«

»

Apr ১৪

হারাম-হালাল বিষয়ক সাম্প্রতিক বিতর্ক আর আমার দুই পয়সা

সঙ্গত কারণেই অনেকদিন সদালাপে অনুপস্থিত ছিলাম – ফিরে এসে দেখলাম সদালাপে বেশ জমজমাট বিতর্ক চলছে। দুই পক্ষই বেশ শক্ত। এই অবস্থায় একটা তৃতীয় অবস্থান – সিটিং অন দ্যা ওয়াল – নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছি – তাই কোন পোস্টে মন্তব্য করার চাইতে আলাদা পোস্টে দুই কথা বলার চেষ্টা করছি।

আমাদের প্রত্যহিক জীবনে অনেক সমস্যার সন্মুখিন হই – যার বিষয়ে সুষ্পষ্ট আদেশ নিষেধ কোরানে বা হাদিস থেকে পাওয়া যায় না। তখনই আমাদের আলেমদের দ্বারস্থ হতে হয়। সেই ক্ষেত্রে আলেমগণ তাঁদের জ্ঞানের আলোকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা প্রয়োগ করে মতামত দেন। বলাই বাহুল্য – সেগুলো উনাদের মতামত – অলংঘনীয় বাক্য নয়। কারণ শেষ বিচারে আমাকেই আমার কর্মের জবাব দিতে হবে – সেখানে কোন জ্ঞানী লোকের রেফারেন্স বা সুপারিশ কাজ করবে না। প্রকৃতপক্ষে কোরান হাদিসের বাইরের ফতোয়াগুলোর বিষয়েও আমাদের নিজের মেধা বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে।

এই ক্ষেত্রে দেখা যায় – অনেকে একজন আলেমের বা একটা বিশেষ মতাদর্শকেই সঠিক বিবেচনা করেন – অন্যরা সব দিক দেখে শুনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। বন্তুত ইসলাম মধ্যপন্থার কথাই বলে।

এই প্রসংগে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. বিলাল ফিলিপের একটা বয়ান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছি। উনি সিগারেট বা ধূমপান সম্পর্কে উদাহরণ দিয়ে বলেছেন – এক সময় ধূমপান মাকরুহ বিবেচনা করা হতো – কারণ এর দূর্গন্ধকে পেঁয়াজ রসুনের পর্যায়ে ফেলে পেঁয়াজ খেয়ে জামাতে নামাজ বিষয়ক হাদিসকে এখানে প্রয়োগ করা হতো। কিন্তু জ্ঞান বাড়ার সাথে সাথে মানুষ জানলো – ধূমপান মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে টেনে নেয় – এখন আত্নহত্যা বিষয়ক কোরানের আয়াতের আলোকে ধূমপানকে হারাম বিবেচনা করছেন অনেক আলেম।

পুরোটাই যুক্তি নির্ভর কথা – এখন কোন্‌টা গ্রহণ করবো আমি – তা আমার বিবেচনার উপর নির্ভর করে।

ঠিন তেমনি – হস্তমৈথুন সম্পর্কেও একই কথা বলা যায় – কোরান এখানে সম্পূর্ণ নীরব – তাই আনেক আলেম একে পুরোপুরি বা এক বাক্যে হারাম বলেননি – কিন্তু অনেকে বলেছেন। এই বিষয়ে বর্তমান কালের প্রখ্যাত এবং গ্রহণযোগ্য আলেম ইউসুফ আল কারদাভীর মতামতকে বেশ চমৎকার মনে হয়েছে বলে ইন্টারনেট থেকে সরাসরি পেস্ট করে দিলাম (ইচ্ছা করেই বাংলা করলাম না)।

 

A Ruling Concerning Masturbation

The pressing need to relieve himself of sexual tension may drive a young man to masturbation.

The majority of scholars consider it haram. Imam Malik bases his judgement on the verse, Those who guard their sexual organs except with their spouses or those whom their right hands possess, for (with regard to them) they are without blame. But those who crave something beyond that are transgressors, (23:5-7) arguing that the masturbator is one of those who "crave something beyond that."

On the other hand, it is reported that Imam Ahmad Ibn Hanbal regarded semen as an excretion of the body like other excrete and permitted its expulsion as blood letting is permitted. Ibn Hazm holds the same view. However, the Hanbali jurists permit masturbation only under two conditions: first, the fear of committing fornication or adultery, and second, not having the means to marry.

We are inclined to accept the opinion of Imam Ahmad in a situation in which there is sexual excitation and danger of committing the haram. For example, a young man has gone abroad to study or work, thereby encountering many temptations which he fears he will be unable to resist, may resort to this method of relieving sexual tension provided he does not do it excessively or make it into a habit.

Yet better than this is the Prophet's advice to the Muslim youth who is unable to marry, namely, that he seek help through frequent fasting, for fasting nurtures will-power, teaches control of desires, and strengthens the fear of Allah. The Prophet (peace be on him) said, Young men, those of you who can support a wife should marry, for it keeps you from looking at women (lit., lowers your gaze) and preserves your chastity; but those who cannot should fast, for it is a means of cooling sexual passion. (Reported by al-Bukhari.)

দেখা যাচ্ছে যে উভয় দিকেই বিশিষ্ট জ্ঞানীদের মতামত (ফাতওয়া) আছে। এই অবস্থায় কি করবো আমরা – বলাই বাহুল্য নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনাই প্রয়োগ করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত যাতে সঠিক পথে চলতে পারি – তাইতো দিনে কমপক্ষে ১৭ বার আমরা পাঠকরি "হে আমার রব, আমাকে সরল পথে চালাও"। কোন একটা মতামতকে সঠিক বিবেচনা করাটা আমারই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কে কত বড় আলেম বা কত বেশী মতবাদ আমার মতামতের পক্ষে তা নিয়ে বিতর্ক করে বিজয়ী হবার মানসিকতাটাও বেশ ভয়ংকর – যা আসলে রক্ষণশীলতার নিদর্শন। ইসলাম জীবনকে সহজ করার জন্যেই আল্লাহ থেকে আসা একটা বিধান – সেখানে নানান রক্ষণশীলতা দিয়ে দ্বীনকে কঠিন আর জটিল করার যে চেষ্টা তা বিপজ্জনক – যা করেছে ইসলামের আগের দুই কিতাবধারীরা – যা তারা নিজেরাই মানতে পারেনি – যেমন ক্যাথলিক প্রিস্টদের বিবাহ হারাম করে তাদের তৈরী বিধানে খেশারত দিতে হচ্ছে পুরো বিশ্বাসী সমাজকে – তাদের যৌন কেলেংকারীর কারণে বিশ্বে খৃষ্টান ধর্মাবলাম্বীদের জন্যে একটা চরম লজ্জার কারণ তৈরী হয়েছে।

তাই – যে বিষয়ে কোরান হাদিসে সুষ্পষ্ট নিষেধ নেই – তাকে হারাম বলে চাপিয়ে দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে – বিশেষ করে জৈবিক চাহিদার বিষয়টি যেহেতু মানুষের জন্যে খুবই স্বাভাবিক – সেই স্বাভাবিক বিষয়ের উপর কঠিন বিধি নিষেধ প্রয়োগ করার আগে মানুষের লদ্ধ জ্ঞান আর জৈবিক চাহিদার বিষয়টি বিশেষ ভাবে বিবেচনা করার বিষয়টি অনেক আলেমগণের মাঝে দেখা গেছে।

আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝের তৌফিক দিন।

২৮ comments

Skip to comment form

  1. 13
    sotto

    এপ্রিল ২১, ২০১৪ at ৫:০৮ অপরাহ্ন তে একটি মন্তব্য দিয়েছিলাম। কেন এখনও প্রকাশ করা হেলো না তা জানিনা! তাই আবারও দিলাম-

     

    “সালামুন আলাইকুম”

     

    আল-কোরআনে শুধুমাত্র বিবাহিত স্ত্রীদের সাথেই যৌনকর্ম অর্থাৎ সহবাস করার স্পষ্ট ইংগিত দেয়া হয়েছে-

    সূরা বাকারা (০২:১৮৭) অর্থ- রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরণ কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।

    (০২:২২৩) অর্থ- তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য কর্ষণকারী উর্বর শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যখন খুশি তোমাদের কর্ষণকারী উর্বর শস্য ক্ষেত্রে গমন কর। আর তোমাদের নিজেদের জন্য উৎপাদন (অগ্রীম/আগামী দিনের ব্যবস্থা গ্রহণ) কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।      

     

    সুতরাং বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গ ছাড়া অন্য কোন উপায়ে যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করা অশ্লীলতার নামান্তর এবং হারাম। হস্তমৈথুন যেহেতু এককভাবে ও সাধারণত গোপনে হয়ে থাকে, তাই এটি ‘জিনা’ অর্থাৎ ব্যভিচার কিংবা ধর্ষন বা সমকামীতার সমপর্যায়ভূক্ত হিসেবে গণ্য হবেনা।

     

    হস্তমৈথুন তথা সকল অশ্লীল/লজ্জাজনক কাজ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সূরা আরাফ এর ৩৩ নং আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-

    (০৭:৩৩) অর্থ- তুমি বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল/লজ্জাজনক বিষয়সমূহ এবং সকল গোনাহ এবং অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, আল্লাহর সাথে অংশীদার করা, যে বিষয়ে তিনি কখনো কোন সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞানই নাই।

     

    এই আয়াত অনুসারে যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল/লজ্জাজনক বিষয় ও গোনাহসমূহ, এমনকি যে কোন বিষয়ে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করাও হারাম হয়ে যায়। যার মধ্যে হস্তমৈথুনও অন্তর্ভূক্ত বলে আমি বিশ্বাস করি। এই অপরাধের জন্য যেহেতু পার্থিব শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয় নাই, তাই এর জন্য শাস্তি প্রদান করা যাবে না। তবে বিশ্বাসী মাত্রই এই ধরনের অশ্লীল কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। মহান স্রষ্টা কাম-লালসার অনুসরন কোরে কোন প্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন। তাই এতে আসক্ত হয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা, বরং এ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানুষকে খুবই দুর্বলরূপে সৃজন করা হয়েছে। তাই কখনো অজ্ঞতা বা অসাবধানতা বশত কিংবা উপায়হীন অবস্থায় এরূপ অন্যায় হয়ে গেলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে এবং এই অপকর্ম থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকতে হবে। তা না হলে যেমন পার্থিব ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি পরকলিীন শাস্তির হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যাবেনা। বাকিটা মহান স্রষ্টার ইচ্ছা।

