«

»

Dec ২৭

রাজাকার বাহিনী

মুক্তিযুদ্ধের পরপরই দেশে স্বাধীনতাবিরোধী এবং অতিবিপ্লবীদের সমন্বয়ে একটা প্রতিবিপ্লবের পরিবেশ তৈরী হয় – সিরাজ শিকদারের পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি, জাসদের গনবাহিনী ছাড়াও তোয়াহা- মতিনের বাহিনী দেশের অরাজকতা তৈরী করে – মুক্তি বাহিনীর এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির মাঝে বিভেদ তৈরী হয়। ফলশ্রুতি ১৯৭৫ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিববারের নিহত হলেন – জেলে নির্মম হত্যার শিকার হলেন স্বাধীনতার চার কান্ডারী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেন, ক্যাপ্টেন মনসুর আলি এবং কামরুজ্জামান – যারা যুদ্ধের নয় মাস সাফল্যজনক ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়কে নিশ্চিত করেছিলেন। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং পরে এরশাদ সমন্বয়ের রাজনীতির নামে স্বাধীনতা বিরোধীদের পূর্নবাসিত করে। তাদের পূর্নবাসনের সুবিধার জন্যে ইতিহাস বিকৃতি একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠে। দেশের একমাত্র টিভির রেডিওতে "রাজাকার" "পাকসেনা" শব্দগুলো লুকিয়ে রাখা হয় – ইতিহাস বিকৃতির জন্যে হাস্যকর ড্রাম তত্ত্ব এনে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সংগ্রাম আর বেদনাকে আড়াল করা হয়। তাই দেখি নতুন প্রজন্ম রাজাকার শব্দটাকে একটা রাজনৈতিক শব্দ হিসাবে রাজনীতির খেলায় পরিনত করতে চায়। সেই কারনে রাজাকার বাহিনীর প্রকৃত ইতিহাস সংক্ষেপে সদালাপে দেওয়ার চেষ্টা করতে চাই। উল্লেখ্য যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসাবে রাজাকার বাহিনী সক্রিয় ভুমিকার কারনের প্রত্যন্ত গ্রামে মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে – নতুবা পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে বাঙালী নারীদের লোভে এতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌছা সম্ভব হতো না – যা পাক বাহিনীর তৎকালীন অফিসাররা স্বীকার করেছে। সবচেয়ে স্বস্থির বিষয় হলো – রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্টাতা জামায়াত নেতা মাওলানা এ কে এম ইউসুফ এখন মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন। 

আসুন এবার দেখি রাজাকার বাহিনীর কিছু ইতিহাস 

বর্তমানে বাংলাদেশে মোটাদাগে স্বাধীনতাবিরোধীদেরই রাজাকার নামে অভিহীত করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যারা ছিলেন তারা রাজকার ও তাদের কার্যকলাপের সঙ্গে সবাই পরিচিত। জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে 'ঘাতক দালাল নির্মূল' আন্দোলন শুরু হলে রাজাকার নামটি আরো পরিচিত হয়ে সাধারণ ভাষ্যে চলে আসে। হুমায়ুন আহমেদের একটি নাটকের সংলাপ ছিল 'তুই রাজাকার'। এসব কারণে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি, সে আলবদরই হোক বা দালালই হোক, পরিচিত হয়ে ওঠে রাজাকার হিসেবে। জামায়াত ইসলাম, বাংলাদেশের প্রাক্তন আমীর গোলাম আযম বলেছেন, তারা 'রাজাকার' ছিলেন না, ছিলেন 'রেজাকার'। হতে পারে রেজাকার শুদ্ধ, কিন্তু মানুষের কাছে অশুদ্ধ রাজাকারই পরিচিত।
সূত্র : ডঃ মুনতাসীর মামুন (মুক্তিযুদ্ধ কোষ চতুর্থ খণ্ড) 

রাজাকার হচ্ছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক গঠিত একটি আধাসামরিক বাহিনী। এটি অখন্ড পাকিস্তানপন্থী বাঙালী এবং উর্দুভাষী অবাঙালী অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্যে লড়াইরত মুক্তিবাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য ১৯৭১ সালের মে মাসে খুলনায় প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়। খানজাহান আলী রোডে একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন জামায়াতে ইসলামী কর্মী সমন্বয়ে জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তান শাখার সহকারী আমীর মাওলানা এ কে এম ইউসুফ প্রথম রেজাকার বাহিনী গঠন করেন। তবে পরবর্তীতে জনগণের কাছে 'রেজাকার' শব্দটি 'রাজাকার' শব্দে পরিণত হয়। আরবী শব্দ রেজা এবং ফার্সী শব্দ কার যুক্ত হয়ে রেজাকার শব্দের উত্পত্তি হয়। এর অর্থ স্বেচ্ছায় যারা কাজ করে। রেজাকার বাহিনী কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিতো, "I shall bear true allegiance to the constitution of Pakistan as framed by law and shall defend Pakistan, if necessary, with my life." অর্থাৎ, "আমি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের সংবিধানের প্রতি সত্যকার আনুগত্য প্রদর্শন করব এবং জীবন দিয়ে হলেও পাকিস্তানকে রক্ষা করব।" পরবর্তীকালে টিক্কা খানের সরকার সারা প্রদেশে বাধ্যতামূলকভাবে অনেক চোর ডাকাত ও সমাজবিরোধীকে রেজাকার বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত করে।

এ.এস.এম সামছুল আরেফিন সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বই থেকে যোগ করছি :

১৯৭১ সালের মে মাসে মওলানা এ.কে.এম ইউসুফের নেতৃত্বে ৯৬ জন জামাত কর্মী নিয়ে খুলনায় আনসার ক্যাম্পে প্রথম এই বাহিনী গঠিত হয়। মওলানা একেএম ইউসুফ এই বাহিনীর নামকরণ করেন রাজাকার। জুন মাসের সরকারী অধ্যাদেশে এই নাম রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান মোঃ ইউসুফকে রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ১০টি জেলায় ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতাদের রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্বে দেওয়া হয়। অ্যাডজুটেন্ট বা কোম্পানি কমান্ডার থেকে নিচের স্তরের সকলেই রাজাকার কমান্ডারদের নেতৃত্বে পরিচালিত হত। কিন্তু ওপরের স্তরের সকলেই ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য। শান্তি কমিটির মাধ্যমে রাজাকারদের রিক্রুট করা হত। এই বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই ছিল মাদ্রাসার মোহাদ্দেস ও মোদাচ্ছের। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য ছাড়াও বহু গ্রামের যুবককেও এই বাহিনীতে ভর্তি করা হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে রাজাকার বাহিনীর প্রশিক্ষণ পরিচালিত হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের মাঠ ও ফিজিক্যাল কলেজের মাঠে মূলত রাজাকারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হত। এই বাহিনীর প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল দেড় সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ। প্রশিক্ষণ শেষে রাজাকারদের হাতে ৩০৩ রাইফেল তুলে দেওয়া হত। শুধু উচ্চ স্তরের কমান্ডারদের জন্য বরাদ্দ ছিল স্টেনগান।

নোট – সংকীর্ন রাজনৈতিক সুবিধাবাদের জন্যে মুক্তিযুদ্ধ, তার ইতিহাস এবং অনুসংগকে ব্যবহার না করাই ভাল। রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হাজারো মানুষের – শহীদ হাজার মানুষের প্রতি সামান্য সন্মান এবং শ্রদ্ধা দেখানোর মাধ্যমে আমরা তাদের ঋনের কিছুটা হলেও শোধ করতে পারি। তাই অনুরোর করছি আসুন সবাই মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সন্মান দেখানোর স্বার্থে "রাজাকার" বাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধে প্রেক্ষিতেই একটা ঘৃন্য বাহিনী হিসাবেই দেখি। সবাইকে ধন্যবাদ। 

 

 

( লেখার জন্যে সহায়তা নেওয়া হয়েছে অমি রহমান পিয়াল এবং মুনতাসির মামুনের বিভিন্ন সূত্র – তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা রইল) 

৩৭ comments

Skip to comment form

  1. 17
    সিভিক

    পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে উভয় দেশের জনগনের সামগ্রিক উন্নতির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের শাসকশ্রেনী সে পথে হাঁটতে রাজী নয়। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে অধীনতার নাগপাশে বন্দী করে রাখা। একটা স্বাধীন আত্মনির্ভর মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ তাদের বাংলা((পশ্চিম বঙ্গ), আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদ উস্কে দিবে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে আলাদা দেশ হবার আকাঙ্খার বিকাশ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে সেদেশের ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদদের সাথে সাউথ ব্লকও একমত। এ কারনে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন বাংলাদেশ করা এবং সেখানে অনুগত সরকার বসিয়ে দেবার লক্ষ্যে ভারতের তৎপরতা ১৯৬২ সন থেকে শুরু হয়ে এখনো চলমান। যে নীতি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে সেটি ভারতের বিরোধীতার মুখোমুখী হবে। যে বা যারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ঝান্ডা তুলে ধরবে তাদের বিরোধীতা করা হবে ভারতের বর্তমান শাসক শ্রেনীর নীতি। শেখ হাসিনার সরকার সব রকম উপায়ে ভারতের স্বার্থরক্ষাকারীদেরকে বাংলাদেশের ভিতরে অবাধে বিচরনের ও শক্তি প্রয়োগের অধিকার দিয়েছে, সুযোগ করে দিয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামকালে যেভাবে রাজাকারেরা পাকিস্তানী সেনাবাহীনিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে। শেখ হাসিনার সরকার এবং দল আরো নির্মমভাবে সে ভুমিকা পালন করে ভারতের শাসক শ্রেনীর পক্ষে। এই ক্রিয়ার একটা প্রতিক্রিয়া অবশ্যই আছে।

    ৭১ সনে আক্রান্ত হয়ে সমাজের একেবারে নিম্নস্তর থেকে শুরু করে সবাই যেভাবে একতাবদ্ধ পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবারও সেরকম একতাবদ্ধ জাতি গড়ে উঠবে। অস্তিত্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে জাতি একতাবদ্ধ হতে বাধ্য। এবং হবেই।

    একতাবদ্ধ বাংলাদেশের জনগনকে ভারতের ভীষন ভয়। কারন একতাবদ্ধ জাতির পক্ষে সম্ভব ভারতের সকল অপতৎপরতাকে ছিন্ন-ভিন্ন করা। লক্ষ লক্ষ হত্যা করেও পাকিস্তানীরা পারেনি একতাবদ্ধ জাতিকে পরাজিত করতে। সেসময়ে ভারতের সহায়তা পাওয়া না গেলেও পারতনা।  শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের মত সেবাদাসদের ব্যাবহার করে ভারত এখন সেরকম একতার পথে  বাধা তৈরী করে নানান রঙ্গের চেতনার রঙ ছড়িয়ে। অপশক্তিকে যত পরাক্রমীই মনে হোক তার পরাজয় অবধারিত।

     

    উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চ'লের ধনী সাম্প্রদায়ীক উচ্চ বর্নের হিন্দুরা যে ভারত শাসন করে তার এক তৃত্বীয়াংশেরও বেশী নিজেদেরকে শোষিত-বঞ্চিত মনে করে। ভারতের বর্তমান শাসকশ্রেনীর অধীনতা থেকে মুক্ত হবার আকাঙ্খা তাদেরও আছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশ প্রথম আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার দাবী করে সংগ্রামে অবতীর্ন হয়। আজকের ভারতের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে একতাবদ্ধ জাতির বাংলাদেশ একদিন নেতৃত্ব দিবে। এটাই বাংলাদেশের নিয়তি। অতীতের বিভিন্ন সময়ে বাংলাকে এ ভুমিকায় দেখা গেছে। এবং ইতিহাসের বিশাল সময় জুড়ে আজকের বিশাল ভারত টুকরা টুকরা হয়ে থাকার ঐতিহ্য ধারন করে। এতগুলি জাতি-বর্নের সমাবেশ নিয়ে একটা দেশ হিসাবে টিকে থাকা খুব বেশীদিন সম্ভব নয়। ভারতের সকল অশুভ তৎপরতা সে প্রক্রিয়াকে প্রলম্বিত করে তুলছে মাত্র।

  2. 16
    আহমেদ শরীফ

    যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি তাঁর দু:শাসনে যতই বিপর্যয়ের শেষ সীমানায় নেমে আসুক-না কেন, বন্যা, মহামারী, চোরাচালানী, ছিনতাইকারী, টাউট, স্বজনতোষনকারীরা বাংলাদেশে যে অবর্ননীয় দু:খ-দুর্দশারই সৃষ্টি করুক-না কেন তাঁর গোচরেই সবকিছু ঘটে আসছিল। যৌবনবতী মেয়ে মানুষ তার প্রেমিককে যে রকম বিশ্বাস করে এবং ভালবাসে, বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে সেই অকৃত্তিম অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে উৎসারিত বিশ্বাস এবং ভালাবাসা দিয়েছিল। তিনি এলেন, প্রধাণমন্ত্রী হলেন। নতুন সংবিধান রচনা করলেন, নির্বাচন ডাকলেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর বছর না ঘুরে না-আসতেই প্রধাণমন্ত্রীর পদ তাঁর হল না। তাঁরই নির্দেশে রচিত সংবিধানের বিধানগুলো আঁটোসাটো জামার মত ক্রমাগত তাঁর বিরক্তি উৎপাদন করছিল। তাই তিনি নিজ হাতে গড়া অনুশাসনের নিগড় ছিন্ন করে ফেললেন। সংবিধান বাতিল ঘোষনা করলেন। যে সংসদীয় গনতন্ররে বাঁধানো সড়ক বেয়ে আকাশস্পর্শী উচ্চকাঙখার নির্দেশে একটি সবল, স্বাস্থ্য এবং দরাজ কন্ঠস্বর মাত্র সম্বল করে এতদুর উর্ধ্বে আরোহন করেছেন সেই সংসদীয় গণতণ্ত্র শেখ মুজিবের হাতেই জখম হয়ে হয়ে লাশটি তাঁরই হাতে কবরস্থ হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছিল। অবিলম্বে তিনি তাঁর কর্তব্যকর্ম সমাপন করলেন। সংসদীয় গনতণ্ত্রের লাশটি কবর দিলেন। একদলীয় সরকারের রা্স্ট্টপতি হিসেবে নতুন পরিচয়ে তিনি নিজেকে পরিচিত করলেন। শেখ মুজিব যা করেন সব নিঁখুত। ইতিহাসের সংগোপন আকান্খা তাঁর প্রতি কর্মে অভিব্যক্তি লাভ করে। এ হচ্চে তাঁর পরিষদের ধারণা। কথাটি তিনিও আপনদল এবং বন্ধুদলের মানুষদের কাছ থেকে এতবেশি শুনেছেন যে নিজেও প্রায় অতিমানব বলে বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন। তিনিও মনে করতে আরম্ভ করলেন, যা কিছু হও বলবেন, অমনি হয়ে যাবে। এ যেন শেক্সপীয়রের নাটকের নায়ক জুলিয়াস সিজার। আকাশের জ্যোতিস্কমন্ডল বারেবারে শুভ-সংকেত বয়ে নিয়ে আসে।

     

