«

»

Jan ০৬

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী – আবেগ বনাম বাস্তবতা

অনেকের দাবী আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে একটা আবেগ তৈরী করে রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। এখানে একটা প্রশ্ন সহজেই  এসে যায় – তাহলে বিএনপি কেন এই সুবিধা নিচ্ছে না? বিএনপি তো নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তি হিসাবেই প্রচার করে। তাহলে সমস্যা কোথায়?

 

যারা এই বিষয়টি নিয়ে আবেগ কথাটা বেশী করে প্রচার করতে চায় – হয় তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে মানুষ অথবা বিভ্রান্ত। কারন বাংলাদেশে ৭১ সালে একটা গনহত্যা হয়েছিলো – এই সত্যটা কেউই অস্বীকার করতে পারছেন না। আর অপরাধ হলে অবশ্যই তার পিছনে অপরাধী থাকে – আর মজলুমরা বিচারের অধিকার রাখে। এই সত্যটাকেও কেউই অস্বীকার করতে পারে না।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় এই বিরাট অপরাধতে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে নানান ভাবে – কখনও বুটের শাসন দিয়ে কখনও বা ধর্মের নামে রাজনীতির আড়ালে। মোদ্দা কথা হলো বাংলাদেশের অনেক নেতৃত্বস্থানীয় মানুষের কাছে বিচারের চেয়ে ভুলে যাওয়া বা এড়িয়ে যাওয়াটাই বেশী বুদ্ধিমত্তার কারন মনে হয়েছে। বাংলাদেশের নবেল বিজয়ী সমকামীদের অধিকারের বিষয়ে সচেষ্ট কিন্তু গনহত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে ততটাই উদাসীন – অন্যদিকে যারা ইসলামের নামে দেশে একটা বিশেষ ধরনের শাসন ব্যবস্থা চালুর জন্যে সক্রিয় – তাদেরে কাছেও বিচারের বানী নির্ভৃত কাঁদে – উনারা এই বিষয়ে বেশ উদাসী – কিন্তু বিচারের দাবীতে যখন কোন আন্দোলন গড়ে উঠে সেখানে ইসলাম বিরোধী উপাদান খুঁজে পেতে দেরী হয় না – সেই আন্দোলনের নানান ভাবে বিরোধীতা করতেও উনারা পিছপা হননা।

 

তাহলে বিচার্রপ্রার্থীদের কি হবে? যে তার চোখের সামনে তা বাবাকে নির্যাতিত হতে দেখেছে – সে কখনই জানবে না তার আপনজনে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর রাজাকার বাহিনী কোথায় মেরে ফেলে রেখেছিলো – যে জানবে না নদী দিয়ে ভেসে যাওয়া লাশগুলো কাঁদের ছিলো – গনকবরে শুয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্যে সামান্য শেষকৃত্য করার মতো পরিচয়টুকুও যারা পেলো না – তাদের জন্যে কি রইল? তাই বিচার প্রার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে উঠে যারা বিচারের কথা বলে এবং বিচারে পক্ষে কাজ করে। 

 

যে যুবক স্বপ্ন দেখেছিলো স্বাধীন দেশের – যার স্বপ্নের উপর ভর করে জীবনদানের ফল বাংলাদেশ – সেখানে তার হত্যাকারীর সহযোগী এবং তার পরিবারের উপর নির্যাতনকারীদের বিচার চাওয়া কি আসলে আবেগ নাকি বাস্তবতা?

 

এই প্রসংগে আমি সব সময় নিজেকে প্রশ্নে মুখোমুখি করি। আমি কেন ভুলে যেতে পারি না – কেন আরো মানুষের মতো বলতে পারি না যা হয়ে গেছে বাদ দেন, কেন বলতে পারি না পাকিস্তানীরা তো মুসলিম ভাই, ওদের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে বৃহত্তর ইসলামী ভাতৃত্ব দরকার ভারতের আধিপত্যবাদকে রুখতে, কে বলতে পারি না ভারতে হিন্দু মুশরেক এবং তাদের দালাল আওয়ামীলীকে প্রতিহত করতে জামায়াতের অস্তিত্ব খুবই জরুরী, কেন বলতে পারি না জামাতের নেতার ইসলামের মুজাহিদ, উনাদের গায়ে হাত দিলে আল্লাহর আরশ কেপে উঠবে!

 

কারন, মানুষ অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে – কিন্তু যা তার স্মৃতির মাঝে কঠিন ভাবে গেঁথে থাকে – যা তার মগজে বিধেঁ আছে – তার সাথে প্রতারনা করতে পারে না – আমিও পারি নি। একটা কথা বলা দরকার – আমি পারতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধে গল্প পড়ি না – মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা পড়ি না – শুধু তথ্য ও ডকুমেন্টের প্রতি প্রবল আগ্রহ আছে। আমি যতটুকু মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি – যতটুকু কষ্ট যন্ত্রনার স্মৃতি বহন করছি তার চেয়ে বেশী দরকার নেই বিচারের দাবীতে সোচ্চার হওয়ার জন্যে। যখন কেউ এসে আমাকে বলে মুক্তিযুদ্ধে এই হয়েছে সেই হয়েছে – খুবই কষ্ট হয়। মানুষ হিসাবে আরেকজন মানুষের কাছে সহর্মিতা পর্যন্তও আশা করা যায় না বাংলাদেশে – সবচেয়ে বেশী কষ্ট হয় যখন দেখি ইসলামের নামে – ইসলাম রক্ষার নামে আমার যন্ত্রনাটাকে নিয়ে রাজনীতি করা হয় – ইসলামের নামে একটা বিরাট অপরাধকে আড়াল করা চেষ্টা করা হয়। আগে যখন ইসলাম বুঝতাম না – তখন কষ্ট ছিলো এক ধরনের – এখন কষ্টটা বেড়েছে অনেক। সত্যই অভাগা আমরা – কারন ইসলাম রক্ষকরা সংকীর্ন চিন্তার থেকে বের হয়ে এসে মজলুমের পাশে দাড়াতে দ্বিধান্তিত – তারা চার দশকেও এই বিষয়ে সুষ্পষ্টভাবে মজলুমের বিচারে দাবীকে সমর্থণ করেনি।

 

