন এসে গেছে তখনই হারাম করা হয় এবং তার ওপর ব্যপকভাবে তাৎক্ষণিক আমলও হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ মেহনত ধৈর্য ত্যাগতিতীক্ষা মেহনত মুজাহাদার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে 'নামাজ' দান করা হয়। ধীরে ধীরে সাহাবা(রাঃ) ঈমান এ পাকা হয়ে ওঠার পর আহকামসমূহ বিস্তারিতভাবে নাজিল হয় এবং তা মানাও তাঁদের জন্য ততদিনে সহজ হয়ে গিয়েছিল।

    কাজেই এখনও মেহনত করে আগে ঈমান ও আমাল শিখতে হবে। আল্লাহর হুকুমের গুরুত্ব পয়দা করতে হবে অন্তরসমূহে। পরে যখন ভিত্তি মজবুত হবে তখন রাষ্ট্রীয়ভাবেও আল্লাহর হুকুম আরোপ করা সহজ হয়ে যাবে। তার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

    মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত দৌড়াদৌড়ি করে কিংবা সারাক্ষণ চোখ বন্ধ করে আল্লাহ্‌কে ডেকে অথবা তাবলীগী চিল্লায় মড়ার মত দুই মাস,তিন মাস পড়ে থেকে পরিবারের হক আদায় না করে কিভাবে আপনি আল্লাহ্‌র এসব আইন বাস্তবায়ন করবেন;সেটার একটা রূপরেখা দিলে ভালো হত।

    মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত হাজিরা দিয়ে নিয়মিত জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা রাসূল(সাঃ) ও তাঁর সাহাবী(রাঃ) সুন্নাত। যে রাসূল(সাঃ) এর পবিত্র সুন্নাতকে অবজ্ঞা করবে নিশ্চিত গোমরাহ হয়ে যাবে। জিকির করার তাওফিক পাওয়া আল্লাহর বহুতই বড় নেয়ামত। হাদিসে এসেছে কিছু সময় আল্লাহর জিকির করার তাওফিকের চেয়ে বড় নেয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য আর কিছুই হতে পারে না। সমস্ত আমাল হতে হবে আল্লাহর ধ্যানের সাথে, আল্লাহর স্মরণের সাথে। নামাজও আল্লাহর স্মরণ বা জিকির কায়েম করার জন্যই। তাবলীগি চিল্লায় সময় দিলে মানুষের মাঝে ঈমান আমালের যোগ্যতা নিশ্চিতভাবে হাসিল হয় রাসূল(সাঃ) এর সুন্নাতের ওপর চলা অভ্যাস হয় _ এটি সারা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মাঝে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত, কাজেই এ ব্যাপারে কারো সার্টিফিকেটের আজ আর প্রয়োজন নেই। আল্লাহর হক, রাসূল(সাঃ) এর হক, নিজের নফসের হক, পরিবারের হক, মুসলমানদের হক, ওস্তাদের হক, প্রতিবেশীর হক _ কারো কোন হকই জানা বা জেনেবুঝে আদায় করা সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমানী যোগ্যতা পয়দা না হয়, আমাল শক্তিশালী না হয়।

    কালকেই মহল্লায় ইংলয়ান্ডের জামাতের একজনের কাছে ফ্রান্সের ঘটনা শুনলাম, এরকম একটা ঘটনা কয়দিন আগে বাংলাদেশেও ঘটেছে, থানার ওসি সাহেব জেলহাজতের পরিবর্তে ৩ জন অপরাধীকে পাঠালেন চিল্লায় নিজের দায়িত্বে, বলেও দিলেন শুধরে না এলে জেলে ভরে দেয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা চিল্লা শেষ করে নতুন জামাতে বন্দী হয়েছে ৩ চিল্লা শেষ না করে নাকি আসবে না। তাদের আমাল আখলাকের অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সংবাদ নিজের চোখে দেখে খুব খুশি ওসি সাহেব।

    ফ্রান্সের একটি মুসলিম অধ্যূষিত এলাকায় ক'দিন আগে পুলিশ কয়েকজন উঠতি বয়েসী ছেলেকে তাবলীগি চিল্লায় পাঠালেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে পুলিশের ভাষ্য হল, জেলে দিয়ে সংশোধন কিছুই হয় না বরং অন্যান্য অপরাধীদের সাথে থেকে আরো ঘাঘু হয়ে ফেরত আসে, লক্ষ্য করা গেছে তাবলীগের জামাতে গেলে আমূল পরিবর্তন হয়ে যায়, এটি মোটামুটি অভ্রান্তভাবে কার্যকর হওয়ার কারণে সেখানেই পাঠানো হচ্ছে।      

    আগে তো ভাই 'আল্লাহ' চিনতে হবে, অন্ততঃ ফরজ নামাজের ওপর আনতে হবে, ইসলামের মহব্বত পয়দা করতে হবে, ইসলামী জিন্দেগীর ওপর চলার চর্চা-অভ্যাস জনে জনে করাতে হবে তারপর রাষ্ট্র তো আরো পরের ব্যাপার।  
     

  3. 19
    সাদাত

    জিয়া ভাই,
    অন্যদের কথার মাঝে আমাদের আলোচনা যেন হারিয়ে না যায়।
    অন্য সকল ভাই,
    আমার এবং জিয়া ভাইয়ের কমেন্টের মাঝখানে অন্য কোন প্রসঙ্গ না আনলে ভালো হয়। আমি ইসলামী রাজনীতি, দেশ বিভাগ এসব নিয়ে কথা বলছি না, একেবারে মৌলিক বিষয়ে কথা বলছি, সেটা হলো ইসলামী মতে বা সাধারণ পরিভাষায় মুসলিমদের জাতি বলায় কোন সমস্যা আছে কি না।

    1. 19.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      সাদাত,
       
      আপনার কথা বুঝতে পেরেছি। আমিও চাচ্ছিলাম এই ধরনের একটা আলোচনা হউক। আপনার প্রশ্ন উত্তর লেখতে গিয়ে দেখি বিরাট একটা লেখা তৈরী হয়ে গেছে। তাই ভিন্ন একটা পোস্টে দিচ্ছি -- আশা করি আপনার প্রশ্ন জবাব পাবেন। যদি প্রয়োজন মনে করি এই পোস্টে আবার ফিরে আসা যাবে। 
       

  4. 18
    শামস

    ——-যেমন ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের “মোহামেডিয়ান” হিসাবে চিহ্নিত করেছে অনেক ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদের রূপকারগন– যারা ইসলামকে অনুপ্রবেশকারীদের ধর্ম এবং দখলদারদের মতবাদ হিসাবে বিশ্বাস করে এবং একেশ্বরবাদের বিরোধীতা করে। —--

     
    'মোহামেডিয়ান' শব্দ পাশ্চাত্য বিশেষ করে ব্রিটিশরা ব্যবহার করত। মুহম্মদ (সাঃ) এর অনুসারীদের বিদ্রুপাত্নকভাবে তারা মুসলিম না বলে 'মোহামেডিয়ান' নামে ডাকত। ইউরোপে অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদেরও তারা নানা বাজে নামে ডাকত। মুসলিমরা সাক্ষাত শয়তান, মূর্তিপূজক, বারবার ইত্যাদি। তাদের সাহিত্যেও তারা এসব ব্যবহার করত। তবে মুসলিম স্কলাররা এর প্রতিবাদ করেছে বলেও জানা যায়। আবার ট্রাপেও পড়েছে, যেমনঃ আমাদের মোহামেডান নামে ক্রীড়াসংস্থা আছে। তবে এখন সবকিছু ছাপিয়ে 'মুসলিম'টাই তারা ব্যবহার করে বাঁ করতে একরকম বাধ্য হয়েছে।
     

    1. 18.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      দারুন একটা জায়গায় ফোকাস করলেন। মোহামেডানের জন্ম হয়েছিলো মোহনবাগানের কাউন্টার হিসাবে -- সোজা ভাষায় সাম্প্রদায়িক রেষারেষী থেকেই এবং আমরা আজও তা ধরে রেখেছি। এইটা আমার বুঝের অভাব। মুসলিম জাতীয়তাবাদের একটা প্রচেষ্টা হয়েছিলো এক সময় -- হিন্দুদের যা আছে আমাদেরও তা থাকতে হবে -- সেই মানসিকতা থেকেই এর জন্ম। 
       
       

  5. 17
    সাদাত

    জিয়া ভাই,
    ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
    আলোচনা ধীরে ধীরে একটা এটা করে আগাই।
    আপনার দেওয়া উইকি’র ডেফিনেশন অনুসারে মুসলিমদের একটা জাতি বলতে তো কোন অসুবিধা দেখছি না। কেননা এটাও একটা সংজ্ঞা: A nation may refer to a community of people who share a common language, culture, ethnicity, descent, or history. (ভালো করে খেয়াল করুন or বলা হয়েছে and নয়)। কাজেই এই সংজ্ঞা অনুসারে,
    Common culture এর কারণে মুসলিমদের একটা জাতি বলা যায়।
    Common ethnicity এর কারণে মুসলিমদের একটা জাতি বলা যায়।
    Common history এর কারণে মুসলিমদের একটা জাতি বলা যায়।
    নয় কি?

    1. 17.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      জাতি শব্দটি এসেছে জাত শব্দ থেকে। আর জাত হচ্ছে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত পরিচয়, তাইতো মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি বলেই আমি মানুষ্যজাত, তেমন করে পুরুষ হয়ে জন্মেছি বলে আমি পুরুষ জাত, তেমন করে মুসলিম বাবা মার ঘরে জন্মেছি বলে মুসলিম জাত, তেমন করে বাংলাভাষী মা বাবার ঘরে জন্মেছি বলে বাংগালীজাত, তেমন করে বাংলাদেশে জন্মেছি বলে বাংলাদেশীজাত, তেমন করে শেখ বংশে জন্মেছি বলে শেখজাত, এত সব আমার জন্মসূত্রে প্রাপ্ত পরিচয়। আমি কোনটিকে পরিত্যাগ করতে পারিনা। তবে যেহেতু ইসলামী দর্শন মানলে আমাদেরকে ইসলামী ভ্রাতৃত্বকে সবার উপরে মর্যাদা দিতে হবে। যিনি অন্য কিছুকে ইসলামের উপরে গুরুত্ব দিবেন তিনি কি আর মুসলিমজাতে থাকতে পারবেন কি? আর একটি কথা উম্মাহ যদি জাত না হয় তাহলে উম্মাহ কি হবে? ইসলামী ব্রাদারহুড? বিশ্বমুসলিম জনমন্ডলী? অনুবাদের যা আসেনা কেন মূল কথা হচ্ছে এই ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বোধ বলেন আর বিশ্ব মুসলিম জনমন্ডলী বলেন আল কোরআন এবং হাদিস জানাচ্ছে যে আমরা এক দেহ। আমরা যেন পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন না হই। আর এই বিচ্ছিন্ন না হবার আহ্বান ঐক্য বজায় রাখার আহ্বানের জন্য আমরা বিশ্ব মুসলিম একদেহ হয়ে থাকি তাহলে সেই দেহকে উম্মাহ বলেন আর জাতি বলেন তাঁর অর্থ কিন্তু এক। এই আঞ্চলিকতা আর জাতিয়তার সংজ্ঞা ইউরোপীয়রা তারা তাদের সুবিধা মত করেছে বলেই আমরা তাদের সংজ্ঞামত মেনে নিতে হবে এমন যুক্তিতো হতে পারেনা। এই পৃথিবীর মানুষ যখন আবার এক মানুষজাতে পরিণত হবে তখন না হয় ইসলাম দর্শন ভিত্তিক জাতিয়তাকে বেকডেটেড বলে পরিহার করা যাবে, তাই যতদিন সেই অবস্থায় ফিরে যেতে পারছিনা ততদিন ইসলামী জাতিয়তাই হচ্ছে সব চেয়ে প্রগতিশীল ।

      1. 17.1.1
        শামস

        উন্মাহ আর জাতি দুটোর মধ্যে পার্থক্য কি বাঁ কতটুকু কমন তা জানতে পারলে বিষয়টা পরিষ্কার হতো। আর জাতির সংজ্ঞা আমাদের এখন পাশ্চাত্যের থেকেই ধার নিতে হবে। তার চেয়ে উন্মাহকে ভালোভাবে জানতে পারলেই আসল কাজ হবে।
        আমি যতটুকু বুঝলাম তাতে মনে হলো জাতিয়তার ভিত্তি সাংস্কৃতিক, অপরদিকে 'উন্মাহ' তওহীদ ভিত্তিক। তহহীদের ভিত্তিতে উন্মাহতে সাংস্কৃতিক মিল থাকবে বা সাংস্কৃতিক আচরণ তওহীদকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। কেউ একজন মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করেই মুসলিম জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তওহীদ তার কাছে প্রাইমারী কনসারণ নাও হতে পারে। আমাদের অঞ্চলে বলে গরু খাওয়া মুসলমান! হয়তো এজন্যই মুসলিমদের আজ এতো সমস্যা! কিন্তু উন্মাহভিত্তিক মুসলিম পরিচয়টা ধর্মকে অনেক বেশী ধারণ করে। একজন বিধর্মী যখন ইসলাম গ্রহণ করে তখন সে মুসলিম জাতীয়তার জন্য করবে না, করবে তওহীদের জন্য। 
        তবে সেই 'উন্মাহ'কে আরো গভীরভাবে জানার প্রয়োজন।

