«

»

Dec ১৫

কাদের মোল্লার ইসলামী চিন্তাবিদ হয়ে উঠার একটা ছোট্ট ঘটনা

সময়ের অভাবে অনেক কথাই বলতে পারি না। কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়ে গেলো। অনেকেই জানতে চেয়েছেন আমার অনুভুতি কি – আমি বলছি – এই ফাঁসিটা যদি না হতো ভাল হতো। যদি ৭১ এর পর জামাত তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতো – যদি জামাত যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িতদের নেতৃত্ব না দিয়ে ভাল মানুষকে নেতৃ্ত্বে আনতো – তাহলে হয়তো আজ কাদের মোল্লা একজন রাজাকার হিসাবে স্বাভাবিক মৃত্যুবরন করতো। কিন্তু জামাতের ৭১ এর ভূমিকা আর তাদের উদ্ধত মনোভাব তাদেরকে গনশত্রুতে পরিনত করেছে। লক্ষ্য করে দেখবেন – ৫ বছর বিএনপির পার্টনার হিসাবে ক্ষমতায় থাকার সময় জামাত ইসলামের জন্যে একটা কাজও করেনি – এমনকি জামাতের নেতার মন্ত্রনালয় সমাজকল্যায় মন্ত্রনালয় থেকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেওয়াও বন্ধ হয়নি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীরে রক্ষার জন্যে এরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে – যা বিগত চল্লিশ বছর ধরে ওরা সঞ্চয় করেছে। এরা মুলত যুদ্ধাপরাধী দল এবং যুদ্ধাপরাধীদের দল। 

 

যাই্ হোক – যে ঘটনা বলতে আজ লেখা তাই বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে এক রাতে হলে ঢুকতেই করিডোরে দেখলাম একটা পোস্টার লাগানো। র্ব্ষিক মিলাদ মাহফিল হবে কিছুদিন পরে – তার প্রধান অতিথি "বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ" আব্দুল কাদের মোল্লা। সেইটা ১৯৮৭ সালের কথা। দেশে প্রবল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে – জামাতও সেই আন্দোলনে আছে। আর সুযোগমতো নিজেদের ইসলামী চিন্তাবিদ বানাচ্ছে। সোজা গেলাম প্রভোস্টে রুমে – প্রভোস্ট ছিলেন না – ছিলেন এসিস্টেন্ট প্রভোস্ট জাফরিন স্যার। জানতে চাইলাম – স্যার, কাদের মোল্লাকে কে প্রধান অতিথি বানিয়েছে? স্যারের উল্‌টা প্রশ্ন – সমস্যা কি, উনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ। আমি জানতে চাইলাম – ্কাদের মোল্লা সম্পর্কে স্যার কতটুকু জানে। মুলত আমি বুঝতে চাইছিলাম স্যার জামাতের প্রতি কতটা সফট। উনি বললেন – আসলে উনি কাদের মোল্লাকে চিনেন না বা জানেন না। আরেক এসিস্টেট প্রভোস্ট ড. আমিনুল হক কাদের মোল্লার নাম বলেছে এবং মিলাদ কমিটি তা গ্রহন করেছে। মিলাদ কমিটির সদস্যদেন তালিকা চাইলাম –  উনি যা দেখালেন তাতে সন্দেহ কেঁটে গেলো। যদি জামাত মিলাদ সমর্থন করে না – কিন্তু দেখলাম মিলাদ কমিটির কনভেনর হলো আরেক যুদ্ধাপরাধী মাওলানা এ কে এম ইউসুফের ছেলে – (মাওলানা ইউসুফ হলেন রাজাকার বাহিনী প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন)। 

আমি জাফরিন স্যারকে বললাম – স্যার, কাদের মোল্লা হলেন একজন রাজাকার – মীরপুরে গনহত্যার সাথে জড়িত – তাকে প্রধান অতিথি করলে সমস্যা হবে। স্যার বললেন – রাত হয়ে গেছে – কাল দেখবো। 

 

রাতে হলে মিটিংএ বসলাম – সমস্যা হলো বেশীর ভাগ ছেলে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে চায় না। কেউ কেই বললো – সমস্যা কি – মিলাদের সিন্নি ভাল হলেই হলো। শুধু একটা ফাস্ট ইয়ারের ছেলে প্রবলভাবে প্রতিবাদে শরিক হলো – কারন কাদের মোল্লাকে ওরা পারিবারিক ভাবে চেনে এবং তার এক আপনজন কাদের মোল্লার গ্রুপের হাতে নিহত হয়েছিলো বলেই ও সহ্য করতে পারছিলো না। সেই ক্যাটালিন্ট হিসাবে কাজ করলো – রাতে হলে মিছিল করলাম। কিছুক্ষন পর ছাত্রদল-শিবির মিলে মিছিল করলো – ওরা আমাদের রুশভারতের দালাল, ইসলাম বিরোধী (নাস্তিক শব্দটা তখন চালু থাকলে তাই বলতো হয়তো) ইত্যাদি বলে আমাদের ইসলাম বিরোধী হিসাবে শাস্তির দাবী করলো। 

 

পরের দিন বিষয়টা পুরো ভার্সিটিতে ছড়িয়ে গেলো। দুপুরে একটা বড় মিছিল হলো ক্যাফেটেরিয়া থেকে পুরো ক্যাম্পসে – অধিকাংশ ছাত্র জানতো না কাদের মোল্লা সম্পর্কে। আমরা একটা লিফলেট বের করলাম -তাতে কাদের মোল্লার ইতিহাসের কিছু বর্ননা ছিলো। এতে সবচেয়ে বেশী প্রতিবাদী হতে দেখলাম সাধারন মেয়েদের – যারা কোন দলের মিছিলে আসতো না তারাও এলো। 

