«

»

Aug ২৩

কেন আমি উদারপন্থী থাকতে পারিনি!

উদারপন্থী বা লিবারেল হওয়া একটা বড় ক্রেজ – আমি সব কিছুতেই আছি – সব ঠিক ঠাক – চোরে চুরি করে – সেইটা তার কাজ – চোরকে শাস্তি দেওয়া যাবে না কারন সে মানুষ – তার চাহিদা আছে তাই চুরি করে আর গৃহস্থের জন্যেও সমবেদনা রইল – উনি উনার মূল্যবান মালামাল হারিয়েছে। এইটা হলো উদারপন্থী নীতি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এক সময় উদারপন্থী ছিলাম। বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্য ছিলাম – যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন করতাম। বিশ্বাস করতাম পৃথিবী থেকে এক সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে কারন মানুষ সভ্য হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখলাম এই সবই একটা অসম্পূর্ন ভাবনা। আমেরিকার চিরশত্রু কমিউনিজমের পতন হলো – তখন প্রশ্ন উঠেছিলো পরামনবিক বোমা আর রাখার দরকার কি? কিন্তু দেখাগেলো তারপরও নানান দেশ পারমানবিক বোমা বানাচ্ছে – আমেরিকান অথবা বুটিশ ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল বিক্রি করছে – তাদের থেকে না কিনলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। সবই আসলে বানিজ্য। 

তারপর জনলাম – যুদ্ধ হচ্ছে মানবজাতির জন্যে একটা বিধান – শান্তি জন্যে যুদ্ধ করতে হয় – যুদ্ধ একটা পরীক্ষা হিসাবে কোন জাতির উপর এসে পড়ে। সুতরাং আমি আর শান্তিবাদী থাকলাম না – উদারপন্থী না হয়ে আমি একজন ন্যয়পন্থী হয়ে গেলাম – এখন যুদ্ধের দুই পক্ষের মাঝে ন্যয় অন্যায় নিয়ে ভাবি – আর না জানলে চুপ করে থাকি। লক্ষ্যনীয় বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধের ময়দানগুলো মুলত মুসলিম প্রধান দেশেই বিদ্যমান – সেই ক্ষেত্রে ন্যয়-অন্যায় বিবেচনা করে কঠিন – বিশেষ করে যখন খবরগুলো আসে বিশেষ একপক্ষকে সমর্থন দিয়ে। 

 

রাজনীতির ক্ষেত্রেও আমি উদারতা ছেড়ে দিয়েছি। কানাডার লিবালের পার্টি সমর্থণ করতাম – কযেকবার ভোটও দিয়েছি ইমিগ্রেন্ট বন্ধব পার্টি হিসাবে। এই দল সত্যিকার অর্থেই একটা "লিবারেল"এরা ইসরায়েলের আত্নরক্ষার নামে প্যালেস্টাইনের গনহত্যা সমর্থণ করে – আবার প্যালেস্টানীদের জন্যে আলাদা রাষ্ট্রের দাবীকেও সমর্থন করে। আসলে হিপোক্রেসীর একটা চুড়ান্ত প্রদর্শনী দেখায় এই লিবারেল – এরা গে প্যারেডে গিয়ে এক মত হয় আবার মসজিদের গিয়ে সালাম দিয়ে ইসলামের প্রসংশা করে। সুতরাং লিবারেলের সাথে নেই। 

 

আমেরিকান ডেমোক্রেটও একই ধরনের দল – তারাও সব কিছুতেই আছে – ইসলাম শান্তি ধর্ম – এই কথা শুধু ডেমোক্রেটরাই বলে আর নির্বিচারে পাকিস্তানে ড্রোনের ডেমো দেখায় যাতে বিক্রি বাড়ে। একদিকে শান্তি নোবেল পায় ওবামা আর প্যালেস্টানীদের হত্যার জন্যে বিশেষ অস্ত্রের চালান পাঠায়। হিপোক্রোসীর চুড়ান্ত প্রদর্শনী দেখি সেখানে। 

