«

»

Aug ১০

বিএনপি কি বিলুপ্তির পথে!

এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছে অনেকদিন। বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু না – কানাডার রাজনীতি খুব গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি বেশ কিছু কাল ধরে। রাজনীতি থেকে কোন দলের বিলুপ্তির ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। কানাডায় গত বিশ বছরে প্রধান প্রধান চারটা দল ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিলো – তখন লিবারেল পার্টি একছত্র ভাবে রাজত্ব করেছে। ট্রুডো থেকে শুরু করে জ্যা ক্রেতিয়ে পর্যণ্ত। জ্যা ক্রেতিয়ে একটানা দশ বছর লিবারেলকে ক্ষমতায় রেখেছিলেন। তারপর ছোটছোট দলগুলো এক হয়ে ধীরে ধীরে লিবারেলের প্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠে। প্রথমবার এই জোট কানাডিয়ার এলায়েন্স নাম নিয়ে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতায় যেতে। তখন আরো দলকে টেনে এনে তৈরী করে কনজাভেটিব পার্টি। স্টিফেন হারপারের বলিষ্ট নেতৃত্ব সেই দলকে ক্ষমতায় রেখেছে দশ বছর আর লিবারেল হয়েছে তৃতীয় শক্তি – যাই হোক সেই তুলনা বাংলাদেশের সাথে করা কতটা যৌক্তিক হবে সেইটাও বিবেচ্য বটে। কারন কানাডায় শুধু জনগনের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়। আর বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে জনগনের ভোটটা শুধু একটা উপকরন মাত্র – সেখানে অনেক শক্তিকে তুষ্ঠ করে একটা দল ক্ষমতায় যেতে পারে। 

বাংলাদেশের বিষয়ে দল বিষয়ক কথাগুলো একই ভাবে হয়তো প্রযোজ্য হবে। সেখানে শক্তিশালী দল – যারা পাকিস্তানের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছিলো কিন্তু সাধারনের মনোভাব বুঝতে অক্ষম হয়ে যায় নেতৃত্ব। ফলে দ্রুতই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং এক সময় ভুল রাজনীতিতে জনগনের মতামতের বিরুদ্ধ অবস্থান নেয় – পরাজিত হয় যুদ্ধের মাধ্যমে এবং বিলুপ্ত হয়ে যায়। তেমনি ন্যাপ নামে একটা বিরাট দল তাদের নীতি আদর্শে জনমত প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয় – বিশেষ করে ধর্মের প্রতি দূর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে তারা ধর্মহীন হিসাবে পরিচিত হয়ে এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। জাসদের কথা বলা যায় তারাও ভুল রাজনীতি এবং সন্ত্রাসকে তাদের মুল পথ হিসাবে গ্রহনের কারনে এক সময় বিলুপ্ত হওয়ার পথে চলে যায় এবং তাদের জন্মশত্রুর সাথে আতাত করে ক্ষমতা ভাগ নিয়ে নাম সর্বস্ব হয়ে টিকে আছে। এইগুলো এক সময় ছিলো বড় দল। তদের জনসমর্থন ছিলো। কিন্তু তাদের ভুল কর্মনীতির কারনে এক সময় মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। 

কিন্তু পৃথিবীতে কারো জন্যে জায়গা খালি থাকে না। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর রাজনীতি যে ডানপন্থীদের বিরাট শুণ্যতা সৃষ্টি হয়েছিলো তা ব্যবহার করে একটা দল তৈরী করে – যা মুল ধারা মধ্যমপন্থাকে অনুসরন করার কারনে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। তারা তাদের নীতি আদর্শে ডান বাম মধ্যম সকল সমর্থকদের জন্যে জায়গা করে দিয়েছিলো। তখন বাংলাদেশের জন্মের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগের বামঘেষা নীতির কারনে এক রকমের কোনঠাসা হয়ে গিয়েছিলো। একটা মধ্যমপন্থা এবং আধুনিক দল হিসাবে যুবসমাজের প্রথম পছন্দের দল হিসাবে বিএনপিকে দেখা হতো। 

