«

»

Jun ২২

বন্ধ করতেই হবে এই অনাচার

যত দেখি হতাশ হই – কিন্তু হতাশাতো আর কাজের কথা না। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের টিভি খুলেই স্ক্রলে ভেসে আসে “বন্দুক যুদ্ধে নিহত..”। কি আশ্চর্য – এতো বড় একটা অনাচার – অন্যায় স্বাভাবিক হয়ে গেলো একটা রাষ্ট্রে! পুলিশ হাতকড়া পড়িয়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে রাতে অস্ত্র উদ্ধার করতে যায় – গোলাগুলি শুরু হয় – শুধু মারা যায় ধৃত ব্যক্তিটি – এমন এক দূর্বল গল্পের প্লটের ব্যবহার করে প্রতিদিন আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী বিনাবিচারের মানুষ হত্যা করছে – হয়তো সেই মানুষগুলো অপরাধী – কিন্তু তাদের তার এবং পরিজনের এইটুকু অধিকার আছে যে – কি অপরাধে তাদের সন্তান বা স্বামী শাস্তি পাবে তা জানার। আর আত্নপক্ষ সমর্থনের মতো বিচারের মুখোমুখি হলো সমাজও জানতে পারতো কতটা গভীরভাবে সেই ব্যক্তি অপরাধের সাথে জড়িত – তার অপরাধের মাত্রাটাই বা কতটা। কিন্তু বিচারকে সম্পূর্ন উপেক্ষা করে এই বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড একটা অন্যায় – অনাচার।

তারচেয়েও অবাক বিষয় হলো – এই অনাচারের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই – কিছু কিছু মানুষ যাও প্রতিক্রিয়া দেখায় – লেখা বা টকশোর মাধ্যমে তাও সিলেকটিভ। কোন কোন হত্যাকান্ডের বিষয়ে এরা নিশ্চুপ থাকে – কিছু কিছু ঘটনায় এরা প্রতিক্রিয়া দেখায়। তা দেখে মনে হয় কেন যেন সবাই এই বিষয়টাকে মেনেই নিয়েছে। অথবা আমার শত্রুদের মেরে ফেললেই ভাল।

যদি কিছুটা অতীতে চলে যাই দেখবো – বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই এই ধরনের বিনাবিচারে হত্যাকান্ড বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে – কিন্তু যারা এই বিষয়ে প্রতিবাদ করতে পারতো – পরবর্তীতে তারাই আবার এই বিস্তার করেছে – ব্যবহার করেছে দ্রুত ফলাফলের আশায়। তবে এই বিনাবিচারের হত্যাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বৈধতা দেওয়া হয়েছে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়ে। প্রথম শুরু হয়ে যৌথবাহিনীর অপারেশন ক্লীন হার্টের নামে – সেখানে সেই অভিযানে পিটিয়ে ৪৬ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকার সেই হত্যার বিচার বন্ধ করে আ্‌ইন করে হত্যাকারীদের সুরক্ষা দিয়েছিলো। http://bangladeshhumanity.freeservers.com/dateline.htm

প্রচন্ড সমালোচনা মুখে অপরারেশ ক্লীন হার্ট বন্ধ হলেও বিনাবিচারের হত্যার লাইসেন্স দিয়ে তৈরী হয় র‍্যাব নামক একটা বাহিনী। তারা সকল বিচারকে উপেক্ষা করে বিনাবিচারের হত্যা চালিয়ে যেতে থাকে। র‍্যাবের পাশাপাশি পুলিশও কোবরা এবং চিতা নামে দুইটা গ্রুপ তৈরী করে – যারা এক পর্যায়ে র‍্যাবের হত্যাকান্ডকে অতিক্রম করে যায়। প্রাথমিক ভাবে এই হত্যাকান্ডের টার্গেট ছিলো বামপন্থী উগ্রদলগুলো যেমন পূর্ববাংলা সর্বহারা দল ইত্যাদি এবং চিহ্নিত মাস্তান ও চাঁদাবাজরা। সেই সময়ে এই হত্যাকান্ড এতোই নির্মম হয়ে উঠেছিলো যে – ৮৩ বছরের বৃদ্ধ উগ্রবাম নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে।