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতেও  সবগুলো প্রধান দলই হিপোক্রেসী ভোগে – আওয়ামীলীগের কথা আগেই বলেছি – ব্যানারে আল্লাহ মহান লেখে ছবিতে ফুল দিয়ে দিন শুরু করে। আর বিএনপির কথাতো দুধভাত – হিপোক্রসীতে উনারা কম যান না – নিহত নেতার "মাজার"এ ফুল না দিয়ে উনারা উনাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেন না। এই লিবারালিজমের নামে ভন্ডামীর কারনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুলত নীতিশূন্যতা আর দূর্নীতি এতো ব্যপক আকার ধারন করেছে। 

জাতীয় পার্টি নিয়ে কথা বলার দরকার মনে করছি না – কারন এইটা চেহারা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। হেফাযতে ইসলাম নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না – কারন উনারা দাবী করেন উনারা রাজনীতি করেন না – কিন্তু রাজনীতিতে্ উনারদের প্রভাব আছে প্রচুর। সুবিধাবাদ আর বাস্তবতাবিবর্জিত জ্ঞানের অধিকারী নেতৃত্বের কারনে হেফাযত আপাতত রাজনীতি অন্যের হয়েই খেলতে থাকবে – ভবিষ্যতে হয়তো নবীন এবং বাস্তবতার জ্ঞানে সমৃদ্ধ নেতৃত্ব আসলে বিষয়টা ভিন্ন হবে। বাস্তবতা বিবর্জিত নেতৃত্বের বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা না করলে হয়তো ভূল বুঝাবুঝি হতে পারে – তাই বলছি – প্যালেস্টাইনে গনহত্যার প্রতিবাদের বাংলাদেশের ইসরায়েলী দূতাবাস ঘোরাও হুমকী দিয়ে প্রচার পত্র ছাপানো এবং সংবাদ সন্মেলনে তা বলা কিন্তু বাস্তবতা জ্ঞানে নিদর্শন না – এই কথাটা নিশচয়ই আমরা স্বীকার করবো। রাষ্ট্র পরিচালনা একটা জটিল ব্যবস্থাপনার বিষয় বটে। তাই দেখুন – আওয়ামীলীগও অর্থমন্ত্রনায়ন চালানোর জন্যে একজন সাবেক আমলাকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে – যিনি এরশাদ সরকারেরও অর্থমন্ত্রী ছিলেন। 

সংগত কারনেই এসে যায় – তৃতীয় শক্তি জামায়াতের ইসলামের কথা। নীতিগত ভাবে পরিষ্কার – যদিও চতুরতা অনেক করেছে – কিন্তু আদর্শিক ভাবে জামায়াত আদর্শ থেকে খুব কমই সরেছে। অনেকে হয়তো একমত হবে না – কিন্তু জামায়াতই গত চল্লিশ বছরে আদর্শিক অবস্থানকে ধরে রেখেছে – যদিও নেতাদের ক্ষমতার লোভ আর নিজেদের রক্ষা করার জন্যে অনেক আপোষ করতে হয়েছে – সেইটা সেতা হিসাবে তাদের হিপোক্রেসীর মধ্যেই পড়ে। তাহলে তো জামায়াতকে সমর্থন করা উচিত এবং ৯০% মুসলমানদের দেশে জামায়াত যে কোন প্রক্রিয়া ক্ষমতা থাকার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না – এবং যে কারনে জামায়াতকে সমর্থন করা কঠিন – তার কিছু বিবরন দিচ্ছি –

১) ৭১ এ ভুমিকা এবং যুদ্ধাপরাধ – এই ইস্যুতে জামায়াত কাক-নীতি অনুসরন করেছে গত ৪০ বছর – যার খেশারত তাদের দিতে হচ্ছে। গত ছয় বছর প্রায় – জামায়াতের উপর যে শাস্তি নেমে এসেছে তা দেখলে খারাপ লাগে। এর দায় পুরোপুরি ৭১ এর যুদ্ধে বাংলাদেশের জন্মের বিরোধী নেতাদের। জামায়াত এখানে ব্যর্থ হয়েছে সত্য ভাষন এবং বাস্তবতা মেনে নিতে। যুদ্ধাপরাধেের ইস্যুটি জামায়াতে সকল ইতিবাচক দিকগুলোকে ম্লান করে দিয়েছে। 