    তাছাড়া আরেকটি কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা তাঁর জন্য অণিবার্য হয়ে পড়েছিল। যতই তিনি জনগনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলেন ততই তাঁর চরিত্রের স্বৈরাচারী লক্ষণসমুহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। ক্ষমতার নির্মম একাকীত্ব তাঁকে নিশ্চয়ই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে গণতণ্রের ধারাস্রোতে বাহিত হয়ে তিনি এসেছিলেন, তাতে তাঁর পুনরায় অবগাহন করার কোন উপায় নেই। কেননা এই তিন বছরে শরীর অনেক ভারী হয়ে গিয়েছে এবং সাঁতারও প্রাঅয় ভুলে গিয়েছেন। যদি তাঁকে একজন মানুষ হিসেবেই বেঁচে থাকতে হবে – জনতাই তাঁর শাসনের বিষয়বস্তু। তিনি রাজা এঁরা প্রজা। এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি মনে মনে সাংঘাতিক রকম অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন। সংবিধান, জাতীয় পরিষদ, পরিষদের সদস্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি বলতেন, তিনি জনগনকে ভালবাসেন এটা তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর জনগন তাঁকে দেখতে ভিড় করতেন, তাঁর বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, তাঁর কথায় হাত উঠাতেন এটা জনগনের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা শুনে এবং কথায় কথায় হাত উঠিয়ে অভ্যস্ত। আসলে জনগন অনেকদিন থেকেই তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। কারণ বাংলাদেশের যে দুর্দশা বন্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি ধরে নিয়েও বলা যায় তার আশি ভাগই মানুষের সৃষ্টি এবং তাঁর জন্য মুখ্যত দায়ী তাঁর পরিচালিত তৎকালীন সরকার। গ্রামের সরল মানুষকে, অনাহারক্লিষ্টা বিধবাকে আমি নিজের কানে তাদের তাবৎ অভাব অভিযোগের জন্য দায়ী করে অভিস্পাতের বাণী উচ্চারণ করতে শুনেছি। তিনি যে ধীরে ধীরে স্বখাত সলিলে ডুবে যাচ্ছেন খুবই টের পাচ্ছিলেন। জনগনের রুদ্ররোষ কি বস্তু উপলব্ধি করতে সময় লাগেনি। এই জনগনই আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করিয়ে শেখ মুজিবকে আইুয়ব খানের কারাগার থেকে মুক্তমানব হিসেবে প্রসন্ন দিবালোকে বের করে এনেছে। উনিশ শ’ একাত্তর সালের মার্চ মাসের দিনগুলোতে জনগনের সংগবদ্ধ শক্তির গভীরতা, তীব্রতা কতদূর হতে পারে, বাঁধভাঙা বন্যার স্রোতের মত রাস্ট্রীয় এবং সামাজিক জীবনে কি অঘটন ঘটিয়ে তুলতে পারে সে জ্গান তিনি হাতে কলমেই লাভ করেছেন। তাই তিনি ক্রমাগতভাবে জনগনের ক্ষোভ আক্রোশ প্রকাশ করার পন্থা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমুহের মুখে বালির বাঁধ রচনা করে যাচ্ছিলেন। তাই তিনি তিনদল ভেঙে একদল করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী থেকে সরাসরি একনায়ক সেজে বসেছেন।

     

    তিনদিন ভেঙে একদল করার পর তাঁর হাতে প্রভুত ক্ষমতা সন্চিত হয়েছিল বটে, কিন্তু তিনি রাজনৈতিকভাবে সম্পুর্ণ গরঠিকানার মানুষ হয়ে পড়েছিলেন। সম্মিলিতভাবে তিনি তিনদলেরই কর্তা, কিন্তু আসলে কোন দলেরই কেউ নন। এই ঠিকানাহীনতা তাঁকে একনায়কতন্রের দিকে আরো জোরে ঠেলে দিচ্ছিল। জনগন মন অধিনায়ক নেতার পক্ষে একনায়ক পরিচয়ের পথে রাজার পরিচয় আরো প্রীতিপদ এবং সম্মানের। বিশেষত তিনি দেশ এবং বিদেশের সামনে প্রমাণ যখন করতে পেরেছেন, তিনি চাননি তবু জনগন তাঁকে রাজার আসনে বসিয়েছে। এই রাজকীয় পরিচয়টা দেশের মানুষের মনে ভালভাবে দাগ কাটে মত বসিয়ে দেয়ার জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করে যাচ্ছেন। একদলীয় শাসন কায়েম করেছেন, জাঁকালো রাস্ট্রপতি হয়ে বসেছেন, উপবেশনের সুবিধার জন্য দিনাজপুরের মহারাজার সিংহাসনটা আনিয়ে নিয়েছেন। ব্রিটিশ আমলের ঘূণে ধরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেছেন। পূর্বের জেলা এবং বিভাগগুলোর সীমানা চিহ্ণ মুছে দিয়ে গোটা দেশেকে একষট্টিটি নতুন প্রশাসনিক এলাকা তথা জেলায় বিভক্ত করে, প্রতি জেলার জন্য একজন করে গভর্ণরও দান মনোনয়ন দান করেছেন। জেলা প্রশাসনের সংগে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গভর্ণররা যাতে সর্বেসর্বা হয়ে বসতে না পারে সেজন্য বৈরী গ্রুপ থেকে একেকজন বাকশাল সাধারন সম্পাদককে মনোনয়ন দান করা হয়েছে। শাসনব্যবসথাকে নতুনভাবে ঢালাই করার নামে আইয়ুবের মত শেখ মুজিবও তাঁর সিংহাসনে থাকার পথটি পাকাপোক্ত করেছেন। আইয়ুবের মৌলিক গণতন্ত্রের মৌলিক বস্তুটির সংগে জনগনের চাক্ষুষ পরিচয় ঘটেছে। মুজিবের মৌলিক বস্তুটিরও প্রয়োজনীয়তা কতদুর ছিল আগামীদিনের প্রশাসনবিদরা বিচার-বিবেচনা করে দেখবেন। আমার বক্তব্য হল, আইয়ুব সরকার এবং মুজিব সরকা নিজেদের ক্ষমতায় অটুট থাকবার জন্য উদ্ভাবিত পথটিকেই শাসনতান্রিক বিপ্লব বলে আখ্যা দিয়েছেন। জেলাসমুহের গভর্নর এবং বাকশালের সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত করার ব্যাপারেও শেখ সাহেব রাজকীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের শাসক নেতৃশ্রনীতে যত ধরনের চাপ প্রয়োগক্ষম গ্রুপ রয়েছে, সব গ্রুপ থেকে প্রতিনিধি গ্রহন করেছেন – রাজনৈতিক দল ও ন্যাপ থেকে, আমলাদের থেকে, আইনজীবী শ্রেণী থেকে, সেনাবাহিনী থেকে, আনুপাতিকহারে গভর্নর ও সম্পাদক নিয়েগ করার পেছনরে কারণ ছিল সার্বিকভাবে গোটা শাসক নেতৃশ্রণীটার কাছে তাঁর শাসনটা গ্রহণযোগ্য করে তোলা।

    ব্যবহারিক দিক দিয়েও তিনি রাজার মতই আচরন করে যাচ্ছিলেন। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দের কেউ তাঁর সামনে টু-শব্দটি উচ্চারণ করতে সাহস পেতেন না। তাঁকে বুদ্ধি পরামর্শ দিতে পারে মত কেউ ছিলেন না। তিনি যদি কখনো মন্ত্রিসভার সদস্যদের ডাকার প্রয়োজন মনে করতেন, ডাকতেন। এ কারণে যে তাঁর নিজস্ব পরিবারটিকে কেন্দ্র করে একটি রাজপরিবারের ছবি ক্রমশ লক্ষ্যগোচর হয়ে উঠেছিল। তাঁর ছেলে, তাঁর ভাগ্নে, ভগ্নিপতি, ভাই সকলে সত্যি সত্যি দুধের সরের মত বাংলাদেশের শাসকশ্রণীর পুরোভাগে ভেসে উঠেছিলেন। বাকি ছিল রাজমুকুটটা মস্তকে ধারণ করা এবং রাজউত্তরীয়খানি অঙে চড়িয়ে দেয়া। এই জন্যই তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নেপোলিয়নের মত বিশ্ববিখ্যাত বীরযোদ্ধাও হাতে প্রভুত ক্ষমতা থাকা স্বত্তেও রাজমুকুটটি নিজে নিজে পরে বসেননি। রোম থেকে পোপকে আসতে হয়েছিল। এই সমস্ত শক্তিধর মানুষেরা শক্তি দিয়ে সব কাজ করো আনলেও শেষের কাজটি করাবার জন্য এমন কাউকে খোঁজ করে আনেন, যাঁর প্রতি মানবসাধারণের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা রয়েছে এবং যা এৈতিহ্যসম্মত।

  3. 15
    আহমেদ শরীফ

    একদিকে উদ্ধত উলংগ স্বৈরাচার, অন্যদিকে নির্মম দারিদ্র, বুভুক্ষা এই দুইয়ের মাঝখানে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে অতি কষ্টে, অতি সন্তর্পনে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হচ্ছিল। অর্থনৈতিক অন্তর্দাহের আঁচ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতেও লেগেছে। অনেকগুলো পরিবার মাছ-মাংস স্পর্শ করা বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। কোনো কোনো পরিবারের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যারা দু’বেলা ভাত খেত দু’বেলা আাটা খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে। আবার অনেক পরিবারের দু’বেলা আটাও জোটে না।

    অথচ শেখ মুজিবুর রহমানের শাসন ক্ষমতার সংগে যাঁরা যুক্ত তাঁদের সুযোগ-সুবিধের অন্ত নেই। তাঁদের হাতে টাকা, ক্ষমতা সবকিছু যেন স্বাভাবিক নিয়মে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। আইন তাঁদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধির সহায়, সরকারি আমলারা আ্জ্গাবহ মাত্র, সামাজিক সুনীতি, ন্যায়-অন্যায়, নিয়ম-কানুন কোন কিছুর পরোয়া না-করলেও তাঁদের চলে। উনিশ শ’ একাত্তুর সালের যুদ্ধের পর থেকে এই শ্রেণীটি বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নৈরাজ্যের থেকে প্রাণরস সংগ্রহ করে ডাঁটো হয়ে মাথা তুলছিল। ঢাকা শহরের প্রশস্ত রাজপথ থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিস্ঠান, ব্যাবসায়ীর আড়ত, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, রেডিও-টেলিভিশন, লেখক-সাহিত্যিকদের আড্ডা, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির এমনকি দূর-দুরান্তের পল্লীগ্রামের মহল্লায় মহল্লায় এই হঠাৎ জন্মানো নব্যনবাবদের সীমাহীন প্রতিপত্তি। এদের অনুমোদন ছাড়া মরণোম্মুখ রোগী এক ফোটা ওষুধ পেত না, শীতার্ত উলংগ অসহায় মানুষের পরনে রিলিফের একখানি বস্ত্র উঠত না, এক সের রেশনের চাল কি আটা বিলি হতে পারত না। বিধ্ধস্ত বাংলাদেশের জনগনের সাহায্যার্থে যে দেশ থেকেই সাহায্য আসুক না কেন এই শ্রণীটির দুষ্ট ক্ষুধার চাহিদা মিটাতে সবকিছু শেষ হয়ে যেত। এদের অনুমোদন ছাড়া কোন অফিসে একজন সামান্য পিয়নের নিয়োগপত্র পাওয়ার সম্ভাবণা ছিল না, যোগ্যতা যাই হোক না কেন। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো যেত না। ছাত্রকে স্কুলে। বেবাক দেশের দশদিকে এরা ছড়িয়েছিল। আমলাদের মধ্যে, নিম্নশ্রেণীদের মধ্যে, শিক্ষকদের মধ্যে, গায়ক-শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে, কৃষক-শ্রমিকদের মধ্যে অন্তরীক্ষে অবস্থান করে একজন মাত্র মানুষ সবকিছুর সুতো ধরে রয়েছেন তিনি বাংলাদেশের রাস্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।

    স্বাধীনতার তিন বছর সময়ের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি এরকম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বাংলাদেশ এবং শেখ মুজিব এ দুটো শব্দ পরস্পরের পরিপুরক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেখ মুজিব যদি বলতেন আমিই হলাম গিয়ে বাংলাদেশ, তাহলে তিনি এতটুকুও মিথ্যে বলতেন না। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেশে ফিরে ক্ষমতার সিংহাসনে অধিষ্টিত হয়ে একে একে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর গলা টিপে ধরেছিলেন। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন। তাদের ঘরবাড়ি ভূ-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছেন, পরিবার-পরিজনের ওপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছেন। তাদের কাউকে গ্রেফতার করে কারাগারের উদরে নিক্ষেপ করেছেন। দেদার নেতা এবং কর্মী হত্যা করেছে রক্ষীবাহিনী। বাংলাদেশের গ্রামে-গন্জে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী দমন করার নামে সরল মানুষদের পাখির মত গুলি করে, গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শেখ মুজিব বিরোধী কোন কিছুর আভাস পাওয়ামাত্রই রক্ষীবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে ছুটে গেছে। সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, ভেংগে-চুড়ে তছনছ লন্ড-ভন্ড করে দিয়েছে। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নেতা তিরিশ বছর বয়স্ক সিরাজ সিকদারকে নৃশংসভাবে হত্যা করিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পরিষদ কক্ষে উল্লসিত উদ্‌ঘোষনায় ফেটে পড়ে বলেছিলেন, এখন কোথায় সিরাজ সিকদার? গ্রফতার, নির্যাতন এসব শেখ মুজিব প্রশাসনের একটা অ্ত্যন্ত উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবদুল মতিন, আলাউদ্দিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি মেজর জলিল, সম্পাদক আ.স.ম. আবদুর রব সহ অসংখ্য নেতা এবং কর্মী, জাতীয় লীগের অলি আহাদ অনেককেই তিনি কারাগারে প্রেরণ করেছিলেন। বিপ্লবী মতাদর্শী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের কথা বাদ দিয়েও তিনি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিকবোধ আস্থাশীল রাজনৈতিক দলগুলোর উপস্থিতিও বরদাশত করতে পারতেন না।

    পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফেরার পর তিনি দেশের বিপর্যস্ত অবস্থার উন্নয়ন সাধনের জন্য সময়ে অসময়ে হুন্কার দেয়া ছাড়া কোনো বাস্তব কর্মপন্থা গ্রহণ করেননি। পক্ষকান্তরে তার বিরোধীদের সমুলে বিনাশ করার এক সর্বনেশে খেলায় মেতে উঠেছেন। এমনকি সে বিরোধিতা নিজের দলের লোক থেকে এলেও এবং একান্ত ন্যায়সংগত হলেও তিনি সহ্য করেননি। দৃশ্যত বিরোধীদলবিহীন খোলা ময়দানের তিন তিনটি দলের সর্বময় কর্তা হওয়া স্বত্তেও তিনি নিশ্চিত বোধ করতে পারছিলেন না। তিনটি দলকে এক করে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে সমস্ত ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য রাতারাতি প্রধানমন্ত্রী থেকে রাস্ট্রপতি হয়ে বসলেন। সংবিধান বাতিল ঘোষনা করলেন। জাতীয় পরিষদের সদস্যদের সংগে বয়-বেয়ারাদের মত আচরন করলেন। উদারনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী শেখ মুজিব গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ দলের পাটাতনে দাঁড়িয়েই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিসরে নিজেকে বাঙালি জাতির সংগ্রামী প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে নিতে পেরেছিলেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তি-সংগ্রামের নায়করুপে সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তিন বছর যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগ দলটির অস্তিত্ব বিলীন করে দিলেন। উনিশ শ’ উনসত্তর সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁকে ভাগ্যদেবতা অযাচিতভাবে কৃপা করে আসছে। উনিশ শ’ উনসত্তর সালে আইয়ুব বিরোধী অভ্যূথ্থানের ফলে আইয়ুব খানকে আগরতলা ষড়যণ্ত্র মামলে উঠিয়ে নিতে হয়। কারাগার থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন বাঙালি জাতীর জনক এবং অদ্বিতীয় নেতা হিসেবে। তাঁর প্রতি জনগনের আস্থা ভালবাসা তাঁর মস্তকে হিমালয় পর্বতের চুড়োর মত উত্তুংগ মহিমায় বিভুষিত করেছে। গোটা জাতি তাঁর পেছনে। এর পূর্বে কোন বাঙালি নায়কের পেছনে মানুষ অকৃত্ত্রিম আস্থা এবং স্বত:স্ফুর্ট ভালাবাসা এমন করে বিলিয়ে দেয়নি। তার আগেও এরকমটি ঘটেছে বারবার। যে-কোন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লব, উপবিপ্লব শুরু হওয়ার পূর্বে শেখ মুজিব কোন যাদুমন্ত্র বলে কারাগারে ঢুকে পড়েছেন। ঘটনার নিয়মে ঘটনাটি ঘটে যাবার পর বিজয়ী বীরের মত শেখ সাহেব দৃপ্ত পদক্ষেপে প্রকাশ্য সূর্যালোকে বেরিয়ে এসে নেতার আসনটিতে বিনাদ্বিধায় বসে পড়েছেন। শেখ মুজিবকেই ঘটনাটির নায়ক বলে লোকে বিনাদ্বিধায় মেনে নিয়েছেন। তাঁর নিজের দলের মধ্যেও এ নিয়ে বোধকরি কোন প্রশ্ন কখনো উঠেনি। উনিশ শ’ একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চ তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে আপন বাসভবন থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং উনিশ শ’ বাহাত্তর সালের দশই জানুয়ারি তারিখে বাংলাদেশে এসে এমন একটি আসন পেয়ে গেলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে কোন মানুষ সে রকম মর্যাদা, ভালোবাসা এবং একছ্ত্র ক্ষমতার আসনে উপনিবেশ করতে পারেনি। তাঁর তেজ, বীর্য এবং বাক্যের মন্ত্রশক্তিতে বিস্ময়াবিশ্ট দেশবাসী বহুকাল পূর্বেই তাঁকে বংগবন্ধু এবং বাঙালি জাতির পিতা ইত্যাদি দুর্লভ সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার আসনে তো তিনি রাজচক্রবর্তী হিসেবে বহুকাল পূর্বে থেকেই আসীন ছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে বাঙালি হ্রদয়ের সিংহাসনের রাজা বাস্তবের সিংহাসনে আরোহন করলেন।