        1. 17.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          ভাই আমার ১১ নং কমেন্ট দেখেন, সেখান থেকে জানতে পারবেন উম্মাহ এর অর্থ কি? ধন্যবাদ।

        2. 17.1.1.2
          আহমেদ শরীফ

          কিন্তু উন্মাহভিত্তিক মুসলিম পরিচয়টা ধর্মকে অনেক বেশী ধারণ করে। একজন বিধর্মী যখন ইসলাম গ্রহণ করে তখন সে মুসলিম জাতীয়তার জন্য করবে না, করবে তওহীদের জন্য। 
          তবে সেই 'উন্মাহ'কে আরো গভীরভাবে জানার প্রয়োজন।

           
          এটাই মূল পয়েন্ট।

          তাওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যই ধর্মকে বেশি ধারণ করে এবং এটাই ছিল আদি 'মুসলিম জাতিয়তাবোধ' এর মূল চেতনা। কোরআন-হাদিসভিত্তিক মূল চেতনা। যা আজ যুগের হাওয়ায় বিভিন্ন রকমের তত্বের ধূলোর স্তর পড়ে মলিন হয়ে গেছে।

          যেমন অনেকেই 'ইসলামী রাজনীতি' বা 'জিহাদ' এর কথা বলেন। শুনে মনে হবে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বুঝি বা ছিলেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ ও যুদ্ধবাজ সেনানায়ক(নাউজুবিল্লাহ)। ওভাবেই ইন্টারপ্রেট করা হয়ে থাকে। আদতে কিন্তু রাসূলুল্লাহ(সাঃ) ছিলেন পিওর একজন ধর্মপ্রচারকই। আরবের বিভিন্ন গোত্রকে তাওহীদের ভিত্তিতে একত্রিত করতে গিয়ে স্বভাবতঃই মাঝে মাঝে যে কৌশলগুলোর আশ্রয় নিতে হয়েছে সেগুলো রাজনীতির সংজ্ঞায় পড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী শত্রুতা-আত্মরক্ষা-অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে যোদ্ধার বেশও ধারণ করতে হয়েছে বটে, সেও ধর্মের কারণেই ধর্মকে কেন্দ্র করেই।

        3. আহমেদ শরীফ

          * সংযুক্তি :-

          তার মানে এই নয় যে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) 'ইসলামী রাজনীতি' করেছেন বা সেই দোহাই দিয়ে কারো ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করাকে জায়েজ করা যাবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ(সাঃ) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী যিনি আল্লাহর ধর্ম দুনিয়াতে প্রচার করেছেন।

          সুতরাং যেখানে তাওহীদের আওয়াজ নেই আল্লাহর আনুগত্যের ভিত্তিতে উম্মতের কল্যাণকামিতার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে উম্মতকে ডাকা হয় না, সেটি ইসলামের কোন আওয়াজ নয়। মুসলিম তথা মানবতার কল্যাণকামিতার পরিবর্তে ইসলামের দোহাই দিয়ে উম্মতের রক্ত ঝরানো-হত্যা-লুন্ঠন ইত্যকার ধর্মকে বর্ম হিসেবে রেখে আড়ালে দুনিয়া শিকারকে জায়েজ করারও কোন সুযোগ নেই।  

        4. মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

          আপনি ধর্ম আর রাজনীতির পার্থক্য বুঝলে এই ধরনের হাস্যকর মন্তব্য করতেন না।

        5. আহমেদ শরীফ

          @ মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত,
           

          আপনি ধর্ম আর রাজনীতির পার্থক্য বুঝলে এই ধরনের হাস্যকর মন্তব্য করতেন না।

          ধর্ম আর রাজনীতির পার্থক্য বোঝেন না তারাই 'ইসলামী রাজনীতি' র অলীক কথা বলেন।

          'ইসলামী রাজনীতি' একটি এ্যাবসার্ড শব্দ যেমন 'ইসলামী সঙ্গীত' বা 'ইসলামী ব্যাংক'। ইসলামে এগুলোর কোন স্থান বা অস্তিত্ব নেই তবুও ইসলামকে জড়িয়ে জোড়াতালি দিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়।

        6. মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

          রাসুল(সাঃ) রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন,রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জিহাদ করেছেন,জিহাদ করেছেন তার আগেও।কেন তিনি এত মার খেলেন?নিজে ওহী পেয়ে নিজে মুসলিম হলেই তো পারতেন।তার কি দরকার ছিল ইসলাম প্রচার করার?কারণ ইসলাম শুধু একটা ধর্ম নয়,এটা একটা পরিপূর্ণ আদর্শ।ধর্ম একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার,শুধু ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চলে না।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ,রোযা কিংবা হজ-এগুলো সবই ধর্মীয় কাজ।আর এসব করতে শুধু মুসলমানরাই বাধ্য,অমুসলিমরা নয়।কিন্তু চোরের হাত কাটা,ধর্ষকের বা খুনীর মৃত্যুদণ্ড দেয়া-এগুলো সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কাজ।এগুলো করতে না পারলে রাষ্ট্রে শান্তি আসবে না।মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত দৌড়াদৌড়ি করে কিংবা সারাক্ষণ চোখ বন্ধ করে আল্লাহ্‌কে ডেকে অথবা তাবলীগী চিল্লায় মড়ার মত দুই মাস,তিন মাস পড়ে থেকে পরিবারের হক আদায় না করে কিভাবে আপনি আল্লাহ্‌র এসব আইন বাস্তবায়ন করবেন;সেটার একটা রূপরেখা দিলে ভালো হত।
           
          ইসলামি ব্যাংক,ইসলামি সঙ্গীত-এসব শব্দ আপনার ভালো লাগে না,তাই না?কেন ভালো লাগে না?পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে পুঁজিবাদ বলতে পারলে ইসলামে থাকা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলায় আপনার মাথাব্যথা কেন?নাকি সেটাকেও পুঁজিবাদ বলতে হবে?নামটা না বললে মানুষ কিভাবে বুঝবে যে এটা কোন আদর্শের অর্থব্যবস্থা?অনেক সাহাবি জিহাদের সময় কবিতা আবৃতি করে অন্যদের চাঙা রাখতেন,রাসুলের(সাঃ) সামনেই।তাহলে ইসলামি সঙ্গীত আপনার খারাপ লাগে কেন?রক গান পছন্দ নাকি আপনার?(আমি বলছি না বর্তমানে ইসলামি সঙ্গীতের নামে যেসব চালানো হয়,সেগুলো ঠিক।আমি এটাও বলছি না যে ইসলামি ব্যাংক ১০০% ইসলামের উপর আছে।আপনি ইসলামকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন একটা নামসর্বস্ব একটা ধর্ম হিসেবে দেখাচ্ছেন-আমার আপত্তি সেখানেই।)
           
           

  6. 16
    আহমেদ শরীফ

    * এখানে মূল কনফ্লিক্টটা যেখানে হচ্ছে তা হল ধর্মীয় পরিচয়সূচক সম্প্রদায়গত এক ধরণের আত্মাভিমান ও জাত্যাভিমানের আবেগ থেকে 'মুসলিম জাতি' শব্দটির যত্রতত্র ব্যবহার _ যা ভাষাগত, আঞ্চলিক, রাষ্ট্রগত, গোত্রগত স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের সাথে মিল রাখে। যার ফলে এক ধরণের ধর্মীয় সম্প্রদায়গত 'আসাবিয়াত' এর উৎপত্তি ঘটে যে চেতনার উম্মেষ ইসলামে নিষিদ্ধ।

    এটি ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ ইসলামের জাতিয়তাবোধের ভিত্তি হচ্ছে কোরআন ও সুন্নাহ। কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তির মূল হচ্ছে 'তাওহীদ' ও 'রিসালাত' বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর আনুগত্য। এর ওপরেই রাসূল(সাঃ) এই উম্মাহকে রেখে গিয়েছিলেন। এখন মুসলিম উম্মাহর জন্য যদি সত্যি ইতিবাচক কিছু করতে হয় তাহলে এটির ভিত্তিতেই আবার উম্মাহকে একত্রিত, সংগঠিত করতে হবে।

    আসল কাজ না করে 'আমরা কোরআনে বর্ণিত মহান মুসলিম জাতি' গোছের অর্থহীন আত্মতুষ্টিতে ভুগে গর্বিত হওয়া ফলপ্রসূ কিছু বয়ে আনবে না।

    1. 16.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       
      @আহমেদ শরীফ
      একদম মুল জায়গাটায় ধরেআলো ফেলেছেন।
       
      আমি কৃত্রিম জাত্যাভিমানকে দুই ভাবে দেখি -- প্রথমত এতে শয়তান সফল হয় -- কারন যখন মানুষের মাঝে সামান্য পরিমান অহংকারও জন্ম নেয় -- তা শয়তানের লাভ -- তার মিশনটাও তাই -- হোক না তা ধর্মের নামে বা জ্ঞানের নামে। আর দ্বিতীয় যে বিষয়টা এখানে গুরুত্বপূর্ন তা হলো ইসলামের জন্যে পুরো বিশ্ব -- পুরো মানবজাতি উন্মুক্ত -- আর যখন আমরা মুসলিম জাতীয়তাবাদের নামে নিজেদের একটা সংকীর্ন গন্ডিতে আটকে ফেলি -- তাতে নিজেদের পিছনে হাঁটা হিসাবেই বিবেচিত হবে -- কারন এই ইসলামের অনুসারীরাই একসময় বিশ্ব শাসন করেছে -- জ্ঞান -- বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি দিয়ে -- কেন আমরা আবারো আল্লাহর কাছে আমাদের মর্যাদার জন্যে প্রার্থণা করবো না। যদি আমরা না চাই -- বা নিজেদেরকে সেই পর্যায়ে নেওয়ার মতো জ্ঞান আর কর্ম অর্জন না করতে পারি তা হলে আল্লাহর সাহায্য আসবে না।
       
       

      1. 16.1.1
        আহমেদ শরীফ

        'নিজে কোরআন-সুন্নাহর ধারে কাছেও ব্যক্তিজীবনে হাঁটেন না কিন্তু মুসলিম বা ইসলামের বিজয় চান' এ ধরণের বহু লোকের বিচিত্র প্রত্যাশা দেখার দূর্ভাগ্য আমার হয়েছে। এ আশা যে নিতান্তই দুরাশা মাত্র তা তারা অনুভব পর্যন্ত করতে পারেন না। মুসলমানের এই স্ববিরোধিতা আত্মপ্রতারণা আদতে ইসলামের অতটুকু ক্ষতি করে চলেছে যে পরিমাণ ক্ষতি অমুসলিমরা করতে পারে না _ এই বোধটুকুই এখন অসাড় হয়ে গিয়েছে।  

        এই বিষবৃক্ষের ফলস্বরুপ জন্ম নিয়েছে ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গী যা হিটলারের সময় দেখা গিয়েছিল। ফলতঃ এক পর্যায়ে নিজেরা 'আর্য জাতি' হওয়ার অজুহাতে গোটা বিশ্বের অন্যান্য জাতিসমূহের ওপর প্রভুত্বকামিতার সাম্রাজ্যবাদী অভিলাষের আত্মবিধ্বংসী নীতি গ্রহণের কারণে নিজেদের অসাধারণ সদগুণগুলি যা জার্মানদের ছিল সবকিছু সহ অপার সম্ভাবনাময় গোটা জার্মানিই পিছিয়ে যায় শত বা হাজার বছর।

