«

»

May ১২

সাম্প্রতিক বিশ্বের চরমপন্থীদের কর্মকান্ড ও সদালাপের ভূমিকা

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে বেড়াতে গেলে অনেকের কাছ থেকে একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে – তা হলো – দেশের বাইরে যারা থাকে – বিশেষ করে পশ্চিমে যারা বসবাস করে তাদের অনেকেই দৃশ্যত বেশী ইসলাম চর্চা করছে। কারনটা কি?

কথাটা আমাকেও ভাবিয়েছে – তবে একটা উত্তর পেয়েছি আমেরিকান এক নতুন ইসলাম গ্রহনকারীর কাছ থেকে – উনি বলছেন – কোন রান্নাঘরের ছুরি যেমন যত ভারীই হউক না কেন – তার ধার থাকে এক প্রান্তে – সেই ছুরি যত বেশী ব্যবহার হয়  তার ধারালো ভাব ততটাই বাড়ে। তাই বলে শুধু ধারালো দিকটাই কাজ করে না – তার পিছনের অংশ ব্যবহার হয় শক্তি যোগাতে। সেই অংশের ভার সামনের অংশের ধারের সাথে মিলেই কার্যকর একটা ব্যবহার উপযোগী হিসাবে তাকে ব্যবহার করা যায়।

মুসলিম উম্মাও তেমনই – মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের সংখ্যা আর অমুসলিম দেশ – বিশেষ করে পশ্চিমের মুসলমানরা গুনগত মান দিয়ে ইসলামের কার্যকারিতাকে সমুন্নত রাখছে। পশ্চিমের মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইসলাম চর্চার কারন হলো – পশ্চিমের মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিসাবে সব সময় একটা চ্যালেঞ্জিং পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করতে হয় বলেই তাদের নিজেদের স্বার্থেই ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশী জানতে হয় – আরো গভীরে যেতে হয় – কারন প্রতিনিয়ত তাকে ইসলাম নিয়ে নানান পরিস্থিতির  এবং প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হয়। এই ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের তাদের সহযোগী হিসাবে পেলে তাদের জন্যে কাজটা সহজ হয় – এবং একটা কার্যকর দাওয়ার নেটওয়ার্ক তৈরী হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ভাবেই কাজ হচ্ছে কিন্তু মাঝে মধ্যেই একটা উগ্রপন্থী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর কারনে পশ্চিমের মুসলিমদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

উগ্রপন্থীদের কাজ সম্পর্কে যখন বলা হয় – তখন ধর্মীয় (শরিয়া) এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দুইটা দিকেই দেখা যায় যে তারা দুই দিক দিয়েই মুসলিম উম্মার ক্ষতি করছে। এখানে একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার – ইসলামিস্ট বা টেরোটিস্ট হিসাবে ঢালাও যে প্রচারনা – যা মুলত ইসলামোফোবিয়াকে জ্বালানী সরবরাহ করে – তাতে পশ্চিমা মিডিয়ার চোখে প্যালেষ্টাইনের মুক্তিযোদ্ধা, ইরাকে মুক্তি সংগ্রামী যোদ্ধা আর আফগান স্বাধীনতাকামীদের সাথে আল-কায়দা টেরোরিস্টদের এক করে একটা ঢালাও প্রচারনা চালানো হয় – যা একটা অন্যায়। আত্নরক্ষা আর স্বাধিকার রক্ষার অধিকারের সাথে একটা বিশেষ মতাদর্শ বা একটা মতাদর্শে বিশেষ ব্যাখ্যাকে চাপিয়ে দেওয়ার জন্যে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়াটা কখনই এক হতে পারে না।

কার্যত এই ইসলামের নামে চরমপন্থীরা এই পর্যন্ত যা করেছে – তার ভিকটিমের সিংহভাগই মুসলিম। বাংলাদেশে নির্বিচারে বোমা মেরে বাংলা ভাই গং মানুষ হত্যা করেছে – তার মতোই পাকিস্তানে ইসলামের নামে মসজিদে পর্যন্ত বোমা মেরে মুসল্লি হত্যা করা হয় – তা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। যদি শরিয়া অনুসরন করি তবেও দেখবো তারা জঘন্য অপরাধ করছে –

"এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।" (৫:৩২)

সুষ্পষ্টত দেখা যাচ্ছে – যে কাউকে হত্যার বিষয়টি ইসলাম অনুমোদন নেই – বরঞ্চ জঘন্য কাজ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই অবস্থায় বিনা বিচারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাউকে হত্যা করা কি ইসলামের পথ অনুসরন হতে পারে!