 

দুপুরের খাবার খেতে হলে এসে দেখলাম – পোস্টার পরিবর্তন করা হয়েছে – বিশ্ববিদ্যালয় কেন্ত্রীয় মসজিদের ইমাম সাহেবকে প্রধান অতিথি করা হয়েছ। 

 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মাঝে আমরা ভুলে যাই আমাদের অতীতকে – কিন্তু পরাজিরা ভুলে না। এরা এক ইঞ্চি এক ইঞ্চি করে জমি দখল করে – বিশেষ করে জামাত ইসলামের ঢালকে সামনে নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ধীরে ধীরে এগিয়েছে – এখন বিচারে পর বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরা মুলত আমাদের অজ্ঞতা এবং জানার অনীহাকে কাজে লাগিয়েছে। আমরা দেখেছি গোলাম আযম পাকিস্তানী পাসপোর্টে দেশে এসে জনতার মাঝে মিশতে চাইলে বাইতুল মোকাররমে প্রকাশ্যে জুতাপেটার স্বাদ পেয়েছে – তারও তাকে জননেতা হিসাবে মঞ্চে উঠিয়েছে একটা বড় দল। দুর্ভাগ্যা আমাদের – আমরা আমাদের নিজেদের গৌরবের ইতিহাসকে নিজেরাই বিতর্কিত করি। কাদের মোল্লা দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়ার সকল সুবিধা নেওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিচার মেনেই তারা সকল প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে – বিচারকে প্রভাবিত করার সকল পথই চেষ্টা করার পর পরাজিত হয়েছে। এখন নতুন করে বিতর্ক তৈরীর চেষ্টা করা মুলত বাংলাদেশের আইন এবং বিচারকে হেয় করা। এ্‌ইটা করার সুযোগ পাচ্ছে আমাদের অজ্ঞতার সুযোগে। যারা আজ বিচারের সন্মুখিন – তাদের সম্পর্কে যদি আমরা যথেষ্ট না জানি তবে আমাদেরকে জামাতের প্রপাগান্ডাকেই সত্য মনে হবে – যা সত্যই লজ্জার এবং দুঃখের বটে। 

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 5
    Kader Molla

    জনাব আবু সাইদ জিয়াউদ্দীন, আপনি কি ব্যস্ত? খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট নিয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম।

    কাদের মোল্লার কাজকর্ম নিয়ে ১৯৮০ সালের দিকে একটা প্রকাশনায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। ঘাতক দালালরা কে কোথায় নামের এই বইটাতে কাদের মোল্লাকে সুনির্দিষ্ট ভাবে আলেকদি গ্রামের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়।

    আপনি কি জেনেশুনে মিথ্যা বলেছিলেন?

    এই বইটা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে (ফাল্গুন, ১৩৯৩)। ১৯৮০ সালে তা কাদের মোল্লাকে নিয়ে কিভাবে লেখল?

    আমার তো সন্দেহ হচ্ছে, এই বইতে কাদের মোল্লাকে সুনির্দিষ্টভাবে আলেকদি গ্রামের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত হিসাবে অভিযুক্ত করা হয় বলে যে আপনি বলেছেন, সেইটাও "ভুল" লিখেছেন (অথবা, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায়না যে আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবেই জেনেশুনে মিথ্যা বলেছেন)। আমাকে অনুগ্রহ করে পৃষ্ঠা নাম্বার বলেন। এই বইয়ের কোন পৃষ্ঠায় আছে কাদের মোল্লা সম্পর্কিত কথাবলী?

    সেই সময়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রায়ও এই বিষয়ে প্রতিবেদন আসে।

    আপনার রেফারেন্সিং কত সচেতনভাবে দিচ্ছেন, হাল্কা জানা হয়েছে। অনুগ্রহ করে স্পেসিফিকালি বলেন, বিচিত্রার কোন সালের কত সংখ্যা?

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আরে ভাই! যদি উনার কাছে জবাব থাকতো তাহলে এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হতোনা।

  2. 4
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    বাজারে মুসল্লি এখন দুই রকম: বাআল আর জামাতী।

    বাআল: এরা সেক্যুলার, নাস্তিক, ধর্ম নিরপেক্ষ, মডারেট। এদের দলে আছে বাবার দল, মক্ষু, আক্কু, মুরগী, ধুরেরা। এদেরকে সমর্থন না করলে রাজাকার, ছাগু।

     

    জামাতী: এরা যদিও নামাজ কালাম পড়ে তবুও গণহত্যার সাথে জড়িত। এদেরকে সমর্থন না করলে নাস্তিক, ধর্ম বিদ্বেষী।

     

    রং না, মতামত দেখে যায় চেনা।

    ব্যপক মজা। ব্যপক বিনুদুন।

     

    আসল মুসলিমরা নিরবে কাঁদে।

  3. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    কাদের মোল্লার কাজকর্ম নিয়ে ১৯৮০ সালের দিকে একটা প্রকাশনায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। ঘাতক দালালরা কে কোথায় নামের এই বইটাতে কাদের মোল্লাকে সুনির্দিষ্ট ভাবে আলেকদি গ্রামের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রায়ও এই বিষয়ে প্রতিবেদন আসে। আহ ২০১৩ সাল। বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রমানিত হয়েছে কাদের মোল্লা আলেকদি গ্রামের ম্যাসাকারের সাথে জড়িত, পল্লব হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত -- এখন যারা এই কাদের সেই কাদের না বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন তারা এতো বছর কোথায় ছিলেন?