        মুসলিম আজ সর্বক্ষেত্রে পরাজয় ও ধর্মীয়-নৈতিক অধঃপতনের পঙ্কিলতার চোরাবালিতে হাবুডুবু খেতে খেতে তলিয়ে যেতে যেতে বিগত সোনালী যুগের মহাপুরুষদের পথ অনুসরণের পরিবর্তে 
         অসহায়ের মত এখনো 'মুসলিম জাতি' হওয়ার আত্মতৃপ্তিতে ভুগেই সান্ত্বনা খুঁজে পেতে চাইছে _ যা তাকে আরো অধঃপতন ও করুণতর পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ হয়তো ধৈর্যহারা মরিয়া হয়ে বেছে নিচ্ছে হঠকারি সিদ্ধান্ত। ফলতঃ যে উম্মাহকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আগত সমস্ত মানবজাতির কল্যাণকামিতার জন্য বাছাই করা হয়েছে, ত্যাগতিতীক্ষার মাধ্যমে রাসূল(সাঃ) তরিকাহ তথা দ্বীনের সৌন্দর্যের জীবন্ত প্রদর্শনী করে মানুষকে অভিভূত করার মাধ্যমে দ্বীনের সুশীতল নিরাপদ ছায়াতলে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে _ তারা নিজেদেরকে এমনকি ইসলামকে করে তুলেছে অন্যদের 'প্রতিপক্ষ'।  

        পুরো  যুদ্ধক্ষেত্রে যুযূধান অবস্থা থেকে পর্যন্ত রাসূল(সাঃ) বাহিনী ফিরিয়ে এনেছিলেন আগে দাওয়াত দেয়া হয় নি সেজন্যে, পুনরায় নির্দেশ দিয়ে আবার পাঠান এই বলে যে "আগে ইসলামের দাওয়াত দাও মানলে তারা তোমাদেরই ভাই, তাদের শাসন তাদের হাতেই দিয়ে চলে এসো, অন্যথায় বশ্যতার শর্তে জিযিয়া করের আহ্বান, একান্ত বাধ্য হলে শেষ পর্যায়ে ধর্মযুদ্ধ।"

        এজন্য আগে নিজেদের দ্বীন শিখতে হবে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঠিক করতে হবে। ওমর পালনপুরী(রহঃ) তাফসির করেছিলেন "ইয়া কানা'বুদু ওয়া ইয়া কা নাসতাঈন" _ শাব্দিক অর্থ তো হল "আল্লাহ আমরা আপনারই এবাদাত করি আর আপনার কাছেই সাহায্য চাই", ওনার তাফসির হল এর অর্থ "আল্লাহ আপনি যা বলেছেন বা হুকুম করেছেন তা আমি করে দিচ্ছি তবে এর পর কিন্তু আমি যা বলব আপনি করবেন।" এটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। সাহাবাগণ(রাঃ) নিজেদের দায়িত্বে থাকা অংশ যখন পুরণ করলেন, আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে তাঁর অসীম কুদরতের দ্বারা নিজের দায়িত্বে থাকা অংশ পূরণ করে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিলেন। এখনও আমরা যদি আমাদের অংশ শুধু নামাজে তেলাওয়াত করাতেই সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে আল্লাহর শর্ত অনুযায়ী পূরণ করতে সচেষ্ট হই _ (নাউজুবিল্লাহ) এরকম কখনো হতেই পারে না যে আল্লাহ সর্বশক্তিমান হওয়া সত্বেও নিজের ওয়াদা পূরণে পিছপা হবেন। এরকম কখনোই ইনশাআল্লাহ হবে না।    

  7. 15
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    মুনিম ভাই --
    আপনি একটা জায়গায় আটকে যাচ্ছেন বারবার -- জাতির যে সংজ্ঞা পশ্চিমা ভাবধারা থেকে এসেছে তার সাথে সামান্য একাত্বতা বোধ থেকে যদি কেউ মুসলিম জাতির চিন্তা করে -- সে বিরাট ভুল করবে। উম্মা এবং কাওম ছাড়াও আরেকটা জায়গায়  বাংলা অনুবাদে জাতি শব্দটা ব্যবহূত হয়েছে। আপনি আয়াতটা দেখুন ।(৪৯:১৩) এখানে সুস্পস্টভাবে জাতির বিষয়ে কথা বলা হয়েছে এবং জাতি হিসাবে পরিচিতর জন্যে অনুমোদন পাই। সেই সুবাদে আমরা সহজেই নিজেদের পরিচয়ে জন্যে বাঙালী বা বাংলাদেশী পরিচয় দিতে পারি। কিন্তু সেই পরিচয়কে ছাপিয়ে যখন জাতীয়তাবোধের গর্ব আমাদের আচ্ছন্ন করবে তার বিপদের কথাই আলোচনা করেছি এই লেখায়।  
     
    -- অনুবাদ যারা করেছেন উনারা ভুল করেননি -- করছি আমরা যারা অনুবাদের উপর ভিত্তি করে আমাদের বুঝটাকে স্থির করে ফেলছি। উম্মার অনুবাদ নিয়ে উপরে একটা ব্যাখ্যা আছে -- দেখতে পারেন। 
    আমি পাকিস্তানী (মুসলিম) জাতির কথা বলতে চাইছিলাম না -- কারন এতে আলোচনা ভিন্ন দিকে চলে যাবে -- কিন্তু দেখুন কি হতে পারতো আর কি হয়েছে তার মধ্যে কি হয়েছে তা নিয়ে্ আমি বেশী আগ্রহী। কি হতে পারতো তা নিয়ে কথা বলা খুবই হাইপোথিটিক্যাল। এই ভারতবর্ষকে শাসন করার জন্যে  ক্রীতদাস বা মমলুকরাও এসেছিলো -- কুতুব উদ্দিন আইবেক শাহ নিশ্চয়ই লক্ষ লক্ষ সৈন্য নিয়ে ভারতে এসে সামরিক শাসন দিয়ে শাসন করেননি। ইসলামের মুল লা ইলাহা ইল্লালাহকে ধারন করে এসে ভারতে সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেই ইতিহাস আমরা জানি। সেই সময়ও হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা ছিলো এবং সংখ্যাগরিষ্ঠই ছিলো। সেই অঞ্চলেই আমরা পরবর্তীতে হিন্দু শাসকতের ভয়ে আলাদা ভৌগলিক সীমানার জন্যে ব্যাকুল হয়ে নিজেদের একটা সীমানায় আটকে দিয়ে আত্নতৃপ্তি বোধ করলাম। কি আইরনি! কেন আমরা ভাবতে পারলাম না ভারতে আল্লাহ মশালটা আমাদের হাতেই থাকবে। 
    খুব ভাল করে ভেবে দেখুন -- মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কিন্তু তখনও কংগ্রেসের প্রধান ছিলেন এবং মুসলমান নেতারা যদি উনাকে সমর্থন দিতো -- উনিও হতেন ভারতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী -- আমরা হয়তো অন্যরকম ইতিহাস -- অন্যরকম ভারত দেখতাম -- সেইটা হয়নি। 
    বাংলাদেশ একটা স্বাধীন ভুখন্ড হয়েছে তার জন্যে যতটা না কৃতজ্ঞ তার চেয়ে বেশী কৃতজ্ঞতা জানাই মহান আল্লাহ কাছে যে উনি মুসলিম জাতির নামে একটা জুলুমের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন।
     
    রাজনীতির কথা আনতে চাচ্ছিলাম না -- তারপরও আপনি পাকিস্তানের কথা বললেন -- পাকিস্তানের জন্মই হলো আজন্ম পাপ। এরা আমেরিকান ক্রীড়ানক হয়ে এই অঞ্চলে কাজ করেছে। আমেরিকার হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ করেছে -- আর ভুলে গেছে তাদের আসল পরিচয়। 
    যাই হোক -- জাতীয়তাবাদের বিষয়ে আরো কিছু কথা বলার আছে -- পরবর্তী পোস্টে ইনশা আল্লাহ বলার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ। 
     

  8. 14
  9. 13
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @ মুনিম ভাই --
     
    ইংরেজরা ২০০ বছর আমাদের শাসন করেছে আর চলে যাবার আগে নিশ্চিত করেছে যেন আগামী ২০০ বছর আমরা ওদের গোলামী করি। কিভাবে সেটাই সম্ভব। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন -- আমাদের চিন্তাধারা, জ্ঞান যে শিক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত তার পুরোটাই ইংরেজদের হাতে করা আর আমরা আধুনিকতা নামে সেই শিক্ষাকেই বহন করে চলছি। 
     
    এ্‌ইটা অনেকের জন্যে সমস্যা না। দিব্যি গলায় টাই ঝুলিয়ে টুকটাক ইংরেজী বলে দেশী সাহেব হয়ে উচ্চমর্যাদায় বসবাস করে। সমস্যা হলো আমাদের মতো কিছু মানুষের যারা পশ্চিমকে মগজে নিয়ে ইসলামকে বুকে ধারন করি। ফলে ইসলামী অভিধানকে পশ্চিমী অভিধানের ভিতর দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। জাতীয়তার বিষয়টি পুরোপুরি অনৈসলামিক। এই কথাটা বুঝার জন্যে আমাদের পশ্চিমের জাতিয়তাবাদী সংজ্ঞাকে মাথা থেকে আগে ঝেড়ে ফেলতে হবে। তারপর ইসলামী সমাজ ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে মাথায় ঢুকাতে হবে। 
     
    মুসলমানদের জাতি গঠনের জন্যে কোন শ্রম ব্যয় করার দরকার নেই। ইসলামের মুল হলো তওহীদ আর তওহীদের আহ্বান সকল জাতি বর্ণ সম্প্রদায়ের বিভাজনকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। যখন মুয়াজ্জিন আযানের আল্লাহু আকবর বলে সবাইকে আহ্বান করে -- তখন কোন জাতি, বর্ণ অঞ্চল বা সম্প্রদায় বা বংশের পরিচয় দেবার দরকার হয় না -- সবাই সোজাসুজি আল্লাহ উদ্দেশ্যে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। মুল হলো সেইটা। 
     
    বর্তমান প্রেক্ষাপট দেখে অনেকের মনে হয়তো শংকা জাগে যে মুসলমানদের টিকে থাকার জন্যে ঐক্য দরকার আর ঐক্যের ভিত্তি হবে একটা জাতীয়তাবাদ। আমরা মুসলিম জাতি হিসাবে কঠিন ঐক্যের মাঝে টিকে থাকবো। সেইটা ভুল। '
     
    ইতিহাস দেখুন -- যখস মংগলদের হাতে মুসলমানরা প্রবলভাবে পরাস্ত হচ্ছিলো -- তখনও কিন্তু মুসলমানরা ছিলো একটা বিশাল ভৌগলিক সীমানায় বসবাস করা জনগোষ্ঠী ( প্রচলিত ভাষায় বলতে পারি জাতি) -- কিন্তু মুসলমানদের অর্থ জনবল আর বিশাল সেনাবাহিনীও সেই দিন কাজে আসেনি। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামিন অবশেষ মুসলমানদের আবারো ক্ষমতাবান করলেন -- আবারো মুসলমানদের হাতে ন্যয়দন্ড তুলে দিলেন -- কিন্তু তা হলো একদল ক্রীতদাস (মমলুক) আর ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহনকারী মংগলদের হাত দিয়ে। কি অসীম রহমত আল্লাহর। 
     
    ইসলামের কোন শর্টকার্ট নেই। রাস্তা একটাই -- সিরাতুল মোস্তাকিম -- এইটা যেমন ব্যক্তিজীবনের জন্যে -- তেমনি সমাজ এবং বিশ্বের জন্যে সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন তওহীদের উপর যখন প্রতিষ্ঠিত হবে মুসলমানরা -- তখন আবারো ন্যয়ের দন্ডটা মুসলমানদের হাতে চলে আসবে। সবচেয়ে আগে যা দরকার -- সেই জন্যে আমাদের প্রস্তুতি -- নিজেদের পরিবর্তন করা -- পুরোপুরি কোরাআন আর হাদিসের উপর প্রতিস্থিত করে আল্লাহ সাহায্যের জন্যে প্রার্থনা করা। 
     
    ধন্যবাদ। 

    1. 13.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      জিয়া ভাই এইখানে আপনি যা বলছেন তাতে আমার কোন দ্বিমত নাই। বরং ১০০ ভাগ আপনার যুক্তিগুলোকে সহমত পোষণ করছি।  কিন্তু আমার প্রশ্ন এখন শুধু একটি তা হচ্ছে উম্মাহ শব্দটির অর্থ কি ? তা আল কোরআন এবং সুন্নাহর আলোকে বুঝিয়ে দিন। কারণ গত কয়েক দিনে আমি বাংলা এবং ইংরেজী অনুবাদ ঘেটে দেখেছি আর তাতে নেশন বা জাতী হিসাবেই সকল অনুবাদে নেওয়া হয়েছে। একজন দুইজনে ভুল হতে পারে তাহলে কি সবার ভুল হবে? উম্মাহ শব্দটি যদি জাতি না বুঝিয়ে থাকে তাহলে কেন তারা জাতি বা নেশন উল্লেখ করে গেলেন? এই সব অনুবাদকারী আপনার উল্লেখিত তারা, যারা ইসলামকে ক্ষুদ্র একটি গন্ডির মধ্যে আবন্ধ করে রাখতে চায়?
       