     

    (৪:২৭) অর্থ- আল্লাহ তোমাদের প্রতি ফিরতে (ক্ষমা করতে) চান; কিন্তু যারা কাম-লালসার অনুসারী, তারা চায় তোমরাও যেন (তাঁর কাছ থেকে) অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।

     

    সুতরাং কাম-লালসার অনুসরণ কোরে কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করলে পরিনামে স্রষ্টার সাথে দূরত্বই বাড়ে। তাই যে কোন প্রকার অশ্লীল কর্ম থেকে নিজেকে ফিরিয়ে না নেয়া একজন বিশ্বাসীর জন্য শোভা পায়না। কারণ মহান স্রষ্টার পবিত্র সান্নিধ্য লাভের জন্য নিজেকে ভিতরে ও বাহিরে যথাসম্ভব পুত পবিত্র রাখা চাই।

     

    ধন্যবাদ-

  2. 12
    মুহাম্মদ হাসান

    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,

    যাই্ হোক – ট্রাডিশনালী পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানরা তাদের ধর্মকর্মের কাজটা আলেমদের উপর ছেড়ে দিয়েছে – আপনিও তার থেকে ব্যতিক্রম নন। 

    কারন আমি আপনার মত "মুজতাহিদ" না । 

    আপনি একদিকে বলছেন আপনি কোরান বিষয়ে জ্ঞান রাখেন না । কিন্তু এই পোস্টে কোরানের রেফারেন্স দিলেন অনেক।

    আপনার সাথে আর আলোচনা করার কোন রুচি নেই ভাই । বাংলায় কুরআনের অনুবাদ আর দুই একটা বই পড়ে জ্ঞানীর ভান করা যায় কিন্তু আসল জ্ঞানী হওয়া যায় না । আর কুরআন হাদিসের কয়েকটা রেফারেন্স দিলেই মুজতাহিদ হওয়া যায় না । 

    1. 12.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @হাসান আপনার সাথে কথা বলে বেশ মজা পাচ্ছি। রুচীর বিষয় না হয় থাক -- ধরুন আমি একজন বিভ্রান্ত মানুষ -- অথবা জ্ঞানহীন -- আপনি কি বারবার আমাকে তাচ্ছল্য দেখিয়ে কথা বলতে পারেন।  কলক্ষ্য করলে দেখবেন -- আমি পুরো আলোচনায় আপনাকে ব্যক্তিভাবে জাজ করার চেষ্টা করিনি বা কোন তাচ্ছল্য করে কথা বলিনি অথবা কোন কটু কথা বলিনি -- কিন্তু আপনি বারবার তা করে যাচ্ছে। মুসলমানদের একটা বিশেষ গুন থাকা জরুরী তা হলো বিনয় -- তার কি অভাব আপনি আমার মাঝে দেখলেন? আপনি কি বিনয়ী থাকলেন আমার সাথে কথা বলার সময়? 

       

      আমি কখনও দাবী করিনি আমি একজন জ্ঞানী মানুষ -- তবে আল্লাহর অসীম রহমতে কোরাআন হাদিস এখন অনেক সহজলভ্য হয়েছে -- ইচ্ছা করলেই কোন বিষয়ে আলেমদের মতামত জানা যায় -- সেখানে প্রাচীনপন্থীদের মতো কারো পিছনে হাঁটার তেমন কোন দরকার আছে কি? মানুষ হিসাবে আমাদের সবারই ভাবার ক্ষমতা আছে -- সেই ভাবনার পথ ধরে অনেকেই প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গিয়েও যথেষ্ঠ জ্ঞানার্জন করছে এবং বিশ্বের শ্রেষ্ট দায়ীদের কাতারে নাম লিখিয়েছে। তাদের তাচ্ছল্য করার মতো মানুষও আছে।

       

      দেখুন  আপনি একবার প্রশ্ন করেছেন -- আমি কি মুজতাহিদ?, এখন বলছেন -- "আমি আপনার মত "মুজতাহিদ" না । " পরে আবার বলছেন -- "বাংলায় কুরআনের অনুবাদ আর দুই একটা বই পড়ে জ্ঞানীর ভান করা যায় কিন্তু আসল জ্ঞানী হওয়া যায় না । আর কুরআন হাদিসের কয়েকটা রেফারেন্স দিলেই মুজতাহিদ হওয়া যায় না । "

       

      -- কথা সত্য। তাইতো দেখুন মুল লেখায় আমি আমার নিজের কথা বলিনি -- বলেছি আরেকজন আলেমে ভাষ্য এবং সেখানে আছে আরো অনেক আলেমের মতামত। কোরাআন আর হাদিসের রেফারেন্স দিলেন তো আপনি। যাই হোক -- জাজমেন্টাল হওয়া আর দ্রুত সিদ্ধান্তে চলে যাওয়ার চেয়ে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করাটাই কি ভাল নয়। আপনি আমার লেখায় এসেই আমাকে ব্যক্তিহিসাবে জাজ করার চেষ্টা করছেন এবং নানান ধরনের কটুকথা বলছেন। সারওয়ার এসে জাজমেন্ট দিয়ে গেলো -- জানি না ওর রাগটা কোথায় -- হয়তো  অন্ধ অনুকরন করিনা বলেই অনেকে রেগে গেছেন।

      সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কথা হলো সদালাপ তো কোন ধর্মীয় পোর্টাল না যার রেফারেন্স দিয়ে কোন ফতোয়া চালু হবে অথবা কোন একটা নতুন মতবাদ চালু হবে। আমার জানা মতে কোন ইসলামী পন্ডিত সদালাপে লেখেন না -- এখানে আসে সবাই শিখতে (বিশেষ করে আমি তাই করি) এবং সবাই সবার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখে -- তা ভুল হতে পারে -- তার জন্যে তাকে জাজ করা বা হেয় করে কথা বলাটা কতটা যৌক্তিক তা ভাবার বিষয়। 

      ধৈর্য্য ধরা আর অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করা একটা বিশেষ গুন -- অন্যের মতপ্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধা মানেই এই না যে তার সাথে একমত হতেই হবে -- ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে জায়গা দিতে হবে -- তবেই হয়তো এই অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ইসলাম মুক্তি পাবে। 

  3. 11
    সরোয়ার

    @ হাসান ভাই, অনেকদিন পর সদালাপে এসে আপনার মন্তব্যগুলো পড়লাম। খুব ভাল লাগল। অনলাইনে আপনাদের মত লেখক দরকার। ধন্যবাদ।

    আপনি যার সাথে বিতর্ক করছেন উনি ব্লগিং করতে করতে জেতার চিন্তাই শুধু মাথায় সবসময় কাজ করে। আমাদের জন্য এক সেন্সে ভালই হয়েছে। উনার বদৌলতে অনেক কিছু জানলাম, যদিও জানার কোন প্রয়োজন ছিল না। হস্তমৈথুন হারাম হিসেবেই জানি।  নেটে একদল ভার্চুয়াল আলেমের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। কয়েক পাতা কোরান অনুবাদ পড়ে বিজ্ঞ আলেম হিসেবে ফতুয়া দিয়ে বেড়াতে দেখি!  ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে এদের অনেক দেশের আলেমদেরকে নিয়ে মকারী ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে নীজেদের জ্ঞান জাহির করতে থাকেন।

    1. 11.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @ সারোয়ার    চমৎকার আপনার জাজমেন্ট। আপনি এসে কোন কারন ছাড়াই আরেকজনের নামে গীবত করে গেলেন। এইটাও একটা চরিত্র বটে। আপনি আমার নামে ঢালাও ভাবে অভিযোগ করলেন -- যদি দয়া করে স্পেসিফিক কোন একটা প্রমান দিতেন আমি কয় পাতা কোরান পড়ে কোন ফতুয়া দিলাম (কথাটা হতে ফতোয়া, ফতুয়া গায়ে দেওয়া হয়) আর কোন আলেমের নামে মকারী করেছি?   

       

       

  4. 10
    sotto

    “সালামুন আলাইকুম”

     

    আল-কোরআনে শুধুমাত্র বিবাহিত স্ত্রীদের সাথেই যৌনকর্ম অর্থাৎ সহবাস করার স্পষ্ট ইংগিত দেয়া হয়েছে-

    সূরা বাকারা (০২:১৮৭) অর্থ- রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরণ কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।

    (০২:২২৩) অর্থ- তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য কর্ষণকারী উর্বর শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যখন খুশি তোমাদের কর্ষণকারী উর্বর শস্য ক্ষেত্রে গমন কর। আর তোমাদের নিজেদের জন্য উৎপাদন (অগ্রীম/আগামী দিনের ব্যবস্থা গ্রহণ) কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।      

     

    সুতরাং বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গ ছাড়া অন্য কোন উপায়ে যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করা অশ্লীলতার নামান্তর এবং হারাম। হস্তমৈথুন যেহেতু এককভাবে ও সাধারণত গোপনে হয়ে থাকে, তাই এটি ‘জিনা’ অর্থাৎ ব্যভিচার কিংবা ধর্ষন বা সমকামীতার সমপর্যায়ভূক্ত হিসেবে গণ্য হবেনা।

     

    হস্তমৈথুন তথা সকল অশ্লীল/লজ্জাজনক কাজ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সূরা আরাফ এর ৩৩ নং আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-

    (০৭:৩৩) অর্থ- তুমি বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল/লজ্জাজনক বিষয়সমূহ এবং সকল গোনাহ এবং অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, আল্লাহর সাথে অংশীদার করা, যে বিষয়ে তিনি কখনো কোন সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞানই নাই।

     

    এই আয়াত অনুসারে যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল/লজ্জাজনক বিষয় ও গোনাহসমূহ, এমনকি যে কোন বিষয়ে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করাও হারাম হয়ে যায়। যার মধ্যে হস্তমৈথুনও অন্তর্ভূক্ত বলে আমি বিশ্বাস করি। এই অপরাধের জন্য যেহেতু পার্থিব শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয় নাই, তাই এর জন্য শাস্তি প্রদান করা যাবে না। তবে বিশ্বাসী মাত্রই এই ধরনের অশ্লীল কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। মহান স্রষ্টা কাম-লালসার অনুসরন কোরে কোন প্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন। তাই এতে আসক্ত হয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা, বরং এ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানুষকে খুবই দুর্বলরূপে সৃজন করা হয়েছে। তাই কখনো অজ্ঞতা বা অসাবধানতা বশত কিংবা উপায়হীন অবস্থায় এরূপ অন্যায় হয়ে গেলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে এবং এই অপকর্ম থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকতে হবে। তা না হলে যেমন পার্থিব ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি পরকালীন শাস্তির হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যাবেনা। বাকিটা মহান স্রষ্টার ইচ্ছা।

