«

»

Mar ২২

গণজাগরনে বাংলাদেশ, সাবাশ!

কোথা থেকে শুরু করি! অধিক শোকে পাথর হয়ে গিয়েছি বোধ হয়। তাই চিন্তাগুলোও বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আনন্দ আর সুখানুভুতিগুলো একাকার হয়ে যাচ্ছে। যতবার টিভির সামনে বসি – চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এই যুবকরা – এই তরুনরা – যাদের উপর বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম। ফেইসবুক বন্ধ হলে এরা রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করে – কিন্তু দেশের কোন অনাচারে এরা গা ভাসিয়ে বেড়ায়। এক সময় মনে হচ্ছিলো এই প্রজন্ম দিয়ে হবে না। কিন্তু কোনদিনই একবারের জন্যেই সন্দেহ ছিলো না যে বাংলাদেশে একদিন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বিচার হবে যুদ্ধপরাধী রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের । নিশ্চিহ্ন হবে রাজাকারতন্ত্র। কিন্তু এই প্রজন্মই এই কাজটা করে ফেলবে – তা ভাবিনি। এখন বলতেই হয় – প্রধানমন্ত্রীর সংসদের ভাষনের আবেগের সাথে সুর মিলিয়ে – এখন মরেও শান্তি পাবো।
 
কেন এই গনজাগরন? অনেকের কাছে এই উত্তরটা খুবই সাদামাঠা ধরনের হবে – বলবেন – চিহ্নিত কিছু যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসীর দাবিতে এই সমস্ত ঘটনা ঘটছেন শাহবাগে। প্রকৃতপক্ষে যদিও যুদ্ধাপরাধীর বিচারে বিষয়টি পুরো জগরণের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে – কিন্তু প্রকৃত প্রেক্ষিতটা অনেক বেশী বিস্তৃত। গত চল্লিশ বছর থেকে বাংলাদেশের মানুষের গর্বের বিজয়কে আংশিক – কোন কোন ক্ষেত্রে পরিপূর্ন ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। একট পতাকা, একটা জাতীয় সংগীত আর একটা ভুখন্ড ছাড়া মাঝে মধ্যে ধারনা হয়েছে হয়তো আমরা সেই মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছি। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদররা শাস্তি তো দুরের কথা – এরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়েছে। মুলত ইতিহাসের এই উল্টো যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্টে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান আর মুক্তিযুদ্ধের ৪ চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস বিকৃতি আর চাপিয়ে দেওয়া শাসনের আড়ালে পরাজিত শক্তিকে পূর্বাসিত করা হয়েছে – তারা হয়ে উঠেছিলো ক্ষমতার নিয়ামক। কেউ তাদের মিত্র বানিয়েছে আর কেউ তাদের সাথে সমঝোতা করেছিলো। 
 
কিন্তু এতো রক্ত, এতো প্রান, এতো সম্ভ্রম হারানো নারীর চাপা কান্না কি এতো সহজেই ভুলিয়ে দেওয়া যায়! বিশেষ করে যে জনগোষ্ঠী ভাষার জন্যে জীবন দিয়েছে, মুক্তির জন্যে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছে – তাদের প্রজন্মকে কি ভুলিয়ে রাখা যায়? না, যায় না। তারই প্রমান দেখছি ধরে শাহবাগে লক্ষ মানুষের ঢলে। 
 
এতো বড় গনজমায়েত কি বাংলাদেশের মানুষ আগে কখনও দেখেছ? একাত্তরে  ৭ই মার্চ রেসকোর্সে যে জমায়েত হয়েছিলো – তা ছিলো কয়েক ঘন্টার – আর ৯২ সালের শহীদ জননী জাহানারা ইমামের গনআদালতের স্থায়ীত্বই ছিলো মাত্র কয়েক ঘন্টা। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের এই বিশাল জমায়েত – মুহুর্মুহ শ্লোগান, তরুনদের টগবগে জীবনী শক্তির প্রদর্শনীর এই অবিশ্বাস্য মেলা দেখে আর কি কোন দ্বিধা থাকা সম্ভব যে – রাজাকারতন্ত্রের সময় শেষ হয়ে গেছে। 
 
দেখা যাক আসলে কোন কোন নিয়ামক এই বিশাল জমায়েত সৃষ্টির পিছনে কাজ করলো। লক্ষ্য রাখা দরকার যে – যদিও কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিক্রিয়া হিসাবে ব্লগারদের ডাকে এই প্রতিবাদ শুরু হয়েছিলো – কিন্তু এক সময় জনতার নিয়ণ্ত্রনে চলে গেছে। 
 
১) জনতা আসলে একটা সৎনেতৃত্বের সন্ধানে ছিলো দীর্ঘ দিন ধরেই। বিশেষ করে জামাত-শিবিরের  প্রতি বড় রাজনৈতিক দলগুলো মাথামাখি প্রকাশ্য অথবা গোপনের জামাতের সাথে আঁতাতের কারনে জনগন মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে দুই বড় দলের কাউকেই ঠিকমতো বিশ্বাস করতে পারছিলো না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে জামাত-শিবিরকে মিত্র বানিয়ে রক্ষা করছে – অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ৯৬ এ ক্ষমতায় এসে ঘাতকের বিচারের বিষয়টি উপেক্ষা করায় জনগন আওয়ামীলীগকেও সন্দেহের চোখে দেখছিলো। তারা অপেক্ষা করছিলো একটা বিশ্বস্ত নেতৃত্বের – যা এবার এসেছে তরুনদের সন্মিলিত নেতৃত্বের মাধ্যমে। তরুনদের বিশ্বাস করা খুবই স্বাভাবিক – মানুষ তাদের বিশ্বাস করেছে এবং তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। 
 
