«

»

Nov ০৩

যুদ্ধাপরাধের বিচার – ঘাতক আশরাফুজ্জামান সম্পর্কে কিছু কথা

 

আগামী কাল আল বদর বাহিনীর ঘাতক নেতা আশরাফুজ্জামান আর চৌধুরী মইনুদ্দীনের বিচারের রায় আসছে। আশা করি তাদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন আদালত। আশা করি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এবং প্রতিবেদনের সুবাদে আমরা সবাই জেনে গেছি বর্তমান ইসলামী ছাত্র শিবির – যার ৭১ এ নাম ছিলো ইসলামী ছাত্র সংঘ – যা রাজাকার বাহিনীর বাইরে নিজেদের বাহিনী তৈরী করেছিলো – যার নাম ছিলো আল-বদর। মুক্তিযুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনে এই আল বদর বাহিনী নেমেছিলো গুপ্তহত্যায় – তাদের মুল লক্ষ্য ছিলো একটা বুদ্ধিবৃত্তিক পংগু দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে দেখা। 

একাত্তর সালে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তারা সশস্ত্র অবস্থায় বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে মুহম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে নির্যাতনের পর মিরপুর এবং রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে। এই পুরো হত্যাকান্ডে এই দুই ঘাতকের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহনের প্রমান পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধে পর ৭৫ এর জঘন্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে পট পরিবর্তনের পর প্রায় সব ঘাতকই ধীরে ধীরে রাজনীতি ফিরে আসে – কিন্তু এই দুই ঘাতকের বিরুদ্ধে প্রচুর প্রমান থাকায় এরা বিদেশে পালিয়ে থাকে। বর্তমানের চৌধুরী মইনুদ্দিন লন্ডনে এবং আশরাফুজ্জামান খান নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। এরা বিচার শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের সক্রিয় ছিলো। 

এই ঘাতকদের বিরুদ্ধে যাদের হত্যা অভিযোগ পাওয়া যায় তারা হলেন – 

১)  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ, 
২) অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, 
৩) অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, 
৪) ড. আবুল খায়ের, 
৫) ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য, 
৬) ড. সিরাজুল হক খান, 
৭) অধ্যাপক ফয়জুল মহি, 
৮) অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, 
৯) অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, 
১০) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক 
১১) ডা. মো. মর্তুজা, 
১২) চক্ষু বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম চৌধুরী, 
১৩) হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলে রাব্বী, 
১৪) দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সিরাজউদ্দিন হোসেন, 
১৫) পিপিআইয়ের প্রধান প্রতিবেদক সৈয়দ নাজমুল হক, 
১৬) দৈনিক পূর্বদেশের প্রধান প্রতিবেদক আ ন ম গোলাম মোস্তফা, 
১৭) বিবিসির সংবাদদাতা ও পিপিআইয়ের সাবেক মহাব্যবস্থাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ, 
১৮) শিলালিপি পত্রিকার সম্পাদক সেলিনা পারভীন, 
১৯) দৈনিক সংবাদের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার

আশা করি বাংলাদেশ আজ আরেকটা ন্যায় প্রতিষ্ঠার রায় দেখবে। 

(২) 

এই বিচার প্রসংগে একটা ব্যক্তিগত আলাপচারিতার বিষয়টি না লেখলে বোধ হয় কিছু কমতি হয়ে যাচ্ছে। হাবিব ভাই টরন্টোর একটা কোম্পানীতে আমার সহকর্মী ছিলেন – উনি মহাজোট সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বিষয়ে আওয়ামীলীগের সমালোচনা করতেন – প্রতিদিন লঞ্চ টেবিলে উনি এসেই একটা প্রসংগ উঠাতেন যা থাকতো অবশ্যই আওয়ামীলীগের সালোচনা। যাই হোক – যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে উনি যথারীতি তারও সমালোচনা করতেন প্রতিদিনই। 

একদিন উনি এসে বললেন – আওয়ামীলীগ একটা ভাল কাজ করলো। কি বিষয় – টেবিলের সবাই হতবাক – ঘটনা কি? 