২) এইটা গুরুত্বপূর্ন আরেকটা কারন – জামায়াত অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যে ইসলামী ব্যাংকের নামে ধর্মপ্রান মুসলিমদের সাথে একটা বড় প্রতারনা করছে – এই ইসলামী ব্যাংকে আড়ালে সুদের ব্যবসার সুযোগে এরা লাভবান হয়েছে – সবচেয়ে বড় কথা হলো এই ব্যাংকিএর মাধ্যমে বিশ্ব জায়িনিস্ট নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে আছে জামাত। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার আছে জেপি মর্গানের কাছে – যারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করে – যা মুলত জায়ানিষ্ট নেটওয়ার্কের অংশ – তাই অনেকে অবাক হয়ে দেখেন – আমেরিকা যখন ওয়ার অন টেররের নামে মুসলমানদের উপর বিভিষিকাময় বিশ্বপরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছে – জামায়াতের আর্দশের সংগঠন মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের উপর রীতিমতো বুল ডজার চালিয়েছে – অন্যকোন দেশে জামায়াতের আদর্শিক দল ভোটে জয়ী হয়েও ক্ষমতায় যেতে পারেনি – সেখানে আমেরিকান কর্তারা এসে বলে যায় ০ জামায়াতের বিচার করা যাবে না। আমেরিকান কর্তাদের এতো জামায়াত প্রীতির কারনই হলো জায়নিষ্ট কানেকশান – যারা বিশ্বের অর্থব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রন করে। 

যে জায়নিজমের কারনে মুসলমানদের বিশেষ করে প্যালেষ্টাইনের মুসলিমদের এই দুরবস্থা – সেই জায়ানিষ্ট নেটওয়ার্কের দলকে কিভাবে সমর্থন করি। 

৩) সবশেষ যে কারনে জামায়াতকে সমর্থণ করা যায় না ত হলো – জামায়াত রাজনীতির নামে একটা দল তৈরী করেছে যা মুলত একটা ভিন্ন সম্প্রদায়। এইটা "আসাবিয়া" – গোত্রবাদ। যা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যান্ত নিন্দনীয় কাজ। এই দল নিজেদের পক্ষের জন্যে অন্তপ্রান কিন্তু এর বাইরে যারা তারা মুসলমান হলেও তাদের কাছ থেকে কোন সহায়তা পায় না। এরা গোষ্ঠীগত ভাবে জীবন যাপন করে – গোষ্ঠীগত ভাবে নিজেতের উন্নয়নে কাজ করে। বৃহত্তর মুসলিম সমাজ বা মানবতার বিষয়ে এদের দৃষ্টিভংগী খুবই ভয়াবহ। এই আসাবিয়াহ এর সবচেয়ে বড় উদাহরন হলো এরা নিজেদের নেতাদের অন্ধের মতো অনুসরন করে। দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী এরা এতোই ভক্তি করে যে তার অতীত জীবন সম্পর্কে না জেনেই তাকে মহামানব হিসাবে তাকে রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত। সব নেতার বিষয়েই তাদের মনোভাব একই – ওরা যে মানুষ – তাদের যে ভুল হতে পারে – তারা যে অন্যায় করতে পারে এই ধরনের দ্বিতীয় চিন্তার সুযোগ নিতেও কর্মীরা রাজী না। এই গোষ্ঠীপ্রীতি এবং গোষ্ঠীবদ্ধতা জামায়াতকে বৃহত্তর মুসলিম সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলেছে। তাই্ বিগত ৪০ বছর ধরে প্রচুর অর্থ ব্যয় – প্রচুর মেধাবী ছাত্রকে কাজে লাগিয়েও একটা জনবিচ্ছিন্ন সংগঠন হিসাবে টিকে আছে অন্যদলে করুনা ভিক্ষা করে। 