     

    (৪:২৭) অর্থ- আল্লাহ তোমাদের প্রতি ফিরতে (ক্ষমা করতে) চান; কিন্তু যারা কাম-লালসার অনুসারী, তারা চায় তোমরাও যেন (তাঁর কাছ থেকে) অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।

     

    সুতরাং কাম-লালসার অনুসরণ কোরে কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করলে পরিনামে স্রষ্টার সাথে দূরত্বই বাড়ে। তাই যে কোন প্রকার অশ্লীল কর্ম থেকে নিজেকে ফিরিয়ে না নেয়া একজন বিশ্বাসীর জন্য শোভা পায়না। কারণ মহান স্রষ্টার পবিত্র সান্নিধ্য লাভের জন্য নিজেকে ভিতরে ও বাহিরে পুত পবিত্র রাখা চাই।

  5. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @হাসান

     

    আপনি বক্তব্য বাদ দিয়ে বক্তাকে বিচার করতে শুরু করলেন। এইটাই হলো সমস্যা। অতিরিক্ত রক্ষনশীলতার কারনে ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশ বাংলাদেশ সব ধরনের অপরাধ আর ইসলাম বিরোধী কাজ চলছে। কারন একদল মানুষ ইসলামকে একটা কঠিন আবরনের মাঝে আটকে ফেলেছে। সাধারনের কাছে ধর্ম একটা কঠিন বিষয় যা তাদের পক্ষে অনুসরন করা কঠিন হয়ে গেছে -- কোরান হাদিস থেকে বহুদুরে বসে কিছু ফতোয়ার উপরে ধর্ম চর্চা হচ্ছে। 

     

    আপনিও তেমনি একটা বিষয়ে কোরান হাদিসের বাইরে আলেমদের ফতোয়াকেই কঠিন ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন -- শুধু তাই না এর বাইরে যারা চিন্তা করে তাদের বিষয়ে কঠিন মনোভাব পোষন করছেন। 

     

    যাই হোক -- যা আল্লাহ এবং তার রসুল(সঃ) সুষ্পষ্ট করেননি -- আমি তাকে সুস্পষ্ট করার কে? 

     

    আমার ভাগ্য ভাল যে আপনি আমাকে মুরতাদ ঘোষনা করেননি -- এই জন্যে শুকরিয়া। 

     

    আমি কোন পন্ডিত ব্যক্তি না -- কিন্তু আমার কর্মের জন্যে আমাকে জবাবদীহি করতে হবে -- এই কারনেই সব বিষয়ে নিজের মতো করেই ভাবি। সব বিষয়ে অবশ্যই আমার নিজস্ব মতামত আছে -- কারন মানুষ হিসাবে আমরা ভাবনা থেকে মুক্তি পাবো না। আর একটা পথ খোলা আছে তা হলো -- অন্য কাউকে অনুসরন করা -- সেইটা করার আগে অবশ্যই কোরান আর হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যতাকে প্রাধান্য দিতে হয় -- সেইটাই করি। যা ব্লাক এন্ড হোয়াইট আছে তা কোন প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নেই -- আর যা গ্রে এড়িয়ার মধ্যে তা নিয়ে ভাবি -- বুঝার চেষ্টা করি -- আলেমদের ফতোয়াকে বুঝার চেষ্টা করি -- 

    জী, নিজেকে উদার ভাবতে খুব ভাল লাগতেই পারে, একটু জ্ঞানী জ্ঞানী ভাবটাও চলে আসে, তাইনা? অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি দুই শ্রেণীর মানুষের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়; এক-  যারা কোন বিসয়ের পক্ষে কথা বলে, দুই- যারা কোন বিসয়ের বিপক্ষে কথা বলে । কারন ওদের একটা উদ্দেশ্য থাকে । কিন্তু যারা এই দুই শ্রেণীর মাঝখানে থেকে নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে জাহির করতে চায় তাদের সাথে আলোচনা করা শুধু সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু না । 

     

    -- আপনি বলছে হয় আপনার মতে পক্ষে থাকতে হবে নতুবা বিপক্ষে যেতে হবে -- মাঝামাঝি কোন অবস্থান গ্রহনযোগ্য নয় (ব্যক্তি আক্রমন বিষয়টা বাদ দিলাম)?

    এতো কঠিন অবস্থা। আমি যতটুকু জানি ইসলাম একটা মধ্যপন্থার জীবন ব্যবস্থা -- সেখানে অনেক বিষয়ে নমনীয় হওয়ার সুযোগ আছে। যা আলোচিত বিষয়েও দেখলাম -- আলেমরা নমনীয় হয়েছেন -- সেখানে আপনি কেন আমাকে একটা কঠিন অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছেন -- যা আল্লাহ এবং তার রসুল(সঃ) ও গ্রহন করেননি। 

     

    রায়হান ফেইস বুকে এই বিষয়ে একটা প্রশ্ন করেছে -- এই কাজ থেকে বাঁচার জন্যে রোজা রাখা কতটা কার্যকর? আমারও প্রশ্ন রোজা রাখা যদি জৈবিক চাহিদা অবদমনে কার্যকর হতো -- তবে রোজার মাসে জৈবিক চাহিদা পুরনের বিষয়ে কোরানের আয়াত নাজিল হওয়ার বিষয়টা কি ভাবায় না?

    একটা প্রশ্ন করতেই হচ্ছে -- 

     

    কারন আমি যদি আলেমদের মতামত অনুযায়ী আমল করি সেটা হবে কুরআন এবং হাদিসেরই অনুসরণ আর আলেমদের মতামত যদি ভুল হয় সেজন্য আল্লাহ আমাকে শাস্থি দেবেন না ।

    আলেমদের ভুল মতামত অনুসরন করলে আল্লাহ শাস্তি দেবেন না -- এই ধরনের একটা দলিল দেখাতে পারেন। আরো প্রশ্ন থেকে যায় -- কোন আলেমের মতামত অনুসরন করবেন -- কোন আলেমকে বিতর্কিত বলবেন -- তার নির্ধারনের মাপকাটি কি? এই বিষয়ে কোন দলিল আছে কি না? 

     

    ভাল থাকুন। 

    1. 9.1
      মুহাম্মদ হাসান

      আপনার সাথে আর আলোচনা নয় । কারন আপনি আমার কোন প্রশেরই সঠিক কোন উত্তের দেননি বরং একই কথা বারবার উল্লেখ করেছেন । অথচ আমি আপনার প্রত্যেকটা পয়েন্টের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছি।  

      আপনি জিতে গেলেন আর আমি হেরে গেলাম । 

      1. 9.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        @হাসান

        আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেওয়ার বিষয়টা সত্যই দুঃখজনক। তবে তা ইচ্ছা করেই দেইনি। কারন সেগুলো বিতর্ককে আরো জটিল করতো। যাই হোক -- যেখানে ব্যক্তিগত মতামত রাখার সুযোগ আছে সেখানে অন্য কারো মতামত নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার মতো চিন্তা করি না। সেইটা আমার ভুল চিন্তাও হতে পারে। 

        হারা জিতার প্রশ্নটা অবান্তর। কারন এই বিষয়ে ভিন্নমত চলছে দীর্ঘকাল ধরেই। আপনি আর আমি সদালাপে এসে তার সমাধান করতে পারবো না। তবে তৃতীয় মতের প্রতি আপনার অসহিস্থুতা এবং দ্রুত কারো সম্পর্কে জাজমেন্টাল হওয়ার প্রবনতাটাও খুব খারাপ লাগলো। 

        সদালাপে এই অসহিস্থুতা দেখছি মুলত বাংলাদেশের লেখকদের -- যারা কোন বিষয়ে ভিন্নমতকে সহ্য করতে পারে না -- দ্রুত জাজমেন্টে চলে যায়। যদিও ইসলামের প্রচারের পর থেকেই নানান বিষয়ে মতভেদ-বিতর্ক হয়েছে। 

        যাইও হোক -- আমার প্রশ্নটার উত্তর পেলে ভাল হতো -- কোন আলেমের ভুল আকিদা অনুসরন করলেও আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। কোথা থেকে এই ধারনা বা বিশ্বাস আপনার আসলো। 

         

        ভাল থাকবেন। 

         

        1. 9.1.1.1
          মুহাম্মদ হাসান

          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ভাই,

          শেষ হইয়াও যেন হইল না শেষ! 

          কোন আলেমের ভুল আকিদা অনুসরন করলেও আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।

          আপনার মধ্যে ভাই অনেক সমস্যা আছে দেখছি! "ভুল আকিদা" কথাটা আমি কোথায় উল্লেখ করেছি? আপনার নিজের বানানো কথা আমার উপর আরোপ করছেন কেন ভাই? আমার পুরো বক্তব্যটা আবার তুলে ধরছি

          বলাই বাহুল্য – সেগুলো উনাদের মতামত – অলংঘনীয় বাক্য নয়

          উনারা কি তাদের মনের খায়েসের উপর ভিত্তি করে মতামত দেন? অবশ্যই না । এক্ষেত্রে যেসব আলেম কুরআন ও হাদিসে রেফারেন্স দিয়ে কোন বিসয়কে হারাম বা হালাল বা মাকরুহ বলেন সেক্ষেত্রে তখন এটা আর শুধু মতামতের মধ্যে সীমাবোধ্য থাকে না । বিশেষ করে যখন বেশীর ভাগ আলেমগন কোন একটা বিসয়ের উপর একমত হন । যেমন আপনার লেখাতে সিগারেটের যে উয়াদাহরন দিয়েছেন । সিগারেট যে হারাম সে ব্যাপারে পৃথিবীর সব বড় বড় আলেম একমত এবং তাদের উপসংহার কুরআন ও হাদিস ভিত্তিক । সুতরাং এখানে নিজের সুবিধার জন্য দুইএকজন আলেমের মাকরুহ ফতওয়া এনে এটাকে হালাল বলা এবং শেষ বিচারে আমাকেই আমার কর্মের জবাব দিতে হবে – সেখানে কোন জ্ঞানী লোকের রেফারেন্স বা সুপারিশ কাজ করবে না এসব বলা কতটা সমীচীন সেটা চিন্তার বিষয় । কারন আমি যদি আলেমদের মতামত অনুযায়ী আমল করি সেটা হবে কুরআন এবং হাদিসেরই অনুসরণ আর আলেমদের মতামত যদি ভুল হয় সেজন্য আল্লাহ আমাকে শাস্থি দেবেন না । তবে এক্ষেত্রে আমাদের দায়িক্ত হল আমাদের সাধ্যমত যাচাই বাছাই করা যে কোন আলেম কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে মতামত দিচ্ছেন । আর এটাই হল আল্লাহর আদেশ

