«

»

Nov ১১

বিচারহীনতার সংস্কৃতি বনাম জামায়াতের নিজের কবর রচনা

চলমান মানবতাবিরোদী বিচারের সর্বশেষ তিনটি রায়ের পর নিবন্ধন হারানো দল জামায়াত হরতাল করলো প্রায় এক সপ্তাহ। বলাই বাহুল্য হরতালের নামে এখন আর বাংলাদেশে জনমতের প্রতিফলন হয় না – হয় অনেকটা সন্ত্রাসের প্রতিফলন। বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতাকারীদল জামায়াত এখন গনবিরোধী দলের পরিনত হচ্ছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বোচ্চ বিচারারালয় সুপ্রীম কোর্টের রায়কেও এরা মানে না – দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ছেলে সুপ্রীম কোর্টে বসেই প্রকাশ্য সুপ্রীমকোর্টের রায়কে “ন্যায়ভ্রষ্ট” বলে উষ্মা প্রকাশ করে।

বিচারের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বোচ্চ সুযোগ পেয়েছে দণ্ডিতরা – শুধু তাই নয় – তারা দেশে বিদেশী সমর্থক তৈরী করেছে – প্রমানিত দলিলে দেখা যায় জামায়াতের মীর কাসেম আলি কেসেডি নাম আমেরিকান লবিষ্ট ফার্মকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে মার্কিন রাজনীতিক আর ক্ষমতাশীনদের প্রভাবিত করতে। আর দেশে তো তাদের আর্থিক আর বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়থ বিচারে বিপক্ষে কাজ করছে।

কিন্তু সব কিছুই অকার্যকর হয়ে গেলো গত সপ্তাহের তিনটি রায়ের পর। জামায়াত নির্বোধের মতো এখন বাংলাদেশে সকল প্রতিষ্ঠানকেই অবজ্ঞা করার নীতি অবলম্বন করছে – এর ফলাফল নিশ্চিত ভাবে জামায়াত একটা নিকৃষ্ট সংগঠনে পরিনত হবে – যেহেতু এরা ঘৃনা ছড়াচ্ছে – বিনিময়ে এরা ঘৃনার প্রতিদান পাবে।

তাদের সুযোগ ছিলো যখন বিচার শুরু হয়েছে তখন যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করে ৭১ এ জামায়াতের ভূমিকার জন্যে ক্ষমা চাওয়া। তা হলে জামায়াতের অনুসারী শিবিরের শতাধিক কর্মীকে বোঘেরে প্রান হারাতে হতো না এবং সত্যিকার অর্থে ইসলামের জন্যে নিবেদিত জামায়াতের যুবকর্মীরা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখার সুযোগ পেতো। কিন্তু এখন বোধ হয় সময় শেষ।

জামায়াত ডুবছে – তাতে সমস্যা নেই। রাজনৈতিক দলের উত্থান পতন ইতিহাসের অংশ। কিন্তু জামায়াত ডুবার সময় চিৎকার করছে – ইসলাম গেলো ইসলাম গেলো … বলে। সমস্যাটা এখানেই। এরা নিজেদের সাথে ইসলামকে জড়িয়েছে। যত অপকর্ম এরা করেছে ১৯৭১ সাল থেকেই ( গনহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ, গুপ্তহত্যা) পরবর্তীতে রগকাঁটা, ঘুমন্ত মানুষকে হত্যা আর সাম্প্রতিক আইনশৃংখলা বাহিনীর উপর আক্রমন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্বিচারে ধ্বংস করা – সবই ছিলো ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। কিন্তু তাতে তাদের ইসলামী লেবাসের কোন ক্ষতি হয় না বলেই এরা মনে করে। ইসলামের শ্বাশত শান্তির বাণীকে এরা একটা কদর্য হিংস্রতা রূপ দিয়েছে। কিন্তু যখনই তাদের অপরাধের বিচার করার কথা আসবে তখন তারা নানান ধরনের ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের অবতারনা করবে – তাতে একটা কথাই বলা হবে – জামায়াতই হলো বাংলাদেশের ইসলামের একমাত্র রক্ষক – জামায়াতের অপকর্মের বিচার হলে ইসলাম রক্ষার কেউ থাকবে না। তাই ইসলামও শেষ হয়ে যাবে।