সেই যুব সমাজের আশার আকাংখার দলের নেতারা এক সময় সম্পদশালী হয়ে উঠেছে নানান ভাবে আর তারাও বয়সের ভারে নূজ্যমান – তখন তাদের নেতৃত্বে যুবসমাজের প্রতিনিধি যেভাবে আসার কথা ছিলো তা আসেনি। নীতিহীনতা আর আরেক স্বৈরশাসকের প্রলোভনে বিএনপির যুব নেতৃত্বের একটা বড় অংশই হারিয়ে যায় অথবা জাতীয় পার্টিতে চলে যায়। ফলে বিএনপি মুলত প্রবীনদের নেতৃত্বের উপরই নির্ভর করতে হয়। এক সময় প্রবীন নেতারা হয় নিষ্ক্রিয় অথবা দল থেকে চলে যায় বা বিদায় করে দেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের জায়গায় নানান ধরনের পেশা থেকে অবসরগ্রহনকারী প্রবীনদেরই নিয়ে আসা হয় আর অন্যান্য শূন্যস্থানগুলো নানান দলবদলকারীদের দিয়ে পুরন করা হয়। ফলে জন্মলগ্ন থেকে যুবসমাজের কাছে যে কারনে আকর্ষনীয় ছিলো দলটি সেই আবেদন হারায়। ফলাফল দল নিবেদিত প্রান কর্মীর অভাবে পড়ে কিন্তু তাদের সমর্থকের সংখ্যা কিন্তু কমেনি। 

বলতে গেলে বিএনপির নেতৃত্ব প্রকৃতপক্ষে সমর্থক এবং কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন। দলের "হাইকমান্ড" থেকে নির্দেশ আসে তা তাদের পালন করতে হয় রোবটের মতোই – ফলে উদ্যোমের ঘাটতি দেখা যায়। এক সময় জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের বিষয়ে দলের যুবসমাজ আশাবাদী হলেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং ভুল কর্মনীতি – বিশেষ করে কর্মী এবং সমর্থকদের মতামতকে বুঝতে ব্যর্থতা তাকেও রাজনীতি থেকে এক রকম বিদায় নিয়েই যেতে হয়। প্রকৃতপক্ষে তারেক রহমানের কর্মকান্ডের কারনে জনমনে তার যে প্রতিচ্ছবি তৈরী হয়েছে তা দলের জন্যে একটা বোঝাই বলা যায়। তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে দেশে রাজনীতি সক্রিয় করার জন্যে বিএনপিকে একটা বিরাট প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হচ্ছে – কারন সাধারন কর্মীদের মাঠ পর্যায়ে তারেকের পক্ষে দাড়ানোর নৈতিক শক্তি সঞ্চয় করা কঠিন। ফলে বিএনপি যতই তারেকের বিষয়ে মনযোগী হবে ততই কর্মীদের মাঝে দ্বিধার জন্ম নেবে। 

এখন আসা যায় বিএনপি রাজনৈতিক ভুল গুলো প্রসংগে। যখন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াত মরিয়া হয়ে সারা দেশে তান্ডব চালাচ্ছিলো তখন বি্এনপি তাদের মুল দাবী "তত্ত্বাবধায়ক সরকার"পুর্নবহালের দাবীতেও আন্দোলন করছিলো। তাদের মিত্র জামায়াত একদিকে তত্ত্ববধায়ক অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী রক্ষার আন্দোলনে সমান তালে সন্ত্রাস চালাচ্ছিলো। ফলে জনগনকে বিপক্ষদল সহজেই বিভ্রান্ত করতে পেরেছে আসলে বিএনপিই সন্স্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে অথবা সমর্থণ দিচ্ছে। মিডিয়াতে যখন মানুষের আগুনে ঝলসানো দেহগুলো দেখানো হচ্ছিলো – তখন মানুষের কাছে ভোটের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশীই মনে হচ্ছিলো। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো – বিএনপি তাদের বক্তব্য পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের পদত্যাগের পর কি ধরনের সরকার হবে তার কোন রূপরেখা বিএনপি থেকে মানুষ পায়নি যার উপর নির্ভর করে সবাই আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে পারবো। প্রকৃত সত্য হলো – দেশের ভোটরদের সংখ্যাগরিষ্টই পরিবর্তন চাচ্ছিলো এবং বিএনপির জোটই ক্ষমতায় যাওয়ার দাবীদার ছিলো। অনেকগুলো ঘটনা – যেমন শাপলার অভিযান, পদ্মা সেতু, আর মন্ত্রীদের দূর্নীতি ইত্যাদি ছাড়াও ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজী মানুষের মাঝে সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিলো। কিন্তু একটা টার্নিং পয়েন্টে এসে বিএনপি বিরাট একটা ভুল করে সব কিছু নষ্ট করে দিয়েছে। 