    অন্যদিকে আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধাদের বিষয়ে বিসোদ্গারের দিক দিয়ে কাদের মোল্লা সবচেয়ে আগিয়ে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নারী লোভী, লুটেরা, ডাকাত ইত্যাদি বলে উনি কৎসা করতেন প্রকাশ্য। সর্বশেষ ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে বিচারের কাঠগড়ায় দাড়িয়েও -- বলেছেন -- বাংলাদেশ হয়েছে বলে মাদবরী করতে পারছো (বাংলাদেশ না হলে কি করতেন উনি তা সহজেই অনুমেয়)। 

     

    কাদের মোল্লার সাজা কার্যকর করায় পাকিস্তানের বিশেষ করে পাকিস্তানের জামাতের প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্যনীয়। 

    1. 3.1
      Kader Molla

      জনাব আবু সাইদ জিয়াউদ্দীন

      কাদের মোল্লার কাজকর্ম নিয়ে ১৯৮০ সালের দিকে একটা প্রকাশনায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। ঘাতক দালালরা কে কোথায় নামের এই বইটাতে কাদের মোল্লাকে সুনির্দিষ্ট ভাবে আলেকদি গ্রামের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়।

      এই বইটা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে (ফাল্গুন, ১৩৯৩)। ১৯৮০ সালে তা কাদের মোল্লাকে নিয়ে কিভাবে লেখল?

      সন্দেহ হচ্ছে, এইটাও "ভুল" লিখেছেন। আমাকে পৃষ্টা নাম্বার বলেন। এই বইয়ের কোন পৃষ্ঠায় আছে কাদের মোল্লা সম্পর্কিত কথাবলী?

       

      সেই সময়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রায়ও এই বিষয়ে প্রতিবেদন আসে।

      আপনার রেফারেন্সিং কত সচেতনভাবে দিচ্ছেন, হাল্কা জানা হয়েছে। অনুগ্রহ করে স্পেসিফিকালি বলেন, বিচিত্রার কোন সালের কত সংখ্যা?

  4. 2
    আহমেদ শরীফ

    অসংখ্য মন খারাপ করা খবরের মাঝে হঠাৎ এক ঝলক সুবাতাস বুক ভরে টেনে নেয়ার মত মনটা ভাল হয়ে গেল এই খবরটা পড়ে। এটি সত্য মিথ্যা যাই হোক বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়। কেন এই সভ্যতা আজ অনতিক্রম্য ব্যবধানে ?

     

    নাটোরের লালপুর উপজেলায় বিএনপি’র মধ্যস্থতায় আওয়ামী লীগ -জামায়াতের ইসলামীর ব্যতিক্রমধর্মী সমঝোতা বৈঠক থানা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টারের মধ্যস্থতায় রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত্ম লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্টিত হয় । তিনঘন্টা ব্যাপি চলা এ বৈঠকে স্বিদ্ধান্ত্ম হয় আজকের পর থেকে সারা দেশে যাই হোক না কেন লালপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-জামায়াত ভাই ভাই এর মতো বসবাস করবো । স্ব স্ব দলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করার পাশাপাশি কোন প্রকার অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করে দুটি দল । এছাড়া রাস্তা অবরোধ, সরকারী গাছকাটা এবং সহিংস ঘটনা থেকে বিরত থেকে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে স্ব স্ব দল কর্মসূচি পালন করবে বলে অংগীকার করে । জামায়াত- আওয়ামী লীগের সমঝোতা বৈঠকের বিষয়টি লালপুর উপজেলায় টক অব দি টাউনে পরিণত হয় । বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন ঝুলফু , আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডঃ ইমরান হোসেন , তায়েজ আলী এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে সূরা সদস্য অধ্যাপক তাসনীম আলমের প্রতিনিধি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব, উপজেলা জামায়াতে আমীর মজিবর রহমান, সেক্রেটারী আবুল কালাম, ছাত্র শিবির সভাপতি হামিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন । বৈঠকে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিরুল ইসলাম, লালপুর থানার ও,সি মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন । উলেখ্য গত ১২ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী কাদের মোল্লার ফাসির প্রতিবাদে জামায়াত নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে উপজেলার বিলমাড়িয়া বাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জামায়াত কর্মীদের মারপিট করে । এ ঘটনা কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মীরা বিলমাড়িয়া চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিন্টু ’র বাসভবন দুইদিন ধরে ঘেরাও করে রাখে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও বাসভবনে ভাঙ্চুর করেন। এ সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ জামায়াতের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় । এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করে । এ ব্যাপারে লালপুর-বাগাতীপাড়া থেকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, এলাকায় শান্তিশৃংখলা রক্ষার্থে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ৫ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে আমি সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করি কিন্তু আমি বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম না ।

     

     

    খবরের লিংক

     

    1. 2.1
      মজলুম

      সামুতে যখন ব্লগিং করতাম তখন জামাতিদের বিরুদ্বে তথ্যপূর্ন ও যুক্তিতে দেওয়া পোষ্ট দেওয়া হলে ওরা এদিক সেদিক করে অফটপিক কিছু প্রশ্ন বা নিউজ লিংক দিয়ে চম্পট। তথ্যখন্ডন ও যুক্তিখন্ডনের কাছে ধারে না গিয়ে অফটপিকে কিছু দিয়ে দূরে গিয়ে মুচকে হাসা আর ভাবা আমি কি হনুরে!!!

