«

»

Jan ২৯

সাম্প্রতিক জামাত/শিবিরে সন্ত্রাস ও জামায়াতের ভন্ডামী

আজ বাংলাদেশের খবর দেখছিলাম টিভিতে। ছোট ছেলে খাবার টেবিলে। আমি খেয়াল করিনি – করলে হয়তো টিভি বন্ধ করে রাখতাম – কারন কোন ভায়লেন্স দেখিয়ে বাচ্চাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিব্রত হতে ভাল লাগে না। যাই হোক, মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম তথাকথিত ইসলামের শাসন কায়েম করার লক্ষ্যে জানবাজ কর্মীরা কিভাবে গাড়ী ভাংগছে – কিভাবে পুলিশের উপর আক্রমন করছে – নির্বিচারে ঢিল ছুড়ছে চলন্ত যানবানের দিকে। একবারও এরা ভাবলো না বাসে বসে থাকা লোকটির মধ্যে একজন মুমিন থাকতে পারেন – যাকে আঘাত করার পরিনাম হতে পারে ভয়াবহ। ভাবছিলাম হাদিসের কথা – “মুসলমান হচ্ছে সে ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে সমস্ত মুসলমান নিরাপদ।” (বুখারী ও মুসলিম- আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ)  – নিশ্চয়ই রসুল (সঃ) এর এই কথাগুলো ওদের জানা আছে। কিন্তু কি এক অশুভ শ্পর্শে ইসলামের নামে এরা মানুষকে সন্ত্রন্ত করছে- নির্বিচারে আহত করছে মানুষকে – বেতনভুক পুলিশের উপর আক্রমন করছে – মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের হক নষ্ট করছে। চিন্তুার ছেদ পড়লো ছেলের প্রশ্ন শুনে – "বাবা, হোয়াট দ্য্য আর ফাইটিং ফর?" দ্রুত টিভি বন্ধ করে দিলাম। বললাম – পরে মনে করিয়ে দিও, তোমাকে বুঝিয়ে দেবো। আশা করলাম ও ভুলে যাবে আর আমাকে বুঝাতে হবে না – অথবা একটা কিছু বলতে হবে চিন্তা করে। 
 
ভাবছিলাম আমাকে প্রমান করতে বলা হয়েছে – জামাত/শিবির ভন্ডের দল – প্রমান না করে আমি মুক্তি পাবো না। কি প্রমান দেবো। সর্ব অংগে ব্যাথা – মালিশ দেবো কোথা? জামাত/শিবির প্রতিটি কর্মকান্ডইতো ভন্ডামীতে ভরপুর। তারপরও ডকুমেন্টেট কিছু ভন্ডামীর নমুনা দিলে সুবিধা হবে – কারন তাতে বিতর্ক করার সুযোগ কম থাকবে। সেই জন্যে জামাতের মুখের কথা – কাগজের লিখন আর সময় সময় গিরগিটির মতো রং বলানোর মুনাফেকির দিকটাই দেখা যাক।
 
একটা রাজনৈতিক দলের প্রান হলো তাদের গঠনতন্ত্র – যা আসলে দলের সংবিধান। একবার গৃহিত হলে সেই আনুসারে কর্মী বাহিনী তৈরী করা এবং নেতৃত্ব গঠন করে কর্মসূচী বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে সর্বশক্তি নিয়োজিত করে সেই দলটি। কিন্তু জামাতের ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্টা – সেখানে নেতৃ্ত্ব থাকে অটুট – কিন্তু দলের আদর্শ বলায়। অনেকটা গোলপোস্ট বদলানোর মতো। অথবা বলতে পারি – হুকুম নড়ে কিন্তু হাকিম নড়ে না। এদের ভন্ডামী এবং মুনেফিকীর সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো এদের গঠনতন্ত্র সংশোধনের একটা রেকর্ড তৈরী করা। 
 
জন্মলগ্ন থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এদের দলের উদ্দেশ্যের একটা ছিলো এই ধরনের – 
 
Constitutional and legal reforms  – 
 
Bangladesh shall be declared an Islamic Republic on the basis of Sovereignty of Almighty Allah. The Holy Quran and Sunnah will be the only source of all laws in the Republic. All repressive black laws like Special Powers Act and Public Safety Act shall be repealed in order to guarantee the people's fundamental rights. The judiciary shall be separated from the Executive in toto. Civil and criminal Procedure codes shall be suitably amended for ensuing easy and quick disposal of cases and in the interest of justice.
 
এখানে খুব লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আসল ফাঁক ফোকরটা কোথায়। আধুনা নাম পরিবতর্নের আগে দলের নাম ছিলো – জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। অর্থাৎ মুল দল জামাতে ইসলামী এর বাংলাদেশ শাখা। এদের শাখা আছে ভারতে – জামাতে ইসলামী হিন্দ, আছে পাকিস্তানে জামাতে ইসলামী পাকিস্তান। মুলত তিন দেশে একটাই দল। সেখানে ইসলামী রিপাবলিক বানাবে কোনটাকে – সবগুলো এক সাথেই্ না ভিন্ন ভিন্ন ভাবে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়ে গত ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের আপত্তির কারনে নাম পরিবর্তন করে – নতুন নাম হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু ২০১২ সালে দলে গুরু সাবেক আমির গোলাম আযম এক সাক্ষাৎকারে বলেন – জামাতের হেড কোয়ার্টার লাহোরে – আগেও লাহোরে ছিলো এখনও সেখানেই আছে। দলের রেজিস্ট্রেশন টিকিয়ে রাখতে কাগজে পত্রে নাম বদলালেও অন্তরে ওদের হেড কোয়ার্টার লাহোরেই। সেই সাথে দলের গঠনতন্ত্রের কভার পেজে মুল শ্লোগান হিসাবে লেখা থাকতো "আকিম উদ  দ্বীন" অর্থাৎ দ্বীনের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দলের অস্তিত্ব ধরে রাখতে এরা তাও বাতিল করে দিয়েছে। এখন আর ওরা কাগজে কলমে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলছে না। 
 
কিন্তু এতেও নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট না হলে এরা গঠন তন্ত্র ব্যাপক পরিবর্তন আনে – যা ওদের মুখের শ্লোগানের সাথে সম্পূর্ন বিপরীত। দেখা যাক সেই পরিবর্তনগুলো কি ধরনের – 
 
 
 
উল্লেখ করা দরকার যে – গঠনতন্ত্র হলো দলের মূলমন্ত্র তথাপি এতে মোট ৪৬বার সংশোধন আনা হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ৮টি ধারায় সংশোধনের জন্য জামায়াতকে বলা হয়, তখন তড়িঘড়ি করে সেই ধারাগুলো লালকালি দিয়ে কেটে দেয়। কোন একসময় তারা দলের ওয়েবসাইটে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েছে পর্যন্ত। স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী দলটি স্বাধীনতার পর প্রায় চারদশক তাদের গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধ শব্দটা উচ্চারন করে নি। অবশেষে নির্বাচন কমিশনের চাপে তা করতে বাধ্য হয়েছে। 
 
ফাঁক-ফোকড় সহকারে জামায়াত ইসলামী নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে স্বাধীনতা স্বপক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের সোচ্চারের মুখে “গণতান্ত্রিক পদ্ধতি” অনুসরণে গঠনতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধন আনে।  নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে দলটি গঠনতন্ত্র থেকে "আল্লাহ প্রদত্ত এবং রসুল প্রদর্শিত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার" কথা বাদ দিয়ে "গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার" কথা বলেছে। এছাড়া “আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও সয়ংসম্পুর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আাইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে”  এ নীতিও বাদ দিয়েছে দলটি। কিন্তু এ ধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ “আল্লাহ ব্যতিত অন্য কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিজস্বভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়সম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইনপ্রণেতা মানিয়া লইবে না” কথা রেখেই ইসিতে গঠনতন্ত্র জমা দেয় দলটি।
 
নির্দেশিত যেসব ধারায় সংশোধনী আনা হয়নি, পরিবর্তন হয়নি এবং আংশিক পরিবর্তন হয়েছে তা পুরোপুরি সংশোধনের জন্য দলটিকে আবারো চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশন।
 
 
প্রতিকুল রাজনৈতিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দুই মাসের সময় চায় জামায়াত। তবে তাদেরকে সে সময় দেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই দলটি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তার মুদ্রিত কপি কমিশনে জমা দেয়। 
 
এর আগে নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপধারা, ধারা ৩,  ৫ ধারার ৩ উপধারা, ৬ ধারার ৪ উপধারা, ৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারা, ১১ ধারার ২ উপধারা ও ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারা সংশোধনের তাগিদ দেয়। দলটির নিবন্ধনের সময়ও এসব ধারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার তখন তাদের গঠনতন্ত্র থেকে কয়েকটি ধারা লাল কালি দিয়ে কেটে দিয়ে তা গঠনতন্ত্রের অংশ নয় মর্মে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরে জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ওই বাদ দেওয়া বিষয়গুলো থেকেই যায়।
 
৩ ধারায় দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভূমিকাসহ ৪ টি উপধারাতে "আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথ থেকে দ্বীন (ইসলামী জীবন বিধান) কায়েমের প্রচেষ্টার" কথা বলা ছিল। সেগুলো বাদ দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’ বাক্যটি  সংযোজন করা হয়েছে।
 
৫ ধারা ৩ উপধারায় বলা ছিল, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটাইবার আহ্বান জানাইবে।’  এ অংশ থেকে ‘ইসলামের’  শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতি’ কথাটি সংযোজন করা হয়েছে।
 
৬ ধারার ৪ উপধারায় বলা ছিল, ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনায়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’ এ কথাগুলো থেকে ‘খোদাভীরু’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘চরিত্রবান’ শব্দটি  যোগ করা হয়েছে।
 
