«

»

Mar ২৫

যুদ্ধাপরাধী রাদোভান কারাদজিচকে ৪০ বছরের জেল ও টবি কেডম্যান প্রসংগ

 

সার্বিয়ান নেতা রাদোভান কারাদজিচকের ৪০বছরের জেল হলো – তার অপরাধ হলো ১৯৯৫ সালে বসনিয়ার সেব্রেনিকা শহরের সংঘটিত গণহত্যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গণহত্যা বলা হয়, যাতে ৮০০০ মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, “বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো দখলে রাখার সময়ে বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর হাতে যেসব মুসলিম ও ক্রোট নিহত হয়, তা কারাদিচের সমর্থন ছাড়া ঘটতে পারত না।” 

যথারীতি কারাদজিচ নিজেকে নির্দোষ দাবী করেছে। কারাদজিচের দাবী – সেই সময় উনি শান্তি রক্ষার কাজ করেছে। খবরটা বিস্তারিত পোস্ট করেছে মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ মিডিয়া আল জাজিরা – একদিনে আট হাজার মুসলিম পুরুষ হত্যার নায়কের বাকস্বাধীনতার প্রতি প্রবল শ্রদ্ধা দেখালো আল জাজিরা। 

দীর্ঘ এক ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় এই বিচার সম্প্ন হতে ১২ বছর সময় লাগলো – ঘটনার ২০ বছর পর এই বিচারের রায় বের হলো। বলা বাহুল্য – এই বিচার প্রক্রিয়াটি সহজ পথে শেষ হয় নি – বিচার শুরুর আগেই নানান ধরনের ষড়যন্ত্র হয় – জাতিসংঘের রুলিং এর কারনে সার্বিয়া বাধ্য হয় আসামীকে হেগে পাঠাতে – যদিও এই বিচার সার্বিয়াতে হওয়ার জন্যে নানান ধরনের দাবী এবং লবিং করা হয়েছে। এই লবিষ্টদের মাঝে একজন বাংলাদেশের মানুষকে কাছে নামে পরিচিত – টবি কেডম্যান। টবি ক্যাডমেন শুরুর দিকে রাদোভানের উকিল হিসাবে কাজ শুরু করলেও কোর্ট এক পর্যায়ে তাকে নিষিদ্ধ করে দেয়। 

শিরোনামে টবি কেডমেনের নাম দেখে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগবে। সেই উত্তর দেবার চেষ্টা করছি। টবি কেডমেন রাদোভান কারাচজিকের পক্ষের আইনজীবি হিসাবে সক্রিয় হয়ে নানান ভাবে এই বিচারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন। এই প্রক্রিয়া সে নানান গনমাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন। এর মধ্যে একটা হলো আল জাজিরার নিউজ সাইট – সেখানে সে সরাসরি রানোভানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক মানের হয়নি বলে মন্তব্য করেন। কেডম্যান এই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ন বলে প্রচার করেন। 

ইতোমধ্যে হেগের আদালত থেকে বহিষ্কৃত হলেও বেশ বড় বড় কয়েকটি মামলা পেয়ে যায় কেডম্যান। এর মধ্যে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসিদ এবং বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার। তার ওয়েব সাইটের ক্রেডিট হিসাবে উল্রেখ আছে – কয়েকটি মামলার কথা – তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – 

১) Government of the People’s Republic of Bangladesh v. Nizami & Others (2010-Present)
Since October 2010 instructed by Bangladesh Jamaat E Islami to represent the political leadership prosecuted by the Bangladesh War Crimes Tribunal.

২) Government of the People’s Republic of Bangladesh v. S. Q. CHOWDHURY (2010-Present)
Since October 2010 instructed to represent an opposition member of the Bangladesh Parliament on charges of crimes against humanity and genocide before the Bangladesh War Crimes Tribunal.