যাই হোক – গত অর্ধযুগ হয়ে গেলো অনলাইনে সরব আছি – বলেছি অনেক কথা – বারবার বলার চেষ্টা করেছি আমার কষ্টগুলো কথা – বিচারের দাবীর কথাগুলো। তারপরও ভাবি – আচ্ছা ক্ষমা করে দিলেইতো হয়। কিন্তু কাকে ক্ষমা করবো – কেউইতো অপরাধকে অপরাধ হিসাবে স্বীকার করছে না। একজন তাজুল ইসলাম বিরজাবালা এবং তাদের পরিবারবর্গকে নিশংসভাবে হত্যা করা পর পালিয়ে তবলীগ জামাতের সাথে মিশে গেলেও তাকে পুলিশ ধরে বিচারে সন্মুখিন করে – তার ফাঁসী হলেও তবলীগ জামাতের থেকে ইসলামের উপর আঘাত হিসাবে বিবেচনা করা হয় নি – কিন্তু ৭১ এর মীরপুরের ঘাতক কাদের মোল্লা ৩৩১ টা খুনের সাথে জড়িত হয়ে বিচারে অভিযুক্ত হয়ে যখন শাস্তি পায় তখন ইসলামের উপর আঘাত হিসাবে প্রচার হয় – তখন ভাবি – কাকে ক্ষমা করবো – এরাতো শুধু মানবতার শত্রুই না – এরা ইসলামের শত্রুও বটে। ইসলামকে নিজেদের অপকর্মের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ইসলামে মুল বানীকে বিভ্রান্ত করছে – ফলে যুবসমাজ ইসলামের থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। তাই এদের ক্ষমা নেই।

আমার দুঃসহ স্মৃতির কথাগুলো বারবার বলেছি – আবারো সংক্ষেপে বলি – কারন মানুষ খুবই ব্যস্ত – তাদের সময় নেই একজন বিচার প্রার্থীর কথা ভেবে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার – কিন্তু দেওয়ালে লেখে সাঁটিয়ে রাখলে হয়তো কারো ন্ কারো চোখ পড়বে – এই আশাই করি সব সময়।

 

১) শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের স্টেশনের এক পাশে বেশ বড় একটা ডোবা আছে। সেইটা ১৯৭২ সালের গ্রীষ্মকাল – মনে নেই কি মাস। আমরা ছোটরা ফুটবল খেলছিলাম – হঠাত দিতে ডোবার দিকে সাহেবসুবাদের আনাগোনা। একজন বললো – হবিগঞ্জের এসডিও সাহেব – সাথে পুলিশ আর আরো কিছু গন্যমান্য মানুষ। সবাই ডোবার কাছে গেলো – কি যে বলাবলি করলো – এক সময় ডোবার একটা পাড়ে খোড়াখুড়ি শুরু হলো। আমরা ছোটরা ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছি – এক সময় তীব্র দুর্গন্ধ নাকে এসে লাগলো। মানুষ পঁচার গন্ধ যে এতো উৎকট হতে পারে তা আজও ভুলতে পারিনি। সেখানে ১০ জন চা বাগানের কুলি এবং একজন ম্যানেজার পদের মানুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে পাকহানাদার বাহিনী আর তাদের দোসররা। গভীর আগ্রহ নিয়ে গর্তের কাছে দাড়িয়ে দেখেছিলাম কি হচ্ছে। এক সময় ভীড়ের মাঝ থেকে একজন চিৎকার করে বললো – এই যে ঘড়িটা দেখা যাচ্ছে। ম্যানেজার পদের মানুষটির হাতে ঘড়ি দেখে পরিবারের লোকজন চিহ্নিত করলো তাদের স্বজনের লাশ – তুলে নিয়ে গেলো সেই কংকালটা। সেই তীব্র দুর্গদ্ধ আমাকে আজো পীড়া দেয়। ভুলতে চাই্লেও ভুলতে পারি না যখন রাজাকার-আলবদররা আস্ফালন করে – যখন ঘাতকরা বুক ফুলিয়ে আমাদের ভুলে যাওয়ার নসিহত করে।

 

২) লস্করপুর ইউনিয়নের বালুরচর গ্রাম। গ্রামের শহীদ মাস্টারের বাড়ীতে আমরা পুরো পরিবার আশ্রিত। কয়েক সপ্তাহ আমার বাবার কোন খোঁজ নেই। কেউ বলছে – পাকিস্তানীরা ধরে নিয়ে গেছে – কেউ বলছে হয়তো মেরে ফেলেছে। একজন আমাদের বুদ্ধি দিলো নদীর পাড়ে বসে ভেসে যাওয়া লাশগুলো পর্যবেক্ষন করতে – আমরা ভা্‌ইবোন মিলে নদীর পাশে বসে লাশ দেখছি – গুনছি ১,২,,৩,৪…৫৪ সারা দিনে আমার গননার কথা বলতে পারি। ভেসে যাচ্ছে লাশগুলো – কোনটা উপুড় হয়ে, কোনটা চিত হয়ে, ফুলে যাওয়া, ভেপে যাওয়া, কারো চোখ নেই কারো হাত বাঁধা দড়ি দিয়ে, এখনও একক কখনও বা একাধিক এক সাথে বাঁধা। মানুষ হিসাবে মৃত্যুর পর সামান্য শেষ সন্মানটুকু ওদের জোটেনি।  আজ ভাবি যারা ওদের হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দিয়েছে তারা নিজেদের মুসলিম দাবী করতো – আজো্ করে – আ্জো আমাদের কেউ কেউ তাদের মুসলিম হিসাবে ভাতৃত্বের কথা বলে সেই ভেসে যাওয়া লাশগুলো অসন্মানকের প্রতি সমর্থন জানায়। কিভাবে ভুলবো সেই ভেসে যাওয়া লাশের কথাগুলো। বালুচর গ্রামের মানুষ খোয়াই্ নদীর মাছ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলো লাশের কারনে – বিশেষ করে বোয়াল মাছ তারা খেতো না – এখন খায় কিনা জানি না। হয়তো বালুচর চর গ্রামের মানুষদের মাঝে এখনও কেউ কেই আছেন যারা সেই স্মৃতিকে ভুলে যেতে পারছেন না।

 