তাইলে আমি কোন পন্থী? সেইটা বলা খুবই কঠিন। আপাতত সব ঘটনার মধ্যে ন্যয় অন্যায় খুঁজে ফিরি – দেখি আর রব্বুল আলামিনের সাহায্য চাই যে সকল ফেতনা থেকে আমি বেঁচে থাকতে পারি। 

১০ comments

Skip to comment form

  1. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    জিয়াভাই, এই পোস্টে আপনি ৯০ ভাগ কথা কথা যুক্তি সঙ্গত বলেছেন যার সাথে আমি দ্বিমত করিনা কিন্তু আপনি যদি ন্যায়পন্থী হিসাবে দাবি করেন তাহলে ন্যায়ের স্বার্থে ৭১ এর হত্যা, ধর্ষণ, বিতাড়ন ইত্যাদির জন্য এর দায় শুধু জামাতে ইসলামী উপর ন্যস্ত করতে পারেন না। এর দায় দল হিসাবে আওয়ামীলীগের, পিপুলস পার্টি, ছাত্রলীগের উপর বর্তায়। ব্যক্তি হিসাবে শেখ মুজিব, জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সিরাজুল আলম খানের উপর বর্তায়। যদি ন্যায় অন্যায়ের হিসাব নিকাশ করতে চান তাহলে একাত্তরের ঐ ঘটনার জন্য উল্লেখিত দল আর ব্যক্তিদের অবস্থানকে বিচার বিবেচনার আওতায় আনতে হবে এবং যার যার প্রাপ্য তাদেরকে দিতে হবে। আর এই কথা আপনার ভুলে গেলে চলবেনা একাত্তর সালে বিদ্রোহী বাংলাদেশীরা যুদ্ধ করেছিলো মূলতঃ আলাদা রাষ্ট্র গঠণের লক্ষ্যে তদান্তিন পাকিস্তানী সামরিক শাসক ইয়াহিয়া রেজিমের সাথে তা কোন অবস্থায় পাকিস্তান জামাতে ইসলামীর সাথে নয়। ঐ যুদ্ধে জামাতে ইসলামী মূল প্রতিপক্ষ ছিলোনা। ঐতিহাসিক সত্য যে তারা ছিলো অখন্ড পাকিস্তানের সমর্থক এবং সংখ্যায় তারা ছিলো খুব নগণ্য। তাহলে মূল প্রতিপক্ষের কথা ভুলে গিয়ে কেমন করে তাদের সকল দায়ভাগ জামাতের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে সে কথা  কি ভেবে দেখেছেন?

    যুদ্ধ সকল সময় মানবতার জন্য মংগল বহে আনেনা। যুদ্ধের সময় “মারো নইলে মরো” অথবা” তুমি মারবে নতুবা তুমি মরবে” এই নীতিতেই যুদ্ধ চলে। আর এই নীতির কারণে যুদ্ধে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যায়।  এর উপর যে যুদ্ধ জনযুদ্ধ বা গণযুদ্ধ হয় সেখানে অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠে। সেখানে কে শত্রু কে মিত্র তা সহজে শনাক্ত করা যায়না। গরিলা যোদ্ধারা হচ্ছে পানির মাছের মত, মাছ যেমন পানিতে মিশে থাকে তেমন করে গরিলা যোদ্ধারা সাধারন মানুষের মাঝে মিশে থাকে। তাই সাধারণ মানুষও অনেক সময় শত্রু পক্ষের ভ্রান্ত টার্গেটে পরিণত হয়। কাজেই একাত্তরের ঘটনায় কাউকে দায়ী করতে হলে আগে বিচার বিবেচনা করে দেখতে হবে কোন কোন হত্যাযজ্ঞ ছিলো যুদ্ধের অংশ আর কোন হত্যাযজ্ঞ ছিলো শুধু মাত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করা লক্ষ্যে।