          আকিদা কথাটা কোথায় পেলেন? এসব করা ভাল মুসছলমানের শোভা পায়না ভাই । এগুলো করে ইহুদি নাসারারা । এখনত আবার বলবেন যে আমি আপনাকে ইহুদি নাসারা বানিয়ে দিলাম! আপনার যা খুশি ভাবতে পারেন এটা আমার সমস্যা না । 

          যাইহোক, আমার এই (কারন আমি যদি আলেমদের মতামত অনুযায়ী আমল করি সেটা হবে কুরআন এবং হাদিসেরই অনুসরণ আর আলেমদের মতামত যদি ভুল হয় সেজন্য আল্লাহ আমাকে শাস্থি দেবেন না ) বক্তব্যের উত্তরটা দিচ্ছি । রাসুল(সঃ) বলেছেনঃ 

          বিচারক যখন ইজতিহাদ(গবেসনা) করে রায় প্রদান করে, যদি তিনি তাতে ঠিক রায় প্রদান করেন, তাহলে দুটি পুরস্কার পাবেন । আর যদি ইজতিহাদ করার পর ভুল রায় দেন তাতে একটি পুরস্কার পাবে। (সহিহ মুসলিম ৪৩৩৯)

          তো ইজতিহাদকারি যদি ভুল করেও একটি পুরস্কার পায় তাহলে যারা তার ইজতিহাদ অনুসরণ করবেন তাদেরকে আল্লাহ কি শাস্থি দেবেন? বুঝেছেন? আর ইজদিহাদ আপনার আমার মত যদু মদুর কাজনা যেভাবে আপনি বলছেন "এই কারনেই সব বিষয়ে নিজের মতো করেই ভাবি। সব বিষয়ে অবশ্যই আমার নিজস্ব মতামত আছে" । ইসলামের কোন বিধান বের করার মত জ্ঞান বুদ্ধি যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা । "কারো সম্পর্কে জাজমেন্টাল ভাল না" । তবে এধরনের মানুসিকতার ব্যাপারে রাসুল(সঃ) এর একটা ভয়ংকর সতর্ক বানী আছেঃ 

           

          বিচারক তিন শ্রেণীর । এক শ্রেনি জান্নাতে যাবে আর দুই শ্রেনি জাহান্নামে যাবে । আর যে জান্নাতে যাবে সে ব্যাক্তি তো এমন সে সত্যকে জানার পর সে অনুযায়ী বিচার করবে । পক্ষান্তরে, যে বিচারক সত্যকে সত্য জানার পরও স্বীয় বিচারে জুলুম করবে, সে জাহান্নামে যাবে । আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত ভুল বিচার করবে, সেও জাহান্নামে যাবে । (আবুদাউদ ৩৫৩৫

          আমি  কুরআন হাদিসের জ্ঞিনের ভাণ্ডারে মধ্যে নিজেকে অজ্ঞ হিসেবেই গন্য করি তাই ইসলামের বিধানের মধ্যে নিজের অজ্ঞতার কারনে ভুল বিচার করে জাহান্নামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে চাই না । তাই যেসব মুজতাহিদ্গন কুরআন ও হাদিসের আলোকে কোন মতামত দেন সেটাই মেনে নেই ।  আর কুরআনের আয়াত থেকে হস্থ মৈথুন যে হারাম এটা যেমন স্পষ্ট তেমনি মুজতাহিদগণও এ বিষয়ে একমত । সুতরাং আমার এখানে বলার কিছু নাই ।

          আপনার সাথে সময় নষ্ট হলেও কিছু বিষয় অজানা ছিল যা এই আলোচনার সুবাদে পড়তে গিয়ে জানতে পেরেছি । ভাল থাকবে । 

          ওয়াসসালাম ।

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          কুরআনের আয়াত থেকে হস্থ মৈথুন যে হারাম এটা যেমন স্পষ্ট তেমনি মুজতাহিদগণও এ বিষয়ে একমত ।

           

          -- সেইতো কথা একই হলো। আপনি বিশ্বাস করেন কোরানের আলোকে মাস্টারবেশন "হারাম" -- পুরো আলোচনাটার কি দরকার ছিলো। আমিওতো লেখাতে তাই বলেছি -- একদল আলেম মনে করেন কোরানের আলোকে এইকাজ হারাম। আপনি তাদের অনুসরন করছেন -- কিন্তু যারা এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষন করছেন তাদের মতামতকে আপনি বর্জন করছেন -- আর আপনি আপনার বিশ্বাসের পক্ষে কোরাআন আর হাদিসের বিভিন্ন দিক নিয়ে এসেছেন। সব কিছু শেষে আপনি আপনার বিশ্বাসের কথাই বলেছেন। যা এক বাক্যে বলা যেতো -- যেহেতু আলেমদের একটা বড় অংশ মনে করে এই কাজ হারাম -- তাই আমি অনুসরন করি। 

           

          আর যারা এই বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন -- তাদের অনুসরন করা কি ভুল হবে? আর হারাম হালাল কি আকিদার অংশ নয় -- যারা এই ভিন্নমতের আলেমদের অনুসরন করবে তারা কি আল্লাহর শান্তি থেকে ক্ষমা পাবে? 

           

          যাই্ হোক -- ট্রাডিশনালী পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানরা তাদের ধর্মকর্মের কাজটা আলেমদের উপর ছেড়ে দিয়েছে -- আপনিও তার থেকে ব্যতিক্রম নন। আপনি একদিকে বলছেন আপনি কোরান বিষয়ে জ্ঞান রাখেন না -- কিন্তু এই পোস্টে কোরানের রেফারেন্স দিলেন অনেক। অবশেষে আলেমদের রেফারেন্স দিয়ে হারাম শব্দটার উপর স্থির থাকলেন। 

          প্রশ্ন হচ্ছে যারা বিষয়টা হারাম মনে করেন না -- যেমন হাসান বসরী -- উনি কি কোরানকে উপেক্ষা করেছেন।  এই প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা নেই -- কারন ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া আমাদের কালচারে নেই। 

           

  6. 8
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @হাসান

     

    আমি যা বলছি -- আপনিও তাই বলছেন। কিন্তু আপনি "হারাম" শব্দটার উপর জোর দিচ্ছেন। এক ধরনের রিজিটনেস -- রক্ষনশীলতা এর মধ্যে এসে গেছে। 

     

    আপনি বলছেন -- "যৌনাঙ্গর হেফাযত করে।"  এটা জেনারেল এর মধ্যে সব ধরনের যৌনাচার অন্তর্ভুক্ত সেটা ব্যাভিচার হোক বা হস্ত মৈথুন বা অন্য যাই হোক । এর চাইতে সুস্পষ্ট আর কি চান? 

     

    এই "হেফাযত" বিষয়টা কি ইবনে হাম্বল, ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, জাবের ইবনে জায়েদ এবং হাসান বসরীর মতো আলেমগন বুঝেননি? 

     

    আর আমি কোন ভাবেই এই কাজকে হালালও বলছি না -- আবার সুদের মতো হারাম বলছি না। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো বিষয়টা যেহেতু কোরানে সুস্পষ্ট ভাবে হারাম করা হয়নি, এবং হাদিসের দলিলেও হারাম ঘোষনা হয়নি -- তাই বিষয়টা ব্যক্তির উপর ছেড়ে দেওয়াটাই উত্তম। কারন জৈববিক চাহিদা এবং পরিস্থিতি সবার জন্যে সমান না। যেমন একজন বিবাহিত মানুষ যা স্বাভাবিক উপায়ে চাহিদা পুরন সম্ভব -- তার জন্যে এই কাজ শোভনীয় নয় -- পরিত্যায্য বটে। অন্যদিকে একজন বিবাহিত মানুষ কিন্তু প্রবাসী অথবা নানান কারনে স্বাভাবিক ভাবে চাহিদা পুরন করতে পারছে না -- তার জন্যে এই কাজ করাটাকে খুব একটা দোষনীয় মনে করা ঠিক হবে না। তবে আমরা জানি -- আল্লাহ সর্বজ্ঞ। সকলকেই সীমার মধ্যে থাকা উচিত। অবশ্যই সংযম পালন করা এবং আল্লাহর রহমতের জন্যে দোয়া করা উচিত। 

    অবশেষে একটা কথা বলি -- আপনি যদি মনে করেন বিষয়টা হারাম -- তা অবশ্যই আপনার জন্যে ঠিক আছে। এবং আপনি অবশ্যই হারাম হিসাবে বিবেচনা করে জীবন যাপনের জন্যে চেষ্টা করে যাবেন। অন্যদিকে যদি কেউ পরিস্থিতির কারনে এই কাজে বাধ্য হয় এবং হারাম বিবেচনা না করে "পরিত্যয্য" বিবেচনা করে এবং সংযত আচরনের করে সীমার মধ্যে থাকার কথা বিবেচনা করে -- তাকে হারাম বলে তার উপর বোধা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার বোধ হয় আমাদের নেই। তাকেই তার কাজের জবাবদীহি করার জন্যে ছেড়ে দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের মতামতকে তার জন্যেই প্রযোজ্য হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের বিবেক দিয়েছেন -- ভাবার ক্ষমতা দিয়েছে -- সেই ভাবার ক্ষমতাকে অন্যের কাছে জমা দিয়ে অন্যের মতামতকে আঁকড়ে ধরার চেয়ে নিজের বিবেক-বুদ্ধির উপর নির্ভর করাটা বরঞ্চ বুদ্ধিমানের কাজ হবে -- কারন দিন শেষ আমাকেই আমার কর্মের জবাবদীহি করতে হবে। 

    আর অনুসরন করার জন্যে একজনই নির্ধারিত -- তিনি হলেন আমাদের পথ প্রদর্শক মুহাম্মদ (সঃ) এবং আল্লাহ প্রদত্ত গ্রন্থ কোরাআন। এর বাইরে কারো উপর কোন মতাদর্শ বা ব্যাখ্যা চাপিয়ে না দেওয়াটাই ভাল। অবশ্যই মতভেদের মিমাংসার জন্যে রসুল (সঃ) এর মিমাংসার দিকেই যেতে হবে -- আমরা অবশ্যই সেই কথা ভুলে যাবো না। 