মিডিয়া এবং যোগযোগের উন্নত প্রযুক্তির যুগে মানুষ আশা করতেই পারে একটা ডায়নামিক লিডারশীপের – কিন্তু প্রকাশ্য জনসভায় খালেদা জিয়া যখন ঘোষনা দিলেন যে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যদি সংলাপ না ডাকা হয় তবে ৪৮ ঘন্টা পর থেকে তিনদিনের হরতাল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত হয়েই শেখ হাসিনা ফোন করে খালেদা জিয়াকে সংলাপের আহ্বান জানায়। খালেদা নেতৃত্ব সত্যই সেই দিন পরীক্ষা পড়ে যায়। প্রথমত টেলিফোন নিয়ে নাটক, পরে টেলিফোনে ঝ্গড়া সবই আওয়ামীলীগ না চাইতেই জলের মতো পেয়ে যায়। খালেদা জিয়া প্রকৃতপক্ষে দূর্বল নেতৃত্বের প্রদর্শন করে হরতালের কর্মসূচীতেই স্থির থাকলেন। যদি খালেদা জিয়া সংলাপের জন্যে হরতাল বাতিল করে দিতেন তবে উনার পক্ষে জনমত থাকতো এবং বলাই বাহুল্য সংলাপ ব্যর্থ হতো এবং বিএনপি একটা আন্দোলনে শক্ত কারন পেয়ে যেতো। যতটুকু জানি – এই দ্বিধাদ্বন্ধ ছিলো দ্বৈত নেতৃত্বের কারনে – লন্ডন থেকে এক ধরনের নির্দেশ  আসতো নেতাদের কাছে আর খালেদা জিয়া আরেক ধরনের নির্দেশ দিতেন। এক সময় ঢাকার নেতারও টেলিফোন বন্ধ রাখা শুরু করে দিয়েছিলো। 

আরেকটা বিষয় হলো নেত্ববৃন্দের কাপুরুষতা এবং হিপোক্রসী। নেতার লুকিয়ে হাইকোর্টে গিয়ে জামিনের নাটক কর্মীদের মনে একটা হতাশার জন্ম দিয়েছে তার প্রমান হলো মার্চ ফর ডেমোক্রেসী ফ্লপ হওয়া। সারা দেশ থেকে লোক আসা বন্ধ করার পরও শুধু ঢাকা এবং আশপাশ থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাবেশ করা কোন বিষয়ই না। কিন্তু মানুষ আসলে আন্দোলনে আশা হারিয়ে ফেলেছিলো নানান কারনে – তার মধ্যে উল্লেখ্য হলো শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকা্ন্ড – যা সাধারন মানুষ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেনি। 

অবশেষে নির্বাচনে না যাওয়া একটা বিরাট ভুল ছিলো। বিএনপি জামায়াত নির্বাচন বন্ধ করার জন্যে যে শক্তি ব্যয় করেছে সেই শক্তি ব্যয় করলে হয়তো নির্বাচনের ফলাফল তাদের পক্ষেই নিতে পারতো। যেমনটা দেখা গেছে ৭০ এর নির্বাচনে – যেখানে পুরো প্রশাসন এবং ডানপন্থী সকল দল এক হয়েও আওয়ামীলীগের বিজয় থামাতে পারেনি – বলতে গেলে বলতে হয় সেই নির্বাচনে আওয়ামীলিগের বিরোধীরা ভোটই দিতে পারেনি – কারনে শেখ মুজিবুর রহমান ভোটকে একটা আন্দোলনের কর্মসূচী হিসাবে্‌ই কর্মীদের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন। 

ভোট বন্ধের নামে জামায়াত আর বিএনপির কর্মীরা যে পরিমান সন্ত্রাস এবং ক্ষয়ক্ষতি করেছে তা জনগনের কাছে ছিলো দুঃস্বপ্নের মতোই – তাই যেনতেনো ভাবে নির্বাচন শেষ করে যখন সরকার গঠিত হলো -তখন জামায়াতের স্ট্রাইকিং ফোর্স আর বিএনপির মারমুখী কর্মী বাহিনী রীতিমতো হওয়ায় মিলিয়ে গেলো। বিএনপি পুরোপুরি পরাজিত হয়ে কাগুজে বাঘের মতোই নানান ধরনের আন্দোলনের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে যা রীতিমতো কৌতুকের কারনই হয়ে উঠছে। 

এখন আবার বিএনপি আন্দোলনের কথা বলছে – তীব্র আন্দোলনের দিনতারিখ ঠিক করার জণ্যে মিটিং করছে। কিন্তু তাদের মুল মিত্র জামায়াতের বিষয়টা রহস্যময় হয়ে উঠছে দিনে দিনে। সর্বশেষ ঘটনা ছিলো নিজামী রায় ঘোষনা তারিখে জামায়াতের হরতাল না ডাকা এবং রহস্যময় কারনে নিজামী রায় ঘোষনা স্থগিত হওয়ার পর বিএনপির আন্দোলনের হুমকীর সাথে জামায়াতে সুর মেলার চিরাচরিত রীতি ভংগে করার বিষয়টি সকলের কাছে রহস্যময় মনে হয়েছে। 