উনি বললেন – আশরাফুজ্জামান খানের মতো লোক এতোদিন কিভাবে ফাঁসী থেকে বেঁচে ছিলো তাই আফসোসের বিষয়। তারপর উনি যা বললনে – তা বর্ণনা করা কঠিন। আশরাফুজ্জামান খান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গ্রামের বাড়ী গিয়ে একটা রাজাকার দল তৈরী করে কিভাবে আওয়ামীলীগ সমর্থক আর হিন্দুদের উপর নির্যাতন করেছে তার বর্ণনা ছিলো ভয়াবহ।

এক পর্যায়ে হাবিব ভাই ইমোশনাল হয়ে একজন নব্বই বছরের বৃদ্ধ হিন্দুকে হত্যার বর্ননা দিলেন – কিভাবে সেই হিন্দু লোকটি আশরাফের পায়ে পড়ে গিয়েছিলো। কিভাবে সে বাবা ডাকছিলো। কিন্তু কিছুই তাকে রক্ষা করতে পারেনি। 

উনার বর্ননায় হিন্দু বাড়ীতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি বারবার আসছিলো কারন এক পর্যায়ে হাবিব ভাই এর বাবার এগিয়ে গিয়ে তাদের আগুন না দিতে অনুরোধ করেছিলো – কারন উনাদের বাড়ী বাতাসের দিকে হওয়ায় আগুন তাদের বাড়ীতেও লেগে যেতে পারতো। কিন্তু তারা অনুরোধ রাখেনি – বরঞ্চ যাবার সময় হাবির ভাইদের একটা ঘরে আগুন দিয়ে যায় এবং হুমকী দিয়ে যায় যেন হিন্দুদের আশ্রয় না দেয়। 

হাবিব ভাই দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলা চলাকালে নানান থিয়োরী দিয়ে মামলা পাতানো বলে প্রচুর কথা বলেছে। এই পর্যায়ে উনাকে বললাম – কোন মুক্তিযোদ্ধা আশরাফের বিষয়ে কিছু করেনি?

উনি বললেন – সেই অঞ্চলের কমান্ডার ছিলেন শাহজাহান ওমর ( এখন বিএনপির নেতা) – শাহজাহান ওমর অনেক খোঁজাখুজি করেও আশরাফকে পায়নি কিন্তু তাদের অনেকগুলো সহযোগীকে ধরে এনে প্রকাশ্য বিচার করে মৃত্যদন্ড দিয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিহাস – শাহজাহান ওমরের দল এখন জামাতের রক্ষক আর শাহজাহান ওমর চুপ করে বসে থাকে রাজাকারের পাশে। 

আমি বললাম – আপনার এই কথাগুলো তো মিথ্যা হতে পারে। তখন হাবিব ভাই খুবই রেগে গেলেন। তখন আমি বললাম – দেখুন যখন সাঈদীর মামলা শুরু হয়েছে তখন আপনি স্বাক্ষীদের নিয়ে নানান কথা বলেছেন এখন একটু ভাবুন সাঈদীর ক্ষেত্রেওতো আপনার মতো একজন থাকতে পারে – পারেন নাকি? উনি শুধু মাথা নাড়লেন। এরপর উনি কখনই যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি। 

আমাদের মাঝেও অনেকেই আছেন যারা দুরের বসে হাবিব ভাই এর মতো দলীয় দৃষ্টিভংগীর কারনে রাজাকারদের বিচারকে বিতর্ক করছেন – সন্দেহ করছে। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন এই ঘাতকদের হাতে যারা বাবা-ভাই বা আত্নীয়দের নিগৃহীত হতে দেখেছে – যারা তাদের বোনদের অত্যাচারিত হতে দেখেছে – তাদের বিচাররের দাবীকে কটাক্ষ করে কত বড় বিপদই না আমার ডেকে আনছি আমাদের নিজেদের জন্যে। 