বাংলাদেশের বিষয়ে তার কর্মকান্ড ঠিক একই ভাবে চলেছে। নানান ভাবে আদালতকে বিতর্কিত করে আর্ন্তজাতিক মিডিয়ার মতামত (Opinion)  বিভাগে লেখালেখি আর তা যতবেশী সম্ভব প্রচার করা। প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে কেডম্যান বিচারকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ" এবং "আন্তর্জাতিক মানের নয়" এই যুক্তি তুলে ধরেন। তার মতামত যে তার নিজস্ব তা শুরু দিকে লেখা থাকে। কিন্তু বিচারাধীন অপরাধীর পক্ষের লোকজন তার লেখাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামত হিসাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে। 

The International Institute for Middle-East and Balkan Studies (IFIMES) – (লিংক)এর দাবী – টবি ক্যাডম্যান নির্যাতিত বসনিয়ান ও হার্জেগোবিনিয়ানদের বিরোধী কারন সে IFIMES ভাষায় – 

This legal genocide, committed by Jurčević and Cadman (he stood for a high position in the Prosecution of Bosnia and Herzegovina one more time and allegedly made an agreement and assured support by the highly-positioned domestic Prosecutor of Bosnia and Herzegovina) resulted in legal chaos in Bosnia and Herzegovina in which Bosnia and Herzegovina was seeking for years the so-called work strategy regarding war crime material. –  (লিংক)

সুষ্পষ্টত দেখা যাচ্ছে – কেডম্যান বসনিয়া ও হারজেগবিনার মুসলিমদের উপর গনহত্যাকারীদের রক্ষার জন্যে নানান ভাবে কাজ করেছে। সেই কেডম্যান হলেন অবশেষ জামায়াতের উকিল – যিনি কথিত আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কথা বলেন। 

এখানেই যদি কাহিনী শেষ হতো তাবে হয়তো বলতাম – ক্যাডম্যানের কর্মকান্ড হয়তো থেমে গেছে। কিন্তু মালদ্বীপের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নাসিদের মামলায় উনি দ্বৈতভূমিকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে এখন বিপদে আছে। শুরুতে সে নাসিদের বিপক্ষে মালদ্বীপ সরকারের আইনী পরামর্শক (আন্তর্জাতিক মানের বিচারের বিষয়ে মালদ্বীপের উপর পশ্চিমা – বিশেষ করে বৃটিশ চাপের সুবাদে) হিসাবে কাজ করেন। কিন্তু পরে উনি সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ারের স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে নাসিদের পক্ষের আইনী পরামর্শক হিসাবে যোগ দেন। এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে আরেক আমল ক্লুনির পক্ষের অভিযোগ – A spokesperson for Mr Nasheed’s legal team said: “It’s quite surprising that [Mr Cadman] would pitch both sides in the same dispute. And the fact that he pitched the government having made disparaging comments about it to Mr Nasheed is even more surprising.”

সুতরাং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে – পশ্চিমা তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানের ধোয়া তুলে এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের অনৈতিক বানিজ্যের সাথে জড়িত হয়েছে টবি ক্যাডম্যান। তার লেখাগুলো খুবই চাতুর্যপূর্ন এবং কৌশলী। যখন কোন মিডিয়াতে লেখা পোস্ট হয় – তা হয় নিজের অপিনিয়ন হিসাবে এবং তা একজন আইনজীবি হিসাবে যুক্তিতর্ক তুলে ধরার চেয়ে রাজনৈতিক এবং সমসাময়িক ঘটনা বলীর বিষয়ে বেশী গুরুত্ব দেন। যেমন দেখা যাক – সিএনএন এর লেখা অপিনিয়নটি

যেখানে শুরুতে একটা ছবি দেওয়া আছে – যা পুলিশের অত্যাচার দেখানো হচ্ছে – এর সাথে যুদ্ধাপরাধের বিচারের একটা দুরতম সম্পর্ক না থাকলেও বাংলাদেশের সরকারকে একটা টাইরেন হিসাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা বুঝতে সমস্যা হয় না। আর লেখার শুরুতে এডিটরস নোট – The views expressed are his own. মজার বিষয় হলো উকিল দিয়ে নোট লেখিয়ে তা মিডিয়ার অপিনিয়ন অপশনে পোস্ট করার মাধ্যমে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের গোষ্টীর কি বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে তা অনুমান করতেও ভয় হয়। 

 

 