প্রকৃতপক্ষে ইসলামে মুলবানী হলো ন্যায় (ব্যালেন্স) আর জামায়াত হলো ন্যায়ের পরিপন্থী। যার কারনে চোখের সামনে জামায়াতের পরিনতি আমরা দেখছি। আপাত দৃষ্টিতে যদিও মনে হয় জামায়াতের বিপর্যয় ইসলামের ক্ষতি হবে – প্রকৃতপক্ষে জালেমদের পক্ষাবলম্বকারী জামায়াতের ধ্বংস ইসলামের বিজয়ের পথ প্রশস্থ হবে, ইনশাল্লাহ।

(২)

বিচারহীনতা এবং বিচারকে অবজ্ঞা করা যে শুধু জামায়াতের এক কাজ তা নয় কিন্তু। যারা বিচার চেয়ে উঁচু গলায় কথা বলে – তারাও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বলী বটে। যেমন দেলোয়ার হোসেইন সাঈদীর আপিলের রায়ের পর জামায়াত কিন্তু খুশী – কারন রায় তাদের পক্ষে গেলো – আর শাহবাগের মঞ্চ অখুশী – কারন তা তাদের পছন্দ হলো না। প্রকৃতপক্ষে বিচার একটা প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার পদ্ধতি এবং কৌশলে ত্রুটি থাকলে যে কোন আসামী নিশ্চিত অপরাধ করেও মুক্তি পেয়ে যেতে পারে। সাঈদীর মামলায় তাই হয়েছে। সম্পূর্ন নতুন আইনকে বুঝতে অক্ষম প্রসিকিউশন ক্লিমিন্যাল কোর্টের আদলে মামলা সাজিয়ে জামায়াতে শক্তিশালী ক্রিমিন্যাল ডিফেন্সের কৌশলের কাছে প্রায় পরাজিত হয়ে যাচ্ছিলো – তার মাঝে বিচারকের কম্পিউটার হ্যাক করার মতো অনৈতিক কর্মকান্ড, স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি এবং প্রলোভন দেখিয়ে পক্ষবদল করে মামলা প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিলো। সেই প্রেক্ষিতে সাঈদীর মামলার ভুল-ত্রুটিগুলো প্রেক্ষিতে আপীল বিভাগের রায়ে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাই হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১, ৭৫ আর তার পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারনে মানুষ বিচার সম্পর্কে (বর্তমানে র‍্যাব কর্তৃক বিচার বহিবূর্ত হত্যাকান্ডও এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই লালন করছে) অনাস্থা তৈরী করছে।

(৩)
এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বিচারের প্রতি অনাস্থা আর বিচারকে অবজ্ঞা করা মুলত একটা অসভ্য সমাজের নিদর্শন। এই সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার একটা পথ তৈরী হয়েছে চলমান মানবতাবিরোধী বিচার। আজ অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু এই বিচারের মাধ্যমে একটা শুনানী হচ্ছে, দলিল প্রমান এবং স্বাক্ষীর সমন্বয়ে একটা রায় বের হচ্ছে – যা আগামী প্রজন্মের সামনে দলিল হিসাবে উপস্থাপিত হবে। আজকে অনেকে রাজনৈতিক লাভ ক্ষতি বা ব্যক্তিগত লাভক্ষতি বা বিশ্বাসের কারনে সত্যকে অস্বীকার করছেন। কিন্তু আগামীতে এরা কেউ থাকবে না – যারা আসবে তারা দলিল প্রমানের ভিত্তিতেই জানবে কারা ১৯৭১ সালে একটা বিরাট অন্যায়ের সাথে স্বজ্ঞানে সম্পৃক্ত হয়েছিলো। কারা বিচারের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশকে জিম্মি করেছিলো আর কারা বিচারের অপেক্ষা চারদশক ধরে নিভৃতে কেঁদেছিলো।