আসুন সবাই দল মত পথকে সরিয়ে রেখে মানবতার দাবী আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবীতে মজলুমদের পাশে দাড়াই। 

 

১০ comments

Skip to comment form

  1. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    যাক যে কথাটি বলতে চাই, আমি চাই বিচার হোক, এমন ভাবে যাতে করে কেউ এই বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না তোলতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বোধহয় কখনও নিরপেক্ষ বিচার করা সম্ভব হবেনা।

     

    পৃথিবীতে এমন নজির খুব কমই আছে যেখানে অপরাধীরা বিচার নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। খুব কমই আছে যে অপরাধী অপরাধ স্বীকার করে। আর জামাত-শিবিরতো তাদের অপরাধ নিয়ে গর্বই করে। এরা ৭১ এ যা করেছে তা যে অন্যায় বিবেচনা করে করেছে তা ভাবার কোন কারন নেই। বরঞ্চ তাদের অপরাধগুলোর পক্ষে তাদের প্রচুর যুক্তি আছে। সেখানে যে ভাবেই বিচার করার হউক -- সেই বিচারে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেই। 

     

    মজার বিষয় হলো জামাতের পক্ষ থেকে তাদের নেতাদের ৭১ এর ভুমিকা নিয়ে কোন সুষ্পষ্ট বক্তব্য নেই। শুধু বিচারকে বিতর্কিত করার বিষয়েই ওরা মনোযোগ এবং বিনিয়োগ করেছে। বিচার শুরুর আগে জামাতের ওয়েব সাইটে দেখতাম নেতাদের বায়োগ্রাফী দিয়ে রাখতো -- যেখানে ১৯৭০ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত একটা শব্দও ছিলো না। প্রতিটি নেতার ক্ষেত্রে এই একই বিষয়ে দেখেছি। ওরা চেয়েছিলো সবাই ভুলে যাক ওদের অপকর্মগুলো। সেই ভাবে তাদের দলের কর্মীদের প্রশিক্ষনও দিয়েছে যুগ যুগ ধরে। ফলে জামাত শিবিরের কর্মীদের কাছে তাদের নেতাদের ৭১ এর ভূমিকা নিয়ে কোন সুষ্পষ্ট তথ্য নেই। তাই তারা শুধুমাত্র বিচারকে বিতর্কিত করা ছাড়া অন্য দিকে যেতে পারছে না। অন্যদিকে ওরা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিচার বন্ধ করতে চাইছে। 

     

    যাই হোক -- এই পর্যণ্ত যতগুলো বিচার হয়েছে শুধু সাঈদী ছাড়া আর কারো পক্ষে জামাতের উকিলরা কার্যত কোন ডিফেন্স তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছে -- কারন ওরা এই বিষয়টি নিয়ে কোন হোম ওয়ার্ক করেনি। ভেবেছিলো হয়তো এই ভাবেই এক সময় মানুষ বিচারের বিষয়টি ভুলে যাবে বা সময়ের প্রবাহে বিচার বিষয়টি অর্থহীন হয়ে যাবে। 

    তারপরও দেখুন বিচারের জামাতের উকিলরা যথারীতি আইন অনুসরন করেছে -- বিচারকে সহায়তা করেছেঅ অন্যদিকে রাজনৈতিক ভাবে সুবিধা নিতে বাইরে এরা বিচারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। সুবিধা হলো এই রাজনৈতিক ঘটনাবলী সাময়িক কিন্তু আদালতে নথি হলো দলিল। আমরা চেয়েছিলাম বিচারের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসুক -- সেইটাই হচ্ছে। তাই আমি মনে করি বিচার সার্থক। 

     