৩) লাশ দেখে সনাক্ত করার বিষয়টা একদিন পরই শেষ হয়ে গেলো কারন স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা মন্তাজ মিয়া – শুধু মনে আছে তার সাদা পাঞ্জাবী পড়া দাড়িওয়ালা চেহারাটা। আমাদের শাসিয়ে গেলো – যদি আমরা সেই গ্রাম না ত্যাগ করি তবে গ্রাম জ্বালিয়ে দেবে – কারন আমার বাবা আওয়ামীলীগ এবং ভারতের দালাল ছিলেন। আমি যতটুকু জানি আমার বাবা কষ্মিন কালেও আওয়ামীরীগের সমর্থক ছিলেন না – ছিলেন মাওলানা ভাসানীর অনুসারী – শেখ মুজিরুর রহমানের একজন সমালোচক – কিন্তু সেই সময়েও আমার বাবা আওয়ামীরীগার হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন পাক বাহিনীর সহযোগীদের কাছে – আজ আমি আওয়ামীলীগার হয়ে উঠেছি বিচারের দাবীর কারনে। কি অপূর্ব যোগসূত্র। জানি না যদি আরো কিছু দিন খোয়াই্ নদীর পাড়ে বসে লাশ গুনতাম – আজ আমার কি অবস্থা হতো। আমি তো আবেগের কারনে বিচার চাই না – যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের উপর তার বিচার চাই – যাতে আমাকে নদীতে ভেসে যাওয়া লাশের মিছিলের কথা মনে করে কষ্ট পেতে না হয় – যাতে আমি অন্তত বলতে পারি – অপরাধীদের কয়েকজনেওর হলেও বিচার হয়েছে। বাংলাদেশ একটা ন্যায়ের পক্ষের দেশ – একটা ন্যায়ের পক্ষে সমাজ – যেখানে অপরাধীরা যত বড়ই হোক – বিচারের কাছে তাদের আসেই হবে।

 

৪) অনেকের বুদ্ধিতে মা আমাদের নিয়ে শ্রীমংগল গেলেন – এক মুসলিম লীগ নেতার বাসায় – যিনি পাকবাহিনীল সাথে বেশ ভাল যোগাযোগ রাখতেন বলে বলা হয়েছে। সারাদিন আমরা পুরো পরিবার সেই নেতার বাসার সামনে বসে ছিলাম – যখন বিকেলের দিকে উনি বাসায় ঢুকছিলেন – মা, এগিয়ে গিয়ে উনাকে অনুরোধ করলেন যে আব্বাকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করে – উত্তরে উনি মাকে লাথি দিলেন – মা সিড়ি দিয়ে গড়িয়ে নীচে পড়ে গেলো। সেই লোকও টুপি-দাঁড়ি-পাঞ্জাবী পড়াই ছিলেন। যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে আমাদের মাঝেও ইসলামী লেবাস নামক এই পোষাকপড়া লোক দেখলে একটা ঘৃনার ভাব আসতো। একজন মানুষ যখন তার মা’কে লাথি খেয়ে সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যটা দেখে – তারজন্যে আর কোন ইতিহাস পড়ার দরকার হয় না।

 

যাই হোক – ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে যারা এই বিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তারাও কিন্তু প্রকৃত পক্ষে অপরাধীদের পক্ষেই কাজ করছেন – অপরাধকে আড়াল করছেন – বিচারকে বাঁধাগ্রস্থ করছেন। আমরা বিচার চাই – এইটা কোন জিঘাংসা না – এইটা আমাদের অধিকার। দুঃসহ স্মৃতি বহন করার যন্ত্রনা থেকে মুক্তি একটা চেষ্টা – নিজেদের কষ্টের আর উৎসর্গের একটা স্বীকৃত মাত্র। দয়া করে কেউই ধর্ম বা রাজনীতির নামে আমাদের অধিকারে বিপক্ষে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবেন না – তাহলে যে দাঁড়াবে সেইও সেই অপরাধের বোঁঝা বহন করতে হবে – তাদেরকেও ক্ষমা করা হবে না।    

১৬ comments

Skip to comment form

  1. 8
    সত্য সন্ধানী

    খুব কষ্ট পেলাম আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা পড়ে। আপনার আর আপনার।পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমববেদনা রইল!

  2. 7
    আহমেদ শরীফ

    নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের সিংহভাগ জেলে কাটানোর পরও সমঝোতার পথে এসে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন দেশ ও জাতির স্বার্থে। জনগণের রাজনীতি যারা করেন তাদের উদ্দেশ্যই হয় জনকল্যাণ। সেটি একতার মাধ্যমে সম্ভব, বিভাজনের মাধ্যমে না। স্বাধীনতার ৩ বছর পর শেখ মুজিব ভুট্টো প্রসঙ্গে বলেছিল, আমাদের এক সাথে কাজ করতে হবে, আমি অতীতের সব কিছু ভুলে গেছি। কিন্তু জাফর ইকবাল আর শাহরিয়ার কবির তার চেয়েও এখন বড় আওয়ামী লীগ। তাই ৭১ এ শর্ষিনা পীরের আশ্রয়ে থেকে আর পাকি ক্যাম্পে মুরগী সাপ্লাই দিয়ে এখন বিশুদ্ধ, ফিল্টার করে 'চেতনা' বের করছে।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। এতে কোন সন্দেহ নেই, কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু বিচারকে প্রহসন বানানো সমর্থন করা যায় না। একবার একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়ে আবার তাকে কিছু পোলাপানের নাছোড়বান্দা আবদারে উদ্বুদ্ধ হয়ে পুনরায় রায় পাল্টে ফাঁসি দেয়াটা যখন অবলীলায় করা হয় তখন বিচার প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, জনমনে বিভক্তি, ক্ষোভ এবং পরিণামে সংঘাতের জন্ম দেয়। এটা মানুষের জীবনমৃত্যুর ব্যাপার, একটি দেশের চুড়ান্ত বিচারব্যবস্থা যা আস্থার আধার, পোলাপানের খেয়ালখুশি অনুযায়ী সেই আইন-আদালত-বিচারব্যবস্থা এত সহজে প্রভাবিত হবে কেন ?