বুদ্ধিমানমাত্রই ইশারায় বুঝে, বুঝে তাদের পথটা কতটা অন্ধকারের দিকে চলে গেছে। যারা সত্যকে অস্বীকার করে বাস্তবতবির্বজিত হয়ে ন্যায়ের বিরুদ্ধে দাড়াবে – তাদের ধ্বংস তো অনিবার্যই। বিচারকে অস্বীকার করে জনগনকে জিম্মি করে হরতালের নামে জামায়াত মুলত নিজেদের কবর নিজেরাই তৈরী করছে।

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 13
    সোহান

    জামায়াত যদি এত কিছুই করে তবে জামায়াতের সমর্থন বাড়ছে কিসের জন্য?উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত অনেক জায়গাতেই জয়ী হয়েছে।
    বস্তুতপক্ষে জামায়াতের কবর নই তাদের জন্য এ বাংলার মাটি আরো উর্বর হচ্ছে।

    1. 13.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার কথাটা ভেবে দেখার মতো হতো যদি সেখানে বিএনপি তাদের প্রার্থী রাখতো। জামায়াতের ভোট কত তা জানার জন্যে বিএনপির প্রার্থীকেও সেখানে লড়াই করতে হবে। সমস্যা হলো এখন যা জামাতের ভোট তাই বিএনপি ভোট -- কারন ওরা জোট হয়ে ভোট করে। 

  2. 12
    বাকাট্টা

    কি ব্যাপার দুই দিন হয়ে গেলেও মন্তব্য ছাপা হয় না? এই লেখাটা একপেশে তাই গঠনমূলক আলোচনা হওয়া উচিত!

  3. 11
    মুনিম সিদ্দিকী

    জিয়াভাই আফ্রিকার একটি দেশে কয়েকদিন আগে আম পাবলিক তাদের সংসদে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে! বিবেক বানদের বুঝার দরকার মেজরেটির জোরে নিজেদের ইচ্ছামত আইন বানানো আর বদলিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষে গায়েল করা গেলেও সব সময় না করা যেতেও পারে। ধন্যবাদ।

     

     

  4. 10
    বাকাট্টা

    অথচ আপনে সেই অসম্পূর্ণ ধারণার উপরই একটি সংগঠনকে সূনির্দিষ্ট ইস্যুর জন্য অপবাদ দিচ্ছেন। জামাততো বলছেই মিথ্যা , সাজানো ও গরমিলের স্বাক্ষীর মাধ্যমে কামরুজ্জামানকে ফাসী দিতে চাচ্ছে সরকার। পৃথিবীর কোন বিবেকবান মানুষই এই অন্যায্য বিচার মেনে নিবে না বরং প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। অন্যায়কারী ও অন্যায় সহ্যকারী উভয়েই সমান দোষী!

  5. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @ফাতমী:

     

    ওয়ালাইকুম আস সালাম।

    এই বিষয়ে অনেক লেখায় বলেছি। ইনশাল্লাহ, সব গুলো লেখা থেকে মুল বিষয়গুলো এনে একটা লেখা দেবো।

    আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

     

  6. 8
    ফাতমী

    আসসালামুয়ালাইকুম,

    জিয়া ভাই,

    মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও মজলুমদের প্রতি "আমাদের দায়বদ্ধতার" উপর একটা ভাল পোস্ট দেন। এব্যাপারে আপনার আগে থেকেই লেখা থাকতে পারে, যেটাকে সংশোধন করে বর্তমান উপযোগি করে নিতে পারেন। তাতে পাঠক বিষয়টার গভীরতা উপলব্দী করবে, যেটা বর্তমানে অনেকের মধ্যেই অনুপস্থিত।