২) যদিও আওয়ামীলীগ এবারে বিচার শুরু করেছে – কিন্তু মানুষ প্রকৃতপক্ষে আওয়ামীলীগকে পুরোপুরি সন্দেহ মুক্তি দেয়নি। তাই কাদের মোল্লার রায়ের আগে শিবিরকে বাঁধা মুক্ত সমাবেশ করতে দেওয়া  আর কাদের মোল্লার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পরও চরম শাস্তি না দেওয়াতে মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়েছে এবং মরিয়া হয়ে রাস্তায় নেমেছে। 
 
৩) বিগত কয়েক মাসে জামাত-শিবিরের প্রকাশ্য সন্ত্রাস, আষ্ফালন আর বিএনপির সমর্থন দানে মানুষ শংকিত বোধ করেছে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে। মানুষ ভয় পেয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে – আতংকিত হয়েছে – ক্ষুদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে শিবিরের প্রকাশ্য গৃহযুদ্ধে হুমকী মানুষকে প্রতিরোধের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। নিজের দেশে নিজের স্বজনের হত্যার বিচারের দায়ে যুদ্ধের হুমকী খুব সহজভাবে মানুষ গ্রহন করেনি। 
 
৪) সরকার – বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন অত্যান্ত সহনশীলতার সাথে শিবিরের সন্ত্রাস মোকাবেলা করেছে – শিবিরে আক্রমনের চিত্রগুলো টিভির পর্দায় দেখে মানুষের মাঝে ক্ষোভ জমে উঠেছিলো। সুযোগ পেয়ে মানুষ তাদের অনুভুতি প্রকাশ করছে। 
 
এই গনজাগরন যে ভাবে দিনের পর দিন চলছে – তার থেকে কি ফলাফল আশা করছি। গনবিক্ষোভের ঘটনা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে তাকে গ্রহন করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। বুদ্ধিমানেরা তাকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে তৎপর হয় আর বোকারা একে অস্বীকার করে অথবা এর বিরুদ্ধে গিয়ে শক্তিক্ষয় করে এবং একসময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।  যেমনটা আমরা দেখেছি সাম্প্রতিক মিশরের ঘটনায় – আমেরিকার শুরু দিকে যদিও হোসনী মোবারকের পক্ষে ছিলো – কিন্তু পরবর্তীতে কৌশল পরিবর্তন করে জনতার দিকে ফিরে গেছে। কথাটা বললাম একটা কারনে – তা হলো যদি সরকার চাইতো তবে শুরুর দিকে ব্লগারদের সমাবেশকে পন্ড করে দিতে পারতো। কিন্তু দ্রুতই পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। শেষের দিকে পরিস্থিতি এমন হয়েছিলো যে  সেনাবাহিনী এনে তিয়ের আনমেন স্কয়ারের মতো ম্যাসাকার করা ছাড়া উপায় ছিলো না। সরকার সুবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সমাবেশের দাবীগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন করছে – যদিও সরকার দলীয় নেতারা সেখানে খুব ভাল একটা ব্যবহার পায়নি। 
 
আমরা যদি ইতিহাস থেকে একটু অংশ দেখি – দেখবো ১৯৯২ সালের চিত্র ছিলো ভিন্ন। সদ্য স্বৈরাচারমুক্ত দেশে শহীদ পরিবারগুলো আশা ছিলো গনতান্ত্রিক সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনপ্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু সেই সমকালের বিএনপি সরকার ছিলো পুরোপুরি বিচারের বিরুদ্ধে। বিচারের দাবীকে আইন, শক্তি এবং কূটকৌশল দিয়ে দমন করে জামাত-শিবিরের জন্যে বাংলাদেশকে মুক্তভূমিতে রূপান্তরিত করেছিলো। শহীদ জননী জাহানার ইমাম, সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দিয়েছিলো – যার সন্তানের জীবনের বিনিময়ে এই দেশ – সে হলো রাষ্ট্রদ্রোহী আর মামলা দিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি ছিলেন দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে – কোন সেই দেশ! তারপর শিবির আর ৭৫ এর খুনীদের সংগঠন ফ্রডম পার্টির সমন্বয়ে সরকারের মদদে যুবকমান্ড বানিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে দমন করা হয়েছিলো বিচারের দাবীতে গড়ে উঠা গনআন্দোলন। 
 
প্রশ্ন হলো শক্তি দিয়ে কি ইতিহাসকে থামানো যায়?   
 