 
৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারায় জামায়াতের সদস্য হতে হলে ইসলামে বিশ্বাস ও শরীয়তের নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ের শর্ত দেওয়া ছিল। এগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে।
 
১১ ধারার ২ উপ ধারায় যে কোনো অমুসলিম নাগরিক কয়েকটি শর্ত পূরণের মাধ্যমে জামায়াতের সদস্য হতে পারবে বলা ছিল। এ উপধারাটি দলের গঠনতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও স্ব-বিরোধী বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। জামায়াত এ উপধারাটি বিলুপ্ত করেছে।
 
জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারায় বলা ছিল ‘আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া প্রযোজনীয় সংখ্যক সদস্যকে ( রুকনকে) কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মনোনীত করিতে পারিবেন।’ এটি আরপিও পরিপন্থি মর্মে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এ উপধারাটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
 
জামায়াতকে তাদের গঠনতন্ত্রের ৬৪ পৃষ্ঠার বিশেষ নোটের দফা ৩-এ সংশোধনী আনারও তাগিদ দিয়েছিল ইসি। এতে দলের সব কমিটিতে আরপিও অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা  সদস্যের স্থলে অধিকাংশ কমিটিতে ২৫ শতাংশ মহিলা সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সম্পৃক্ত করে ৬৯ ধারায় সন্নিবেশ করা হয়েছে।
 
 
 
এখন জামাতের নতুন গঠন তন্ত্রের চেহারাটার একটা সারাংশ করি তাহলে কি দাড়ায় – 
 
১) শ্লোগান আকিম উদ দ্বীন (দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা)  বাদ দেওয়া হয়েছে। 
২) আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথ থেকে দ্বীন (ইসলামী জীবন বিধান) কায়েমের প্রচেষ্টা বাদ দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’  সংযোজন করা হয়েছে। 
৩) সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটাইবার আহ্বান জানাইবে। – এই লাইন থেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বাদ দিয়ে "গনতান্ত্রিক" শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। 
৪) সদস্য হওয়ার শর্ত হিসাবে "খোদাভীরু" বাদ দিয়ে "চরিত্রবান" করা হয়েছে। 
৫) নারী নেতৃত্ব হারাম প্রচার করলেও এখন ৩৩% নারী মসলিসে সুরায় নেওয়া কথা বলা হয়েছে। 
৬) জামাতে সদস্য হওয়ার শর্ত হিসাবে –  ইসলামে বিশ্বাস ও শরীয়তের নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিব আদায় বাধ্যতা মুলক ছিলো তা বাতিল করা হয়েছে। 
৭) নতুন সংযোজন হিসাবে কিছু শর্ত সাপেক্ষ অমুসলিমরাও জামাতে সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবে বলে নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। 
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে তা হলো –  
 
“আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও সয়ংসম্পুর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আাইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে”  
 
এখন জামাতে ইসলামী নামক দলটি  আল্লাহ ব্যতিত অন্য যে কাউকে বিধানদাতা মানিয়া লইবে –  যা মুনাফেকদের আসল চরিত্র প্রতিফলন করে।  
 
যদি সারসংক্ষেপের দিকে তাকাই তা হলে দেখা যাবে জন্ম লগ্ন থেকে ১৯৭১ সালের গণহত্যার অংশীদার জামাত যে কথাগুলো জোর গলায় প্রচার করতো – তা তাদের গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দিয়ে একটা সেকুলার দলে রূপান্তিত হয়েছে। এই দলে এখন নাস্তিক মুশরিক সবাই যোগদান করতে পারবে। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো – জামাতের নেতারা যখন কলমের খোঁচায় একের পর মুল আদর্শ কেঁটে ফেলে দিচ্ছিলো – যেখানে আল্লার আইন কায়েমের জন্যে জানবাজ কর্মী নিয়ে পরিবেষ্টিত হয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দিচ্ছিলো – তখন তারা হরতাল করেনি – গাড়ী ভাংগে নি। আল্লাহ রসুল(সঃ) এর আদর্শ বাদ দিতে তাদের সামান্য প্রতিবাদ করার মতো কোন লক্ষন দেখা যায় নি – কিন্তু দলের গনহত্যার অভিযোগ অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচানোর জন্যে এরা রাস্তা নেমে পুলিশ পেটাচ্ছে – মানুষকে সন্ত্রস্থ করছে – ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচার বন্ধ করা চেষ্টা করছে। কার্যকলাপে স্পষ্টত এরা বুঝিয়ে দিচ্ছে  – এদের কাছে আল্লাহ রসুল(সঃ) এর পথে সংগ্রাম করা চেয়ে নেতাদের বাঁচানোটাই অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন। এরা অবলীলায় দলের আদর্শ থেকে আল্লাহ নাম কেঁটে ফেলতে পারে – কিন্তু গনহত্যার অপরাধের কথা স্বীকার করে তওবা করতে পারে না। 
 
এর পরও কি কেউ আছেন জামায়াতকে একটা মুনাফেক রাজনৈতিক দল বললে বিতর্ক করবেন? 

 

 

 

১৩ comments

Skip to comment form

  1. 9
    আহমেদ শরীফ

    'ইসলামী বিপ্লব' 'জিহাদ' ইত্যাদি বড় বড় কথা বহুতই পরের ব্যাপার, আগে 'মুসলিম' এর সংজ্ঞায় এরা পড়ে কি না সেটাই বিচার্য _ কারণ '৭১ থেকে নিয়ে আজ ৪২ বছর পর্যন্ত এদের হাতে লক্ষ লক্ষ মুসলমান নির্মমভাবে নিহত হয়েছে।

    এই রক্তপিপাসু হিংস্র শ্বাপদের মত পৈশাচিক মনোবৃত্তিসম্পন্ন ম্যানিয়াকদের আদৌ মানুষ বিবেচনা করা যয় কি না সেটাই এখন বিরাট জাতীয় প্রশ্ন।

    আর এই জামাত-শিবিরের কর্মকান্ডে লাখো সাধারণ মুসলমানদের হৃদয় থেকে একটা আওয়াজই উত্থিত হবে _ "এই জামাত-শিবিরের ইসলাম যদি ইসলাম হয় তাহলে এই জাতীয় বিকারগ্রস্ত ইসলামের আমাদের কোন দরকার নেই।"

    আল্লাহ এই অসুস্থ বিকারগ্রস্ততা থেকে সবাইকে হেফাজত করুন।  

  2. 8
    আহমেদ শরীফ

    শিবির ধোয়া তুলসী পাতা!

    শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু শিবিরের নেতাকর্মীরা তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। যখনই কোনো শিবির কর্মী গ্রেপ্তার হয় তখনই তারা দাবি করে যে, ঐ কর্মী তাদের নয়। তারা বলে যে, তাদের দলে কোনো সন্ত্রাসী নেই। তারা সবাই ধোয়া তুলসী পাতা। কিন্তু ইতিহাস এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে ভিন্ন কথা। বিগত ১০ বছরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অপরাধে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মী্র সংখ্যা হাজারেরও ওপরে। হত্যা, গুম, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারী নিপীড়ন, অবৈধ অস্ত্র বহন, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধারসহ এমন কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা নেই যার সঙ্গে শিবিরের নেতাকর্মীদের যোগসাজশ নেই। রাষ্ট্র কতৃক শিবির পাকড়াওয়ের ইতিহাসই বলে দিচ্ছে শিবির কি ধোয়া তুলসী পাতা নাকি এদেশে সন্ত্রাসের অন্যতম হোতা। এখানে বিগত ১০ বছরের একটা ছোট্ট হিসেব দিতে চাই।

    ১৮ জানুয়ারি, ২০১০। চট্টগ্রাম শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় শিবির নিয়ন্ত্রিত একটি মেস থেকে অস্ত্র ও বোমা বানানোর সরঞ্জামসহ ১২ জন শিবির ক্যাডারকে পুলিশ আটক করে।

    ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৯। কতৃপক্ষের বিরম্নদ্ধে অপরাধমূলক তৎপরতা সংগঠনের দায়ে একজন বহিরাগতসহ ৩ জন শিবিরকর্মীকে পুলিশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটক করে। কতৃপক্ষের উপস্থিতিতে পুলিশ শামসুজ্জোহা হলের দুটি শিবির নিয়ন্ত্রিত কক্ষ সিল করে দেয়।

    ২২ ডিসেম্বর, ২০০৯। সরকারি আযীযুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২০ ডিসেম্বরে সহিংসতা সৃষ্টির দায়ে পুলিশ এদিন ৪ শিবির ক্যাডারকে আটক করে।

    ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯। চাঁদপুর থেকে আটক জেএমবি নেতাকে রিমান্ডে নেয়ার পর হাইমচর উপজেলা শিবিরের সভাপতি ইকবাল হোসেন হিসেবে তাকে শনাক্ত করে পুলিশ।

    ১৫ নবেম্বর, ২০০৯। রাবির ৩টি হলে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ শিবির ক্যাডার হাসমত আলী ওরফে লিটনকে গান পাউডার ও বিভিন্ন জীবনহানিকর রাসায়নিক দ্রব্যসহ আটক করে।

    ২৬ অক্টোবর, ২০০৯। মতিহার থানাসহ রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক অস্ত্র, নারী নিপীড়ন ও অধ্যাপক ইউনুস হত্যা মামলার আসামি শিবির ক্যাডার জাফর বাবুকে পুলিশ রাজশাহী শহরের কাটাখালি মিউনিসিপ্যালিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

    ৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৯। রাবির সৈয়দ আমীর আলী হল শাখার সভাপতি শিবির ক্যাডার একরামুল পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলায় জড়িত থাকার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের হাতে আটক হয়।