    আল্লাহ পাক আপনার ভাল করুন। আমিন।

  7. 7
    বাকাট্টা

    কি ব্যাপার মন্তব্য ছাপতে এত সময় নেয় কেন? আমিতো শালীন ভাবেই কথা লিখেছি।

  8. 6
    সুজন সালেহীন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়ের ক্ষেত্রে পূর্বে দেখা গেছে জামায়াতের প্রধান আইনজীবিরা বেশ ক’বার  বলেছেন ন্যায়ভ্রষ্ট রায়, সুবিচার পাননি….ইত্যাদি। তাহলে একই কথা কামরুজ্জামান সাহেবের ছেলে বললে সেটা কেন হঠাত্ দম্ভোক্তি, চরম আদালত অবমাননার দোষে দুষ্ট হলো বুঝলাম না! কামরুজ্জামান সাহেবের ছেলের কথিত অপরাধ যদি সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবি ভবনে (যেখানে তার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়) সংঘটিত হয়, তা নিশ্চয় মহামান্য হাইকোর্টের গোচরে আসার কথা কিংবা যেভাবে দাবী করা হচ্ছে কথিত অপরাধ অন্যত্রে হলেও নজর এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্ট এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে চরম আদালত অবমাননার দায়ে কোন স্বপ্রণোদিত রুল জারী করতে দেখা যায়নি। সাধারণত কোন রায়ে বিবাদমান উভয়পক্ষকে খুশী হতে দেখা যায়না। যদিও এর আশ্চর্যজনক ব্যতিক্রম দেখে গেছে হল্যান্ডে অবস্হিত আন্তর্জাতিক সালিশী ট্রাইব্যুনালে দুইটি মামলার রায়ে। যেখানে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র জয় করেছে বলে একটি পক্ষ(বাংলাদেশ) দাবী করলেও দেখা গেছে মামলার প্রতিপক্ষ(মায়ানমার)ও বিজয় উদযাপন করছে। একই বিষয়ে অপর মামলায় অবশ্যই মামলার এক পক্ষ(বাংলাদেশ) হতে নিজেদের একক বিজয় শুধু দাবী করা হয়নি। প্রতিপক্ষের(ভারত)বিজয়ও ঘোষণা করা হয়! কোন মামলার রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ তার অসন্তুষ্টির কথা বলতেই পারে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্টিত হয়নি বলে দাবী করতে পারে। রায়ে পক্ষগণের অসন্তুষ্টি থাকে বলে বিচার ব্যবস্হায় আপীল, রিভিশন, রিভিউর বিধান রাখা হয়। যেন স্তরবিশিষ্ট ছাঁকনি মাধ্যমে বিচারে ন্যয্যতাকে তুলে ধরা যায়। অতএব রায় নিয়ে কামরুজ্জামান সাহেবের ছেলের অসন্তুষ্টি আদালত অবমাননায় যে পড়েনা তা জামায়াতের প্রধান আইনজীবিদের বেলায় বুঝা গেছে। তাহলে কেন জল ঘোলা করা হচ্ছে? সেদিন আওয়ামীলীগের প্রাক্তন এমপি গোলাম মওলা রনি সাহেবের এক কলাম পড়লাম। যেখানে তিনি তাঁর কারাবাসে কাছ থেকে দেখা জামায়াত নেতা মীর কাশেম সাহেবের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য বিদেশে টাকা পাচারকে গুজব বলেছেন (http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=ODM0NjA=&s=Nw==&t=%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A8-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA!)। পরক্ষণে আবার পত্রিকায় পড়লাম মীর কাশেম সাহেবের অর্থ পাচারের দুদকের মামলার দুইবছরেও কোন গতি নেই (http://www.risingbd.com/detailsnews.php?nssl=75972)। রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচারবিভাগের প্রতি নাগরিকদের আস্হাহীনতা সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং নিজেদের লোকদের মামলার রায় কখন কিভাবে দিতে হবে তা বর্তমান সরকারের নির্বাহী বিভাগের ইশারায় হয়। সরকারদলীয় লোকদের আয়কর ফাকির মামলাও রাজনৈতিক হয়রানি বিবেচনায় নির্বাহী আদেশে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। সুশাসনের রক্ষাকবচ বলে পরিচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্টান দুদককে এখন দামুক (দায় মুক্তি কমিশন) বলা হয় (http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/351838/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE) !