    ধন্যবাদ। 

  2. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    আপনি নিজেই মজলুমদের পাশে দাড়ান না। বরং জালিমের পাশে দাড়ান যদি জালিম আপনার মতের সমর্থক হয়। তাহলে আপনি আর ৭১ এর ততকালীন রাজাকারদের মধ্যে পার্থক্য কি? পার্থক্য হল আপনি নিজে কাউকে মারেননি, বা মারতে চাননি।

    আপনি যে কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো আপেক্ষিক। বস্তু নিরপেক্ষ নয়। মূলতঃ দর্শন আমাদেরকে দুই দলে বিভাজিত করে ফেলেছে। একদল বিশ্বাস রাখেন সবার উপরে ইসলাম সত্য তার উপরে আর কিছু নাই, আর একদল যারা ইসলামকে শুধু ব্যক্তিগত বিষয় ভাবেন, তারা মানবতার বুলি আওড়ালেও ক্ষুদ্র আঞ্চলিক চেতনাকে তীব্র ভাবে লালন করেন।  মানুষের মাঝে খুব কম মানুষ পাওয়া যায় যিনি স্থান কালের বিরোদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন। মানুষের অভ্যাস হলো সমসাময়িক লাভা লাভ যেদিকে পাওয়া যায় সেদিকে লাইন ধরতে।

    আমি নিজে পরিপূর্ণ ইসলামকে ধারণ করতে অক্ষম কিন্তু তারপরও চাই সকল কিছুর উপর ইসলাম জয় লাভ করুন। কিংবা ইসলাম যাতে জয় লাভ করতে সে পথ মসৃণ করতে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাওয়া। অন্য দল মনে করেন ইসলাম দ্বারা একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা, দেশের সকল মানুষ সামাজিক, রাজনীতিক এবং বিশ্বাসগত ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে, কাজেই ধর্মকে ব্যক্তিপর্যায়ে রেখে দিয়ে জাতীয়তার মাধ্যমে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করে যান।

    কাজেই এই দুই পথের পথিকের কাছে মজলুম আর জালিমের সংজ্ঞা ভিন্ন হতে বাধ্য।  আর আপনি রাজাকারের প্রতিশব্দ হত্যাকারী বলে চিহ্নিত করেছেন, যা ঐতিহাসিক ভাবে ঠিক নয়। রাজাকারের প্রতিশব্দ হবে পাকিস্তান অখণ্ড রাখার পক্ষের সহযোগী বাহিনী। পাকিস্তান রক্ষার জন্য এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল।এই বাহিনীর সবাই মানুষ খুন করেনি। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ হলে বা বিজয়ী বাহিনীর কাছে পরাজিত বাহিনী আত্মসমর্পন করলে তাকে নিরাপত্তা দিতে হয়, বিচারের মাধ্যমে শাস্তি বা মুক্তি দিতে হয়, কিন্তু এদের কপালে তা ঘটেনি যারা আত্মসমর্পন বা বন্দি হয়েছিল যুদ্ধের পর পর বেশি করে এরাই খুন হয়েছেন । যে ইতিহাস তামাদী হয়ে পড়ে আছে। পরিশেষে আমি বলব আমি যে চেতনা ধারণ করি তা হচ্ছে -- প্রানী জগতের মানব জাতী নামক গোত্রে জন্ম লাভ করলেও আমি মুসলিম পরিবারে জন্ম নেবার কারণে আমি  মুসলিম মতে মাতৃগর্ভে ভ্রুণ হয়ে ছিলাম। আমাকে গর্ভে ধারণ করে আমার মা ইসলাম মতে নামাজ রোজা পালন করে গেছেন, জন্মের পর মুসলিম মতে আমার দুই কানে আজান শুনিয়েছেন, মুসলিম মতে মুখে মধু তোলে দেয়া হয়েছিলো, মুসলিম মতে নাম রাখা আকিকা করা হয়েছিলো, জ্ঞান হবার পর থেকে ঘরে মুসলিম আবহের মধ্যে বড় হয়ে উঠেছি, আশাকরি মুসলিম মত আমি কলেমা পড়ে পড়ে মারা যাবো, মারা যাবার সময় আমার কানে অন্যরা মুসলিম মত দোয়া কালাম পড়ে শুনাবেন। মুসলিম মত কবর দিবেন, মৃত্যুর পরবর্তি কাজ সমূহ মুসলিম মত হবে, আলে আওলাদ গণের যখন আমার কথা মনে হবে তখন তারা মুসলিম মতো আমার জন্য দোয়া কালাম দান খয়রাত করে যাবেন।

