«

»

Jul ১৮

বাংলাদেশের জঙ্গীবাদ ও খেলারামদের খেলা

বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের সবচেয়ে নির্মম প্রদর্শনীর পর নানান খেলা দেখলাম – কিন্তু খেলারামদের চিনলাম কিনা সেইটাই প্রশ্ন। এই লেখায় বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের বিস্তার এবং তার পিছনের খেলোয়ারদের বিষয়ে সামান্য আলোচনা করার চেষ্টা করবো। এই লেখার পুরো বিষয়টাই দীর্ঘ দিনের পর্যবেক্ষন ভিত্তিক। তাই দিন তারিখের বিষয়টা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হলো না। শুধুমাত্র ঘটনাক্রম এবং পর্যবেক্ষন ভিত্তিক বর্ননাই এই লেখার ভিত্তি।

শুরু করি শেষ ঘটনা দিয়েই। গুলশানে ২০ টা তাজা প্রান – ২ জন পুলিশ অফিসার নিহত হলো – পুরো বিশ্বের খবর হলো। যারা বাংলাদেশের আইএস আছে এই উপপাদ্য প্রমানের জন্যে আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছিলো – তারা প্রায় সফল হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু তার কয়দিন পরই শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে হামলা – হামলার আগে ফেইসবুক-ব্লগে জামাত-শিবিরের শোলাকিয়ার ইমাম বিষয়ক প্রপাগান্ডা এবং হামলার দিন খবর বিকৃত করে প্রচারের পর আইএস বিষয়ক উপপাদ্যওয়ালার সবাই গর্তে ঢুকে গেলো – কারন সবাই জানে কারা শোলাকিয়ার ইমামের বিরোধী। একদল খেলতে চাইলো – গুলশানের ঘটনা পর আমেরিকান সিকিমন্ত্রী তার সফল ত্বরান্বিত করলো – কিন্তু শোলাকিয়ার ঘটনার পর সবই ভেস্তে গেলো। নেমে গেলো আরেকদল – নাস্তিক-তরিকত-হানাফি-জামাতি সবাই মিলে জাকির নায়েককে বলির পাঠা বানালো। যদিও মনে করেছিলাম সাবেক বৈজ্ঞানিক জঙ্গী ইনু আর হালের হাজি রাশেদ খান মেনন এই কাজ করেছে – কিন্তু যেখানে পান থেকে চুন খসলে আওয়ামীলীগ ইসলাম ধ্বংস করেছে বলে যারা চিৎকার করে – তারাই নানান ভাবে পিস টিভি বন্ধের পক্ষে সাফাই গাইতে লাগলো – তখন বুঝতে বাকি থাকলো না এই খেলার খেলোয়ারগনের পরিচয় কি। কানাঘুষা শুনছি – আওয়ামীলীগের সাথে হেফাযতের বিশেষ সমঝোতার ফল এই পিসটিভি বন্ধ আর মাঝের থেকে লাফাচ্ছিলো নাস্তিক-বামরা। কিন্তু পিসটিভি-জাকির নায়েক খেলার দিয়ে নাস্তিক-বামদের ব্যস্থ রাখার ফাঁকে সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির কাজটা সেরে ফেললেও ফেইসবুকীয় বিপ্লবীরা তাদের বিপ্লব করা স্পেস পাচ্ছিলো না।

এখানে বলা দরকার – জাকির নায়েক অঘোষিতভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়েছে ২০১২ সালে – সেই সময় উনার বাংলাদেশের সফরের পরিকল্পনা সরকারের পরামর্শে বাতিল করা হয়েছিলো। তখনও নাস্তিকরা হৈ চৈ করেছিলো – কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনই এই বিষয়ে ব্যবস্থা করে। বলাই বাহুল্য তখন আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় মিত্র ছিলো মাজার-পীর ব্যবসায়ী সংগঠন তরিকত ফেডারেশন। তরিকত ছাড়াও আরো কিছু ইসলামিক সংগঠন তখন জাকির নায়েককে “কাফের” ঘোষনাও করেছিলো। কালক্রমে আজ আওয়ামীলীগের মিত্রের তালিকায় তরিকতকে পিছনে ঠেলে দিয়ে ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশ আর ফরিউদ্দিন মাসুদের নেতৃত্বে একটা বিরাট দল রয়েছে। লক্ষ্যনীয় যে ফরিদউদ্দিন মাসুদের সর্বশেষ জঙ্গীবাদ বিরোধী ফতোয়ায় হেফাযতের সেক্রেটারী জেনারেলও স্বাক্ষর করেছে – তাতে ধারনা করা যায় ৫ই মের ঘটনাকে পাশে রেখে হেফাযত এখন আবারো আওয়ামীলীগের মিত্রে পরিনত হয়েছে। এই সকল মিত্রকে খুশী করার লক্ষ্যেই পিস টিভি নিষিদ্ধের মতো কাজটা করেছে সরকার। বাড়তি লাভ হলো এতে জামাতের মৌন সমর্থনও পেয়েছে।