তা যে যায়না – তার প্রমান আজকের প্রজন্ম। এই প্রজন্ম বুঝে গেছে যে রাজনীতির কানাগলিতে ৪০ বছর ঘুরে বেড়িয়েছে বিচারের বানী। এবার নিজেদের দায় নিজেদেরই শোধ করতে হবে। আর যারা এই স্রোতের বিরুদ্ধে যাবে – ইতিহাসই তাদের স্থান নির্ধারন করবে। 
 
অন্যদিকে বাংলাদেশে সামরিক শাসক আর তাদের তৈরী করা দলগুলোর তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা জামাত-শিবির চক্র – যারা মুলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু – যারা ধর্মের রাজনীতির নামে আসলে রক্ষা করছিলো কতগুলো ঘাতককে – তাদের জনস্পৃক্ততা যে শূণ্যের কোঠায় – তার প্রমান হলো এই গনজাগরন। দিনের পর দিন শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে ক্যাডারদের নেটওয়ার্ক এখন সাপের মতো গর্তে ঢুকে গেছে। এখন বাকী আছে শুধু মাটি চাপা দেওয়া। সরকারের মাঝে জামাত-শিবির নিষিদ্ধের বিষয়ে যে দ্বিধাদন্ধে ছিলো – জনতার চাপে তা সরে যাবে। আশা করা যায় অদুর ভবিষ্যতে জামাত শিবির নিষিদ্ধ সংগঠন হিসাবে রাজনীতি করার অধিকার হারাবে। আর যারা এখনও মনে করছেন জামাত-শিবিরের ভোটে ক্ষমতায় যাবেন – তাদের স্বপ্ন ভংগ হওয়া জরুরী। নতুবা তাদেরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিমলীগ অথবা জাসদের পরিনতি বরন করতে হবে। 
 
আরেকটা প্রশ্ন করা যায়, এই গণজাগরনের ফলে চিহ্নিত কিছু যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি বা শাস্তি হলে অথবা জামাত শিবির নিষিদ্ধ  হলেই কি বাংলাদেশ রাজাকারতন্ত্র মুক্ত হয়ে যাবে? উত্তর হলো – না,হবে না। কারন ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যণ্ত বিকৃত ইতিহাস আর জামাত-শিবিরের আদর্শিক প্রচার আর প্রসারের কারনে একটা বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে – যারা ধর্মের নামে – ভারত বিরোধীতার নামে – আওয়ামীলীগ বিরোধীতার নামে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের মিত্র ভাবতে লজ্জিত হয় না। এরা এতো বেশী ঘৃনার চর্চা করে যে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের দাম এদের কাছে সামান্য অবশিষ্ট থাকে – ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানীকে এরা খুবই স্বাভাবিক মনে করে – কোন কোন সময় এরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতিকে বিশ্বাস করে। এই গোষ্ঠির প্রভাব থাকবে সমাজে। এরা হলো অন্ধকারের মানুষ – এরা ইসলামের নামে নিরাপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারতে সামান্যও কুন্ঠিত হয় না। জ্যন্ত গাছ কেঁটে বা ট্রেনে আগুন দিয়ে সন্ত্রাস করাকে এরা জেহাদ মনে করে – এরা নেতাদের বিলাস বহুল বাসভবন আর বিলাসবহুল গাড়ী পাহারা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরন করাকে শহীদ বিবেচনা করে। এরা মজলুমের অধিকারকে তামাশা করে – অহংকারী আর মিথ্যাবাদী নেতাদের এরা আদর্শ বিবেচনা করে। বাংলাদেশকে আরো কিছু কাল এই বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে। 
 
শাহবাগের গণজাগরন আমাদের যা দিয়েছে – তার ফলাফল পাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। একদল টগবগে তরুনের শ্লোগানে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে উচ্চতায় উঠে গেছে তাকে নামিয়ে আনার সকল প্রচেষ্ঠা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 4
    কায়সার মোল্লা