তবে সাধারন মানুষ স্বস্তি লাভ করেছিলো বলেই সেই হত্যাকান্ড নিয়ে তেমন হৈ চৈ হতো না – বরঞ্চ তার পক্ষেই ছিলো অনেক মানুষ। তখনও উগ্রমুসলিম জংগী গ্রুপ কাজ করতো – তাদের ধরাও হতো কিন্তু ক্রশফায়ার বা বন্দুক যুদ্ধে তাদের হত্যা করা হতো না। কিন্তু এখন বন্দুকের নল ঘুরে গেছে – যারা এই বিনাবিচারের হত্যার আয়োজন করেছিলো – তাদের কর্মীরাই এর শিকার হচ্ছে। জামায়াতের সক্রিয় সমর্থন তৈরী করা এই হত্যাযজ্ঞের আয়োজনের শেষ শিকার হচ্ছে শিবিরের কর্মীরাই।

cross Fire
(সূত্র দৈনিক প্রথম আলো)

লক্ষ্যনীয় যে – এক সময় আওয়ামীলীগ ক্রশফায়ারের বিরুদ্ধে ছিলো – কিন্তু এখন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেরই ক্রশফায়ারের পক্ষে নানান ভাবে যুক্তি দিতে হচ্ছে – এইটা একটা ভয়াবহ বিষয়। তারমানে দাড়ালো যে – বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৃহৎশক্তিগুলো এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে।

বলা দরকার যে – বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং বিচার প্রার্থীদের অবর্ননীয় দূর্ভোগ – দীর্ঘসুত্রিয়তা এবং দূর্নীতির কারনে বিচার বিভাগে উপর মানুষের নেতিবাচক মনোভাব আছে। একটা বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর চলে যায়। তার উপরে বিচারভিভাগের অসচ্ছতার কারনে অভিযুক্তব্যক্তিরা জামিন নিয়ে বের হয়ে পুলিশকেই হুমকি দেয়। সর্বশেষ ঘটনায় দেখি একটা চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামী তার পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে জামিন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে। তাছাড়া আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দোষীদের গ্রেফতার করে – কিন্তু তারা সহজেই প্রভাব বিস্তার করে – এবং অর্থের বিনিময়ে বড় উকিল দিয়ে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে এবং আ্‌ইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে হুমকির মুখে রাখে। এইগুলো নানান ভাবে এই বিনাবিচারের হত্যায় ইন্ধন যোগায়।

কিন্তু কোন যুক্তই এই বিনাবিচারের হত্যাকে নৈতিকতার পরীক্ষা পাশ করাতে পারে না। কিন্তু লজ্জার কথা হলো – বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধ থাকলে যতটা প্রতিক্রিয়া হয় – বিচারহীনতা এবং বিনাবিচারে খুনে ততটা প্রতিক্রিয়া নাই। এইটা ভয়াবহ একটা সমাজের ইংগিত দিচ্ছে।

হতাশ না হয়ে – বাংলাদেশে এবং দেশের বাইরে বসবাসকারী সকল বিবেকবান বাংলাদেশীর উচিত বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলী ভাবা এবং এর প্রতিবাদ করা। আজ হয়তো নেতৃত্বের দেউলিয়াত্বের কারনে রাজনৈতিক দলগুলো অসহায় এবং নৈতিকতার অভাবে দৃঢ়ভাবে এই অনাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারছে না। কিন্তু এক সময় আসবে সবাই এই বিষয় থেকে মুক্তি চাইবে – লক্ষ্যনীয় যে বিএনপি এখন র‍্যাব বিলুপ্তি দাবী করছে – একসময় আসবে যখন আওয়ামীলীগও এই দাবী করবে। এই প্রক্রিয়া যত দ্রুত হয় ততই মংগল। বাংলাদেশকেএকটা সভ্যদেশ হিসাবে গড়ে তোলা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে একটা বসবাসযোগ্য রাষ্ট্র হিসাবে রেখে যাওয়ার জন্যেই সবাইকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরী।