    ২৪ আগস্ট, ২০০৯। ছাত্রলীগের ২ জন কমêীকে ২০ জুন ’০৯-এ ছুরিকাঘাতে আহত করার সঙ্গে যুত্ত্ন থাকার অভিযোগে রাবির ৯ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ আটক করে।

    ২৮ মে, ২০০৯। রাবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় সহিংসতায় নেতৃত্বদানকারী শিবির ক্যাডার সাঈদুর রহমান ওরফে সাঈদুরকে পুলিশ রাবি সংলগ্ন একটি শিবির নিয়ন্ত্রিত মেস থেকে আটক করে।

    ১৭ এপ্রিল, ২০০৯। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতার দায়ে বানিয়ারগাতি মহিলা মাদ্রাসা থেকে শিবিরের যশোর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ৯ শিবির ক্যাডারকে আটক করে পুলিশ।

    ১৩ মে, ২০০৮। চট্টগ্রামের আদালতে বিচারক একরামুল হক চৌধুরী শিবির ক্যাডার নাসিরকে একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৩৫।

    ২৬ মার্চ, ২০০৮। চট্টগ্রামের আদালতে ৪ শিবির ক্যাডারকে মৃত্যুদন্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। আসামিদের বিরম্নদ্ধে ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দরহাটে ৬ ছাত্রলীগ নেতা ও তাদেরকে বহনকারী মাইক্রোবাসের ড্রাইভার এবং রাস্তয় থাকা রিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন।

    ৪ মার্চ, ২০০৮। শিবির ক্যাডারদের লালন-পালন ও তাদেরকে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অপরাধে গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শে রংপুর কারমাইকেল কলেজের ৫ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন কলেজে বদলি করা হয়।

    ৮ নবেম্বর, ২০০৭। জরুরি আইন ভঙ্গের দায়ে শিবিরের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান সিদ্দিকসহ ১০ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ আটক করে।

    ১০ সেপ্টেম্বর, ২০০৭। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস হত্যা মামলার চার্জশীট উপস্থাপনের সময় সিআইডি জানায় যে, জেএমবি নেতা আব্দুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডে ৫ শিবির ক্যাডারের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

    ৮ আগস্ট, ২০০৭। রাবিতে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অপরাধে র্যাব কতৃক আটক ব্যক্তিকে রাবি প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা শিবির ক্যাডার মোকাররম আব্দুলস্নাহ মনি হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ৫ মে, ২০০৭। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আর্মি ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থাপনা ভিডিও করার সময় আর্মি সদস্যরা শিবিরের ২ নেতাকে ভিডিও ফুটেজসহ আটক করে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬। পাথরঘাটা উপজেলা শিবিরের সভাপতি সোহাগ খান ও সাধারণ সম্পাদক মারফত উল্লাহকে জেএমবি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব সদস্যরা আটক করে।

    ৮ জানুয়ারি, ২০০৬। শিবির ক্যাডার আব্দুলস্নাহ আল মামুন ও তার পিতা জামায়াত নেতা ইউনুস আলীর বাড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা ২টি গ্রেনেড উদ্ধার করে।

    ২২ ডিসেম্বর, ২০০৫। কুষ্টিয়ার মাদ্রাসা ছাত্র, শিবিরের এক ক্যাডারের কাছ থেকে পুলিশ বোমা বানানোর সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।

    ২৫ নবেম্বর, ২০০৫। জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য জাকারিয়া হোসেন রনি রাজশাহীতে গ্রেপ্তার হয়। সে আগে শিবিরের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিল বলে পুলিশ জানায়।

    ২০ জুলাই, ২০০৫। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার মাহমুদুল চৌধুরীকে পুলিশ সদস্যরা একে-৪৭ এর ৩৩টি বুলেটসহ গ্রেপ্তার করে। যার মধ্যে ১৭টি দেশীয় কোনো কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল মত প্রকাশ করে।

    ১৮ জুলাই, ২০০৫। চট্টগ্রামের ডিসি রোড থেকে র্যাব সদস্যরা শিবির ক্যাডার আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করে।

    ১২ জুলাই, ২০০৫। খুলনা মহানগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শেখ বেলালুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শিবির ক্যাডার এখলাসকে রূপসা ফেরিঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ১০ জুন, ২০০৫। শিবিরের নাসির বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড দুলাল উদ্দিন ওরফে মুন্নাকে ১টি একে- ৪৭ রাইফেলসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    ৬ জুন, ২০০৫। ঢাকা থেকে আগত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদকে র্যাব সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। সাজ্জাদ ছিল শিবিরের চট্টগ্রামের হাজারিকা বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড।

    ২ জুন, ২০০৫। শিবিরের হাজারিকা বাহিনীর প্রধান গিয়াসউদ্দিন হাজারিকা এনকাউন্টারে নিহত।

    ৭ মে, ২০০৫। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের হাতে শিবির ক্যাডার দেলোয়ার ওরফে আজরাইল দেলোয়ার এনকাউন্টারে নিহত হয়।

    ৬ মাচê, ২০০৫। রায়গঞ্জে ছাত্রলীগের সমাবেশে যোগদানকালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা পুঁতে রাখার দায়ে পুলিশ সদস্যরা শিবির ক্যাডার আকিলকে গ্রেপ্তার করে।

    ২৮ ফেব্রম্নয়ারি, ২০০৫। র্যাব সদস্যরা চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার গিট্টু নাসিরকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে একটি একে- ৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়।

    ১৩ ফেব্রম্নয়ারি, ২০০৫। খুলনায় র্যাবের হাতে শিবির ক্যাডার হোসাইন আহমেদ ওরফে ফয়েজ মুন্না ক্রসফায়ারে নিহত হয়।

    ২৮ জানুয়ারি, ২০০৫। চট্টগ্রামের শাহনগর থেকে র্যাব সদস্যরা অস্ত্র স্মাগলিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১ শিবির ক্যাডারসহ ৪ জনকে আটক করে।

    ১৭ জানুয়ারি, ২০০৫। শিবির ক্যাডার আফতাব হামিদকে র্যাব সদস্যরা ঢাকার কাকরাইল থেকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী অভিযান চালিয়ে র্যাব চট্টগ্রামের কেরুনতলি থেকে ৬টি অস্ত্র, রাইফেলের ১০টি বুলেট ও ৬টি কিরিচসহ ২টি ড্যাগার উদ্ধার করে।

    ১৫ জানুয়ারি, ২০০৫। চট্টগ্রামের গোধারপাড় থেকে ৪ শিবির ক্যডারকে ১টি এসবিবিএল গান, ৩টি এলজি গান ও ২৩ রাউন্ড গুলি এবং অনেকগুলো ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৪। চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে র্যাব সদস্যরা ৫ শিবির ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে।

    ৯ এপ্রিল, ২০০৪। শিবির নিয়ন্ত্রিত ইয়াকুব বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুল হামিদ পুলিশ হেফাজতে মারা যায়। পুলিশ তাকে ইতোপূর্বে আরো ৭ শিবির ক্যাডারের সঙ্গে গ্রেপ্তার করে।

    ৭ এপ্রিল, ২০০৪। শিবির পরিচালিত ইয়াকুব বাহিনীর প্রধান ইয়াকুব চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে এনকাউন্টারে নিহত হয়।

    ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৩। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে পুলিশ সদস্যরা শিবির ক্যাডার এনামুল হক ওরফে এনাইম্যা এবং ফরিদুল আলম ওরফে ফরিদ্যাকে ১টি একে-৪৭সহ আটক করে।

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৩। কুমিল্লার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে শিবিরের ৪ নেতাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৩। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী জামালউদ্দিনকে অপহরণের দায়ে শীর্ষ শিবির ক্যাডার কালা মাহবুব ও আলমগীরসহ ২৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

    ৬ আগস্ট, ২০০৩। বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ৭ শিবির ক্যাডার গ্রেপ্তার।

    ২৯ জুন, ২০০৩। অস্ত্র মামলায় বগুড়ায় ১ শিবির ক্যাডারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার।

    ১৭ এপ্রিল, ২০০৩। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ বোমাসহ গ্রেপ্তার করে।

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩। চট্টগ্রামে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা মামলার শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে হত্যার দায়ে শিবির ক্যাডারদের অভিযুক্ত করা হয়।

    ১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩। সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত- শিবিরের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের হাতে ১ শিবির ক্যাডার নিহত হয়।

    ২৯ জুন, ২০০১। নারায়ণগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ শিবিরের ১ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ জুনের ঐ হামলায় আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মী নিহত ও শতাধিক গুরুতর আহত হয়।

    ১১ এপ্রিল, ২০০১। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে রংপুরে জামায়াত ও শিবিরের ২ জন গ্রেপ্তার।

    ৯ এপ্রিল, ২০০১। সাতকানিয়ায় ৭ এপ্রিল ছাত্র যুবলীগের ২ জনকে হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৯ শিবির ক্যাডারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

    ৯ মাচê, ২০০১। যশোর উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা করে ৮ জনকে হত্যার দায়ে পুলিশ কতৃক ৪৬ জামায়াত- শিবির কর্মী গ্রেপ্তার।

    ২১ জুলাই, ২০০০। গোপালগঞ্জে হাসিনার সমাবেশে বোমা পুঁতে রেখে তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালানোর দায়ে পুলিশ শিবিরের ৪ ক্যাডারকে আটক করে।

    ১৯৯৯ [তারিখ পাই নাই]। রাবি ছাত্র শিবির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর পাকিস্তানে তৈরী রিভলবার, গুলি ও গান পাউডার সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
     