     

     

  4. 14
    আহমেদ শরীফ

    মুজিবের শাসন: একজন লেখকের অনুভব
    আহমদ ছফা
    20-09-1975

    উনিশ শ’ পচাত্তর সালের শুরুর দিকে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কার্যকলাপ একেবারে পুরোপুরি বন্দ্ধ ঘোষনার পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সমর্থক পত্রিকা গণকন্ঠের প্রকাশ রুদ্ধ, সম্পাদক দেশের খ্যাতনামা কবি জনাব আল মাহমুদ কারারুদ্ধ এবং ছাপাখানায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। এর পূর্বেও “গণকন্ঠ” পত্রিকাটি বন্দ্ধ করার জন্য সরকার নানাধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। পত্রিকাটিতে সরকারি বিজ্জাপন দেয়া হত না, দুয়েকবার ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে। আইনের ফ্যাঁকড়া তুলে মুদ্রণ এবং প্রকাশের পথে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। মাঝখানে একবার বন্দ্ধও করে দেয়া হয়েছিল। সাংবাদিকদের সমবেত দাবির মুখে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেও রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধ ঘোষনার সাথে সাথে প্রকাশ রহিত হয়ে গেল। গণকন্ঠের পিছু পিছু সরকার বিরোধী দলীয় ইংরেজি “সাপ্তাহিক ওয়েভ” এবং “হলিডে” কিছুদিন পর্যন্ত টিকে থাকে পরেছিল। পরে দুটোকেই বন্ধ করে দেয়া হয় এবং আপত্তিজনক সংবাদ পরিবেশনের দায়ে “হলিডে” সম্পাদক জনাব এনায়েতুল্লাহ খানকে জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। জনাব আলী আশরাফ সম্পাদিত বাংলা “সাপ্তাহিক অভিমত” – এরও একই পরিণতি ঘটে।

    বিরোধীদল তো ছিলই না। বিরোধীদলীয় পত্রপত্রিকাগুলোকেও নির্মমভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সরকার সমর্থক পত্রিকাসমুহ এবং সরকারের অন্য দুটো অংগদলের মুখপত্রগুলো প্রতিটি স্বৈরাচারী পদক্ষেপকে একেবারে নির্লজ্জভাবে অভিনন্দিত করে যাচ্ছিল। তথাপি শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন কায়েম করার প্রাক্কালে বাংলাদেশে পত্র-পত্রিকার সংখ্যা একেবারে কমিয়ে এনে গণমতের বাহনগুলোর কর্তৃত্ব নির্ভরযোগ্য হস্তে অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হবে ঠিক হল। দুটি বাংলা এবন দুটি ইংরেজি এবং এটাও ঠিক হল যে বাদ বাকি পত্রিকাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হবে। “ইত্তেফাক” কাগজটিকে পুরোপুরিভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হল। “ইত্তেফাক” ছাড়া অপর যে বাংলা কাগজটি বেঁচে থাকবে সেটির নাম “দৈনিক বাংলা”। ইংরেজি কাগজ দুটির নাম “বাংলাদেশ অবজারভার” এবং “বাংলাদেশ টাইমস”। এসব পত্রিকাগুলো একেবারে সরকারি পত্রিকা এবং সাংবাদিকেরা সরকারি কর্মচারীরুপে চিহ্নিত হবেন বলে ঘোষনা দেয়া হল।

    একসংগে অনেকগুলো পত্রপত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে গোটা দেশের সাংবাদিকবৃন্দ এক ভয়াবহ সংকটে নিপতিত হন। এই নির্মম অর্তসংকটের দিনে সাংবাদিকেরা সবান্ধবে বেকার হয়ে পড়ার ফলে তাঁদের সামনে বেঁচে থাকার দ্বিতীয় কোন পন্থা উম্মুক্ত রইল না। যে চারটি পত্রিকা প্রকাশিত হবার সিদ্ধান্ত পাকাপাকি হয়ে গেছে, সেগুলোতে কোনো রকমে স্থান করে নেয়ার জন্য প্রতিটি সাংবাদিকই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভিন্ন কোন আচরন আশাও করা বোধহয় সম্ভব ছিলনা। অবশ্য শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার তাঁদের কর্মসংস্থান করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দান করেছিলেন এবং সরকার থেকে তাঁরা অল্প-স্বল্প মাইনেও পাচ্ছিলেন। এই অনিশ্চিত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের মাথায় যে চিন্তাটা প্রথমে এসেছিল তাতে বাহ্যত দাসোচিত আত্মসমর্পন এবং সুবিধাবাদি চরিত্রের পরিচয় স্পষ্টতভাবে ফুটে উঠলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিচারে তাই-ই ছিল একান্ত বাস্তব এবং যুক্তিসংগত। প্রতিটি আলাদা আলাদা পত্রিকার সাংবাদিকেরা ভাবলেন তারা আগেভাগে যদি সরকারি দলে যোগ দেয়ার আবেদনপত্রে সই দিয়ে বসেন, সরকার অনুকম্পা করে তাঁদের কথাটি বিবেচনা করে দেখবেন। এই ধরনের মনোভাবের বশবর্তী হয়ে যাবার বেশ কয়েকদিন পূর্বে “দৈনিক পূর্বদেশ” পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ সদলবলে বাকশালের কেন্দ্রীয় দফতরে গমন করে সই করা আবেদনপত্রসমুহ জমা দিয়ে এসে মনে করলেন, যা্ক্‌ নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। এই ঘটনার পর থেকে অন্যান্য চালু এবং বাতিল পত্রিকার কর্রমরত সাংবাদিকদেরও বোধদয় ঘটল। তাঁরা ভাবলেন, পূর্বদেশের সাংবাদিকদের মত তাঁরাও যেয়ে যদি বাকশালের সদস্যপদের আবেদনপত্রে সই না করেন, তাহলে তাদের চাকুরি হবে না এবং চালু পত্রিকায় কর্মরত থাকলে চাকুরিটি টিকবে না। সরকারি পত্রিকায় সরকারিদলের লোকদের কাজ পাবার নৈতিক দাবীই সবচেয়ে বেশী। তারপর থেকে সাংবাদিকেরা দিগ্বিদিক জ্ঙান হারিয়ে দল বেঁধে নিয়মিত বাকশাল অফিসে ধাওয়া করতে থাকলেন। প্রতিটি পত্রিকার সরকারসমর্থক সাংবাদিকেরা উদ্যোগী হয়ে সহযোগী এবং কলাকুশলীদের টেনে নিয়ে জাতীয় দলের অফিসে হাজিরা দিতে আরম্ভ করলেন। রাস্ট্রের তৃতীয় স্তম্ভ বলে কথিত সংবাদপত্রের কারিগরদের একাংশ পেশাগত মর্যাদা, স্বাধীনতাস্পৃহা, সত্য এবং ন্যায় – সাংবাদিকতাবৃত্তির সংগে সংস্লিষ্ট ইত্যাদি মহত অনুষংগসমুহ বাদ দিয়ে যে নাটকের অবতারনা করেছিলেন বাংলাদেশের সমাজে অনতিবিলম্বে তার প্রভাব অনুভুত হতে শুরু করে। অবশ্য সাংবাদিক মাত্রেই যে বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য লালায়িত ছিলেন তেমন কথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। চাপের মুখে বাকশাল সদস্যপদের আবেদনপত্রে সই করে একজন সাংবাদিককে আমি সত্যি সত্যি নিজের চোখে কাঁদতে দেখেছি। বেশ ক’জন সাংবাদিক ভয়ভীতি অগ্রা হ্য করে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার আদর্শ এবং নীতিতে অটল ছিলেন। “ইত্তেফাক” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জনাব আসাফউদ্দৌলা রেজা আবেদনপত্রে সই করেননি। এই অভিযোগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় “ইত্তেফাক” প্রকাশ পাওয়ার সময় তাঁর চাকরি চলে যায়।

    বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষনা করেছিলেন যে আমলা, কর্মরত সাংবাদিক, স্বায়ত্বশাসিত এবং আধা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমুহের কর্মচারীবৃন্দ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক যে কেউ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অবশ্য কাকে সদস্যপদ দেয়া হবে, কাকে হবে না সটি সম্পুর্নভাবে কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।

    যে কেউ ইচ্ছে করলে সরকারি দলে যোগদান করতে পারবে, এটা ছিল সরকারি ঘোষনা। আসলে যোগ না দিলে কারো নিস্তার পাবার উপায় ছিলনা। ভেতরে ভেতরে সমস্ত সরকারি বেসরকারি দফতর স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পত্রিকার সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন যে, সবাইকে জাতীয়দলে যোগ দেয়ার আবেদনপত্রে সই করতে হবে। কতৃপক্ষ যাকে বিপজ্জনক মনে করেন সদস্যপদ দেবেন না, কিন্তু বাংলাদেশে বাস করে চাকুরি-বাকরি, ব্যাবসা-বানিজ্য করে বেঁচে-বর্তে থাকতে চাইলে জাতীয়দলের সদস্যপদের আবেদনপত্রে সই করতেই হবে। সর্বত্র বাকশালে যোগদান করার একটা হিড়িক পড়ে গেল। শেখ মুজিবুর রহমান যেদিন আনুস্ঠানিকভাবে বাকশালের কেন্দ্রীয় দফতর উদ্বোধন করতে এলেন তাঁকে স্বাগত সম্ভাষন জ্জাপনের উদ্দেশ্যে গোটা দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক, কৃষক সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে হাজির থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেদিন ছিল মুষলধারে বৃষ্টি। অবিরাম ধারাস্রোতে প্লাবিত হয়ে ভেজা কাকের মত সুদীর্ঘ মানুষের সারি কিভাবে রাস্তায় তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন, যাঁরা এ দৃশ্য দেখেছেন ভুলবেন না। মহিলাদের গাত্রবস্ত্র ভিজে শরীরের সংগে একশা হয়ে গিয়েছিল। এই সুবিশাল জনারন্যে আমাদের দেশের নারীকুলকে লজ্জা-শরম জলান্জলি দিয়ে সশংকিতচিত্তে তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা করতে হচ্ছিল।

    নাগরিক জীবনের সর্বত্র একটা আতন্কের কৃষছায়া প্রসারিত করে আসছিল। এ ধরনের চিন্তা, বুদ্ধি এবং সাহসরোধী পরিবেশে যেখানে মানুষের বিচার-বুদ্ধি কাজ করে না, বেঁচে থাকা বলতে শুধু বোঝায় কোন রকমে পশু অস্তিত্বের সংরক্ষণ। নৈতিক সাহস, মানবিক মুল্যবোধ ইত্যাকার সুসভ্য জীবনের বোধগুলো বাংলাদেশে সর্বপ্রকারের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। সবখানে আতন্ক, উদ্বেগ। এ তো গেল একদিকের চিত্র। অন্যদিকে গ্রাম-বাংলার মানুষদের অবস্থা দুর্দশার শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে। দেশে অভাব, দুর্ভিক্ষ, মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ক্ষুধার তাড়নায় মা সন্তান বিক্রি করছে। স্বামী স্ত্রীকে পরিত্যাগ করছে। বিনা কাফনে লাশ কবরে নামছে। সৎকারবিহীন অবস্থায় লাশ শৃগাল-কুকুরের আাহার্য হওয়ার জন্য পথে পথে পড়ে থাকছে। চারদিকে জ্বলন্ত বিভীষিকা, চারদিকে হা-অন্ন, হা-অন্ন রব। এই অন্নহীন বস্ত্রহীন মানুষের দংগল একমুঠো ভাত, এক ফোটা ফেনের আশায় ঢাকা শহরে এসে শহরের ফুটপাতে চিৎ হয়ে মরে থাকছে।

  5. 13
    sami23

    আচ্ছা জিয়া ভাই এই পোস্ট থেকে আমার কমেন্ট গুলা গেলে কই?জিয়া ভাই কি আমার কমেন্ট গুলা উনার সেন্দুকের ভিতর তালা মেরে রেখে দিছেন?নাকি আপনার পোস্টে আমার মন্তব্য করা হাসিনার সংবিধানে নিষিদ্ধ আছে নাকি সদালাপে নীতি মালা বহির্ভূত আমি কোন মন্তব্য করেছি।এ বিষয়ে জিয়া ভাই কাছ থেকে ফতোয়া এবং সম্পাদক সাহেবের কাছ থেকে উত্তর আসা করি।

  6. 12
    আহমেদ শরীফ

    অবশেষে অরিন্দম কহিলা বিষাদে … আমাদের পুরানো ইসলামপন্থিদের কেউ কেউ কি একজন কমিউনিস্টদের কাছেও সত্যবাদিতা আর নিরপেক্ষতার মানদন্ডে হেরে গেলেন ? কি শোচনীয় অধঃপতন !