     

    আবারো আপনাকে ধন্যবাদ আলোচনার জন্যে। 

    1. 8.1
      মুহাম্মদ হাসান

      আমি যা বলছি – আপনিও তাই বলছেন।

      I don't think so. আমি আর আপনি একই কথা বললে এত কথার প্রয়োজন হত না । 

      কিন্তু আপনি "হারাম" শব্দটার উপর জোর দিচ্ছেন। 

      আমাদের আলোচনার এখানেই মৌলিক পার্থক্য । 

      এক ধরনের রিজিটনেস – রক্ষনশীলতা এর মধ্যে এসে গেছে। 

      জী, নিজেকে উদার ভাবতে খুব ভাল লাগতেই পারে, একটু জ্ঞানী জ্ঞানী ভাবটাও চলে আসে, তাইনা? অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি দুই শ্রেণীর মানুষের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়; এক-  যারা কোন বিসয়ের পক্ষে কথা বলে, দুই- যারা কোন বিসয়ের বিপক্ষে কথা বলে । কারন ওদের একটা উদ্দেশ্য থাকে । কিন্তু যারা এই দুই শ্রেণীর মাঝখানে থেকে নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে জাহির করতে চায় তাদের সাথে আলোচনা করা শুধু সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু না । কারন তাদের কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কোনটাই থাকে না, তারা দুই দিকেই থাকতে চায়, স্পষ্ট ভাবে কিছু বলে না, শুধু পাশকাটিয়ে যেতে চায়, কোন যুক্তিরই সদুত্তর দেয়না । আপনি হলেন এই শ্রেণীর মানুষ । You are neither fish nor fawl.  সুতরাং আপনার সাথে আর আলোচনা নয় । কারন আপনি আমার কোন প্রশেরই সঠিক কোন উত্তের দেননি বরং একই কথা বারবার উল্লেখ করেছেন । অথচ আমি আপনার প্রত্যেকটা পয়েন্টের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছি।  

       

      এক ধরনের রিজিটনেস – রক্ষনশীলতা এর মধ্যে এসে গেছে।  

      রক্ষণশীলতার মানে যদি হয় ইসলামের সঠিক শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরা তাহলে তেমন রক্ষণশীল হতে পেরে আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া আদায় করছি । আলহামদুলিল্লাহ । 

      এই "হেফাযত" বিষয়টা কি ইবনে হাম্বল, ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, জাবের ইবনে জায়েদ এবং হাসান বসরীর মতো আলেমগন বুঝেননি? 

       আমি আগের পোস্টে বলেছি যে "ইমাম আহমদ এটাকে হালাল করেননি বরং তিনি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করেছেন মাত্র । ইসলামের প্রায় সব বিধানের মধ্যেই ব্যতিক্রম আছে যেমনঃ শুকরের মাংস খাওয়া হারাম কিন্তু জীবন বাঁচানোর জন্য যতটুকু খাওয়া দরকার ততটুকু খাওয়া যায় তারমানে কি শুকরের মাংস সবসময় খাওয়া হালাল বা মাকরুহ নাকি? অবশ্যই না । ইমাম আহমদ ঠিক এই বিষয়টাই উল্লেখ করেছেন । অর্থাৎ যদি কেউ আশংকা করে যে সে যিনা করে ফেলবে সেক্ষেত্রে হস্থ মৈথুন করা সেই মুহূর্তের জন্য জায়েজ তারমানে এই না তিনি এটাকে আম ভাবে হালাল করে দিয়েছেন । এবং তিনি এই সাময়িক পরিস্থিতিকে মৃত পশুর মাংস খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন" এর পরেও ইমাম আহমদের কথা উল্লেখ করে আপনি এটাই প্রমাণ করলেন যে আপনি আমার পুরো আলোচনার কিছু বুঝেন নি অথবা বুঝেও না বুঝার ভান করছেন । আর  ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, জাবের ইবনে জায়েদ এবং হাসান বসরীর  কথা উল্লেখ করে আবারও প্রমাণ করলেন যে আমি এখানে সময় নষ্ট করছি কারন আগের পোস্টে বলছিলাম "

      Please check the authenticity of these statements first then I will reply inshaa Allah in the light of the following ayat

      ……তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সুরা নিসা ৪:৫৯)"

      authenticity কি চেক করেছিলেন?

      আর আমি কোন ভাবেই এই কাজকে হালালও বলছি না – আবার সুদের মতো হারাম বলছি না। 

      তাহলে বলছেনটা কি পরিষ্কার করছেন না কেন? আবারও প্রমাণ করলেন যে আপনি কিছুই বুঝেননি কারন আমি এই বিষয়টা এই ৬.১.১.১ কমেন্টে পরিষ্কার  করেছিলাম কিন্তু ঘুরেফিরে আবারও সেই একই কথা বলছেন । 

      তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো 

      আপনি কি মুজতাহিদ নাকি যে নিজে নিজেই হালাল হারাম নির্ধারণ করে ফেললেন? 

      আপনি যদি মনে করেন বিষয়টা হারাম – তা অবশ্যই আপনার জন্যে ঠিক আছে। 

      আমি নিজেকে এত বড় পণ্ডিতের স্থানে বসানের ধৃষ্টতা করার দুঃসাহস করিনা । কুরআনের বাংলা অনুবাদ পড়ে আর কয়েকটা বই পড়ে কোন কিছুকে হালাল বা হারাম বলার যোগ্যতা অর্জন করা গেলে আপনার মত পণ্ডিতের অভাব হত না । যাইহোক, এই আলোচনা আর বাড়িয়ে লাভ নেই আমার যতটুকু বলার বলে দিয়েছি ।  

      কথাগুলো কোন ভনিতা ছাড়াই  সরাসরি বলেছি সুতরাং রুঢ়তা থাকলে ক্ষমা করবেন ।  I didn't mean to be rude but I have been very direct and to the point to avoid wasting my time.

      ওয়াসসালাম । 

  7. 7
    মুহাম্মদ হাসান

    কি সমস্যা দেখুন – আপনি আপনার অবস্থানকে স্থির রাখার জন্যে একজন আলেমকে বিতর্কিত হিসাবে চিহ্নিত করলেন। সমস্যাটা এখানেই।

    Same applies to you as well .  You are trying to make it Halal by qouting people who you like, so it works both ways. By the way, I didn't mean to say he is controvercial based only this particular Fatwa. In fact, He too mentiones

    The majority of scholars consider it haram

    then he says 

    We are inclined to accept the opinion of Imam Ahmad in a situation in which there is sexual excitation and danger of committing the haram.

    এখানেও কিন্তু এটাকে তিনি হালাল বলেননি । যেটা বএলছেন সেটা হল exception. আর যেটা আমি আগের পোস্টে বলেছি । ব্যতিক্রম কোন বিধানকে হালাল করেনা, এটা সাময়িক প্রয়োজনের জন্য বিশেষ করে বড় ক্ষতি থেকে বাচার জন্য । কিন্তু আপনি  ধরে নিয়েছেন কারদাভি এটাকে হারাম মনে করেননি যেটা আপনার পোস্ট থেকে পরিলক্ষিত হয় । "দেখা যাচ্ছে যে উভয় দিকেই বিশিষ্ট জ্ঞানীদের মতামত (ফাতওয়া) আছে" কারাদাভি শুধু ব্যতিক্রমটা উল্লেখ করেছেন, উনি এটা হারামনা সেটা কিন্তু বলেননি । যাইহোক, উনি কেন বিতর্কিত আগে একটা লিঙ্ক দিয়েছিলাম পড়ে দেখতে পারেন । গান বাজনা, দাড়ি কাটা সহ আরও অনেক বিসয়ই তাহলে আপনার কাছে হালাল । যাকাতের বিধানত তাহলে আপনার চিন্তা অনুযায়ী দুইরকম যেহেতু ফতোয়া দুই দিকেই আছে । সবচেয়ে বড় কথা হল যে যত বড় আলেমই হোক না কেন সে ভুলের উরধে না । আর কারও মতামত যদি কুরআন এবং সুন্নাহর সাথে না মিলে তাকে বিতর্কিত বলতে সমস্যা কোথায়? সবার মতামতই যদি মেনে নিতে হয় তাহলে আল্লাহ কুরআনে এই আয়াত (নিসা ৪:৫৯) দ্বারা আমাদেরকে সতর্ক করতেননা ।  

    মদ, গাঁজা ইয়াবা ইত্যাদি নেশা করক দ্রব্যও সরাসরি "হারাম" বলা হয়নি – কিন্তু এই বিষয়ে কোরানে যথেষ্ঠ সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে – যেমন "নেশাসক্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যাওয়া নিষেধ", "নেশাদ্রব্য এবং জুয়া শয়তানের কাজ" ইত্যাদি। তারপরও যদি কেউ একে হালাল বলে তা তার বিষয়। 

    ধরে নিচ্ছি আপনি এগুলোকে হারাম মনে করছেন । সুরা ২৩:৫-৭ এবং সুরা ২৪:৩০ এর আলোকে ঠিক একই যুক্তি হস্থ মৈথুনের বেলায় প্রয়োগ করছেন না কেন? it sounds like double standard! 

    -এখানে আরবীতে "খামার" শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে যা ইংরেজীতে বলা হয়েছে- ইনটকসিকেন্ট – মাদক জাতীয় পানীয় – এলকোহলিক বেভারেজ – যার বিষয়ে একটা সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে – মহাপাপ – একজন বিশ্বাসী মানুষের জন্যেই এই টুকুই যথেষ্ট। 

    হালাল উপায় ছাড়া যে যৌন কামনা অন্যভাবে চরিতার্থ করে তাকে আল্লাহ সুস্পস্তভাবে  "সীমালংঘনকারী" বলেছেন । আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে "যৌনাঙ্গর হেফাযত" করতে বলেছেন । একজন বিশ্বাসী মানুষের জন্যে এইটুকু কি যথেষ্ট নয়? 