    1. 6.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @সুজন সালেহীন

       

      ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্যে। গোলাম মাওলা রনির সর্বেশেষ অবস্থানের কারনে ওর লেখা আপনারা কপি-পেস্ট করেন। এইটা যে আপনাদের জন্যে কতটা লজ্জার তা যদি বুঝতেন।

      যাই্ হোক -- কামরুজ্জামানের দণ্ড হয়েছে ট্রাইবুন্যালে এবং আপীল বিভাগে তা বহাল রয়েছে। তার ছেলের মন্তব্য তাই বাংলাদেশের পুরো বিচার ব্যবস্থার জন্যে অপমানজনক। 

      মজার বিষয় হলো জামাত ক্ষমতায় থাকার সময়ই জজ মিয়া নাটক তৈরী হয়েছিলো -- তখন জামাত কিন্তু তা নীরবে সমর্থন করেছিলো। এখন বিচারের রায় বিপক্ষে গেছে বলেই আপনারা পুরো বিচার ব্যবস্থাকে হেয় করে প্রচারনা চালাচ্ছেন।

       

      কিন্তু একই আদালত যখন খোকন রাজাকারের দণ্ড দেয় -- তখন জামাত দল হিসাবে বা উকিলরা এই নিয়ে খুব একটা কথা বলে না।

       

      শুধুমাত্র জামাতের ভিতরের অপরাধীদের গায়ে টোকা লাগলেই জামাত দেশ আর জনগনকে জিম্মি করে -- বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক করে।

       

      তাই বলি -- জামাত তো বাংলাদেশের জন্যে না -- ইসলামের জন্যের না -- একদল সুবিধাবাদী ধর্ম ব্যবসায়ীদের গোষ্ঠী মাত্র। এইটাই তাদের কাজ কর্ম প্রমান করে।
       

      1. 6.1.1
        সুজন সালেহীন

        একই আদালত যখন খোকন রাজাকারের দণ্ড দেয় – তখন গণজাগরণ মঞ্চ নিশ্চুপ ছিল!

  9. 5
    ফাতমী

    -যদি বিচারের পক্ষে না থাকি, তাহলে ৭১ এর মজলুমের বিচারের বিপক্ষে থাকলাম। যেটা সুস্পষ্ট অন্যায়। অন্যায়ের জবাব আমি কি দিব? তাই আমি মজলুমের পক্ষেই আছি। এটা একজন দুইজনের বিষয় নয়, এটা লক্ষ মানুষ হত্যার বিষয়। তাই আমি পাকিস্থানের মূল যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চাই। আন্তর্জাতিক কোন উদ্যোগ নেওয়া হোক, সেটাও চাই

     

    -কিন্তু কেউ যদি বিচারের নামে অন্যকাউকে রাস্তার থেকে ধরে ফাসি দেওয়াটাও সমর্থন করা যায় না। সেটাও অন্যায়। এই অন্যায়ের জবাব আমি কি দিব? 

     

    তাই, আমি মনে করি, সকল পক্ষের উচিত ন্যায়বিচারটা কিভাবে হচ্ছে তা পরিষ্কার করে রাখা। কেউ যদি মনে করে হচ্ছে না, সেটা কিভাবে হচ্ছে না, সেবিষয়টাও পরিষ্কার করা। আমার কাছে, পুরো ব্লগিং জগতের বিষয়টা এক প্রকার যুদ্ধের মত লাগছে। ব্লগারদের যুক্তিটা এ রকম, "Everything is fair in Love and War" 

     

    এখন, আদালতের বিচারক যারা আছেন, তারা অনেক পড়াশুনা করেই বিচারক হয়েছেন। ন্যায়বিচার কোনটা সেটাও তারা পড়েছেন। তারা যদি বিশ্বস্থতার সাহিত নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে কোন সমস্যা হবার কথা নয়। সবার মনে রাখা উচিত, কেউ দুনিয়ার আদালত পার হয়ে যেতে পারলেও হাসরের আদালত কেউ পার হয়ে যেতে পারবে না।

