«

»

Aug ৩১

যুক্তিতেই মুক্তি – আসলেই কি তাই!

চমৎকার একটা যুক্তির বিষয়ে একজন আমাকে জানালো – সে এই যুক্তিতে কিছুটা বিভ্রান্ত যে হয়েছে তা ধারনা করা যায়। অবশ্যই এতে বিভ্রান্ত হবার মতো যথেষ্ট উপাদান আছে। যুক্তিটা এমন – আজ যারা বলে ইন্টারনেটে "ইসলাম" এবং "মোহাম্মদ(সঃ)" সম্পর্কে কটুক্তি করে অন্যের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া থেকে বিরত থাকলেই সমাজের আইন শৃংখলা রক্ষা হয়ে যাবে – এর পাল্টা যুক্তিতে বলা হলো – "আপনাদের নবীওতো মুর্তি পূঁজার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন – এমনকি মুর্তি ভাঙ্গার নির্দেশও দিয়েছেন। সেইটা কি সেই সময়ের মূর্তি পূঁজকদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়নি!"

প্রাথমিক ভাবে বলা যায় – একটা চমৎকার যুক্তি। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো টাইমলাইন আর ইতিহাসের উপাদান। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে – এখানে ঐতিহাসিক উপাদানকে অতি সরলীকরন করা হয়েছে। যাতে বর্তমানের কিছু মানুষের কর্মকান্ডের পক্ষ সমর্থন করা যায়। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে যুক্তি মৌলিক বিষয়গুলোতেই ভুল আছে। মোহাম্মদ (সঃ) কোন মূর্তি বা দেবদেবীর বিষয়ে কোন কটুবাক্য ব্যবহার করেছেন এমন কোন ঘটনার প্রমান কোন ইতিহাসে নেই। অবশ্যই উনি একেশ্বরবাদের বিষয়ে কথা বলেছেন এবং তার প্রেক্ষাপট ছিলো ভিন্ন। মোহাম্মদ (সঃ) তৎকালীন কোরাইশ (যারা মূর্তিপূঁজা করতো) তাদেরই সম্প্রদায় অংশ হিসাবেই ছিলেন এবং নিজের সম্প্রদায়কেই একেশ্বরবাদে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছিলেন – তার মানে বিষয়টা নতুন ছিলো না। তার সম্প্রদায়ও জানতো যে তাদের বিশ্বাসের মুল ছিলো একেশ্বরবাদ।

ইতিহাসের থেকে জানা যায় – মোহাম্মদ (সঃ) এর দাদা আব্দুল মোত্তালেব একজন একেশ্বরবাদীই শুধু নয় – কঠিন ভাবে আল্লাহর উপর ভরসাকারী ছিলেন। যখন বাদশা আবরার কাবা ধ্বংশের জন্যে সৈন্য সমাবেশ করে – তখন তার সেনাবাহিনী আব্দুল মোত্তালেবের উটগুলো দখলে নিয়ে রেখেছিলো। এক পর্যায়ে আবদুল মোত্তালেব সেই উটগুলো ফেরত আনার জন্যে বাদশা আবরারের সাথে দেখা করতে গেলে – বাদশা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো – আশ্চর্য, আমরা এসেছি কাবা ধ্বংশ করতে – আর আপনি সামান্য উট নিয়ে চিন্তিত। জবাবে আবদুল মোত্তালেব বলেছিলেন – যিনি কাবার মালিক তিনিই কাবা রক্ষা করবেন – আমি উটের মালিক – উটগুল পেলেই আমি খুশী। 

সে সমাজে দলাদলি আর বিভাজনের প্রতীক হিসাবে মূর্তিগুলো চিহ্নিত ছিলো – তাদের ছেড়ে মৌলিক দর্শনে ফিরে যাওয়ার আহ্বানটা কিন্তু মোহাম্মদ (সঃ) এর নিজের আবিষ্কার নয় – এইটা ছিলো কোরাইশদের আদি অবস্থান থেকে বিচ্যুতি হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া থেকে ফিরে একটা দর্শন অনুসরনের আহ্বান। তাই আমরা দেখি মোহাম্মদ (সঃ) বলছেন – আমিতো শুধু ইব্রাহিমের পথই অনুসরন করি। 