২১ comments

Skip to comment form

  1. 6
    কিংশুক

    প্রফেসর =প্রেশার 

  2. 5
    কিংশুক

    আন্দাজে বেশি জ্ঞান দেন। ইন্দোনেশিয়া মালেশিয়া পাকিস্তান বাংলাদেশ সহ সব দেশে ইসলামি দলগুলি সরাসরি ক্ষমতায় যাওয়ার পরিস্থিতি না থাকায় প্রফেসার গ্রুপ হিসাবে কাজ করে যাতে সরকার বাম ও পশ্চিমা চাপে পুরোপুরি সেকুলার না হতে পারে। এজন্য বড় বড় রাজনৈতিক দলের সাথে আদর্শের ভিন্নতা স্বত্বেও জোট গড়ে। ঐ ইসলামি সংগঠন গুলি স্কুল হাসপাতাল দাতব্য সংস্থা ইত্যাদি গড়ে ইসলামি মূল্য বোধ সম্পন্ন মিলিয়ন মিলিয়ন সদস্য তৈরি করে সেকুলারিজম ঠেকিয়ে রেখেছে,  ধার্মিক জনগোষ্ঠী তৈরি করছে। ইসলামি দলগুলি কার সাথে জোট করবে, কাকে সমর্থন দিলে এগুলি ইজতেহাদি বিষয়। সাতচল্লিশে কাকে সমর্থন দিবে, একাত্তরে কাকে সমর্থন দিবে এখন কার সাথে থাকবে এগুলো ইজতেহাদি বিষয়। এসব দলে হাজার হাজার যোগ্য ইজতেহাদের ক্ষমতা রাখা আলেম আছেন। আপনার মতো বক আওয়ামী হাতুড়ে মাওলানা কোন ন সিহত শুনে আখেরাত ধ্বংস করার কোন ইচ্ছা নাই। এক কানা আরেক কানাকে পথ দেখাতে আসে। হাহামগে।

  3. 4
    কিংশুক

    ইসলামের জন্য বিএনপি কম ক্ষতিকর। কম ক্ষতি করে সাথে থেকে বেশী ক্ষতিকরকে ঠেকাতে হয়। এজন্য বিএনপি ই একমাত্র অপশন।

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      বিএনপি ইসলামের জন্যে কম ক্ষতিকর কারন কি ওরা বিসমিল্লাহ বলে মদ খায়? ঘুষ-চুরি-ডাকাতি করে তার আগে বিসমিল্লাহ বলে -- নাকি জজ মিয়ার মতো নাটক তৈরী করার আগে বিসমিল্লাহ বলে!

    2. 4.2
      কিংশুক

      বিএনপি নাস্তিকদের সহযোগী হয়ে ইসলামকে হেয় করে কিছু বলে উনি, করেওনি। আলিয়া মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বাম নাস্তিকদের সাথে নিয়ে সংবিধান থেকে ইসলামের কাল ছায়া মুছে দিতে চায়, সেকুলারিজম কায়েম করে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধর্ম বিমূখ বানাতে চায়। কোরআন হাদিস বিরোধী আইন বানাতে চায়। বিসমিল্লাহ নিয়ে ফাজলামি কম করেন ভাই। মদ খায় চুরি ডাকাতি কি আওয়ামী লীগ কম করে। ওরা কি তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে মদিনা সনদ অনুযায়ী মদ সুদ ঘুষ চুরি ডাকাতি রাহাজানি করে নাকি? সহিহ ইসলাম মজলুমের ইসলাম অনুযায়ী  গুম খুন হামলাবাজি মামলাবাজি ভোট চুরি ডাকাতি লুণ্ঠন করে নাকি? মদ বাংলাদেশে বিধর্মী ব্যতীত সকল মুসলমানের জন্য আইনগত ভাবে নিষিদ্ধ । নিশ্চয়ই মদিনা সনদের সহিহ ইসলাম অনুযায়ী ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতারা সবকিছুর লাইসেন্স,  চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামাইছে।

       

      1. 4.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        এইবার লাইনে আসেন -- আপনি যা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বলছেন -- তা হুবুহু বিএনপির বিরুদ্ধেও বলা যাবে। তাই এরা মুদ্রার এই পিঠ আর ঐ পিঠ। তবে কিছু পার্থক্যতো আছেই। যেমন বিএনপি মুখে ইসলামের কথা বলে -- কিন্তু ইসলামের মুল ভিত্তি ন্যয় প্রতিষ্ঠার কথা তাদের অভিধানে নেই -- কোন ধরনের বিচারের ইতিহাস নেই ওদের। বরঞ্চ মিথ্যাচার করে বিচারের বিরুদ্ধে দাড়ানোর বিষয়টা তাদের মজ্জাগত। 

         