    মজার বিষয় হলো যত জোরেসোরে জৈবিক বিষয় হিসাবে আমরা কিছু বিষয়কে হারাম বলছি – যা আল্লাহ আমাদের জন্যে উহ্য রেখেন – মানে ছাড় দিয়ে রেখেন – তাকে কঠিন করার চেষ্টা করি – তা মুলত আমার জীবনকেই কঠিন করা হয়ে যায়।

    তো জীবনকে সহজ করার জন্য সমস্ত কঠিন কাজ ছেড়ে দেব নাই ভাই? যেমন ধরেন ফজরের নামাজ পড়া, ১৮-২০ ঘণ্টা রোযা রাখা আবার ফুলটাইম শারীরিক কাজ করা, এত কষ্ট করে হজ্জ করা, জিহাদ করা যেখানে জান বাজি রাখতে হয় এর চাইতে কঠিন কাজ আমার জানা নেই ।

    ইসলামে হস্থ মৈথুন যাতে না করতে হয় সেজন্য ব্যবস্থা আছে যেমন তাড়াতাড়ি বিয়ে করা এবং রোযা রাখা কিন্তু । 

    অন্যদিকে নিজেদের সুবিধার জ্যে চার বিবাহকে জায়েজ করে নিচ্ছি – যেখানে আল্লাহ ২য় বিয়ের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। 

    কিসের সাথে কিসের তুলনা দিলেন? আর এখানে চার বিয়ের কথাই বা আসল কিভাবে? 

    The opinions of some of the companions

    Please check the authenticity of these statements first then I will reply inshaa Allah in the light of the following ayat

    ……তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সুরা নিসা ৪:৫৯)

    ওয়াসসালাম

    1. 7.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনি কে ভাই? আপনার যুক্তিবোধের প্রশংসা না করে থাকতে পারলামনা! ভার্চুয়াল জগতে আপনার মত বিজ্ঞ আলোচক খুব প্রয়োজন। সদালাপে আপনার আগমন সদালাপকে সম্বৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। আপনি  কি এন্টি ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধেও এই ভাবে কলম চালিয়ে যাচ্ছেন? গেলে কিছু লিংক দিবেন! আল্লাহ আপনার মংগল করুন। আমিন!

      1. 7.1.1
        মুহাম্মদ হাসান

        জাযাকাল্লাহ খাইরান । আমার আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার মত তেমন কিছু নেই । আমি সাধারণ একজন মুসলমান ।  ভার্চুয়াল জগতে আমার আগমন খুবই সাম্প্রতিক, লেখার অভ্যাসও খুব কম । অতি প্রয়োজন(আকিদাগত কোন বিষয় হলে কিছু লেখার চেষ্টা করি) না হলে কিছু লিখিনা, এর কারন মুলত দুইটা- সময় পাইনা আর লেখতে অনেক সময় লাগে । নাস্তিকদের উদ্দ্যেশ্য করে আমার প্রথম লেখা এখানে পড়তে পারেন ।  

  8. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেক ধন্যবাদ, আবিদ। 

     

    আমি গ্রে এরিয়ার বাংলা প্রতিশব্দটা খুঁজে পাইনি। আসলে এইটাই হলো বাস্তবতা। পাক ভারত উপমহাদেশের মুসলিমদের সুবিধা হলো উনারা অনুকরন করে -- তাই ভাবতে হয় না। গ্রে এরিয়াগুলোতে একটা মতামতকেই উনারা বিধান বিবেচনা করে। 

     

    গ্রে এরিয়াগুলো বস্তুত জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ায় -- তবে সেই ক্ষেত্রে প্রয়োজন প্রবল উদারতা এবং ধৈর্য্য। আমাদের উপমহাদেশের আলেমদেরও ধৈর্য্যের অভাব দেখা যায় -- কথায় কথায় একদল আরেকদলে কাফের ঘোষনা দেয় -- খুবই দুঃখজনক। 

    আল্লাহ আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন, এই দোয়াই করি সব সময়। 

    1. 6.1
      মুহাম্মদ হাসান

      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ভাই,

      এই পোস্টে কোন মন্তব্য করতে চাইনি । প্রথমত বাংলা লেখতে আমার অনেক সময় লাগে, দ্বিতীয়ত অন্য আরেকটা পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । কিন্তু আপনার পোস্টে কিছু মতামত পেশ করেছেন যেগুলো সম্পর্কে একটু না লিখলেই নয় । যেমনঃ 

       আমাদের প্রত্যহিক জীবনে অনেক সমস্যার সন্মুখিন হই – যার বিষয়ে সুষ্পষ্ট আদেশ নিষেধ কোরানে বা হাদিস থেকে পাওয়া যায় না।

      এখানে "সুস্পষ্ট" বলতে কি বুঝাচ্ছেন? আপনি কি সব হালাল হারাম লিখিত আকারে কুরআন এবং হাদিসে দেখতে চাচ্ছেন? ধরুন গাঞ্জা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল এধরনের আরও অনেক জিনিষ কুরআন এবং হাদিসে সুস্পষ্ট ভাবে লেখা নেই, তাহলে কি এগুলো হালাল? অথবা এগুলো কি আপনার মতে "গ্রে এরিয়া"? আমি নিশ্চিত যে আপনি এগুলোকে গে এরিয়া বা হালাল কোনটাই বলবেননা কারন কুরআন ও হাদিসের "আলোকে" এগুলো সবই হারাম যদিও এগুলোকে আল্লাহ নাম ধরে উল্লেখ করেননি, তাই নয়কি? 

      তখনই আমাদের আলেমদের দ্বারস্থ হতে হয়। সেই ক্ষেত্রে আলেমগণ তাঁদের জ্ঞানের আলোকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা প্রয়োগ করে মতামত দেন। বলাই বাহুল্য – সেগুলো উনাদের মতামত – অলংঘনীয় বাক্য নয়। 

      রাসুল(সঃ) বলেছেনঃ

      ‘হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জাননা। যে ব্যাক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, উদহারন সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ্‌র সংরক্ষিত চারণভুমির আশে পাশে চরায়, অচিরেই সেগুলো সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহ্‌রই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হল তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল কলব। (সহীহ বুখারি (ইফা) অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান | হাদিস নাম্বার: 50)

      এই হাদিসে রাসুল(সঃ) "গ্রে এরিয়ার" কথা উল্লেখ করেছেন ।  এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল "বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জাননা"  অর্থাৎ সাধারণ মানুষ এই গ্রে এরিয়ার ব্যাপারে জানেননা, তাহলে কারা জানেন? যারা জানেন তাদেরকে আমরা আলেম বলি আর সেজন্যই আলেমদেরকে রাসুল(সঃ) তার উত্তরাধিকার বলেছেন । আর সঙ্গত কারনেই আমাদের মত সাধারণ মানুষকে আলেমদের দারস্থ হতে হয় । দ্বিতীয়ত, এই হাদিসের আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হল "যে ব্যাক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে"  অর্থাৎ সন্দেহ জনক জিনিষ থেকে দুরে থাকতে হবে । 

      বলাই বাহুল্য – সেগুলো উনাদের মতামত – অলংঘনীয় বাক্য নয়

      উনারা কি তাদের মনের খায়েসের উপর ভিত্তি করে মতামত দেন? অবশ্যই না । এক্ষেত্রে যেসব আলেম কুরআন ও হাদিসে রেফারেন্স দিয়ে কোন বিসয়কে হারাম বা হালাল বা মাকরুহ বলেন সেক্ষেত্রে তখন এটা আর শুধু মতামতের মধ্যে সীমাবোধ্য থাকে না । বিশেষ করে যখন বেশীর ভাগ আলেমগন কোন একটা বিসয়ের উপর একমত হন । যেমন আপনার লেখাতে সিগারেটের যে উয়াদাহরন দিয়েছেন । সিগারেট যে হারাম সে ব্যাপারে পৃথিবীর সব বড় বড় আলেম একমত এবং তাদের উপসংহার কুরআন ও হাদিস ভিত্তিক । সুতরাং এখানে নিজের সুবিধার জন্য দুইএকজন আলেমের মাকরুহ ফতওয়া এনে এটাকে হালাল বলা এবং শেষ বিচারে আমাকেই আমার কর্মের জবাব দিতে হবে – সেখানে কোন জ্ঞানী লোকের রেফারেন্স বা সুপারিশ কাজ করবে না এসব বলা কতটা সমীচীন সেটা চিন্তার বিষয় । কারন আমি যদি আলেমদের মতামত অনুযায়ী আমল করি সেটা হবে কুরআন এবং হাদিসেরই অনুসরণ আর আলেমদের মতামত যদি ভুল হয় সেজন্য আল্লাহ আমাকে শাস্থি দেবেন না । তবে এক্ষেত্রে আমাদের দায়িক্ত হল আমাদের সাধ্যমত যাচাই বাছাই করা যে কোন আলেম কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে মতামত দিচ্ছেন । আর এটাই হল আল্লাহর আদেশ 

      হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর (অর্থাৎ উলামা, দায়িক্তশীল বিচারক ইত্যাদি ব্যাক্তিগন) তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সূরা আন নিসা আয়াত ৫৯)

      এই আয়াতের আলোকে আল্লাহ ও রাসুল(সঃ) এর পরে যারা কুরআন ও হাদিসের উপর ভিত্তি করে মতামত দিবেন তা মানা আমাদের জন্য ফরজ ।  "এখন কোন্‌টা গ্রহণ করবো আমি – তা আমার বিবেচনার উপর নির্ভর করে" এটা বলার কোন সুযোগ নেই । এটা বলা যাবে যদি বিষয় টা মুবাহ বা নফল হয় ।  

      প্রকৃতপক্ষে কোরান হাদিসের বাইরের ফতোয়াগুলোর বিষয়েও আমাদের নিজের মেধা বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে।

      কুরআন হাদিসের বাইরে কোন ফতোয়া হতে পারে আমার জানা নেই । একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হত । সব ফতওয়াই কুরআন হাদিসের উপর ভিত্তি করেই হতে হবে তানাহলে সেটা কোন ফতওয়াই না । 

      ঠিন তেমনি – হস্তমৈথুন সম্পর্কেও একই কথা বলা যায় – কোরান এখানে সম্পূর্ণ নীরব –

      হ্যাঁ, "হস্থ মৈথুন" শব্দটি কুরআনে নেই কিন্তু হস্থ মৈথুন যে হারাম সেটার ব্যাপারে কুরআন সুস্পষ্ট । সব ইমামরা এইসব আয়াত দারাই হস্থ মৈথুনকে হারাম বলেছেন । আপনার যদি এটা মেনে নিতে কষ্ট হয় তাহলে আপনাকে কুরআন থেকে প্রমাণ করতে হবে যে গাঞ্জা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ইত্যাদি হারাম কারন এগুলো কোনটাই কুরানে উল্লেখ নেই । 