মোহাম্মদ (সঃ) মুর্তিপূঁজা ত্যাগ করে মক্কাবাসীদের একেশ্বরবাদের দিকে ফিরে আসার আহ্বানেও কোরানের যুক্তি প্রয়োগ করেছেন – যেমন –

"হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার  করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।। " (২২:৭৩)

সেই যুক্তির বিরোধীতা কিন্তু কোরাইশরা যুক্তি দিয়ে করেনি – যত রকমের কঠিন ব্যবস্থা সম্ভব (যেমন – মোহাম্মদ (সঃ) এর অনুসারীদের হত্যা, অবরোধ, সামাজিক ভাবে বর্জন, অত্যাচার, শেষ পর্যন্ত হত্যার প্রচেষ্টাও ছিলো) তারা অবলম্বন করেছে যুক্তির বিরুদ্ধে – অবশেষে তাঁকে মাতৃভূমি ত্যাগে বাধ্য করেছে। এবার দেখি ইব্রাহিম (আঃ) এর বিষয় – উনিও মূর্তিপূঁজকদের সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন – কিন্তু পর্যবেক্ষন সাপেক্ষে অর্জিত জ্ঞানের সাথে যুক্তি প্রযোগ করে উনি শেষ পর্যন্ত একেশ্বরবাদের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হন – 

"অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার উপর সমাচ্ছন্ন হল, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেল, বললঃ ইহা আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল  তখন বললঃ আমি অস্তগামীদেরকে ভালবাসি না।

অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, বললঃ এটি আমার প্রতিপালক। অনন্তর যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন বলল যদি আমার প্রতিপালক আমাকে  পথ-প্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা  আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।

তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন।  তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা  বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ?"
(সুরা আন্বিয়া – আয়াত ৭৬ – ৮১)

সুতরাং আমরা দেখছি – ইব্রাহিম (আঃ) স্বীয় পর্যবেক্ষন ও জ্ঞানের ভিত্তিতে নিজের সম্প্রদায়ের মুর্তিপূঁজার বিরুদ্ধে যুক্তিভিত্তিক বিতর্ক করেছিলেন – কিন্তু অবশেষে তা বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি – ইব্রাহিম (আঃ) এর বিরুদ্ধে তার সম্প্রদায় চরম শাস্তির ব্যবস্থা করেছিলো। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে – শুরুতে যে যুক্তির মুখোমুখি আমরা হয়েছি – তা যেমন ইতিহাসভিত্তিক সত্যাতা অনুসরন করেনি – তেমনি এই ধরনের যুক্তির পরিনামও কোন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বা জ্ঞানার্জনের পক্ষে কোন ভুমিকা রাখে না – শুধু মাত্র বিরোধকেই উষ্কে দেয়।  যুক্তি তখনই পথ প্রদর্শনের কাজ করে যখন তা সত্যভিত্তিক এবং জ্ঞানভিত্তিক হয়। কৌশল আর বুদ্ধির খেলায় কোন যুক্তিকে আপাত গ্রহনযোগ্য মনে হলেও – প্রকৃতপক্ষে পরিপূর্ন জ্ঞানের উপর নির্ভর না করে যুক্তির প্রয়োগ আরো বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে। যেমনটা আমরা দেখলাম – সমাজের শান্তি প্রতিষ্টায় যখন পরষ্পরের মতাদর্শের প্রতি কেউ সহনশীলতার আহ্বান জানাচ্ছে – তখন আরেকদল যুক্তি দিয়ে সেই আহ্বানকে বিভ্রান্ত করে বিরোধকে আরো উৎসাহ দিচ্ছে। আধুনা মুক্তমনাদের আরেকটা পরিচয় – যুক্তিবাদী। তাদের শ্লোগান যুক্তিতে মুক্তি। আসলেই কি তাই? আসুন দেখা যাক যুক্তিবাদী হওয়ার মাধ্যমে কোথা থেকে মুক্তি মিলে বা কিসের থেকে মুক্তি মেলে। 