        1. 4.2.1.1
          কিংশুক

          @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিখন: হ চোরের স্বাক্ষী গাটকাটা। বিএনপি কখনওই নিজেদেরকে ইসলামি দল বলেনা। আওয়ামী লীগ নিজেদের নামে থাকা লাখ লাখ মামলা , খুনের দায়ে ফাঁসি সহ গায়েব করে দেয়। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের গডফাদার হয়। নিজের দলের বড় বড় ব্যবসায়ী নেতারা দল প্রধানকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার চেক নম্বর সহ মামলা করে। কোটি কোটি টাকা কমিশন খাওয়ার টাকার বস্তার বর্ননা সহ আত্মীয়রা জবানবন্দি দেওয়া বিশ বাইশটা মামলাও গায়েব হয়ে যায় ।কত জায়গার কুখ্যাত গডফাদার র আওয়ামী এমপি মন্ত্রী হয়েছিল।  ন্যায় প্রতিষ্ঠার কথা মুখে আনলেও আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডিষ্টের পদ ছাড়েন। আওয়ামী লীগ একশটা কথা বললে নিরানব্বইটাই মিথ্যা বলে। এমন দলের দালালি করেন মিয়া আপনার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাই তো থাকেনা। কানাডা আওয়ামী লীগের কি পদে আছেন আপনি?

           

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          আওয়ামীলীগ ভাল লোকের দল এইটা কি কোথাও বলেছি। সাধারন ভাবে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেনী দূর্নীতিপরায়ন -- যখন যে দল ক্ষমতায় যায় সেই দলের ছত্রছায়ায় দূর্নীতি করে -- সবাই কোন না কোন ভাবে দূর্নীতিতে যুক্ত। এখানে দলের কথা বলে একজনের উপরে আরেকজনকে উঠানোর চেষ্ঠা মূর্খতা ছাড়া কিছু না। 

          দূর্নীতি নিয়ে কথা বললে বাংলাদেশের মানুষের কাছে হওয়া ভবন এখনও জ্বলজ্যন্ত হয়ে আছে। সেই কারনে আওয়ামীলীগের দূর্নীতি নিয়ে বিএনপি কথা বলে না। সেইটা ভিন্ন প্রসংগ। 

          আপনি যেভাবে বাংলাদেশের ইসলাম রক্ষার জন্যে বিএনপির কোলে উঠে বসে আছেন -- সেইটা দেখেই হাসি আসে। ইসলাম রক্ষার ক্ষমতা কারো নেই -- এইটা মানুষের জ্ঞান আর বুঝে চর্চা। যে দেশে বিএনপি নাই সেই দেশে ইসলাম নাই এই ধরনের চিন্তা করা ভুল। আপনি যেভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর ইমান পরীক্ষার শুরু করছেন তাতে আমোদিত হচ্ছি। 

           

          আমাকে যেভাবে আওয়ামীলীগের দালালী ছাড়তে বললেন -- নিজেকেও সেইভাবে বিএনপি-জামাতের দালালী ছাড়ার পরামর্শ দিন -- সেইটা হবে ন্যয়। নিজে আগে করুন -- তারপর অন্যকে উপদেশ দিন। 

  4. 3
    কিংশুক

    প্রথমেই বলে নিই দেশের নাগরিক হিসাবে দেশের আইন,আদালত সবই মানি। এমনকি আমাকেও যদি বিনা দোষে ফাসি দিয়ে দেয় তাও মানতে বাধ্য, বড়জোর ন্যায় বিচার পাইনি বলতে পারবো। বিশেষ আদালত গঠন করতে নাকি সংবিধান প্রথম সংশোধন আইন করতে হয়! দ্রুত বিচার আদালত , সন্ত্রাস দমন আদালত কত আদালত গঠন হলো এমন আজব ব্যপারতো কেউ দেখেনি। তা বাংলাদেশে অলিতে গলিতে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল নামে অনেক নিম্ন মানের স্থানীয় স্কুল আছে যার কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নাই। এরকম নিজস্ব তৃতীয় বিশ্বের ঐ  শ্রেণীর আদালতের সাথে আন্তর্জাতিক শব্দ ব্যবহার না করলেই চলতো। এই আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামি যদি বিদেশে পলাতক থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা কি আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত দিবে, করবে তো উল্টাটা। বাংলাদেশের মানুষের এখন আইন,আদালত,পুলিশ,প্রশাসন এমনকি সরকারের উপরও আস্থা নাই। আওয়ামী লীগ সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিচ্ছে । তাদের অংগুলি হেলনে সবকিছু হয় বলে দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে। দেখেন মিশরে ভোটে জিতার পরও মুসলিম ব্রাদারহুডকে ক্ষমতাচ্যুত করে, সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে, হাজারো নেতা কর্মীকে ফাঁসি জেল দিয়ে,  তাদের কয়েকশ স্কুল, হাসপাতাল সহ দুই বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরও তারা জণগনের সেবা করেই যাবে বলে ঘোষণা করে। চিন্তা করেন কত বড় অহংকারী। বাংলাদেশে জামাত নিষিদ্ধ হলেও নেতা কর্মীরা দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করে আওয়ামী লীগের এক দলীয় স্বপ্ন পূরণ করবেনা। এরশাদের সময় আওয়ামী বিএনপি হাজার হাজার নেতা কর্মী ক্ষমতা অর্থের লোভে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করতো। ক্ষমতা শেষ এখন তাঁরাও আর জাতীয় পার্টিতে নাই। আওয়ামী লীগের তথাকথিত বিরোধী দল এখন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে চরমোনাই পীরের দলের (জামাত নিষিদ্ধ হলে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি দল হব ইসলামি আন্দোলন) চার ভাগের একভাগ ভোট পাবে। এমনিভাবেই এখন মামলা,হামলায় টিকতে না পেরে ও ক্ষমতা অর্থ লোভে যেসব বেচারা বিএনপির স্থনীয় নেতা কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিঠ বাচাচ্ছে তারাও সময় মতো আওয়ামী লীগ ত্যাগ করবে। জামাত বিএনপিকে ভারত কোনঠাসা করতে পারলেও সমর্থকদের আওয়ামী লীগ বানাতে পারবেনা।

