«

»

Dec ১৪

একজন পতিত বিপ্লবী আর ইসলামপন্থী রাজনীতির দুরবস্থার কথা

হ্যা, বলছি ফরহাদ মযহারের কথাই। উনি বর্ণাঢ্য জীবনের অনেক অলি-গলি ঘুরে ক্লান্ত আর ব্যর্থ হয়ে এখন হয়ে উঠেছেন ইসলামী আন্দোলনের দার্শনিক – পথ প্রদর্শক। অন্তত কয়েকদিনের ফেইসবুক আর অনলাইনের বিভিন্ন পেইজে ফরহাদ মযহারের ইসলামী আন্দোলন বিষয়খ নসিহতের ভিডিও শেয়ার আর তা নিয়ে পর্যালোচনা – আলোচনা দেখে তাই মনে হচ্ছে। অবেশেষে সদালাপেও এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনার অবতারনা দেখে সত্যই অবাক হয়েছি – ভাবছি – একজন ব্যর্থ বাম দার্শনিক ব্যক্তি জীবনের কোন পরিবর্তন না করেই কিভাবে ইসলামী আন্দোলনের দিকনির্দেশক হয়ে যাচ্ছে।

ব্যক্তি ফরহাদ মযহারের বিষয়ে খুব বেশী কথা বলা ঠিক হবে না – কারন সেইটা হয়তো গীবতের পর্যায়ে চলে যাবে হয়তো। তবে এক কথায় বলা যায় – পারিবারিক, বৈবাহিক এবং ব্যক্তিগত জীবনে উনি ইসলাম থেকে যোজন যোজন দুরে। এক সময়ের মার্কসিষ্ট বিপ্লবের দার্শনিক – যিনি স্থানীয় পর্যায়ে মার্কসবাদের বিশেষ ব্রান্ড তৈরী চেষ্টা করেছেন – অবশেষে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার এক পর্যায়ে বিশেষ সুবিধায় আমেরিকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে এক খৃষ্টান মিশনারীর সাথে কাজ করে দেশে ফিরে তাদের সহায়তায় এনজিও প্রতিষ্টা করেন – যার আড়ালে ক্রিশিয়ানিটির প্রচারের মিশনের কাজ করছিলেন। প্রকৃতপক্ষে একশত আশি ডিগ্রী টার্ন নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দর্শন প্রচারকারী এক সময় হয়ে উঠেন মার্কিন সাহায্যপুষ্ঠ এনজিওর মালিক হয়ে সমাজের উঁচুস্থরে চলে আসেন।

এক সময় ইসলাম এবং মুসলিমদের নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে কাব্য রচনাকারী হঠাৎ করে আবিষ্কার করেন বিপ্লবের উপায় হিসাবে ধর্মকে ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হতে পারে। এই মতাদর্শের লোক উনি একা না – সাবেক বাম হালে জাতীয়তাবাদী (মাওপন্থী)রা এই বিশেষ থিয়োরী ধরেই এগুচ্ছে কত কয়েক বছর ধরে। তাই দেখি নিজের মুখে বলা – নামাজ-টামাজ পড়ি না – ধরনের কথ বলা পিয়াস করিমও এক সময় হয়ে উঠেছিলেন ইসলামের নামে আন্দোলনকারীদের কাছে প্রিয় পাত্র। লক্ষ্যনীয় – পিয়াস করিম মারা যাওয়ার পর সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছিলো বাম-মাওবাদীরাই।

ফরহাদ মযহার আসলে একটা বিশেষ মিশনের নেমেছে – বামদের ভাষায় বলা হয় গরম তাওয়ায় রুটি সেকা। একদিকে কওমী মাদ্রাসার সাথে সরকার তথা আওয়ামীলীগের দুরত্ব তৈরী করা এবং এক পর্যায়ে তাদের বিক্ষুদ্ধ করার মিশনে উনারা সফল। অন্যদিকে জামাত-শিবিরতো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে খঁড়কূটা কুড়ানোর মতোই যা হাতের কাছে পাচ্ছে তাই মাথায় তুলে নিচ্ছে। এই সুযোগে ইসলাম থেকে শত মাইল দুরে বসবাস করা একজন পতিত বাম-নাস্তিক মযহারও হয়ে উঠেছে একজন হিরো।

ফরহাদ মযহার সম্পর্কে কথা শেষ করি উনার কাছের মানুষদের কয়েকজনে মূল্যায়ন থেকে কিছু বাক্য দিয়ে –

“দার্শনিক চিন্তার দিক থেকে তিনি যতটা উচ্চাসনের, ব্যক্তি আচরণে তিনি ঠিক ততটাই বৈষয়িক ও কানকথার মানুষ।” – রিদয়পুর শাকাহারি সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে আলমগীর নিষাদের ফেইসবুক নোট

