«

»

Oct ১০

সবচেয়ে অমানবিক অপরাধীর মানবিক সাজা – মানবতাবিরোধী অপরাধে আব্দুল আলীমের আমৃত্যু জেল

৭১ এর অন্যতম নিষ্ঠুর মানবতাবিরোদী অপরাধঅ আব্দুল আলীম 

গতকাল আরেকটা রায় প্রকাশিত হলো। এবার রায় এলো সাবেক মুসলিমলীগ নেতা এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের তৈরী দল বিএনপির নেতা আব্দুল আলীমের রায়। বলা দরকার যে – আব্দুল আলীম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যে জঘন্য অপরাধ করেছে তার বর্ননা দিতে গেলেও অসুস্থ বোধ হয়। উনি একজন মুক্তিযুদ্ধা জিয়ার সমযোতার রাজনীতির সুযোগে বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন – তিনি ছিলেন আরেক বাংলাদেশ বিরোধী শাহ আজিজুর রহমানের মন্ত্রী সভায় রেল মন্ত্রী এবং বিগত ১/১১ পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। মাঝে মধ্যেওই প্রশ্ন আসে – বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান বিচারের বিরোধীরা বলে কোন সভ্য দেশে এইটা কি সম্ভব, ঐটা কি সম্ভব? উত্তর হলো – বাংলাদেশ এখনও সভ্য দেশের পর্যায়ে যেতে পারেনি। একজন গনহত্যাকারী লোক সদর্পে রাজনীতির উচ্চাসনে বসে থাকে – দেশের মন্ত্রী হয় – সেই দেশকে সভ্য দেশ বলা কঠিন – তবে আশার কথা হলো এই বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সভ্যদেশ হিসাবে নিজেদের নতুন ভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আশা করি এই বিচার বাংলাদেশের জন্যে একটা জায়ান্ট স্টেপ হিসাবে বিবেচিত হবে। 

 

আলীমের মতো একজন নিষ্টুর অপরাধী প্রকৃত বিবেচনায় লঘু দন্ড পেলো। কারন হিসাবে তার শাররীক অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে। রায়ের এক অংশে বলা হয়েছে – 

 

 ‘রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, আবদুল আলীম জয়পুরহাটের একজন অভিজাত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ। স্বাভাবিকভাবে মানবসভ্যতা ও মানবমর্যাদা সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-কালে স্থানীয়ভাবে তিনি অপরাধের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। রক্ষা পায়নি মানসিক রোগী, ৯০ বছরের বৃদ্ধও।’

 

তবে ৮৩ বছর বয়সী আলীমের জন্য অনুকম্পা নিয়ে এসেছে অসুস্থতা ও বার্ধক্য। 

 

আব্দুল আলীমের এই শাস্তিতে ট্রাইবুন্যালের আরেকটা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেলো। মানবতাবিরোধীদের বিচারের সময়ও ট্রাইবুন্যাল যথেষ্ঠ মানবিক দৃষ্টিভংগীর পরিচয় দিচ্ছে। যারা শুরু থেকেই ট্রাইবুন্যালকে নানান ভাবে বিতর্কিত করতে চেষ্টা করছেন – তাদের জন্যে এইটা একটা ম্যাসেজ। এই পর্যন্ত বিশ্বে যত ট্রাইবুন্যাল কাজ করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটা অনন্য উদাহরন হয়ে থাকবে। অনেকে আর্ন্তজাতিক মানের হয়নি বলে আমেরিকান আর বৃটিশ কিছু আইনজীবির উদ্ধৃতি দেন – তারা একবারও ভেবে দেখেন না এই উকিলগোষ্ঠী বাগরাম, আব গারিব বা গোয়ান্তানামো বে নিয়ে কথা বলে না। আবার ইসলামী শাসক প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনীতি করা লোকজন আন্তর্জাতিক মান হিসাবে পশ্চিমা দেশের উকিলদের ভাড়া করে কথা বলাচ্ছেন। কিন্তু তাদের আন্তর্জাতিক মানে মধ্যে সৌদি আরব বা ইরানের বিচার ব্যবস্থার তুলনা করা হয় না। 

 

এই বিচার নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানান বাক বিতন্ডা চলছে – কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে সংগঠিত অপরাধের একটা দালিলিক প্রমান তৈরী হচ্ছে হাজার পৃষ্ঠা জবানবন্দী, স্বাক্ষীদের জেরা, যুক্তি পাল্টা যুক্তির মাধ্যমে। এক সময় আসবে – আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই দলিলকে নির্মোহ দৃষ্টিতে বিশ্লেষন করবে এবং জানতে পারবে – একদল মানুষ সভ্য মানুষের মাঝে মুখোশ পড়ে চলা ফেরা করতো – তারা অর্থে বিত্তে এবং ক্ষমতায় বলীয়ান ছিলো – কিন্তু মুখোশের আড়ালে ওরা ছিলো নিষ্ঠুর এবং নির্মম অপরাধী এবং বাংলাদেশের মানুষকে নানান ভাবে সেই অপরাধে বিষয়টি ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়েছিলো – কিন্তু সচেতন একটা প্রজন্ম সেই অন্ধকারে পর্দকে ছিঁড়ে আলোর দিকে নিয়ে গেছে একটা মানবগোষ্টীকে – তারা ন্যায় ভিত্তিক একটা সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে রাষ্ট্রকে বিচারে বাধ্য করছে।  

১ comment

  1. 1
    সাদিয়া

    আব্দুল আলীমের এই শাস্তিতে ট্রাইবুন্যালের আরেকটা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেলো। মানবতাবিরোধীদের বিচারের সময়ও ট্রাইবুন্যাল যথেষ্ঠ মানবিক দৃষ্টিভংগীর পরিচয় দিচ্ছে। যারা শুরু থেকেই ট্রাইবুন্যালকে নানান ভাবে বিতর্কিত করতে চেষ্টা করছেন – তাদের জন্যে এইটা একটা ম্যাসেজ।

    আফসোস !! তারা কি এই ম্যাসেজটা ধরতে পারবে ??

    আব্দুল আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক শুধু বয়স বিবেচনা করেনি বরং তার শাররীক অসুস্থতা(পঙ্গুত্ব) কেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে কতটা মানবিক, পক্ষপাতহীন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং আৰ্ন্তজাতিক মানের বিচারকাৰ্য চলছে, তা "আব্দুল আলীম" নামক জঘন্য মানবতাবিরোধী রাজাকারের রায়ে আবারো আমাদের সামনে ফুটে উঠেছে।

    মানবতার জয় হোক ।

    জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

     

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.