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার ঘৃনা করার এই তরিকা কোথায় পাইলেন? যাক বুঝা গেলো বিএনপি দুই নাম্বার দল – আওয়ামীলীগ তিন নাম্বার। তাইলে এক নাম্বার দল কোনটা, জনাব?

      যারা দুই এর পিছনে ঘুরে তারা আর যাই হোক এক নাম্বার না – দুই এর এক্সটেনশান – ২.১ বা এই ধরনের কিছু। ইসলাম রক্ষার আপনার ঘৃনার চাষাবাদ দেখে সত্যই বিমোহিত। এই ঘৃনায় যে নিজের সর্বনাশ না করেন বসেন – সেই দিকে খেয়াল রাখবেন। ব্যক্তিগত রাগ আর ঘৃনার জায়গা ইসলামে নেই। 

      1. 3.1.1
        কিংশুক

        দুই নম্বরী বলতে বাংলায় ভেজালওয়ালা, ভন্ডামি বুঝায়। ক্ষমতায় থেকে ফুলেফেপে উঠার জন্যই যাঁরা রাজনীতি করে অর্থাত্ ক্ষমতাই থাকাই যাদের  কাছে একমাত্র সফলতা তারা আবার এক নম্বর দল হয় কিভাবে? এই ক্ষমতার জন্য এমন কোন প্রতারনা নাই যা তারা করতে পারেনা। তাই বলে তারা সবতো আর খারাপ করেনা, দেশের জন্য অনেক ভাল কাজও করে, আবার আমার জাতভাই বাংলাদেশী মানুষ। আল্লাহর জন্যই ভালবাসা আল্লাহর জন্যই ঘৃণা। আর কমপক্ষে ঘৃণা করা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর। এ হিসাবে ইসলামের জন্য ক্ষতিকর আওয়ামী লীগকে পছন্দ করা ঈমাণ বহির্ভূত কাজ।

        1. 3.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          এ হিসাবে ইসলামের জন্য ক্ষতিকর আওয়ামী লীগকে পছন্দ করা ঈমাণ বহির্ভূত কাজ।

           

          -- বুঝলাম। আপনার হিসাবে বাংলাদেশের ৪৯% মানুষ -- যারা আওয়ামীলীগকে ভোট দেয় -- তারা ঈমান বর্হিভূত কাজ করে -- মানে তারা মুসলিম না। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ৯০% মানুষ মুসলিম এই হিসাবটা তাইলে ভুল। হবে বাংলাদেশের ৪০% মানুষ মুসলিম (মানে যারা আওয়ামীলিগকে ভোট দেয় না)। সেই হিসাবে বাংলাদেশতো একটা অমুসলিম দেশ। কি বলেন? 