    উপরের যে চিত্র সেখানে এ টু জেড সব হচ্ছে মুসলিম মতো, বাংগালিত্ব মতো কিছু করার অবকাশ নাই। কাজেই আমার চেতনায় মুসলিম ইসলাম, মুসলিম মিল্লাত ইত্যাদি অমনিতে এসে যাবে। যাতে ব্রেক করার মত আমার কোন ক্ষমতা নাই।

     

    যাক যে কথাটি বলতে চাই, আমি চাই বিচার হোক, এমন ভাবে যাতে করে কেউ এই বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না তোলতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বোধহয় কখনও নিরপেক্ষ বিচার করা সম্ভব হবেনা। কোন পক্ষ না পক্ষ প্রশ্ন তোলবেই তোলবে। শেখ হাসিনা বলছেন যে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে এই বিচারের দরকার ছিলো। আমিও জাতীর ঐক্যের প্রয়োজনে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে রাজী আছি। আমার ভাবনা এই ৩০ লাখ মানুষ তো স্বাধীনতার বেদীমূলে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন, এখন জাতীর ঐক্যের জন্য না হয় আরো গোটা ২০ এক লোকের প্রাণ বিসর্জন হয়ে গেলো। যারা আপন জন হারিয়েছিলেন তারা তো সান্তনা পাবেন। ধন্যবাদ।

  3. 4
    জাকির

    “আপনি নিজেই মজলুমদের পাশে দাড়ান না। বরং জালিমের পাশে দাড়ান যদি জালিম আপনার মতের সমর্থক হয়। তাহলে আপনি আর ৭১ এর ততকালীন রাজাকারদের মধ্যে পার্থক্য কি? পার্থক্য হল আপনি নিজে কাউকে মারেননি, বা মারতে চাননি।“ফুয়াদ দীনহীন

    আপনি এই সদালাপের অনেক নিরপেক্ষ পাঠকের মনের কথা বলেছেন। উনি (জিয়া সাহেব) একটি নির্দিষ্ট মতের মানুষ হলেও- সব চেয়ে মজার বিষয়- উনি সেটা অস্বীকার করেন। সবাই বুঝছেন উনি কোন মতের- একমাত্র ঊনি ছাড়া!

    1. 4.1
      রায়হান

      সেই নির্দিষ্ট মত টা কি?

      1. 4.1.1
        জাকির

        আপনি জিয়া সাহেবের এক যুগ ধরে রাজনৈতিক লিখাগুলো পড়েননি বলেই মনে হচ্ছে। আপনি বিবর্তনের জটিল বিষয় বুঝেন-আর জিয়া সাহেব কোন মতের তা বুঝতে পারবেন না উনার লিখা পড়ে- এটা মিলাতে পারছি না। পড়লেই বুঝতে পারবেন আমি কোন মতের কথা বলছি।

        1. 4.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          আপনার এই মহা আবিষ্কারের জন্যে ধন্যবাদ। জিয়া সাহেব কোন মতের তার উপরে কি যুদ্ধাপরাধীদের অপকর্ম আর অপরাধের মাত্রার তারতম্য হচ্ছে না কি? 