    লিংক

  3. 7
    আহমেদ শরীফ

    মে, ১৯৯২ / ইসলামী ছাত্রী সংস্থা রাজশাহী কলেজ শাখার নেত্রী মুনীরা বোমা বহন করার সময় বিষ্ফোরণে মারা যায় এবং তার সহযাত্রী-সহকমী আপন খালা এবং ঐ রিকসাওয়ালা আহত হয়।

    ১৯ জুন, ১৯৯২ / শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে হরতাল কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাসদের মিছিল চলাকালে শিবিরের সশস্ত্র হামলায় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে জাসদ নেতা মুকিম মারাত্মক আহত হন এবং ২৪ জুন তিনি মারা যান।

    আগষ্ট, ১৯৯২/ বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববর্তি নতুন বুথপাড়ায় শিবির ক্যাডার মোজাম্মেলের বাড়ীতে বোমা বানানোর সময় শিবির ক্যাডার আজিবর সহ অজ্ঞাতনামা অন্তত আরো তিন জন নিহত হয়। বিষ্ফোরণে পুরো ঘর মাটির সাথে মিশে যায় এবং টিনের চাল কয়েকশ গজ দুরে গাছের ডালে ঝুলতে দেখা যায়।

    পরবর্তীতে পুলিশ মহল্লার একটি ডোবা থেকে অনেকগুলো খন্ডিত হাত পা উদ্ধার করে। যদিও শিবির আজিবর ছাড়া আর কারো মৃতু্র কথা স্বীকার করেনি। পুলিশ বাদি হয়ে মতিহার থানায় শিবির ক্যাডার মোজাম্মেলকে প্রধান আসামী করে বিষ্ফোরক ও হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ৫ বছর পলাতক থাকার পর মামলা ম্যানেজ করে মোজাম্মেল এলাকায় ফিরে আসে এবং জামাতের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হয়।

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালালে ছাত্রদল ও সাবেক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিলে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ওপর শিবিরের হামলায় ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, সাধারণ ছাত্র নতুন এবং ছাত্র ইউনিয়নের তপন সহ ৫ জন ছাত্র নিহত হয়।

    ১৯৯৯ / চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এনামুল হকের ছেলে ও ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মুছাকে শিবিরকমীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।

    ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ / বহিরাগত সশস্ত্র শিবির কমীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শেরেবাংলা হলে হামলা চালিয়ে ছাত্রমৈত্রী নেতা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের মেধাবী ক্রিকেটার জুবায়েদ চৌধুরী রিমুকে হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।

    ১৯৯৪ / পরীক্ষা দিতে আসার পথে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনের রাস্তায় ছাত্রমৈত্রী নেতা প্রদুৎ রুদ্র চৈতীর হাতের কব্জি কেটে নেয় শিবির কমীরা।

    ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ / শিবির কমীরা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববতী চৌদ্দপাই নামক স্থানে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সকাল-সন্ধ্যা বাসে হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী নেতা দেবাশীষ ভট্টাচায রূপমকে বাসের মধ্যে যাত্রীদের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার আগে বর্বর শিবির ক্যাডাররা তার হাত ও পায়ের রগ কেটে নেয়।

    জুলাই, ১৯৯৫ / জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কমীদের ওপর সশস্ত্র শিবির কমীরা হামলা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাত্রনেতা ফরহাদের হাতের কব্জি কেটে নেয়। এ হামলায় প্রায় ২৫ জন ছাত্রদল নেতা-কমীর হাত পায়ের রগ কেটে নেয় শিবির ক্যাডাররা।

    ১৯৯৬ / জাসাস রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং ছাত্রদল নেতা ডুপ্লের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। এদের বাঁচাতে এসে দুইজন সহপাঠি ছাত্রী এবং একজন শিক্ষকও আহত হয়।

    ১৯৯৭ / চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দখল করার জন্য শিবির ক্যাডাররা ছাত্র সংসদের ভিপি মোহাম্মদ জমির ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদউদ্দিন আহমদকে গুলি করার পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।

    ১৯৯৭ / বঙ্গবন্ধু পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল খালেক, জিয়া পরিষদ নেতা হাবিবুর রহমান আকন্দ সহ প্রায় বিশ জন শিক্ষকের বাসায় বোমা হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে ছাত্র শিবির।

    ১৯৯৭ / গভীর রাতে রাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত শিবির সন্ত্রাসীদের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা-কমীরা আহত হয়। রাবি জিমনেসিয়াম পুলিশ ক্যাম্পেও বোমা হামলা করে শিবির।

    ১৯৯৮ / শিক্ষক সমিতির মিটিং থেকে ফেরার পথে রাবি শহীদ মিনারের সামনে অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্র শিবির। ছাত্র-কর্মচারীদের প্রতিরোধে অধ্যাপক ইউনুস প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক আহত হন তিনি।

    ১৯৯৯ / রাবিতে অবস্থিত ’৭১ এর গণকবরে স্মৃতিসৌধ নির্মানের জন্য স্থাপিত ভিত্তি প্রস্তর রাতের আঁধারে ছাত্র শিবির ভাঙ্গতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী বাধা দেন। ফলে শিবির ক্যাডাররা তাকে কুপিয়ে আহত করে এবং ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙ্গে ফেলে।

    ২২ আগস্ট, ১৯৯৮ / চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী সঞ্জয় তলাপত্রকে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা।

    ২০০০ / চট্টগ্রামের বদ্দরহাটে শিবির ক্যাডাররা মাইক্রোবাসের মধ্যে থাকা ৮ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রাশফায়ার করে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

    ২০০১ / রাবি ছাত্রী হলে বহিরাগত অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ছাত্রী বিক্ষোভে সশস্ত্র ছাত্র শিবির কমীরা কমাণ্ডো হামলা চালায় এবং ছাত্রীদেরকে লাঞ্ছিত ও রক্তাক্ত করে।

    অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ, ২০০১ / রাবি অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহাকে ছাত্র শিবির কমীরা হাত পা বেধে জবাই করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা টের পাবার ফলে, তাদের হস্তক্ষেপে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

    ২০০২ / রাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা সুশান্ত সিনহাকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয় শিবির কর্মীরা।

    ২৫ জুলাই, ২০০৪ / শিবির ক্যাডার রবি, রোকনের নেতৃত্বে প্রায় ১৫/২০ জনের একটি দল রাবি ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত সিনহার ওপর হামলা চালায়। ইট দিয়ে জখম করার পামাপাশি তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা চালায় শিবির ক্যাডাররা।

    ২০০৪ / রাবি ছাত্রী হলে বহিরাগত অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ছাত্রী বিক্ষোভে সশস্ত্র ছাত্র শিবির কমীরা হামলা চালায়।

    ২০০৪ / অধ্যাপক মোঃ ইউনুসকে ফজরের নামাজ পড়তে যাবার সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যদিও এই হত্যা মামলায় জেএমবির দুইজন সদস্যকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তারপরও এলাকাবাসী অনেকেরই মতামত হচ্ছে ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররাই তাকে হত্যা করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে দুই দফায় ছাত্র শিবির তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

    ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ / বরিশালের বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নের ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি শামীম আহমেদকে শিবির ক্যাডাররা হত্যা করে।

    ৩০ অক্টোবর, ২০০৪/ জামাতের বর্তমান রাজশাহী মহানগরের আমীর আতাউর রহমান এবং প্রক্টর নূরুল আফসারের উপস্থিতিতে ছাত্রীদের মিছিলে হামলা চালিয়ে শিবির ক্যাডাররা প্রায় অর্ধ শতাধিক ছাত্রীকে রক্তাক্ত করে।

    ১০ ডিসেম্বর, ২০০৫ / সন্ধ্যায় জুবেরী ভবনের সামনে রাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস এম চন্দনের ওপর হামরা চালিয়ে তার রগ কেটে নেয়ার চেষ্টা চালায় শিবির ক্যাডাররা।

    ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ / বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং রাবি ছাত্র শিবির সভাপতি মাহবুব আলম সালেহীন সহ আরো দুইজন শিবির ক্যাডার মিলে একযোগে অতকিতে হামলা চালিয়ে রাবি’র ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবু তাহেরকে হত্যা করে।

    ২১ আগস্ট, ২০০৬ / রাবিতে অনুষ্ঠিত ‘সেকুলারিজম ও শিক্ষা’ শীষক সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার অপরাধে অধ্যাপক হাসান আজিজুল হককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিবির। প্রকাশ্য সমাবেশে তারা অধ্যাপক হাসান আজিজুল হকের গলা কেটে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়।

    ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে হত্যা করে ম্যানহোলের মধ্যে ফেলে রাখে শিবিরের ক্যাডাররা।