সমস্যা হলো – যারা এই ধরনের কাজ করে – তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে করে না – তারা একটা বিশেষ ব্যাখ্যা বা ফতোয়ার অনুসরন করে। পাক-ভারত উপমহাদেশে ফতোয়াগুলো মুলত চলে যায় নারী, ভিন্ন ধর্মের অনুসারী এবং ইসলামের বিরোধীতাকারীদের দিকে। এই ফতোয়ার ফলে আমাদের যেমন ইসলামের দাওয়াতের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে – কারন অন্য ধর্মের মানুষের হাতে ইসলামের মৌলিক ভাবটাকে আমরা বিকৃত করে তুলে দিচ্ছি। অন্যদিকে নারীরা ফতোয়ার শিকার হয়ে ইসলাম চর্চার মুল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে নানান ধরনের কুসংস্কার, পানি পড়া, পীর ধরা, মাজার ভক্তির মতো জঘন্য কাজকে ইসলামের সাথে গুলিয়ে ফেলছে – মৌলিক শিক্ষার অভাবে মায়েরা সন্তানদের ভুল শিক্ষা থেকে দুরে রাখতে পারছে না – এই সুযোগে একদল কোরান পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে একট ধারনা দিচ্ছে যে তারা ধর্ম শিক্ষা গ্রহন করছে – যেহেতু তারা ইসলামের মুল ম্যাসেজটা থেকে দুরে থাকছে – ফলে যখনই তারা তথাকথিত নাস্তিক নামক বিভ্রান্ত অথবা ইসলামবিদ্বেষীদের মুখোমুখি হচ্ছে তখনই তারা হয় উত্তেজিত হয়ে উঠে চরমপন্থার কথা বিবেচনা করছে অথবা ইসলামের পথ থেকে দুরে সরে যাচ্ছে – এমন কি ইসলাম-বিদ্বেষী হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে নারীদের প্রতি একটা বিদ্বেষী মনোভাব তৈরী হচ্ছে মুলত একদল চরমপন্থীদের প্রচার প্রচারনার কারনেই। উদাহরন হিসাবে মালালা ইউসুফজাই এর কথাই ধরা যাক। কি অপরাধ ছিলো এই মেয়েটার। সে চেয়েছিলো তার মতামত প্রকাশ করতে আর তার দাবীর ন্যয্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন করা যাবে না। মজার ব্যাপার হলো মালালা যে দেশের মানুষ – তারা যখন ডাক্তারের কাছে যায় তখন তাদের মহিলাদের জন্যে মহিলা ডাক্তার আবশ্যক বিবেচনা করে – কিন্তু যদি মুসলিম মেয়েরা ডাক্তারী না পড়ে – যদি স্কুলে না যায় – যদি বিজ্ঞান না শেখে – তবে মুসলিম নারীদের জন্যে সব সময় অন্য ধর্মের মহিলা ডাক্তারের উপর নির্ভর করতে হবে – যেখানে পশ্চিমে মহিলা মানেই নারী না – সে হয়তো বিশেষ আরেকটা সেক্সের পরিচয়ে চলে – সোজা কথায় সমকামী। সেই ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাসে একজন মুসলিম নারী সহজেই প্রতারিত হতে পারে। সেই শিক্ষার দাবী করার অপরাধে আমরা আমাদের মেয়েকে গুলি করে মেরে ফেলার চেষ্টা করলাম আর বৃটিশ সৈন্যরা যেখানে পাশের দেশে নির্বিচারে মানুষ মারছিলো – তারা মামালাকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো – চিকিৎসা করালো – সুস্থ্য করলো – নিজেদেরকে মানবিক হিসাবে প্রচারের সুযোগ পেলো – আর আমরা পেলাম কি – নিজের বোনকে হত্যার চেষ্টা করে আমাদের বিরুদ্ধেই প্রচারের অস্ত্র হিসাবে তুলে দিলাম।

সাম্প্রতিক কালের নাইজেরিয়ার বোকো হারামের কর্মকান্ড নিয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভাল। ওরাও ইসলাম রক্ষার নামে নিজেদের বোনদের উপর চড়াও হয়েছে – তাদের শিক্ষার দাবীকে শাস্তিযোগ্য বিবেচনা করে তাদের অপহরন করছে – সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো নিজেদের বোনদের অন্যের কাছে বিক্রি করে দেবার মতো কথাও শুনা যাচ্ছে। খুবই লজ্জার এবং দুঃখজনক এই কর্মকান্ড।

আমাদের জন্যে কঠিন এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা। কিন্তু বাংলাদেশের একদল আলেম এখনও প্রচার করে যাচ্ছেন মেয়েদের পড়াশুনার দরকার নেই। তাদের চারদেওয়ালের ভিতরে থাকতে হবে। খুবই দুঃখের সাথে বলতে হয় – বাংলাদেশের বোনরা সব জায়গায় অবাধে যেতে পারে – শুধু মসজিদ এবং ধর্মীয় আলোচনা সভা ছাড়া। সেখানে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের ছড়াছড়ি। এতে করে মেয়েদের মর্যাদা এবং মেয়েদের মুল ধারায় এনে দ্বীন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা মখসুদুল মুমেনিন আর আরবীতে কোরান শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ। ফলে তাদের সন্তানদের ইসলাম সম্পর্কে একটা দুর্বল ধারা তৈরী করে – যা পরবর্তীতে বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বীন চর্চার দুর্বল ভিত্তি হিসাবে তাদেরকে বিব্রত করে এবং এরা সহজেই বিভ্রান্তদের ফাঁদে পা দিয়ে ধর্মবিদ্বেষী হয়ে উঠে।

বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকের উপর প্রকাশ্য আক্রমনকেও একই ধারায় ফেলা যায়। আমরা ১৯৭১ সালেও দেখেছি ধর্মের নামে মুসলিমরাই মুসলিম নারীদের উপর অত্যাচারী হয়েছে।

এই ফ্যানাটিসিজমের ফলাফল কি?