          আসল কথায় আসুন। যদি পারেন যুদ্ধাপরাধীরা ৭১ সালে কি করেছে তার বিষয়ে দলিলপত্র সমেত লিখুন। জিয়া সাহেবের দল নির্নয় করে অপরাধীর অপরাধ হালকা হবে না -- এই সোজা বুঝে থাকুন। 

           

          ধন্যবাদ। 

  4. 3
    এস. এম. রায়হান

    রায় তো হয়ে গেছে দেখলাম-

    বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী মুঈন ও আশরাফের ফাঁসির আদেশ

  5. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করা সম্ভব। এই বিষয়ে একটা উদাহরন হলো লেবাননের আবু কাতাদা। সে বৃটিশ নাগরিক হওয়ার সত্ত্বেও তাকে লেবাননে ফেরত পাঠানো হয়েছিলো -- তবে সেই প্রক্রিয়ায় ৭ বছর সময় আর ১.৪ মিলিয়ণ পাউন্ড খরচ হয়েছিলো। প্রশ্ন হলো এই ধরনের বিপুল অর্থ খরচ করতে রাজী কি না বাংলাদেশ। 

     

    দ্বিতীয় প্রসংগ হলো আপনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন -- তার জন্যে ধন্যবাদ। 

    আমি হেফাযতের আন্দোলন শুরুতেই বলেছি এই ইসলাম আমার না। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্যে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে গিয়ে দেশে যখন জামাত-শিবির অনসৃষ্টি করছিলো গত বছরের নভেম্বর থেকেই সে সময় হেফাযত ইসলামের হেফাযতের নামে সেই বিশৃংখলায় যোগ দিয়ে সরকার এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। এরা ওয়াদা ভংগ করে মতিঝিল দখল করে একটা বৈধ সরকারে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশকে বিশৃংখলতার দিকে টেনে নিয়ে যেতে চাইছিলো। হেফাযতের পিছনে সরকার বিরোধী একটা চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হেফাযত ইসলামে হেফাযতে নামে ১৩ দফার বিষয়ে নিজেরাই পরিষ্কার না। প্রথম দফাই কোরান বিরোধী। এই অবস্থায় হেফাযতকে যদি আপনি মজলুম বিবেচনা করেন -- তা হলে আমি আপনার সাথে একমত না। হেফাযত ভোটের পরে ১৩ দফা ভুলে যাবে -- শুধু ভোট পর্যণ্ত এরা সক্রিয় থাকবে -- পরে হেফাযতের কিছু নেতা ক্ষমতার কিছু ভাগ পাবে। আর পাঁচ বছর বিএনপি জামাত যাই করুন সবই ইসলাম সন্মত বিবেচনায় এরা শীতনিদ্রা নেবে। যখনই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসবে তখনই এই চক্র আবার অন্য নামে সক্রিয় হবে। পাক-ভারত উপমহাদেশে বিগত ৬ দশক ধরেই এই খেলা চলছে। 

     

    রাজনীতির ফাঁদে পরে প্রতারিত মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের জন্যে আমার সমবেদনার কমতি নেই  -- কিন্তু ৭১ এর মজলুমদের সম পর্যায়ে বিবেচনা করার মতো কোন ঘটনা এ্‌ইটা না। 

     

    যাই হোক -- আমার অনুরোধ -- আমি ভুল করতে পারি -- কিন্তু আপনারা ভুল করবেন না। ৭১ এর মজলুমদের সাথে রাজনীতি মিশিয়ে অন্যায় সহ্য করবেন না। হেফাযতের কারনে যদি একটাও যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পায় -- তার দায় হেফাযতের উপরই বর্তাবে। 

     