      যার ফলাফল এক অংশে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন নাশ — ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রম হানী — অন্যপাশে এখনও চলছে সন্ত্রাস, বোমাবাজী আর মানবাধিকার লংঘন।  এই ফলাফলতো আপনার জানা থাকার কথা!

      জিয়া ভাই আপনি ইতিহাস সচেতন লোক, আপনার কাছে প্রশ্ন ইসলামের ইতিহাসের ১৫ শত বছরে কি ভ্রাতৃঘাতি হত্যা কান্ড ৭১ সালে পাঞ্জাবীদের দ্বারা প্রথম ঘটেছিল? ইসলামের ইতিহাসে কি এর আগেও ভ্রাতৃঘাতি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটে নাই?
      যদি ঘটে থাকে তাহলে কি সেই গুলোও ৪৭ এর ভারত ভাগের কারণেই ঘটেছিল?
      জানিনা কেন যে আপনি ৪৭ এর ভারত ভাগকে শুধু নেতিবাচক রূপে মুল্যায়ন করে থাকেন? এই ভাগ থেকেই কোন ইতিবাচক প্রাপ্তি আমাদের ঘটেনাই? আপনি যদি সত্য বলে থাকেন তাহলে নেতিবাচকের সাথে সাথে এই ভাগের ইতিবাচক কথা উল্লেখ করার দরকার ছিল।
      যাক ভারত কেন ভাগ হয়েছিল? সেটি আপনি যতই ব্রিটিশদের ডিভাইড এন্ড রোলের তত্ত্ব দেখান না কেন ভারত বিভাগের বাস্তব উপাদান সেই দিনের অখণ্ড ভারতে বহাল ছিল। কুইট ইন্ডিয়া আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার পর আমরা ভারতীয় মুসলিমদের কোন গুণগত পরিবর্তন কি হত? না হতো না, তখন আমরা ব্রিটিশ শাসকদের বিতাড়িত করে হিন্দুদেরকে শাসক হিসাবে পেতাম, তাতে কি আমাদের সামাজিক রাজনৈতিক, অর্থনোতিক অবস্থার কোন পরিবর্তন আসতো?  আসলে তো ভাল , কিন্তু না আসলে আমরা কি করতে পারতাম? বাংলাদেশকে কি স্বাধীন করতে পারতাম?
      মুসলিম ভ্রাতৃত্বের দোহাই দিয়ে ভারত ভাগ হয়েছে বলেই তো আজ আমরা পাঞ্জাবীদের হটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ নামক একটি  স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক হতে পেরেছি! ভারত ভাগের জন্য কি আল্লাহকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত নয়?
      আজ পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা কি ৪৭ এর দেশ ভাগের কারণে হচ্ছে? না, কোন মুসলিম দেশ যেন মাথা তোলে দাঁড়াতে না পারে সেই ষড়যন্ত্রের বহিপ্রকাশ এখন পাকিস্তানে হচ্ছে? বাহরাইন, মরক্কোর মত যদি পাকিস্তান আমেরিকানদের চাপিয়ে দেওয়া ইসলাম বিসর্জন করার নীতি গ্রহণ করে তাহলে দেখবেন, পাকিস্তানে আর কোন হানাহানী ্দেখতে পাওয়া যাবেনা।
      ধন্যবাদ।
       

  10. 12
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @ সাদাত 
     
    আস সালামু আলাইকুম 
     
     
    প্রথমেই একটা বিষয় স্বীকার করে নিচ্ছি -- তা হলো এই লেখার একটা দূর্বলতা রয়েছে -- যা লেখাটাকে অনেকটা বিতর্কের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তা হলো -- জাতি এবং জাতীয়তাবাদের একটা সংজ্ঞা ঠিক করে নিয়ে তার বিপরীতে "মুসলিম জাতি" এবং "মুসলিম জাতীয়তাবাদ" এর তুলনা করে আলোচনা করলে বিতর্কটার সুযোগ কমে যেতো। এইটা আমার লেখাত্রুটি -- যা ধরতে পারছিলাম না -- আপনার প্রশ্ন থেকে তা পরিষ্কার হলো। যাই হোক -- বলে রাখা ভালো যে আমি কোন পন্ডিত ব্যক্তি না যে সব কিছুই ঠিক মতো বলতে পারবো। তবে চলমান বিশ্বের ঘটনাবলীর একজন দর্শক হিসাবে আমার উপলদ্ধি এবং প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যেই এই প্রচেষ্টা। 
     
    এবার আসা যাক আপনার প্রশ্নে -- 
     
    ১. মুসলিম কোন জাতি হতে পারে না, মুসলিম উম্মাহ হতে পারে।
     
    > এখানে সবচেয়ে আগে আপনি আর আমি একটা বিষয়ে এক মতো হবো -- তা হলো "জাতি"র সংজ্ঞা নিয়ে। স্থান কাল পাত্র এমনকি রাজনীতির পরিবর্তনে জাতির সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে -- যেমন বাংলাদেশে ৭১ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত নিজেদের পরিচয় ছিলো বাঙালী জাতি পরে তা হয়ে গেছে বাংলাদেশী জাতি। তাই যদি উইকি পিডিয়া থেকে জাতির সংজ্ঞাটায় একমতই হই --  
     
    A nation may refer to a community of people who share a common language, culture, ethnicity, descent, or history.[1] In this definition, a nation has no physical borders. However, it can also refer to people who share a common territory and government (for example the inhabitants of a sovereign state) irrespective of their ethnic make-up.[2][3] The word nation can more specifically refer to people of North American Indians, such as the Cherokee Nation that prefer this term over the contested term tribe.[1]
     
    এখানে স্পষ্ট যে 'মুসলিম জাতি" সেই অর্থে সম্ভব নয় -আর আমার বুঝে কোরানের তার সমর্থন আছে -- 
     
    “হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন”।(৪৯:১৩)
     
     একটু লক্ষ্য করলে দেখবো -- এখানে বাংলায় যে জাতি শব্দটা ব্যবহূত হয়েছে তার আরবী হলো -- شُعُوبًا  ।
     
    অন্যদিকে দেখুন --
     
    (47:38) শুন, তোমরাই তো তারা, যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহবান জানানো হচ্ছে, অতঃপর তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করছে। যারা কৃপণতা করছে, তারা নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করছে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্থ। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না। 
     
    এখানে বাংলা জাতি আর কোরানের ভাষায়  قَوْمٍ  -- যা ৩৮০ বারের উপরে ব্যহূত হয়েছে। 
     
    (21:92)
    তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমার বন্দেগী কর।  أُمَّةً  শব্দটিকে অনেকেই জাতি হিসাবে অনুবাদ করে দেখাতে চায় মুসলিম জাতির কথা কোরানে বলা হয়েছে। (সদালাপে একটা লেখায় দেখেছি)। 
     
    এই উম্মা শব্দটি ৩৫ বার এসেছে কোরানে। 
     
    এখানে একটা তফসির দেখা যেতে পারে --
     
     "Ummat " এই শব্দটি 'জাতি' শব্দটির দ্বারা অনুবাদ করা যায়। 'সম্প্রদায় ' 'শ্রেণী' বা 'বংশ ' , "জাতি" ইত্যাদি শব্দগুলিও উম্মত শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়। আবার 'উম্মত' শব্দটির থেকে যে ভাবধারা প্রয়োগ হতে পারে তা হচ্ছে , "একই ধর্ম বিশিষ্ট " বা "জীবনধারা বিশিষ্ট "যার প্রয়োগ অন্যান্য স্থানে করা হয়েছে ; কিন্তু এ আয়াতে তা প্রযোজ্য নয়। এই আয়াতে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির প্রতি। বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার অধিকারী। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে জাতির বা সম্প্রদায়ের জীবনে তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে। কারণ এগুলি কোনটাই স্থায়ী নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের ফলে মানুষের জীবনধারা আমূল পাল্টে যায়। ফলে জাতির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি সবই হয়ে পরে পরিবর্তনশীল। পৃথিবীতে স্থান ও কালের দূরত্বের জন্য , সময়ের ব্যবধানের জন্য , ভাষার পার্থক্যের জন্য, পরিবেশ ও প্রকৃতির বিভিন্নতার কারণে, মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে ভাষাগত , সংস্কৃতিগত পার্থক্যের উদ্ভব ঘটে। কিন্তু যারা আল্লাহ্‌র সেবায় নিয়োজিত, যাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন ও সান্নিধ্য লাভের কামনা , তারা পৃথিবীর যেখানেই বাস করুন না কেন, যে পরিবেশেই থাকুন না কেন তারা "একই জাতি" বা সম্প্রদায়। কারণ দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে যে পার্থক্য তা মানুষের রচনা। যে মুহুর্তে যে কোন ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবনকে নিয়োজিত করে সে বৃহত্তর উম্মত বা সম্প্রদায়ের তালিকাভূক্ত হয়ে যায়। সে নারীই হোক বা পুরুষই হোক সে বিশ্বমানবতার জন্য উৎসর্গীকৃত এক সম্মানজনক সম্প্রদায়ের সদস্যভূক্ত হয়ে যায়। যারা শুধুমাত্র এক আল্লাহ্‌র এবাদত করে ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তাঁর সেবা বা তাঁর সৃষ্টির সেবায় আত্ম নিয়োগ করে। এ ভাবেই তারা একই জাতি বা ধর্ম বিশিষ্ট। এভাবেই ইসলাম বিশ্ব মানবতার অগ্রপথিক।
     
    http://www.quranandtafsir.com/sura/21-anbiyaa?start=6
     
    তফসিরে জাতি, সম্প্রদায়, বংশ শব্দগুলো ইন্টারচেঞ্জেবল হিসাবে দেখানো হয়েছে। সমস্যাটা সেখানেই। একটা স্টান্ডার্ডড শব্দ ব্যবহার করা হয়ে বিতর্কটা হতো না। 
     
     
    ২. ভিন্ন ধর্মালম্বীদের সাথেও মুসলিমরা একটা জাতি গঠন করতে পারে।
     
    -- যদি বর্তমান প্রচলিত জাতির সংজ্ঞাকে ধরে নেই স্টান্ডার্ডড -- তা হলো কোন মুসলিম জাতি গঠনের কোন সুযোগ নেই। কারন জাতি গঠনের জন্যে একটা একটা জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরী করা দরকার হয়। আমার আলোচনা একটা বড় অংশ ব্যয় করেছি জাতীয়তাবাদের চেতনার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠা জাতি সম্পর্কে। হাদিসের আলোকে এই ধরনের জাতীয় চেতাবোধ থেকে জাতি গঠনের প্রক্রিয়া ভুল। 
     
    আবু দাউদে বর্ণিত হাদীসে আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে আসাবিয়াহ’র দিকে ডাক দেয়, (ন্যাশনালিজম বা জাতিয়তাবাদ), বা আসাবিয়াহর কারণে লড়াই করে কিংবা আসাবিয়াহর কারণে মৃত্যুবরণ করে”- 
     
    আরেকটী হাদীসে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ এবং দেশপ্রেমের সম্পর্কে বলেন, “এগুলো ত্যাগ কর, এগুলো তো পঁচে গেছে” [মুসলিম ও বুখারি]
     
    আশা করি প্রশ্নের উত্তরগুলো পেয়েছেন। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে আলোচনার আশা রইল, ইনশাল্লাহ। ভাল থাকবেন। 
     
     

    1. 12.1
      শামস

      পুরো লেখাটি নিয়ে কনফিউজড ছিলাম। সাদাত ভাইকে লেখা উত্তরে অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। সবশেষে যা বুঝলাম সারাংশ করলে দাড়ায় যে কোন ধরণের জাতীয়তাবোধের কোন অবকাশ ইসলামে নেই, তা ইসলামী জাতীয়তাবোধ হোক, আঞ্চলিক জাতীয়তাবোধ হোক, বাঁ হোক গোত্রভিত্তিক জাতীয়তাবোধ! একমাত্র পথ আছে 'মুসলিম উন্মাহ'র, আর তা তওহীদের ভিত্তিতে!

      সে আমাদের দলভুক্ত নয় যে আসাবিয়াহ’র দিকে ডাক দেয়, (ন্যাশনালিজম বা জাতিয়তাবাদ), বা আসাবিয়াহর কারণে লড়াই করে কিংবা আসাবিয়াহর কারণে মৃত্যুবরণ করে

      1. 12.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        অনেক ধন্যবাদ। আসলে লেখাটা অনেকদিন আগে লিখে রেখেছিলাম। কিন্তু বারবার পড়েও ধরতে পারছিলাম না। অবশেষে বিষয়টা ধরতে পারছি।
        মুসলিম জাতির একটা ধারনা অনেকেই প্রচার করেছে -- বিশেষ করে বৃটিশ ভারতে এই ধারনার ভিত্তিতেই পাকিস্তান আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো। ফলাফল আমরা দেখেছি। 
         

        1. 12.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          ফলাফল টি কি একটু বিশদ ভাবে যদি বলতেন! ধন্যবাদ।

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          যার ফলাফল এক অংশে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন নাশ -- ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রম হানী -- অন্যপাশে এখনও চলছে সন্ত্রাস, বোমাবাজী আর মানবাধিকার লংঘন।  এই ফলাফলতো আপনার জানা থাকার কথা! 