    নিবন্ধটি মনপুতঃ।

  2. 3
    মোহাম্মদ আদিল

      আজকে দেশকে ঘিরে তরুণদের যে ভাবনা তার পুরটাই সৎ । আমাদের তারুন্যে আমরা সংগঠিত হতে পারিনি , তাই বলে চেতনারিক্ত ছিলাম না । তবে প্রজন্মের সাময়িক তফাৎ , তথ্য প্রযুক্তি , বিশ্ব যোগাযোগ  -- সর্বোপরি নৈতিকতার নতুন সংজ্ঞা চেতনার প্রজাতিগত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে । আর নৈতিক মূল্যবোধ জাতি গঠনের ভিত্তি । এই ভিত্তিটাকে কত ঠুনকো করা যায় তারই যেন অলিখিত প্রতিযোগিতায় মেতে আছে আমাদের নেতৃ বৃন্দ । অনিয়ম ই যেন নিয়ম , মেনে নেয়া যেন নিয়তি । নিঃস্পৃহ থেকে , অভিসম্পাত দিয়ে , উপেক্ষা করে কিংবা বিরক্তি বোধ করে মেনে নিয়ে যে প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে তার এভাবে অগ্নি স্ফুলিঙ্গের ন্যায় জ্বলে ওঠা কাকতাল মাত্র । কেননা গভীর চেতনা বোধ থেকে উৎসারিত আন্দোলন হয় মৌলিক পরিবর্তন মুখী , যে পরিবর্তন সুদীর্ঘ কালের জমে থাকা সমষ্টি গত স্বপ্নের বাস্তবায়ক । যে তারুন্যের শক্তিকে অপশাসকদের ভয় পাবার কথা , সমীহ করার কথা — উলটো তারাই কিনা একে সগর্বে পেলেপুষে বড় করছে , এ সমীকরণ ই বলে দেয় এ তারুন্য এখনও তৈরি নয় , দেশের গুরুভার বইবার তরে । বাঙ্গালির হুযুগেপনার দৃষ্টান্ত রেখে তারুন্যের এ জমায়েত শাসক দলের মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত হল বাস্তবে । আবেগের ক্রন্দনাস্রুতে হত বিহবলতা তৈরি হতে পারে , তবে অচলায়াতনের বাঁধ ভাঙ্গতে প্রয়োজন মুষল ধারার প্রবল বর্ষণ। প্রচলিত রাজনৈতিক দলের মত হরতাল বিরোধী কর্মসূচী শুধু হাস্যকরই নয় — ছেলেমানুষি কুপমুণ্ডকতা । হঠাৎ পেয়ে বসা মিডিয়ার অতি প্রচার ও প্রশ্রয় আত্মধারনাকে গগনচুম্বী করলেও বাস্তবতা সত্যিই সকরুণ । এদের পা মাটিতে নামাটা খুব দেরিতে হয়ে যাচ্ছে কি ? 
           ৮ই মার্চ  মিঃ মহিউদ্দীন এর পোস্ট " আমরা যাব কোথায়" এ করা কমেন্টটি প্রাসঙ্গিক বলে উপরে পেস্ট করা হোল ।
                        @ বিদ্রোহী , ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বিষয়ে আপনার অবস্থান টি আর সব ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও ইসলাম কিন্তু সে সুযোগ দেয়নি । ইসলামের জন্ম , বিকাশ , পরিপূর্ণতা , প্রসার এর সবটুকুই মূলতঃ বিশুদ্ধ রাজনীতি । মুসলিমদের কাছে আল কোরআন শুধু নিজেদের ধর্ম গ্রন্থ নয় পুরো মানবজাতির , তা বাতিল করে দেয় বাকিসব ধর্ম গ্রন্থকে । কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনার বাইরে এক কদম হাঁটার ব্যপারে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা । কোন অবস্থাতেই বিচ্ছিন্ন , আলাদা বা ব্যক্তিগত হতে উৎসাহিত করেনা ।মৌল নীতির ব্যাপারে ইসলাম আপোষহীন । রাজনীতি থেকে ইসলামকে আলাদা করার কোন সুযোগ নেই । ঈশ্বর , একজন প্রেরিত পুরুষ , একটি গ্রন্থ -- এই প্রচলিত কাঠামো বদ্ধ হয়েও স্টেরিও টাইপ আঞ্চলিকতার বিলোপ সাধন করে ব্যাপক বৈশ্বিকতার যে নজির ইসলাম স্থাপন করেছে তা কোন অবস্থাতেই রাজনীতি এড়িয়ে সম্ভব ছিলনা । জামাত যুদ্ধপরাধ , মওদুদিবাদ ইত্যাদি অপবাদে বা আল কায়েদা , তালেবান এর জঙ্গি পনার অভিযোগে বাতিল বলে গণ্য হলেও ইসলামের প্রকৃত ইসলামী রাজনীতিকে বাতিল করার কোন সুযোগ আছে কি ? ধন্যবাদ       

    1. 3.1
      বিদ্রোহী

      @মোহাম্মদ আদিল:

       

      জামাত যুদ্ধপরাধ , মওদুদিবাদ ইত্যাদি অপবাদে বা আল কায়েদা , তালেবান এর জঙ্গি পনার অভিযোগে বাতিল বলে গণ্য হলেও ইসলামের প্রকৃত ইসলামী রাজনীতিকে বাতিল করার কোন সুযোগ আছে কি ? ধন্যবাদ     

      তাহলে জামাত কিভাবে মওদুদিবাদ বা আলকায়েদা জঙ্গীবাদ বলে বাদ যাবে ? আপনার বক্তব্য অনুযায়ী মওদুদি বা আলকায়েদার নেতারা তো আর ইসলামকে নিজেদের মত ব্যখ্যা করে নি, তারা তো দেখি তাহলে ইসলামের মূল শিক্ষাকে বরং আবিস্কার করে সেটার ভিত্তিতে তাদের রাজনৈতিক দল গঠন করে গেছে। তাহলে আমরা নিজেরা যদি মুসলমান হই , জামাত বা আল কায়েদাকে বাতিল করি কেমনে ? আপনার বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে কি জামাত বা আলকায়েদার লোকরাই কি প্রকৃত মুসলমান , বাকি সব ভন্ড ? ভুয়া ? নাকি এরা সব অজ্ঞ মুসলমান যারা ইসলাম আদৌ জানে না ?