একটা উদাহরন দেই। বাংলাদেশের আসিফ নামে একজন লোক মুসলিমদের নিয়ে উষ্কানীমুলক লেখা লিখে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দুঃখের বিষয় হলো আসিফ মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলেও আজ মুসলিম বিদ্বেষী – কারন তার কাছে দ্বীনের বার্তাটা সঠিক ভাবে পৌছেনি। আসিফ ইসলাম বিদ্বেষী হওয়ার পিছনে দায় সকলকেই বহন করতে হবে – বিশেষ করে যারা নিজেদের আলেম হিসাবে ইসলামের রক্ষক বনে অন্যদের পক্ষ হয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করে।

মজার বিষয় হলো তাকে আরেকদল লেখা চোর হিসাবে প্রমান করেছে- এই চৌর্য্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত লেখককে একদল চরমপন্থী শারীরিক ভাবে আক্রমন করেছে- তারপর হেফাযতের চাপে তাকে রাষ্ট্র ৫৭ ধারায় অভিযুক্ত করে জেলেও রেখেছে। ফলে তার কপাল খুলে গেছে। এখন সে জার্মানীতে বসে নগ্ন হয়ে জারকুজীতে সময় কাটায় আর ইসলাম বিদ্বেষী লেখার জন্যে অফুরন্ত সময় পায়। তাকে জার্মানীতে পাঠানোর দায় কি আমরা এড়াতে পারবো? তাকে চোর হিসাবে প্রমান করার পর কি আর কিছু করার দরকার ছিলো।

যাই হোক – ইসলাম একটা সাধারন ধর্ম না – সাধারন বলতে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব প্রচলিত ধর্ম বলতে যা বুঝায় তা না – এইটা একটা জীবন বিধান – শুধু কথা নয় – জীবনের প্রতিটি কর্মকান্ডতে ইসলাম তথা কোরানের প্রতিফলন রাখার প্রচেষ্টাই হলো একজন বিশ্বাসীর জীবনের লক্ষ্য।

আমি যখন বললাম – কোরআনের প্রতিফলন – তখনই মনে হলো একদল বলে উঠবেন – আপনি কি কোরান অনলী হয়ে গেলেন নাকি? খুবই মজার কথা – সদালাপের সাম্প্রতিক লেখাগুলো দেখলে সত্যই খারাপ লাগে – আমরা পরষ্পরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে যতটা সময় আর চেষ্টা ব্যয় করি – তার সবটুকুই ব্যয় করার কথা ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন আর তার প্রয়োগে হিকমা বা প্রজ্ঞা শিখতে। রসুল (সঃ) একজন চলমান কোরআন। কোরানের নির্দেশ পালন করতে গেলে রসুল(সঃ)-কে বাদ দেওয়ার কথা উঠে কিভাবে, তা বুঝতে অক্ষম। যাই হোক, আসল কথায় আসি।

আসিফরা কোরান নিয়ে কটূকথা বলে এবং রসুল (সঃ) নিয়েও কটূকথা বলে – এই বিষয়টি কি নতুন! দেখি কোরানের দিকে – এই বিষয়ে কি বলা হচ্ছে –

"রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে। এমনিভাবে প্রত্যেক নবীর জন্যে আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছি। আপনার জন্যে আপনার পালনকর্তা পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।" (২৫: ৩০-৩১)

এই কথার পর যদি কেউ নিজেই দায়িত্ব নিয়ে কাউকে হত্যার হুমকী দেয় – কাউকে হত্যার চেষ্টা করে – অথবা হত্যার জন্যে অন্যকে উৎসাহিত করে – সে প্রকারান্তরে আল্লাহকে "সাহায্যকারী" হিসাবে যথেষ্ট বিবেচনা করা থেকে সরে গেলো কি না, তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে। সুষ্পষ্টত এখানে চরমপন্থার চিন্তার সুযোগ সংকীর্ন করা হয়েছে। তারপর আরো দেখি আল্লাহ কি চমৎকার ভাবে আমাদের পথ নির্দেশ দেন –

"অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ।" (সূরা ফাতিরঃ ৩২)

অন্য আরেক আয়াতে আল্লাহ কিতাবধারীদের মাঝে আমাদের (কোরান অনুসারীদের) মধ্যপন্থী হিসাবে ঘোষনা দিচ্ছেন –

কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- আমি তোমাদেরকে বানিয়েছি মধ্যপন্থী উম্মত, যাতে তোমরা (কিয়ামতের দিন) মানুষ সম্পর্কে সাক্ষী হতে পার। (বাকারা : ১৪৩)

সহজেই বলা যায় যে –  যারা মধ্যপন্থা ছেড়ে চরমপন্থা অনুসরন করে একে ওকে হত্যার উস্কানী দেয় – তারা আসলে ইসলামে দাওয়াতের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশী করে।

(২)

লক্ষ্যনীয় যে –  ইদানিং সদালাপেও চরমপন্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। বিশেষ করে অন্যকে হত্যার হুমকী দেওয়া – যা মুলত সমাজে বিশৃংখলা তৈরী করা এবং প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনের পরীপন্থী কাজ। এই ধরনের চিহ্নিত চরমপন্থীদের বিষয়ে সদালাপকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি। সুষ্পষ্ট করেই নাম বলছি – শফিউর রহমান ফারাবী নামের যে ব্লগার নানান সময় নানান উষ্কানীমুলক কথা বলে – বা লেখার মাধ্যমে  ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষীদের হাতে সমালোচনার অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন – উনি প্রকৃত বিচারে ইসলামের শত্রুদের বন্ধু হিসাবেই কাজ করছেন। সদালাপে ফারাবীর লেখা পোস্ট করা মানে প্রকৃত পক্ষে ফারাবীর ফ্যানাটিক এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সহায়তাকারী ভূমিকাকে সমর্থন করা। আশা করি সদালাপ সম্পাদক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন।