      একাত্তরে এই জনপদে যা ঘটে গিয়েছিলো তা ছিলো বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ স্বার্থপরিপন্থী এক আত্মঘাতী যজ্ঞ। ঐ ঘটনার রেশ শুধু বাংলাদেশ আর অধুনা পাকিস্তান বহন করে যাচ্ছেনা গোটা মুসলিম বিশ্ব এই আত্মঘাতী ঘটনার রেশ বহন করে চলছে। এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বে অনৈক্য জীয়ে রেখে যাচ্ছে। জানিনা কখন এই ঘটনার রেশ বিলীন হয়ে গিয়ে মুসলিম বিশ্ব আবার এক হয়ে মুসলিম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়াবে। ধন্যবাদ।

    1. 4.1
      মহিউদ্দিন

      ব্যক্তি হিসাবে শেখ মুজিব, জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সিরাজুল আলম খানের উপর বর্তায়। যদি ন্যায় অন্যায়ের হিসাব নিকাশ করতে চান তাহলে একাত্তরের ঐ ঘটনার জন্য উল্লেখিত দল আর ব্যক্তিদের অবস্থানকে বিচার বিবেচনার আওতায় আনতে হবে এবং যার যার প্রাপ্য তাদেরকে দিতে হবে।

      সহমত।  
      তবে ইয়াহিয়া খান ও পাকিস্তানী মিলিটারি অপারেশনের নীতি নির্ধারকেরাও যে সব কমান্ডিং অফিসাররা মানুষ হত্যায় সরাসরি দায়ী ছিল তাদের বিচার না করে অন্যায় করা হয়েছ। 

  2. 3
    সাইফুল ইসলাম

    আপনি বলেছেন, "ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার আছে জেপি মর্গানের কাছে"

    এর কোন তথ্য-প্রমাণ কি আছে আপনার কাছে?
    বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ।

    আসসালামু আলাইকুম।

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ওয়ালাইকুম আস সালাম -- 

      এখানে দেখুন -- 
      "About shareholders of the bank, he said foreign individuals and organisations, including IDB, own 63 percent shares of the bank while 60,000 people of Bangladesh are owners of the rest 37 percent shares. He said other shareholder organisations are JP Morgan of USA, Dubai Islami Bank, Kuwait Finance House, Luxembourg Islami Bank and three ministers of Kuwait."

       

      http://www.daily-sun.com/details_yes_21-02-2013_Islami-Bank-guided-by-economics,-not-politics_416_1_3_1_2.html
       

      আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। 

    2. 3.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      এখানে একটা কথা না বলেই নয় -- জেপি মর্গ্যান এবং গোল্ডম্যান সেকস বাংলাদেশকে আগামী দশকের জন্যে দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি দেশের মাঝে রেখেছে। সুতরাং তাদের ব্যবসা করার জন্যে বাংলাদেশের কোন একটা ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করা দরকার। আর ইসলামী ব্যাংকের চেয়ে ভাল আর কোন ব্যবসায়ীক পার্টনার পাওয়া যাবে সেখানে। 

      জেপি মর্গান আগামী বছর BD5 নামে একটা বন্ড USA এর মার্কেটে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে -- যার লভ্যাংশ নিশ্চয় অনেক বেশী প্রজেক্ট করা হবে এবং তা দ্রুতই বিক্রি হয়ে যাবে। এর ভাগও ইসলামী ব্যাংক পাবে। 

      মুলত আমেরিকা -- কানাডায় ইসলামী ব্যাংকের কাউন্টার পার্ট জেপি মর্গান। 

      ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের সাথে ইসলামী শরিয়া আইনে লেনদেন করে -- কিন্তু ইন্টার ব্যাংকিং এবং এক্সটার্নাল ব্যাংকিংসহ ওভাসীজ ব্যাংকিং এর প্রচলিত নিয়মেই করে। ফলে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে অধিক মুনাফা করার সুযোগ পায়। একদিকে সুদের মাঝে ডুবে থেকে শুধু মাত্র বিনিয়োগকারী এবং আমানতকারীদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ (যাতে সুদের চেয়েও বেশী হিসাবে করে রাখে পূর্বাহ্নেই) হিসাব করে। 