  11. 11
    মুনিম সিদ্দিকী

    উম্মাহ নিয়ে আল কোরআনে কয়েকটি আয়াত পেলাম, কারো কোন উপকারে লাগতে পারে ভেবে এখানে পেস্ট করছি।
    ২-১৪৩। এভাবেই  আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ উম্মাহ(জাতি)রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি; যেনো তোমরা মানব জাতির উপর সাক্ষী স্বরূপ  এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী স্বরূপ হবে। তুমি এতদিন যে কিব্‌লাতে অভ্যস্ত ছিলে আমি তা মনোনীত করেছিলাম, পরীক্ষা করার জন্য কে রাসূলকে অনুসরণ করে আর কে [বিশ্বাস থেকে] ফিরে যায় । আল্লাহ্‌ যাদের পরিচালিত করেন তারা ব্যতীত [অন্যদের জন্য] এটা অবশ্যই কঠিন [কাজ]। আল্লাহ্‌ এরূপ নন যে তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করবেন । অবশ্যই আল্লাহ্‌ সকল মানুষের জন্য দয়ায় পরিপূর্ণ এবং অতীব অনুগ্রহশীল।
     
     
    ২-২১৩। মনুষ্য সম্প্রদায় ছিলো একই উম্মাহ(জাতি), অতঃপর আল্লাহ্‌ নবীদের সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেন। মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করতো তাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসার জন্য তিনি তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব প্রেরণ করেন। কিন্তু কিতাব প্রাপ্তদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরেও, স্বার্থপরতা ও অবাধ্যতার দরুন সে বিষয়ে মতভেদ করতো। তারা [অবিশ্বাসীরা] যে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতো আল্লাহ্‌ তাঁর নিজ অনুগ্রহে সে বিষয়ে বিশ্বাসীদের সত্য পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
     
    ১০-১৯। মনুষ্য সম্প্রদায় ছিলো একই উম্মাহ (জাতি) । কিন্তু (পরবর্তীতে) মতভেদের সৃষ্টি হয়। তোমরা প্রভুর পূর্ব ঘোষণা না থাকলে, তাদের মত পার্থক্যের মীমাংসা হয় যেতো ।
     
    ১০-৪৭। প্রত্যেক উম্মাহর(জাতির) জন্য একজন রাসুল [প্রেরণ করা হয়েছে]। যখন তাদের রাসুল আসে, তখন বিষয়টি ন্যায়ের সাথে তাদের মাঝে মীমাংসা হবে এবং তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না।
    ১৬-৯৩। যদি আল্লাহ্‌ ইচেছ করতেন, তবে তিনি তোমাদের এক জাতি পরিণত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে ইচছা করেন বিভ্রান্তিতে ছেড়ে দেন এবং যাকে ইচছা সৎ পথে পরিচালিত করেন। তোমাদের সকল কাজের অবশ্যই হিসাব গ্রহণ করা হবে।
    ২৩-৫২। এবং নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মাহ একই উম্মাহ , এবং আমি তোমাদের প্রভু ও প্রতিপালক। সুতারাং আমাকে ভয় কর [ অন্য কাউকে নয়]।
    ৩-১১০। তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির [কল্যাণের] জন্য তোমাদের আবির্ভাব। তোমরা ন্যায়ের নির্দেশ দান কর, পাপ কাজে নিষেধ কর এবং আল্লাহতে বিশ্বাস কর । কিতাবীরা যদি শুধুমাত্র ঈমান আনতো, তবে তা তাদের জন্য ভাল হতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে যারা ঈমান এনেছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিকৃত [মানসিকতা সম্পন্ন] সীমা লংঘনকারী।

  12. 10
    আহমেদ শরীফ

    * বৈশ্বিক জীবন ব্যবস্থা: 'বৈশ্বিক জীবনব্যবস্থা' বলতে আমি যা বুঝেছি তা হল সার্বজনীন জীবনব্যবস্থা যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত রাসূল(সাঃ) ওয়ালা জীবনপদ্ধতি বা সুন্নাহ। এটি গোত্র-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সমস্ত দুনিয়ার রাসূল(সাঃ) এর নবুয়তপ্রাপ্তির পর থেকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আগত মানব ও জ্বীন জাতির জন্য নির্ধারিত আদিষ্ট গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি যার ভেতরে ব্যক্তি ও সমষ্টি পর্যায়ে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত সমস্যার সমাধান এবং সফলতা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আগেকার নবীগণ অঞ্চলভেদে গোত্রভেদে প্রেরিত হতেন, গোটা বিশ্ব তাঁদের নবুয়তের আওতায় ছিল না, এছাড়াও তাঁদের সময়সীমা ছিল নির্দিষ্ট, পরবর্তী নবী আসলেই পূর্বের নবীর শরীয়ত বা পদ্ধতি বাতিল হয়ে যেত। রাসূল(সাঃ) এর ক্ষেত্রে পদ্ধতিকে পরিপূর্ণ করা হয়েছে এবং তাঁর নবুয়তের যুগের বা তাঁর পদ্ধতির ব্যপ্তি ক্বিয়ামাত পর্যন্ত প্রলম্বিত করা হয়েছে, কাজেই নতুন কোন পদ্ধতি আর আসবে না বা তার প্রয়োজনও হবে না।

    * আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবন্ধতা : বিশ্বের অন্যান্য ধর্মে বর্তমান যুগে দেখা যায় 'সাধারণ জনগণ' কিছু উপাসনা ও নিতান্ত কিছু আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত বাকি অনুশাসনগুলো কার্যতঃ প্রত্যাখ্যান করেছে অর্থাৎ 'ধর্মাবলম্বী' ব্যাপারটা 'সাধারণ জনগোষ্ঠি' র ক্ষেত্রে নাম কা ওয়াস্তেই পর্যবসিত হয়েছে। অধিাকংশ মুসলামনের অবস্থাও অনেকটাই সেকম হলেও ইসলাম আদতে সেরকম অন্তঃসারশূণ্য নয়। সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আহকামসমূহ ও রাসূল(সাঃ) এর মোবারক পবিত্র পদ্ধতির অনুসরণ 'মুসলিম' পরিচয় দাবিদার মাত্রেরই অবশ্য কর্তব্য। কিছু ইবাদাত করে জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রে নিজের মনগড়া পদ্ধতির অনুসরণের অনুমতি ইসলাম দেয় না। দুঃখজনক হল আমরা ঐ যৎসামান্য কিছু আনুষ্ঠানিকতাকেই 'ইসলাম' তকমা দিয়ে বসে আছি যা আদতে আল্লাহর কাছে কার্যতঃ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    মোদ্দা কথা হল, আমাদের বর্তমানে আত্মাভিমান ও জাত্যাভিমানের আবেগী প্রকাশ 'মুসলিম' শব্দটির সাথে প্রায়শঃই ঘটে যায় যা তাত্বিক-ব্যবহারিক দিক থেকে অন্তঃসারশূণ্য তো বটেই, অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য রীতিমত বিব্রতকর। হিন্দু বা ইয়াহুদি জাতিতত্বে যারা দৃঢভাবে বিশ্বাসী তাদের কথা ভেবে দেখলে বোঝা যাবে তারা অন্যদের কাছে কতটুকু বিব্রতকর, বিপজ্জনক। অন্ধ আবেগ বিপজ্জনক। কিন্তু গঠনমূলক আবেগ যদি ধৈর্য ও পরিকল্পনার সাথে সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠে _ সেটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম।

    আল্লাহর সাথে সম্পর্কই ছুটে গেছে ব্যপকভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) র বিরুদ্ধাচরণের কারণে সেটা আগে ঠিক করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন আগে নিজে ত্যাগতিতীক্ষার জন্য তৈরি হওয়া, নিজের সর্বস্ব নিয়ে নিয়োজিত হওয়া, অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে। সমস্ত মানবজাতির জন্য দরদ নিয়ে সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে আনার নিয়তের মাধ্যমে উত্তম চরিত্র-আখলাকের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য নিজেদের মধ্যে প্রতিফলিত বিকশিত করতে হবে। সময় লাগবে, ধৈর্য লাগবে। তার আগে পর্যন্ত অস্থিরতা করে কোন লাভ হবে না, পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়া ছাড়া আর কিছুই হবে না।

    1. 10.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      অনেক ধন্যবাদ। চমৎকার ব্যাখ্যার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনার জন্যে দোয়া চাইছি। 
       
       
      আগের কমেন্টের একটা লাইন দারুন ভাবে অনুভুত হয়েছে -- এইটা আমাদের সকলের প্রশ্ন হওয়া উচিত --
       
      এই অবস্থায় অধিকাংশই যদি চিন্তাচেতনায়-জীবনে-কর্মে কোরআন-সুন্নাহর বিপরীত ধারার অনুসরণ করে সেক্ষেত্রে কি শুধু নাম বা মুসলিম পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণেই তবুও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিতে হবে বা অনায়াসে তারা 'অন্তর্ভূক্ত' হবার গৌরব অর্জন করবে ?    
      ভাল থাকবেন -- যাযাকাল্লাহ!

  13. 9
    মুনিম সিদ্দিকী

    আমি জানিনা লেখকের এই লেখা থেকে অন্যান্য পাঠকরা নির্দিষ্ট কিছু অর্জন করতে পেরেছেন কিনা। এই লেখা পড়ে আমার কেমন জানি মনে হচ্ছে এখানে লেখকের দুই স্বত্তার অবস্থান পাচ্ছি, আমার এই ধারণা নিছক ভুল হতে পারে, হয়তো বিজ্ঞ-পাঠকগণ জিয়া ভাইয়ের এই লেখার মূল মর্ম অনুধাবন করতে পেরেছেন। এই লিখা পড়ে আমার মনে যা উদয় হয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করছি, ভুল হলে সংশোধন করে দিলে বাধিত হব।

    <<একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরী – ইসলাম একটা বৈশ্বিক জীবন ব্যবস্থা।>>

     
     Global system of life? তাহলে যা বৈশ্বিক তার কি কোন সত্তা/পরিচিতি থাকবে না? এটা কি হঠাৎ ভারতে ইংরেজ আমলে ও আমেরিকায় ৯/১১ এর পর বৈশ্বিক হয়েছে? বৈশ্বিক হওয়ার বৈশিষ্ট্যগুলো কি?
     

    << প্রচলিত রিলিজিয়ন বা ধর্ম বলতে যা বুঝানো হয় – যা শুধুমাত্র ইশ্বরের উপাসনা বা কোন বিশেষ বিষয়ে ভক্তির প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই যা সীমাবন্ধ থাকে – বাস্তব জীবনের সাথে এর তোমন কোন সম্পর্ক থাকে না।>>>

     
     বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্ক থাকল না কেমনে? ইশ্বরের উপাসনা বা কোন বিশেষ বিষয়ে ভক্তির প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা কি অবাস্তব কোন জিনিস?  
     

    <<<ইসলাম তার থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন।>>

     
     সেই ভিন্নতার বাস্তবতা কি?
     

    <<<তাই দেখি উপরে আয়াতে বলা হয়ে “দ্বীন” অর্থাৎ “জীবন ব্যবস্থা”।  যা আসলে একটা বৈশ্বিক ব্যবস্থা – কোন জাতি, অঞ্চল বা গোত্রের জন্যে নির্দিষ্ট করে এই ব্যবস্থা আসেনি।>>>

     
    ঠিক হোক, বেঠিক হোক ‘বৈশ্বিক’ কথা আনার ব্যাখ্যা কোথায়?
     

    <<<এখানে যে প্রশ্নটা বারবার আসছে>>

     
     এখানে তো কোন প্রশ্নই বার বার আসেনি!
     

    <<<– ইসলামের অনুসারীগন – যাদের মুসলমান হিসাবে পরিচিতি আছে – তাদের কি একটা “জাতি”তে সংঘবদ্ধ হতে হবে?>>

     
     =কোন জাতিতে সংঘবদ্ধ না হয়েই কি বৈশ্বিক? জাতিতে সংযুক্ত হওয়ার যুক্তি আছে কি নাই?
     