সেপ্টেম্বর ১১ এর দুঃখজনক ঘটনা পর পশ্চিমে বসবাসরত বাংলাভাষী মুসলমান মুখপাত্র হিসাবে সদালাপ একটা মধ্যপন্থী নীতিতেই চালু হয়েছিলো এবং দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সদালাপ তার মধ্যপন্থী অবস্থান ধরে রেখেছে। পরষ্পরবিরোধী মতাদর্শ নিয়ে আলোচনায় অনেক সময় সদালাপে চরমপন্থীরা প্রাধান্য বিস্তার করলেও – সদালাপ মুলত একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবেই পরিচিত হয়েছে। এখানে সাদাতের মতো লেখকের মৌলিক রচনা থেকে ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবন, শাহবাজ নজরুলের লেখা বিজ্ঞান আর ধর্মের অপূর্ব আলোচনা, সারওয়ার হোসেনের লেখা থেকে গর্ভপাতের মতো অমানবিক অন্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি, মুনিম সিদ্দিকীর লেখা থেকে জেনেছি ইসলামের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচারের নমুনা আর প্রকৃত ইতিহাস, রায়হানের নিরন্তর প্রচেষ্টায় জানছি নাস্তিকদের লজিকের ফাঁকফোকড় আর মিথ্যাচার সম্পর্কে, আরো অনেক লেখকের মৌলিক লেখাগুলো মুলত আমাদের ক্লাশরুম ম্যাটেরিয়ালের মতোই কাজ করছে। সদালাপকে লেখক পাঠকের একটা মিলনমেলা হিসাবেই দেখতে চাই। কোন বিশেষ মতাদর্শ, মতবাদ বা চরমপন্থীদের এজেন্ডা প্রচারের ক্ষেত্র হিসাবে সদালাপকে দেখতে চাই না। এবং আরো চাই না – কোন চরমপন্থীর লেখার কারনে সদালাপের উপর নেমে আসুক কোন ধরনের অপবাদ।

একজন পাঠক হিসাবে এইটুকু প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছি।

(নোট:- বাংলায় কোরানের যে আয়াত দেওয়া হয়েছে – তা লেখকের অনুদিত নয় – মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের অনুবাদকে কপি/পেস্ট করা হয়েছে)

১২ comments

Skip to comment form

  1. 6
    sami23

    জিয়া সাহেব, আপনার সেক্যুলার নীতি বড়ই আজব! বারাক ওবামার অনুরাগী,পুরুষদের দাড়িকে হারিকেনের সাথে তুলনায় করা এবং মহিলাদের বুরকাকে  কালো কাকের তুলনায় করা, এক কিশোরীর রক্ত দেখে আমাদের চরমপন্থা সত্তাটা কৈ মাছের প্রাণের মত জেগে উঠলো! অন্যদিকে বোন আফিয়া সিদ্দিকি নিজের সবকিছু হারিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে জেলে আঁটকে রাখা হয়েছে এবং ইরাকে আবু গারাইব কারাগারে ফাতিমাকে দিন-রাত ৯ বার ধর্ষণ করা হলো এবং সাম্প্রতিক কালে আসাম, সিরিয়া, আরাকানের হাজার হাজার ইসলামী রক্ত দেখে আপনার সেক্যুলার মানবসত্তা কি ততটা জেগে উঠেছিল?

    জিয়া সাহেব বর্তমান ৯/১১ পরবর্তী বিশ্বের একটি  common ideological theory  হচ্ছে যে, কোন ছুতায়ে মুসলিম রাষ্ট্রে intervention করা জন্য তারা সেখানকার অস্থিতিশীলতাকে খুব বড় করে ফোকাস করে অর্থাৎ জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করা জন্য দু’চারটি বোমা ফাটিয়ে সে দেশকে “জঙ্গিতে গিজগিজ করছে” এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করে। আর বিষয়কে patronized করা জন্য  কিছু “প্রতিবাদী চরিত্র কিংবা মডারেট ট্রেন্ডের কিছু লোককে” দিয়ে ধর্ম আর সেক্যুলার দিয়ে খিচুরি  মার্কা কথা দিয়ে মিডিয়া সামনে হাজির করে একটা public opinion, প্রেক্ষাপট তৈরি করে সাধারণ মানুষের মন মগজকে নিয়ত্ত্রন করা। এরপর হবে full-fledged invasion এখন সেটা হচ্ছে নাইজেরিয়াতে বোকো হারামের কর্মকাণ্ড ছুতায়ে ধরে! অথচ বোকো হারামের লোকদের বাড়ি ঘর পরিবার বিনাশ করা হলো তখন তো কিছু তথাকথিত মুসলিম মডারেট ট্রেন্ডদের এত দরদ উথলে উঠল না কেন?

    নিজেদের  বিবেক-বুদ্ধিকে ইহুদি-খ্রিস্টান কাছে বন্দক রেখে নিজেদেরকে মুসলিম মডারেট ট্রেন্ড দলের মধ্যে ফেলে  জাতে ওঠার জন্য কাফিরদের মত হতে চেষ্টা তো করে আসছি বহুকাল ধরে। আর তাইতো ইসলামটাকেও দেখছি তাদের মত করলো,আর তালিবান,আল কায়েদাকে জঙ্গি  বলে চিকার করে উঠি।

    অফটপিক প্রশ্নঃ মতিঝিলের সেই গাছ গুলোর জন্য এখনো আপনার মন কাঁদে?