    বিচার করবে এই যুক্তিতে বিচারকারীদের শত অন্যায়-অবিচার মেনে নেয়ারও কিছু নেই। আজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে যদি মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে ব্যবহার করা হয় সেটি '৭১ এ হানাদার-রাজাকারদের অখন্ড পাকিস্তান টিকিয়ে রেখে শোষণ-জুলুম চালিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে ইসলামের প্রতি মানুষের আবেগকে উস্কে দেয়ার হীনস্বার্থপ্রণোদিত প্রচেষ্টা থেকে আলাদা কি হল ? সেই তো একই জুলুমের পুরানো কাসুন্দি, নতুন বোতলে পুরানো মদ। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আশ্বাস দিয়ে সরকারি গদি কামড়ে থেকে গণতন্ত্রকে হত্যা করা, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করে গায়ের জোরে নির্লজ্জের মত ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা, তাবৎ বিরোধীদলকে সভাসমাবেশ করতে না দেয়া, গণহারে গণগ্রেপ্তার করা, সমস্ত বিরোধীদলসহ আলেমওলামা এবং সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুম-খুন-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো , রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাগাভাগি করে হরির লুট চালানো, চেতনার গীত গেয়ে মুখে ফেনা তুলে তলে তলে অবিশ্রান্ত চুরিচামারি করে ছিঁচকে চোরডাকাতের মত রাতারাতি একেকজনের হাজার হাজারগুণ সম্পদ বৃদ্ধি করা, কতক ভারতের হাতে বিনামূল্যে তুলে দিয়ে বাকিটা নিজেরা ভাগাভাগি করে খাওয়া _ এহেন একদল স্বেচ্চাচারী ক্রিমিনালের সব অপকর্ম এই ২০১৩ সালের প্রজন্মকে মেনে নিতে হবে ৪২ বছর আগের কিছু অপরাধীর বিচারের জন্য ?
     

    ইসলামের প্রতি আবেগকে প্রতারণাপূর্ণ শঠতায় ব্যবহার করা একদল ধর্মব্যবসায়ীকে যদি সমর্থন না করি _ মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে ধুরন্ধর ধান্দাবাজিতে ব্যবহার করা চোরডাকাত-খুনী-আপাদমস্তক মিথ্যাবাদি একদল চেতনাব্যবসায়ীকে কি কারণে সমর্থন করতে হবে ?

    কোন যুক্তিতে ?

  3. 6
    মজলুম

    অফটপিক:

    জামাতিদের কথা বার্তা শুনলে অন্য কোন বিনোদনের দরকার হয় না।

    জামাতি সবগুলা হইলো বুদ্বিপ্রতিবন্ধি  জড় পদার্থের  মতো। আপনি বিম্পির লোক পাবেন যে বিম্পির সমালোচনা করে। আপনি আম্বালীগের লোক পাবেন যে আওয়ামীলীগের সমালোচনা করে, কিন্তু একজন জাশিরের লোক পাবেন না যে জামাতিদের বা তাদের নেতাদের কোন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে। পুরো অন্ধ হয়ে, বিবেককে তাদের নেতাদের কাছে দিয়ে নেতাদের বাতলে দেওয়া কিছু বাক্য নিয়ে গরুর মতো জাবর কাটে সারাদিন। এরা তাদের নেতাদের কোন কর্মকান্ডের বিপক্ষে প্রশ্ন করার সৎ সাহস এদের নেই।  এই জড় পদার্থের লোকগুলা দিয়া গুপ্তহত্যা, রগকাটা, গাড়ি বাড়ি জ্বালানো, মানুষ পোড়ানো মানে চরমপন্হী দলগুলার মতো এসব করা ছাড়া জনসাধারনের সমর্থন পাওয়ার কোন পজিটিভ কাজ পাওয়া যায় না।  পুরা দলটাই হলো আগাছা ও পরগাছাজীবি।  কখনো পাকি আর্মি, কখনো দেশী আর্মীর উপর ভর করে চলা। কখনো আওয়ামীলীগের সাথে আগাছা হয়ে কখনো বিএনপির সাথে পরগাছা হয়ে জীবন যাপনই এদের এ্যাম্বিশন।

    আমি বলি যদি কারো গাড়িতে আগুন দিতে চাও তো আওয়ামী মন্ত্রী এমপিদের গাড়িতে আগুন দাও, তারা তোমাদের মারতেছে। কিন্তু এই শুয়োর গুলা আমার মতো নিরীহ অটোরিক্সাচালক, ট্রাক চালক, যাত্রীবাহি বাস, লেগুনাতে আগুন দিয়ে আমার আপনার মতো সাধারন লোকদের মারতেছে। এদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট গালি দিলেও গালির অপচয় হবে।

     

    মরা গলা পচে যাওয়া বামগুলো যেমন তাদের কথা বার্তায় সারাদিন "বিপ্লব"  "শ্রেনী সংগ্রাম"  "পুজিবাদ"  ঢুকিয়ে দেয় ওগুলা না বুঝেই  বা হাল আমলের নাস্তিকদের "মুক্তমনা"  "প্রগতিশীল" "বিজ্ঞানমনস্ক" আওড়ায় এগুলা না বুঝেই, তেমনি জামাত-শিবিরের বলদগুলা "ইসলামি আন্দোলন" "সংগঠন(এটা শুধু জাশিরের পোলাপান বুঝবে)"  "বাতিল শক্তি"  এই কয়েকটা শব্দ আওড়ানো, নিজেরা নিজেদের মিটিংয়ে নিজেদের প্রশংসা করা, নিজেদের নিজেরা বীর, গাজী, শহীদ উপাধী দেওয়া নিয়ে ব্যাস্ত।    
    এদের কর্মকান্ড  ও কর্মপদ্বতি দেখলে খুবই হাসি  পায়, কারন এইরকম বলদ পৃথিবীতে খালি এক দেশেই আছে।

    1. 6.1
      Taramia

      ভাইজান কি নতুন আইছেন এই বলগে? মনে হইতাছে আমু/সামু থাইকা আইছেন। চালায়া যান- যত পারেন “শুওর” “বলদ” জামাতিগরে। কেহ কিচ্ছু কইব না। আপ্নে একাই এই বলগক “শঠালাপ” বানাইয়া ফেলান।