    আনু মুহাম্মাদের লেটেস্ট স্ট্যাটাস দেখেন _

    মুক্তিযুদ্ধ নামাবলী গায়ে দিলেই যা খুশি তাই করবার এখতিয়ার তৈরি হয় না। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো স্বৈরতন্ত্র সাম্প্রদায়িকতা আধিপত্য আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মানুষের মুক্ত একটি ভূখন্ডের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাই কখনোই চোর ডাকাত আর সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কখনোই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেওয়া হতে পারে না। গণতন্ত্রের সঙ্গে কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-র বিরোধিতা হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই নিপীড়ন, প্রতারণা, বর্বরতা, বৈষম্য, আধিপত্য সমর্থন করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই অপরাধীদের অপরাধের বর্ম হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন ব্যবহার অনুমোদন করতে পারে না।

    1. 12.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      <<>>

      কিন্তু সে সত্য গোপা বা গোপালীরা মানতে রাজী নয়। তাদের ভাব সাব দেখে মনে হচ্ছে গোপালীদের চেতনা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

      1. 12.1.1
        আহমেদ শরীফ

        আজ এই বয়েসে পৌঁছে বুঝতে পারছি আমাদের আওয়ামী লীগান্ধ মুরুব্বিরা আমাদের সাথে প্রতারনা করেছেন। ইতিহাসবিকৃতির মাধ্যমে। '৭১ এর কথা বলেছেন, ৭ ই মার্চের ভাষণ, '৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানের ব্যাপারে, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা, পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের রাজাকারদের পূনর্বাসনের ব্যাপারে বলেছেন সাতকাহন করে।

        কিন্তু সযত্নে এড়িয়ে গেছেন '৭৩ থেকে '৭৫ এর শাসনামল। যেটি ছিল বাংলাদেশের কৃষ্ণতম অধ্যায়। '৭৪ এর দূর্ভিক্ষ। '৭৫ এর বাকশাল এর নামে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে সম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। ২৭ থেকে ৪০ হাজার জাসদকর্মী নির্বিচারে হত্যা করে স্বৈরতন্ত্রকে সুসংহত করা, রক্ষীবাহিনী গঠন করে স্বৈরতন্ত্রকে দানবীয় পর্যায়ে উত্তরণ। বঙ্গবন্ধুর নিজের দলের অসংখ্য চোরডাকাতের নৈরাজ্যের স্বর্গরাজ্যের বৈধতা প্রদান ইত্যাদি ইত্যাদি। বাঙ্গালি জাতির সহস্রাব্দের মহানায়কের কথা বললেন, কিন্তু সেই মহানায়ক যে পরে ক্ষমতা পেয়ে একজন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দানবে পরিণত হন সে কথা আমাদের সেভাবে বলা হয় নি। ‘৭১ এর ভূমিকা আর ‘৭৫ এ সপরিবারে নিহত হওয়ার আবেগের চোরাবালিতে ডুবে গেল ঐতিহাসিক চাক্ষুষ সত্যের কঠিন বাস্তবতা।

        সেই বাকশালের নতুন রুপ এখন জনগণ দেখতে পাচ্ছে ২০১৩ তে এসে। একটি দিন এমন নেই যেদিন সুস্থ মানসিকতার কোন মানুষ বুক ভরে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। কারো কিছু বলার অধিকার নেই, কিছু করার অধিকার নেই _ সমস্ত অধিকার স্বৈরতান্ত্রিক আস্তাবলের পালা কুকুরেরা নির্ধারণ করছে। ১৯/২০ হলেই পেয়াদা পাঠিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, গুম করছে নয়তো সরাসরিই খুন করছে। আইনের কোন শাসন নেই, বিচারবিচভাগের কোন স্বাধীনতা নেই, প্রশাসনের কোন নিরপেক্ষতা নেই, সংবাদমাধ্যমগুলো অবরুদ্ধ অবস্থায় ধামাধারী তল্পিবাহকে পরিণত _ জীবন্ত এক নরকের মত হয়ে গেছে স্বদেশ, যেখানে বাঁচতে মন  চায় না, এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো গণতান্ত্রিক পন্থায় খুবই কঠিন। স্বাভাবিক পন্থায় যখন কিছুতেই কিছু হয় না তখন মুক্তির জন্য অবধারিতভাবে একসময় উম্মোচিত হয়ে যায় সশস্ত্র বিপ্লবের পথ, নৈরাজ্যের পথ। সেটাও এখন আরেক উদ্বেগের হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের আকাশ এখন শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার গভীর কালো মেঘে ঢাকা পড়ে আছে।

  7. 11
    নীরব সাক্ষী

    রক্ষীবাহিনীনামা (যৌথবাহিনীর তান্ডব)

    —————————————————-- 

    সাতমাসের শিশু কোলে রিমান্ডে শিউলি

    শহিদুল ইসলাম রাজী •

    শিউলি বেগম (২৭)। সামান্য একজন কেয়ারটেকারের স্ত্রী। তিন সন্তানের জননী। স্বামী আবুল কাশেম। তার মাসিক আয় ৭ হাজার টাকা। এ নিয়েই টানাপোড়েনে চলে শিউলির সংসার।

    মিরপুরে একটি বাড়িতে একটি রুমে বিনা ভাড়ায় থাকতেন শিউলিরা। সেই থাকাটিই কাল হলো তার জীবনে। পুলিশের রোষানলে পড়ে তিনি এখন তিন মামলার আসামী। তাও যা-তা মামলা নয়। অস্ত্র আইন, বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন এবং দ্রুত বিচার আইন।

    মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত ৬৪ (১২)১৩, ৬৫(১২)১৩ ও ৬৬(১২)১৩ নম্বরের মামলায় শিউলিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশ তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে।

    শিউলি যখন আদালতে হাজির হন, তখন তার কোলে সাত মাসের শিশু। কী হচ্ছে তা বোঝার ক্ষমতা তার নেই। তবে পাশে থাকা বড় মেয়ে বোঝে তার মায়ের সাথে সে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে। তার হাউমাউ করে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    জানা গেছে, বাড়ির মালিক বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তার জীবদ্দশায় বাড়ির নিচতলার একটি রুমে থাকতে দিয়েছিলেন শিউলিদের। তার মৃত্যুর পর পিতার ওই মহানুভবতা থেকে সরে যাননি তার সন্তানরা। তাই ওই পরিবারটি এখনো থাকছে সেই রুমে।

    সূত্র জানায়, মিরপুরের ওই বাড়িটির বর্তমান মালিক বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট ডাব্লিউ। তার পিতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেন জীবিত থাকতেই বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন আবুল কাশেম। ২৫ ডিসেম্বর বুধবার ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বাড়ির পাঁচতলা থেকে পুলিশ ৪ যুবককে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিউলি ওই বাড়িরই নিচতলায় থাকেন। পুলিশ যাওয়ার পরে বাড়ির গেট খুলতে সামান্য দেরি হয় শিউলির। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যায় পুলিশ। পরে চার যুবকের সাথে শিউলিকেও ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাছে শিউলি অনেক মিনতি করেছেন। বলেছেন, ‘আমার সাত মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। আমি একজন সামান্য গৃহবধু। তিনটি সন্তান নিয়ে আমার সংসার। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’

    কিন্তু পুলিশ তার কথা শোনেনি। তিনটি মামলায়ই তাকে আসামি করা হয়েছে। শুধু আসামী করেই খান্ত হয়নি পুলিশ। গত বৃহষ্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ২৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।

    তার আইনজীবী এ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র আইনের মামলায় শিউলিকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশ দাবি করেছে, গ্রেপ্তারকৃত যুবকরা একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। আর শিউলি তাদের সহযোগী। শিউলির স্বামী আবুল কাশেমও তাদের সহযোগী।

    জানা গেছে, মামলায় আবুল কাশেমকেও আসামী করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে বাসা থেকে লাপাত্তা আবুল কাশেম।

    কী কারণে শিউলিকে গ্রেপ্তার করা হলো সে সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মিরপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ডিউটি অফিসার জানান, এ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

    থানার ওসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  8. 10
    নীরব সাক্ষী

    আমার এক বন্ধু গতকাল রাতে ঢাকায় আসে অনেক ঝুট ঝামেলার মাধ্যমে। ৭১ সালের মত রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় চেক পয়েন্ট বসিয়ে  পুরো বাস তাল্লাশি করেছে যে কারোর কাছে বাংলাদেশী পতাকা আছে কিনা!! এখন পতাকা থাকলেই গ্রেফতার! পতাকা বানানোর অপরাধে (!) কয়েকজন দর্জিকে গ্রেফতার করেছে!

    এর পরেও সরকার  কী স্বাধীনতা বিরোধী নয়?

  9. 9
    মুনিম সিদ্দিকী

    ৭১ সালে আমি সারা বাংলাদেশ না দেখলেও আমি আমার শহর দেখেছি। এই শহরে যারা রাজাকার ছিলো তারা সবাই মুসলিমলীগের অনুসারী স্থানীয় অল্প এবং অশিক্ষিত যুবক ছিলো। যাদের কাজ ছিলো পুল কালভার্ট পাহারা দেয়া। এদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুট তরাজ করেছেন।কেউ কেউ প্রতিবেশী হিন্দুদের যায়গা জমি দখল করতে গিয়ে লুঠ, অগ্নি সংযোগ এবং কি পাক আর্মীকে মিথ্যা ইনফরমেশ্ন দিয়ে হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। যার পিছনে কোন রাজনৈতিক এজান্ডা ছিলোনা।

    আমার শহরে যারা জামাত করতেন, তারা সমাজের উচ্চ শিক্ষিত, ভাল বংশের লোক ছিলেন। তাদের মারফতে ঐ সময় যদি কোন মানবতা বিরোধী কাজ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি যে কোন শাস্তি গ্রহণ করতে রাজী আছি।

    জামাতের ছাত্র সংঘের যে কনিষ্ঠ সদস্য পাকিস্তান রক্ষার জজবায় লাথি থাপ্পর মেরেছিলেন তিনি আমাদের মিসবাহ ভাই, যিনি এখন আওয়ামীলীগ আশ্রিত ইসলামী ঐক্য ফ্রন্টের একাংশের চেয়ারম্যান।

    আর আলিমরা ঐ সময় যে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছেন এর জন্য যে, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জড়িত হওয়াকে ভালো চোখে দেখতে পারেননি। কারণ মাত্র ২৪ বছর আগে অখন্ড ভারতে মুসলিমদের কি অবস্থা ছিলো তা তারা ভুলে যেতে পারেননি।

    তাদের কাছে ইসলাম এবং মুসলিম স্বার্থটা বড় হয়ে দেখা দিয়েছিলো। তা ছাড়া তখনকার বিশ্ব আজকের মত ছিলোনা। কাজেই দেশের অন্যান্য যায়গায় কি হচ্ছে তা তারা জানতে পারতেন না।

    আমার বিশ্বাস শেখ মুজিবুর রহমানও ভারতের সহযোগীতায় বা আমাদের গর্দান ভারতে নিচে বন্ধক দিয়ে দেশ স্বাধীন হোক তা চাননি। চাইলে তিনি পাকিস্তানে না গিয়ে দালাই লামার মত ভারতে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করে দেশ স্বাধীন করতে পারতেন।  শেখ চেয়ে ছিলেন পার্লামেন্টের মাধ্যমে পৃথক হয়ে যাওয়া। যদি সেদিন এই ভাবে পৃথক হয়ে যেতে তাহলে আজ যে কারণে দেশের মানুষ ২ ভাগ হয়ে রয়েছে সে ভাবে হতোনা। ধন্যবাদ।,

    1. 9.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      যখন একটা চোর চুরি করে তখন গৃহস্থ ছাড়া চোরের বিপক্ষে স্বাক্ষী থাকে না। চোর যদি প্রভাবশালী হয় তবে পুরো গ্রামকে তার পক্ষে স্বাক্ষী হিসাবে হাজির করতে পারে এই বলে যে তারা চোরকে চুরি করতে দেখেনি। 

       

      আপনার বাড়ী থেকে মাত্র কয়েক মাইল দুরে শ্রীমংগল -- সেখানে পাক বাহিনীর  সবচেয়ে বড় ক্যাম্প ছিলো -- সেই ক্যাম্পের থেকে লোকজনকে খোয়াই নদীতে এনে হত্যা করা হতো -- আর সেই লাশগুলো ভেসে যেতো নদী দিয়ে। 

       

      আপনি দয়া করে ইসলামের নামে জালেমদের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করুন। মজলুমদের পক্ষে একবার ভাবুন। 

       

      মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভুমিকা নিয়ে গোলাম আযম পছন্দ করেনি -- কারন ভারত ১ কোটি রিফিউজীকে আশ্রয় দিয়েছিলো। ভারত যদি সীমান্ত বন্ধ করে রাখতো -- পাকিস্তানের জুলুমের বিষয়ে নীরব থাকতো তবে এখন বাংলাদেশে জিন্দাবাদ বলে ইসলাম কায়েমের জন্যে জাতীয়তাবাদী হওয়ার চেয়ে আমাদের পাকিদের দাস হয়েই থাকতো হতো। অকৃতজ্ঞতা একটা রোগ -- আর আমাদের মাঝে ভারত বিদ্বেষ এতোই গভীর যে যুদ্ধের সময় ভারতের এতো বড় সহায়তা আর বন্ধুত্বর হাতকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখি। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী মুসলিম ভাইরা নির্বিচারে মুসলিম বোনদের ধর্ষন করলো -- অন্যদিকে ভারতের মুসরিকরা সেই বোনদের রক্ষায় সহায়তা করলো -- এখন ভারত হলো আমাদের শত্রু আর পাকিস্তানীরা ভাই। এই হলো আপনার ইসলামী ভাতৃত্বের নমুনা। 

      1. 9.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        যখন একটা চোর চুরি করে তখন গৃহস্থ ছাড়া চোরের বিপক্ষে স্বাক্ষী থাকে না। চোর যদি প্রভাবশালী হয় তবে পুরো গ্রামকে তার পক্ষে স্বাক্ষী হিসাবে হাজির করতে পারে এই বলে যে তারা চোরকে চুরি করতে দেখেনি। 

        চোর তো সবাইকে ডেকে বলে চুরি করেনা। যারা বলে ডেকে করে তারা চোর নয় তারা সন্ত্রাসী। তবে সে পেশাদার চোর যে তার স্বভাব চোর তার পেশা চুরির। কাজেই পেশাদার চোরদেরকে স্থানীয়া ভালো ভাবে জানে। তাই লোকেরা, চোরদের গ্রাম, চোরের বাড়ির লোক ইত্যাদি বিশেষণ ভুষিত করে থাকে। কিন্তু সমাজে মাঝে মধ্যে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে  ভালো মানুষ কাউকে চুরির অপবাদ দেয়া হয়, সে অপরাধে তাকে জেল জরিমানা করা হয়। কিন্তু পাবলিক ঠিক বুঝতে পারে বিষয়টি কি?