  2. 5
    Mahabub Alam

    মুসলিমদের নাস্তিকতা ও খারাজী (যারা ইসলামের নামে অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি করে পথভ্রষ্ট) দুই শ্রেণির মানুষ থেকে সাবধান থাকা দরকার। আর মুসলিমদের উচিত মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। মুসলিমদের মধ্যে ইসলাম বিদ্বেষী কোন লেখক পাওয়া গেলে শয়তান ইবলিসের পদাঙ্ক অনুসারীরা খুশি হয়। কারন তাদের ইসলাম বিরোধী কথা প্রচারের যন্ত্র তারা পায়। আর শয়তান খুশি হয় যে তার যাহান্নামের সাথী আরেকজন জুটেছে। 

    এই পৃথিবীতে এবং বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছে যাদের কাছে সঠিক ইসলাম এর কথা তারা ভালভাবে যানে না, আর একারনে পৃথিবীতে এবং বাংলাদেশে রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর অবমাননাকারীদের দেখা যায়। সকল মানুষের আল্লাহ প্রদত্ত কোরআন এবং রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) মেনে চলা দরকার। আল্লাহ তার প্রেরিত সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমে ইসলাম পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। এখন আমাদের ইসলামের ব্যাপারে কোন ঘাটতি -- বাড়তি করার কোন সুযোগ নেই। 

    আমি  ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনার গবেষকদের বই পড়ে থাকি কারন তাদের লেখায় প্রমান দলিল দেয়া থাকে। আমাদের মধ্যে কোন মাযহাব নিয়ে বিতর্ক মারামারি করার প্রয়োজন নেই। কারন ইসলামের যে কোন বিষয়ে সমাধান কোরআন এবং রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর সঠিক হাদিস অনুসারে হওয়া দরকার। যারা ইসলামের আলেম জ্ঞানী ব্যাক্তি কোরআন এবং রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর সঠিক হাদিস অনুযায়ী হওয়া দরকার, নইলে বিভ্রান্তি ছরাতে পারে। ইসলামের আলেমগন তাদের বক্তব্য এর সাথে কোরআন এবং রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর সঠিক হাদিস থেকে প্রমান দলিল উপস্থাপন করতে পারেন।

    ইবলিস শয়তান মানুষের মধ্যে ইসলামের জ্ঞানহীন অবস্থাকে পুঁজি করে, এমনকি নামাজি মানুষকে খারাজী বানিয়ে অথবা কোন মুসলিমকে নাস্তিক বানিয়ে পথভ্রষ্ট করে। আল্লাহ আমাদের শয়তানের সকল প্রকারের পথভ্রষ্টতা থেকে হেফাযত করুন। আমীন।     

    1. 5.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      এই পৃথিবীতে এবং বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছে যাদের কাছে সঠিক ইসলাম এর কথা তারা ভালভাবে যানে না, আর একারনে পৃথিবীতে এবং বাংলাদেশে রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) এর অবমাননাকারীদের দেখা যায়। 

       

      -প্রশ্নটা এখানেই আসে -- আমরা কি যথেষ্ঠ উদ্যোগ নিয়েছি ইসলাম এবং রসুল সম্পর্কে জানাতে! যত সময় সদালাপেই আমরা ব্যয় করি ইসলাম বা নবী(সঃ) বিদ্বেষীদের সমালোচনা করতে তার সামান্য অংশই ব্যয় করি ইসলামের মৌলিক বানী এবং রসুল(সঃ) এর আদর্শ তুলে ধরতে। বিষয়টা কি ভেবে দেখার মতো না! 

       

       

  3. 4
    বেলাল হোসেন

    আসসালামু আলাইকুম, কেউ ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে গেলে যে তার সব দায় আমাদের বহন করতে হবে এই যুক্তিটা মানতে পারছি না। আমার জানা মতে আবু বকর (রাঃ) এর সময়ে অনেক মুসলিম মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, তাহলে তার সব দায় কি আবু বকর  (রাঃ) নিয়েছিলেন?? একই যুক্তিতে সমাজে যত চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ হয় তার সব দায় আপনার আর আমার?? আর আপনার কি মনে হয় যে মুরতাদ হয় সে একজন কোচি খোকা, ইসলাম সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। এই হিসেব করলে তো অনেক ব্যভিচারকারী ও ইসলাম সম্পর্কে তার অজ্ঞতার দোহাই দিয়ে ছাড় পেয়ে যাবে। 

    কেউ মুরতাদ হয়ে গেলে তাকে একবার সুযোগ দেয়া যেতে পারে ঠিক হয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু, তাকে সুযোগ দেয়ার পরেও যদি সে ইসলামের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আর সমাজে ভুল তথ্য ছড়ায় তবে অবশ্যই তার শাস্তি হতে হবে। ইসলামি আইন সে কথাই বলে। তবে তার শাস্তি হতে হবে অবশ্যই ইসলামি শাসক কর্তৃক শাসিত ইসলামি সমাজে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষিতে তা সম্ভব নয়। তাই কেউ যদি বর্তমান প্রেক্ষিতে কোন মুরতাদকে হত্যা করা ইসলাম সম্মত হবে না। যে দেশে ইসলামি শরিয়াহ চালু আছে বা থাকবে সে দেশে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কোন শাসকের অধীনে শাস্তি হলে তো আর কেউ চরমপন্থার কথা তুলতে পারবে না…

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ। 

       

      দায় নেওয়া আর না নেওয়াটা বিতর্ক সাপেক্ষ। কিন্তু নিজেকে এবার জিজ্ঞাসা করুন -- আপনি কি আপনার পরিবার, প্রতিবেশী অথবা বন্ধুদের ইসলাম জানার হক সঠিক ভাবে আদায় করেছেন? 

       

      প্রতিটি শিশুই নিষ্পাপ হয়ে জন্মায় এবং পরিবার সমাজ এবং পরিবেশ থেকে সে শিক্ষা গ্রহন করে। মধ্যবৃত্ত পরিবারগুলোতে দেখেছি -- একজন মৌলভী রেখে বাচ্চাদের আরবীতে কোরান পড়ার ব্যবস্থা করেন, এই দিবস সেই দিবসে মিলাদ আর ঈদ পালনের মাঝেই ইসলামকে সীমাবদ্ধ রাখেন। লক্ষ্য করবেন -- এই সকল আনুষ্ঠানিকতার সাথে একজন লেবাসধারী ইসলামেরসেবক জড়িত থাকেন। এই পরিবারে বড় হয়ে উঠা একটা সন্তান সহজেই অন্যের যুক্তিতে পরাস্থ হয়ে যায় -- কারন তার মাঝে ইসলামের শিক্ষা নেই। 

       

      এই বিভ্রান্ত সন্তানের দায় কি আমরা নেবো না!