      এটা সদালাফেও দেখতে হলো।

    2. 2.2
      আহমেদ শরীফ

      আমি জামাত-লীগ-বিম্পি কোনটাই না কারো ধারও ধারি না। সাধারণ আমজনতা হিসেবে শান্তি চাই। এত তত্ত্ব-যুক্তি-চেতনা আমার দরকার নাই। স্বাধীন দেশে শান্তিতে বাঁচতে চাই শুধু। দেশে আর বিভক্তি চাই না।

  5. 1
    শাহবাজ নজরুল

    আমিও আশির দশকের শেষভাগ থেকেই শুনে এসেছি মিরপুরের কসাই কাদেরের কথা -- আর জামাতের কাদের মোল্লাই সেই কসাই কাদের। এই ধারনা তখন থেকেই বাজারে চালু ছিল। আমার প্রশ্ন কাদের মোল্লা কেন তখন থেকেই এই প্রচলিত ধারণার প্রতিবাদ করেনি -- কেন বলেনি যে আমার উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে -- আর তিনি সেই কসাই কাদের নন?

    যারা বলতে চান যে কসাই কাদের আর কাদের মোল্লা এক ব্যক্তি নন তাদের কাছে আমি খুব সহজ একটা প্রশ্ন রেখেছিলাম। তিনি যদি সেই কসাই কাদের না হন তাহলে আসল কসাই কাদের কে? উনি এখন কোথায় আছেন? এই প্রশ্নটি খুব সহজ -- কিন্তু উত্তরটা দেয়া খুবই কঠিন -- বিশেষত তাদের পক্ষে যাদের মনে সত্যকে খুঁজে পাবার চেয়ে দলকানা অবস্থানটা বড়।

    1. 1.1
      জুবেরী

      নিচের রিপোর্ট পড়ে মনে হচ্ছে- কসাই কাদের বিহারী ছিল। রিপোর্টারের ইমেল থাকলে সোর্স জিজ্ঞেস করা যেত। আপনি শুনেছেন- এই কাদের মোল্লাই সেই কসাই কাদের। আপনার শুনার সোর্স কি?

      http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/12/15/228569

      কাদের মোল্লা ডিফেন্ড করলেই কি মুক্তি পেত বলে মনে করেন? সাঈদী সংসদে স্বয়ং হাসিনার সামনে চ্যালেঞ্জ করেও কি মুক্তি পেয়েছে? নিচের ভিডিওটি দেখুন।

      https://www.youtube.com/watch?v=tJD-hhYOyqU

      আমার প্রশ্ন-কসাই খ্যাত একজন কুখ্যাত রাজাকার কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পাশ করলো, উদয়ন স্কুলে চাকরি পেল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ পেল, রাইফেল কলেজে সহ-অধ্যক্ষ পদে অধিস্ট হল, প্রেসক্লাবে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হল, একটা মামলা করতেও কেউ কি এগিয়ে এসেছিল? শুনেছি, আমাদের গ্রামের একজন সাধারন রাজাকারকেও মেরে ফেলা হয়েছিল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে- যদিও সে খুন, ধর্ষণ জাতিও তেমন কোন অপরাধ করেনি-বরঞ্চ অনেক পরিবারকে রক্ষা করেছিল। কিন্তু কসাই কাদের কিভাবে রক্ষা পেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা তার আশে পাশে থেকে?

      1. 1.1.1
        মজলুম

        একটা মিথ্যাকে বারবার প্রচার করার মাঝে অনেক শক্তি নিহিত। এই মিথ্যাটা বারবার প্রচার হওয়ার ফলে মিথ্যাটা কনসাচ মাইনড বা চেতন মন হতে ধীরে ধীরে অবচেতন মনে বা সাবকনসাচ মাইন্ডে প্রোথিত হয়।  সাবকনসাচ মাইন্ডে মিথ্যাটা গেথে গেলে ওটাকেই সত্য মনে হয়। সাবকনসাচ মাইন্ড কখনোই সত্য মিথ্যার পার্থক্য করতে পারেনা, সে ভালো বা খারাপের পার্থক্যও করতে পারে না। কনসাচ মাইন্ড তাকে বারবার যেই জিনিসটা শুনিয়েছে সেটাই সাবকনসাচ মাইন্ড গ্রহন করে নিয়েছে।  এই সাবকনসাচ মাইন্ড এতই শক্তিশালী যে আমাদের চিন্তা চেতনা এবং মনের ৯৬% এর ও বেশী এই সাবকনসাচ মাইন্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

        তাই একটা মিথ্যা বারবার প্রচারে ওটাকেই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় বা অনেক মানুষকে কনফিউশনে ফেলে দেওয়া যায়।