        আর প্রভাবশালীর কথা যখন তোলছেন তখন বলুন ৭১ এর পর কারা প্রভাবশালী? কাজেই যারা প্রভাবশালী তারা তাদের পক্ষে যে স্বাক্ষী হাজির করতে পারছে তা রিসেন্ট ঘটনাবলি থেকে প্রমানিত হচ্ছে।

         

        আপনার বাড়ী থেকে মাত্র কয়েক মাইল দুরে শ্রীমংগল – সেখানে পাক বাহিনীর  সবচেয়ে বড় ক্যাম্প ছিলো – সেই ক্যাম্পের থেকে লোকজনকে খোয়াই নদীতে এনে হত্যা করা হতো – আর সেই লাশগুলো ভেসে যেতো নদী দিয়ে। 

        জিয়াভাই, আমি কি কখনও বলছি যে, পাকিস্তান আর্মীরা আমাদের দেশের মানুষকে অন্যায় ভাবে হত্যা করেনি? বা আমাদের মা বোনদেরকে ধর্ষণ করেনি?  আমি যদি তা অবিশ্বাস করতাম তাহলে কেন আমি ২০০১ সালে তাদের বিচার জাতিসঙ্ঘের কাছে চেয়ে অনলাইন পিটিশন হোস্ট করতাম? মনে রাখবেন, ২০০১ সালে কিন্তু কোন বাংলাব্লগ বা ফেসবুকের মত কিছু ছিলোনা। http://www.petitiononline.com/petitions/massacre এই পিটিশন হোস্টিং তা ছিলো আমার প্রাণের আকুতি।

        আমি শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ধর্ষনের জন্য পাকিস্তানী অপরাধীদের বিচার চেয়ে আসছি। পাকিস্তানীরা ঐ নয় মাস তিন ধাপে আমাদের দেশের মানুষকে হত্যা করে। প্রথম শুরুতে ছিলো ইচ্ছামত হত্যা, সে হত্যাকাণ্ডে কে ইসলামপন্থী, কে পাকিস্তানপন্থী কে জয় বাংলাপন্থী কে মুসলিম কে হিন্দু তা তারা প্রার্থক্য করেনি। সেই হত্যাকাণ্ডে কোন জামাত বা রাজাকার তাদের পথ দেখিয়ে নেয়নি। প্রথম দিকে হত্যা কাণ্ড ঘটেছিলো পাকিস্তানী ডি আই বি পুলিশের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে।

        ২য় পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে এই দেশীয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকিস্তানপক্ষি রাজনীতিবিদ জড়িত থাকলেও বেশীর ভাগ হত্যা কাণ্ড ঘটানো হয়েছিলো হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের অভিলাষী কিছু ব্যক্তিদের ভুল তথ্য প্রদান দ্বারা।

        ২য় পর্যায়ের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে যখন পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পন করার আগ মুহুর্ত্যে।

         

        আমি বরাবরের মত আবারও বলছি, আমার শহরের কোন জামাত দল করে লোক এই সব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলোনা। এরা সমাজের সম্মানিত হলেও তারা স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতিতে কোন প্রভাব দেখাতে পারেননি। বরং যারা মুসলিমলীগ ছিলেন তাদের আপনজনরাই এখন আওয়ামীলীগের প্রভাব শালী নেতা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভাপতি। তারা এমন দাবী করেন যে, তাদের আত্মীয়স্বজন তখন মুসলিমলীগে ছিলেন বলেই আমাদের শহরে পাকিদের হত্যা ধর্ষণের ঘটনা তেমন ঘটেনি।

        আমাদের শহর মুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর, ১২ ডিসেম্বর ধরা হয় প্রধাণ প্রধাণ স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে। স্থানী মুক্তিযোদ্ধারা মাইক দিয়ে ঘোষনা করেছিলো পরদিন সরকারি স্কুলের মাঠে এদেরকে গুলি করে হত্যা করা হবে। কিন্তু রাতে হবিগঞ্জ থেকে কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী এসে তাদের উদ্ধার করে সিলেট জেলে নিয়ে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন।

         

         

        আপনি দয়া করে ইসলামের নামে জালেমদের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করুন। মজলুমদের পক্ষে একবার ভাবুন। 

        আমি জালিমদের পক্ষে কোন কালে ছিলাম না এখনও নেই, তবে নিছক ভারতের এজেণ্ডা বাস্তবায়নকে মেনে নিতে পারিনা বলেই আমার প্রচেষ্ঠা চালু রেখে যাচ্ছি। আর এই চালু রাখা হচ্ছে আমাদের ঈমানী দায়ীত্ব।

         

        মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভুমিকা নিয়ে গোলাম আযম পছন্দ করেনি – কারন ভারত ১ কোটি রিফিউজীকে আশ্রয় দিয়েছিলো। ভারত যদি সীমান্ত বন্ধ করে রাখতো – পাকিস্তানের জুলুমের বিষয়ে নীরব থাকতো তবে এখন বাংলাদেশে জিন্দাবাদ বলে ইসলাম কায়েমের জন্যে জাতীয়তাবাদী হওয়ার চেয়ে আমাদের পাকিদের দাস হয়েই থাকতো হতো। অকৃতজ্ঞতা একটা রোগ – আর আমাদের মাঝে ভারত বিদ্বেষ এতোই গভীর যে যুদ্ধের সময় ভারতের এতো বড় সহায়তা আর বন্ধুত্বর হাতকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখি। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী মুসলিম ভাইরা নির্বিচারে মুসলিম বোনদের ধর্ষন করলো – অন্যদিকে ভারতের মুসরিকরা সেই বোনদের রক্ষায় সহায়তা করলো – এখন ভারত হলো আমাদের শত্রু আর পাকিস্তানীরা ভাই। এই হলো আপনার ইসলামী ভাতৃত্বের নমুনা। 

        মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভুমিকা নিয়ে শুধু গোলাম আযম কেন আমাদের হাক্কানী আলেমদের ৯৯ জনই সেদিন পছন্দ করেননি। কোন অ মুসলিম মুসলিমদের বন্ধু হতে পারেনা, বিশেষ করে যেখানে রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন জড়িত।

        ভারত যদি সীমান্ত বন্ধ রাখতো তাহলে কি হতো না হতো তা আপনি কি করে বলতে পারেন? যা ঘটেনি তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তব সিদ্ধ হবেনা।

        ভারত নিছক মানতার স্বার্থে বা আমাদেরকে মহব্বত করে বলেই সেদিন সাহায্য করেছিলো বললে ভুল বলা হবে। তারা ভারত উপমহাদেশে একক শক্তিশালী রাষ্ট্র হয়ে থাকার জন্য ৭১ যখন সুযোগ পেয়েছে তখন তা কাজে লাগিয়েছে। এবং ৭১ সে ক্যাপিট্যাল তারা ইনভেস্ট করেছিলো স্বাধীনতার পর থেকে সুদে মুলে সব শোধ করে নিয়ে যাচ্ছে।

         

      2. 9.1.2
        জামশেদ আহমেদ তানিম

        ভারত একবার সহায়তা করেছিলো এর জন্য ভারতকে হাজারবার ধন্যবাদ। তার হাজারটা দূরুভিসন্ধি ছিল, ছিল শ'খানেক মতলব তারপরেও তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

        এবার আসুক, আমরা পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়েছিলাম অত্যাচার থেকে বাচার জন্য; সেক্যুলার রাষ্ট্র, নাস্তিক মিলিট্যান্সির উত্থান, বাকশাল, ভারতের তাবেদারী করার জন্য না।

        বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারত হাজারটা সুবিধা গ্রহন করেছে, করার পায়তারা-ও করছে। এখন ৭১'এর মুক্তিযুদ্ধের পরে হতে অদ্যবধি ভারতের কোন অবদান বা বন্ধুতের নিদর্শন দেখান।

        বরং আমরা দেখতে পাই বা-আল নামে এক দল নানান চুক্তির মাধ্যমে ভারতকে আরো বেশি সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। বা-আলের দেশ বিরোধী চুক্তিগুলো বৈধতার জন্য চেতনা, স্বাধীনতা বিরোধী ইত্যাদি নাম দিয়ে কাজ করছে আপনাদের  মত কিছু দালাল। সত্যকারের স্বাধীনতা বিরোধী দেশ বিরোধী তো আপনারা। দেশের চেতনা, বাঙ্গালীত্ব নিয়ে লুটপাট করেন, দূর্নীতি করেন, চেতনা ভাঙ্গিয়ে দূর্নীতি দমন কমিশনকে লুলা করে দেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করেন। চেতনার নাম দিয়ে ব্যাক্তিপূজা করতে ছাড়েন না, চেতনার নামে পাখির মত মানুষ মারতে-ও কসুর করেন না।

        দেশ সবার শুধুমাত্র একটা গোষ্ঠীর কাছে দেশ ইজারা দেয়া হয় নাই।

        সুতরাং যারা ওসব চেয়েছিলো তারা অলরেডী নৃশংসভাবে ইতিহাস এখন তাদের উত্তরসূরীরা যারা ওসব চাইছে তারাও একই পথেই যাবে।

        নব্য চেতনাধারীরার হচ্ছে উগ্র মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী, নব্য তালেবান; যত শীঘ্রই সম্ভব এদের বিরুদ্ধে সবাইকে এক জোট হতে হবে, এসব সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে হবে।

      3. 9.1.3
        নীরব সাক্ষী

        ভারত বিপদে আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন এই আশ্রয়দাতাই যদি ধর্ষন করে, তবে কী আপনি বলতে চান ভারতের ধর্ষনকে উপভোগ করতে? @ জিয়া সাহেব    

      4. 9.1.4
        sami23

        মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভুমিকা নিয়ে গোলাম আযম পছন্দ করেনি – কারন ভারত ১ কোটি রিফিউজীকে আশ্রয় দিয়েছিলো। ভারত যদি সীমান্ত বন্ধ করে রাখতো – পাকিস্তানের জুলুমের বিষয়ে নীরব থাকতো তবে এখন বাংলাদেশে জিন্দাবাদ বলে ইসলাম কায়েমের জন্যে জাতীয়তাবাদী হওয়ার চেয়ে আমাদের পাকিদের দাস হয়েই থাকতো হতো। অকৃতজ্ঞতা একটা রোগ – আর আমাদের মাঝে ভারত বিদ্বেষ এতোই গভীর যে যুদ্ধের সময় ভারতের এতো বড় সহায়তা আর বন্ধুত্বর হাতকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখি। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী মুসলিম ভাইরা নির্বিচারে মুসলিম বোনদের ধর্ষন করলো – অন্যদিকে ভারতের মুসরিকরা সেই বোনদের রক্ষায় সহায়তা করলো – এখন ভারত হলো আমাদের শত্রু আর পাকিস্তানীরা ভাই। এই হলো আপনার ইসলামী ভাতৃত্বের নমুনা।

        দল্কানা জিয়া ভাই এক কুমিরে বাচ্চাকে কয়বার মানুষকে দেখাবেন। আপনারভারত খাঁচায় ঢোকানোর জন্য মিথ্যা মমতা ও আদর্শের বুলি কপচানো কি কোন ব্রেক নেই।আপনার পোস্টে পড়লে মনে হয় আপনার ভারত মাতার বিপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেইমানি বলে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো মহানন্দে লাফালাফি করে বেড়ান।চেতনার নামে অর্থাৎ ভারতকে বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে এবং চেতনার জোয়ার তুলে ক্ষমতার রাজনীতি যে বিভাজন তৈরি করে দেশে আজ ইসলাম ও জাতীয় চেতনা মুখামুখি।ভারতের তৈরি করে দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুসারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নাম করে ইসলাম বিদ্বেষ যুক্ত হয়ে প্রগতিশীলতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে ইসলামকে।চেতনা এখন মরণ ফাঁদ হয়ে নেমে আসছে বাংলাদেশ। ভারত মাতার স্বার্থে চেতনার ইতিহাসকে দলীয় ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করে বিভাজন জিয়িয়ে রেখেছি।বিভাজনটা সমাজে পরিষ্কার হয়ে গেছে।শাহবাগ আর শাপলা।শাহভাগে আছে নাস্তিক,চেতনা ব্যবসাহি,মুসলমান নামধারী কিছু মুশরিখ,বেঈমান।আর শাপলা আছে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ।

        ভারত কি আমাদের মায়ের পেঠে ভাই ছিল কি যে,বিনা স্বার্থে ভারত ১ কোটি রিফিউজীকে আশ্রয় দিয়েছিলো?নাকি নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা জন্য বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলে।এই আপনার ১ কোটি রিফিউজীর  মধ্যে কাঁরা ছিল?সেটা কি অজানা?আপনি আপনার মত ১ কোটি রিফিউজীর ইতিহাসকে বগলে নিয়ে দৌড়াছেন।অথচ ইতিহাস বলে তাদের স্বজাতি ভাইকে  সেই সময় কাঁদে তুলে নিয়ে আপনার ভারত মাতা।আবার সেই ভারত মাতা তাদের আসল খাসলত দেখালো ্যোদ্ধের পর তাদের স্বজাতি ভাইদের গায়ের জোরে,বন্দুকের জোরে দেশ পাঠিয়ে দিল। ভারতের সাহায্যর পরিণাম আমরা কি পাচ্ছি? হাম্বা লীগপুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ভারতীয়দের হাতে অলিখিতভাবে তুলে দেয়া,কোনটি করেনি স্বাধীনতার পর থেকে ভারত। স্বাধীনতার পর  ভারতীয় ব্যুরাক্র্যাসির হিডেনহ্যান্ড শেখ হাসিনার হাত দিয়ে বাংলাদেশকে কিছু পেতে দেয়নি, শুধু নিয়েই গেছে একতরফা ভাবে।আজ বাংলাদেশ ভারতের ওটা এখন বৃহৎ ভারতের ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।

        আপনার মত দলকানারা দাদাদের বন্ধুতের দোহাই দিয়ে সুন্দরবনকে বান্দরবন বানাইতাছেন।অথচ দাদা এক মুখপাত্র অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর ভারতের বিজনেস স্টান্ডার্ড পত্রিকায় ‘এবান্ডনিং ঢাকা : ইন্ডিয়া হ্যাজ কন্ট্রিবিউট টু বাংলাদেশ পলিটিক্যাল টার্মোয়েল’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আন্তঃনদী পানির অংশীদারিত্ব, সীমান্তচুক্তিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে মীমাংসায় না পৌঁছানোয় বাংলাদেশে ভারতপন্থী আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে উল্লেখ করে বলা হয়, “ভারত আওয়ামী লীগের সমর্থনকে দুর্বল করতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তঃনদী পানির অংশীদারিত্ব এখন বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাজ্য সরকারের আপত্তিতে ছিটমহলের বিনিময় ও সীমান্ত চুক্তি-২০১১ ঝুলে আছে। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে হত্যাকা- চলছে। দেখামাত্রই গুলি- বিএসএফের এই নীতির কারণে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে বাংলাদেশে। কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুঁলিয়ে রাখার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে খালাস করে দেয়া হয়েছে- যা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।” বিজনেস স্টান্ডার্ডের সাথে সুর মিলিয়ে এ কথা বলাই যায়, আজকে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভারতের যে প্রবল আকুতি তা মনে রেখে যদি বাংলাদেশের দাবি পূরণে ভারত এতটুকুও সম্মান প্রদর্শন করত তাহলে শেখ হাসিনা ও ভারত কাউকেই আজকের এই এতোটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না। দি হিন্দু পত্রিকার মতে, এটি সত্য, শেখ হাসিনা ভারতের ভালো বন্ধু। কিন্তু তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার বিতর্ক এবং স্থল-সীমান্ত বিষয়ে ভারত যথার্থ প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি সরকারের ওপর ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ পেয়েছে।

         

      5. 9.1.5
        sami23

        এখানে দলকানা জিয়া ভাই য়ের অন্ধ ভারতমাতা প্রীতি দেখে স্টালিন সরকার এই লেখাটি দিলাম। কারণ উনার আচার আচরণ নব্য লেন্দুপ দর্জিদের সাথে বেশ মিলজুল আছে।ভারতীয় চেতনার বড়ি খেয়ে এ দেশে সেক্যুলারিষ্ঠ ইসলামের প্রতিষ্ঠা স্বপ্ন দেখেন।উনি নিজ ভাইয়ে লাশের উপর পা দিয়ে ইসলাম কায়েমের স্বপ্ন দেখেন।নাস্তিককে শহিদ বলে খাটি ইমানদার সাজেন।গাছ জন্য কেঁদে উনি ফতোয়া দেন।

        হাজারো লেন্দুপ দর্জি সক্রিয় : আশ্রিত রাষ্ট্রের পথে দেশ?