  4. 3
    মুনিম সিদ্দিকী

    জিয়া ভাই সালাম। সদালাপের উচিত ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক চরম পন্থা নির্ধারণে সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়ার। এবং এইটি যেন সবার সাথে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হয়।

    ফারাবী সম্পর্কে কি বলব! তাকে তো সামান্য থেকে অসামান্য এই সরকার বানিয়ে ফেলেছে! সে এখন জনপ্রিয় ভার্চুয়াল কারেক্টার। আপনারা মানুন না মানুন তাকে আদর্শ হিসাবে অনেক তরুণ মান্য করে। কাজেই তার সাথে এমন ব্যবহার করবেন যাতে সে লাদেন কিংবা বাংলা ভাইয়ে পর্যবেশিত হয়ে পড়ে। সে হিরোইজমে পড়ে আছে, দিন দিন নতুন কিছু করে মিডিয়ায় নাম ঝলসাতে সে অভিলাষী। তাকে তাড়িয়ে দূরে সরিয়ে না দিয়ে ভালোবেসে কাছে টানুন, তাকে বুঝান তার পথ কিন্তু ইসলামের পথ নয়, ইসলাম তার উপরে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ এবং অপরাধী অপরাধের শাস্তি দান ছাড়া অন্য সব বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দান করে। রাসুল সাঃ সময়ে যে কয়জনকে রাসুল সাঃ এর অপমান করে লেখার জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছিল তার কারণ নিছক কুৎসা রচনার জন্য ছিলোনা, তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়েছিলো তাদের লেখনির মাধ্যমে নতুন ইসলামী রাষ্ট্রের শান্তি শৃংখলা বিঘ্ন করে নতুন রাষ্ট্রের অস্থিত্বকে ধ্বংস করে দেবার প্রচেষ্টার জন্য। এই সব ছিলো রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ। এখনও রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদন্ড দেয়া হয়ে থাকে। রাসুল সাঃ জামানার বাস্তবতা আর আজকের জামানার বাস্তবতা এক নয়। তখন নতুন প্রতিষ্ঠিত মদিনায় আজকের মত পুলিশ, র‍্যাবের মত বাহিনী ছিলোনা, যারা দূর্গের ভিতর গিয়ে অপরাধীকে ধরে এনে বিচারের সম্মুখিন করতে পারতো, তখন জেলের মত কোন ব্যবস্থা ছিলোনা। কথিত শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছিলো সমাজের প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তবর্গ কাজেই ইসলামী রাষ্ট্রের স্বার্থেই ওদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে ভাবে কিছু করা ইসলামের মূল স্প্রীট ন্যায়ব বিচারের পরিপন্থী বলেই আমি মনে করি। আল্লাহ আমাদেরকে যেন সকল প্রকার ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।

    1. 3.1
      আবদুল্লাহ সাঈদ খান

      মুনিম ভাইয়ের সাথে একমত। 

    2. 3.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ওয়ালাইকুম আস সালাম। 

      অন্যের দোষ না দিয়ে আত্নসমালোচনা করারটাই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়। 

       

      একজন মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলে বা মেয়ে যখন নির্ধামিক হয়ে যায় বা হয়ে যাওয়ার ভান করে -- তখন কি কষ্ট হয় না। মনে হয় না আমরা কোথাও ভুল করছি -- আমাদেরই সন্তান এতো ভাল সুযোগ পেয়েও ইসলাম বুঝতে পারলো না। কি সাংঘাতিক কথা। 

      ইসলাম বিদ্বেষীদের মাঝে অন্য ধর্মের অনুসারীদের বিষয়টা সহজ -- তারা ইসলামের সমালোচনা করবেই -- আর তাদের হাতে সমালোচনার অস্ত্র তুলে দেওয়ার জন্যে মুসলমানদের কর্মকান্ডই যথেষ্ঠ। পুরো পশ্চিমে এখন হৈ চৈ চলছে বোকো হারামকে কর্মকান্ড নিয়ে -- তার আগে ছিলো মালালা। দুই ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের মেয়েদের উপর অত্যাচারী হয়ে শত্রুদের হাতে তুলে দিলাম। যত কথাই বলি -- আমাদের গালি খাওয়ার দায় কি আমরা এড়িয়ে যেতে পারবো? 

       

      তাই সময় থাকতেই সাবধান হওয়া কি উচিত নয়?