একজন পিতার আকুতির সাথে একমত হয়ে আসুন সবাই বলি -বিচার চাই – খুন নয়।

এই অন্যায় চলতে পারে না – রাতের আঁধারে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা যেমন অন্যায় – তেমনি আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর বিচারবিচারে হত্যাও অন্যায়। একটা অন্যায় দিয়ে আরেকটা অন্যায়কে যৌক্তিক ভিত্তি দেওয়া যায় না। তাই দাবী করছি – অবিলম্বের এই অন্যায় চর্চা বন্ধ করা হউক।

১০ comments

Skip to comment form

  1. 7
    কিংশুক

    জংগিরা আরব অঞ্চলে জিহাদের অপব্যাখ্যা করছে। মক্কা বিজয়ের পরও মক্কা মদিনার সন্নিকটে অনেক কাফের গোত্র ছিল যাঁরা মুসলিম শক্তি নিঃশেষ করতে আগ্রহী ছিল, তাদের জনসংখ্যাও মুসলিমদের দেশে বেশি ছিল। এ সময় সবাই গোত্র যা বলতো ঠিক তাই করতো কারন তখন মানুষের নিরাপত্তার একমাত্র উপায় ছিল গোত্রবদ্ধতা। বৈরি গোত্র সৈন্য পাঠিয়ে আক্রমণ করা থেকে বিদেশে ব্যবসার যাতায়াতের পথও বন্ধ করে অর্থনৈতিক দূর্যোগের কারন হতো। মক্কা মদিনার আশেপাশের পেগান, খ্রিস্টান গোত্র, রোমান,  পার্সিয়ান সাম্রাজ্যের অধীনের জমিদারদের অনেকের সাথেও মুসলমানদের চুক্তি ছিল। কিন্তু  মক্কা মদিনার হাওয়াজিন বনু ছাকিফ গোত্র প্রমূখ ও রোমানদের করদ রাজ্যের ক্ষমতাসীনরা মুসলিমদের শেষ করে তাদের নিজেদের ক্ষমতায় থাকার কাঁটা সরাতে হুনায়ন সহ অনেক যুদ্ধের পাঁয়তারা করেছে। তখন দুনিয়া ছিল শক্তিই অধিকার নীতির । রোমান পার্সিয়ান সাম্রাজ্যের রাজা বাদশা এলিটরা শক্তির জোরে সাম্রাজ্য বিস্তার করে গলাকাটা কর আদায় করে ভোগ বিলাসের চরম সীমায় জীবনযাপন করতো যেমন তাদের সকল আসবাব পত্র সোনার, রুপার, হীরার ছিল; একেক সম্রাটের হেরেমে  নারী ছিল কয়েক হাজার । আর অন্যদিকে প্রজারা না খেয়ে মরতো। অর্থাত্ অত্যাচারী রাজা ছিল। ঐ রোমান ও পার্সিয়ানরা মক্কা মদিনার স্বাধীন চেতা শক্তিকে শেষ করতে সামরিক কূটনৈতিক অনেক প্রচেষ্টা চালায়, তারা আরবদেরকে গোনায় ধরতো না। ঐ অপশক্তিদের বিরুদ্ধে জিহাদের কোন বিকল্পই ছিল না । ফলে ম দিনার শিশু ইসলামি রাষ্ট্র রক্ষায় হযরত মোহাম্মদ সাঃ, চার খুলিবার আমলে অনেক জিহাদ পরিচালনা করতে হয়েছে । শক্তি প্রয়োগ ছাড়া এ দুই সাম্রাজ্যের সাথে টিকে থাকার কোন সূযোগ ছিল না। হাজার বছর ধরে আরবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আছে, বর্তমানে জাতিসংঘ ইত্যাদির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে সবাই নিজেদের দেশের নিরাপত্তা বিধান করছে, যাই হোক অন্তত আরবে তৎকালীন বাইজেন্টাইন সাসানিয়ান দের মতো   কোন ইসলাম বিরোধী শক্তি নাই। বিশ্ব চৌদ্দশ বছর আগের মতো নাই, মুসলমানদেরও এটা বুঝে কর্মপরিকলপনা নিতে হবে। সৌদিতে থাকা আমেরিকান আর্মিদেরকে সৌদি আরব নিজেই ইরাক ইরাণ ঠেকাতে ডেকে এনেছে । তারাও সৌদি রাজার সাথে চুক্তি বদ্ধ । সৌদি রাজ পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত শিয়া বিদ্বেষ ও অনেক কুটনীতি চালায়। আরবের রাজা, আমিররা  নিজেদের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে গণতন্রকে যমের মতো ভয় পায়। গণতন্ত্র আসলে ইখওয়ানুল ইসলামের হাতে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে জংগিদের মতো গণতন্ত্রের বিরোধিতা করে। যাই হোক মধ্য প্রাচ্যের এখনকার জংগি উত্থানের পিছনে আসলে সেখানকার ক্ষমতার রাজনীতি, ইতিহাস,  বিশ্ব রাজনীতি,  তেল সম্পদ দায়ী। আসল জায়গায় চোখ না দিয়ে ঐসব বাল কায়েদা, ছাগু আইএস হয়ে যাঁরা নিরীহ মানুষ মারছে, নিজেরাও মরছে তারা পুরাই ছাগলামি করছে। এই পথে তারা অন্যদের স্বার্থে ব্যবহ্রত হচ্ছে । অনৈসলামিক জংগিবাদী পথে কিছু পাওয়া যাবেনা। কিন্তু প্রকৃত জিহাদ অস্বীকার করলে কেউ মুসলমান থাকবে না । সেই জিহাদ ঘোষণা করবেন খলিফা/আমির না হয় হক্কানি সংখ্যা গরিষ্ঠ আহলে সুন্নাহ আলেমরা।