      1. 3.1.1
        মোহাম্মদ আদিল

                 @ বিদ্রোহী   
                          আপনার শেষের দুটি প্রশ্ন আমাকে অনেক ভাবায় , বলতে পারেন এ ব্যাপারে কোন অনু সিদ্ধান্তে আশা বেশ কঠিন । ইসলামে রাজনীতির অবস্থানটি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে নিতান্তই গৌণ , তবে এটি চূড়ান্ত কিছু নয়। পশ্চিমা বিশ্ব ও সমগ্র ইউরো           জোন ইসলামকে প্রবল শ্ত্রু বলে গণ্য করে , বিশেষতঃ ৯/১১ এর পর থেকে । ইসলাম ধর্মকে বললে ভুল হবে , শ্ত্রু গণ্য করে ইসলামী রাজনীতিকে , ইসলামিক মিলিট্যানট দেরকে । ব্যক্তিগত চর্চার আইসোলেটেড ইসলাম কে হুমকি বলে গণ্য না পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড নেয়া ইসলামকেই তাদের ভয় । কেন ? জঙ্গি , বোমাবাজ , আত্মঘাতি ইত্যাদি ট্যাগ লাগিয়ে সাধারন মুসলিম (রাজনীতি অসচেতন) দের মানস পটেও উপরোক্ত ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর  ভীতিপ্রদ ভাবমূর্তি এঁকে দিয়েছে । আমাদের দেশে যে এম বি , হরকাতুল জিহাদ বা হিযবুত তাহরির । অর্থাৎ মুসলিমদের যে অংশ টুকু যুদ্ধ করতে বা চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম তাদেরকেই কেটাগরাইজ করে হস্টাইল ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছে । রাষ্ট্র হিসেবে আজ সোমালিয়া , ইথিওপিয়া , ইরান , মালি প্রকাশ্যে ইসলামী রাজনীতির কথা বলে , চর্চা করে নানাবিধ পশ্চিমা বিধিনিষেধের ভারে জর্জরিত । তালেবান আমলে আফগানিস্তান , প্রথম স্বাধীন চেচনিয়া একসময় বলতো । গোপনে পাকিস্তান , ফিলিপাইন , ইন্দোনেশিয়া , আলজেরিয়া , তুরস্ক এ চর্চা এখনও করে থাকে । আমার বিশ্বাস অনুকূল পরিবেশে সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশ এ চর্চায় বা যুদ্ধে শামিল হবে । আর ইসলামী হুকুমত , ইসলামী খেলাফত সকল মুসলিমের চেতনার গহীনে নিরন্তর বসবাস করে -- এটিই ইসলামী রাজনীতি । জামাতের মৌল দর্শনও তাই । এর প্রেক্ষিতেই ৭১ এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল । তাদের দুর্ভাগ্য তারা ৭১ এ পরাজিত , ফলশ্রুতিতে ২০১৩তে বিচারের কাঠগড়ায় । ধন্যবাদ  

        1. 3.1.1.1
          মামুন

          পশ্চিমা বিশ্ব ও সমগ্র ইউরো           জোন ইসলামকে প্রবল শ্ত্রু বলে গণ্য করে , বিশেষতঃ ৯/১১ এর পর থেকে । ইসলাম ধর্মকে বললে ভুল হবে , শ্ত্রু গণ্য করে ইসলামী রাজনীতিকে , ইসলামিক মিলিট্যানট দেরকে ।—- একমত না। তারা বরং তাদের স্বার্থে  জঙ্গীদের সৄষ্টি থেকে শুরু করে সকল সাহায্য দেয়।

        2. মোহাম্মদ আদিল

          @ মামুন  -- 
                                   পশ্চিমা বিশ্ব ও সমগ্র ইউরো জোন ইসলামকে প্রবল শ্ত্রু বলে গণ্য করে , বিশেষতঃ ৯/১১ এর পর থেকে । ইসলাম ধর্মকে বললে ভুল হবে , শ্ত্রু গণ্য করে ইসলামী রাজনীতিকে , ইসলামিক মিলিট্যানট দেরকে ।—- একমত না। তারা বরং তাদের স্বার্থে  জঙ্গীদের সৄষ্টি থেকে শুরু করে সকল সাহায্য দেয়।

              আমি কি বলেছি পশ্চিমা ও ইউরোপিয়ান দেশ গুলো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অঞ্চল গুলোতে জঙ্গি মদদ দেয় না । ভুরি ভুরি এক্সামপল আছে -- অবিভক্ত রাশিয়া আফগানিস্তান থেকে বিতারিত হয়েছে সি আই এ র আশীর্বাদ প্রাপ্ত ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়েদা ও তালেবানের প্রতিরোধে । পঃ ওয়াজিরিস্তানের সঘোসিত বিদ্রোহ , পাকিস্তানী সেনাদের নাস্তানাবুদ করে রেখেছিল যে পশতুন তালেবান তাও ছিল এমেরিকান সমর্থন পুষ্ট । ইরান ,ইরাক , তুরস্ক , আফগানিস্তানের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদি দের এখনও এমেরিকাই গোপন সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে । আভ্যন্তরীণ চাপে রাখা ও অস্ত্র বানিজ্যের এ অনেক পুরনো কৌশল । এসবের অত্যন্ত চড়া মূল্যও , অন্তত এমেরিকাকে চুকাতে হয়েছে সেপ্টেম্বর ১১ , ২০০১এ । এই হামলা ও এই তারিখটি উপরোক্ত অপকর্মের যতি চিহ্ন হয়ে আছে । তারা এখন এই ইস্যুতে এতোটাই হিস্টেরিক যে নাফিসের মত চুনোপুঁটির পেছনেও কামান দাগিয়ে বসেছে । এমেরিকা ১৯৯১ সাদ্দামকে কুয়েত আক্রমণে মদদ দিয়ে গালফ ওয়ার এর সুচনা করেছিল , টার্গেট ছিল সউদের রাজ্যে প্রবেশাধিকার । সফল হয়েছে , একসময়ের মিত্র গাদ্দাফি , হোসনী মোবারক , বেন আলী সব্বাইকে এমেরিকা বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে এক্সপ্লয়েট করেছে , আবার কাজ ফুরালে ছুড়েও ফেলেছে । মুসলিম অধ্যুষিত বলে ইসলাম জড়িয়ে পড়েছে , তাও নিছক ধর্ম বলে নয় , জড়িয়েছে ইসলামী রাজনীতি । এই মাখামাখি , জড়াজড়ি , পরবর্তীতে ছাড়াছাড়ি -- ইসলামী রাজনীতির শক্তি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা হয়েছে বলেই তারা এটিকে দমন করতে আজ মরিয়া । ইসলামের এই প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ টুকু না থাকলে , রাজনীতি বিহীন ইসলাম হয়ে পড়বে লক্ষ্য চ্যুত , থেকেও না থাকার মত জীবন্মৃত , অবনত । ধন্যবাদ ।