       

  5. 2
    মীযান হারুন

    এই সুযোগে একদল কোরান পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে একট ধারনা দিচ্ছে যে তারা ধর্ম শিক্ষা গ্রহন করছে 

    এখানে কাদের বুঝিয়েছেন সেটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে আমার বিশ্বাস, আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা আমাদের প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য। কারণ যখন আমরা ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সর্বদা নিজেদের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখি, তারা ধর্মের কাজে এবং ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষা প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন। হাঁ, তাদের ভেতরে কিছু মানুষ ভুল করেন। কিন্তু আল কায়েদার চরমপন্থার কারণে যেমন গোটা মুসলিম জাতি কিংবা  ইসলামকে দোষারোপ করা যায় না, ঠিক তেমনিভাবে সম্ভবত তাদের দু’চারজনের ভুলের কারণে সবাইকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। 

     কিন্তু বাংলাদেশের একদল আলেম এখনও প্রচার করে যাচ্ছেন মেয়েদের পড়াশুনার দরকার নেই।

    এক্ষেত্রেও উপরের বক্তব্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশে এধরনের আলেম বর্তমানে খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে ওঠা-বসা রয়েছে। তাদের বোন কিংবা মেয়েদের আমি বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়তে দেখেছি। তবে নিঃসন্দেহে সেটা পরম সতর্কতার সঙ্গে এবং ধর্মীয় সীমার মধ্য থেকেই। বাদবাকি সেই ‘একদল’ কোথায় তাদের ঠিকানা আমার জানা নেই। একইভাবে দুয়েকজনের জন্য তাদের দোষারোপ ন করাই ভালো। জিয়া ভাই আবার বলতে পারেন, আমি তো ‘একদল’ বলেছি, সবাইকে বলিনি। আমি বলবো, আমরা সাধারণ মানুষ যখন প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন লেখায় ‘একদল’ আলেমের কথা শুনতে থাকবো, কখন যে নিজের অজান্তেই ‘একদল’ শব্দটি ভুলে গিয়ে সকল আলেমকে দোষী সাব্যস্ত করবো তা নিজেরাও বলতে পারবো না। আর সম্ভবত সেটা আজকে হচ্ছেও। এজন্য সব জায়গাতেই তাদের প্রসঙ্গ টেনে এনে দোষারোপ করা বোধহয় ঠিক হবে না। কারণ তারা মানুষ। তাদের ভুল হবে না এটা তো তারাও বোধহয় বলেন না। 

    জিয়া ভাইকে একটি শেকড়সন্ধানী গবেষণামূলক প্রবন্ধের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পাশাপাশি চরমপন্থা বিষয়ক কথাগুলো হয়েছে সবচেয়ে সুন্দর। আসলে আমাদের কিছু মানুষই নিজেদের কাজের দ্বারা ইসলামকে কালিমাযুক্ত করি। যা পরবর্তীতে সার্বিকভাবে মুসলিম উম্মাহর জন্য ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়। 

    রাজীব ওরফে থাবাবাবা নিহত হওয়ার পরে আমি অনেককে বলতে শুনেছিলাম, যাক একটাকে মারা হয়েছে এবার বাকিরা এর দ্বারা শিক্ষা নিবে। নাস্তিকরা এবার ঠিক হয়ে যাবে। তাদের কুরআন হাদীসের বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিতেও শুনেছিলাম। কিন্তু রাজীবের হত্যা কি আদৌ নাস্তিকদের স্রোত বন্ধ  করতে কিংবা কমাতে পেরেছে? পারেনি। বরং এটা তাদের ভেতরে উদ্দীপনার আগুন আরও বহুগুণে জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেকারণে চরমপন্থা ইসলামের ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার অতীতেও করেনি, আজও করে না, ভবিষ্যতেও করবে না। 

    এখন সে জার্মানীতে বসে নগ্ন হয়ে জারকুজীতে সময় কাঁটায় আর ইসলাম বিদ্বেষী লেখার জন্যে অফুরন্ত সময় পায়। তাকে জার্মানীতে পাঠানোর দায় কি আমরা এড়াতে পারবো? তাকে চোর হিসাবে প্রমান করার পর কি আর কিছু করার দরকার ছিলো।

    আমরা বিভিন্নজনকে বিভিন্নসময় দেশের বাইরে তাড়িয়ে দেয়ার আন্দোলন করি, কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে তাদের ইসলাম বিরোধিতা যে আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ পায় সেটা ভেবে দেখি না। সালমান রুশদী, তসলিমা নাসরিন, দাঊদ হায়দার আর গাফ্ফার চৌধুরীদের দলে এবার আমরা ভিড়ালাম নতুন একজনকে। কি সেলুকাস! 

    কোন বিশেষ মতাদর্শ, মতবাদ বা চরমপন্থীদের এজেন্ডা প্রচারে ক্ষেত্র হিসাবে সদালাপকে দেখতে চাই না। এবং আরো চাই না – কোন চরমপন্থীর লেখার কারনে সদালাপের উপর নেমে আসুক কোন ধরনের অপবাদ ।

    এর সঙ্গে আমি আরও একটি বিষয় যোগ করতে চাই। কিছুদিন ধরে কয়েকভাইকে লক্ষ্য করছি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইমামগণের মাঝে মতভেদপূর্ণ কিছু বিষয়কে পুঁজি করে সদালাপে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার অপপ্রয়াসে নেমেছেন। ইসলামের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছোটখাটো মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা নিয়ে নিজেদের মাঝে বিতর্ক আর কাদা ছোঁড়াছুড়ি মোটেও কাম্য নয়। আমি শুরু থেকেই সদালাপ কে ‘মুক্তমনা’ ও ‘সচলায়তন’সহ বিভিন্ন ইসলামবিরোধী ও নাস্তিক্যবাদী ব্লগের বিপরীতে ইসলামের পতাকাবাহী হিসেবে মনে করি আসছি। আমার একটিা বিষয় বুঝে আসে না- নাস্তিকদের মাঝেও তো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতভেদ আছে তাই না? কিন্তু ওসব ব্লগে কি কোনোদিনও তাদের মতভেদপূর্ণ বিষয় নিয়ে তারা বিতর্ক করে সময় নষ্ট করে? আস্তিকদের বিরুদ্ধে তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাহলে আস্তিকরা কেন পারে না ছোটখাটো বিষয়গুলো এড়িয়ে বৃহৎ পরিসরে ইসলাম বিরোধিতার স্রোতকে ঠেকানোর কাজ করতে। 

    আর তাই জিয়া ভাইয়ের সঙ্গে আমারও সদালাপ সম্পাদ বরাবর আবেদন থাকলো এ ধরনের বিভিন্ন এজেন্ডাধারী প্রবন্ধগুলো সদালাপের পাতায় পোস্ট দেয়ার বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। 

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      মন্তব্যর জন্যে ধন্যবাদ।

       

      সালমান রুশদী, তসলিমা নাসরিন, দাঊদ হায়দার আর গাফ্ফার চৌধুরীদের দলে এবার আমরা ভিড়ালাম নতুন একজনকে। কি সেলুকাস! 