    <<<আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার লক্ষ্যে একটু গভীর ভাবে বিষয়গুলো দেখার চেষ্টা করবো।>>>

     
     ঠিক আছে, কিন্তু মূল বিষয়ে ফিরা চাই, উত্তর খুঁজা চাই এবং তার আগে কোন সিদ্ধান্ত চাই না। আমরা দেখতে চাই ‘ইসলামের অনুসারীদের’ নিয়ে লেখক কোথায় যাচ্ছেন!  

    <<<মুসলিম জাতি বিষয়টা দেখার আগেই প্রথমই দেখা যাক – মুসলমান কে? 
     
     “এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।“ (২:১৩২)
     
    এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে – ইব্রাহিম (আঃ) এর পূর্বেই মুসলমান পরিচয়টা ছিলো। >>>

     
    = লেখক এখানে সম্ভবত শাব্দিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যে গোলমাল শুরু করতে যাচ্ছেন। কিন্তু মানলাম, তাদের পরিচিতি আছে, অর্থাৎ তাদের জাতীয় পরিচিতি হচ্ছে এই যে তারা মুসলিম। এবং বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত এই পরিচিতি তাদের মুল চিরন্তন বিশ্বজনীন পরিচিতি। আল-কোরান একথা প্রমাণ কর করলো।
     

    <<< মুলত আদম(আঃ) থেকেই মুসলমান পরিচয় আসবে – কারন আদম(আঃ) সুষ্পষ্ঠ ঘোষনা দিয়ে জানাচ্ছেন যে উনি অনুগত বান্দাদের একজন।>>>

     
     =এখানেও তাদের জাতীয় সত্তা প্রমাণিত হল।
     

    <<<“তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।“(২:১৩৫) 
     
    তারপর যদি আমরা এই আয়াতটা দেখি – দেখবো একটা ধারাবাহিতার মাধ্যমে মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সঃ) এর আগমন ঘটেছে এবং কোরানে পূর্বের কিতাব গুলোর ধারাবাহিকতার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।>>>

     
    =আমরা তো আগেই এই জাতীর বিশ্বজনীন পরিচিত পেয়ে গেছি। মুহাম্মদ  তো নতুন কোন ধর্ম প্রচার করতে আসেন নি।
     

    <<<এই আয়াতের বাস্তবতা হলো আমাদের জন্যে ফরজ যে হজ্জ্ব – সেখানেতা মুলত সরাসরি ইব্রাহীম (আঃ) এবং আদম (আঃ) এর পদাংক অনুসরন করা হয়। বলা যেতে পারে হজ্জ্ব হচ্ছে পূর্বের নবী-রসুলদের সুন্নাহর অনুসরন করা – যা মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সঃ) অনুসরন করে গেছে এবং আমাদের জন্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেখে গেছেন। সুতরাং কোরানের শিক্ষা হলো – মোহম্মাদ (সঃ) এর অনুসারী ( উম্মতে মোহাম্মদ) গনই একমাত্র মুসলমান না।>>>

     
     =আমার মনে হচ্ছে লেখক  এখানে এসে ফারুকের মত গোলমালে পড়েছেন। ক্ষমা করবেন বলতে লজ্জা লাগছে তারপরও বলতে বাধ্য হচ্ছি লেখক মুসলিম শব্দের শাব্দিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থ বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। শাব্দিক আনুগত্যের অর্থে আসমান/জমিন ও ইহাদের মধ্যবর্তী সবাই ‘মুসলিম’কিন্তু ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা সেই অর্থ ত্যাগ করে নিজেরদের পরিচিত ইয়াহুদী/খৃষ্টিয়ান করেছে। আল-কোরানও তা স্বীকার করে নিয়েছে। আপনি বুঝতেই পারছেন না যে ঐতিহাসিকতায় গঠিত মুসলিম ও থিওলজিকাল ধারণার মুসলিমদের মধ্যে কোন কোন ধরণের  পার্থক্য আছে।
     

    <<< উম্মতে মোহাম্মদ(সঃ) মুলত মুসলমানদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে।>>>

     
     =ঠিক আছে  এই কথা মেনে নিলাম, উম্মতে মুহাম্মদ  তাদের বিশ্বজনীন জাতি-সত্তাতেই পরিচিত রয়েছেন।
     

    <<< এখানে আরেকটা আয়াত দেখা যেতে পারে – যা আমাদের ভাবনাকে আরো প্রসারিত করবে – 
     
    নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না”। (২:৬২) >>>

     
    =এখানে আল-কোরান ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈনদের অস্তিত্ব স্বীকার করেই তাদেরকে ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন বলে পরিচিত করাচ্ছে, কিন্তু তাদেরকে মুসলিম’ বলছে না।
     

    <<<আর মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সঃ) এর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ ছিলো এমন – 
     
    বল, আল্লাহ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহীমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ভাবে সত্যধর্মের অনুসারী। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না”। (৩:৯৫) 
     
    খুবই গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করতে হবে যে – মোহাম্মদ(সঃ) নিজে কখনও বলেনি আমার ধর্মের অনুগত হও।>>>

     
     =আমরা তো মুসলিম আছিই, তাহলে মুহাম্মদ  কেন উলটা কথা বলতে যাবেন? আমি বুঝতে পারিনাই লেখক এখানে ঠিক কি বলতে চাচ্ছেন?

    <<< কারন মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ মনোনিত জীবন ব্যবস্থা (ধর্ম) একটা – তা হলো ইসলাম আর তার অনুসারীরা হলো মুসলমান।>>>

     
     =সেটি তো ভাল কথা, তাহলে আর কি নতুন কিছু বলতে চেষ্টা করছেন? মানে আবিষ্কার? এই লেখা পড়ে কেমন জানি মনে হচ্ছে যে, লেখকের বন্দুক সব দিকেই তাক করে যাচ্ছেন!!!
     
     

    <<<এই বিষয়ে আরেকটা আয়াত দেখা যেতে পারে –
     
    তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনেও, যাতে রসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। (২২:৭৮) 
     
    এরপরও যদি আমরা প্রচলিত সংজ্ঞায় মুসলিম নেশন থিয়োরী বিশ্বাস করি >>>

     
    =এটা কোন কথা বললেন লেখক ? এতক্ষণ নিজেই যা প্রমাণ করে আসলেন, এখানে এসে তার উল্টা কথা বলতে শুরু করলেন যে !
     

    <<<– তা প্রচার করার চেষ্টা করি তা কতটা সঠিক হবে সেই বিষয়ে ভাবনার গভীর বিবেচনার দাবী রাখে।>>

     
     = লেখক এখানে কি দেখালেন এবং কোন ধরনের প্রশ্ন করলেন? আচ্ছা মুসলিম নেশন থিওরিতে সমস্যা কোন খানে? প্রচলিত সংজ্ঞা কি এবং কোন ধরণের বিবেচনার দাবী রাখে?
     

    <<< অন্যদিকে>>>

     
    = আগের দিকটা কি ছিল এবং ‘অন্যদিক’টাই বা কি?
     

    <<< পরষ্পরের কাছে পরিচিত হওয়ার একটা উপায় হিসাবে প্রচলিত জাতি সত্বার পরিচায়ক বা একীভূত একটা সম্প্রদায় বা ভৌগলিক অথবা ঐতিহাসিক কারনে একই ভুখন্ডে বসবাসকারী বা একই সংস্কৃতি ধারন করা একদল মানুষ যখন নিজেদের পরিচয়দানের জন্যে একটা জাতি হিসাবে চিহ্নিত হয় – তাতে সমস্যা নেই।>>>

     
     = লেখক এখানে কি উগ্র-বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের পক্ষে যুক্তি খাঁড়া করার চেষ্টা করছেন ?
     

    <<< কারন আল্লাহ এভাবেই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন – 
     
    হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সেই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন”।(৪৯:১৩)
     
    সুতরাং দেখা যাচ্ছে পরিচিত জন্যে জাতিগত ভাবে বিভক্তির বিষয়ে  কোন সমস্যা নেই।>>>

     
     =তবে চিরন্তন কোনটা? কোন জাতীয়তা বার বার পরিবর্তিত হতে পারে আর কোনটা পারে না? ভৌগলিক ও ভাষিক জাতীয়তা হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী, যা বিশ্বজনীন এর বিপরীতে।
     

    <<<এই বিষয়ে হাদিস থেকে পাওয়া যাবে একই ভাষ্য – বিশেষ করে মদীনা সনদের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার শুরু হয়েছিলো – তার মধ্যেও আমরা জাতির সংজ্ঞা পেতে পারি। 
     
    মদীনা সনদের মূল ধারাগুলো ছিল:
     
    ১) সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে। (বাকী ১২ টি ধারা পড়ুন) >>>

     
    =মদিনার সবাই কি মুসলিম ছিল?  আবারও ক্ষমা চাচ্ছি, আপনি এখানে মুসলিম শব্দের শাব্দিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থের সাথে গোলমাল করে ফেলেছেন বলে মনে হচ্ছে। ঠিক এই ভাবে বিভাগ-পূর্ব ভারতীয় কংগ্রেসি আলেমরা হিন্দু মুসলিম একজাতি বলে মনে করতেন। ১।ভৌগলিক জাতি, ২।মিত্রতায় চুক্তিবদ্ধ-গোত্র (উম্মাহ), ৩।এবং বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত জাতির মধ্যে লেখক গোঁজামিল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে হচ্ছে। কংগ্রেসিরা হিন্দু-মুসলিমকে এক জাতি দেখাতে সে যে কি কসরত করেছিল, নাস্তিকরা এখন এই বাংলাদেশে সেটা চালাতে চাচ্ছে। লেখক কিও অবচেতন মনে সেই  আদর্শকে বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করছেন?
     --
     

    <<< উপরে আলোচনায় দেখা যাচ্ছে জাতি গঠনের জন্যে ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে বসবাসকারীদের বিশ্বাসের বিষয়টিকে প্রাথমিক বিবেচনায় আনা হয়নি।>>>

     
    = এখানে দুইটি আলাদা বিষয় একত্র করা হচ্ছে। প্রথমে আমরা মুসলিম জাতীয়তা প্রমাণিত হিসেবে দেখে এসেছি। মদিনা চুক্তি সেই বিশ্বজনীন জাতীয়তা অকার্যকর করছে না। এই চুক্তিতে মিত্র পক্ষকেই বিশেষ ভাবে নির্দিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করছে। মদিনা চুক্তির কারণে কি ইব্রাহীম আঃ থেকে চলে আসা সংজ্ঞা নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে?

    <<< যা আধুনিক জাতি গঠনের সাথে সাঞ্জস্যপূর্ণ >>>

     
     =লেখকের এই ‘আধুনিক’ জাতিটা কি তাঁর সংজ্ঞা কি ? এইটি এমন যা আমরা এখন বাংলাদেশে দেখতে পাচ্ছি- ক্ষণস্থায়ী উগ্র বাঙ্গালীয়ানা? কবরে বেদীতে ফুল দেওয়া? বটতলা, আমতলা, বকুলতলা বা ছায়ানটের রাবিন্দ্রীক চেতনার ‘আধুনিক’ জাতীয়তা?
     

     <<<এবং ইসলামের ইউনিভার্সালিটির অনুসরন করছে।>>>

     
    = এ কোন বিশ্বজনীনতা ?
     

    <<<<বর্ণ, ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা আর গোষ্ঠীর ধারনাকে বাতিল করেই তো ইসলাম মানবতার প্রতিষ্ঠা করেছে।>>>

     
    =এখানে এসে, এই আবার কোন কথাটি বললেন লেখক? তাহলে  কি এখন লেখক বাঙালী জাতীয়তার বিপক্ষে বলছেন?

    <<<সুতরাং জাতি হিসাবে পরিচয়ের জন্যে কেন সেগুলো>>>

     
     = কোনগুলো?
     