  3. 2
    বিদ্রোহী

    তার মানে আপনি অন্ধ মুসলিম বিদ্বেষী থেকে এইমাত্র সত্যের জগতে পদার্পণ করলেন

    ভূল বললেন। আমি জামাত বিদ্বেষী ,  মুসলিম বিদ্বেষী নই। আর বিদ্বেষী তাদের যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। আমি যেটা মনে করি , তা হলো ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের ব্যপার। এটাকে কোনভাবেই রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়। দুনিয়ার যে দেশে যখনই ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনা হয়েছে তাদের অগ্রগতি থেমে গেছে।বেশী দুর যাওয়ার দরকার নেই। পাকিস্তানেই দেখেন। জিয়াউল হক যখন ধর্মকে রাজনীতির সাথে ওৎপ্রোতভাবে মিশিয়ে ফেলল, তারপর থেকেই পাকিস্তানের পরিণতি দেখতে পারেন। আরব দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন। ওদের যদি তেল সম্পদ না থাকত, ওরা যেভাবে ধর্মকে তাদের রাজনীতির সাথে মিশিয়ে ফেলেছে তাতে , তাতে আরব দেশের লোকেরা পড়ে থাকত সেই প্রাচীন কালে। মিশরে দেখুন। ওদের তেল সম্পদ নেই। ব্রাদার হুডের মুরসি ক্ষমতায় এসেই ধর্মকে রাজনীতির সাথে সংযুক্ত করতে চেষ্টা করেছে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা দেখুন এখন। দেশ দেউলিয়া হওয়ার পথে। এখন তাকে রক্ষা করতে সেই ইহুদি নাসারাদের কাছে ধর্না দিতে হচ্ছে টাকার জন্য। ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার জন্য কি না করছে মুরসি। সৌদি আরব তো বিলাস ব্যাশনে কত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে , কই তারা তো মিশরের এ বিপদে এগিয়ে আসছে না , কেন ? এই বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লোক সৌদি আরবে কামলা দেয়। তারাও তো দেখি মাঝে মাঝে হুমকি দেয় আমাদের লোকদেরকে তারা ফেরত পাঠাবে। বিগত ৩/৪ বছর ধরে সেদেশে বাংলাদেশের কর্মী যাওয়াও বন্দ। কেন ? তারা যে এত ইসলাম ইসলাম করে , কই তারা তো আমাদের মানুষ বলেই গণ্য করে না। তাহলে তাদের চামচা গিরি করে লাভ কি ? কি তারা আমাদেরকে দিতে পারে ? কিছুই না। আর ইসলাম , ওটা যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস। সেটা পালনের কি নির্দেশ তা কিতাবেই আছে , তার জন্য সৌদির ধর্ণা দেয়া তো দরকার নেই। এই যে আপনি নিবন্ধ লিখেছেন যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের পক্ষে। আপনি দেখুন , যেসব দেশ ধর্মীয় রাজনীতি করে তাদের কোনটাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। কেন ? চেষ্টা করেছেন এর কারন জানতে কখনো ? মিশর, সৌদি আরব , তুরস্ক, পাকিস্তান কেউই চায় না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এখন বসে বসে বের করুন কেন তারা সে বিচার চায় না।
    আবারও বলছি- আপনি ভুল বলেছেন , আমি মুসলিম বিদ্বেষী নই, ধর্ম নিয়ে রাজনীতির বিদ্বেষী।

    1. 2.1
      shamima

      আমাদের কপাল মন্দ, বি এন পির মাথায় ভুত চেপে বসলো, তারা একগুয়েমী করে শাহবাগ মঞ্চকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরে নিল। জাতীয় পতাকার অপমান, শহিদ মিনার ভাঙ্গা মেনে নিল। বি এন পি যদি প্রজন্ম চত্বরের সাথে সংহতি প্রকাশ করতো, যদি যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করতো, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মারাত্বকভাবে পরাজয় বরণ করতো। আওয়ামী লীগ বিগত চার বছরে প্রচুর ভুল বা পাপ করেছে, বি এন পির কাছে যথেষ্ট ইস্যু ছিল আওয়ামী লীগকে ধরাশায়ী করার। প্রজন্ম চত্বরের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বি এন পি যদি আওয়াজ তুলতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, আওয়ামী লীগ বিচার ইস্যু নিয়ে সময় নষ্ট করতে পারতোনা। এরপর শাহবাগ মঞ্চের মাধ্যমে বি এন পি  নিয়ে আসতে পারতো, ডেষ্টিনি কেলেংকারী, গার্মেন্টস সমস্যা, সাগর রুনী হত্যা, সীমান্ত হত্যা, বিশ্বজিত হত্যা সহ প্রচুর ইস্যু যা আওয়ামী লীগককে চরম বিভ্রান্তি ও বিপদে ফেলে দিত। বি এন পি যদি জামাতের পক্ষাবলম্বন না করতো, জামাতকে নিষিদ্ধ করার দরকার পড়তোনা, এমনিতেই তারা বিলুপ্ত হয়ে যেত। কারণ চোখের সামনে তারা যে বেঈমানী ধোকাবাজী, ভন্ডামী প্রতারণা করেছে, দেরীতে হলেও সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে তা ধরতে পারছে। মাহমুদুর রহমান যখন তার পত্রিকা আমার দেশে লিখেন- দেব দেবীর নামে পশু জবেহ করা মাংশ হালাল, তখন সাধারণ মানুষ তা চেক করার সময় পায় না বা নিজে দেখার চেষ্টা করেনা। অথচ হুবহু এই কথাটা বইয়ে মোটেই লেখা ছিলনা। দুই আড়াই বছর আগের কাবার গিলাফের ছবি, ভিন্ন ভিন্ন জায়গার ছবি এনে ফটোশপের মাধ্যমে ধোকাবাজী, সাঈদীকে চাঁদে তোলা এ সব কোন ঈমানদার মুসলমানের কাজ হতে পারেনা। আমার দেশ, নয়া দিগন্ত আর সংগ্রাম মুসলমান হয়ে ইসলামের নামে এতো মিথ্যাচার কেমনে করে তারাই জানে। তাই জনগনের কাছে এদের গ্রহনযোগ্যতা না পাওয়ার ব্যবস্থাটা বোধ হয় আল্লাহ নিজেই করে রেখেছেন।  