      তাই আনেক আলেম একে পুরোপুরি বা এক বাক্যে হারাম বলেননি – কিন্তু অনেকে বলেছেন। 

      ভাই, কতজন আলেম এটাকে হারাম বলেছেন আর কতজন আলেম এটাকে একবাক্যে হারাম বলেননি তার একটা লিস্ট এখানে উল্লেখ করলে আমাদের জন্য সুবিধা হত । 

      এই বিষয়ে বর্তমান কালের প্রখ্যাত এবং গ্রহণযোগ্য আলেম ইউসুফ আল কারদাভীর মতামতকে বেশ চমৎকার মনে হয়েছে 

      আমার জানা মতে ইনিই একমাত্র(আরও থাকতে পারে) "আলেম" যিনি এটাকে হালাল করে দিয়েছেন । আর অনেক ক্ষেত্রেই উনার গ্রহণযোগ্যতা  প্রশ্নবিদ্ধ । উনি শুধু হস্থ মৈথুনকেই হালাল করেননি, উনি গান বাজনা ইত্যাদি অনেক বিসয়কে হালাল করেছেন । এখানে কিছু আলোচনা করে হয়েছে পড়ে দেখতে পারেন । 

      কেউ হস্থমইথুন করতে চায় সেটা ভিন্ন বিষয় কিন্তু সেটাকে হালাল করার জন্য উল্টাপাল্টা যুক্তি খাড়া করা পথভ্রষ্টতার প্রথম লক্ষন যেটা ইসলামের প্রথম যুগের কিছু দলের মধ্যে দেখা যেত । ইসলাম যেমন সকল হারামকে হারাম বলেছেন তেমনি যেসব কাজ হারাম কাজের দিকে ঠেলে দেয় সেসব কাজও ইসলাম হারাম করেছেন । শয়তানের ধোকায় পড়ে বিভিন্ন ছুতা দিয়ে কোন হারামকে জায়েজ করাকেও হারাম করা হয়েছে । ইহুদীরা এ ধরনের কাজে খুবই পারদর্শী ছিল আর ঠিক এ জন্যই রাসুল(সঃ) বলেছেন 

      তোমরা এরকম করনা যেমন ইহুদীরা ঠুনকো ছুতো দ্বারা আল্লাহর নিষেধগুলোকে বৈধ করত । এই হাদিসটা ইবনুল কাইউম(রঃ) তার ইগাসাতুল লাহফান কিতাবের ১ নম্বর ভলিউমের ৩০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন । ইমাম তিরমিজি(রঃ) এ ধরনের আরেকটি হাদিসকে সহিহ বলেছেন । 

       ইমাম যাহাবি তার কবিরা গুনাহ বইতে ১১ নম্বর কবিরা গুনাহতে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন । এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করছিঃ

       " বিচারের দিনে, সাতজন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হবে এবং আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে প্রেরণ করবেন এদের মধ্যে একজন হল হস্থমৈথুনকারী"

      "যৌনাঙ্গর হেফাযত করে।"  এটা জেনারেল এর মধ্যে সব ধরনের যৌনাচার অন্তর্ভুক্ত সেটা ব্যাভিচার হোক বা হস্ত মৈথুন বা অন্য যাই হোক । এর চাইতে সুস্পষ্ট আর কি চান? 

      যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখেন না তাদের জন্য হালাল উপায় আল্লাহর রাসুল(সাঃ) বলেছেন,

      “হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে। কেননা তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়।” [বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪]

       

      ওয়াসসালাম । 

      1. 6.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        ধন্যবাদ আপনার কষ্টের জন্যে। আমি আপনার পুরো মন্তব্য পড়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছি। তবে আমার মনে হচ্ছে আপনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাকে সমর্থন করছেন। 

        একটা বিষয় হারাম না বললে তাকে হালাল বলা হয়ে যাচ্ছে এমন কঠিন চিন্তা আমি করতে পারি না। হারাম হালালের মাঝে মাকরুহ বলে একটা জায়গা আছে। সেই দিকটাও মনে রাখা দরকার। 

        যেহেতু এই লেখা সুষ্পষ্ট ভাবে হস্তমৈথূন সম্পর্কে বলা হয়েছে -- তাই সেই দিকেই যাই। আমি আমার লেখায় কোন উপসংহারে যাই নি। আপনি ধরে নিয়েছেন আমি বিষয়টা হালাল বিবেচনা করছি -- তা ভুল -- আমি বলছি এই বিষয়ে যেহেতু কোরান এবং হাদিসে সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা নাই -- তাই আলেমদের মতামতের দিকেই আমাদের যেতে হচ্ছে। এবং আমি আরো দেখিয়েছি -- ইউসুফ আল কারদাভীর বইএ এই বিষয়ে দুই পক্ষের মতামতই উল্লেখ আছে -- 

         

        যেমন ইমাম মালিকের মতে বিষয়টি হারাম কিন্তু ইমাম হাম্বল দুইটি বিশেষ সময়ে বিষয়টির জন্যে ছাড় দিয়েছে অর্থাৎ হারাম বলেননি। এখন আপনি বলুন -- এই মতামতের মধ্যে কে ভুল করেছে -- কে শুদ্ধ বলছেন!

        এখন যদি কেউ ইমাম হাম্বল এর মতামতকে গ্রহন করেন -- তাকে কি বলবেন আপনি?

         

        আশা করি আমার অবস্থানটা বুঝতে পারছেন। ধন্যবাদ। 

         

         

         

        1. 6.1.1.1
          মুহাম্মদ হাসান

          আমি আপনার পুরো মন্তব্য পড়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছি। 

          বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে দুঃখিত তবে কোথায় কিভাবে বিভ্রান্ত হলেন সেটা জানালে সে বিষয়গুলো পরিষ্কার করতে পারতাম কিন্তু সঙ্গত কারনেই এই পোস্টে সেটা সম্ভব হচ্ছে না । বিষয়গুলো জানালে পরের পোস্টে পরিষ্কার করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্‌ ।

          একটা বিষয় হারাম না বললে তাকে হালাল বলা হয়ে যাচ্ছে এমন কঠিন চিন্তা আমি করতে পারি না। হারাম হালালের মাঝে মাকরুহ বলে একটা জায়গা আছে। সেই দিকটাও মনে রাখা দরকার। 

          কোন জিনিস হারাম না হলে সেটা হালাল বলে গন্য করা হয় আর হালালকে মাকরুহ, মুস্তাহাব বা মুবাহ ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রেনিতে বিভক্ত করা হয় । এবার বিষয়টা আশা করি পরিষ্কার । 

          যেহেতু এই লেখা সুষ্পষ্ট ভাবে হস্তমৈথূন সম্পর্কে বলা হয়েছে – তাই সেই দিকেই যাই। 

          জী, আমিও সেই দিকেই যাচ্ছি তবে উদাহরণ দিয়েছি শুধু ব্যাখ্যার খাতিরে । 

          আমি আমার লেখায় কোন উপসংহারে যাই নি।

          কিন্তু আপনার লেখা পড়ে("তাই – যে বিষয়ে কোরান হাদিসে সুষ্পষ্ট নিষেধ নেই – তাকে হারাম বলে চাপিয়ে দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে") হস্থ মৈথুন যে হারাম না সেটা বুঝতে খুব কষ্ট হয়নি । আপনি নিজেও আগের পোস্টে মাকরুহ বলেছেন (At least I have understood this way and others have also understood the same which is evident from their comments).

           

          আপনি ধরে নিয়েছেন আমি বিষয়টা হালাল বিবেচনা করছি – তা ভুল

          ভাই, আপনি যদি হস্থ মৈথুনকে হারাম মনে না করেন তাহলে এই পোস্টের প্রয়োজনীয়তাটা বুঝতে পারলাম না । একজন বিতর্কিত আলেমের মতামত উল্লেখ করারইবা উদ্দেশ্য কি? (please note that I am not judging you, I am just basing my replies purely on your post)

           আমি বলছি এই বিষয়ে যেহেতু কোরান এবং হাদিসে সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা নাই – 

          আপনি আমার আগের পোস্টটি মনে হয় ভাল করে পড়েননি । আমি বলেছিলামঃ এখানে "সুস্পষ্ট" বলতে কি বুঝাচ্ছেন? হ্যাঁ, "হস্থ মৈথুন" শব্দটি কুরআনে নেই কিন্তু হস্থ মৈথুন যে হারাম সেটার ব্যাপারে কুরআন সুস্পষ্ট । সব ইমামরা এইসব আয়াত দারাই হস্থ মৈথুনকে হারাম বলেছেন । আপনার যদি এটা মেনে নিতে কষ্ট হয় তাহলে আপনাকে কুরআন থেকে প্রমাণ করতে হবে যে গাঞ্জা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ইত্যাদি হারাম কারন এগুলো কোনটাই কুরানে উল্লেখ নেই ।   "যৌনাঙ্গর হেফাযত করে।"  এটা জেনারেল এর মধ্যে সব ধরনের যৌনাচার অন্তর্ভুক্ত সেটা ব্যাভিচার হোক বা হস্ত মৈথুন বা অন্য যাই হোক । এর চাইতে সুস্পষ্ট আর কি চান? আপনি এই প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে একই কথা আবার বলেছেন! 

           তাই আলেমদের মতামতের দিকেই আমাদের যেতে হচ্ছে। এবং আমি আরো দেখিয়েছি – ইউসুফ আল কারদাভীর বইএ এই বিষয়ে দুই পক্ষের মতামতই উল্লেখ আছে -- 

          প্রথমত এখানে বলে রাখা ভাল যে কুরআন এই বিষয়ে স্পষ্ট তারপর হস্থ মৈথুন হারাম এ ব্যাপারে পূর্বের এবং বর্তমানের সকল আলেমরা একমত সুতরাং ইউসুফ আল কারদাবির মত বিতর্কিত আলেমের মতামত এখানে গ্রহণযোগ্য নয় কারন এটা কুরআনের স্পষ্ট অর্থের সাথে সাংঘরসিক ।  ইসলামের প্রায় সকল বিধানকে বিতর্কিত করার জন্য সব যুগে সব দেশেই এরকম আলেম ছিল, আছে এবং থাকবে । ইন্ডিয়ার মাদ্রাসে(এখন চেন্নাই বলে) পি. জয়নুল আবেদিন নামে একজন খুবই বিখ্যাত "আলেম" আছেন যার জনপ্রিয়তা তামিল ভাষাভাষীদের মাঝে আকাশচুম্বী বললে ভুল হবে না । আমি নিজেও উনার সাথে একবার দেখা করেছিলাম । উনি অনেক ভাল কাজ করেছেন কিন্তু উনার মতে কোন একটি নিদৃিস্ট সম্পদের উপর জীবনে একবার যাকাত দিলেই চলবে । যেটা হাদিস এবং সাহাবা এবং পূর্বের সকল আলেমদের মতের বিপরীত । এখন যদি আমি আপনার ভাষায় বলি "দেখা যাচ্ছে যে উভয় দিকেই বিশিষ্ট জ্ঞানীদের মতামত (ফাতওয়া) আছে। এই অবস্থায় কি করবো আমরা – বলাই বাহুল্য নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনাই প্রয়োগ করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত যাতে সঠিক পথে চলতে পারি" সেটা কি গ্রহণযোগ্য হবে? 