একটা মৌলিক প্রশ্ন – যুক্তি নেই – এমন কাজ কি আছে? 
চোর যে চুরি করে – তারও যুক্তি আছে। বিশ্বাস না হলে কোন চোর বা পকেটমারকে ধরে ভয় না দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করে দেখা যেতে পারে। কতইনা শক্তিশালী যুক্তি এরা দেখাবে তাদের কাজের পক্ষে। বাংলাদেশের সরকারী অফিসগুলোতে ঘুষের অবাধ চর্চা হয় – সেখানে ঘুষখোরদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন – উনারা কত শক্তিশালী যুক্তি দেখাবেন – কেন উনারা উৎকোচ গ্রহন না করে পারেন না। অন্যদিকে তাকাই – দেখবো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ গনহত্যা – হিরোসিমা-নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার হামলায় যে লক্ষ লক্ষ মানব সন্তান নিহত হলো – লক্ষ লক্ষ পঙ্গুত্ব বরন করলো – তার পক্ষে রীতিমতো একাডেমিকে যুক্তিসহ বইপত্রও পাওয়া যায় লাইব্রেরীতে। বাংলাদেশে ৭১ এ যে গনহত্যা হয়েছে – তারপক্ষেও প্রচুর যুক্তপূর্ন লেখা আছে – এমনকি ৭৫ সালে শিশুকে হত্যারও যুক্তি দেখান অনেকেই।

তার মানে হলো – যুক্তিহীন কাজ মানুষ করে না – ভিন্নভাবে বললে হয়তো বলা যায় – যুক্তি দিয়ে মানুষ তাদেক কাজের পক্ষে নিজের বিবেককে – পরে অন্যের মতামতকে প্রভাবিত করে – যাতে কাজটা যে ভুল বা অন্যায় তা প্রকাশ না পায়। এইতো গেলো যুক্তির নেতিবাচক দিক – ইতিবাচক দিকগুলো হলো – বিশ্বের সভ্যতার অগ্রগতিতে যুক্তি একটা আবশ্যক অংশ। ধরা যাক মানব সমাজের সন্মিলিত জ্ঞান হলো একটা দালানের মতো – দিনে দিনে তা মজবুত আর উঁচু হচ্ছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে এখানে অবদানগুলো এনে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মনে রাখা দরকার যে – মানুষ কখনই পরিপূর্ণ জ্ঞান একসাথে অর্জণ করতে পারে না। মানুষ যা পায় তা অনেকটা পাজলের টুকটোর মতোই – এক টুকরো জ্ঞান পেয়ে তা আগের জ্ঞানের সাথে জুঁড়ে দেবার জন্যে প্রথমত যুক্তির সাহায্য নিতে হয়। প্রতিদিনই গোয়েন্দারাও একই ভাবে প্রমানের অংশগুলো জোড়া দেয় যুক্তি দিয়ে – তারপর পরের অংশের খোঁজে লেগে যায়। তাই জ্ঞানার্জনের জন্যে যুক্তি হলো সিমেন্টের মতো – জ্ঞানের অংশগুলো হলো ইটের মতো। একা সিমেন্ট যেমন দালান তৈরী করতে পারে না – কিন্তু যথেষ্ট শক্ত হয়ে যেতে পারে যদি তা যথাযথ জায়গা না ব্যবহার করা হয় – তেমনি ইটের অবস্থাও তাই – নিজের অবস্থানে সে শক্তিশালী কিন্তু সিমেন্টের অভাবে তা দালান তৈরী করতে পারে না। শুধু জ্ঞান মানব সমাজের কাজে লাগে না – কাজে লাগানোর জন্যে যুক্তির সাহায্য নিয়ে জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় রূপ দিতে হয় – তেমনি শুধু যুক্তি দিয়েও কোন পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না – সেখানে জ্ঞানের সাহায্য নিতে হয়। শুধু যুক্তির নির্ভরতা একটা সংকীর্ন স্থানে আবদ্ধ করে মানুষকে যেমন মৌলবাদীতে রূপান্তরিত করবে – তেমনি শুধু জ্ঞানও মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে – তাই দরকার যুক্তি এবং জ্ঞানের সমন্বয় – যার নাম হলো প্রজ্ঞা (উইজডোম বা হিকমা)। 