    2. 2.2
      মামূণ

      আপনি বলেছেন, করা নাকি যু্ধ অপরাধির বিচা ায় না। কে বলেছে? খালেদা বলেছেন, তিনি ট্রাবুনাল করে , এমনকি হাসিনার বিচরও করবেন!

  4. 1
    বিদ্রোহী

    আমার একটা ধারনা ছিল এই ব্লগটা হলো রাজাকার আলবদরদের সাইট। এখানে ইনিয়ে বিনিয়ে কায়দা করে মূলত: জামাত শিবিরের রাজনৈতিক দর্শন প্রচার করে। তবে আপনার নিবন্ধ পড়ে সে ভ্রম কিছুটা দুর হলো। আমরা আর যাই হোক , মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে আপোষ করতে পারি না। কারন মুক্তিযুদ্ধই হলো আমাদের আসল পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আমাদের কোন পরিচয় নেই , থাকতে পারে না। যে সব কুলাঙ্গার এই মুক্তিযুদ্ধের সাথে ধর্ম বা অন্য কোন রকম ধানাই পানাই যুক্ত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করতে তাদের আমরা কোনমতেই ক্ষমা করতে পারি না। এক দল আছে যারা বলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আগে অমুকের বিচার করতে হবে , তমুকের বিচার করতে হবে , তাদের আমাদের ভাল করে চিনে রাখতে হবে। এরা আমাদের আত্ম পরিচয় আমাদের অহংকারকে বিলীন করে দিতে চায়। জাতিয় অহংকার ছাড়া কোন জাতি মাথা তুলে দাড়াতে পারে না, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সেই অহংকার। সে সব কুলাঙ্গাররা আমাদের এ অহংকারকে নস্যাৎ করতে চায় , তাদের স্থান এই বাংলার মাটিতে হতে পারে না।
    ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      আমার একটা ধারনা ছিল এই ব্লগটা হলো রাজাকার আলবদরদের সাইট।

      তার মানে আপনি অন্ধ মুসলিম বিদ্বেষী থেকে এইমাত্র সত্যের জগতে পদার্পণ করলেন। সত্যের জগতে স্বাগতম!

    2. 1.2
      সদালাপ কর্তৃপক্ষ
      @বিদ্রোহী

      আপনার কমেন্ট থেকে একটি শব্দ মুছে দিয়েছি। ভবিষ্যতে কোন দল-মতের প্রতি শব্দ প্রয়োগে যত্নবান হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। মত-পথের স্বাতন্ত্রের জন্য কাওকে শয়তান  বলা ঠিক হবে না। লক্ষ্য করুন, শব্দটি সরালেও আপনার বক্তব্যের ধার একটুও কমেনি।

      সময় করে সদালাপের নীতিমালা-টি পড়ে নিন। তাহলে ইন্টার্নেটে বাংলা ভাষায় প্রাথমিক ও পুরানো একটি ব্লগ সম্পর্কে হ্যাস্টি সিদ্ধান্তমূলক প্রেজুডিস থাকবে না।      

       

    3. 1.3
      shamima

      আমার একটা ধারনা ছিল এই ব্লগটা হলো রাজাকার আলবদরদের সাইট। এখানে ইনিয়ে বিনিয়ে কায়দা করে মূলত: জামাত শিবিরের রাজনৈতিক দর্শন প্রচার করে।

       
      আপনার ধারণা মোটেই মিথ্যা নয় ১০০% ঠিক। লেখক নিজেও বোধ হয় তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এখানে তিনি যে একেলা। তবে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই, এখানে দেখুন বাংলার মুসলমান জামাতকে কী ভাবে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।  
       
      http://bangla.bdnews24.com/politics/article605437.bdnews
       
       

      1. 1.3.1
        বিদ্রোহী

        আপনার ধারণা মোটেই মিথ্যা নয় ১০০% ঠিক। লেখক নিজেও বোধ হয় তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এখানে তিনি যে একেলা।

        কথাটা আপনার মিথ্যা নয় বলেই মনে হচ্ছে। লেখকের এ পোষ্টের পক্ষে তেমন কোন মন্তব্য দেখা যাচ্ছে না। বিষয় কি ? এ ব্লগের লোকজন কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না ?