সুতরাং জঙ্গীরা এখানে মানুষ মারে – নিজেরা মরে – কিন্তু খেলে অন্যরা – এবারের খেলোয়ার আওয়ামীলীগ, নাস্তিককুল, হেফাযত, তরিকতসহ জামাতও। শুধু বিএনপি এই খেলায় শরিক হতে পারলো না – তাই এরা নানান ভাবে “ঐক্য” কথা বলে টেবিলে আসার চেষ্টা করছে। প্রশ্ন হলো – ঐক্য হলেই জঙ্গীরা বাড়ি ফিরে আসবে এই নিশ্চয়তা কি বিএনপি দিতে পারে – তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় – এই জঙ্গীবাদের পিছনে কি বিএনপির কোন ভুমিকা আছে – এই আলোচনা এবং প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বিএনপিকে। আপাতত বিএনপি খেলার সুযোগ পাচ্ছে না – অন্তত দৃশ্যমান খেলায়।

(২)

এবার যাই পিছনের দিকে। বৈশ্বিক জঙ্গীবাদের সৃষ্টি এবং বিস্তার নিয়ে বেশী কথা বলার দরকার নেই। সবাই জানেন বিন লাদেনের পিছনে কারা ছিলো – কিভাবে বিন লাদেন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আলোচনা বিষয় হলো বাংলাদেশের মতো একটা শান্তিপূর্ন দেশ – যেখানে ৯০ ভাগ মানুষ একই ধর্মের অনুসারী – সেখানে এই জঙ্গীবাদের ক্যান্সারটা গেলো কি করে। এই বিষয়ে আমার পছন্দ হলো হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ – যদি বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিস্তারের বিষয়ে কোন পুরষ্কার দেওয়া হয় -অথবা জঙ্গীবাদের জনক নির্বাচন করা হয় – তবে আমার পছন্দ হবে এরশাদ। তবে অনেকে জেনারেল জিয়াকে জঙ্গীবাদের জন্যে দায়ী করেন – তারা বিশেষ দৃষ্টিভংগীর কারনে করেন। সত্য ঘটনা হলো জিয়া “বৈজ্ঞানিক জঙ্গীবাদ” নির্মূলে বঙ্গবন্ধুর তৈরী রক্ষীবাহিনীর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করে বাংলাদেশকে একটা পর্যায়ের জঙ্গীমুক্ত করেছিলেন – এই জন্যে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে এরশাদ দেশের মানুষ যখন গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ব্যস্ত – তখন আন্তর্জাতিক প্রভুদের খুশী করার জন্যে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের জন্যে যোদ্ধা সংগ্রহের জন্যে উন্তুক্ত করে দিয়েছিলেন। যখন আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী মুজাহিদিনের যৌথ বাহিনী কাছে প্রায় পরাজিত হয়ে যাচ্ছিলো – তখনই তাদের নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ সৃষ্টি হয় – আমেরিকান সিআইএ দেরী না করেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আর গোয়েন্দাবাহিনীর সহায়তায় বিদেশ থেকে যুদ্ধা আমদানী শুরু করে – লন্ডন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের গহরডাঙ্গা মাদ্রাসাও এর আওতায় ছিলো। হাজার হাজার মাদ্রাসার ছাত্র উচ্চশিক্ষার নামে তখন করাচীর উদ্দেশ্যে পিএআইএর ফ্লাইটে চেপেছিলো। তাদের থেকে বাছাইকরে ট্রেনিং দিয়ে তালেবাদদের সাথে যুদ্ধা করা জন্যে পাঠানো হয়েছে। তাদের একটা অংশ যুদ্ধ শেষ হলে ফিরে আসে – কিন্তু কিছু অংশ রয়ে যায় বৃহৎ জেহাদের উদ্দেশ্যে। তাদের নেতা ছিলো ওসামা বিন লাদেন। কিন্তু ৯/১১ এর পর আমেরিকান বোমার তান্ডবে এরা ফিরে আসে। তাদের লক্ষ্য হয় দেশে জেহাদ করা। তাদের টার্গেট ছিলো তাগুদ সরকার। বলাই বাহুল্য এই প্রাথমিক যোদ্ধাদের সিংহভাগ সরবরাহ আসে কওমী মাদ্রাসা থেকে। তাদের মাঝে স্বনামধন্য মুফতি হান্নান অন্যতম – যার আক্রমন বৃটিশ রাষ্ট্রদূত থেকে আওয়ামীলীগের ২১ আগস্টের জনসভা পর্যন্ত বিষ্তৃত।