“ফরহাদ মজহার তো নাস্তিক। কোন ধর্মই মানে না।” – ফরহাদ মজহারের সংগে আমার কথাবার্তাঃ মাহবুব আজিজের নোট

(২)
বিষয়টা কতটা লজ্জার এবং দুর্ভাগ্যের যে – একদল বামপন্থী বাংলাদেশের মাওবাদী বিপ্লবের খোয়াব দেখে ব্যর্থ হয়ে মুসলমানদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। আর তাদের মুখের মিষ্ট ভাষন শুনে একদল ইসলামের বিজয়ের পথ খুঁজে পেতে চেষ্টা করছেন। সত্যই বিষয়টা কতটা দেউলিয়াত্বের প্রকাশ তা চিন্তা করতেও বাজে লাগে।

বাংলাদেশে হাজার হাজার মাদ্রাসা আছে – মসজিদ আছে – সেখানে ইমাম আছে – ইসলামী জ্ঞানী দাবীদার আলেমগন আছেন – এরা কি আসলেই নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ। এমন একজনও ইসলামী চিন্তাবিদ নেই যিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক আলোকে ইসলামী আন্দোলনের দিক নির্দেশনা দিতে পারেন?

আসলেই নেতৃত্ব আর দার্শনিকের খরায় পড়েছে বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন। বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আলেম ড. মঞ্জুর ই ইলাহী কিছুদিন টরন্টোর বাইতুল আমান মসজিদের ইমামতি করেছেন। তখন প্রায়ই আসরের পর উনার সাথে কথা বলার জন্যে বসে পড়তাম। চমৎকার চিন্তাধারা আর জ্ঞানে অধিকারী একজন আলেম। বিশেষ করে বস্তুজগত সম্পর্কেও উনি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। উনি একদিন বলছিলেন – বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো থেকে বছরের হাজার হাজার ছাত্র বের হচ্ছে – কেউ আলেম, কেউ হাফেজ আর কেউ মফাসসির হয়ে জীবিকি নির্বাহ করছেন – কিন্তু একজন ইসলামী চিন্তাবিদ তৈরী হচ্ছে না – যার কথা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনবে – যা কথা সবাইকে ভাবতে বাধ্য করবে।

সত্যই – সেই একজন দার্শনিকের অভাবে বাংলাদেশের মুসলিমরা বিভক্তিতে পড়ে আছে। সেখানে ইসলাম নিয়ে মুক্ত আলোচনার জন্যে আন্তর্জাতিক মানের কোন আলেমও সুযোগ পায় না । লজ্জার বিষয় হলো এই বাঁধা আসে ইসলামী আন্দোলনের কোন না কোন অংশ থেকেই। শুধুমাত্র নাস্তিকদের ফাঁসীর দাবী ছাড়া বাংলাদেশের আলেম সমাজ আর কোন বিষয়ে একমত হতে পারে না – কারন হয়তো তাদের চিন্তা প্রসারতায় দৈন্যতা অথবা যথার্থ জ্ঞান চর্চার অভাব। আর বৈষয়িক লাভলোকশানের সাথে সাথে নোংরা রাহনৈতিক বিভাজনতো আছেই।

ইসলাম চর্চার ভুল পথে চলা অথবা কোরান থেকে বিচ্ছিন্নতা আর পার্থিব বিষয় থেকে ইসলামকে আলাদা করে একটা অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্মচর্চার কারনেই হয়তো ইসলামী চিন্তার চর্চার দৈন্যশা তৈরী হয়েছে। যার সুযোগে ফরহাদ মযহারের মতো নাস্তিকরাই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের দার্শনিক।

বিষয়টা যে কতটা বিপজ্জনক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি কাফেরদের কথা শোন, তাহলে ওরা তোমাদেরকে পেছনে ফিরিয়ে দেবে, তাতে তোমরা ক্ষতির সম্মুখীণ হয়ে পড়বে। (সূরা আল ইমরান – ১৪৯)

আর আল্লাহ মোহাম্মদ (সঃ) কে নির্দেশ দিচ্ছেন –

(25:52) অতএব আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের সাথে এর সাহায্যে কঠোর সংগ্রাম করুন।( ২৫:২৫)

কিন্তু আমাদের মাঝে অনেককেই দেখা যাচ্ছে সংকীর্ন রাজনৈতিক বিভেদ আর পার্থিব বিষয়ে মতপার্থক্যের কারনে এতোই অন্ধ হয়ে গেছেন যে – উনারা রসুল (সঃ) এর পথ ত্যাগ করে নাস্তিকদের আনুগত্যের আহ্বান জানাচ্ছেন।

খলের ছলে অভাব হয় না আর ছলনায় সবচেয়ে পারদর্শী হলো ইবলিশ – যা মিষ্ট কথায় ভুলে আমাদের আদি পিতামাতা জান্নাত থেকে বিতারিত হয়েছেন। আমরা যে এই কথা ভুলে না যাই। আল্লাহ যেন আমার শয়তানের সকল ধোকাবাজি থেকে মুক্ত রাখেন। আমিন!