        সিকিমের কথা মনে পড়ে? ভারতের উত্তরাংশে তিব্বতের পাশে ছিল ওই দেশ। দেশটির স্বাধীন রাজাদের বলা হতো চোগওয়াল। ভারতে বৃটিশ শাসন শুরুর পূর্বে পার্শ্ববর্তী নেপাল আর ভুটানের সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে সিকিম। বৃটিশরা আসার পর তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েও নেপালের বিরুদ্ধে ছিল সিকিম। রাজা ছিলেন নামগয়াল। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর ভৌগোলিক কারণে সিকিমের গুরুত্ব বেড়ে যায়। ১৯৭০ সালে ভারতের নীলনকশায় লেন্দুপ দর্জির সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে। রাজপ্রাসাদের সামনে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে ইন্দিরাগান্ধী সরকার রাজার নিরাপত্তায় সৈন্য পাঠায়। রাজা গৃহবন্দী হন। বিএস দাশ নামের একজনকে ভারত সরকার সিকিমের প্রধান প্রশাসক নিয়োগ করে। এই সময় আমেরিকান এক পর্বতারোহী গোপনে সিকিম প্রবেশ করেন এবং দেশটির স্বাধীনতা হরণের খবর বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন। ততক্ষণে সব শেষ। ভারতের তাঁবেদার লেন্দুপ দর্জির নেতৃত্বাধীন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস (এসএনসি) ১৯৭৪ সালে পাতানো নির্বাচনে সংসদের ৩২ আসনের মধ্যে ৩১টি বিজয়ী হয়। নির্বাচনে জিতে ১৯৭৫ সালের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী লেনদুপ দর্জি রাজতন্ত্র বিলোপ করলে ভারতীয় সেনারা সিকিমে ঘাঁটি গেড়ে বসে। অতপর ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট। বন্দুকের মুখে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭৫ সালের ৬ এপ্রিল ভারতীয় সৈন্যরা রাজাকে বন্দী করে প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা স্বাধীন রাষ্ট্র সিকিমকে গ্রাস করে ভারতের প্রদেশ করেন। লেন্দুপ দর্জি স্থান ইতিহাসে কোথায় হয়েছে সবার জানা। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ লেন্দুপ দর্জিতে ভরে গেছে। শত শত হাজার হাজার লেন্দুপ দর্জির বিচরণ সর্বত্র। টেলিভিশনের টকশো আর পত্রপত্রিকার লেখালেখিতে তারা দিল্লির গীত গাইছেন। ঢাকার স্বার্থের চেয়ে দিল্লির স্বার্থকে বড় করে দেখছেন। তথাকথিত জঙ্গি নামের জুজুর ভয় দেখিয়ে জনগণকে দিল্লির মোসাহেবদের দলকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। বিনিময়ে তারা কি পাচ্ছেন তা তারাই ভালো জানেন। তবে তাদের আচরণে বোঝা যায় কথায় কথায় দিল্লি সফর এবং কলকাতা তাদের যেন মাতৃভূমি করে ফেলেছেন। এই নব্য লেন্দুপ দর্জিদের ঠেকাতে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনীতিক ও সাধরণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। এখন ভূখ- দখলের প্রয়োজন পড়ে না। ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই হলো। একজন হাই কমিশনারের পদ কত বড়? ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ ডাকলেই মন্ত্রীরা ছুটে যান তার বাসায় আর অফিসে। কূটনৈতিক শিষ্টচার ভঙ্গ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেন্দুপ দার্জি মার্কা বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটা কিসের আলামত?
        মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করা দেশের নেতানেত্রীরা কি মেরুদ-হীন? বুদ্ধিজীবীরা কি বিবেক বন্ধক রেখেছেন ভারতীয় রুপির কাছে? মিডিয়াগুলো কি দিল্লির কাছে বন্দী? নাকি কিছু মিডিয়া ওদের টাকায় প্রতিষ্ঠার কারণে দেশের চেয়ে তাদের প্রতি দরদ বেশি দেখানো হচ্ছে? অনেক মিডিয়ায় ভারত থেকে কর্মকর্তা শিল্পী আমদানি করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে কি দিল্লির দাসত্বের মানসিকতা দায়ী? দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য স্বাধীন বাংলাদশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয় দিল্লিতে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়ে ‘সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন’ নিশ্চিত করতে দেনদরবার করেন। সার্বভৌম দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য যেন দিল্লির মর্জির ওপর নির্ভরশীল। দিল্লি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করছে অথচ বুদ্ধিজীবী, বিদ্যাজীবী, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিকসেবী এবং রাজনীতিকদের বড় একটি অংশ লেন্দুপ দর্জির মতো মিডিয়ায় দিল্লির গুণকীর্তনে সর্বদা ব্যস্ত। শেখ হাসিনা সরকারের ‘দিল্লি তাঁবেদারি’ নীতিতে দারুণ খুশি। প্রবাদে আছে ‘আত্মীয় বদল করা যায়/ কিন্তু প্রতিবেশী বদল করা যায় না।’ প্রশ্ন হলো ভারত আমাদের কেমন প্রতিবেশী? বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন? ভারতের সঙ্গে কি আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক? নাকি তোষামোদের সম্পর্ক? ৪২ বছরে ভারত কি বাংলাদেশের কাছে বন্ধুত্বের কোনো নিদর্শন দেখিয়েছে? মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি কি বাস্তবায়ন হয়েছে? তারপরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে দিল্লির দাদাগিরিতে এদেশের লেন্দুপ দর্জিদের এত আগ্রহ কেন?
        গতকালও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক এক কমিটি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে শুনানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দিল্লিতে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিদেশিরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে অসুবিধার কি আছে? তারা আমাদের ভালোর জন্য বলছেন না খারাপের জন্য বলছেন সেটা দেখতে হবে। কামাল হোসেনের এ বক্তব্য মেনে নিয়েও বলা যায় ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। বাংলাদেশের মতো স্বল্প উন্নত দেশের উচিত সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার কি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়েছেন না তাঁবেদারির সম্পর্ক?
        টেলিভিশনের টকশোগুলোতে আলোচকদের অনেকেই কথায় কথায় পাকিস্তানের আইএসআইকে টেনে এনে বিএনপিসহ ইসলামী ধারার দলগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা খোঁজা চেষ্টা করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ওই মুখচেনা আলোচকরা আবার দিল্লির তোয়াজ করেন। ওইসব ব্যক্তির চোখে নিজ দেশে ‘র’এর অবাধ বিচরণের চিত্র ধরা পড়ে না। ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনার জন্য মরিয়া তারা। আসলে বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো জঙ্গির প্রতি বিএনপি বা কোনো ইসলামী ধারার দল সমর্থন করে? চ্যানেল আই-এর তৃতীয় মাত্রায় বিজেপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, হঠাৎ হঠাৎ আনছারুল্লাহ নামের জঙ্গি দল আবিষ্কার করা হয়। হঠাৎ হঠাৎ এভাবে জঙ্গি আবিষ্কারের নেপথ্যে কি? বাংলাদেশের মানুষ কখনো জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেয় না। অথচ বিশেষ বিশেষ সময় জঙ্গি আবিষ্কার করা হয় এবং দিল্লির তাঁবেদারখ্যাত মিডিয়াগুলো সে খবর ফলাও করে প্রচার করে। মার্কামারা ওই বুদ্ধিজীবী আর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ভারতে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের সমূহ বিপদ হতে পারে তা নিয়ে শঙ্কা নেই। সীমান্তে বিএসএফ-এর হাতে বাংলাদেশি নিহত হলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যখন বলেন, সীমান্তে নিরপরাধ মানুষ মারা পড়েনি। অপরাধীরা মারা গেছে। তখন ওই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা নীরব হয়ে যান। ডা. দীপু মনিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া এবং তার ঘন ঘন বিদেশ সফর নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে একজন কূটনীতিক বলেছিলেন ‘ছাগল দিয়ে হালচাষ’ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রটোকল ভঙ্গ করে কলকাতা ছুটে গিয়ে দীপু মনি মমতার চেয়ারের পাশে কাচুমাচু হয়ে বসে তোয়াজ করার দৃশ্য মানুষ দেখেছে। সেই মমতা তিস্তা চুক্তি ঠেকিয়ে দিয়েছেন। বুদ্ধিজীবীদের এসব চিত্র চোখে পড়ে না। দিল্লির সাউথ ব্লকে শিব শঙ্কর মেনন বাংলাদেশের রাজনীতির গতি প্রকৃতি চূড়ান্ত করায় ঢাকার লেন্দুপ দর্জি মার্কা বুদ্ধিজীবীরা বাহবা বাহবা দেন। ভারতের সঙ্গে আরো সম্পর্ক গভীর করার প্রস্তাব করেন।
        মহাজোট সরকারের দিল্লিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করায় গোটা বিশ্বের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। সোজা কথায় বলা যায় বাংলাদেশ এখন কার্যত ‘একঘরে রাষ্ট্র’। দিল্লির আয়নায় বিশ্বকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ভারতের পদতলে ঠেলে দিয়েছে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্ব। ঢাকা নিজ দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত হয়েছে। ৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ রাজ্যের বিদ্রোহ দমনে (মূলত স্বাধীনতাকামী) সর্বাত্মক সহযোগিতা, ফ্রি ট্রানজিট, বাংলাদেশের জন্য ধ্বংসাত্মক টিপাইমুখ প্রকল্পের অনুমোদন, সুন্দরবনের জন্য সর্বনাশা রামপাল বিদ্যুৎকন্দ্রের উদ্বোধন, বন্দর সুবিধাসহ ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো একে একে পূরণ করেছে। ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করতে ফেনী নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মতো আত্মঘাতী কাজও করেছে। বিনিময়ে সীমান্তে হত্যা অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ। বর্তমান সরকারের মেয়াদে ফেলানীসহ প্রায় ৫শ নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ফেলানী হত্যার পর প্রতিবাদের বদলে সীমান্ত হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তা চুক্তি সই এবং সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়নে বার বার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় ৫০ দফার যৌথ ঘোষণাপত্র সইয়ের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে কার্যত দিল্লির কাছে বিকিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই ঘোষণাপত্রে ট্রানজিট সুবিধা, বন্দর ব্যবহার, আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে পোর্ট অব কল হিসেবে ঘোষণা দেয়া, সন্ত্রাস দমনে (ভারতের বিদ্রোহ দমন) সহায়তা, টিপাইমুখ প্রকল্পে সম্মতি দেয়াসহ ভারতের দীর্ঘদিনের চাহিদাগুলো পূরণে অঙ্গীকার করা হয়। অন্যদিকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, তিস্তা চুক্তি সই, সিটমহল বিনিময়, সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর ব্যাপারে কেবল আশ্বাস দেয়া হয় ঘোষণাপত্রে। সীমান্তে সন্ত্রাস দমন এবং মাদক চোরাচালান রোধে ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী ৩টি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির মোড়কে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ রাজ্যে বিদ্রোহ দমনে সম্পৃক্ত করে ঢাকাকে। ওই ৩টি চুক্তির ব্যাপারে সংসদে বা অন্য কোথাও কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। কেউ জানে না ওই চুক্তিতে কী আছে। চুক্তি সম্পর্কে তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় দু’দেশের গোয়েন্দা সদস্যদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। ওই চুক্তির পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অবাধে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পেয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ভারতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে এমন খবর নেই। ভারতের বিদ্রোহ দমনে যুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনার রঞ্জিত মিত্র বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে ভারত সরকার বাংলাদেশকে ট্রানজিট ফি দিতে রাজি আছে। পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ঘোষণা দিলেন, ভারতের কাছে ট্রানজিট ফি চাওয়া হবে অসম্মান। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ঘোষণা দিলেন, ভারতকে ট্রানজিট দিতে কোনো চুক্তি সইয়ের প্রয়োজন নেই। চুক্তি ছাড়াই ভারতকে ট্রানজটি সুবিধা দেয়া হবে। নৌ-প্রটোকলের আওতায় পরীক্ষামূলক ট্রানজিটের নামে স্থায়ী ট্রানজিট দেয়া হয়েছে। সীমান্ত হত্যাকে কার্যত বৈধতা দিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সীমান্ত হত্যা দু’দেশের সম্পর্কের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বার বার সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সীমান্তের পরই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্তত্ম হিসেবে বিশ্বে আজ পরিচিত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাড়া চীন, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সীমান্ত রয়েছে। তবে একমাত্র বাংলাদেশ সীমান্তেই ভারত নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অধিকারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও অন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গত ৫ বছরে প্রায় ৫০০ নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। নির্যাতনের শিকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ভারতীয় বাহিনী গুলি করে বাংলাদেশিদের মারলেও বিজিবির গুলি ছোড়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকারের নতজানু নীতির কারণে বিজিবি কার্যত অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানোর মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। প্রশ্ন হলো এ অবস্থায় দেশপ্রেমী জাতীয়তাবাদী নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা নীরব কেন? সামনে অগ্নিপরীক্ষা। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই পরীক্ষায় এদেশের লেন্দুপ দর্জিরা কি বিজয়ী হবেন? নাকি দেশপ্রেমীরা বিজয়ী হবেন?

  10. 8
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    সেকুলারদের মুরতাদ হওয়া সম্পর্কে শায়খদের ফতোয়াঃ

    http://www.islamhouse.com/450508/bn/bn/books/%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A6%BE_%E0%A6%93_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%AB%E0%A6%B2

  11. 7
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    আপনার লেখা আপনার মত অন্ধ দলকানা অপোগণ্ড ছাড়া কেউ মূল্যায়ন করে না।আমার মনে হয় আওয়ামী নেতারা আপনার মুখের উপর মলমূত্র বিসর্জন করলেও আপনার কাছে সেটা অমৃতের মতই লাগবে।আর কোনো হুজুর আপনাকে আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচালেও হুজুর আপনার কাছে "জামাতি কুত্তা" বা রাজাকারই থাকবে। 

     

     

    1. 7.1
      জামশেদ আহমেদ তানিম

      ১০০% একমত। বা-আল এখন আকবরের দ্বীন-এ-ইলাহীর মত নতুন ধর্ম।

  12. 6
    ফুয়াদ দীনহীন

    রাজাকার বাহিনী যেরকম খারাপ ছিল সেভাবেই বিবেচিত হবে।রাজনিতির কারণে ইতিহাস বদলিয়ে ফেলা কাম্য নয়। 

  13. 5
    ফুয়াদ দীনহীন

    এই বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই ছিল মাদ্রাসার মোহাদ্দেস ও মোদাচ্ছের।

    ইতিহাস তো শুধু  বুদ্ধিপরজীবিরাই লেখান নাই, আমাদের বাপ-দাদারাও বলে গেছেন। ইতিহাস কিছু জানি, একে বারে অজ্ঞ নাই। এই বাহিনীর বেশীরভাগ সদস্য আপনার মত ইংরেজি শিক্ষিত, আর কিছু অর্ধ শিক্ষিত আর কিছু অশিক্ষিত লোকজন ছিল।  

    সাধারণ অনেক আলীমরা কনফিউজ ছিলেন, ্কারণ কনফিউওজ থাকাই স্বাভাবিক, মুসলিমদের কি হবে না হবে ইত্যাদি কারণে, তাছাড়া সবাই আর্মির ভয়ে তথস্থ থাকতো। 

  14. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    বর্তমানের আওয়ামী লীগ, বি এন পি, জাতীয়, জামাত সকল রাজনীতিবিদ আর ৭১-র রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী সব একই মন মানসিকতার প্লাটফর্মে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে এখন চরম এক অস্তিরতার সময় চলতেছে।  ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন পুরুপুরি বিপন্ন।  এই দেশে সুস্থভাবে বাঁচার কোন পথ খোলা নেই। ৭১-রে যারা যুদ্ধ করেছে তাদের চোখের সামনেই দেশের এই বর্তমান অবস্থা। "স্বাধীন" জিনিষটা কি, কোন মুক্তিযোদ্ধা জবাব দিবেন?? 

  15. 3
    কিংশুক

    এই বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই ছিল মাদ্রাসার মোহাদ্দেস ও মোদাচ্ছের।

    আলেমরা মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণ, ধণ সম্পদ লুটপাট করেছে- এধরনের কথাবার্তা একমাত্র BAL ছালের মুন্তাসির মামুন ধরনের নাস্তিকরা বিশ্বাস করবে। আগে জানতাম জামাতিরা খুন ধর্ষণ লুটতরাজ করেছে, এখন জানলাম আলেমরা করেছেন। এজন্যই বুজি আলেমরা কেন '৭১এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চান না বলে আহাজারি শুনা যায়? আলেমরা আর কি করলে প্রায়শ্চিত্ত হবে? ইসলাম ধর্ম ছেড়ে দিয়ে নাস্তিক/বিধর্মী হয়ে গেলে আরো ভালো হয়না?