      সাবধানে গাইল দিয়েন আম্লিগরে। সুম্পাদক আপ্নারে নুটিশ দিব।

      1. 6.1.1
        মজলুম

        হাম্বা লীগ বা বিম্পি কেউই ভালোনা, তবে জামাতের মত বলদ, খাসি, রগকাটার এবং পরগাছার দলের সমকক্ষ ঐ দুই দল হতে পারবেনা। এই সদালাপের বেশীরভাগ পোষ্টই এখন আওয়ামীলীগের বিরুদ্বে হয়, সম্পাদক কোথায় নুটিস দিলো? তবে হ্যাঁ কিছু জামাতি ব্লগার ইসলামী লেবাস লাগিয়ে রাজনিতি বিষয়ক পোষ্টের  বন্যা বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জভাবে জামাতিদের পক্ষে ইতিহাস বিকৃতি করে পোষ্ট দিলে তার লেখা ব্যান হওয়াই উচিত।   জামাতি সমর্থক ও জড় পদার্থের মাঝে আমি বিভাজন করিনা। ১৯৪৩ সাল হতেই এটা পরগাছা এবং ডিগবাজীর দল। @Taramia

  4. 5
    Sam

    “কয়েক সপ্তাহ আমার বাবার কোন খোঁজ নেই। কেউ বলছে – পাকিস্তানীরা ধরে নিয়ে গেছে – কেউ বলছে হয়তো মেরে ফেলেছে।“আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য সহমর্মীতা।

    শেষ পর্যন্ত আপনার বাবার খোঁজ কি পেয়েছিলেন? আপনার লিখা পড়ে বুঝতে পারলাম না।

    “কিন্তু সেই সময়েও আমার বাবা আওয়ামীরীগার হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন পাক বাহিনীর সহযোগীদের কাছে – আজ আমি আওয়ামীলীগার হয়ে উঠেছি বিচারের দাবীর কারনে। কি অপূর্ব যোগসূত্র। “আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনাকে বিচারের দাবির জন্য কি আওয়ামীলীগার ভাবা হচ্ছে? আপনাকে কয়জন ব্যক্তিগতভাবে চেনে এখানে? আপনার লিখা পড়েই সবাই আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ জেনেছে। আপনার লিখাগুলো সবসময় আওয়ামীলীগের পক্ষে যায়- হাজারো দোষে আওয়ামীলীগ দুষ্ট হলেও- আপনাকে আওয়ামীলীগের সমালোচনা করতে দেখিনি। অথচ আপনি বিরোধীদলের চুলচেরা বিশ্লেষণ ঠিকই করেন। আপনি নিরপেক্ষভাবে সব অন্যায়ের বিপক্ষে লিখেন না কেন?

    “দয়া করে কেউই ধর্ম বা রাজনীতির নামে আমাদের অধিকারে বিপক্ষে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবেন না – তাহলে যে দাঁড়াবে সেইও সেই অপরাধের বোঁঝা বহন করতে হবে – তাদেরকেও ক্ষমা করা হবে না।“আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে- অন্যায়ভাবে নির্দোষকে ফাঁসী দেবার অধিকার আপনাকে কেঊ দেয়নি। মীরপুরের ঘাতক কাদের মোল্লা ৩৩১ টা খুনের সাথে জড়িত ছিল যা আপনি ঊল্লেখ করেছেন। ৩৩১ টা খুনের সাথে জড়িত কসাইয়ের বিচারের  জন্য ১৩ বছর বয়শী ঘঠণাকালীণ একজন সাক্ষী! সেই সাক্ষীর অবস্থাও যাচ্ছেতাই। ৩৩১ টা খুনের জন্য তো অনেক সাক্ষী থাকার কথা। ৩৩১ টা খুন করার পরও- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শুধু পাস করলোনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রাইফেল কলেজ, এমনকি প্রেসক্লাব পর্যন্ত পৌছাল! একটা মামলা করতেও কেউ কেন এগিয়ে আসেনি? দালাল আইনেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি! ৭২-৭৫ তো আওয়ামী শাসন চলছিল। যতটুকু জেনেছি তাতে আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে কাদের মোল্লার বিচার নিয়ে।  

    1. 5.1
      সত্য সন্ধানী

      ****আপনাকে বিচারের দাবির জন্য কি আওয়ামীলীগার ভাবা হচ্ছে?****

      দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য যে বি এন পি কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে সম্পুর্ন নিরব। তবে মনে হয় না বি এন পির বেশিরভাগ সমর্থক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কে সমর্থন করে না। আসলে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবীটা সারা দেশের মানুষের (কিছু বিভ্রান্ত লোক ছাড়া) প্রানের দাবী বলেই মনে হয়।

      তবে হ্যা যারা বিচার চাচ্ছেন তাদের মধ্যেও কিছু চুড়ান্ত বাদী আছেন।এনারা মুক্তি যুদ্ধের কোন বিষয় নিয়েই প্রশ্ন করতে দিতে নারাজ।
      যেমন শহীদেএ সংখ্যা নিয়ে বা ২৩ বছরের বৈষম্যের মাত্রা নিয়ে। এটা সঠিক না। প্রশ্ন করলে যানা যায়। আর তাছাড়াও শহীদের সংখ্যা কম বেশি হলে যুদ্ধাপরাধীদের দোষ লঘু হয়ে যায় না। খুন খুনই সেটা যদি একজন মাত্রও হয়।

    2. 5.2
      সত্য সন্ধানী

      ****আপনাকে বিচারের দাবির জন্য কি আওয়ামীলীগার ভাবা হচ্ছে?****
      আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি,হ্যা শুধু মাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করাতেই বহু লোককেই আওয়ামী ট্যাগ খেতে হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। প্রমান দিতে পারব না কারন এসবের কোন প্রমান থাকে না!@ Sam

  5. 4
    মহিউদ্দিন

    জিয়া ভাই, আপনার যুক্তি হচ্ছে

    বিএনপি কেন বিচারের আবেগকে সম্বল করে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করছে না?