       

      -- গাফ্ফার চৌধুরীকে এই দলে ফেললেন কিভাবে? যতটুকু জানি গাফ্ফার চৌধুরী উনার স্ত্রীর অসুস্থতার কারনে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং দীর্ঘকাল উনার স্ত্রী দুরারোগ্য রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন। উনি স্ত্রীর চিকিৎসার কারনেই লন্ডনে থেকে যান। 

       

      ধন্যবাদ। 

  6. 1
    ফাতমী

    আলেমদের আমি অনেক ভালবাসী, মন থেকেই ভালবাসী, যারা আলিম তারা দেওবন্দী হোক, কিংবা বেরলভী হোক তাতে আমি বড় কোন সমস্যা দেখিনা, দেওবন্দী আলেমরা যুক্তিক বর্ননায় অসামান্য। যারা নিজেদের লোভ-লালসা, চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করে ইসলামের জন্য জীবন উতসর্গ করেছে, তাদের সম্মান না করাই বরং অন্যায়, তাদের ভাল-না-বাসায়ই বরং অন্যায়।

     

    কোন আলেম কোন কিছু বললে সেটা সম্মানের সাহিতই বিবেচনা করি, এবং আলেমের বর্ননার পক্ষের দলিল দেখে নেই। যদি দলিল মোতাবেক বর্ননা আমার কাছে বোধগম্য সঠিক বলে বিবেচিত হয়, তখনই সেটা মানতে চেষ্টা করি। কোন বিষয় যদি আমার কাছে সঠিক বলে বিবেচিত না হয়, তাহলে প্রশ্ন করি। মাঝে মধ্যে, কোন কোন আলেম এত কঠোরতা অবলম্বন করেন, যা মনে আঘাত দিতে পারে। অনেক কিছুই তাদের বলে বুঝাতে পারি না, নিজেও বুঝি না। কিন্তু সম্মান করতে তো কোন বাধা নেই। কারণ হাজার হোক, তারাই হাদিস কোরানের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

     

    চরমপন্থার মধ্যে কি যেন এক প্রকার "মজা" জাতিয় কিছু আছে। কোন এক অজানা কারণে চরমপন্থা সহজেই জনপ্রিয় হয়ে যায়, কিন্তু বাস্তবতার সাথে পেরে না উঠায় টিকে থাকতে পারে না। আপনি দেখে থাকবেন, কমিউনিস্টদের মধ্যে চরমপন্থী কমিউনিস্টরা জনপ্রিয়, শুধু বাস্তবতার সাহিত পেরে না উঠায়, এরা পেরে উঠে না।

     

    কালকে কিছু ঘটনা পড়ে এবং শুনে বুঝতে পারলাম, আল কোরান কত বড় রহমত পুরো মানব জাতির জন্য। যদি আল কোরান না থাকত, তাহলে পৃথিবী কেমন হত, তা যারা পৃথিবীর আর্থ-সামাজিক-রাজনিতিক চাহিদা বিবেচনা করে ভবিষত কল্পনা করতে পারেন, তারা ভাবলেই ভয়ে ভীত হয়ে যাবেন। আমি একটুকও বাড়িয়ে বলতেছি না। মানুষের বিবেচনায় রেখে দিলাম।

    জিয়া ভাইয়ের উপরের লেখার ব্যাপারে সাদাত ভাইয়ের মন্তব্য আশা করি।

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে। চরমপন্থা গ্রহনের অনেক কারন থাকে -- তার মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ফ্যাক্টরগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ন। সঠিক শিক্ষা চরমপন্থা থেকে বিরত রাখতে পারে। শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুযোগ থাকে অনানুষ্ঠিক শিক্ষা, যেমন জুমার খোতবা, হালাকা, ধর্মী পাঠচক্র,ওয়াজ ইত্যাদি। বাংলাদেশের ওয়াজ হচ্ছে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত রূপ। সেই ওয়াজ মাহফিলকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা এবং কাঠামোগত ভাবে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করে এই শিক্ষার সুযোগকে কাজে লাগানো যেতো -- কিন্তু ওয়াজ মাহফিলের স্পন্সর আর আয়োজকরা অনেক সময় সমাজের দূর্বত্ত শ্রেনীর মানুষ হওয়ায় পুরো ওয়াজ মাহফিল হয়ে উঠেছে আবেগী ভাষনের সমাবেশ। সেখানে ইতিবাচক আলোচনা চাইতে নেতিবাচক সমালোচনাই বেশী হয় -- ফলে মানুষের মাঝে ঘৃণার জন্ম হওয়া স্বাভাবিক। প্রতিক্রিয়াটাও আমরা দেখি -- যুক্তির ধার দিয়ে না গিয়ে -- যথেষ্ঠ যাচাই বাছাই না করে একটা সিদ্ধান্তে এসে যাওয়ার ফলে আর কোন পথ খোলা থাকে না। ফলে হয় জয় -- না হয় ক্ষয় মনোভাবে তৈরী হয়। 

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.