    ধন্যবাদ। 

    1. 2.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,

      রায় কার্যকর করা অনেক কঠিন, সে ইংল্যান্ডে ভাল অবস্থানে আছে। কার্যকর হোক বা না হোক রায়টাই বড় পাওয়া। একটা ইতিহাস এবং আমরা এই ইতিহাসের সাক্ষী। যদি ৭১ এর মজলুমদের সাথে থাকি, তাহলে তারাও যেন প্রতিশোধ স্পৃহায় নিজেরাও জালিম না হয়ে উঠে সেটা দেখার দায়িত্বও আমাদের। যেকোন অবস্থায় আল্লাহ পাকের নামে ন্যায় বিচারের সাথে আছি, ন্যায় বিচার ছাড়া ধর্ম হয় না। 

       

      রাজনিতি বড় জটিল বিষয়, যা খুব সরলীকরন যদি বেঠিক সিদ্ধান্তে নিয়ে আসে তাহলে তা ভুল। আপনার ভাল যোগ্যতা হল প্রতিপক্ষ যেইহোক, বাক্য দিয়ে আক্রমন করতে পারেন। কিন্তু আপনার আক্রমনের মাত্রা যতটুকু ততটুকু আক্রমন তার প্রাপ্য কি না সেটা আপনার বিবেচনার দৃষ্টির বাহিরে থেকে, বরং বাক্য কিভাবে শক্ত করা যায় সেদিকেই লক্ষ্য থাকে। এতে করে আপনার বক্তব্য এক পেশে হয়ে যায়। 

       

      মজলুম এবং জালিমের মধ্যে একটা পরিষ্কার লাইন টানা থাকা উচিত। না হলে ভুল সিদ্ধান্ত বার বা ঘুরে ঘুরে আসবে। বাস্তবতার নিরিখে পাকিস্থান আর্মির অহংকার বালির বাধের মত ভেংগে গিয়েছিল এই মজলুমদের আর্তনাদের কারনেই। তাদের সাথী রাজাকারাও তাদের সাথেই হেরেছে। রাজাকাররা হেরে গেছে, এই হারই তাদের বড় বিচার। এখন স্পেসিফিক্যালি যেসব খুন বা ধর্ষন হয়েছে সেগুলোর বাদি পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি হওয়া বাকি। কিন্তু রাজাকার এস আ হোলের শাস্তি হয়ে গেছে, আর মাফ করে দেওয়াও এক প্রকার শাস্তি। রায় কার্যকর না হলেও রায়ু রায়ই, ইতিহাসে লেখা থাকবে এই অপরাধে তাকে মৃত্যু দন্ড দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতার জোড়ে বেচে গিয়েছিল।  

       

      আমার বক্তব্য সহজ ভাবে নেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ। যা বলার নির্ভয়ে বলে যান, হয়ত দুই বক্তব্যের ফিকশনে কোন বক্তব্য জয়ী হয়ে অথবা অন্য অর্থের আসল কথা বের হয়ে আসবে।

  6. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    চৌধুরি মঈনুউদ্দিনের বিরুদ্ধে শুধু রায় সম্ভব, রায় কার্যকর করা সম্ভব নয়, কারণ সে অন্য দেশের নাগরিক। তবুও রায়টা পাওয়া যাবে। চৌধুরি মঈনউদ্দিনরা যে অপরাধ করেছে, সে অপরাধের বিচার ধরার বুকে না হলেও এক সময় না এক সময় হবেই। 

    যদি কোন অপরাধী ৭১ এ নিজের অপরাধ আদালতে স্বীকার করত, তাহলে তা ইতিহাস হয়ে থাকত। কিন্তু এই ইতিহাস আমাদের দেখা হল না।

    আসুন সবাই দল মত পথকে সরিয়ে রেখে মানবতার দাবী আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবীতে মজলুমদের পাশে দাড়াই-আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনি নিজেই মজলুমদের পাশে দাড়ান না। বরং জালিমের পাশে দাড়ান যদি জালিম আপনার মতের সমর্থক হয়। তাহলে আপনি আর ৭১ এর ততকালীন রাজাকারদের মধ্যে পার্থক্য কি? পার্থক্য হল আপনি নিজে কাউকে মারেননি, বা মারতে চাননি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.