    এটা কেবল আপনার মাথায় কুলানো সম্ভব, বিএনপির মত একটি দলের নয়। প্রশ্ন হচ্ছে বিচারের এই আবেগ দিয়ে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, বিএনপি কেন মাফিয়া কাণ্ড করবে এবং কেন একটি হীন রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে যাবে? তারা কি কাণ্ডজ্ঞানহীন? আপনার আবেগী যুক্তিকে যখন ‘বাস্তবতা’ দেখাতে উষ্মার আশ্রয় নেন তখন তাতে যুক্তির পরিবর্তে দুর্বলতাই ধরা পড়ে।

    আস‌লে আপনিই একটি দলের সাথে বিভ্রান্ত হয়েছেন। ১৯৭১ সালে গণহত্যা সবাই স্বীকার করে কিন্তু সেই স্বীকৃতির সাথে তাদের দুশমনদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে না। প্রত্যেক জুলুমের পিছনে এক পক্ষ জালিম হয় এবং এক পক্ষ মাজলুম হয়। এই যুক্তির ধোঁয়া তুলে এবং এটাকে পর্দা করে ‘জামাত নির্মূলের’ কান্না দেখলেই মানুষ মিথ্যাচার বুঝে ফেলে। কোনো ব্যক্তি ন্যায় বিচারের পক্ষে হলে ন্যায়ের অনুকূল বিচারিক ব্যবস্থা তৈরি করতে দ্বিমত দেখাবে না। নির্মূলের গোষ্ঠী মিথ্যাচারিতার মাধ্যমে যে জুলুম এনে হাজির করেছে, বিশ্বের ন্যায় পরায়ণ মানুষ তার নিন্দা করেছে। তারা জালিমের বিপক্ষে হলেও জুলুমের নামে সুগার কোটেড ধাপ্পাবাজি ও ঘৃণার পক্ষে নয়। আপনাদের বিচারের দুর্গন্ধে মানুষ শ্বাসরুদ্ধ পরিবেশে বসবাস করছে। বিশ্বের মানুষ ধিক্কার দিছ্ছে, আপনাদের শাসন, আপনাদের রাজনৈতিকদের ডাকাতি মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। আপনাদের কথাবার্তা মানুষ বিশ্বাস করে না। যাদের উপর মানুষের বিশ্বাস নেই, তারা আবার কীসের বিচার করবে?

    গত রবিবার আমাদের এক ফ্যমেলি ফ্রেন্ড রিটার্য়াড মেজর জেনারেল ফোন করেছিলেন এক পারিবারিক অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে তিনি কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বিভিন্ন আলাপের এক পর্য্যায়ে দেশের কথা চলে আসায় তাকে যখন বললাম ৫ই মের নির্বাচন দেশের মানুষ যেভাবে প্রত্যাখান করেছে তাতে সরকারের উচিত পদত্যাগ করা তাঁর জবাব ছিল মাফিয়রার কি কোন দিন পদত্যাগ করে? তাই প্রশ্ন হচ্ছে যাদের কাজকর্ম ও চরিত্র মাফিয়া সমতূল্য তাদের কাছে আপনি কি বিচার আশা করেতে পারেন?

    যারা নিজেরাই জালেম, তারাই বুঝি ৪০ বৎসর আগের জুলুমের বিচার করবে? বিচার কী কিছু বিদ্বেষ ও আবেগ দিয়ে হয়? এক পক্ষকে এনে হত্যা করাতেই কী ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়? এই ধাপ্পাবাজিতে ঢুকে বিএনপি কেন রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করবে? এটা আপনার মত লোকের পক্ষেই ভাবা সম্ভব, কেননা আপনার আগডুম বাগডুম আমরা কি নতুন দেখছি? এসব বাগডুম পুরাতন।

    তবে হ্যাঁ, নব্য আ’লীগারা রাজনৈতিক ময়দানে বিচারের নামে যে প্রহসন সৃষ্টি করেছে তাতে এই বিচার এখন রাজনৈতিক একটি বিষয় হয়ে পড়েছে। এটাকে এখন ন্যায় নীতির রূপ দিতে হবে। এবং তা সঠিক বিচারিক ও ন্যায়ভিত্তিক পরিপ্রেক্ষিতে হতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই বিচার তারা হাতে নেবে, জামাতও এর পক্ষে থাকবে বলে বিশ্বাস করি। তারাও বিচার চায়। আপনি যদি জামাত নির্মূলের open-secret ভুলতে পারেন, কেবল জালিমের বিচারের প্রত্যাশী হন, তবে জালেমদের জুলুমের পক্ষ ত্যাগ করে নতুন সংগীত রচনা করুন। আপনার পরাজিত লীগগোষ্ঠী ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সকল credibility  হারিয়ে বসেছে। মিথ্যাচারের পরাজয় এভাবেই আসে।  কোনো নিরপরাধ মানুষকে ধর্মীয় এবং সেক্যুলার আবেগ দেখিয়ে হত্যা করাতে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠতে পারে। যাদেরকে আমরা দেখেছি ঘৃণা বিদ্বেষে উদ্বুদ্ধ প্রহসনের বিচার চাচ্ছিল তারা এখন ধর্মীয় পরিভাষার আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু এসব হচ্ছে ধাপ্পাবাজি। মানুষ চেতনা ব্যবসায়ীদের একদম বুঝে ফেলেছে। ২৯শে ডিসেম্বর চেতনা ব্যবসার মৃত্যু হয়েছে। ইসলামের বিচার পেতে হলে ইসলামী শারিয়া ব্যবস্থার দিকে যান। বিচার পাবেন। কিন্তু আপনি যাবেন না, থাবা-বাবাদের সাথে সহযোদ্ধা হয়ে কিসের নৈতিক ভিত্তিতে ইসলামী পরিভাষার ব্যবহার করেন? আপনারা কাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চান? সে দিন শেষ। 

    1. 4.1
      তায়েব

      সহমত ভাই। এরপরে আর কিছু বলার নাই। তারপও দেখব কিছু থাবা বাবার অনুসারীরা ধর্মকে ব্যবহার করে আনুকুল্য পেতে চাইবে। 