        কাদের মোল্লা কসাই কাদের নয়- এই প্রচারণা কাদের মোল্লার বিচার চলাকালীন সময় থেকে চালানো হচ্ছে। ঠিক যেমন ভাবে প্রচার চালানো হয়েছিলো দেলোয়ার হোসেন সাঈদি “দেইল্লা রাজাকার” নয়। এই প্রসঙ্গে কাদের মোল্লার সহপাঠী বর্তমানে ক্যানাডা প্রবাসী মোজাম্মেল এইচ খান দুইটি লেখা লেখেন। প্রথম টি ডেইলি স্টারে ৯ ই ফেব্রুয়ারী “অ্যা শকিং ভারডিক্ট” শিরোনামে,যেখানে তিনি বলেন, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং আলি আহসান মুজাহিদ দুজনেই তাঁর সহপাঠী ছিলেন। এর আগেও যখন আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বাংলাদেশের মন্ত্রী হন তখন তিনি ডেইলি স্টার ২০০৪ সালের ৪ ঠা মার্চ একটি ছোট লেখা লেখেন, । সেই সময়ে সঙ্গত কারণেই যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রসঙ্গ আসার কথা নয়। রাজাকার সহপাঠীর গাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা দেখে ক্ষোভের সঙ্গে মোজাম্মেল এইচ খান লিখেছিলেন, “I had two classmates in my hometown college; we were activist of the same student party (no Islamic Chattra Shangha at that time). Over the years, they changed their political belief and in 1971, we were on the opposite sides. As leaders of the infamous Badar-Bahini, they assisted the occupation forces in carrying out genocide on our people. One of them became a cabinet minister during the last BNP-led alliance government and flew the hard-earned green-red flag of my country whose creation he opposed tooth and nail. Had I been in Bangladesh, I would probably be bound by protocol to salute him. Would I be able to do that? This query is because he was instrumental in torturing and killing our people, while I was risking my life to save them at the most critical juncture of our nation.” 

         

        বাকিটুকু এখানে পড়ুন।

         

         

         

        1. 1.1.1.1
          জুবেরী

          মজলুম ভাই,

                 “একটা মিথ্যাকে বারবার প্রচার করার মাঝে অনেক শক্তি নিহিতএই মিথ্যাটা বারবার প্রচার হওয়ার ফলে মিথ্যাটা  কনসাচ মাইনড বা চেতন মন হতে ধীরে ধীরে অবচেতন মনে বা সাবকনসাচ মাইন্ডে প্রোথিত হয়  সাবকনসাচ মাইন্ডে মিথ্যাটা গেথে গেলে ওটাকেই সত্য মনে হয়সাবকনসাচ মাইন্ড কখনোই সত্য মিথ্যার পার্থক্য করতে পারেনা, সে ভালো বা খারাপের পার্থক্যও করতে পারে নাকনসাচ মাইন্ড তাকে বারবার যেই জিনিসটা শুনিয়েছে সেটাই সাবকনসাচ মাইন্ড গ্রহন করে নিয়েছে  এই সাবকনসাচ মাইন্ড এতই শক্তিশালী যে আমাদের চিন্তা চেতনা এবং মনের ৯৬% এর ও বেশী এই সাবকনসাচ মাইন্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়

          তাই একটা মিথ্যা বারবার প্রচারে ওটাকেই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় বা অনেক মানুষকে কনফিউশনে ফেলে দেওয়া যায়

          উপরের কথাগুলো কি আপনার নিজের গবেষনার ফলাফল? আপনি যখন নিশ্চিতভাবে ৯৬% এর কথা বলছেন-এমনকি বোল্ড করে হাইলাইট দিয়ে বলছেন- তখন নিশ্চয় ৯৬% সংখ্যাটা ডেটার মাধ্যমে গবেষনা করে পেয়েছেন-যার গুরুত্ব বোঝাতে বোল্ড করেছেন। আপনার নিজের গবেষনার ফল কিনা জানাবেন।

          আপনি কার “subconscious mind” এর কথা বলছেন? নিশ্চয় আপনার নিজের না। আমার “subconscious mind” এ মিথ্যা গেথে গেছে কিভাবে বুঝলেন? আমার কাছে মিথ্যা বারবার কেউ প্রচার করেছে কিনা-সেটাও আপনি কিভাবে জানলেন? আপনি তো দেখছি গায়েবী শক্তির অধিকারী!

          কাদের মোল্লাহ আর কসাই কাদের এক ব্যক্তি এ ব্যাপারে পুরাপুরি কিভাবে নিশ্চিত হলেন?

          আপনার দেওয়া লিঙ্ক পড়ে কোথাও পেলাম না যে, কাদের মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পাশ করেনি, উদয়ন স্কুলে চাকরি করেনি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ পায়নি, রাইফেল কলেজে সহ-অধ্যক্ষ পদে অধিস্ট হয়নি, প্রেসক্লাবে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়নি। সহপাঠী মোজাম্মেল সাহেব কি অস্বীকার করছেন উপরের বিষয়গুলো? ১৯৭৫ সালের আগস্ট পযন্ত দেশে বিশেষ আদালতে ১১ হাজার অপরাধীর যে বিচার চলছিলো-তাতে কি কাদের মোল্লাহ ছিল? কাদের মোল্লা যেহেতু কসাই ছিল-তার নামে খুনের অভিযোগে কতটি মামলা হয়েছিল? তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় কখন? মোমেনা বেগম,  বর্তমান সাক্ষী বা তার পক্ষে গ্রামবাসী বা যে কেউ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে খুনের মামলা করেছিল কি? একজন কসাই শেষ পযন্ত প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদেরও ফাকি দিল! কোন রিপোর্ট আছে কি সেই সময়ের?

      2. 1.1.2
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আমার প্রশ্ন-কসাই খ্যাত একজন কুখ্যাত রাজাকার কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পাশ করলো, উদয়ন স্কুলে চাকরি পেল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ পেল, রাইফেল কলেজে সহ-অধ্যক্ষ পদে অধিস্ট হল, প্রেসক্লাবে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হল, একটা মামলা করতেও কেউ কি এগিয়ে এসেছিল? 