৬ comments

Skip to comment form

  1. 5
    ইমরান হাসান

    অনেক দিন পরে আমি মন্তব্য করছি এখানে। আসলে যে কোন ধর্মকেই বিপ্লব আর রক্ত এর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, একমাত্র ধর্মই সেই প্রতিষ্ঠান যেটা প্রায় প্রতিটা মানুষ এর হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই কারনেই হয়ত এক কালকে এর বিরোধিতা করা মানুষেরাও এর উপরে মাথা নত করেন।  

    আর নিজেকে ধর্মীয় বিপ্লবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রচেষ্টা করেন। 

    ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম 

  2. 4
    Rafi

    বাহ! থাবা বাবা কি ফরহাদ মযহারের চেয়েও খারাপ। থাবা বাবা নিয়ে আপনার আহাজারি করা লিখাগুলো আবার পড়ে দেখবেন। নিজেই লজজা পাবেন। আপনার রাজনৈতিক বিশ্বাস আপনাকে এতটাই মোহ করে রাখে যে আপনি হিতাহিত বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেন। আপনি থাবা বাবার মত একজন ইসলামের চরম দুষমণকে অতীব উদারভাবে দেখেছিলেন- অথচ ফরহাদ মযহারের মত বামকে সহ্য করতে পারছেন না। আপনার চিন্তাধারা আসলেই আজব!

  3. 3
    মাহফুজ

    পোষ্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ-
    //ইসলাম চর্চার ভুল পথে চলা অথবা কোরান থেকে বিচ্ছিন্নতা আর পার্থিব বিষয় থেকে ইসলামকে আলাদা করে একটা অনুষ্ঠান সর্বস্ব ধর্মচর্চার কারনেই হয়তো ইসলামী চিন্তার চর্চার দৈন্যশা তৈরী হয়েছে। যার সুযোগে ফরহাদ মযহারের মতো নাস্তিকরাই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের দার্শনিক।//— ভাল বলেছেন

    আল্লাহতায়ালা হেদায়েত করলে কঠিন নাস্তিকও ইমনদার হয়ে যেতে পারেন। আপনাদের দেয়া তথ্য অনুসারে ধরে নিলাম মি. ফরহাদ মাজহার একদা কট্টর নাস্তিক ছিলেন। কিন্তু এখন কি তিনি কলেমা তৈয়বা বিশ্বাস করেন ও পাঠ করেন?

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       কিন্তু এখন কি তিনি কলেমা তৈয়বা বিশ্বাস করেন ও পাঠ করেন?

      -- আমি যতটুকু জানি উনি তা করেন না। বরঞ্চ ইসলামের প্রদর্শিত পথও অনুসরন করেন না। 
       

  4. 2
    Rafi

    বাহ! দারুন তো! জিয়া সাহেবের এসব কথা মানায় না। ইসলামের চরম দূষমণ থাবা বাবাকে নিয়ে যে জিয়া সাহেবের এত্ত আহাজারি-চোখের জল ফেলেছেন-জানাজায় মানুষের ঢল দেখে। জিয়া সাহেবের কথায়-থাবা বাবা হয়ে যেতে পারতেন ইসলামের সৈনিক! থাবা বাবার লেখাকে প্রকাশ্যে আনতে নারাজ ছিলেন জিয়া সাহেব। ইসলামের চরম দূষমণকে দেখেছেন অনেক উদারভাবে। ফরহাদ মযহার কি থাবা বাবার চেয়েও খারাপ? স্ববিরোধী এবং কনফিউজড চিন্তাধারা।

  5. 1
    মজলুম

    জামাতি ছানাপোনাদের  কথা বার্তা দেখলে খুব বিনোদন পাওয়া যায়। শুধু আওয়ামীলীগের বিরুদ্বে  চরম ইসলাম বিদ্বেষী কেউ কিছু বললেও তারা তাকে মাথায় তুলে নিবে। যেমন ওরিয়ানা ফ্যালাসি নামক ইতালির ইসলাম বিদ্বেষী ওরিয়ান্টালিস্ট লেখকে rel="nofollow">ওরা হিরো বানিয়ে দেয় কারন সে শেখ মুজিবের বিরুদ্বে লিখেছে।  এমন দেউলিয়াত্বে ভুগছে এই দলের লোকগুলো।   

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.