  4. 6
    আহমেদ শরীফ

    জামাত-শিবিরের ক্ষেত্রে সন্ত্রাস রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার। ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে এই চক্র ১৯৭১ সালে মানুষকে হত্যা করেছে, ঘরে আগুন দিয়েছে, মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে। এখনও হত্যা, রগ কাটা অব্যাহত রেখেছে। এখনও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা মেধাবী ছাত্র ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের হত্যার কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে। এসব ঘটনা ’৭১ এর বুদ্ধিজীবি নিধনেরই ধারাবাহিকতা। মূলত তারা চায় দেশের শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল রেখে জাতির বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করতে। শিবিরের নৃশংসতার খতিয়ান অনেক লম্বা। কিছুদিন যাবৎ তাদের রগ কাটার কর্মসূচী বন্ধ থাকলেও এখন তা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে পাক হানাদারদের যারা সহযোগিতা করত সেই জামাতের তৎকালিন ছাত্রসংস্থার নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংস্থা। ১৯৭৭ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা ইসলামী ছাত্র শিবির নামে আত্মপ্রকাশ করে। বর্বরোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য সর্বস্তরে নিন্দিত জামায়াতে ইসলামীর এই ছাত্র সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মাথায় জবাই করে হত্যার রাজনীতি শুরু করে চট্টগ্রাম থেকে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে হামলা-সহিংসতা-সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। তবে এক্ষেত্রে অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে শিবিরের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। শিবির সরাসরি হত্যার মিশনে নামে। তাছাড়া এরা যাকে আঘাত করে তাকে চিরতরে পঙ্গু-অচল করে দেয়। এর মাধ্যমে তারা সংশিস্নষ্ট কর্মীটিকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার এবং অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদেরকে সাবধান করে। এজন্য শিবিরের নৃশংসতার সাথে অন্য কারো তুলনা হয় না। হাতুড়ি, রড, ইট, মুগুর দিয়ে হাড় গুড়ো করে দেয়া, রিকশার স্পোক কানের ভেতর ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মগজ বের করে আনা, হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া, চোখ উপড়ে ফেলা, মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলা, কব্জি কেটে নেয়া, কিরিচ, ছোরা, কুড়াল ব্যবহার করে হত্যা করার মতো নৃশংসতা এদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কেবল শিবিরের নামের সাথেই যুক্ত। ফিরে তাকানো যাক একবার শিবিরের বর্বরতার দিকে।

    মার্চ, ১৯৮১ / প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মাথায় শিবির ক্যাডাররা চট্টগ্রাম সিটি কলেজের নির্বাচিত এজিএস ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে কলেজ ক্যাম্পাসেই কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কিরিচের এলোপাতাড়ি কোপে মুমূর্ষু তবারক যখন পানি পানি করে কাতরাচ্ছিল তখন এক শিবিরকর্মী তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়।

    ১১ মার্চ, ১৯৮২ / চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৩ বাস বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শিবির ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এই সহিংস ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

    ১৯৮৪ / চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫ নম্বর কক্ষে শিবিরেরকর্মীরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে।

    ১৯৮৬ / শিবির ডান হাতের কবজি কেটে নেয় জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতা আবদুল হামিদের। পরবর্তীতে ঐ কর্তিত হাত বর্ষার ফলায় গেঁথে তারা উল্লাস প্রকাশ করে।

    ৩১ মে, ১৯৮৮ / রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মেইন হোস্টেলের সামনে, কলেজের প্রিন্সিপাল ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, ও শত শত শিক্ষাথীদের সামনে ছাত্রমৈত্রী নেতা ডাক্তার জামিল আক্তার রতনকে কুপিয়ে ও হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে শিবিরের ক্যাডাররা।

    ১৯৮৮ / চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা জালালকে তার নিজ বাড়ীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা।

    জুলাই প্রথম সপ্তাহ, ১৯৮৮ / বহিরাগত শিবির ক্যাডারদের হামলায় আমির আলী হল ছাত্র সংসদের জিএস ও জাসদ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স সহ ২০-২৫ জন আহত হয়।

    ১৭ জুলাই, ১৯৮৮ / ভোর সাড়ে চারটার দিকে এস এম হলে বহিরাগত শিবির ক্যাডাররা হামলা চালায় এবং জাসদ ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ও সিনেট সদস্য আইয়ূব আলী খান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আহসানুল কবির বাদল এবং হল সংসদের ভিপি নওশাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।

    ১৯৮৮ / সিলেটে শিবির ক্যাডাররা মুনীর, জুয়েল ও তপনকে বর্বরভাবে হত্যা করে।

    আগষ্ট, ১৯৮৮ / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের বাসভবনে ছাত্র শিবির বোমা হামলা করে। এতে অধ্যাপক ইউনুস বেঁচে গেলেও তার বাড়ীর কর্মচারী আহত হয়।

    রমজান মাস, ১৯৮৯ / ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফাকে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববতী চকপাড়ায় ইফতারের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে হাতের রগ কেটে দেয় শিবির ক্যাডাররা।

    নভেম্বর, ১৯৮৯ / নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে সন্ধ্যায় জাসদ ছাত্রলীগের নেতা-কমীদের ওপর শিবিরের বোমা হামলায় বাবু, রফিক সহ ১০ জন আহত হয়।

    ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯০ / ছাত্রমৈত্রীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ সভাপতি ফারুকুজ্জামান ফারম্নককে শিবিরের ক্যাডাররা জবেহ করে হত্যা করে।

    ১৭ মার্চ, ১৯৯২ / পবিত্র রমজান মাসে চট্টগ্রামের কুখ্যাত সিরাজুস সালেহীন বাহিনীসহ কয়েক হাজার সশস্ত্র বহিরাগত শিবীর সন্ত্রাসী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১১ টার সময় অতর্কিত হামলা চালালে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসীর আরাফাত পিটু নিহত হয় এবং জাসদ ছাত্রলীগের আইভি, নির্মল, লেমন, রুশো, জাফু, ফারুক এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজেশ সহ প্রায় দেড়শাতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। এদের অধিকাংশেরই হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয় এবং রাজেশের কব্জি কেটে ফেলা হয়। এই হামলার সময় শিবির ক্যাডাররা এস এম হল, আনোয়ার হল এবং লতিফ হল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্যাপক আকারে গান পাউডারের ব্যবহার করায় হলের জানালার কাঁচগুলো গলে গিয়েছিলো। লতিফ হলের অনেকগুলো কক্ষ এখনো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এই হামলার তীব্রতা এতই ছিল যে, বেলা ১১টায় শুরু হওয়া হামলা রাত ৩টায় বিডিআর নামানোর আগ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি।

  5. 5
    মহিউদ্দিন

     
    সত্যি বলতে কি আপনার এ লিখাটিতে প্রোপাগান্ডার নমুনা বহন করে তাই এ বিষয়ে কিছু লিখা দরকার। জানিনা আবার ব্যক্তি আক্রমন মনে করেন কিনা তবে লিখাটি ক্রেডিবেলিটি শূণ্য পরিলক্ষিত হওয়ায় কিছু কথা বলতেই হচ্ছে?  

    এখানে গঠনতান্ত্রিক সংশোধন দেখিয়ে জামাতের যে মুনাফিকি প্রমাণ করা চেষ্টা করা হয়েছে তা ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং প্রোপাগান্ডা।

    বাংলাদেশের সংবিধান মেনে এবং ইলেকশন কমিশনের সাথে নিবন্ধিত হয়ে যারা রাজনীতি করে তারা এই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সবগুলো দল বাংলাদেশেরই দল, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। এমন কোন একটি দলকে কোন কমিউনিস্ট দল অথবা অপর কেহ যদি গালাগালি করে, বিষদগার করে, অন্যায় আচরণ করে তবে তা বাংলাদেশের সংবিধানের নিয়ম বহির্ভূত হবে। নিবন্ধিত কোন দলের লোক অপরাধ করলে এবং কেউ তা দেখতে পেলে, বা তাদের বুদ্ধিমত্তায় ধরা পড়লে  তারা তা পুলিশে দেবে। তারপর আইন সেখান থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জিয়া ভায়ের এই ব্লগ পোষ্টে  এবং অপরাপর ব্লগে সাংবিধানিক এই শিষ্টাচার লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের স্ব-স্বীকৃত এককালিন কমিউনিস্ট জিয়া ভাই সাংবিধানিকভাবে এবং ইলেকশন কমিশনের সাথে নিবন্ধিত জামাত নামক একটি দলের দলকে যেকোনো ছোঁতো বের করে গালাগালি করেন। এবারে ইলেকশন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত সংশোধন জামাত মেনে নিয়েছে বলে তাদের তিনি মুনাফিক/ভণ্ড বলে গালাগালি করছেন। জামাত কি তার পছন্দের একটি দল ছিল যে সেই দলটির অসংশোধিত ভার্সন তার পছন্দিত ছিল এবং পরিবর্তনের পরে কি তিনি বেকায়দায় পড়ে গিয়ে গালাগালি করছেন সেটা বলেনি। তবে তিনি আগে জামাত/শিবিরের অংশ ছিলেন এবং তার মত আরও কিছু লোক জামাত/শিবির করে এখন কট্টর জামাত-বিদ্বেষী হয়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে আছেন, এই বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়। জিয়া ভাই জামাতকে মুনাফিক ভণ্ড করতে
    এখানে গঠনতান্ত্রিক যে প্রয়াস দেখিয়েছেন এটা ভুল এবং  একধরনের কাটমৌল্লা টাইপের কথাবার্তা  এই ব্যাপারে আমার আলোচনা নিম্নরূপ:
    (১) গঠনতন্ত্র:
    গঠনতন্ত্র হচ্ছে একটি গ্রুপের বা দলের governing document. এটা কোরান হাদিসের মত কিছু নয়। এটা দল বা গ্রুপ নিজেরাই ‘তৈরি’ করে নিজেদের চলার স্বার্থে: নিজেরা কীভাবে সংগঠিত হবে, কীভাবে সেই কাজের উপযোগী structure তৈরি হবে; কীভাবে তাতে শাখা-প্রশাখা কাজ করবে, কীভাবে লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জিত হবে; কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধান কিভাবে করবে, উদ্দেশ্য পথে বাধার সৃষ্টি হলে কিভাবে অন্য পথ বের করবে ইত্যাদি। এটা তাদেরই ডকুমেন্ট,তাদের হাতে গড়া। চলার পথে কাজের সুবিধা, কার্যকারিতা ও উন্নয়নের পথে তারা এটাকে সংশোধন করতে পারে, সংকোচিত করতে পারে বর্ধিত করতে পারে, পরিবর্তনও আনতে পারে। একটা দেশের একটা গঠনতন্ত্র থাকতে এবং সেটাও তার আপন বিধি মোতাবেক সংশোধিত, পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত হতে পারে।একটি দেশে সকল নাগরিক স্বাধীন হলেও তারা সেই দেশের গঠনতান্ত্রিক আইনের বাহিরে নন এবং কোন দলও নন।
    সংবিধান যদি বলে যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব জনগণের এবং এভাবে যদি তাদের নির্বাচিত সাংসদরা তা করে থাকেন, তবে এই সার্বভৌমত্ব প্রত্যেক নাগরিকের উপর স্বীকৃত বাইন্ডিং হয়ে পড়ে,সেই নাগরিক যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক, নামাজি হোক অথবা বেনামাজি। আপনি সেই দেশে রাজনৈতিক দল গঠন করতে হলে, সেই দেশের আইন মোতাবেক তা করতে হবে। যদি রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্রে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে তবে কোন দল নিজেরাই সেই গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনতে পারবে না। তারা বর্তমানের ‘স্ট্যাটাস-কো’ মেনে এরই ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সেই পরিবর্তন আনতে হবে।
    রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র দলের মত নয়। তাই কোনো সংশোধনের আগ পর্যন্ত সংবিধানের অনুকূলেই চলতে হবে এবং ইলেকশন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে গিয়ে সেই কাজ করতে হবে।
     