           

          Party
          Awami League
          BNP
          Jatiya Party (E)

          Leader since
          1981
          1984
          1986

           
           
           
           

          Last election
          62 seats, 40.02%
          193 seats, 41.40%
          14 seats, 7.22%

          Seats won
          230
          30
          27

          Seat change
           168
           170
           13

          Popular vote
          33,887,451
          22,963,836
          4,867,377

          Percentage
          49.0%
          33.20%
          7.00%

          Swing
           8.98%
           8.20%
           0.22%

           

           

           

        2. কিংশুক

          আমার ঈমাণ নিয়ে আমি ভাবি। আমার বিচারে আমাকেই জবাবদিহি করতে হবে। বাকি সবাই কি করবে সেটা ভেবে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা। আর দুই হাজার বারোর আগে আওয়ামী লীগের ইসলাম বিরোধী নীতির কথা মানুষ তেমন জানতোওনা। পরিস্থিতি এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে । পাঁচ মের আগে ও শাহবাগের নাস্তিকদের পক্ষ নেওয়ার আগে আমিও জানতামনা। 

  5. 2
    কিংশুক

    আপনিওতো আমাকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন । আন্তর্জাতিক মানের না হলেও এটা অবশ্যই আদালত যা আমি অস্বীকার করিনি , পৃথিবীর কেউই করেনা।  আইনের বলে আদালত  তৈরি । এখানে বিচারক, চেয়ার,টেবিল সব আছে। এসব তো সবাই স্বীকার করে। রায় না মেনে কারো উপায় থাকেনা। রায় কার্যকরের জন্য পুলিশ, প্রশাসন সবাই থাকে। পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলি টবি কেডম্যান নামের কোন উকিলের কথায় কোন কিছুর স্বীকৃতি দেয়না। কিছু বিচারও করেনা। তাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ,  গোয়েন্দা, লোকজনের মাধ্যমে গবেষণা করেই তারা সিদ্ধান্ত নেয়। এই আদালত আন্তর্জাতিক মানের নয় তা সর্বজন স্বীকৃত( মান খারাপ হলেও আদালতই)। আপনেতো আবার মুক্তিযুদ্ধের দলিল বিএনপি গায়েব করে দিয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। তা সরকারি কাগজপত্রের কতটি অনুলিপি,  অফিস কপি থাকে বলেন তো। আর একাত্তরের প্রত্যক্ষদর্শী, দালাল আদালতের সাথে কাজ করা কত লোকই তো এখনও বেঁচে আছে। দালাল আইনের সংজ্ঞা মতে মখা আলমগীর সহ হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী আসামি হয়। অহংকার,  চোরের মায়ের বড় গলা তো আওয়ামী লীগের। পাঁচ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস, বিএনপিকে শেষ করে দিবো, আমরা একশো বছর ক্ষমতা দখল করে রাখবো ইত্যাদি অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না আওয়ামী লীগের ও জাসদের। এই অহংকারই জাসদ নামক পচা শামুকে আওয়ামী লীগ নামক নিরংকুশ ক্ষমতাবান হাতির পতন ঘটিয়েছিল।

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      হাইকোর্ট দেখাবো কেন, এইটাতো হাইকোর্টই। হাইকোর্টের বিচারপতিরা সরাসরি এখানে আসেন এবং এর পর মামলা চলে যায় আপীল বিভাগে। অবশ্য ৭৩ সালে এই কোর্টকে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট হিসাবে আইন পাশ করা হয়েছিলো। 

      1. 2.1.1
        কিংশুক

        ঠিক আছে , আপনে আর আপনার দল স্বীকৃতি দিয়েছে তাহলে আমিও মেনে নিলাম আমার দেশের পণ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিকের বাপ। ইউরোপ,  আমেরিকা ষড়যন্ত্র করে জামাত বিএনপির , মধ্যপ্রাচ্যের টাকা খেয়ে স্বীকৃতি দিচ্ছে না, নাহলে এই আদালত বিশ্বর মডেল। এই সরকার বিশ্বর মডেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মডেল । ওনাকে নোবেল প্রাইজ না দেওয়া জামাত বিএনপি পশ্চিমা ষড়যন্ত্র । বাংলাদেশের মডেল উন্নতির কারনে আওয়ামী লীগ পশ্চিমাদের চক্ষুশূল। আমরা এখন এত শক্তিশালী যে, আমেরিকা, ইউরোপকে বেইল দিইনা। জয় বাংলা, জয় বংগবন্ধু। এখন খুশী থাকেন ।

        1. 2.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          বাংলাদেশ একটা স্বাধীন দেশ -- সেই দেশের আইন আছে সংবিধান আছে আদালত আছে -- তারা সেই আইন মেনে তাদের দেশের অপরাধীদের বিচার করবে -- এই জন্যে আমেরিকা বা ইউরোপের স্বীকৃতির কোন সুযোগ আছে নাকি? 