      ইসলামী ব্যাংকিং এর নামে বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা হলো সুদকে ব্যবসা হিসাবে বিবেচনা করা -- যা আল্লাহ সুষ্পষ্ট ভাবে নিষেধ করেছেন। সুতরাং এবার আপনার বুঝ। 

      ধন্যবাদ। 

  3. 2
    মাহফুজ

    ভাল লিখেছেন!
    যারা সত-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়ের মধ্য থেকে সত্য ও ন্যায়কে বেছে নেয় না তারা উদারতার নামে ভণ্ডামীতে লিপ্ত।
    মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদেরকে সত্যবাদী ও ন্যায়পন্থী মানুষ হিসেবে পথ চলার তৌফিক দান করেন।
    ধন্যবাদ

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্যে। 

      চেষ্টা করি সত্যের কাছেই থাকতে -- এতে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এক সময় যারা আমাকে তাদের দলের লোক মনে করতো -- এখন তাদের মনোভাব এমন যে সুযোগ পেলে কতল করবে। আমি চেষ্টা করি নিজের সাথে কথা বলতে -- যা সত্য ভাবি তাই বলি এবং লিখি। 

      মজার কথা বলি -- আমার এক বন্ধু বললো আপনি মাঝে মধ্যে জামায়াতকে সমর্থন করেন -- ঘটনা কি? আসলে সেইটা জামায়াতকে সমর্থণ না -- ঘটনা ছিলো ছাত্রী সংস্থার কর্মীদের গ্রেফতার প্রসংগে। আমি বললাম ওরা ঘরের ভিতরে মিটিং করে -- তাদের গ্রেফতারের পর দেখানো হয় "রিয়াদুস সালেহীন"কে জংগী বই হিসাবে। দিস ইস নট রাইট। সামথিং রং দেয়ার। কেউ যদি ইচ্ছা করে এই ধরনের কাজ করে তাও সমস্যা আর না বুঝে তা করে তাও সমস্যা। এইগুলো বন্ধ করতে হবে। 

      বন্ধু অবাক হয়ে বললো -- তাইতো -- জামায়াত খেদানোর নামে কতদুর যাবে এই সব বিষয়গুলো। 

      ভাল থাকবেন। 

      1. 2.1.1
        মহিউদ্দিন

        ইন্টার ব্যাংকিং এবং এক্সটারনাল ব্যাংকিংসহ ওভাসীজ ব্যাংকিং এর প্রচলিত নিয়মেই করে। ফলে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে অধিক মুনাফা করার সুযোগ পায়। 

        তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক কি করে? ইসলামী ব্যাংক এতবড় জালিয়াতি করে তা ধরতে পারে না? আর সরকারই বা জনগণের খেদমতের এত বড় সুযোগ নিতে কেন দেরী করছে?

        আচ্ছা বর্তমান বিশ্বের অর্থ ব্যবস্থায় International Banking or external banking যাদের দখলে তাদের ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা জানা থাকলে আমাদেরকে জানাবেন কি? ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তারাও হয়তবা আপনার সে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে।

         

  4. 1
    ফাতমী

    ধন্যবাদ জিয়া ভাই একটা অসাধারণ লেখা উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য। আমার ভিউ পয়েন্ট নিয়ে আমি আস্তে আস্তে ইনশা-আল্লাহ লিখব।

    আপনার আমাদের জন্যঃ

    "হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত"-আল কোরান, সূরা নিসা, আয়াত ১৫৩

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ,আপনার লেখাগুলো পড়ছি। ইনশা আল্লাহ -- আপনার কাছ থেকে চমৎকার লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। 

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.