    জামাতিরা দাবী করতে পারে যে তাদের  দল একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনানুগ দল যারা যুগ যুগ ধরে নিয়ম মেনেই রাজনীতি করছে। ইলেকশন কমিশন ডিঙিয়ে, দেশের প্রচলিত সংবিধানের বিরোধিতা করে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করা সম্ভব নয়, এটা কেবল তারাই করতে পারে যারা সংবিধানে বিশ্বাসী নয়, অনুগত নয়, যারা দেশের আইনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, গণতন্ত্রের পরিবর্তে অন্য কোন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে চায়। এটাও বলা জরুরি যে দেশের সংবিধানে যদি কোন পরিবর্তন আসে, তবে সব দল সেই পরিবর্তন মোতাবেক নিজেদের নিয়ম সংশোধন করতে হবে। এটাই নিয়ম।
     
    একটি দলের গঠনতন্ত্রে হাজার বারও সংশোধন আসতে পারে -এতে কোন দোষের কথা নেই। ‘সংগঠনের সাথে হাকিম নড়ে কিন্তু হুকুম নড়ে না’ এই কথার সম্পর্ক নেই। একটি গঠনতন্ত্র কোন হাকিমের ‘রায়’ নয়।
     

    (২) সাংবিধানিক পরিবর্তন: জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ/বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী এবং লাহোরে জামাতের হেড-কোয়াটার ইত্যাদি কথাবার্তা: আসলে নিছক প্রোপাগান্ডা

    (২)ক, জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ/বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী কথাতে বিরাট কোন তফাৎ নেই। কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি বলাতেও নামের দিকে দিয়ে কোন দল অপর কোন দেশের শাখা হয়ে পড়ে না। একটি দল কোনো লেজুড় সংগঠন, শাখা,না মূল তা তার গঠনতন্ত্রই প্রমাণ করে, নামের সাথে ‘বাংলাদেশ’ আগে বা পরে আসাতে নয়। শব্দের আগে পরে মুনাফিকির কিছু নেই।
    Constitutional and legal reforms --
    Bangladesh shall be declared an Islamic Republic on the basis of Sovereignty of Almighty Allah. The Holy Quran and Sunnah will be the only source of all laws in the Republic. All repressive black laws like Special Powers Act and Public Safety Act shall be repealed in order to guarantee the people's fundamental rights. The judiciary shall be separated from the Executive in toto. Civil and criminal Procedure codes shall be suitably amended for ensuing easy and quick disposal of cases and in the interest of justice.
     
    উপরে যে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে সেই উদ্ধৃতিতে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি/জামাতে ইসলামী কোনো কথাই নেই। এখানে জামাতি ইসলামী বাংলাদেশ শাখা বলতে কোন কথাই নেই। আগেই বলেছি, নাম ‘বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি’ হোক, অথবা ‘জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ’ তাতে শাখা আর মূলের কোন সম্পর্ক নেই। ‘গঠনতন্ত্রই’ প্রতিষ্ঠা করবে সেটা শাখা না মূল। গঠনতন্ত্রই তার অস্তিত্বের পরিচিতি বহন করে। কোন দল বা গ্রুপের একক ব্যক্তি কি বলে, বা কি বলে না, তাতে কিছুই যায় আসে না। বিগত কয়েক দশক ধরে জামাতের গঠনতন্ত্রে যদি পাকিস্তানের বা ভারতের শাখা বলে লিখা থাকত, তবে তা বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রেক্ষিততে গৃহীত হত না এবং ইলেকশন কমিশনের লোকজনও এত নিম্নমানের নয় যে তারা এতদিন ধরে বিদেশি রাজনীতির একটি শাখাকে নিবন্ধিত করে রেখেছিল। ২০০৮ সালে সকল দলের সংগঠনেই কমিশন কিছু না কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে। বেশি পরিবর্তন আ’লীগের গঠনতন্ত্রে হয়েছিল বলে সংবাদপত্রে টিভিতে দেখেছি, তবে বেশি-কমে এবং সংশোধনের মধ্যে কোনো গঠনতান্ত্রিক সমস্যা হয় না। জামাতের কন্সটিউটেশনেও কিছু পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তন হচ্ছে চলার পথের নিয়ম। এতে কোনো মুনাফিকি নেই, কোনো ভণ্ডামি নেই।
    (২)খ, ২০১২ সালে গোলাম জামাতের অতীত নেতা গোলাম আযম কোনো এক সাক্ষাতকারে জামাতের অতীত আলোচনা করেন। অবিভক্ত পাকিস্তানে জামাতের হেডকোয়ার্টার লাহোরে ছিল। ৯২ বয়সের এই বৃদ্ধ সেই অতীত/বর্তমান আলোচনা করতে গিয়ে বার বার অনেক কথায় পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে, কোনো কোনো শব্দ বার বার উচ্চারণ করতে হচ্ছে, কোনো শব্দ ইনএপ্রোপ্রিয়েট হলে তা সংশোধন করে বলতে হয়েছে। ইতিহাসের নানান কথা বলতে গিয়ে লাহোরের কথা tottering করে হেডকোয়ার্টার লাহোরে উচ্চারিত হলে তা সংশোধন যোগ্য, এটা তার আলোচনার প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষিতেই স্পষ্ট।
    তার এই কথাটি (slip of tongue) বাহানা ধরে তাদের বিরুদ্ধী পার্টি প্রোপাগান্ডা চালাতে শুরু করে। যতদূর মনে পড়ে “অমি পিয়াল” নামের এক ব্লগার যে কথায় কথায় অশ্লীল গালি-গালাজ করেছে  এবং যার ব্যাপারে অনেক বিরূপ কথাবার্তা হয়েছে  অন্য ব্লগে। জিয়া ভাইও এটা ফলাও করেছেন। তাদের এই ঘটনাটিকে অপ-প্রচার ও প্রোপাগান্ডার জাজ্বল্য ‘নমুনা’ হিসেবে নেয়া যেতে পারে। দু:খের বিষয় হল জিয়া ভাইও এই সব উগ্র লোকদের মত হয়ে আচরন করে যাচ্ছেন!
    এখানেই দেখা যাবে যে প্রামাণিক দলিলের সাথের এদের সম্পর্ক নেই।
    সংগঠন হচ্ছে এমন এক বাস্তবতা যা তাদের প্রামাণিক দলিল-ডকুমেন্টে, সরকারী সংস্থাদিতে, তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে এবং ইলেকশন কমিশনে রয়েছে। কিন্তু সব দলিল উপেক্ষা করে এই কথাটি ফলাও করা কোন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হতে পারে কি পারে না, সেটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। মনে রাখতে হবে কোন দলের হেডকোয়ার্টার কোন ব্যক্তি বিশেষের কথায় এখানে/সেখানে পরিবর্তিত হয়ে যায় না, ব্যক্তি দলের ভিতরের হোক অথবা বাইরের। এসব কাজের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম রয়েছে যা জিয়া ভায়ের জানা নেই বলে এই প্রোপাগান্ডায় শরিক হয়েছেন।

    (৩)  ইলেকশন কমিশনের বিধি মেনে নেয়া এবং জামাতের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন।
     

    ইলেকশন কমিশনের suggestionon অনুযায়ী জামাতকে যে সব সংশোধন মানতে হয় সেগুলোতে এমন কিছু নেই যাতে মহাভারত নষ্ট হয়ে যায়। ইলেকশন কমিশন যদি বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘আল্লাহ ও রাসূল প্রদর্শিত জীবন-ব্যবস্থার’ কথা রাখার অবকাশ দেয় না বরং ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার’ কথায় সংশোধিত করতে বলে এবং তারা যদি সেই ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার’ মেনে নেয়, তবে এই ‘গণতান্ত্রিক’ কথাটি আল্লাহ ও রাসূলের জীবন ব্যবস্থাকে আপনাকেই উহ্য করে ফেলে না। তাছাড়া একটি দল যখন দেশের আইনমতই চলতে হবে, তখন তাদের সামনে তো আর কোন উপায় নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মানা যদি মুনাফিকি হয়,তবে গোটা জাতিই তো মুনাফিক হতে পারে। ‘নিফাক’ হচ্ছে একটি ধর্মীয় পরিভাষা, এটার ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। জিয়া ভাই কোনো বরেণ্য আলেমের কাছ থেকে তার এই সব গালাগালের পক্ষে ধর্মী অভিমত নিয়ে আসলেই ভাল হত। জামাত হচ্ছে একটি নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক দল, সুতরাং এখানে কোন সমস্যার কিছু নেই।