          যাই হোক -- অবশেষে মির্যা ফকরুল ৫ বছর পর ভারমুক্ত হয়ে বিএনপির মহাসচিব হলেন -- লক্ষ্য রাখবেন -- উনি কিন্তু এক সময়ের বাম রাজনীতি করা লোক।

          সন্মেলন করার পর ১১ দিন লাগলো তিনজন নেতাকে নিয়োগ (!) দিতে -- এই দল নির্বাচনের জয়ী হলে দেশ চালাবে কিভাবে? নিজের দলের তিনটা পদের জন্যে ১১ দিন -- বাকী কয়েকশ পদে লোক নিয়োগ দিতে কত দিন লাগবে বলতে পারেন? এতো অথর্ব একটা দলের পিছনে না হেঁটে নিজেরা একটা দল বানান -- সেই দল নিয়ে মাঠে নামেন। 

        2. কিংশুক

          বাব্বা বিএনপির জন্য দেখি দরদ উথলে উঠছে!  বিএনপির শত্রুরাও দেখি বিএনপির হিতাকাঙ্ক্ষী । আমি বিএনপিকেও দল হিসাবে দুই নম্বর মনে করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিশ্ব বাটপাড় তিন নম্বর দল। চুরি, বাটপাড়ি, মিথ্যা কথার জন্য আওয়ামী ঝুড়ি আওয়ামী লীগও নিজেই। ইসলামের শত্রুদের ঘৃণা করি  বলেই আওয়ামী লীগকে শায়েস্তার জন্য বিএনপিতে বাজি ধরেছি। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সবাই এত ইসলাম বিরোধী,  আলেম বিরোধী প্রচার না চালিয়েছে যে, আওয়ামী লীগের চাইতে বিএনপি হাজার গুন ভাল বিকল্প মনে হয়েছে । চোর বাটপাড় আল্লাহর শত্রু তে আওয়ামী লীগ ভর্তি ।

           

  6. 1
    কিংশুক

    টবি কেডম্যান উকিলের কথা বাদ দেন। উকিল যার কাছ থেকে পয়সা নেই তার পক্ষেই কথা বলে। কিন্তু বাংলাদেশের তথাকথিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক মানের বলে কি পৃথিবীর একটা দেশও স্বীকার করে? যে দেশে বিচারপতি মানিক মহান সেক্টর কমান্ডারকে আইএসআই চর বলে টক শো করে আর মুক্তিযুদ্ধের সময় দৌড়ের উপর উষ্ঠা খায় সে দেশ তো মনে হয় র এর চরে ভরে গেছে। পাকিস্তানে প্রায়ই র এর এজেন্ট ধরা খায়, গত সপ্তাহেও বেলুচিস্তানে র এর নেভী অফিসার ধরা খাইছে। জামাতের দশ বিশ জন শীর্ষ নেতার ফাঁসি দেওয়ার পর কি করবে? খালেদা জিয়া, তারেক জ িয়াকেও ফাঁসি দিতে পারবে ইন্ডিয়া?  এরপরও কি পরিস্থিতি ইন্ডিয়ার অনুকুলে থাকবে? ব্যাপারটা এত সোজা না। জামাতকে ফাঁসি দিতে পারবে ও নিষিদ্ধ করতে পারবে কারন সকল ইসলামি দল, গ্রুপ জামাত বিরোধী  (একেকজনের একেক কারন, লাভ)। আরব, আফ্রিকার ক্ষমতাসীনরাও মুসলিম ব্রাদারহুড ও জামাত বিরোধী। কিন্তু বিএনপি স্রোতের পানিতে ভেসে আসেনি যে বস বল্লো আর দেশ ছাড়া করে দিলাম। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও দশ ভাগ হিন্দু ছাড়া বাংলাদেশের বাকি সবাই একরকম ভারত বিরোধী । সামনের দিনগুলিতে বিএনপি কে যেমন অস্তিত্ব বাঁচাতে কঠিন যুদ্ধে নামতে হবে তেমনি ভারত ও আওয়ামী লীগকেও  নীল নকশা বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে কঠিন খেলা খেলতে হবে। তাও এদেশের মাটিতে একসময় ভারত ও আওয়ামী লীগকে পরাজয় মানতেই হবে।

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      টবি কেডম্যান উকিলের কথা বাদ দেন।

      বাদ দিলাম। 

       

       কিন্তু বাংলাদেশের তথাকথিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক মানের বলে কি পৃথিবীর একটা দেশও স্বীকার করে?