শেষ কথাটা হলো – বাংলাদেশে ডানপন্থী ভারতবিরোধী রাজনীতির সমর্থক কিন্তু কমেনি। প্রশ্ন হলো সেই শক্তির নেতৃত্ব কে নেবে? বিএনপি কি পারবে তাদের ডায়নামিক নেতৃত্ব দিয়ে আবার সেই শক্তিকে সংগঠিত করে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচুত্য করতে অথবা পরবর্তী  নির্বাচনে বিজয়ী হতে – নাকি জামায়াত সেই নেতৃত্বের দিকে ভাগ বসাবে অথবা তৃতীয় কোন শক্তি এসে এই শক্তিকে নতুন ভাবে সংঘঠিত করে আবাররো ক্ষমতায় যেতে। ভবি্ষ্যতে দিকে তাকিয়ে থাকছি দেখার জন্যে। তবে বিএনপি যে ধারায় বিশেষ করে বয়স আর সম্পদে ভারে নূজ্যমানদের দিয়ে "হাইকমান্ড"ভিত্তিক দল চালানো চেস্টা করতে – তা দিয়ে আন্দোলনের নামে সাধারনের জীবনযাত্রা ব্যহত করার চেষ্টা ছাড়া তেমন কিছু করতে পারবে বলে মনে করছি না। কোন কোন সময় আপোষহীনতা টিকে থাকার জন্যে জরুরী তবে রাজনীতিতে কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার খেলাটাই সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন। বিপক্ষ দলে ফাঁদে পা না দিয়ে বিপক্ষ দলকে ফাঁদে ফেলার জন্যে চাই বুদ্ধি এবং শক্তির জন্যে চাই সঠিক নেতৃত্ব। 

আশংকার বিষয় হলো – বিএনপি খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত লাভক্ষতির কথা বিবেচনা করে যদি কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত হয় – জনমানুষের কাছে একটা আশাবাদী কর্মসূচী এবং সেই কর্মসূচী বাস্তবায়নের মতো নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয় তবে বর্তমান সরকারকে যেভাবে বিএনপি মেনে নিয়েছে – মানুষও তাকে মেনে নিয়েই স্বস্তিতে থাকাটাকেই বেশী পছন্দ করবে। বিএনপির মাঝে এখনও তেমন পরিবর্তণের লক্ষন দেখা যাচ্ছে না বলেই আশংকা করছি হয়তো আগামী পাঁচ বছরের মাঝে ক্ষমতায় যেতে ব্যর্থ হলো হয়তো বিএনপি বিলুপ্তি দিকে এগুবো। কারন গত পাঁচ বছরে আওয়ামীলীগ যে ভুল গুলো করেছে তা তারা শুধরানো যথেষ্ট সময় পাবে এবং জনমনে আবারো আরেকটা দিনবদলের স্বপ্ন পুতে দিতে পারবে বলেই মনে করি। তখন হয়তো মানুষ বিকল্প আরেকটা কেন্ত্র খুঁজবে এবং জামায়াত হয়তো সেই পরিকল্পনায় এগুচ্ছে। 
 

৮ comments

Skip to comment form

  1. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ধন্যবাদ মুনিম ভাই --

     

    এই দর্শন কোন অর্থই বহন করে না যদি না মানুষ তা ধারন করে। আমার মনে হয় না যে এই বিভাজন আমাদের জেনারেশনের পর আর থাকবে। তবে এন্টি আওয়ামীলীগ এন্টি ভারত সেন্টিমেন্টের একটা ধারা অবশ্যই থাকবে। প্রশ্ন হলো বিএনপি সেই ধারা নেতৃত্বে থাকবে নাকি অন্য কেউ থাকবে। 

     

    বিএনপি নির্বাচনে না আশার পিছনে তারেক দায়ী এইটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেইটা যে শুধু একমাত্র ভুল করেছে বিএনপি তা না -- তারা পাঁচ বছরে সরকারের বিরোধীতা করেছে -- কিন্তু কোন বিকল্প প্লাটফরম দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেইটাই ভুল। আর বাস্তবতা বুঝতে অক্ষম নেতৃত্ব কর্মীদের জীবনের উপর ভর করে ক্ষমতায় এতে চেয়েছে -- সেইটাই তাদের জন্যে কাল হয়েছে। 

     

    আর একটা কথা -- ভোটার বিহীন নির্বাচন, একক দলীয় নির্বাচন বাংলাদেশে এইটা প্রথম না -- এর আগেও হয়েছে -- তারা সবাই আন্দোলনের মুখে বিদায় নিয়েছে। বিএনপি ভোটারবীহিন নির্বাচন করে মা্ত্র কয়েকদিন টিকে ছিলো এবং আওয়ামীলীগের দাবী মেনে বিদায় নিয়েছিলো। 

    এখন দেখার বিষয় -- আওয়ামীলিগ একটা গৃহপালিত বিরোধীদল নিয়ে কতদিন টিকে থাকে (৭ মাস হয়ে গেলো) !