সুতরাং যুক্তিতে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে যুক্তির বিষয়বস্তুর সত্যতা এবং বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করা জরুরী বটে। কারন কোন সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠর জন্যে যুক্তির প্রয়োগ আর সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্যে যুক্তি প্রয়োগ দুইটা ভিন্ন বিষয়। বলাই বাহুল্য বর্তমানে ইন্টারনেটে বাংলাভাষী যুক্তিবাদীরা একটা বিশেষ বিষয়ে সিদ্ধান্তে এসে তা প্রতিষ্ঠার জন্যে যুক্তির চর্চা করছেন। তাদের জ্ঞান হলো বর্তমানের ঘটনাবলীর মিডিয়া নির্ভর প্রচারনা আর ইন্টারনেটের বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যমুলক প্রপাগান্ডা। এই ধরনের যুক্তির চর্চা অচিরে মুখ থুবড়ে পড়বে – কারন ভু-রাজনৈতিক প্রেক্ষপট পরিবর্তনের সাথে সাথে মিডিয়াও তাদের লেন্সের ফোকাস বদলায় – ফলে যুক্তিবাদীরাও তাদের কলমের ব্রান্ড পরিবর্তন করে। এইতো কয়েক দশক আগেও যুক্তিবাদীদের মুল আলোচনা ছিলো মার্কসের দর্শন – যা এখন লাইব্রেরীর সবচেয়ে কম আলোর এলাকায় আবস্থান নিয়েছে – এখন "ওয়ার অন টেররের যুগ" আর মিডিয়ার ফোকাসের পরিবর্তনে যুক্তিও পরিবর্তন হচ্ছে – পুঁজিবাদের ভোগনির্ভর সমাজ তৈরীর জন্যে যুক্তিবাদীরা এখন ভোগবাদের পক্ষে পরোক্ষ ভুমিকায় – এরা ভোগবাদের মুল শত্রু – ধর্ম বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী চর্চা করা হচ্ছে যে ধর্ম – ইসলামের বিরুদ্ধে যুক্তিবিদ্যার চর্চা করছেন। 

তাই আমাদের সতর্ক থাকা দরকার – যুক্তি যতই চমৎকার হোক – তা যদি সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতার পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ন না হয় – তবে তা গুরুত্ব না দেওয়াই বরঞ্চ যৌক্তিক।

১৩ comments

Skip to comment form

  1. 10
    মুফতি মনোয়ার হোসেন।

    যাযাকাল্লাহ। উপকৃত হলাম।

  2. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এই কথাগুলো পুরোটাই কিন্তু মিথ্যা নয় -- ২০০৩ সাল থেকেই মুক্তমনাদের লেখালেখির প্রতিবাদ করছি। সমস্যা হলো এতে আমি কি ভুল বা মিথ্যা বলেছি তা কিন্তু জীবিত অবস্থায় অভিজিৎ রায় নিজেও বলেননি। অভিজিৎ রায়ের সাথে বহুবার বিতর্ক হয়েছে -- সেখানে কখন আমি মিথ্যা বলেছি এমন অভিযোগ করেননি। সুতরাং এই নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। 