    (৪) "আল্লাহ প্রদত্ত এবং রসুল প্রদর্শিত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার" কথা বাদ দিয়ে "গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার" কথা বলেছে। এছাড়া “আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও সয়ংসম্পুর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে” এ নীতিও বাদ দিয়েছে দলটি।

    এখানে সংবিধানের ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের’ কথার প্রসঙ্গেই এসেছে। এই পরিস্থিতির জন্য সংবিধান যারা পরিবর্তন করেছেন তারা দায়ী, যারা সংবিধান মেনে চলতে চায় তারা দায়ী নন। জনগণের সার্বভৌমত্ব মানাতে যদি নিফাক এসে যায়, তবে নিফাক এই দেশের সবার উপরই বর্তে যায়, রাজনীতি নির্বিশেষে।

    (৫) এর আগে নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপধারা, ধারা ৩, ৫ ধারার ৩ উপধারা, ৬ ধারার ৪ উপধারা,৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারা, ১১ ধারার ২ উপধারা ও ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারা সংশোধনের তাগিদ দেয়। দলটির নিবন্ধনের সময়ও এসব ধারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার তখন তাদের গঠনতন্ত্র থেকে কয়েকটি ধারা লাল কালি দিয়ে কেটে দিয়ে তা গঠনতন্ত্রের অংশ নয় মর্মে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরে জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ওই বাদ দেওয়া বিষয়গুলো থেকেই যায়।

    জসিম উদ্দিন লাল কালি দিয়ে কেটেছেন,না নীল দিয়ে –তা আমরা দেখিনি এবং এটা এই আলোচনায় জরুরিও নয়। একবার বলাতে না হলে আরেকবার বলা হবে। এতে যদি কাজ হয়ে যায় তবেই সার্থক। আইনানুগ বিষয়ে যা ইচ্ছে তাই বলার অবকাশ নেই। প্রথমবারে না করে, দ্বিতীয় বারে কাচু-মাচু করাতে আইনের ব্যত্যয় হলে তারা সাজা পাওয়ার কথা ছিল অথবা নিবন্ধন বাতিল হওয়ার কথা ছিল। এসব কথা প্রোপাগান্ডার বাইরে immaterial. রাজনীতি ও যুদ্ধের নিয়ম হচ্ছে আজকে বেচে থাকতে পারলে কালকের যুদ্ধ করতে পারবেন। আজ মারা গেলে আগামীকাল যুদ্ধ করার মত কেউ থাকবে না। আজকে রাজনৈতিক যে পরিবর্তন আসছে, কালের বাতাস হয়ত আগামীতে অন্য পরিবর্তন আনতে পারে। সেদিন হয়ত অন্য-ধরণের শব্দ ও বাক্য পরিবর্তন করার suggestion আসতে হবে। এখানে ধৈর্যের প্রয়োজন।
     
    (৬) বাকী সংশোধন। বাকী সংশোধনগুলোর পাশে পাশেই মন্তব্য করেছি। এগুলোতে তেমন substantialকিছু নেই। আমাদেরকে দেখতে হবে একটি দল বা ব্যক্তি যখন আইন ও নিয়ম নীতির মোকাবেলায় তখন বাধ্য, তখন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দল বা ব্যক্তি আইনানুগ পথেই চলতে হবে। ইলেকশন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত যেসব সংশোধন জামাতকে মানতে হয়েছে সেগুলোর প্রকৃতি কী। এখানে দেখতে হবে যে কোনো উপায়ে যদি পূর্ব-বাক্যের তাৎপর্য নতুন শব্দ ও বাক্যে তাৎপর্যের মিলন রেখে যায় এবং পরিবর্তিত বাক্যে পূর্বের উদ্দেশ্য সাধন করা যায়, তবে ক্ষতির কিছুই নেই। গঠনতান্ত্রিক পথে চলার এহসাসটি হচ্ছে পরিস্থিতির সাথে খাপ খেয়ে উদ্দেশ্য সাধন, সকল দেশ, দল ও গ্রুপে যেখানে সংগঠন আশে সেখানে পরিবর্তনের নিয়মতান্ত্রিক ধারাও (clauses for constitutional change). গঠনতন্ত্র পাথরের উপর লেখা কোন ট্যাবলেট নয়।
    ৩/৪ ধারার "আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথ থেকে দ্বীন (ইসলামী জীবন বিধান) কায়েমের প্রচেষ্টার" কথার পরিবর্তে ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফ-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’ বাক্যে তা অর্জন করা যায় তবে এখানে ক্ষতির কি হচ্ছে? এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা করা যাচ্ছে, ইনসাফ-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে, যে ‘ইনসাফ’ ইসলামী আইন-ব্যবস্থা ও দীনের মৌলিক ইহসাস বহন করে। এখানে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফ-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’ করাতে মুনাফিকির কিছুই নেই, ভণ্ডামির কিছুই নাই।
    ৫/৩ উপধারার, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের’ এ অংশ থেকে ‘ইসলামের’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতি’ কথাটি সংযোজন করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক উপায়’ মানতে বাধ্য হওয়াতে বিরাট ক্ষতির কিছুই হয়নি। অবস্থার নিখিরে আমাদের নবী ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটিও কাটার নজির রেখেছেন। তারপর গণতান্ত্রিক উপায়ে সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটাইবার আহ্বান জানাইবে, এতেও কোনো মুনাফিকি/ভণ্ডামি নেই।
    ৬/৪ ধারার ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনায়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’ এ কথাগুলো থেকে ‘খোদাভীরু’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘চরিত্রবান’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। এখানে ‘চরিত্রবান’ মেনে নেয়াতে তথা ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনায়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও ‘চরিত্রবান’ নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা’ বলাতে মুনাফিকি/ভাণ্ডামি আসেনি, ভাণ্ডামিও আসেনি।
     
    ৭/১:৪ সদস্য হতে হলে ইসলামে বিশ্বাস ও শরীয়তের নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ের শর্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে কোন কাজ করাতে ‘বাধ্যকরণ’ই হচ্ছে আসল কথা, এতে মুনাফিক/ভণ্ডামি নেই।
     
    ১১/২ যে কোনো অমুসলিম নাগরিক কয়েকটি শর্ত পূরণের মাধ্যমে জামায়াতের সদস্য হতে পারবে বলা ছিল। এ উপধারাটি দলের গঠনতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও স্ব-বিরোধী বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। জামায়াত এ উপধারাটি বিলুপ্ত করেছে। সাংঘর্ঘিক কিছু বাদ দেয়া তো ভালই।
    জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারায় বলা ছিল ‘আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া প্রযোজনীয় সংখ্যক সদস্যকে ( রুকনকে) কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মনোনীত করিতে পারিবেন।’ এটি আরপিও পরিপন্থি মর্মে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এ উপধারাটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখানেও substantial কিছু নেই।
     
    জামায়াতকে তাদের গঠনতন্ত্রের ৬৪ পৃষ্ঠার বিশেষ নোটের দফা ৩-এ সংশোধনী আনারও তাগিদ দিয়েছিল ইসি। এতে দলের সব কমিটিতে আরপিও অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা সদস্যের স্থলে অধিকাংশ কমিটিতে ২৫ শতাংশ মহিলা সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সম্পৃক্ত করে ৬৯ ধারায় সন্নিবেশ করা হয়েছে।
     
    এখানেও কোন সমস্যা নেই। মুনাফিকির কিছু নেই,ভণ্ডামির কিছু নেই। এগুলো একজন স্বেচ্ছাচারীর গালাগালি।
     
    উপরের বিবরণ অনুযায়ী আমার মন্তব্য নিম্নরূপ:
     
    ১। জিয়া ভাইয়ের মন্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি ‘গঠনতান্ত্রিক’ কোন জ্ঞানই রাখেন নি।
    ২। জিয়া ভাই গঠনতান্ত্রিক সংশোধনকে মুনাফিকি মনে করে নিয়েছেন এবং কয়বার গঠনতন্ত্র সংশোধিত হল –সেটার সাথে মুনাফিকি জুড়েছেন, ব্যত্যয় বুঝেছেন। সংশোধনের সংখ্যাকে substance ভেবেছেন।
    ৩। জিয়া ভাই বাধ্যতামূলক পরিবর্তন ও স্বেচ্ছাকৃত পরিবর্তনকে এক ভেবেছেন
    ৪। যেসব শব্দ বা বাক্যের স্থানে পরিবর্তন এনে পূর্বের তাৎপর্য বজায় রাখা হয়েছে তা বুঝতে পারেন নি
    ৫। ইলেকশন কমিশনের নিয়ম ও প্রস্তাবের গুরুত্ব/পরিণতি, নারী নেতৃত্বের বিভিন্ন পরিসর, এবং সেই পরিসরসমূহের বিভিন্ন প্রেক্ষিতের উপর মুসলিম বিশ্বের উলামাদের অভিমত ও পার্থক্যের স্থান উল্লেখ ও নির্ণয় না করে নারী নেতৃত্ব বিষয়ে জামাতকে দোষারোপ করেছেন
    ৬। উল্লেখিত বিষয়সমূহ ছাড়াও জিয়া ভাই বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলকে, যারা সাংবিধানিকভাবে এবং ইলেকশন কমিশনের সাথে আইনানুগভাবে নিবন্ধিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে, তাদেরকে নিজের ইচ্ছামত মুনাফেক, ভণ্ড বলে গালাগালি করছেন। ইতিপূর্বে জিয়া ভাই শিবিরকে দৌড়ের উপর রাখতেন বলে উল্লেখ করেছেন। জাতির ৯/১০ শতাংশ মুসলমানদের এভাবে গালি দেয়া, কোনো দলের লোকদেরকে দৌড়ের উপর রাখা তারই উল্লেখিত হাদিসকে অর্থবহ করে তোলে।