        1. 1.3.1.1
          এস. এম. রায়হান

          @বিদ্রোহী,

          আমার একটা ধারনা ছিল এই ব্লগটা হলো রাজাকার আলবদরদের সাইট। এখানে ইনিয়ে বিনিয়ে কায়দা করে মূলত: জামাত শিবিরের রাজনৈতিক দর্শন প্রচার করে।

          @shamima,

          আপনার ধারণা মোটেই মিথ্যা নয় ১০০% ঠিক।

          @বিদ্রোহী,

          কথাটা আপনার মিথ্যা নয় বলেই মনে হচ্ছে।

          বর্ণবাদীদের মধ্যে যাদের বিশ্বাস অনুযায়ী জন্মই আজন্ম পাপ, তারা পারে না এমন কিছু নেই।

        2. নির্ভীক আস্তিক

          চুপেচুপে বিনোদন দেখুন। আমিতো Shamima-কে গত দুই সপ্তাহ ধরেই আমাকে বিনোদন দিতে দেখছি। রাজীবের ব্যাপারে পোষ্টের পর এই মহিলা (!) এখানে সবাইকে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবির মনে করে আর দিনে রাতে আমাদের কুকুর খুঁজে বেরাচ্ছে। বুঝলেনতো এদের অনেকগুলো চক্ষু, পুরা মাছির মত।

          ১। জিয়াউদ্দিন ভাই রাজিবকে সহযোদ্ধা বলেছেন, তাই তিনি মুসলমান ও ইমানদার।

          ২। আর আমাদের মধ্যে বাকি যারা গোলাম আযম, নিজামি সহ চিহ্নিত রাজাকারদের সাথে থাবা রাজিব, অভিজিৎ রায় সহ ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু প্যাগান আর তাদের জ্ঞানী নাস্তিকতায় ইমানদার মুক্তমনাদর একই গোয়ালের চতুষ্পদ প্রাণী বলছি তাদের ইসলামি ঈমানে ঝামেলা আছে। তারা জামাত শিবির।

          আর এই নব্য বিদ্রোহীর কথাগুলো এতবেশি এলোমেলো আর ঘুনে ধরা আজেবাজে ধরনের এই লোকটার সাথে তর্ক করতেও রুচিতে বাধে।

        3. বিদ্রোহী

          নির্ভিক আস্তিক,
           

          আর এই নব্য বিদ্রোহীর কথাগুলো এতবেশি এলোমেলো আর ঘুনে ধরা আজেবাজে ধরনের এই লোকটার সাথে  তর্ক করতেও রুচিতে বাধে।

          কেউ আপনাকে দিব্বি দেয় নি আমার সাথে তর্ক করতে। তবে এ পোষ্টের  পক্ষে বা সমর্থনে তেমন কোন মন্তব্য না আসাতে সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে যে এ ব্লগের লোকজন আসলেও জামাত শিবিরের লোকজন , একটু ভিন্ন কায়দায় ধানাই পানাই করে তাদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌছে দিতে চায়। নিজেকে বেশী চালাক আর বাকি সবাই ভোদাই যদি মনে করেন , তাহলে দ্বিতীয়টা হবেন আপনি বা আপনারাই।

        4. আহমেদ শরীফ

          জামাতের পক্ষে-বিপক্ষে উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর বক্তব্য সদালাপের পাতায় পাতায় বিদ্যমান। তবে সদালাপের নিয়মিত লেখকরা প্রধানতঃ স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি। মূলতঃ মুক্তিযুদ্ধ/বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ/মানবতাবাদ এর আড়ালে আশ্রয় গ্রহণকারী নাস্তিক্য শিবিরের গুটিকয় ইসলামবিদ্বেষীরাই সাধারণ ইসলামপন্থিদেরও 'পাকিস্তানপন্থি' 'জামাত-শিবির' এর কাতারে ফেলে দেয়ার দুরভিসন্ধিমূলক অপপ্রচার চালায়। কারণ তারা চায় গণহারে সমস্ত মুক্তিযুদ্ধপন্থিদের লেজ তাদের মতই কাটা যাক, তাহলে নিজেরা আশংকাজনক হারে দিনে দিনে ব্রাত্য-কোণঠাসা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে স্থায়ী নিরাপত্তার অধিকারী হওয়া যাবে।

          'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি' সাজা এই ইসলামবিদ্বেষীরা আসলে স্বাধীনতাপক্ষীয়দের জন্য জামাত-শিবিরের চেয়ে বড় ক্ষতিকর হুমকি। কারণ জামাত-শিবির তো স্পষ্ট প্রকাশ্য শত্রু। আর ছুপাছাগু ইসলামবিদ্বেষীদের কাজ হল অন্তর্ঘাতমূলক ক্ষতিসাধন করে জনমনে স্বাধীনতার পক্ষশক্তির ইমেজ নষ্ট করা, তাদের ত্যাগতীতিক্ষার ফসল কষ্টার্জিত রক্তাক্ত অর্জন নষ্ট করে দেয়া।

          আজ অন্তর্ঘাতী ইসলামবিদ্বেষীরা স্বাধীনতাপক্ষীয় শক্তির মহতি লক্ষ্য অর্জনে বড় অন্তরায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.