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      চার দশক হয়ে গেলো এখনও বাংলাদেশের মুলধারার আলেম সমাজ কি নিজেদের যুদ্ধাপরাধের থেকে আলাদা করতে পেড়েছে। যখনই যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের অপরাধ নিয়ে কোন কথা হয় -- সোজা তাকে আওয়ামীলীগ বানিয়ে দেওয়া হয় -- তাতে কি অপরাধের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ৭১ এর গনহত্যার সময় বাংলাদেশের কোন আলেম দাড়িয়ে বলেছিলেন কি না -- এইটা অন্যায়। বরঞ্চ সবাই ইসলাম রক্ষার নামে পাকিস্তানের পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দাড়িয়েছিলেন। আজও তার ধারাবাহিকতা চলছে।

       

      যখন সাঈদীর মামলার রায় হলো -- সাঈদকে চাঁদে পাঠিয়ে তার ছবি সেল ফোনের প্রচার করা হলো -- টরন্টোর সকল মুসল্লিদের মোবাইল ফোনে ফোনের সেই ছবি প্রচার হতে দেখলাম। ;দেখলাম সবাই এক যোগে প্রচার করছে এই সরকার মুসলিমদের উপর গনহত্যা চালাচ্ছে। সেই রংগিন ছবি মসজিদের সামনে পোস্টার আকারের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে -- জুমার সময় খোতবায় গনহত্যা আর আলেম হত্যার কল্পিত কাহিনী প্রচার করে হেফাযত নামক আরেকটা সংগঠনকে মাঠে নামানো হয়েছে। সবারইতো মুল বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা। 

       

      আশা করি বাল আর ভারতের ষড়যন্ত্রের বাইরে গিয়ে নিজেদের ত্রুটিগুলো বুঝার এবং সংশোধনের চেষ্টা করবো। 

      মজার বিষয় হলো -- কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তানী কিছু লোকজনের সাথে কথা হয়েছে -- অপরাধীর ফাঁসীতে বাংলাদেশের ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাবে -- ভাবতেও লজ্জা হয়। 

    2. 3.2
      কিংশুক

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: চার দশক হয়ে গেলো এখনও বাংলাদেশের মুলধারার আলেম সমাজ কি নিজেদের যুদ্ধাপরাধের থেকে আলাদা করতে পেড়েছে

      উনারা যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িতওবা কিভাবে? পরিস্থিতি উনাদের বাধ্য করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ যেতে। পরিস্থিতি সৃষ্টি কারা করেছে তা আর নাইবা বল্লাম। আপনার কাছে হবে জামায়াতে ইসলামি। অনেকের কাছে হবে কম্যুনিষ্ট, নাস্তিকরা। ঢাল তলোয়ার ছাড়া, কোন প্রকার আর্থিক লাভ ছাড়া (আপনারা অবশ্য জামায়াতের টাকা খাওয়া, বিএনপির টাকা খাওয়া ভাড়াটে বহুকিছু বলেন) উনাদের এই বৃদ্ধ বয়সে রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে জুলুমের স্বীকার হওয়ার কোন দরকার ছিলোনা যেখানে রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিপক্ষেরই টেকার সম্ভাবনা খুব কম। সারাজীবন কোরআন হাদিসের শিক্ষকতা করেছেন বৃদ্ধ বয়সে আরো বেশী ইবাদত বন্দেগী করে কাটাতে চেয়েছিলেন। যাই হোক, আপনার মত আপনি প্রচার করেন। আমার আর কিছু বলার নাই।

      1. 3.2.1
        জামশেদ আহমেদ তানিম

        জিয়াউদ্দিন সাহেব হচ্ছেন অমি শিয়াল আর মুরগী গং -এর বাই প্রোডাক্ট। এদের কাছে মুসলিম মানেই জামাতী। এদের এজেন্ডা হচ্ছে বা-আলের চক্রান্ত সফল করা। যে বা-আল একবার ধর্মনুরাগী আরেকবার সেক্যুলার ইত্যাদি নানান বেশ নেয়। অবশ্য মডারেট ইসলাম এবং সেক্যুলার রাজনীতির পিছনে শিয়াল আর মুরগী গংদের টানটা কোথায় তা কিন্তু তাদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। এদের হাজার হাজার ইসলাম বিরোধী বক্তব্য ইউটিউবে ভর্তি।

  16. 2
    আহমেদ শরীফ

    ঢাকা মহানগর (উত্তর) যুবদলের সভাপতি মামুন হাসানের বাসায় হামলা চালিয়ে মামুনকে না পেয়ে তার ভাবি, ভাতিজি এবং বোনকে তুলে নিয়ে গেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত ২টার সময় রাজধানীর কল্যাণপুরের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীম পারভেজের বাসায় ব্যাপক তল্লাশী চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এ সময় কমিশনার পারভেজকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায় যৌথ বাহিনী।

    জাতিসংঘের আইন, মানবাধিকার আইন, জেনেভা নীতি, নারী ও শিশুর অধিকার; সব কিছুর কবর দিয়ে ছাড়ল ডিজিটাল বাকশালের যুগে। সাতক্ষীরাসহ আরো কয়েকটি জেলায় বিরোধীদলের বিস্ময়কর সংখ্যক নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, অমানুষিকভাবে পিটিয়ে হাতপা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেয়া, বাসগৃহে অগ্নিসংযোগ, বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দেয়া, লুটপাটসহ আনুমানিক ৫০ জনের অধিক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। 'যৌথবাহিনী' নামক হানাদার বাহিনীতে বশংবদ দেশীয় কর্মচারীরা ছাড়াও ভারতীয় রিক্রুট এবং দলীয় ক্যাডারবাহিনী অংশগ্রহণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মা-বোন শুধু রাজাকাররাই তুলে নিয়ে যায় নাই, শেখ কামাল-গাজী মোস্তফারাও তুলে নিয়ে গেছে। প্রথমটা ৯ মাস, পরেরটা সাড়ে তিন বছর ছিল, আর বর্তমানেরটা ৫ বছর হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই শুনতে পাবো হয়তো 'এটেনশন, এইম এন্ড শ্যুট'।

    যদিও ইতিমধ্যেই লতিফ সিদ্দিকীর বিরোধীদল প্রসঙ্গে "ঘরে ঢুকে হত্যা করতে হবে' বা জঙ্গলমন্ত্রীর 'দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিতে বাধ্য করবেন না' ইত্যাদি হুমকি শোনা গেছে। পরাগায়ণের সূচনালগ্ন শুরু হয়ে গেছে, ধীরে ধীরে বনায়ন শুরু হয়ে যাবে বলেই অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে।

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার এই ধরনের মন্তব্যে হতাশ আমি। বাংলাদেশ জন্ম লগ্ন থেকে কখনই পারফেক্ট ছিলো না। একটা বিশৃঙখলা এবই আইন কানুন না মানার প্রবনতা সব সময়ই ছিলো। শুরুটা হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের অবাধ বিচরন আর দম্ভভরে সমাজে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এই পোস্টের মুল বক্তব্য স্বাধীনতার ইতিহাসের একটা অংশ। আপনি যে কতটা অগভীর চিন্তার দিকে চলে গেছেন। ইতিহাসের একটা বাস্তবতার সাথে আজকের রাজনীতিকে মিলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। 

      সবচেয়ে দুঃখজনক হলো -- ইসলাম রক্ষা্র একটা স্বঘোষিত এজেন্ট হয়ে আপনি যুদ্ধাপরাধীদের জন্যে একটা কমফোর্ট জোন তৈরী করছেন -- হয়তো বুঝে বা না বুঝে। অন্তত ন্যায় অন্যায় আলাদা করার চেষ্টা করুন। বর্তমানের অপরাধগুলো রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের জন্যে উচ্চকন্ঠ হউন -- কিন্তু দয়া করে ইতিহাসের একটা ঘৃন্য অধ্যায়কে রাজনীতির উপাদান বানানোর থেকে বিরত থাকুন। 

       

      যাই হোক আপনাদের ফতোয়া অনুসারের এইটা একজন "হেফাযতে বাল" এর অনুরোধ -- যা রাখা না রাখা আপনার অভিরুচী। 

    2. 2.2
      আহমেদ শরীফ

      মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের মাঝে কিছুটা যতিচিহৃ দিয়ে আমি প্রিয় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষন করব এই মূহুর্তে। খুব মনোযোগ সহকারে আগে লিংকের ভিডিওটা দেখুন, একটু চিন্তা করুন, ঠান্ডা মাথায় _ আমরা আসলে এই মূহুর্তে ঠিক কি ধরণের ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি।

      https://www.facebook.com/photo.php?v=1429539623945070

      1. 2.2.1
        নীরব সাক্ষী

        এ ধরণের ঘটনা ইসরাঈলী হানাদার বাহিনী করে থাকে। আমাদের দেশে এখন  হচ্ছে! দেখুন হানাদার বাহিনী কি করছে। নেতাকে না পেয়ে বউ-মেয়েদের উঠিয়ে নিচ্ছে। ইহা কী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? 

        ———————--

        মিরপুরে পুলিশের এ কোন অভিযান

         

        অভিযানের সময় বাসার আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় -নিজস্ব ছবিসাজানো-গোছানো বাসার কোন জিনিসই অক্ষত নেই। সবই ভেঙে চুরমার। ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার থেকে শুরু করে খাট, আলমারি, সোফা খণ্ড-বিখণ্ড। বাদ যায়নি বাথরুমের বেসিন, কমোডও। দেখলে মনে হয় প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের ক্ষোভ থেকে কোন সন্ত্রাসী তাণ্ডবের শিকার এ বাড়িটি। কিন্তু নজিরবিহীন এ কাণ্ড করেছে জনমানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাণ্ডব চালিয়েই শেষ নয়। পুলিশ ওই বাসার মালিক যুবদল নেতা মামুন হাসানকে না পেয়ে তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তার কলেজপড়ুয়া দুই কন্যাকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর। মিরপুর মনিপুরের বাসিন্দা যুবদল নেতা মামুন হাসান ও তার বড় ভাই মাহাবুব হাসানের পৃথক বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বাসায় তাকে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার ও পার্শ্ববর্তী বড় ভাইয়ের বাসায় তাণ্ডব চালায়। পুলিশ কর্মকর্তারা যৌথবাহিনীর অভিযানের কথা বললেও র‌্যাবের শীর্ষ একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি পুলিশের একক অভিযান। এ অভিযানে র‌্যাবের কোন সদস্য অংশ নেয়নি। গতকাল সরজমিন মিরপুর মনিপুরের ৮৩২ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের তৃতীয় তলায় যুবদল নেতা মামুনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, দরজার তালা ভাঙা। তিন বেডরুমের বাসা। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে তাণ্ডবের দৃশ্য। বাসার জিনিসপত্র সব সব ছড়ানো-ছিটানো, ভেঙে চুরমার করে রাখা। ড্রয়িং রুমের সোফাগুলো উল্টানো। সোফার হাতলগুলো ভাঙা। ডাইনিং টেবিল ভেঙে খণ্ড খণ্ড হয়ে আছে। উল্টে পড়ে আছে ফ্রিজ। কম্পিউটার-টেলিভিশন সব কিছুরই খণ্ডাংশ পড়ে আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। পড়ে আছে ভাঙা খাট, বিছানাপত্র জড়ো করে রাখা। উবু হয়ে পড়ে আছে বড় কাঠের আলমারি। বাসায় বসে এসব পাহারা দিচ্ছিল রাজু নামে এক কিশোর। যুবদল নেতা মামুনের এক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। রাজু জানান, রাতে পুলিশ এসে এসব করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানালেন, মধ্যরাতে মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযানে অংশ নেয়। তারা শব্দ শুনে উঠলেও পুলিশ তাদের ঘরে থাকতে বলেছে। পরে তারা আর বাইরে বের হননি। যুবদল নেতা মামুনের বাসা থেকে বেরিয়ে পাশের গলির ৯০৪/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে তার বড় ভাই মাহবুব হাসানের একতলা বাসাতে গিয়েও দেখা গেছে একই দৃশ্য। পুলিশের তাণ্ডবে সংসারের এমন কিছু অবশিষ্ট নেই, যা ব্যবহারযোগ্য। ঘরে এসি পর্যন্ত খুলে ফেলা হয়েছে। মাহবুব হাসান পাঁচ বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। লাঠি হাতে কোন রকমে এদিক-সেদিক যেতে পারেন। একরাশ কষ্ট নিয়ে বললেন, আমি রাজনীতির র’-এর সঙ্গেও যুক্ত নই। তবু ওসি সালাউদ্দিন আমার সব কিছু তছনছ করে দিল। দীর্ঘ বাইশ বছর আমি সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়েছি। জমি কিনে একতলা বাড়ি করে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকি। তারা আমার সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়ে স্ত্রী ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই মেয়েকে ধরে নিয়ে গেছে। সভ্য কোন সমাজে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমার জানা নেই। আমরা কোন দেশে বাস করছি? বলেই কেঁদে ফেলেন তিনি। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বলেন, আমার অপরাধ ছোট ভাই রাজনীতি করে। ছোট ভাই প্রাপ্তবয়স্ক, তাকে রাজনীতি থেকে বিরত রাখার ক্ষমতা তো আর আমার নেই। এক ভাইয়ের জন্য আরেক ভাইকে এভাবে হেনস্তা করার কোন আইন কি আমাদের দেশে আছে?
        মাহবুব হাসান বলেন, তার বড় মেয়ে মার্জিয়া হাসান আইইউবিতে বিবিএ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছেন। আর ছোট মেয়ে মার্জিয়া হাসান সারোজ ইন্টারন্যাশনাল নামে মিরপুর দশ নম্বরের একটি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক বাণিজ্য শাখায় পড়ছেন। স্ত্রী মোর্শেদা হাসান লিপি গৃহবধূ। আমরা রাজনীতির সাতে-পাঁচে নেই। তবু পুলিশ ওদের বিনা কারণে ধরে নিয়ে গেল। এমনকি মেয়েদের নিয়ে যাওয়ার সময় কোন মহিলা পুলিশ সদস্যও ছিল না। সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাতে পুলিশ এসে দরজা ধাক্কালে তারা দরজা খুলে দেন। ওসি সালাউদ্দিনসহ ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে তাদের বাসায় ঢুকেন। প্রথমেই তারা সবার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। পরে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে তোলেন। তারপর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে মেহেদী হাসান ও তাকে তার মা হাজেরা খাতুনের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে একে একে বাসার সব কিছু ভাঙচুর করেন। তারা শুধু ভেতর থেকে ধুমধাম শব্দ পান। চার কক্ষের ওই বাসায় বেডরুম থেকে রান্নাঘর সব ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফ্রিজে রাখা কাঁচা মাংস পড়ে আছে মেঝেতে, পড়ে আছে বাটিতে রাখা ডালও। ওয়াশিং মেশিন ভেঙে পড়ে আছে একদিকে। শয়নকক্ষের আলমারি পড়ে আছে খাটের ওপর, খাটও আধভাঙা হয়ে পড়ে আছে। আর দুই বোন মার্জিয়া ও মারিয়ার কক্ষে দেখা গেছে কোরআন শরিফ ও বাদ যায়নি পুলিশের তাণ্ডবের হাত থেকে। মুখ থুবরে পড়ে আছে ভাঙা কম্পিউটার। বইপত্র ছড়ানো-ছিটানো। ওয়্যারড্রোবের পোশাক পড়ে আছে এলোমেলো।
        মাহবুব হাসান বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ, আমি যে একটু বাথরুম ব্যবহার করবো তার কোন উপায় নেই। শুধু ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি। অনেক কিছু লুট হয়েছে। সোনাদানা নগদ টাকা কিচ্ছু এখনও পাওয়া যায়নি। এদিকে রাতের অপর এক অভিযানে কল্যাণপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার শামীম পারভেজের বাসাতেও অভিযান চালায় পুলিশ শামীমকে না পেয়ে ওই বাসাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ছাড়া রাতে পাইকপাড়ার ৩২১/এ আহমদনগরের রুনু কমিশনারের বাসাতেও অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় রুনুকে বাসায় না পেয়ে তার প্রতিবন্ধী কিশোর ছেলে আমীন মোহাম্মদ শুভ (১৩) ও এফসিএ পড়ুয়া মেয়ে শারমীনসহ কেয়ারটেকারকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে শুভ ও শারমিনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। 
        তার বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিএনপির ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রশীদ আনজুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বাসাতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় মিরপুর থানা পুলিশ।
        এদিকে রাতের এ অভিযানের বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে যৌথবাহিনীর অভিযানের কথা বলা হলেও এ সময় অন্য কোন বাহিনীর সদস্য ছিল না। মিরপুরের কিছু এলাকাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালালেও দুই বাসায় ভাঙচুর করার সময় যৌথবাহিনীর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ওসি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে মিরপুর থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। র‌্যাবের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যরা ছিল না। র‌্যাব ওই দুই বাসায় অভিযান চালায়নি। এদিকে রাতে মিরপুর থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, আটককৃতদের থানায় রাখা হয়েছে। তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। অভিযানের বিষয়ে মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন ভাঙচুরের বিষয় অস্বীকার করে জানান, ওই অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেট, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের লোকজন ছিল। বাসা থেকে অনেকগুলো পোস্টার ও ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে।