    রাসূলুল্লাহ বলেছেন, মুসলমান হচ্ছে সে ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে সমস্ত মুসলমান নিরাপদ।‘ রাসূলুল্লাহ মুনাফিকের তিনি লক্ষণের একটি বলছেন এই যে ব্যক্তি (মুনাফিক) যখন কিছু বলবে, সে মিথ্যা বলবে।

     
     

    1. 5.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      মহিউদ্দিন ভাই 
       
      সেই শুরু থেকেই প্রপাগান্ডা প্রপাগান্ডা করছেন -- বলুনতো এই পোষ্টে কোন কথাটা আমি নিজের থেকে বানিয়ে বলেছি। মুনাফেকরাইতো মুসলমানদের মাঝে এসে বলে আমরা তো আল্লাহর আইনের প্রতিষ্ঠায় রাজনীতি করি আর নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলে আমরা তো সেকুলার রাজনীতি করি। 
       
      এবারও আপনি একই কাজ করলেন -- পোস্টের বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত বিষয় টেনে এনে আমাকে গালি দেবার একটা চেষ্টা করলেন। লাভ কি বলুন। গিরগিটি ধরনের একটা সংগঠন -- যার ইতিহাস পুরোটাই ভন্ডামী আর মুনাফেকীতে ভরা -- তার জন্যে আপনার এতো দরদ কেন সেই বিষয়টাই ধরতে পারছি না। 
       
      জামাতে দুই শীর্ষ নেতার ১৯৭১ সালে দুইটা উক্তি দেখুন -- 
       

       
      যে লোক পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিহত সদস্যদের পক্ষে শোকবার্তা পাঠায় -- বাংলাদেশের বীরশ্রেষ্ট মতিয়ুর রহমানকে ভারতীয় এজেন্ট হিসাবে চিহ্নিত করেছিলো । যখন বাংলাদেশের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলো -- তখন কি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে ভারতীয় এজেন্ট হিসাবেই বিবেচনা করছিলো -- যা বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে প্রতারনা নাকি মিনহাজকে শহীদ হিসাবে তখনও শ্রদ্ধা জানিয়ে মতিয়ুর রহমানকে ভারতীয় এজেন্ট বিবেচনা করছিলো। বিষয়টি উনি চেপে রেখেছিলেন মনে। এইটাই মুনাফেকের লক্ষন। যদি জামাত ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যায় -- তবে হয়তো নিজামী ভাষ্য মতে মতিয়ুর রহমান ভারতীয় এজেন্ট হিসাবে চিহ্নিত হবে। এই ধরনের অসংখ্য বিষয়ে এরা মুখে একটা আর মনে একটা রেখে দিয়েছে। 

      এখানে কি একটা প্রশ্ন আসে না যে -- জামায়াত কি আসলেই আল্লাহ আইন বাস্তবায়ন করবে? কিভাবে? নির্বাচন কমিশনে এরা ওয়াদা করছে এরা আল্লাহ আই্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য থেকে সরে গেছে -- এরপর নির্বাচনে জয়ী হয়ে এরা কিভাবে আল্লাহ আইন নিয়ে কথা বলবে? যদি বলে তো তা হবে নির্বাচনী অংগীকারের বরখেলাফ। বিষয়গুলো চিন্তা করে দেখেন। মুনাফিকরা শুধু একভাবে না নানান ভাবে প্রতারনা করে।
       
      যেমনটা দেখছি গঠনতন্ত্রের বিষয়ে। এরা মুখে বলছে আল্লাহ আইন আর কাগজে কলমে জমা দিয়েছে মানুষের আইনের প্রতি আনুগত্য। নানান ধরনের যুক্তি তর্ক দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করলেও লাভ নেই -- মুনাফেকরা তাই করে। মুনাফেকদের দৃশ্যত দুইটা হাতের বাইরেও একটা লম্বা হাত থাকে -- যার নাম অজুহাত। 
       
      আপনি শেষ পর্যণ্ত যে হাদিসটা দিলেন -- তার শব্দগুলো নিজের মতো করে সাজিয়ে দিয়েছেন যাতে আপনার কথার সাথে মিলে যায়। খুবই সতর্ক থাকা দরকার এই ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে। যদি সম্ভব হয় মুল হাদিসটা আবার দেখে নেবেন। হাদিসের শেষ বলছেন মিথ্যা কথা বলার কথা -- আপনার প্রতি একটা অনুরোধ -- কোন কথাগুলো মিথ্যা বলেছি তা দয়া করে বলুন। অন্যথায় এই ধরনের কথা বলে অন্যকে ছোট করার চেষ্টা বর্জন করাই ভাল। সত্য কথাগুলো গ্রহন করাই সাহসী কাজ বটে। 

  6. 4
    আহমেদ শরীফ

    হরতাল ডেকেই তাণ্ডব শুরু!

    নিজস্ব প্রতিবেদক |
    তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

    http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-31/news/325441
     
    জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা গতকাল দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন রোডে ঝটিকা মিছিল থেকে নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা গতকাল দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন রোডে ঝটিকা মিছিল থেকে নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় …

     
    অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ: হরতাল ঘোষণার পরপরই বেলা দুইটার দিকে কমলাপুরে আইসিডির (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) সামনে জামায়াত-শিবিরের একদল কর্মী প্রাইভেট কারে ভাঙচুর চালান। তাঁরা আরও অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় রাস্তায় পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালানো হয়। কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ অবিস্ফোরিত দুটি ককটেল উদ্ধার করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে আট থেকে দশটি কালো রঙের মোটরসাইকেলে করে ২০ জনের মতো যুবক কমলাপুর স্টেশনের সামনে দিয়ে সায়েদাবাদমুখী রাস্তাটির মোড়ে এসে থামেন। এঁদের মধ্যে একজন হুইসেল বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা যুবকেরা নেমে পড়েন এবং রাস্তার পাশে আগে থেকে রাখা ক্রিকেটের স্টাম্পসদৃশ লাঠি হাতে চলন্ত গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত এসব গাড়ির চালক ও যাত্রীরা গাড়ি ছেড়ে নেমে কোনোমতে আত্মরক্ষা করেন। কেউ কেউ লাঠি ও কাচের আঘাতে আহত হন। ঘটনাস্থলের পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, রাস্তার এক পাশে কিছু যুবক তাণ্ডব চালাচ্ছেন, আরেক পাশে অন্য যুবকেরা মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের একজন হুইসেল বাজালে সবাই আবার অপেক্ষমাণ চালকদের পেছনে বসে মোটরসাইকেলে করে চলে যান।
     
     
     
     

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ইসলামী বিপ্লবের সৈনিকদের গনতন্ত্র চর্চার নমুন। 
       

  7. 3
    ishaque mazumder

    jamat shibir shontarash noy shor ker shontarash korse 
     

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      জামাত শিবিরের হরতাল সমর্থনে শান্তিপূর্ন মিছিলের ছবি --
       

      1. 3.1.1
        আহমেদ শরীফ

        সেনাবাহিনী নামিয়ে খানিকটা 'নমুনা' দেখালেই হবে।

        পাথুরে মুখের পেশাদার সেনাসদস্যদের জাস্ট চেহারাটুকু দেখামাত্র এনাদের অনেকেরই 'জেহাদি জজবা' মূহুর্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

  8. 2
    ishaque mazumder

    ki by ata kemon bicher apnre aj jara desh ke dornitr sherse niy gelo chatro liger dorshoner chenchrrity manos aj atonke ase.   bap ter meyeke chole nete parena

  9. 1
    আহমেদ শরীফ

    লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো – জামাতের নেতারা যখন কলমের খোঁচায় একের পর মুল আদর্শ কেঁটে ফেলে দিচ্ছিলো – যেখানে আল্লার আইন কায়েমের জন্যে জানবাজ কর্মী নিয়ে পরিবেষ্টিত হয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দিচ্ছিলো – তখন তারা হরতাল করেনি – গাড়ী ভাংগে নি। আল্লাহ রসুল(সঃ) এর আদর্শ বাদ দিতে তাদের সামান্য প্রতিবাদ করার মতো কোন লক্ষন দেখা যায় নি – কিন্তু দলের গনহত্যার অভিযোগ অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচানোর জন্যে এরা রাস্তা নেমে পুলিশ পেটাচ্ছে – মানুষকে সন্ত্রস্থ করছে – ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচার বন্ধ করা চেষ্টা করছে। কার্যকলাপে স্পষ্টত এরা বুঝিয়ে দিচ্ছে  -- এদের কাছে আল্লাহ রসুল(সঃ) এর পথে সংগ্রাম করা চেয়ে নেতাদের বাঁচানোটাই অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন। এরা অবলীলায় দলের আদর্শ থেকে আল্লাহ নাম কেঁটে ফেলতে পারে – কিন্তু গনহত্যার অপরাধের কথা স্বীকার করে তওবা করতে পারে না।

    আপাদমস্তক ভন্ডামি, লাম্পট্য, মিথ্যাচারিতা, নির্লজ্জতা, সন্ত্রাস-হিংস্রতায় এই দলটি বর্ণবাদী শিবসেনাকেও হার মানিয়েছে।

    দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থে এই দলটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। নৈরাজ্য সৃষ্টিতে তাদের কান্ডজ্ঞানহীন অপচেষ্টা রোধে প্রশাসনকে সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করতে হবে। জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস-আতংক সৃষ্টির অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করলে অচিরেই সুফল পাওয়া অসম্ভব হবে না।  

Leave a Reply

Your email address will not be published.