         

        যেখানে আল-বদর বাহিনীর প্রধান দেশের মন্ত্রী হয়েছিলো সেখানে কাদের মোল্লা একটা স্কুলের শিক্ষক হয়েছে তাতে কি প্রমানিত হয়। তবে তার উদয়ন স্কুলে চাকুরীর গল্পটা মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। 

         

    2. 1.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      সরি শাহবাজ ভাই, আমার মনে হচ্ছে আপনাদের কথার মাঝে নাক গলানো ঠিক হচ্ছেনা, তারপরও বলছি- ভার্চুয়াল জগতে আমি আপনাদেরকে ইসলামী আন্দোলনের সহযোদ্ধা হিসাবে পেয়েছি, তাই নিজকে ধন্য মনে করছি, এক সাথে এই আন্দোলনে থেকে দেখতে পেয়েছি যে, আপনারা যারা বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলেন, লজিক নিয়ে কথা বলেন, তথ্য উপাত্ত্ব নিয়ে কথা বলেন, যুক্তি দেখান তারা রাজনীতির ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি ঐসবের ধার ধারছেন না!

      আপনার কাছে আমার প্রশ্ন- কসাই কাদের কোথায় সে প্রশ্নের জবাব না পাওয়া গেলেই যে কাদের মোল্লা কসাই কাদের হয়ে যাবে সে যুক্তি কোন তথ্য উপাত্ত্বের মধ্যে আসে?

      আপনার ৭১ এর ঘটনা সম্পর্কে এত জানেন কিন্তু এও কি জানেন না যে, দেশ স্বাধীনের পরপরও  বিনা বিচার বিনা আইনে অসংখ্য প্রো পাকিস্তানীদের হত্যা করা হয়েছিল? তাহলে সেই সময়ের ভুক্তভুগীদের পরিবার কসাই কাদেরের মত এক জল্লাদ কাদেরকে কেমন করে বাচিয়ে রেখে দিবে? সে দাবি কোন তথ্য আর তত্ত্বের যুক্তি আলোকে আসতে পারে।

      মানুষ যদি অপরাধী হয় তাহলে তার মৃত্যুর সময় তার মুখ বিকৃত হয়ে যায় কিন্তু কাদের মোল্লার ফাসির পর তার মুখের যে ছবি দেখেছি তাতে তো সে মুখে  বিকৃতি্র কোন চিহ্ন দেখতে পাইনি।

      শাহবাজ ভাই একবার ভাবুন ইয়াওমুল কিয়ামতের দিনের কথা! কাদের মোল্লা যদি সত্যি কসাই কাদের হয় তো তাহলে আপনি বেঁচে গেলেন, ইয়াওমুল কিয়ামতের দিন এই নিয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবেনা। আর যদি এই কাদের মোল্লা সে কসাই কাদের না হয়ে থাকে তাহলে তার নামে অপবাদ ছড়ানোর দায়ে আপনাকেই জবাব দিতে হবে, শুধু তাই নয়, যারা আপনার এইখানে এই স্বাক্ষী দেবার কারণে তারা আপনার কথা বিশ্বাস করে অন্যদের কাছে প্রচার করবে তার দায়ও আপনার উপর বর্তাবে।

      এই বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণনা করে আমার বক্তব্য শেষ করছি-

      "কারো মিথ্যাচারী হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ঠ যে, সে যা কিছু শোনে( সত্য মিথ্যা যাচাই ছাড়া) তাই বর্ণনা করে"। – সহীহ মুসলিমঃ১/৮,হাদিস ৫, সুনানে আবু দাউদঃ২/৬৮১, হাদিস ৪৯৮২।

      আমার উপরের কথাগুলোতে যদি আপনার মনে বিরূপ ক্রিয়া করে তাহলে আমার নিচের কবিতা পড়ে নিবেন- কারণ আমি জানি কোন ধরণের কথায় কি প্রতিক্রিয়া আসতে পারে!

      যখন তোমার মুখে মাটির গন্ধ থাকবে

      তখন ধানের শীষ তোমার বন্ধু  হবে।

      যখন তোমার মুখে প্রতিবাদ থাকবে

      তখন শৃঙ্খল তোমার বন্ধু হবে।

      যখন তোমার কথায় পাথর ঝরবে

      তখন ঝরণা তোমার বন্ধু হবে।

      যখন তোমার কথায় বিদ্রোহ থাকবে

      তখন ভূমিকম্প তোমার বন্ধু হবে।

      যখন তোমার কথায় তিক্ততা থাকবে

      তখন আশাবাদী’রা  তোমার বন্ধু হবে।

      যখন তোমার কথা মিষ্টি হবে

      তখন মাছিরা তোমার বন্ধু হবে।

      ধন্যবাদ।

      1. 1.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        আপনার কাছে আমার প্রশ্ন- কসাই কাদের কোথায় সে প্রশ্নের জবাব না পাওয়া গেলেই যে কাদের মোল্লা কসাই কাদের হয়ে যাবে সে যুক্তি কোন তথ্য উপাত্ত্বের মধ্যে আসে?