          যেমন ইমাম মালিকের মতে বিষয়টি হারাম কিন্তু ইমাম হাম্বল দুইটি বিশেষ সময়ে বিষয়টির জন্যে ছাড় দিয়েছে অর্থাৎ হারাম বলেননি। এখন আপনি বলুন – এই মতামতের মধ্যে কে ভুল করেছে – কে শুদ্ধ বলছেন!

          কেউ ভুল করেননি । ইমাম আহমদ এটাকে হালাল করেননি বরং তিনি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করেছেন মাত্র । ইসলামের প্রায় সব বিধানের মধ্যেই ব্যতিক্রম আছে যেমনঃ শুকরের মাংস খাওয়া হারাম কিন্তু জীবন বাঁচানোর জন্য যতটুকু খাওয়া দরকার ততটুকু খাওয়া যায় তারমানে কি শুকরের মাংস সবসময় খাওয়া হালাল বা মাকরুহ নাকি? অবশ্যই না । ইমাম আহমদ ঠিক এই বিষয়টাই উল্লেখ করেছেন । অর্থাৎ যদি কেউ আশংকা করে যে সে যিনা করে ফেলবে সেক্ষেত্রে হস্থ মৈথুন করা সেই মুহূর্তের জন্য জায়েজ তারমানে এই না তিনি এটাকে আম ভাবে হালাল করে দিয়েছেন । এবং তিনি এই সাময়িক পরিস্থিতিকে মৃত পশুর মাংস খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন ।  

          আশাকরি বিষয়টা পরিষ্কার ইনশাআল্লাহ্‌ । 

           

          ওয়াসসালাম

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          কি সমস্যা দেখুন -- আপনি আপনার অবস্থানকে স্থির রাখার জন্যে একজন আলেমকে বিতর্কিত হিসাবে চিহ্নিত করলেন। সমস্যাটা এখানেই। কিন্তু আমার উদ্ধৃত করা অংশ উনি নিজের মতামত দেননি -- তারপরও উনাকে বিতর্কিত আলেম বললেন। আমি এই বিষয়টাই বলতে চেয়েছি -- নিজের পছন্দের মতো না হলেই যে কোন আলেমকেই নির্ধিধায় বিতর্কিত করে ফেলার্ একটা প্রবনতা আমাদের মাঝে আছে -- যা বিপজ্জনক। 

           

          মদ, গাঁজা ইয়াবা ইত্যাদি নেশা করক দ্রব্যও সরাসরি "হারাম" বলা হয়নি -- কিন্তু এই বিষয়ে কোরানে যথেষ্ঠ সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে -- যেমন "নেশাসক্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যাওয়া নিষেধ", "নেশাদ্রব্য এবং জুয়া শয়তানের কাজ" ইত্যাদি। তারপরও যদি কেউ একে হালাল বলে তা তার বিষয়। 

           

          দেখুন --

           

          "তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার।"(২:২১৯) 

          -এখানে আরবীতে "খামার" শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে যা ইংরেজীতে বলা হয়েছে- ইনটকসিকেন্ট -- মাদক জাতীয় পানীয় -- এলকোহলিক বেভারেজ -- যার বিষয়ে একটা সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে -- মহাপাপ -- একজন বিশ্বাসী মানুষের জন্যেই এই টুকুই যথেষ্ট। 

           

          মজার বিষয় হলো যত জোরেসোরে জৈবিক বিষয় হিসাবে আমরা কিছু বিষয়কে হারাম বলছি -- যা আল্লাহ আমাদের জন্যে উহ্য রেখেন -- মানে ছাড় দিয়ে রেখেন -- তাকে কঠিন করার চেষ্টা করি -- তা মুলত আমার জীবনকেই কঠিন করা হয়ে যায়। অন্যদিকে নিজেদের সুবিধার জ্যে চার বিবাহকে জায়েজ করে নিচ্ছি -- যেখানে আল্লাহ ২য় বিয়ের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। 

           

          আবারো বলি -- কোন আলেম বা স্কলার আমার জন্যে সুপারিশ করবে না বা কাজে লাগবে না। সেই কারনেই বলেছি গাইড হিসাবে আলেমদের মতামত অবশ্যই গুরুত্ব রাখে -- কিন্তু চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ব্যক্তিকেই -- যাকে শেষ বিচারের দিন আমল নামার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। 

          আল্লাহ ইসলামকে সহজ করে আমাদের জন্যে প্রেরন করেছেন -- সেখানে অনেক বিষয় আছে যা আল্লাহতালা আমাদের জন্যে ছাড় দিয়ে রেখেছেন -- যা গ্রে এড়িয়া হিসাবে দেখা যায়। এই বিষয়গুলো নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি প্রকৃত পক্ষে আমাদের জীবনকেই কঠিন করে দেবে। যা আপনি বলছেন -- ওজু ফরজ -- অবস্থা বিশেষ গোসল ফরজ হলেও পরিস্থিতির কারনে শুধু তাইমুম করেই কাজ হয়ে যায়। সুতরাং যে বিষয় আল্লাহ এবং রসুল (স:) সুষ্পষ্ট ভাবে হারাম করেননি -- তা নিয়ে আলেমদের মাঝে বিভেদ তৈরী হয় এবং পরষ্পর বিরোধী মতামত পাওয়া যায় -- যেখানে একজন সাধারন মানুষ হিসাবে আমাদের সতর্কতার সাথে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ এবং আল্লাহর সাহায্যই চাওয়া উচিত। 

          ভাল থাকবেন। 

        3. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          আপনি জানতে চাইলেন তাই কিছু মতামত দিলাম --

           

          The opinions of some of the companions of the Prophets reproduced below from Ibn Hazam’s al-Muhallā (Vol:11, pp. 393-4) indicate that they did not forbid it:

          Ibn `Abbās: i) Marrying a slave girl is better than it, and it is better than fornication (zinā).

          ii) It is nothing but rubbing one’s private parts until a fluid comes out.

          Ibn `Umar: i) A person who does makes a fool of himself.

          ii) It is merely rubbing an organ. 

          Jābir Ibn Zayd: It is your water; you can discharge it [if you want]. 

          Hasan Basrī: There is no harm in it.

           

          আশা করি আপনার উত্তর দিতে পেরেছি। 

  9. 5
    ফাতমী

    @জিয়া ভাই,

    আপনার পোস্টটি পড়েছি আগেই। আলোচনা এক জায়গায় মিলিত হলে সবার সুবিধা হত। জ্ঞানের ব্যাপারে দলাদলি নেই।

    আপনার নতুন মৌলিক লেখা চাই, তা রাজনিতি হোক কিংবা অন্য কিছু।

    বর্তমান অবস্থায়, বাংলাদেশের মুসলিমদের কি করা উচিত, রাজনিতিক চিন্তাভাবনা থেকে আপনার নিকট একটা পোস্ট আশা করছি। আমার মনে হচ্ছে, বাংগালি বা বাংলাদেশী মুসলিমরা মানে আমি সহ সকলেই শুধু রাজনিতিবিদদের কাছে ঠকা খেয়ে গেলাম। নিশ্চই সব রাজনিতিবিদ নয়।

    -পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম। 

    1. 5.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      অনেক ধন্যবাদ, ফাতমী। 

       

      আপনার আগ্রহের কথা মনে রাখবো। ইনশাল্লাহ সময় পেলে একটা লেখা দেবার চেষ্টা করবো। 

  10. 4
    মুহাম্মদ হাসান

    এই মন্তব্যটি পড়ে দেখতে পারেন । হালাল হারামের এই বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে । 

  11. 3
    মুহাম্মদ হাসান

    There are some sites dealing with this issue. You might find them interesting.

  12. 2
    আব্দুর রহমান আবিদ

    জিয়া ভাই,

    হারাম-হালাল প্রসঙ্গে আপনার বিশ্লেষনটা আমার কাছে ভাল লেগেছে। ইসলামী বিধি-বিধানের অধিকাংশ বিষয়েই চার মাহযাবের ওলামাদের প্রদত্ত ফতোয়ার ভেতর মতভেদ আছে। দেশে থাকতে আমরা অনেকেই হয়ত এ ধরনের মতভেদের ততটা সম্মুখীন হইনি যেহেতু আমাদের দেশে হানাফী মাহযাবই সংখ্যাগরিষ্ট। প্রবাসে এসে প্রায়শই এ ধরনের মতভেদের সম্মুখীন হই আমরা। এবং ইভেনচ্যুয়ালি নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় কোন্‌ ফতোয়াটা গ্রহন করবো।

    এবং 'তাকওয়ার' প্রশ্ন আসে তখনই। আমার নিজের জ্ঞান-বুদ্ধিতে যে ফতোয়াকে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য মনে হয়, সেটা গ্রহন করার চেষ্টা করি। এবং এর পাশাপাশি চেষ্টা করি ইসলামী বিধি-বিধানের 'আউটার পেরিফেরি' থেকে 'সেন্টার'-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার। কেননা সেটা করলে 'গ্রে এরিয়া' যতটা সম্ভব এড়িয়ে 'ব্ল্যাক-এ্যান্ড-হোয়াইট' দিকে এগোনো যায়। অবশ্য নিজের ঈমানের দূর্বলতার কারনে সবসময় সেটা পারা সম্ভব হয়না। এবং এর চেয়ে বড় সত্যি আর কিছু নেই যে, আল্লাহর দরবারে নিজেকেই জবাবদিহি করতে হবে। কোনো ওলামারই সুযোগ হবেনা আমার পক্ষ হয়ে জবাবদিহি করার। ধন্যবাদ।

  13. 1
    রকি

    মুসলিমদের মাঝে চিন্তার খোরাক ছড়িয়ে লাভ নেই, কারণ মুসলিমদের বেশিরভাগ স্বাভাবিক চিন্তায় অনভ্যস্থ !

Leave a Reply

Your email address will not be published.