     

     

     

     

     

     

     

  2. 6
    কিংশুক

    বাংলাদেশে এনকাউন্টার/ক্রসফায়ার, পুলিশ হেফাজতে  মৃত্যুর  শুরু বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত সময়ে। সেসময়  সমাজতান্ত্রিক  বিপ্লবের স্বপ্নে বিপথে যাওয়া এবং একমাত্র বিরোধী দল হিসাবে আবির্ভূত জাসদ ঠেকাতে চল্লিশ হাজার জাসদকে উক্ত থেরাপি দিতে হয়। জাসদও বিপ্লবের নামে বুর্জোয়া শ্রেণী শত্রু নির্মুলের নামে লাখো ডাকাতি, খুন, অরাজকতা করেছে। জাসদের সদস্যদের মধ্যে ও নেতাদের মধ্যে অনেক অনেক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন । জিয়ার আমলে সামরিক অভ্যুত্থান ও সামরিক বাহিনীর সদস্য হত্যার দায়ে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়াদের মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ছিল তার এক হাজার গুন জ াসদের ক্রস খাওয়াদের মধ্যে ছিল। দুই হাজার চার সালে  RAB গঠনের পর যেসব ব্যক্তি ক্রসফায়ারে মরেছিল তারা সবাই দশ বিশটা মামলার আসামী, চিহ্নিত চাঁদাবাজ মাস্তান ছিল। এই সরকারের সময়ে এসে বিরোধী দলকে দমনের জন্য মিথ্যা পেট্রাল বোমা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিএনপি ও জামাতের অনেক নিরপরাধী নেতা কর্মীকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে এমন এমন  সময়ে যখন দেশে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নাই। এর কারন ভয়ে কেউ যেন বিএনপি জামাত না করে। এরপর শুরু হলো পবিত্র ইসলামের নামে মহাপবিত্র জিহাদের সম্পূর্ণ অপব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিরপরাধী মানুষ মারা জ েএমবি আইএস জংগিদের ক্রসফায়ার দেওয়া । ইসলামের জিহাদ হলো ইসলামিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায়, অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনে খলিফা/আমির/রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশে বিদেশী, স্বদেশে ইসলামের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করা।কোনক্রমেই নিজের মনমতো নিরীহ মানুষের উপর আত্মঘাতী হামলা করা না, জিহাদ ফরজে কিফায়া। বর্তমানে দেশের টাকায় পরিচালিত সেনাবাহিনী,  পুলিশ ওরা জিহাদে অংশ নিবে। হযরত মোহাম্মদ সাঃ, চার খলিফা ও পরবর্তী ইসলামি শাসকরা জিহাদ বলতে ঐ পথই দেখিয়েছেন । সশস্ত্র জিহাদ সর্বশেষ অপশন। এছাড়া জিহাদ বলতে নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই, তাবলিগ, গণতান্ত্রিক পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এগুলো বড় জিহাদ। ইসলামি রাস্ট্রের সৈনিকরা যথেষ্ট না হলে দেশের তরুণরাও জিহাদে অংশ নিবে, যেমন কোরিয়া সহ বিশ্বের অনেক দেশেই সব তরুণকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ভিয়েতনামের যুদ্ধে বেসামরিক তরুনদেরও অংশ নিতে হয়েছিল । আসলে যখন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন তখন সবাইকেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়, ইসলামেও তাই। কিন্তু শান্তির সময়ে সশস্ত্র জিহাদের প্রশ্নই আসে না, সশস্ত্র জিহাদ শেষ অপশন।ইসলাম শান্তির ধর্ম। ফিতনাবাজদের ফিতনা দুর করার জন্যই জিহাদ, ফিতনা বাড়াতে জিহাদ নাই। যাই হোক এখন ইসলাম থেকে খারিজ আইএস জ েএমবি জংগিদের ক্রসফায়ার থেরাপি দেওয়া হচ্ছে । কিন্তু ক্ষমতা লোভী সরকার অনেক নিরপরাধ কেও মারছে। এই থেরাপি দিয়ে নাইজেরিয়া প্রভৃতি আফ্রিকান দেশ একশ ভাগ একই আদর্শের বো কো হারাম প্রভৃতি খারেজি দলকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। বাংলাদেশের বর্তমান   অজনপ্রিয়  ( কিন্তু এমনিতে শক্তিশালী জন ভিত্তি ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা সমর্থক থাকা) সরকারও পারবেনা। এই ফিতনা দুর করতে হলে দেশের হক্কানি আলেমদের সাথে আওয়ামী লীগের দুশমনি বন্ধ করে সেকুলারিজম বাদ দিতে হবে কারন বাংলাদেশে সেকুলারিজম চালুর পরিবেশ, সময় কোনটাই নাই। স্বয়ং ভারত, রাশিয়া,  ইউএস চাইলেও পারবেনা।