      "তথাকথিত" শব্দটা হচ্ছে আপনার অহংকারের প্রতিফলন। কারন আপনি আপনার স্বার্থের বিপক্ষে যাচ্ছে বলে এই আদালতকে তথাকথিত বলে অবজ্ঞা করছেন। এই অহংকার খুবই ভয়াবহ। যা হোক সেইটা ভি্ন্ন বিষয়। আপনি না মানলেও অভিযুক্তরা মেনেছে এবং আ্‌ইন মেনেই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছে। ট্রাইবুন্যাল থেকে সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত সকল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে "তথাকথিত" শব্দটা শুধুমাত্র রাস্তা রাজনৈতিক শ্লোগান হিসাবেই ব্যবহার করছে। 

      যাই হোক -- পাকিস্তান পর্যন্ত এই বিচারকে মেনেছে -- কোন দেশ এই আদালত মানে না এমন তথ্য আমার জানা নেই। হয়তো ব্যক্তিগত ভাবে অনেকের মতামত বা পরামর্শ থাকতে পাারে -- কিন্তু সার্বিকভাবে এই বিচারের বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ শুনিনি। 

      এর পরের যা বলেছে -- তা মুলত আপনার মুখস্ত গরু রচনা। বাংলার মাটিতে ভারতে পরাজয় -- আওয়ামীলীগের পরাজয় ইত্যাদি ১৯৪৭ সাল থেকেই একই রেকর্ড বাজানো শুনছি -- এই নিয়ে আসলে এই পোস্ট না। আশা করি লক্ষ্য করেছেন। ধন্যবাদ। 

      1. 1.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আসলে এই ট্রাইবুন্যালয়ের নাম থেকে কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে -- জামায়াতের কাছে সব খড়কোঁটোই গুরুত্বপূর্ন ছিলো। প্রকৃতপক্ষে যে আইনের অধীনের এই ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়েছে -- তার শিরোনাম -- "আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩" -যেখানে সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে -- 

        একটি আইন যার অধীনে বাংলাদেশের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত সকল সশস্ত্রবাহিনী, প্রতিরক্ষা ও এর সহায়ক কোন বাহিনীর সদস্যকে আটক ও ফৌজদারি আইনের অধীনে দণ্ডদান করতে পারে। আইনটিতে ট্রাইবুনাল গঠনের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিতে আইনী সাহায্যের বিধান রাখা হয়। এই আইন প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ল’ কমিশনের প্রতিবেদনসমূহের সাহায্য গ্রহণ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট যাতে এই আইনটিকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবার কারণ দেখিয়ে একে অসাংবিধানিক ঘোষণা না করতে পারে সেজন্য সংবিধান প্রথম সংশোধন আইনও পাশ করা হয়।

         

        অর্খাৎ যে সকল অপরাধ আর্ন্তজাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত -- যেমন 

        মানবতা বিরোধী অপরাধ (Crimes against Humanity)
        শান্তি বিরোধী অপরাধ (Crimes against Peace)
        গণহত্যা (Genocide)
        যুদ্ধাপরাধ (War Crimes)
        ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন বিরোধী কাজ
        আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যে কোন অপরাধ ইত্যাদি

        এই ট্রাইব্যুনাল নিম্নোক্ত অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা দল, সেনাবাহিনী কিংবা তাদের সহযোগী সশস্ত্রবাহিনীর বিচারের ক্ষমতা রাখে। 

         

        বলা বাহুল্য যে -- যুদ্ধের পরপরই রাজাকার-আলবদরদের বিচার শুরু হয়েছিলো -- দালাল আইনের অধীনে -- যা পুরোপুরো ছিলো ফৌজদারী আইনের অধীনে -- যা যুদ্ধকালীন বাস্তবতাকে প্রতিফলন করে না। তাই এই আইনটি তৈরী করা হয় ১৯৭৩ সালেই। 

        আশা করি বুঝতে পারছেন -- আদালত "আন্তর্জাতিক" না -- "আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত" অপরাধের জন্যে গঠিত আইনে তৈরী করা আদালাত -- যা পুরোপুরি বাংলাদেশের আইনে এবং বিচার ব্যবস্থার অন্তূভূক্ত। 

        আশা করি এই বিষয়ে আপনার বিভ্রান্তির অবসান হবে। 

        ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.