        আপনার ৭১ এর ঘটনা সম্পর্কে এত জানেন কিন্তু এও কি জানেন না যে, দেশ স্বাধীনের পরপরও  বিনা বিচার বিনা আইনে অসংখ্য প্রো পাকিস্তানীদের হত্যা করা হয়েছিল? তাহলে সেই সময়ের ভুক্তভুগীদের পরিবার কসাই কাদেরের মত এক জল্লাদ কাদেরকে কেমন করে বাচিয়ে রেখে দিবে? সে দাবি কোন তথ্য আর তত্ত্বের যুক্তি আলোকে আসতে পারে।

        এটাই সমাধান দেবে কেননা --

        ১। কসাই কাদের অতি পরিচিত নাম ছিল। তাই যদি স্বাধীনতার পরে তাকে মেরেও ফেলা হত তবে তার ইতিহাস লেখা থাকত। এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।
        ২। আমি বিশ্বাস করিনা যে এই বিশ্বে এটা প্রমান করা অসম্ভব যে মুনিম সিদ্দিকী আর শাহবাজ নজরুল আলাদা ব্যক্তি।
        ৩। আশির দশকের শেষভাগ থেকেই আমি এই অভিযোগ শুনে এসেছি -- এটা বাজারে প্রচলিত ছিল। কিন্তু কাদের মোল্লা নিজে কখনো সেই অভিযোগের প্রতিবাদ করেন নাই। আমি এটাকে tacit acceptance হিসেবেই দেখি।
        ৪। পক্ষান্তরে অন্তত ১০০ লোক পাওয়া যাবে যারা বলেছেন যে এই কাদের মোল্লাই সেই কসাই কাদের। এখন আমি কোন যুক্তিতে ওই ১০০ লোকের কথা ফেলে দিয়ে একজনের কথা বিশ্বাস করব?

        শাহবাজ ভাই একবার ভাবুন ইয়াওমুল কিয়ামতের দিনের কথা! কাদের মোল্লা যদি সত্যি কসাই কাদের হয় তো তাহলে আপনি বেঁচে গেলেন, ইয়াওমুল কিয়ামতের দিন এই নিয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবেনা। আর যদি এই কাদের মোল্লা সে কসাই কাদের না হয়ে থাকে তাহলে তার নামে অপবাদ ছড়ানোর দায়ে আপনাকেই জবাব দিতে হবে, শুধু তাই নয়, যারা আপনার এইখানে এই স্বাক্ষী দেবার কারণে তারা আপনার কথা বিশ্বাস করে অন্যদের কাছে প্রচার করবে তার দায়ও আপনার উপর বর্তাবে।

        ভাইজান, এখানে আমার জবাবদিহির কথা আসছে কেন -- আমি তো দেখা প্রমানের, তথ্যের ও উপাত্তের ভিত্তিতে কথা বলছি। সবকিছুই এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কসাই কাদেরই কাদের মোল্লা। আমি অপবাদ ছড়াচ্ছি কোথায়? আপনারা আমাকে কনক্লুসিভ প্রমান দেখান যে কসাই কাদের আলাদা ব্যক্তি -- তাহলে আমিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আমার মত পাল্টাবো। আমি যুক্তি দিয়ে চলার চেষ্টা করি। অনেকের মত দলকানা আমি নই। আর ইয়ামুল কিয়ামতে কেবল আমাকে জবাব দিতে হবেনা -- দিতে হবে অপনাকেও দিতে হবে কাদের মোল্লাকেও। আপনার কথা দিয়ে আপনাকেই প্রশ্ন করছি -- যদি তিনি আসলেই অপরাধী হয়ে থাকেন তাহলে কি আপনাকেও এই প্রশ্ন করা হবেনা যে কেন একজন অপরাধীর কথা তুমি জনে জনে ছড়িয়েছ? তবে বোধকরি আসল জবাব/স্বাক্ষী দেবেন সেই নির্যাতিত ও নিহত আমার ভাই ও বোনেরা যারা কসাই কাদেরের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হয়েছেন। আর জবাব দেবেন এই কাদের মোল্লা যদি তিনি আসলেই কসাই কাদের হয়ে থাকেন।

        1. 1.2.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          দেখুন আমি কোন দল করিনা। তবে প্রো ইন্ডিয়ান কিংবা বাম্পন্থিধারার কিংবা সেকুলার রাজনীতিকে আমি পছন্দ করিনা। কাজেই এর উলটো যে সব দলের কাছে পাই তাদের প্রতি আমার সফট কর্নার থাকে।

          আমি ১৯৭১ সাল দেখেছি, যদিও গোটা বাংলাদেশ দেখিনি, তারপরও যারা ১৯৭১ সাল দেখেননি তাদের চেয়ে তো আমার ভাগ্য যত সামান্য হলেও ভালো। কাজেই ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে কোন আলোচনা হলে তা আমার দেখা এবং শোনা কথা গুলোর সাথে হিসাব মিলাতে বসি, যখন হিসাব মিলেনা তখন সত্যের খাতিরে কথা বলে থাকি।

          কাদের মোল্লা কে তার বাড়ি কোথায় সেটি এখন জানতে পারছি, ৭১ আমি না ছিলাম মীরপুরের না ছিলাম ফরিদপুরে। কাজেই কাদের মোল্লা অপরাধী কি না সে বিষয়ে আমি সাফাই গাইতে পারিনা।

          কাদের মোল্লার বিষয়ে আমি সন্ধিহান এই কারণে যে,

          ১।ধর পাকড় শুরু হবার পর সে সৌদী আরব চলে গিয়েছিলো, সে যদি অপরাধী হতো তাহলে সে কেন জেনে শুনে ফিরে এলো সে কেনো বাচ্চু রাজাকারের মত পালিয়ে গেলোনা?