     

  3. 5
    Moshiur

    সেই সময়ে এই হত্যাকান্ড এতোই নির্মম হয়ে উঠেছিলো যে – ৮৩ বছরের বৃদ্ধ উগ্রবাম নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে…..I want to know the name and place( possibly date ) of this killing.

  4. 4
    সুজন সালেহীন

    দরবারী উলামাদের কান্ডটা দেখুন যে বিষয় নিয়ে ফতোয়ার প্রয়োজন নেই, সেটা নিয়ে ফতোয়ার আয়োজন করছে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ ইসলামে হারাম ও নিষিদ্ধ, তাই জঙ্গিবাদ অবৈধ এর জন্য ফতোয়ার দরকার হয় না। মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কুৎসা রটনা কারীদের বিরুদ্ধে, পাঠ্য বইয়ে ইসলাম বিমুখ শিক্ষা দানের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কতৃক গুম-খুন, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার অতঃপর বিনা বিচারে ক্রসফায়ার, বন্দুক যুদ্ধের নামে মানবহত্যা, সারা দেশ ব্যাপী ইয়াবা আগ্রাসনের বা মাদকদ্রব্য বেচা-কেনার বিরুদ্ধে ফতোয়া বর্তমান সমাজে সময়ের অপরিহার্হ্য দাবী। অথচ সে বিষয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। 

  5. 3
    সুজন সালেহীন

    দরবারী উলামাদের কান্ডটা দেখুন যে বিষয় নিয়ে ফতোয়ার প্রয়োজন নেই, সেটা নিয়ে ফতোয়ার আয়োজন করছে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ ইসলামে হারাম ও নিষিদ্ধ, তাই জঙ্গিবাদ অবৈধ এর জন্য ফতোয়ার দরকার হয় না। মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কুৎসা রটনা কারীদের বিরুদ্ধে, পাঠ্য বইয়ে ইসলাম বিমুখ শিক্ষা দানের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কতৃক গুম-খুন, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার অতঃপর বিনা বিচারে ক্রসফায়ার, কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা, দেশ ব্যাপী ইয়াবা আগ্রাসনের বা মাদকদ্রব্য বেচা-কেনার বিরুদ্ধে ফতোয়া বর্তমান সমাজে সময়ের অপরিহার্হ্য দাবী। অথচ সে বিষয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। 