    আর সৈয়দ হাবিবুর রহমান ওরফে আকাশ মালিক মুক্তমনাতেই একটা লাল কার্ড পেয়েছেন কিছুদিন আগে। মুক্তমনার বর্তমান মডারেটর ফরিদ আহমেদ বাংলাদেশের নাস্তিক তথা মুক্তমনাদের হত্যার জন্যে পরোক্ষভাবে আকাশ মালিককেই দায়ী করেছেন। আকাশ মালিক লন্ডনে বসে ছদ্মনামে ইসলাম আর মুসলমানদের বিরুদ্ধে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে বিষোদ্গার করে ফ্যানাটিক কিছু লোককে ক্ষেপাচ্ছে -- ফলে মুক্তমনাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে -- এ্ই অভিযোগ খোদ মুক্তমনাদেরই।

    এই বিষয়ে আমি আর কি বলবো। সৈয়দ হাবিবুর রহমানের আসলে চিকিৎসা দরকার -- মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে এমন প্রচণ্ড ইসলামবিদ্বেষী হওয়ার পিছনে নিশ্চয় একটা কারণ আছে -- একজন ভাল মনোরোগ চিকিৎসক উনাকে সাহায্য করতে পারবেন।

    1. 9.1
      এস. এম. রায়হান

      সমস্যা হলো এতে আমি কি ভুল বা মিথ্যা বলেছি তা কিন্তু জীবিত অবস্থায় অভিজিৎ রায় নিজেও বলেননি। অভিজিৎ রায়ের সাথে বহুবার বিতর্ক হয়েছে – সেখানে কখন আমি মিথ্যা বলেছি এমন অভিযোগ করেননি।

      যে অভিযোগ অভিজিৎ রায় নিজের জীবদ্দশায় কখনো করেনি -- অবশ্য এই নৈতিক সৎ-সাহস তার কখনোই ছিল না, যেহেতু সে নিজেই মিথ্যাচারের মধ্যে ডুবে ছিল -- অথচ তার মৃত্যুর পর তার খৎনাধারী মুরিদরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই অভিযোগ কেন করছে বলে মনে করেন? এইটা একটা ইন্টারেস্টিং গবেষণার বিষয় হতে পারে। এখানে নিঃসন্দেহে কোনো বিশ্বাসের ভাইরাস কাজ করছে। অভিজিতের খৎনাধারী মুরিদদের কথাবার্তা থেকে বুঝা যাচ্ছে তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী অভিজিৎ মরেনি! বরঞ্চ সে দেবদূত হয়ে কোনো এক স্বর্গালোকে বসে তার মুরিদদেরকে সর্বক্ষণ ওয়াচ করছে। এজন্য তার মুরিদরা স্বর্গে যাওয়ার লোভে প্রভুকে তুষ্ট করার জন্য যাচ্ছেতাই বলছে আর মিথ্যাচার করছে।

  3. 8
    Ural Pakhi

    @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,

    মুক্তমণা ব্লগে আপনার ও সদালাপ সাইটের বিরুদ্ধে আকাশ মালিক বলেছে—

    আকাশ মালিক সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৫ at ৪:২২ পূর্বাহ্ন -- Reply -- Link

    আপনি আপনার লেখার তথ্য সহায়তা নিয়েছেন সদালাপের জিয়াউদ্দিনের একটি লেখা থেকে দেখে শুধু বিস্মিত হইনি দুঃখও পেলাম, যদিও কোন অজ্ঞাত কারণে লেখার লিংক দেন নি। আপনি কি জানেন না, এই মানুষটা বিগত দশটি বছর যাবত মুক্তমনা বিশেষ করে অভিজিতের বিষোদাগার করেছে আজও করছে? অভিজিতকে সারা দুনিয়ার সামনে একজন প্রতিক্রিয়াশীল হিন্দু, একজন সাম্প্রদায়ীক মুসলিম বিদ্বেষী রূপে তুলে ধরতে নিরন্তন শত শত পৃষ্টা কাগজ লিখেছে, অভিকে নিয়ে সীমাহীন জঘন্য মিথ্যাচার করেছে? আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করেন, অভিজিতকে খুনের প্রেক্ষাপট কে তৈ্রী করে দিয়েছে, কে বা কারা অভিজিত খুনের আসল হোতা, আমি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আজীবন বলে যাবো এই জিয়াউদ্দিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। তার কাছ থেকে বা সদালাপ থেকে মউদুদী বা জামাত সম্পর্কে জানার কোন প্রয়োজন দেখিনা।