  2. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    যতদিন বাংগালী না বাংলাদেশী, এই মৌলিক দর্শনে জাতি বিভাজিত থাকবে ততদিন বিএনপি টিকে থাকবে। এখানে দলের প্রশ্ন নয় এখানে দর্শনের প্রশ্ন জড়িত। খোদা না খাস্তা যদি বিএনপি দল হিসাবে ভাসানী ন্যাপের মত হয়ে পড়ে তার পরও সেই দর্শন নিয়ে নতুন আরেকটি দলে প্রকাশ হবেই হবে।

    আমরা অনেক কিছু জানিনা, তাই তেমন করে জানিনা গত নির্বাচনে বিএনপি কি স্বইচ্ছায় নির্বাচনে আসেনি না নির্বাচনে  , আসলে সরকারদলে ভরা ডুবি হবার ভয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে না  আসতে বাধ্য করা হয়েছে? কারণ রাজনীতির দু'ধরণের দাঁত থাকে, যে দাঁতে খাদ্য গ্রহণ করে সে দাঁত তারা প্রদর্শন করেনা।

     আওয়ামীলীগ বাকশাল করে যে কলঙ্ক তিলক তার ইমেজে লাগিয়েছিলো ঠিক সেভাবে  এই  নির্বাচন করে তারা আর একটি কলঙ্ক তিলক যোগ করেছে। ক্ষমতায় আসীন তাই এর গভীরত্ব এখন মাপা যাবেনা তবে ক্ষমতার বলয়ের বাইরে ছিটকে যাবার পরই বুঝা যাবে কত বড় হোল তারা সৃষ্টি করে গেছে। বাকশাল করার জন্য ক্ষমতা থেকে যত দূরে তারা গিয়েছিলো হয়তো আগামীতে  এর চেয়ে বেশী সময় তাদেরকে ক্ষমতার বাইরে সরে থাকতে হতে পারে।

  3. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    শাহবাজ নজরুল 

    গনতন্ত্রের জন্যে আন্দোলন করেছি -- গনতন্ত্রকেএকমাত্র পথ মনে করতাম সেই সময়। কিন্তু আজ মনে হয় গনতন্ত্র হলো একটা ভেলকিবাজি। মিশরের দিকে তাকালেই বুঝা যাবে। 

    যাই হোক -- রাজনীতিতে সব সময় আপোষহীনতা আর অনুকরন কাজে লাগে না। রাজনীতি খুবই একটা ডায়নামিক বিষয়। একটা ছোট্ট ভুল হয়তো অনেক দুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। যাই হোক দেখার বিষয় ভবিষ্যতে কি হয়। 

    আমার সবচেয়ে কষ্ট হয় বিএনপির জন্যে -এক সময় ছাত্রদলের নেতাদের দেখলে হিংসে হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্বলজ্বল করতো তাদের পদচারনায় -- সেই দলকে স্থবির করে ফেলা হয়েছে -- দলের ভিতরের নেত্রীত্ব বিকাশের পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে -- প্যারাটুপার নেতা দিয়ে মাথা মোটা করা হয়েছে। কিন্তু ডায়নামিজম আনতে ব্যর্থ হয়েছে দল। 

    ঘটনা অন্য দিকেও আছে -- আওয়ামীলিগও একটা গনতান্ত্রিক দল থেকে চতুর দলে পরিনত হয়েছে -- বিশ্বরাজনীতিতে খুবই ক্লেভারলি খেলছে -- রাশিয়া আর ভারতকে বন্ধু বানিয়েছে -- শুধু কথায় নয় কাজেও -- বিএনপিকে কেয়ার করার দরকার নেই বলে ইচ্ছামাতো ভারতকে সুযোগ সুবিধা দিতে পারছে -- অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে তেলের খনি আর অস্ত্রের চুক্তি করে স্থায়ী মিত্র বানিয়ে নিয়েছে। 

    আর যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুতে যুব সমাজের একটা বিরাট অংশকে নিজেদের মিত্র বানিয়ে ফেলেছে -- কারন বিচার মানে আওয়ামীলীগ কথাটা বিএনপিই প্রমান করে দিয়েছে। 

    সব কিছুই সম্ভব হয়েছে বিএনপির পাঁচ বছরের সিদ্ধান্ত গ্রহনের অসচ্ছতার কারনে। দেখুন -বিএনপি ৫ সিটি নির্বাচনে বিপুল ভাবে জয়ী হলো -- একটা প্রবল জনমত তৈরী হলো -- কিন্তু শুধু তারেকের জেদের কারনে বিএনপি-আওয়ামীলিগ সংলাপের ফলাফল শূন্য হলো -- দেশের সম্পদ ধ্বংস আর জানমালের ক্ষতি হলো -- নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামীলিগকে ওয়াক ওভার দিলো বিএনপি -- কিন্তু আবারো তারা উপজেলা নির্বাচনে গেলো। 