  6. 2
    এম ইউ আমান

    অনেক স্থানে, অনেকভাবে, অনেক দুর্বলতা না থাকলে একজন হত্যাচেষ্টাকারীকে জনগণ ধরে পুলিশের হাতে দেওয়ার পরেও তাকে বিচারের সম্মুখীন করা যায় না; (বন্দুকযুদ্ধে!) হত্যা করা যায়।ধরা পড়ার পর আশা জেগেছিল ক্রিমিনাল কর্মকান্ডে জড়িত কাপুরুষ চাপাতি বাহিনীর মাস্টারমাইন্ডগুলির কিছু হদিস মিলতে পারে। দেখা যাচ্ছে, সে রকম আশা আরো কিছুদিন পরে করা ভাল হবে।   

    “আওয়ামীলীগ ক্রশফায়ারের বিরুদ্ধে ছিলো”

    “লক্ষ্যনীয় যে বিএনপি এখন র‍্যাব বিলুপ্তি দাবী করছে – একসময় আসবে যখন আওয়ামীলীগও এই দাবী করবে”।

    একটি দলের পর আরেকটি দল, তারপর আবার আগের দল, এরকম না হয়ে একই সময়ে, সাধারণ জনগণের সাথে সাথে, বড় দুটি দলকেও ক্রসফায়ারের বিলুপ্তি চাইতে ও কার্যকর করতে হবে। ‘ক্রসফায়ার’ বিচারের নাম নয়- বিচারহীনতার নাম।

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আমি আশাবাদী একটা সময় আসবে যখন সবাই মিলে চিৎকার করবে -- এই অন্যায় বন্ধ করো। 

       ‘ক্রসফায়ার’ বিচারের নাম নয়- বিচারহীনতার নাম।

      এইটাই হলো মুল কথা। 

      ধন্যবাদ। 

  7. 1
    মাহফুজ

    //রাতের আঁধারে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা যেমন অন্যায় – তেমনি আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর বিচারবিচারে হত্যাও অন্যায়// -- সহমত।

    তবে মার্কামারা দাগি আসামীদের ব্যাপারে আমি হার্ডলাইনে থাকারই পক্ষে।

    কিন্তু তাই বলে সন্ত্রাসের খাতায় যাদের নামগন্ধও ছিলনা, সাক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ না করেই রাতের আঁধারে কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে তাদেরকে হত্যার করাটা মটেই উচিত নয়। মানবতা ও আইন- উভয় দৃষ্টিকোন থেকে এটি জুলুম এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    অবিলম্বে এই অন্যায় চর্চা বন্ধ করা হউক।

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনিও পক্ষান্তরে এই অন্যায়কে সমর্থন দিলেন। অপরাধী যেই হোক  -- বিচারের বাইরে শাস্তি দেওয়া অন্যায়। 

      "সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত।" (১৭:৩৩)

       

      অপরাধী যত বড়ই হোক -- তাকে বিচার বহির্ভূত হত্যা অন্যায়। 

       

      1. 1.1.1
        মাহফুজ

        হার্ডলাইনে থাকা মানেই বিচারহীনতা নয়। প্রয়োজনে ক্ষেত্র ও পাত্র ভেদে তাৎক্ষণিক বিচারের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি প্রদান করেও হার্ডলাইনে থাকা যায়।

        তাছাড়া দাগি আসামীরা যখন আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় এবং তাদের হিংস্র থাবা সাধারন জনগণই শুধু নয় বরং সুযোগ বুঝে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহীনির উপর তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন দেশ ও দশের বৃহত্তর স্বার্থে সেই সন্ত্রসিী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য অনেক সময় হার্ডলাইনে না গিয়েও উপায় থাকেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.