     

    আকাশ মালিক সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৫ at ৩:৫৬ অপরাহ্ন -- Reply -- Link

    @ সুব্রত শুভ,

    একটু সময় করে ঐ ব্লগটায় গিয়ে কিছুটাদিন কাটান, মুক্তমনা ও মুক্তমনার লেখকদের নিয়ে (দশ বছর পূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত) ওদের লেখাগুলো পড়ুন আমার বিশ্বাস, ওদেরকে ঘৃণা করতেও আপনার ঘৃণা হবে।

    https://blog.mukto-mona.com/2015/09/20/47713/

    আকাশ মলিকের এই অভিযোগ গুলো কি সত্য??

    1. 8.1
      কিংশুক

      আকাশ মালিক ভণ্ড বুইড়ার অভিযোগ! হাহাপগে। যেদিন হতে সাদাত ভাই তার 'যে মিথ্যা হয়নি বলা'র হাদিস জালিয়াতি হাতেনাতে ধরিয়ে দিয়েছিল, আকাশ মালিকের আসল পরিচয় সৈয়দ কি যেন বলে আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ফাঁস করে দিয়েছিলেন সেদিন থেকেই গেলমানটা সত্যের সামনে টিকতে না পেরে ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। সদালাপে অভিজিতের মুখোশ উম্মোচনে যেসব লেখা দেওয়া হয়েছিল সব ছিল রেফারেন্স সহ অকাট্য সত্য। অভিজিত্ এর জীবদ্দশাতেই চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া সেসব লেখার কোনও প্রতিবাদই সে করেনি। তার মানে সব সত্য লেখা। তার বা তার বন্ধুদের বিষয়ে কোনও মিথ্যা বল্লে সে নিজে সদালাপে এসে সত্য তুলে ধরুক। সত্যের সামনে আকাশ মালিক কোন দিনই আসবেনা। তাদের মিথ্যাচারের বিষয়ে আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন সাহেবই প্রথম "আমার ব্লগে" প্রতিবাদ করেছিলেন বলে ওনার প্রতি রাগ একটু বেশী।

    2. 8.2
      এস. এম. রায়হান

      ষাটোর্ধ বয়সী আকাশ মোল্লাকে নিয়ে এ পর্যন্ত মুক্তমনা, সদালাপ, ও আমু ব্লগে কে কী বলেছে সেগুলো একত্রে করে তাকে একটি পোস্ট দিতে বলেন। তার নিজের সম্পর্কে কে কোথায় কী বলেছে সেগুলো এড়িয়ে যেয়ে এক ব্রাহ্মণ প্রভুর দাস হয়ে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সদালাপের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে কেন। তার ব্রাহ্মণ প্রভু বা মুক্তমনা ব্লগ তাকে মুখপাত্র বানিয়েছে কি-না। সে'রকম কিছু বানানো হয়ে থাকলে তাকে প্রমাণ দিতে বলেন। তাছাড়া মুক্তমনা ব্লগে যখন তার উপর গণধোলাই চলছিল তখন তার প্রভু তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেনি কেন! সে কী কারণে মুক্তমনা ব্লগ ছেড়েছিল।

      অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের কোনো এক হিন্দুত্ববাদী পত্রিকায় তাকে 'হিন্দু' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল। তার মানে অভিজিৎ রায় নিজেই তার 'হিন্দু' বা 'ব্রাহ্মণ' পরিচয় মুছে যেতে পারেনি। এই অবস্থায় অভিজিতের খৎনাধারী দাস ঠিক কী বলতে চায়। একজন ব্রহ্মণ হিন্দুকে 'হিন্দু' বা 'ব্রাহ্মণ' বলা মিথ্যাচার হয় কী করে। অন্যদিকে মুসলিমদেরকে কথায় কথায় 'বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত ছাগু-জঙ্গী-সন্ত্রাসী' বলা বিজ্ঞানমনস্কতা? এইটা কি নরেন্দ্র মোদির ধর্ম? মজার বিষয় হচ্ছে এই খৎনাধারী দাসও 'ছাগু-জঙ্গী-সন্ত্রাসী' পরিচয় মুছতে পারেনি! লন্ডকে কোনো সন্ত্রাস বা অপকর্ম করতে যেয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়লে তাকে মুক্তমনা ব্লগ-সহ আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকায় 'ইসলামিক জঙ্গি-সন্ত্রাসী' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে! 

      বিশ্বজিৎ হত্যাকে ইস্যু বানিয়ে শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দ ও ছাত্রলীগকে গালিগালাজ করা তার মন্তব্যগুলো প্রকাশ করতে বলেন। সেই সাথে মুক্তমনা ব্লগে বঙ্গবন্ধুকে হেয় করা মন্তব্যগুলোও প্রকাশ করতে বলেন।

      বামপন্থীদেরকে গালি দেয়া তার মন্তব্যগুলো প্রকাশ করতে বলেন।

      সদালাপের লেখকদেরকে সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী ভাষায় আক্রমণ করা তার মন্তব্যগুলো প্রকাশ করতে বলেন। একই সাথে ইসলামের নবীকে গালিগালাজ করা তার মন্তব্যগুলোও প্রকাশ করতে বলেন।

      হিডেন আনসারুল্লা বাহিনী অভিজিৎ রায় ও অনন্ত বিজয়ের নাড়ি-নক্ষত্র কী করে জেনেছে, অভিজিৎ ও অনন্তের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো কি-না – তাকে জিজ্ঞেস করেন। সে মুক্তমনা ব্লগে ইসলাম-বিরোধী ব্লগারদের ই-মেইল ও ফোন নং সংগ্রহ করে কেন, সেটাও জিজ্ঞেস করেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে আনসারুল্লা বাহিনীর তৈরী করা ৮৪ জনের বিশাল হিট লিস্টে তার নামই নাই! যেখানে এমন কিছু ব্লগারের নাম আছে যারা কখনো ইসলামের বিরুদ্ধে লেখালেখিই করেনি, অনন্ত বিজয়ের নামও ছিল, সেখানে তার নাম বাদ পড়াটা কি সন্দেহজনক নয়? পত্র-পত্রিকার খবর থেকে জানা যাচ্ছে অভিজিৎ ও অনন্ত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী লন্ডনে থাকে। আকাশ মোল্লাও থাকে লন্ডনে। তাদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ আছে কি-না!

      তার সৎ-সাহস থাকলে এই মন্তব্যটা মুক্তমনা ও আমু ব্লগে হুবহু প্রকাশ করে সদালাপের বিরুদ্ধে তাকে আক্রমণের অভিযোগ করতে বলেন।

  4. 7
    এস. এম. রায়হান

    যারা যত বেশি 'যুক্তি যুক্তি, মুক্তি মুক্তি' করে বুলি আউড়ায়, তারা ততো বেশি কু-যুক্তি আর অন্ধকারে ডুবে থাকে। কাবাঘরের ভেতরের মূর্তি অপসারণ করার ঘটনাকে অভিজিৎ-সহ সহি 'মুক্তমনা'রা দীর্ঘদিন ধরে অন্য ধর্মাবলম্বীদের (পড়ুন- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের) ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার কথা বলে আসছে। পুরো ঘটনাটা এ'রকম:

    – কাবাঘর যখন নির্মাণ করা হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই ঘরের ভেতরে কোনো মূর্তি ছিল না, থাকার প্রশ্নই আসে না।

    – এক পর্যায়ে কাবাঘর আরবের পৌত্তলিকদের দখলে চলে যায় এবং তারা কাবাঘরের ভেতরে দেব-দেবীদের মূর্তি তুলে উপাসনা ও ব্যবসা শুরু করে।

    – মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সময়ে কাবাঘরের ভেতরের মূর্তিগুলোকে অপসারণ করে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এখানে পৌত্তলিকদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়ার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? মুহাম্মদ (সাঃ) কি পৌত্তলিকদের দেব-দেবীদের নিয়ে কটূক্তি করেছেন? কোরআনে বরঞ্চ অন্যান্য ধর্মের দেব-দেবীদের নিয়ে কটূক্তি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়া কাউকে কোনো কিছু করতে নিষেধ করা মানেই কি তার ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়া বুঝায়? নিশ্চয় না। তাহলে যে এই 'যুক্তি' দিয়েছে তার 'যুক্তি' আবার চমৎকার হয় কী করে! সে তো কৌশলে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছে।

  5. 6
    জারাহ জেবিন

    সুন্দর যুক্তি তুলে ধরেছেন।

    বর্তমানে অনেকেই আছেন যারা নিজেদের যুক্তিবাদী বলেন। তারা আসলে শব্দ নিয়ে খেলা করে মাত্র। যুক্তির স্পন্দনে সত্যের অনুসন্ধান তাদের কাজ নয়।শব্দ নিয়ে খেলা করার ক্ষমতা আর যুক্তির মাধ্যমে সত্য অন্বেষণ বা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এক জিনিস নয়।
    অনেক সময় কিছু যুক্তিবাদী এদুটো কে এক করে বিভ্রান্তি তৈরি করেন।

  6. 5
    এনায়েত

    চমৎকার লেখা।

    যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তারচেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দিয়ে কী প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নয় বরং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিজেকে যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞানমনষ্ক দাবী করা অনেকেই সেটি মেনে চলেন না।

  7. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভালই বলেছেন। আসলে দুনিয়াতে সত্যকে প্রতিষ্ঠার যুক্তির চেয়ে ব্যক্তি গোষ্ঠীর লালায়িত দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করার যুক্তিরর চর্চা প্রবল। যেখানে এই সব স্বার্থবাদী যুক্তির বিরুদ্ধে সত্যকারের সত্য প্রতিষ্ঠার যুক্তি বিজয়ী হয়ে পড়ার আশংকা করা হয় তখন কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী তখন ছলে বলে কৌশলে সত্যের পথে যুক্তিকে পরাজিত করার প্রচেষ্টা চালায়, এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এই চাণক্য এর বংশধর আপত ভাবে বিজয়ী হয়ে পড়ে। ধন্যবাদ।
     

  8. 3
    Shahriar

    Jajak-allah.. Very well said.

  9. 2
    কিংশুক

    আপনার লেখাটা পুরোপুরি বাস্তব সম্মত।

  10. 1

    কুরাইশরা শিরক,মূর্তিপূজার পক্ষে যুদ্ধ করেছিলো আর মুসলিমগণ যুদ্ধ করেছিলেন আল্লাহর একত্ববাদের পক্ষে! কুরাইশরা পরাজিত হলো আর মুসলিমরা মক্কা জয় করলো।পুলিশ,প্রশাসন যখন অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে তখন কি করে?অবশ্যই মাদকদ্রব্যগুলো নষ্ট করে ফেলে! রাসুলও সাঃ
    তাই করেছিলেন।কাবা ঘর থেকে মূর্তিগুলো ধ্বংস করেছিলেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published.