  6. 3
    কিংশুক

    আপনার আবেগের কথা তো অনেক শুনলাম। আবেগকে শ্রদ্ধাও জানালাম। বিএনপি যদি আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন ট্রাইবুনাল চায় যার স্বীকৃতি পৃথিবীর অন্যান্য দেশ দিবে তাতে কি ন্যায় বিচার ব্যহত হয়? এ কথা বললেই আবার আওয়ামী লীগাররা জামায়াতের নেতাদের ছেড়ে দিলেই কি আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন ট্রাইবুন্যাল গঠিত হবে এধরনের গোর্য়াতুমি কথাবার্তা শুরু করে।  আর ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের কথা আসলে স্বাভাবিক ভাবেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, জুলফিকার আলী ভুট্টো, নিয়াজি, টিক্কা খান এদের কথাই আগে আসবে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর কথা আসবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ৯৫% এর বেশী মানুষই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরোধী ছিলো। আত্মীয় স্বজন হারিয়েছিলো কিংবা প্রানের ভয়ে দৌড়ের উপর ছিলো। মুক্তিযুদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলো। এখন সেই যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গিয়ে জনপ্রিয়তার পারদ ধা ধা করে উপরে না উঠে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এত তলানিতে নেমেছে কেন? বাংলাদেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিনত করেও নিয়ন্ত্রন নিতে পারছেনা। মনে হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের বিচার করার নামে আওয়ামী লীগ বামদের ক্রীড়ানকে পরিনত হয়েছে যারা দেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ভয় দেখিয়ে উজবেকিস্তান, তাাজিকিস্তানের মতো বাম স্বৈরশাসক বসিয়ে ইসলাম শুন্য করতে চায়। উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় আমেরিকা, ইইউ, রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে বাম স্বৈরশাসন কায়েম করা গেছে। বাংলাদেশে এসব সম্ভব হবেনা। বামদের দ্বারা বেশী নাচলে আওয়ামী লীগ আম ছালা সবই হারাবে।

  7. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    জিয়াভাই, ব্লগের প্রথম দিকে পড়ে ভাবছিলাম কিছু বলব, কিন্তু যখন পড়া শেষ করি, তখন  কিছু বলার সে মনোভাব উবে গেল!! শক্তি এবং যুক্তি কোনটি এখন আর আমার নেই।

    ভাই সেই অবরুদ্ধ বাংলাদেশে আমাদের প্রিয় মেঝবোন তিনিও মারা গিয়েছিলেন। তিনি হয়তো পাকিস্তানী আর্মীদের সরাসরি গুলিতে মারা যাননি, তারপরও তিনি মারা গিয়েছিলেন বড় অসহায় ভাবে। তিনি খুব মেধাবী ছাত্রী ছিলেন, এস এস সির রেজাল্ট বের হবার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, ৭১ এপ্রিলে তিনি তার স্বামীর বাড়ির পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পা পিছলে ঘাটে পড়ে যান। ঐ সময় তিনি ছিলেন ৭/৮ মাসের অন্তঃসত্তা। জানেন তো ঐ সময় চারিদিকে হত্যালীলা চালিয়ে যাচ্ছিলো পাকিস্তানীরা। সীমিত সময়ের জন্য কার্ফু তোলে নেয়া হলেও কোন মা তার জোয়ান ছেলেদেরকে শহরে যেতে দিতেন না। সে কারণে আমার বোনকে নিয়ে কেউ হাসপাতালে নিয়ে আসার দুঃসাহস করেনি, হয়তো এই কারণ হতে পারে যে, স্বামীর মা বাবা ভেবেছেন, বৌ গেলে বৌ পাবেন কিন্তু ছেলে গেলে তো আর ছেলে পাবেন না। তাই আমার বোনটি চোখের সামনে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কুঁকড়ে কুঁকড়ে চিৎকার করতে করতে এক সময় মারা গেলেন! নাক মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়েছিলো। আমার মনে আছে, আমি উনার বুকে হাত দিয়ে দম আছে কিনা ঠার করছিলাম। বুক তখনও গরম ছিলো। আমার বিশ্বাস তিনি মারা যাননি, কিন্তু লোককে বলছে তিনি মারা গেছেন। সবাই গোসল কাফন পরিয়ে দাফন করে দেয়। এই ঘটনা বলার উদ্দেশ্য যে, ৭১ একা আপনি পিতা হারাননি, এই দেশের এমন কোন মানুষ নেই যে সে তার কাউকে না কাউকে হারিয়েছিলো।  সে সময় এমন মানুষ নেই যে তিনি পালিয়ে এই জনপদ থেকে অন্য জনপদ করে বাস করেননি। এমন মানুষ ছিলোনা যার কোন না কোন ক্ষতি হয়নি।

    মানুষ সম্পদ হারালে হয়তো তা ফিরে পেতে পারে, কিন্তু বাবা মা হারালে তা ফিরে পাওয়া যায়না, বাবা মা মারা যাওয়া মানে নিছক চলে যাওয়া নয়, তাদের হঠাৎ চলে যাওয়ার রেশ বাকীদের জীবনে সমস্যার বোঝা চাপিয়ে দিয়ে যায়, বাকীদেরকে ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করে, সারাজীবন হারানোর ব্যথা বয়ে বেড়াতে হয়।

    জিয়াভাই, হত্যা ধর্ষণ, বিতাড়ণ, এই গুলো জগণ্য মানবতা বিরোধী অপরাধ হলেও ফৌজদারী অপরাধ আর যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক অপরাধকে কিন্তু এক ভাবে বিচার করা সম্ভব হয়না। এইটি আমার মুখের কথা নয়, আপনি ইতিহাস দেখুন।

    ইতিহাসে হয়তো দুই একটি এই ধরণের ঘটনার বিচার হয়েছে, সে গুলো শুধু প্রতীকী, শুধু ঐ সময়ের সংঘটিত ঘটনার সংক্ষুভব্ধ ভুক্তভুগিদেরকে মানসিক শান্তি দানের নিমিত্ত হয়েছিলো।

    আপনি দেখুন, আমাদের ইসলামের ইতিহাসে, খলিফা উমর রাঃ ছেলে ইবনে উমর রাঃ বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে হত্যাকারীর নিরপরাধ মেয়ে হত্যা করার মত অপরাধ করেছিলেন। উমর রাঃ এর হত্যা ছিলো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। তাই যখন আলী রাঃ সহ মজলিসে সূরার বেশীর ভাগ সদস্য, ইবনে উমরাঃকে নিরপরাধ হত্যার অপরাধে হত্যার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন তখন সদ্য নিযুক্ত ৩য় খলিফা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে সেদিন তিনি মজলিসে সূরার সদস্যদের রায়ে বাইরে গিয়ে রক্তপণ আদায় করে ইবনে উমর রাঃকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