     

    যাই হোক -- গনতন্ত্র বলতে যে সুশাসনের কথা জানি -- তা এখন স্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্যে। নির্বাচিত এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্র -- যা আগেই রাজনৈতিক দলগুলো চর্চা করা শুরু করেছে। বি চৌধুরী পর্যণ্ত নিজের ছেলের জন্যে একটা দল তৈরী করে দিয়েছে যাতে নিরাপদে রাজনৈতিক বানিজ্য করতে পারে। আর যদি সত্যই কোনদিন ইসলামী দলগুলো নির্বাচিত হয় (বিএনপি-আওয়ামীলিগে লেজুর ছেড়ে) তবে ভারত-রাশিয়া আর আমেরিকা এক হয়ে যাবে এবং আরেকটা মিশর হবে।

    সেইটা আগেই একটা লেখাতে বলেছি -- ইসলামী দলগুলোর জন্যে গনতন্ত্রের মরিচীকার পিছনে না ছুড়ে সমাজ পরিবর্তন করে তবেই রাজনৈতিক ভাবে মুভ করা উচিত।

     

    ভাল থাকবেন। 

     

     

  4. 3
    Tareq

    বিএনপি বিলুপ্তির পথে! যতদিন আওয়ামীলীগ থাকবে ততদিন বিএনপি থাকবে। যারা বিএনপির বিলুপ্ত বা সংকুচিত হবার কথা বলেন-তারা আওয়ামিলিগকে আজীবন খমতায় দেখতে চান- তাতে আওয়ামীলীগ যত খারাপই করুক না কেন।  ইনিয়ে বিনিয়ে বলবেn- বিএনপি কেন ইলেকশনে এলো না। হাসিনার অধীনে ইলেকশনে আসলে কি হত -এটা যে এরা বুঝে না- তা কিন্ত নয়। উপজেলা ইলেকশন যেখানে খমতার পালা বদল হয় না- সেখানেই কি হয়েছিল শেষের ইলেকশনগুলোতে- সবাই জানে। হাসিনা হেরে গেলে সরকার প্রধান থেকেও খালেদাকে  কোলে করে গদিতে   বসিয়ে  দিত! কাজেই  খলেদা মস্তবড়  ভুল করেছে! একেবারে সরকারের মন্তরীদের মত কথা! 
     
    লেখক যেখানে ৫ বছর আওয়ামীলীগের সমালোচনা করেননি-উনার কাছ থেকে আওয়ামী বচন ছাড়া বস্তুনিষ্ট লিখা আশা করা যায় না। উনি কোন পথের পথিক বুঝা কঠিন নয়। উনি মাঝে মাঝেই বিতরকের অবতারণা করেন। বিএনপি বিলুপ্তির  পথে- এটাও বিতরকিত, অবিশ্বাস্য বিষয়। লেখক সবার কাছে attention চাইছেন।

  5. 2
    মহিউদ্দিন

    @ শাহবাজ ভাই<

    তত্ববধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে কোন সৎ উদ্দেশ্যে নয় এটা সবাই জানে। আওয়ামী লীগ এক তরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করে তারা এটা প্রমাণ করল যে জনগণের উপর তাদের মেটেই আস্তা নেই এবং তারা গণতন্ত্রের তোয়ক্কা করে না। অনেকে বলেন বিদেশী শক্তির পরামর্শেই তারা এরকম গণ বিরোধী পদক্ষেপ নিতে সাহস পেয়েছে।

    লীগ যে ঐতিহাসিক ভাবে গণতন্ত্রের জন্যে সংগ্রাম করেছে – ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছে – ২০১৩ এর সেই অমূলক মল্লযুদ্ধের জন্যে তারা নিজেরাই সেই "ভোটের অধিকারকে" কবর দিয়েছে। সেই পরাজয় লীগের সহ দেশের।

    সহমত

    তবে আওয়ামী লীগ যেখানে ভোটের অধিকারকে ছিনিয়ে নিতে তাবেদার নির্বাচন কমিশন করেছে যার মাধ্যামে ১৫০ জনকে বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বচিত করে জাতীর সাথে কৌতুক করা হয়েছে সেখানে  আপনার নিচের মন্তব্য পড়ে উপরোক্ত বক্তব্য স্ব-বিরোধী মনে হচ্ছে

    "আমি বোঝাতে চেয়েছি কিভাবে নির্বাচনে বিএনপি আসলে দেশে এই প্রথম বারের মত গণতান্ত্রিক উপায়ে লীগের কাছে থেকে বিএনপির কাছে ক্ষমতা যাবার সম্ভাবনা ছিল "

    আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে না গিয়ে BNP ভুল করেছে না ঠিক করেছে সেটা প্রশ্ন নয় বরং আসল প্রশ্ন হল বিএনপি আওয়ামী লীগের গণ বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে already existed গন বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার একটি সফল গণ আন্দোলন করতে কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

    তবে আমার কথা হল এখন আর আন্দোলন করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে লাভ নাই। আওয়ামী লীগকে লুটতে দেন জাতী হিসাবে আমরা সবাই দুর্নীতি প্রবণ অতএব করার কিছু নাই। এখন বরং আওয়ামী লীগের মাঝে যারা সৎ ও ন্যয়পরায়ন তাদের সাথে মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। রাতারাতি কিছু হবে না সময় লাগবে। তবে সবার আগে প্রয়োজন দেশের ভিতরে বৃহত্তর আকারে সুস্থ একটি জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা। দেশের প্রাইভেট সেক্টর যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে তাকে এগিয়ে নেয়া। বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত করা। সেই সাথে দেশের যুব সমাজকে বিশেষ করে বৃহত্তর মুসলিম যুব সমাজকে সঠিক জীবনদর্শনের প্রতি আসক্তি করা। তুরস্কের অবস্থা দেখেন কামাল আতা তুর্ক সে দেশের মানুষকে যে অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র সঠিক নেতৃত্বের কারণে ও সঠিক কর্মপদ্ধতীর জন্য।

    সেকুলারিষ্টদের শত প্রচেষ্ঠা ও অপপ্রচেরের মাঝেও এখনও সে দেশের বৃহত্তর জনগুষ্টি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।  

    By the way, আমার লিখায় দেখি মন্তব্য করা ছেড়ে দিয়েছেন? আপনাদের মত জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিদের মন্তব্যের দরকার আছে। ভাল থাকেন। 

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      সালাম মহি ভাই,

      আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে না গিয়ে BNP ভুল করেছে না ঠিক করেছে সেটা প্রশ্ন নয় বরং আসল প্রশ্ন হল বিএনপি আওয়ামী লীগের গণ বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে already existed গন বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার একটি সফল গণ আন্দোলন করতে কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

      খোলা ফোরামে সব প্রশ্নই উঠতে পারে। তাই বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। যেভাবে আপনি বিকল্প প্রশ্নের অবতারণা করেছেন, অর্থাৎ বিএনপি কেন ব্যর্থ হলো? আর এই পোস্টটির শিরোনামও প্রশ্নবোধক আঙ্গিকের। আর আপনি যেভাবে বিপ্রতীপ প্রশ্ন করেছেন -- আমি সেটাকে আমার করা প্রশ্নের সমান্তরাল হিসেবেই দেখি। যেমন বিএনপি আন্দোলনে যেহেতু ব্যর্থ হলো, এর জবাব পেতে আপনি প্রশ্ন তুলছেন, কেন ব্যর্থ হলো, আর আমি এর পাশাপাশি এই প্রশ্নও তুলছি, তাহলে কি নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি ভুল করেছে? সমান্তরাল কিংবা সম্পুরক প্রশ্ন বলতে পারেন।

      তবে আমার কথা হল এখন আর আন্দোলন করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে লাভ নাই। আওয়ামী লীগকে লুটতে দেন জাতী হিসাবে আমরা সবাই দুর্নীতি প্রবণ অতএব করার কিছু নাই। এখন বরং আওয়ামী লীগের মাঝে যারা সৎ ও ন্যয়পরায়ন তাদের সাথে মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। রাতারাতি কিছু হবে না সময় লাগবে। তবে সবার আগে প্রয়োজন দেশের ভিতরে বৃহত্তর আকারে সুস্থ একটি জনমত সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা। দেশের প্রাইভেট সেক্টর যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে তাকে এগিয়ে নেয়া। বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত করা। সেই সাথে দেশের যুব সমাজকে বিশেষ করে বৃহত্তর মুসলিম যুব সমাজকে সঠিক জীবনদর্শনের প্রতি আসক্তি করা। তুরস্কের অবস্থা দেখেন কামাল আতা তুর্ক সে দেশের মানুষকে যে অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র সঠিক নেতৃত্বের কারণে ও সঠিক কর্মপদ্ধতীর জন্য।

      এই পজিটিভ মনোভাবকে সাধুবাদ জানায় মহি ভাই। আশা করি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সামনে দেশের ভালই রেখেছেন।

      সেকুলারিষ্টদের শত প্রচেষ্ঠা ও অপপ্রচেরের মাঝেও এখনও সে দেশের বৃহত্তর জনগুষ্টি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।