          ২। ২য়তঃ এই রায় ইসলাম সম্মত হয়নি। কারণ সে এত বড় অপরাধী ছিলো তার এত অপরাধের চাক্ষুষ স্বাক্ষী এক ১৩/১৪ বছরের মুমেনা খাতুন নামক মেয়ে ছিলো আর কেউ ছিলোনা তা মানতে পারছিনা। আপনি বলুন মৃত্যু দণ্ডের মত চরম দণ্ড কি একমাত্র ১৩/১৪ বছরের নাবালিকা মেয়ের স্বাক্ষীতে প্রয়োগ যোগ্য কিনা? ইসলাম তো বলে জিনার অপরাধ প্রমাণ করতে ৪ জন পুরুষ স্বাক্ষী কিংবা ৮জন নারী স্বাক্ষীর প্রয়োজন। আপনি তো আমার মত দলকানা নন তবে ইসলামী মুজাহিদ তো বটে তাহলে এই দণ্ডাদেশ কি ইসলাম সম্মত হয়েছে?

          শাহবাজ ভাই নাইন ইলিভেনের পর যে ভাবে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য সারা বিশ্ব উঠে পড়ে লেগেছে কিন্তু ইসলাম ধ্বংস হওয়া তো দুরের কথা সেটি আরো বেগবান হচ্ছে, ঠিক তেমন করে জামাতের মত ক্ষুদ্র দলকে যেভাবে আঘাত করা হচ্ছে তাতে তাদের প্রতি আমার মত লাখ লাখ মানুষের মনে সিম্প্যাথী সৃষ্টি হচ্ছে, ভেবে দেখুন চলমান রাজনীতিতে জামাতের ১ম শ্রেনী, ২য় শ্রেণী এমন কি ৩য় শ্রেনীর নেতারা জেলে কিন্তু একদম রূট লেভেলে সাধারণ কর্মীরা কি ভাবে তাদের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা যদি দুনিয়া লোভী হতো তাহলে তারা এতো শক্তি লাভ করতে পেতো কি? আমার তো মনে হচ্ছে আগামীতে ইসলামী দল গুলোর মধ্যে মেরুকরণ হবে এবং তারাই বৃহত্তম দলে পরিণত হতে যাচ্ছে।

          শাহবাজ ভাই ইতিহাস পড়ুন জেনে নিন-

          যে ভৌগোলিক সীমারেখায় আমাদের অবস্থান, সেই বিশ্বের সর্ব বৃহৎ বদ্বীপ গাঙ্গেয় এলাকাকে বঙ্গ বলে আর এই বঙ্গ শব্দটি পৃথিবীর প্রাচীনতম একটি শব্দ। বঙ থেকে বঙগ এর উৎপত্তি এর অর্থ জলাশয় অর্থাৎ নদীমাতৃক এলাকা। এই শব্দের প্রাচীনত্ব প্রায় পাঁচ হাজার বছরের।

          ইতিহাসের চাঞ্চল্যকর উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে কখনো বঙ্গদেশ, বঙ্গীয় এলাকা, বঙ্গ প্রদেশ, বাঙ্গাল সরকার, বাঙ্গাল মুলুক, বাঙ্গলা প্রেসিডেন্সী, পূর্ব বাংলা, পূর্ব পাকিস্তান, আর এখন বাংলাদেশ।  এই জনপদের জনগোষ্ঠীর কথা-শুরু দ্রাবিড় ও আষ্ট্রিক সভ্যতা থেকে এর পর বৌদ্ধ সভ্যতা। আমাদের এই পূর্ববঙ্গে আর্যরা কোন সময়ে সমাদৃত হয়নি। বরং আমাদের এই জনগোষ্ঠী বহিরাগত আর্যদের বিরুদ্ধে শতাব্দী পর শতাব্দী যুদ্ধ করেছে। নবদ্বীপ কেন্দ্রীক অবাঙালী, কর্ণাটকিয়,সেন বংশের শাসনকে কিছুতে মেনে নেয়নি। তেমন করে মেনে নিতে পারেনি মোগল আর পাঠানদের শাসন। ইতিহাসের পরিক্রমায়  সাতচল্লিশের মধ্য আগস্টে গাঙ্গেয় বদ্বীপ থেকে আর্যদের উত্তর সুরীরাই দেশ ত্যাগ করেছিলেন। ঠিক সে কারণে একাত্তরের ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনে শরাফত খানদানী দাবিদার অবাংগালিরাও এ দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।

          কাজেই  রাষ্ট্র চিরস্থায়ী কোন সত্ত্বা নয়। যুগ আসবে যুগের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের প্যাটার্ণ বদলে যাবে বদলে যাবে মানচিত্রের আকার, বদলে যাবে দেশ প্রেমিক আর অপ্রেমিকে সংজ্ঞা। আত্মত্যাগী আর গাদ্দারের সংজ্ঞা কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের সংজ্ঞা বদলে যাবেনা, আর একজন মুসলিমের জন্য উগ্র রাষ্ট্র প্রেম ঈমানে কোন অঙ্গ নয়। ধন্যবাদ।

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          এই রায় ইসলাম সম্মত হয়নি। 

           

          রাজাকারদের চেয়েও আপনি আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন। জামাত এই বিচারের আন্তর্জাতিক মান চাইলো -- কিন্তু সৌদি বা ইরানের কাছ থেকে কোন সমর্থন চাইলো না -- এরা টবি কেডমেন নামে এক ইহুদী আইনজীবিকে দিয়ে ইউরোপে লবিং করাচ্ছে। এরাও বিচারর ইসলামিক শারিয়া মতে দাবী করলো না আর আপনি এখন বিচার ইসলামিক হয়নি বলে অভিযোগ করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল কি ইসলামিক আদালত নাকি? আর কত নিজেকে নীচে নামাবেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published.