    <<< ফিরিয়ে আনা ভুল হবে বৈকি। মুসলিম জাতির যে ধারনা প্রচার করা হয়>>>

     
    =কোনটি প্রচার করা হয়,তা তো আলোচনা করলেন না লেখক! এমন অনির্দিষ্ট কথা এই লেখাতে আগেও বলা হয়েছে।
     
    ধন্যবাদ।

    1. 9.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      মুনিম  ভাই -- অনেক বড় কমেন্ট করেছেন। পুরোটা পড়িনি। ধন্যবাদ । তবে সুস্থ আলোচনার ট্যাগিং বা লেভেলিং এড়িয়ে গেলেই ভাল হয়। আপনি যখন একজন একটা লেভেল লাগাবেন -- তার মানে আপনি বক্তব্যের চাইতে বক্তাকেই বেশী ফোকাস করছে -- যা আলোচনার অন্তরায় তৈরী করে। আশা করি বুঝতে পারছেন। আপনার মতো একজন প্রজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যক্তিচর্চা আশা করিনি, দু:খিত। 
       
      পুরোটা পড়ে জবাব দেবো -- ইনশাল্লাহ।  

      1. 9.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        জিয়া ভাই শুধু এখানে একজন ভার্চুয়াল কারেক্টার এর চেয়ে বেশি কিছু তা চাওয়ার সাথে প্রাপ্তির বেমিল দেখলে মনে অনেক দুঃখ বোধ জেগে উঠে, তাই হয়তো কিছু আলোচনা করতে গেলেই লেখার সাথে লেখককে ও উদ্দেশ্য করে লেখার মুখ ঘুরে যায়। এইটি নিছক মানবিক দুর্বলতা যাক আপনি দুঃখ পেয়েছেন দেখে আমি নিজেও খুব দুঃখ পেয়েছি। উপরের কমেন্টের কিছু শব্দের পরিবর্তন করে দিয়েছি। তারপর যদি কোথাও আপনাকে ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়েছে বলে মনে হয় সেই যায়গা দেখিয়ে দিলে তা আমি কেটে বাদ দেব।
        আমি যে যায়গায় ২মত দেখিয়েছি সেই যায়গায় আলোচনা করলে অনেক সত্য হয়তো জানা যাবে, কাজেই এক সাথে পুরোটির জবাব না দিয়ে কিছু কিছু করে দিলে আলোচনার জন্য সুবিধা হবে।
         

        1. 9.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          মুনিম ভাই --
           
          আপনার কমেন্ট পড়ে একটা বিষয় মনে হলো -- আপনি আমার লেখার সেন্টার ইস্যুতে দ্বিমত পোষন করেন। যদি বুঝে থাকি তা হলে আপনি বিশ্বাস করছেন "মুসলিম জাতি" একটা রিয়েলিটি। কিন্তু ৬ মাস আগে আপনাকে এই লেখাটা পাঠিয়ে ছিলাম পড়ে মতামত দেবার জন্যে -- আপনি মোটামুটি একমত হয়েছিলেন। এখন দ্বিমতো পোষন করছেন -- সেইটা আপনার বুঝের বিষয় -- তবে আশা করছি আপনি এই বিষয়ে একটা এক্সক্লুসিভ লেখা দেবেন -- যাতে আমি আমার চিন্তার ত্রুটিগুলো ধরতে পারি। উপস্থাপনার ত্রুটি আর কিছু প্রশ্নের উত্তর সাদাতের জন্যে দিয়েছি -- আশা করি আপনার প্রশ্নের মুল বিষয়গুলো এসে কাভার করে যাবে। আর আপনার লাইন বাই লাইন প্রশ্নগুলো আসলে আলোচনার মুল থেকে সরে যাচ্ছে বলে পুরোটার উত্তর দেওয়াটা ঠিক হবে না বিবেচনা করছি। 
           
          ভাল থাকবেন। 

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          জিয়া ভাই, আমি ঠিক স্মরণ করতে পারছিনা এবং সে মেলটিকে অনেক খুজলাম পেলাম না। তবে আবছা ভাবে মনে হচ্ছে যে কিছু একটি লেখা আপনি পাঠিয়েছিলেন অনেক আগে! যে সময় পাঠিয়েছিলেন তখন আমার জব প্যাটার্ন চেঞ্জ হয়ে ছিল বিধায় এক ধরণের অস্থিরতায় ছিলাম। কাজেই হয়তো তেমন গভীর ভাবে   আপনার লেখাটি পর্যবেক্ষন করতে পারিনাই।
          তবে বক্ষ্যমান লেখাটি যেহেতু অন এয়ারে এসেছে সেই হেতু এখন এখানেই আলোচনা চললে ভাল হবে বলেই মনে হয়।
          এখানের আলোচনা থেকে কিন্তু আমরা কংক্রিট কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারিনাই।
          এখন প্রশ্ন হলো- মুসলিমরা যদি প্রচলিত জাতী গঠণের ধারণার প্রেক্ষাপটে জাতির সংজ্ঞায় না আসে তাহলে তা যদি উম্মাহ হয় তাহলে এই উম্মাহর ব্যাখ্যা এখন করে দেখাতে হবে। এবং এই ব্যাখ্যাকেও এখনকার প্রচলিত পেক্ষাপটের আলোকে বিচার করে কংক্রিট সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ধন্যবাদ।

  14. 8
    আহমেদ শরীফ

    খুবই ভাল পোস্ট।

    বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অতি ব্যবহারে জীর্ণ, করুণ ও হাস্যকরভাবে ব্যর্থ বস্তাপচা একটি আইডিয়া _ যা ব্যবহার করে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ধর্মের মোড়কে আদতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে আসছে সেটি চমৎকারভাবে ফোকাস করা হয়েছে।

    ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাসগত ক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্যের ভিত্তিতে এক ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ একটি মানবগোষ্ঠি বা মানবসম্প্রদায়ের নাম হল 'মুসলিম'। ভাষাগত-ভৌগোলিক অবস্থানগত-রাষ্ট্রনৈতিক যুথবদ্ধতা ইত্যাদির ভিত্তিতে একত্রিত-সংগঠিত মানবগোষ্ঠিকেও সবসময় সর্বক্ষেত্রে জাতি বলা দুষ্কর, অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে পরিচিত। যাই হোক, মূল সমস্যাটি খুব সুন্দরভাবে ফোকাস করা হয়েছে যেটি পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই উপমহাদেশীয় হাস্যকর করুণ একটি সংকীর্ণতা, যা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। এটি মুসলিমদের উন্নতির পথে বড় একটি অন্তরায় হিসেবেও অনুঘটকের কাজ করছে। ইসলামের যত কাজ একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে আরোপিত তা করতে ব্যক্তি যদি ক্রমাগত অস্বীকার করতে থাকে তখন সে অবাধ্যাচারী দুষ্টমতি মরদুদে পরিণত হয়। এরকম ব্যক্তির সংখ্যা যখন 'অধিকাংশ' তে গিয়ে দাঁড়ায় তখন সেটাকে বলে 'জালিম সম্প্রদায়'। কোরআন-হাদিসে প্রেক্ষাপটে মুসলিম যাকে বলা হয় তিনি আল্লাহর হুকুম রাসূল(সাঃ) সুন্নাহর বিরোধিতা করতেই পারেন না ! আল্লাহ-রাসূল(সাঃ) বিরুদ্ধাচরণ তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এই অবস্থায় অধিকাংশই যদি চিন্তাচেতনায়-জীবনে-কর্মে কোরআন-সুন্নাহর বিপরীত ধারার অনুসরণ করে সেক্ষেত্রে কি শুধু নাম বা মুসলিম পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণেই তবুও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিতে হবে বা অনায়াসে তারা 'অন্তর্ভূক্ত' হবার গৌরব অর্জন করবে ?    

    "এখন অবশ্য অবস্থা বদলে গেছে – বিশেষ করে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্টতা থাকলেও ধারাবাহিক ডিফেন্স ম্যাকানিজমের চর্চা অব্যহত রয়েছে। যার ফলে মুসলমানদের আত্ন সমালোচনা বা আত্নসুদ্ধির মাধ্যমে খোলস থেকে বেড়িয়ে আসার চাইতে মুলত বিচ্ছিন্নতা আর অন্যের প্রতিদোষারোপের মাধ্যমেই নিজেদেরকে একটা সংকীর্ন সংঘবদ্ধতা আটকে রেখেছে।"

    আজ সত্যিকারের 'মুসলিম' যদি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় তাকে আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) আনুগত্যের মাঝে আত্মসমর্পণ করতে হবে, যেভাবে করেছিলেন পূর্বেকার গৌরবময় সোনালী দিনের মহানায়কেরা। হয়তো শুধু কোনমতে নামাজটা পড়েন কিন্তু জীবনবিধান হিসেবে নিজে ইসলামকে মেনে চলতে চান না মোটেই, নিজের পরিবার পরিজনের মাঝেও ইসলামকে লাইফস্টাইল হিসেবে গ্রহণ করতে মোটেও রাজি নন _ এরকম বহু লোককে দেখেছি 'মুসলিম জাতি' র কথা বলে বলে ফেনা তুলতে, জুমার নামাজের দোয়ার সময় আওয়াজ ছেড়ে কাঁদতে, এসব ভন্ডামিতে যদি কাজ হত তাহলে তার আলামত দেখাই যেত এতদিনে, আফসোস আল্লাহকে বোকা বানানো যায় না, ভেজাল জিনিস গছানোও যায় না, সেজন্যে ভেজাল করার কারণে দোয়াও কবুল হয় না। বর্তমানে ঐ জিগির বেশি তুললে দাওয়াতের নিয়তে সুকৌশলে বিভিন্ন দেশে যে জামাত-দাঈগণ যাচ্ছেন সেটিও নিষিদ্ধ করার দাবি উঠবে, সন্ত্রাসী হিসেবে জঙ্গী হিসেবে চিহিৃত করে আরো বেশি একঘরে ব্রাত্য করে তুলবে। কাজেই 'জাতি' র জিগির বেশি না তোলাই ভাল। আসল কাজ, অর্থাৎ শান্তিপূর্ণভাবে হেকমতের সাথে মুসলমানদের আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) আনুগত্যের দিকে আগে ফিরিয়ে আনাই এই মূহুর্তে আসল কাজ।

  15. 7
    নাঈম আবু বকর

    আপনি বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি ধারণা জন্ম দিচ্ছেন। ইসলামের ইতিহাস  দেখুন; বদর থেকে শুরু করে সবসময়ই মুসলমানরা নিজদেরক একটি স্বকীয় জাতি হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। কুরআন ও হাদীস থেকেও অনেক উদ্বৃতি এমন দেয়া যাবে যাতে মুসলমানদেরকে পৃথক জাতিসত্ত্বা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
    হঠাৎ এই অভিনব মতামত সামনে নিয়ে আসার কোনো কারণ বোধগম্য হচ্ছে না।

    1. 7.1
      মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

      উনাকে তো কেউ সেটাই বুঝাতে পারছে না।উনি আসলে ধর্মনিরপেক্ষতা দিয়ে প্রচুর ইনফ্লুয়েন্সড তো,সেজন্য এসব বিষয় নিয়ে জট পাকিয়ে ফেলেন।

    2. 7.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ কমেন্টের জন্যে। আপনার কথাগুলো বুঝতে পেড়েছি। তবে সমস্যা হলো জাতির সংজ্ঞা নিয়ে প্রচুর বিতর্ক করা যাবে। যতটুকু বুঝি -- পশ্চিমা জাতীয়তাবাদের যে জোয়ারের বিশ্ব উপনিবেশিতার পর খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয়েছে -- সেই জাতীয়তাবাদের গ্রহনযোগ্যতা এখন কমে যাচ্ছে। বিশ্বে একক ভাবে কোন জাতীয়তা এখন আর তেমন কার্যকর নেই। আর ধর্মভিত্তির জাতীয়তাবাদ যে কতটা ভয়াবহ তার উদাহরন জায়ানিজমের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র -- তারপরও যদি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে কোন হাদিস দেখাতে পারেন -- অবশ্যই ভিন্নভাবে চিন্তা করবো। 
       
      ধন্যবাদ। 

  16. 6
    সাদাত

    জিয়া ভাই,
    আমি ঠিক বুঝতেই পারছি না যে আমি আপনার লেখাটা বুঝেছি কিনা।

    আমার মনে হচ্ছে আপনি বলতে চাচ্ছেন-
    ১. মুসলিম কোন জাতি হতে পারে না, মুসলিম উম্মাহ হতে পারে।
    ২. ভিন্ন ধর্মালম্বীদের সাথেও মুসলিমরা একটা জাতি গঠন করতে পারে।

    আমি কি আপনার বক্তব্য বুঝতে পেরেছি?

    আমার সময়/সুযোগ একদম নেই, তথাপি আলোচনা করতে চাচ্ছি, কারণ আমার মনে হচ্ছে আপনার বক্তব্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। আশা করি আপনিও কষ্ট করে হলেও আলোচনা চালাবেন।

    1. 6.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      সাদাত, আমি খুবই দু:খিত -- প্রচন্ড ব্যস্ত থাকার করনে এখনই আলোচনা করতে পারছি না। তবে বিতর্ক না করে যদি আলোচনা করার সুবিধার্থে আপনার প্রশ্নগুলো যদি দিয়ে দেন তবে একবারে উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। 
       
      ভাল থাকবেন। 

      1. 6.1.1
        সাদাত

        আলোচনা আর বিতর্ক যাই বলেন না কেন, সেটার উদ্দেশ্য সত্যকে অনুধাবন করা।
        সব প্রশ্ন একসাথে করার আগে আপনার পোস্টটা বুঝা দরকার। 
        আমার মনে হচ্ছে আপনি বলতে চাচ্ছেন-
        ১. মুসলিম কোন জাতি হতে পারে না, মুসলিম উম্মাহ হতে পারে।
        ২. ভিন্ন ধর্মালম্বীদের সাথেও মুসলিমরা একটা জাতি গঠন করতে পারে।

        আমি কি আপনার বক্তব্য বুঝতে পেরেছি?