    -আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন।

  10. 4
    বাকাট্টা

    এখানে পত্রিকা এদের বর্ণণা নিলেও সোহাগপুরের এই সবাই কিন্তু কোর্টে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী উক্ত ঘটনার স্বাক্ষী দেয় নাই। মাত্র তিনজন স্বাক্ষী দিছেন। ১৯৭১ সালে তারা কেউই চাক্ষুস দেখে নাই যে কামরুজ্জামান তাদের প্রিয়জনদেরকে হত্যা করছে। স্বাধীনতার পর তারা লোক মুখে জানছে কামরুজ্জামানের কথা। বিদ্রুপাত্নক হলেও সত্য যে এলাকার যারা কামরুজ্জামানকে দেখে বলতে পারে নাই যে ঐ সময় সে একটা তরুণ বয়সী। ৭১এ কামরুজ্জামানের বয়স ছিল ১৯ বছর। তারা সবই মানুষ মুখে শুনে বলছে। এই দেখেন সোহাগপুরের যে তিনজনের স্বাক্ষ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুদন্ড দিছে তাদের প্রদত্ত স্বাক্ষ্যের সার্টিফাইড কপি; 

    (সদালাপে কিভাবে ইমেজ আপলোড করব তা জানা না থাকা বিধায় মিডিয়াফায়ারের লিংকের মাধ্যমে দিলাম। সবই জেপিইজি)

    https://www.mediafire.com/?ynckdype7497v0z

    https://www.mediafire.com/?n805zt6cn4ib36c

    https://www.mediafire.com/?a2x2vaevsdzdpl1

    একটি পত্রিকা অনেক কিছুই বলতে পারে। যেহেতু বিচার হয় আইনের মাধ্যমে তাই এখানে স্বাক্ষীদের গরমিল ও ব্যাত্যয় আছে। বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কিন্তু বিচার হবে দেশীয় পদ্ধতিতে। অথচ দেশী পদ্ধতিতে চাক্ষুস স্বাক্ষী ছাড়া কাউকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া যায় না। তাই এই ধরণের গরমিলের স্বাক্ষীতে একজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া কি ন্যায্য? এটা কি কোন বিবেকবান মানুষ মানতে পারে?  

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপীল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া বিষয় নিয়ে বিতর্ক করার মতো আইনী জ্ঞান আমার নেই। তাই আমি বিচার মেনে নিচ্ছি এবং মনে করি মজলুমদের পক্ষে ন্যায় বিচারই করেছে কোর্ট।

  11. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার দাবী করেছি। কোর্টে কি হয়েছে তার বিষয়ে আমার মতো আইন বিষয়ে অজ্ঞ লোকজন মন্তব্য না করাই ভাল। তবে যতটুকু জানি -- কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন বিধবা ছিলেন -- যাদের স্বামী হত্যার সাথে কামারুজ্জামান জরিত ছিলো।

    বিস্তারিত এখানে

  12. 2
    বাকাট্টা

    কোন অন্যায় বিচার কেন মানবে মানুষ? ক্যাঙ্গারু কোর্টের ষ্টাইলে অন্যায্য ভাবে একের পর এক ফাসীতে মৃত্যুদন্ড দিবে এটা কি কোন সভ্য দেশে সম্ভব? বাংলাদেশে এখন ফ্যাসিজম চলছে। অবশ্যই বিবেকবান মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

  13. 1
    মাহফুজ

    তারা দেশে বিদেশী সমর্থক তৈরী করেছে – ঠিক।

    তবে একটি বিষয় লক্ষ করার মত যে, বাদী এবং বিবাদী পক্ষের কোন পক্ষই কিন্তু যুৎসই সাক্ষী প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন নাই। যদিও এতকাল পরে বিষয়টি খুবই কঠিন। বিশেষ করে জামাত এ ব্যাপারে সব সময় কেমন যেন দায়সারা ভাবই দেখিয়েছে বলেই মনে হয়। কোর্টে হাজরা দেওয়া ও হরতাল ডাকা ছাড়া তাদের জেলবন্দী নেতাদেরকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য জসসাধারনের মাঝে কোন ধরনের প্রচারনারে ক্ষেত্রেও তাদের নিলিপ্ত ভাবই পরিলক্ষিত হয়েছে। জনবিচ্ছিন্ন থেকে শুধু ধর্মীও সস্তা সেন্টিমেন্ট দেখিয়ে কি এই কালিমা ঘুচানো সম্ভব হবে?

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.