      এই মন্তব্যের সাথে একমত। আমি মাসখানেক আগে দেশে গিয়েছিলাম। দেশের ভাবগতি দেখে তাই মনে হয়েছে। লোকজন অনেক ম্যাচিওর্ড। সেক্যুলারদের নেটের আস্ফালনের ছিটেফোটাও চোখে পড়েনি আমার সাধারণ জনজীবন পর্যবেক্ষণে। হাজার নীতিহীন নেতৃত্বের মাঝে এই নিরব গরিষ্ট জনগোষ্ঠীই দেশের আশা ভরসা।

      By the way, আমার লিখায় দেখি মন্তব্য করা ছেড়ে দিয়েছেন? আপনাদের মত জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিদের মন্তব্যের দরকার আছে। 

      আসব ইনশাল্লাহ। সময় পাই না, সেটাই আসল সমস্যা। 
       
       
       

    2. 2.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ মহিউদ্দিন ভাই --

      মন্তব্য করার জন্যে। 

  6. 1
    শাহবাজ নজরুল

    লেখাটা পড়ে ভালই লাগলো -- অন্তত বস্তুনিষ্ঠ ও নিরাবেগ বলে মনে হলো। এখানে আওয়ামী লীগের  সমালোচনা আপনার মুখ থেকে শুনলাম -- যা আগে তেমন ভাবে শুনিনি। আমার নিজের মন্তব্য, বিএনপি বিলুপ্তির পথে না হলেও সংকোচনের পথে আছে অবশ্যই। বিশেষত বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে যে ভুল করেছে তা শুধরাতে অনেক সময় লাগবে। সেই সময় পেরুতে পেরুতে বিএনপির কতটুকু অবশিষ্ট থাকে তা সময়ই বলে দেবে। আমার বন্ধুদের বেশিরভাগই বিএনপি বান্ধব। তবে তাদের কেউই অন্ধ ভক্ত নয়। তাদের মূল আবেগ দেশ নিয়ে। নির্বাচনের প্রাক্কালে আমি একা ওদের সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি কেন হাসিনার দাওয়াতে হ্যা সূচক জবাব দিলে বিএনপির ভালো হত, দেশের ভালো হত। আমি বোঝাতে চেয়েছি কিভাবে নির্বাচনে বিএনপি আসলে দেশে এই প্রথম বারের মত গণতান্ত্রিক উপায়ে লীগের কাছে থেকে বিএনপির কাছে ক্ষমতা যাবার সম্ভবনা ছিল -- আর কিভাবে ওই কল্পিত মহেন্দ্রক্ষণ দেশের গণতন্ত্রের যাত্রায় নতুন এক মাইলফলক যোগ হত। তাদের সাথে ই-মেইলের সেই বিতর্ক অমিমাংসিতই থেকে যায় -- তবে এখন দেখলাম ওদের অনেকেই বলছে বিএনপি সেই নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। ক্ষতি হয়েছে দেশের। লীগ যে ঐতিহাসিক ভাবে গণতন্ত্রের জন্যে সংগ্রাম করেছে -- ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছে -- ২০১৩ এর সেই অমূলক মল্লযুদ্ধের জন্যে তারা নিজেরাই সেই "ভোটের অধিকারকে" কবর দিয়েছে। সেই পরাজয় লীগের সহ দেশের। ভোটের উপর দেশবাসীর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যাবে আরো অগুন্তি বছর। আর বিএনপি ২০১৯ সালেই বা কি করবে? আবার সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করবে? যে আন্দোলনে তারা পরিপূর্ণ ব্যর্থ? তারা কি তাহলে ২০১৯ সালে আর ফাঁকা মাঠে গোল না করতে দেয়ার সংকল্প করে নির্বাচনে যাবে? তাহলে ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করলো কেন? তারা কি ২০১৯ সালের নির্বাচনে সেই আপাত: উদার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অফার আবার পাবে (তত্ত্ববধায়ক এর কবর ২০১৩/১৪ সালেই রচিত হয়ে গেছে)? আমার তো মনে হয় না। আমার ধারণা লিগ এবার বলবে লীগের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে -- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দরকার নেই। 

    আসলে বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে পলিটিক্স। যেমনভাবে একজন কল্পিত রিক্সাচালক বলেছিলেন, "কি আর বলব স্যার, রাজনীতি তো আগে ভালই ছিল -- কিন্তু আইজকাল তো রাজনীতিতে পলিটিক্স ঢুইকা গ্যাছে।" আর হ্যা সেই পলিটিক্সের মারপ্যাচে বিএনপি পরাজিত -- লিগ আপাত বিজয়ী -- গণতন্ত্র আর দেশও পরাজিত। দরকার ছিল যেভাবেই হোক সবাই মিলে একটা নির্বাচন করার। আর সেই ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে বিএনপি কোথায় যায় তা সময় বলে দেবে। তবে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সেই গতি সংকোচনের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.