        1. 2.2.1.1
          মজলুম

          ভয়াবহ!!  আওয়ামীলীগের কাঁধে  দেখি  ভারতের ভুত।

          গেরিলাদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ঘুঁড়িয়ে  দেওয়া ছিলো ইসরাইলের কৌশল, পরে ভারত এটা ইসরাইল হতে শিখে নিয়ে  কাশ্মীরী গেরিলাদের বিরুদ্বে প্রয়োগ করে। এটা মনস্তাত্বিক যুদ্বের কৌশল।  কখনো ভাবিনী এটা আমাদের দেশে দেখতে হবে। জর্দার কোটার বোমা মারা লোকদের বিরুদ্বে এই কৌশল।

          অন্যায় যে করে সেটা অন্যায়। তা আওয়ামীলীগ করুক, বিএনপি করুক, হেফাজত করুক আর জামাতই করুক।   জিয়া ভাইকে আগে এস্কিমো নিকে দেখতাম হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে র‌্যাবের  বিরুদ্বে র‌্যাবের বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকান্ডের বিরুদ্বে খুবই লেখালেখি করতেন সামু ব্লগে। কিন্তু হাসিনা ম্যাডাম ক্ষমতায় আসার পর  র‌্যাবের বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকান্ড নিয়ে আপনি চুপ।

          হিটলার ফ্যাসীবাদি হওয়ার জন্যে হিটলার একাই দায়ী না, তৎকালীন জার্মানের বুদ্বিজীবি, নাগরিক সমাজের নেতা এবং সুশীল সমাজের লোকেরাও দায়ী।
          যুদ্বাপরাধীদের বিচার করার বড়ি খাইয়ে দিয়ে বুদ্বিজীবি, সুশীল সমাজ এবং মিডিয়াকে চুপ করে রেখেছে এই সরকার  তার উপর দিয়ে রাখছে জামাত ও হেফাজত  ভীতি। বাংলাভিশন ও এনটিভিকেও দেখলাম অনেকটা গা বাঁচিয়ে রিপোর্ট করছে, ধরি মাছ না ছুই পানির মতো।  দেশে মিডিয়াগুলো পুরাই ব্লাক আউট।
          নিচের কথাটা বললে একটুও অতিরিক্ত হবে না যে, হাসিনা সরকারের বিএনপি দমনের নিতীটাই বিএনপিকে জামাতের আরো কাছে ঘেষার সুযোগ করে দিয়েছে। এই জামাতি বাস্টার্ডদের কারনেই কোন প্রিপারেশন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনে যোগ দিয়েছেন খালেদা গতবার। তবুও বিএনপির শিক্ষা হয় নাই, ভুলগুলো শুধু রিপিট করে।

          শুধু ৭১ নয় বা ২০১৩ নয় অন্যায় ইস অলওয়েজ অন্যায়, কোনভাবেই এক অন্যায়কে অন্য অন্যায় দিয়ে জাস্টিফাই করা যায় না।

          সকল মুসলিমদের জন্যে একটা হাদিস,  "নবী কারীম (সাঃ) এরশাদ ফরমাইয়াছেন যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ হইতে দেখে, যদি হাত দ্বারা বন্ধ করিবার শক্তি রাখে তবে উহাকে হাত দ্বারা বন্ধ করিয়া দিবে। যদি এই পরিমাণ শক্তি না রাখে তবে জবান দ্বারা উহার প্রতিবাদ করিবে। যদি এই ক্ষমতাও না থাকে তবে অন্তরে উহাকে ঘৃণা করিবে। আর ইহা ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।(মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)"

          সবাই দেখি ২৯ শে ডিসেম্বর হাসিনার পতনের ডাক দিয়েছেন। হাসিনার পতন ২০০১ এ ও  হয়েছিলো, কিন্তু লাভ নাই।  বরং আমাদের দেশের  জনগন বিরোধী সিস্টেমের পতনের ডাক দেন তাইলে হাসিনাদের এমনিই পতন হয়ে যাবে। সিস্টেমের পতন না হলে হাওয়া ভবন আর সুধাসধনই শোষণ করে যাবে চির শোষিত এবং অবহেলিত  এই দেশের জনগনকে।

        2. কনিকা ফারজানা

          সহমত। নিরপেক্ষ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এত ভয় কেন? এইসব করে কোনদিন পার পাওয়া যায়না…কবে এরা পাঁচ বছর পর জুলুম এর চূড়ান্ত না করে গদি ছাড়া শিখবে আল্লাহু আলম!!!

        3. নীরব সাক্ষী

          জিয়া ভাইকে আগে এস্কিমো নিকে দেখতাম হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে র‌্যাবের  বিরুদ্বে র‌্যাবের বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকান্ডের বিরুদ্বে খুবই লেখালেখি করতেন সামু ব্লগে। কিন্তু হাসিনা ম্যাডাম ক্ষমতায় আসার পর  র‌্যাবের বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকান্ড নিয়ে আপনি চুপ।

          জিয়া সাহেবের নৈতিকতা একপেশে! এখন ভেকটি খসে পড়েছে। উনি BAL কর্তৃক হত্যাকান্ডে অস্বীকার করেন অথবা ইনিয়ে-বিনিয়ে জাস্টিফাই করে থাকেন। মানুষ হত্যা উনার অন্তরে রক্তক্ষরণ করে না, কিন্তু বৃক্ষ নিধনে প্রাণ কাঁদে!  নবীর বিরুদ্ধে বিষেদাগাঢকারী ও নির্লজ্জ ইসলাম বিদ্বেষীকে মুক্তিযোদ্ধা  মনে করেন, অন্যদিকে যারা এর প্রতিবাদ করে তাদেরকেই ছাগু হিসেবে ট্যাগিং করেন!

    3. 2.3
      আহমেদ শরীফ

      বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবনে ব্লগার ওয়াচডগের একটি মন্তব্যই আপাততঃ যথেষ্ট হবে বলে মনে হয়।

       

      কাদের মোল্লার ফাঁসির তাবিজ গলায় ঝুলিয়ে ডেডিকেটেড আওয়ামী একটিভিষ্টরা অনলাইনে যেসব গান গাইছে তা এখন লাশ নিয়ে গোরস্তানে যাওয়ার গানের মত শোনাচ্ছে। মিহি সুরের এসব গানে আগের মত প্রাণ নেই। গলায়ও নেই তেমন জোর। অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারকে ডিফেন্ড করার বাংলা শব্দের ভান্ডার খুব ধনী নয়। লম্বা সময় ধরে এসব সীমিত শব্দের ব্যবহার খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরী করে মাত্র। ছাগল, ছাগু ও পাকি, এই তিন শব্দের কীর্তন এ মুহূর্তে নেতিয়ে পরা চেতনা উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছেনা। কারণ আওয়ামী লীগ এখন ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খানের আসনে। আর আপনারা যারা এদের নিয়ে নাচতে গিয়ে অন্তর্বাস খুলে ফেলছেন তারা বসেছেন কাদের মোল্লা, আমিনি, নিজামীদের চেয়ারে। অন্যায়, অবিচার আর অত্যাচারের কোন দেশ, কাল, পাত্র থাকেনা। সব দেশে সব কালে এরা খুনি, তস্কর ও লুটেরা হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের জন্য এ মুহূর্তে নতুন কোন সংজ্ঞা তৈরী হবে তার সম্ভাবনাও কম। আপনাদের লীগ এখন মরা হাতী। যারা কাকের মত কা কা সুরে এই হাতির ঘুম ভাঙ্গাতে চাইছেন তাদের চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা একবারেই শূন্য। মরা হাতী এক সময় লায়াবিলিটি হয়ে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত কেউ না কেউ উদ্যোগ নিয়ে ছুড়ে ফেলবে ভাগাড়ে। আরও কটা দিন হয়ত হাতে রাইফেল নিয়ে পুলিশের তাফালিং চলবে, অন্ধকারে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে র‌্যাব নিজেদের র‌্যাম্বো ভাবতে থাকবে, সেনাবাহিনীর কামানে চড়ে হানিফ, লতিফ, ইনু, হাসানদের টেংরা মাছের নাচ অব্যাহত থাকবে।

      ৭১’এ কাদির কসাইরাও একই নাচ নেচেছিল। কিন্তু হায়, নাচের সমুদ্র এক সময় নদী হয়ে যায়, নদী হয় পুকুর এবং পুকুর রূপান্তরিত হয় ডোবায়। ডোবার টেংরা মাছ অক্সিজেনের অভাবে চিতপটাং দিয়ে নেচে নেয় শেষ নাচ এবং বিদায় নেয় ইহজগৎ হতে। ৭৫ সালে ক্ষমতার দাপট এবং তা চিরস্থায়ী করার লিপ্সা হতে শেখ মুজিব যে ভুল করেছিলেন দল হিসাবে সে ভুলের মাশুল আওয়ামী লীগকে গুনতে হয়েছিল অনেকদিন। এবং অনেক গুলো বছর। ২০১৩’তে এসে শেখ হাসিনা যে ভুল করলেন তার মূল্য দল হিসাবে আওয়ামী লীগকেই শোধ করতে হবে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলনা। আওয়ামী ছিল জনগণের দল। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল তাদের ভাগ্য। পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসক, ৭১’এর ইয়াহিয়া-টিক্কা চক্র, এরশাদ চক্রের নয় বছর হতে মুক্তির লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ছিল অগ্রপথিক। কিন্তু একজন মহিলা তছনছ করে দিল এ ঐতিহ্য। নিজের ইচ্ছা, পারিবারিক স্বার্থ আর প্রতিবেশী দেশের তাবেদারি করতে গিয়ে খেয়াল খুশিমতো দলকে ব্যবহার করলেন এবং টেনে আনলেন এমন একটা অবস্থায় যেখান হতে দলীয় পরিচয়ে নেতা কর্মীরা জনগণের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তাদের জন্য দেশের অলিগলিতে পাতা আছে মৃত্যু ফাঁদ। এ ফাঁদ কেবল জামাতি ফাঁদ নয়, সাধারণ জনগণেরও ফাঁদ। বন্দুকের নলের মুখে দেশ শাসন ইয়াহিয়া টিক্কা খানদের শোভা পায়, আওয়ামী লীগের মত জনগণের দলকে নয়।

      জামাতি, পাকি আর রাজাকার বচন হয়ত ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, উল্লাস করতে খোরাক যোগায়। কিন্তু তা ক্ষতির জায়গায় ইট-সুরকি সিমেন্ট বসাতে সহায়তা করেনা। রাজনীতি করতে নেতা-নেত্রীর পাশাপাশি জনগণ লাগে। এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সব আছে। আছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, একদল নেত্রীকানা দলদাস। কেবল নেই জনগণ। প্রমান চাইলে সব ছেড়েছুড়ে নির্বাচনে গিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে আসুন। দুঃখ পাবেন, কষ্ট লাগবে। জান নিয়ে পালিয়ে আসতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবেন।

       

      লিংক

  17. 1
    মজলুম

    রাজাকারদের সাথে ভারতের দালালদের তুলনা করাটা হাস্যকর, এরা ঘটনার গভীরে না গিয়ে কিছু ভাসা ভাসা তত্ব নিয়ে ফিনিশিং দেয়।

    রাজাকার কেন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। 

    আপনি সামরিক বাহিনীর কাউকে বলে  দেখুন  সে বলবে একটা গেরিলা যুদ্ধ কখনই গতানুগতিক যুদ্ধের মতো নয়। পৃথিবীর যে কোন দেশের সেনাবাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের মোকাবেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, শুধু সামনা সামনি গতানুগতিক দুই বাহিনীর যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গেরিলা যুদ্ধ হয় হিট এন্ড রান পদ্ধতিতে, তাই গেরিলারা আঘাত করেই পালিয়ে যায় স্থানীয় জনপদে। মিশে যায় সাধারণ মানুষের সাথে। সাধারণ জনগণের সমর্থন ছাড়া গেরিলা যুদ্ধ করা কখনোই সম্ভব নয়। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না তেমনি জনসমর্থন ছাড়া গেরিলা যুদ্ধ চালানো সম্ভব নয়। গেরিলা যুদ্ধ শুরু করা হয় যখন দেখা যায় শত্রু পক্ষের সাথে নিজের এক অসম সামরিক পার্থক্য এবং শত্রুর সাথে সামনা সামনি যুদ্ধ করার মতো অস্র না থাকা।

    তাই যেকোনো দেশের সামরিক বাহিনী এই গেরিলাদের ঠেকানোর জন্যে একটা মিলিশিয়া বাহিনী তৈরি করে, এই মিলিশিয়ারা হবে স্থানীয়, এতে স্থানীয় গেরিলাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ করতে পারে। করন সৈন্যরা স্থানীয় জনপদের সকল বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শত্রু মিত্র কিছুই চেনেন। তাই গেরিলা বাহিনীর বিপরীতে সামরিক বাহিনীকে এই মিলিশিয়া বাহিনী তৈরি করতে হয়।

    পাকিস্তানে পশতুন/পাঠান উপজাতিদের rel="nofollow">খাইবার পাখতুনওয়ালায় আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের লোভে করা যুদ্ধে পাকিস্তান সৈন্যদের  গেরিলা rel="nofollow">লড়াইয়ের মুখামুখি হতে হয়।   এবার এরা স্থানীয়দের নিয়ে রাজাকারের আদলে তৈরি করে লস্কর নামে এক ক্রিমিনাল গ্রুপ তালিবান/পশতুনদের গেরিলা লড়াই মোকাবিলার জন্যে।  আরো মজার তথ্য হচ্ছে পাকি আর্মি এখানে শান্তি কমিটিও গঠন করেছে।   

    ইতিহাস বড়ই নির্মম, এটা শুধু রিপিট হয়।  

     

    সিরিয়ায় বাশারের শিয়া পিচাশ বাহিনী  সুন্নী গেরিলাদের বিরুদ্বে  সাবিহা নামে এক মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে।   ইরাকে গেরিলাদের বিরুদ্বে লড়াই করতে আমেরিকা তৈরী করে ইরাকি সন্তান নামে এক  মিলিশিয়া গ্রুপ

     

    মিলিশিয়া গঠনের আরেকটা কারন হলো, সৈন্যরা প্রত্যেকটা রাস্তাঘাট, বাজার, গ্রাম পাহারা দিতে পারেনা গেরিলা ধরার জন্যে, তাই এই বিশাল এরিয়া সিকিউর করার জন্যে এই রাজাকারের আদলে মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে হয়।
    মোদ্দা কথা হলো গেরিলাদের বিরুদ্বে লড়াইয়ে রাজাকারের আদলে এক মিলিশিয়া বাহিনী গড়তে হয় গতানুগতিক সামরিক বাহিনীকে। 

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      তথ্য সংযোজনের জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.