  17. 5
    সাদাত

    উম্মাহ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?
    জাতি শব্দের আরবী কী?

  18. 4

    ইসলামী মতে আমি যেটা বুঝি সমগ্র মুসলিম রাষ্ট্র গুলি এক হয়ে মদিনা কেন্দ্রিক খিলাফতের অধীনে চলা। কে আরব, কে বাঙালী, কে পাকিস্তানী, কে ইন্দোনেশিয়ান তার চেয়েও বড় পরিচয় কে মুসলমান। মৃত্যুর পর ফেরেশতা মুনকার-নাকীর প্রথম তিন প্রশ্ন করবে ১) তোমার রব কে? ২) তোমার দ্বীন কি? এবং ৩)তোমার নবী কে? সব মুসলিম রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী রেখে যদি রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে মদিনায় একজন খলিফা থাকেন সেটা ইসলাম সম্মত হবে। ইসরাইলী দৈনিক জেরুজালেম পোষ্টে আমি পরিস্কার বলেছি যে ইসলামে খেলাফতই গ্রহণযোগ্য!

  19. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পরিচয় বিষয়টা যেমন ভাবে গুরুত্বপূর্ন -- তেমনি গুরুত্বপূর্ন পরিচয়ে বোধটা। যেমন ধরা যাক -- আয়ান হারসে আলির কথা  -- সে নিজেকে পরিচয় দেয় একজন মুসলিম নাস্তিক হিসাবে। এখানে যদি জাতিয়তাবাদের দৃষ্টিতে দেখি তা হলে আয়াত হারসে আলি একজন মুসলিম বটে। কিন্তু সে সেই অর্থে মুসলিম না -- কারন মুসলিম হওয়ার প্রাথমিক শর্ত তওহীদ বা আল্লাহ একত্বে বিশ্বাস করে না। 
     
    যেমনটা আগের কমেন্টে বললাম -- মুসলিম জাতির সদস্য হিসাবে ১.২ বিলিয়ন মানুষকে ধরা হয় -- কিন্তু মুসলিম উম্মার সদস্য হিসাবে অনেকেই ডিসকোয়ালিফাই করবে। 
     
    আর পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে অবশ্যই স্থান কাল পাত্র বিবেচনা করেই দিতে হবে। 

    1. 3.1
      আহমেদ শরীফ

      যেহেতু মহান আল্লাহতা'লা সুক্ষদর্শী অন্তর্যামী সেহেতু আল্লাহর কাছে আসল বিবেচ্য হল ভেতরগত খাঁটি ঈমান ও বাহ্যিকভাবে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাসূল(সাঃ)ওয়ালা আ'মাল। সুতরাং যাঁরা ঈমান ও আ'মালকে শক্তিশালী করবেন তাঁরাই খাঁটি মু'মিন হিসেবে আল্লাহর কাছে বিবেচিত হবেন। বর্তমানে 'নামে' মুসলিমের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও 'কামে' মুসলিমদের সংখ্যা অনেক কম হবে। একটা সামান্য কলমও লেখা না গেলেও কলমই থাকে, কিন্তু আমরা সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিই যেহেতু 'কাজের' নয় শুধু নামমাত্রই কলম। আল্লাহতা'লার মেহেরবানিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) র বিধান ছেড়ে জীবনাচরণে অন্যান্য বিধর্মী কওমের অনুসরণ করা সত্বেও যে ধ্বংস হচ্ছি না পূর্বেকার উম্মতদের মত সেটা আল্লাহর দয়া ও করুণা আর মমতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কোরআনে আল্লাহতা'লা নিজের পরিচয় দিয়েছে 'রাব্বুল আ'লামিন' বলে, 'রাব্বুল মুসলিমীন' হিসেবে নয়, উনি 'আদলু' বা মহান্যায়বিচারকও। মুসলিম যদি তওবা করে মেহনত শুরু করে দ্বীনের তথা আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসতে থাকে তবে নিঃসন্দেহে জমিনের খেলাফত আল্লাহই তাদের দান করবেন। তার আগ পর্যন্ত বিধর্মীদের উপদ্রব মুসলিমদের মাথার ওপর চাপিয়ে দেয়ার নিয়ম অব্যহতভাবে চলতে থাকবে এটা ওনার 'নিয়ম' যা আগে থেকে চলে আসছে।

      বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে 'মুসলিম' একটি সম্প্রদায় বা কমিউনিটি হিসেবে স্বীকৃত। 'জাতি' হিসেবে একত্রিত তখনই হতে পারবে যখন তারা খাঁটিভাবে কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে চলা শুরু করবে, তখনই তাদের ঐক্যবদ্ধ হবার সুযোগ আল্লাহতা'লা দেবেন। 

  20. 2
    এম ইউ আমান

    যেটা বুঝতে পারছি তা হল, কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, তোমার জাতীয়তা কি? তাহলে বলতে হবে ক্যানাডিয়ান। যদি জিজ্ঞেস করে ধর্ম কি? তাহলে বলতে হবে ইসলাম। যদি দু’টি প্রশ্ন করেঃ এক- তোমার জাতীয়তা কি, দুই- তোমার ধর্ম কি? তখন বলতে হবে ক্যানাডিয়ান মুসলিম। প্রাথমিক পাঠ। কিন্তু অনেক সময় এই প্রাথমিক শিক্ষাতেও গড়বড় হয়ে যায়। জাতীয়তা কি? জিজ্ঞেস করলে কিছু প্রাক্টিসিং মুসলিম বলছেন ‘ক্যানাডিয়ান মুসলিম’। ধর্ম কি? জিজ্ঞেস করলে কিছু নন-প্রাক্টিসিং মুসলিম বলছেন ক্যানাডিয়ান মুসলিম।
    এতে কি এত অশুদ্ধ হয়ে গেল?
    চাল চাইলে চালকুমড়া যেমন দেওয়া যায়না তেমনি ধর্ম ও জাতীয়তা মিশিয়ে কলয়েড তৈরী করা ঠিক হবেনা।
    করলে কি হবে?
    এখন কিছু হবে না। টিঙ্কারবেল নামে বাচ্চাদের মজার একটি কার্টুন সিরিজ আছে। টিঙ্কারবেলকে যখন প্রথম পোশাক পরানো হলো- সে পোশাকটা অনেকটা মাদার তেরেসার মত। তার সব সখীরা হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে। কেটে-কুটে কমিয়ে সে পোশাক যখন ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সাইজ করা হলো, তখন চারপাশ থেকে প্রশংসাসূচক ধ্বনি- ওয়াও! কি পোশাক দেখে হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকতে হবে, আর কি পোশাক দেখে প্রশংসা করতে হবে; সেই জ্ঞান বড় হয়ে এই বাচ্চাগুলি এক সময় প্রয়োগ করবে। তখন কিছু সমস্যা হতে পারে।
    সদালাপে অনেকটা একারণেই মনে হয় সুন্নী ইসলাম, শিয়া ইসলাম, জামাতে ইসলাম, তাবলীগ জামাত, মডারেট ইসলাম, ওয়াহাবী ইসলাম, সুফি ইসলাম  এরকম ফ্রাগম্যান্টেশন কে নিরুৎসাহিত করা হয়। অ-তে অস সংগ ত্যাগ কর –এর প্রাথমিক পাঠের মত… ইসলামের অনুসারীদের মুসলিম বলাই বিধেয়।

  21. 1
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    কিছু জিনিস বুঝলাম না।এটা ঠিক ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ ইসলামে হারাম,যেটা আপনি পোস্টের দ্বিতীয় অংশে আলোচনা করেছেন এবং তার সাথে আমিও একমত।কিন্তু সারা বিশ্বের সব মুসলিম এক জাতি-এই চিন্তার মধ্যে সমস্যার কি আছে?আল্লাহ্‌ নিজেই তো বলেছেন যে মুসলিমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ "জাতি",কারণ তারা সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ "ইসলাম" গ্রহণ করেছে।তাছাড়া এখন ইসলামের বিরুদ্ধে যে সর্বব্যাপী যুদ্ধ চলছে,তার জবাব কিভাবে দেয়া উচিৎ বলে মনে হয় আপনার?মুসলিমরা কি "একক" জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত হয়ে এর জবাব দেবে;নাকি যে যে অবস্থানে আছে,সেখান থেকে প্রতিবাদ করবে?কোনটা বেশি শক্তিশালী হবে?
     
     

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ।
       
      সারা বিশ্বের মুসলিমদের একজাতি বলতে যদি প্রচলিত জাতীয়তাবাদের আলোহে জাতি বুঝিয়ে থাকেন -- তা হলেই সমস্যা। জাতিয়তাবাদের বিষয়ে ইসলাম কঠিন অবস্থানে আছে। 
       
      আপনি যে আয়াতের কথা বলছেন -- সেইটা হলো -- 
      (3:110) তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে-কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।
       
      এখানে যে শব্দটা বলা হয়েছে তা হলো --  أُمَّةٍ -- যার বাংলা করা হয়েছে "জাতি"
      অন্যদিকে আরবীতে জাতি ( যা আমরা প্রচলিত অর্থে বুঝিয়ে থাকি) তা হলো الأمة। 
      এই বিষয়টি খুবই সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে। 
      আ্পনার দ্বিতীয় প্রশ্ন -- কিভাবে আমরা আমাদের উপর নির্যাতনের জবাব দেবো -- কিভাবে প্রতিবাদ করবো? সেই জন্যে জাতিয়তাবোধের প্রয়োজন আছে কিনা?
      অবশ্যই জাতিয়তাবোধের প্রয়োজন নেই -- সেইটা বরঞ্চ ভুল। মুসলিমদের ঐক্য হবে তওহীদের উপর। আল্লাহর নির্দেশিত পথে কঠিন ভাবে একে অপরকে আকড়ে ধরতে হবে। আর সেই ঐক্যের ভিত্তি কোরাআন আর সুন্নাহ। যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ নির্দেশিত পথে একক শক্তি হয়ে না উঠতে পারছি -- ততদিন ধৈর্য্য ধরে আল্লাহ সাহায্য চাইতে হবে। 
       
       

    2. 1.2
      আহমেদ শরীফ

      বনি ইসরাঈলের সাথে এই উম্মতের বিভিন্ন দিক দিয়ে অনেক মিল আছে। তাদের মতই এই উম্মতও যতক্ষণ পর্যন্ত দ্বীনের দিকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যপকভাবে আল্লাহ সুবহানুওয়াতা'লার গায়েবী মদদ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। দ্বীন হল কোরআন ও সুন্নাহর আহকামাত এবং উসুলগুলোর সমষ্টি। বহুদিন থেকেই দুনিয়ার বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে জুমার পর ব্যপক দোয়া হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য, ফিলিস্তিনবাসীদের জন্য, একসময় বসনিয়াবাসীদের বা ইরাকবাসীদের জন্য, হয়ে আসছে। কিন্তু আসল কাজ যেটা _ সাধারণ মুসলিমদের বৃহদাংশ নিজেরাই কোরআন-সুন্নাহমতে চলতে রাজি নয় বা চলা শেখার জন্য কোনরকম ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার অধীন হতে রাজি নয়। জুমার নামাজে যতগুলো এসে 'দোয়া' করছে তাদের অধিকাংশেরই পরের জুমার আগ পর্যন্ত আর মসজিদেই কোন খবর নেই। একদিকে বলছে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা অন্যদিকে নিজেরাই মানতে রাজি নয়। এরকম দু'মুখো ভন্ডামির কারণেই আল্লাহতা'লার পক্ষ থেকে ভেজাল মুসলিমদের ওপর কাফির-মুশরিক তথা বাতিল শক্তিকে চাপিয়ে দেয়া হয়, আগেও হয়েছে এখনও হচ্ছে। সমাধানও একটি ছাড়া দ্বিতীয়টি নেই, সেটা হল নিজেরা তওবা করে আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) এর আনুগত্যের দিকে সর্বতোভাবে ফিরে আসা এবং পুরো মানবজাতির দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণের নিমিত্তে নিজেদের সর্বস্ব নিয়ে নিয়োজিত হওয়া। তবেই দোয়া কবুল হওয়া কাকে বলে উম্মাহ সেটা টের পাওয়া শুরু করবে। আল্লাহর অনুগত হয়ে আল্লাহকে সাথে না নিয়ে এমনি নিজেরা নিজেরা হাউকাউ বা প্রতিবাদ করে বিশেষ লাভ হবে বলে মনে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.