     

    উসমান রাঃ এর হত্যাকাণ্ড ছিলো রাজনৈতিক এবং বিদ্রোহ। সেদিনও তার হত্যাকারীদের বিচারের জন্য মজলিসে সূরার প্রখ্যাত সাহাবীদের দাবির পরও আলী রাঃ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে ঐ সময় বিচার করতে চাননি।

     

    আমার বক্তব্য এই নয় যে উপরের ঘটনাগুলো বর্ণনা করে আমি বলতে চাইছি- ৭১ সালের বিচার করা যাবেনা।

    না। আমার সে দাবি নয়। শুধু আমার দাবি, ৭১ সালের প্রতিটি অপরাধের বিচারের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। তবে তা হতে হবে দল নিরপেক্ষ।

    আমার পরিষ্কার অবস্থান- কসাই কাদেরের বিচারের সাথে সাথে বাঘা কাদেরেরও বিচার করতে হবে। পাকিস্তানী অপরাধীদেরকে ধরে আনতে না পারলেও তাদেরকে পলাতক দেখিয়ে বিচারে আনতে হবে।

    আমার আপত্তি- দেখে দেখে শুধু ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ধরে এনে বিচার করাকে প্রহসনের বিচার বলে আমার কাছে মনে হয়।

    ৭১ এ এই  সমস্ত অপরাধ ৩ পক্ষের লোকদের দ্বারা হয়েছিলো। এখন এক পক্ষকে ক্ষমা চাইতে বলবেন, আর এক পক্ষকে ইনডেমনিটি দিবেন, আর শুধু মাত্র একপক্ষের লোকদেরকে  লটকাবেন, তাকে আমি ন্যায় বিচার বলে মেনে নিতে পারিনা। এক অপরাধের জন্য তিন জনকে তিন ধরণের ব্যবহারকে আমি অবিচার বলে মনে করি।

    হয় বিচার করলে ৩ পক্ষের বিচার করতে হবে, নতুবা এই বিচারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে সবর করে যেতে হবে।

    1. 2.1
      মনির

      মুনিম ভাইয়ের সাথে একমত।

    2. 2.2
      তায়েব

      >>>>

      শুধু আমার দাবি, ৭১ সালের প্রতিটি অপরাধের বিচারের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। তবে তা হতে হবে দল নিরপেক্ষ।

      আমার পরিষ্কার অবস্থান- কসাই কাদেরের বিচারের সাথে সাথে বাঘা কাদেরেরও বিচার করতে হবে। পাকিস্তানী অপরাধীদেরকে ধরে আনতে না পারলেও তাদেরকে পলাতক দেখিয়ে বিচারে আনতে হবে।

      আমার আপত্তি- দেখে দেখে শুধু ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ধরে এনে বিচার করাকে প্রহসনের বিচার বলে আমার কাছে মনে হয়।

      ৭১ এ এই  সমস্ত অপরাধ ৩ পক্ষের লোকদের দ্বারা হয়েছিলো। এখন এক পক্ষকে ক্ষমা চাইতে বলবেন, আর এক পক্ষকে ইনডেমনিটি দিবেন, আর শুধু মাত্র একপক্ষের লোকদেরকে  লটকাবেন, তাকে আমি ন্যায় বিচার বলে মেনে নিতে পারিনা। এক অপরাধের জন্য তিন জনকে তিন ধরণের ব্যবহারকে আমি অবিচার বলে মনে করি।

      হয় বিচার করলে ৩ পক্ষের বিচার করতে হবে, নতুবা এই বিচারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে সবর করে যেতে হবে।

      >>>

      আমারও কথা এখানেই। মনে হয় এটা শুধু আমাদের কথা না নির্বাচনের পর আরও বেশি মনে হয় নিশ্চিত হলাম। জনগনের সাপোর্ট দেখে। এখন সেই যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গিয়ে জনপ্রিয়তার পারদ ধা ধা করে উপরে না উঠে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এত তলানিতে নেমেছে কেন? সবাই বিচার চা্য় কিন্তু বিচারের নামে বিরোধীদের লঠকাবেন এটা সর্বনিন্ম পর্যায়ের বিবেক সম্পন্ন লোকও বিরোধীতা করবেন। 

  8. 1
    ফাতমী

    লিখাটা পড়লাম, একটু সময় দিন, কিছু এড করছি। 

    1. 1.1
      ফাতমী

      মানুষ পঁচার গন্ধ যে এতো উৎকট হতে পারে তা আজও ভুলতে পারিনি। সেখানে ১০ জন চা বাগানের কুলি এবং একজন ম্যানেজার পদের মানুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে পাকহানাদার বাহিনী আর তাদের দোসররা। গভীর আগ্রহ নিয়ে গর্তের কাছে দাড়িয়ে দেখেছিলাম কি হচ্ছে। এক সময় ভীড়ের মাঝ থেকে একজন চিৎকার করে বললো – এই যে ঘড়িটা দেখা যাচ্ছে। ম্যানেজার পদের মানুষটির হাতে ঘড়ি দেখে পরিবারের লোকজন চিহ্নিত করলো তাদের স্বজনের লাশ – তুলে নিয়ে গেলো সেই কংকালটা। সেই তীব্র দুর্গদ্ধ আমাকে আজো পীড়া দেয়। ভুলতে চাই্লেও ভুলতে পারি না যখন রাজাকার-আলবদররা আস্ফালন করে – যখন ঘাতকরা বুক ফুলিয়ে আমাদের ভুলে যাওয়ার নসিহত করে- আবু জিয়াউদ্দিন

      উনি বাগানের কোন অফিসার হবেন, ম্যানাজার সম্ভবত নন। আপনার বাকি বর্ননার সাথেও এলাকাবাসীর বর্ননার তেমন কোন তফাত নেই। 

      বাংলাদেশ একটা ন্যায়ের পক্ষের দেশ – একটা ন্যায়ের পক্ষে সমাজ – যেখানে অপরাধীরা যত বড়ই হোক – বিচারের কাছে তাদের আসেই হবে।-আবু জিয়াউদ্দিন

      এমন দেশই আমরা চেয়েছিলাম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.