প্রাথমিক এই জঙ্গীদের নিয়ন্ত্রন ছিলো দৃশ্যত বিএনপি-জামাতের হাতে। বিশেষ করে বাংলাভাই এর উত্থান ছিলো দেখার মতো। রবিনহুডের মতো একদল উগ্রপন্থীকে হঠিয়ে সে জনমনে স্থান করে নিয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে সে হয়ে উঠে তৎকালীর ক্ষমতাসীনদের পুতুল। বাগমারা থেকে শুরু করে রাজশাহীর বৃহৎ অঞ্চলকে আওয়ামীমুক্ত করার দায়িত্ব পড়ে তার উপর। বলা দরকার এখানে জঙ্গী সরবরাহের দ্বিতীয় সোর্স হিসাবে আসে জামায়াত – নারী নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কে বাংলাভাই শিবির ছাড়লে জামায়াত তাকে রাজনৈতিক ভাবে ছায়া দিয়ে রেখেছিলো। যার জন্যে পুরো দেশে একযোগে বোমা ফাটিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের পর নিজামী সংসদেন দাড়িয়ে বলেছিলো – বাংলা ভাই বলে কিছু নাই – এ্‌ইটা মিডিয়ার সৃষ্টি। আর বিএনপির এক অংশ প্রত্যক্ষভাবে বাংলাভাই তথা জেএমবিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিতো বলেই প্রবল দেশী ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাভাইদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন – তখনও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি – এমনকি তার সহযোগীদের গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষ মহলের ফোনের কারনে।

যশোরে উদিচীর সন্মেলনে বোমা হামলা থেকে শুরু হয়ে, রমনা বটমূলে বোমা হামলা, নানান জায়গা সুইসাইডাল এটাক ইত্যাদির মাধ্যমে যখন জংগীরা দেশের মানুষদের ভয়ার্ত করে তুলছিলো – তখন খেলায় মত্ত হয়ে উঠে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ – প্রকৃত অপরাধীদের ধরা বা বিচারের ব্যবস্থা করার চাইতে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করে ভোটের রাজনীতিতে নেতিবাচক গেইম খেলার চেষ্টা আমরা দেখেছি। শামসুর রাহমানের উপর হামলা থেকে শুরু করে রমনার বটমূলের হামলার কোন বিচারই হয়নি আজতক। কারন ক্ষমতাশীনরা বিচারের চেয়ে এই গেইমে বেশী সুবিধা নিতে চেয়েছে।

পরবর্তীতে যখন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসলো – তখন জঙ্গীদের প্রতিটি হামলা থেকে তারা ফায়দা নিতে কার্পন্য করেনি। ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা হামলা করলো জেএমবি – ঢাকায় গ্রেফতার হলো মুনতাসির মামুন, শাহরিয়ার কবির আর আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা। কিছুদিন পর বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হলো মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ আর রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করা হয় ড, আসাদুল্লাহ গালিবকে। বলাই বাহুল্য এই সব গ্রেফতার শুধুমাত্র জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের উদ্দেশ্যেই করা হয়।

মানুষ মরেছে – জেহাদের নামে একদল নিজেদের বোমা দিয়ে উড়িয়েছে – প্রতিপক্ষের সভায় বোমা মেরে মানুষ মারা হয়েছে – পংগু হয়েছে শত শত মানুষ – কিন্তু খেলোয়ারগন খেলে গেছে। সেই সময় খেলায় এগিয়ে ছিলো বিএনপির একাংশ আর জামায়াত। অবশ্য আওয়ামীলীগ আর বামরাও খেলেছে। খেলেছে নাস্তিকরাও। সবাই সবার দিকে ঝোল টানার চেষ্টা করেছে।

(৩)
বলা দরকার। এই আধুনা ইসলামের নামে গজিয়ে উঠা জঙ্গীবাদের আগে সমাজতন্ত্রের নামে জঙ্গীবাদে কবলে ছিলো বাংলাদেশ। আগেই বলেছি – বৈজ্ঞানিক জঙ্গীদের দমন করা জন্যে তৈরী হয়েছিলো রক্ষীবাহিনী। যদিও আজকের র‍্যাবের মতো তাদের হাতে মানুষ মারার লাইসেন্স ছিলো না – তারপরও তার মোটামুটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করেছিলো- অবশ্য জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের শুরুতেই এদের উপর স্টীমরোলার চালিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। সেই সময় সর্বহারা নামে আরেকদল বামপন্থী জঙ্গী ছিলো – যাদের নেতা জংগী সিরাজ শিকদার বাংলাদেশের প্রথম ক্রশফায়ারের ভিকটিম হয়েছিলো – কিন্তু সর্বহারাদের কর্মকান্ড বন্ধ করা সম্ভব হয়নি – কারন পশ্চিম বংগের বামদের একটা প্রশ্রয় এরা পেতো। বিএ্নপি জামাতের চারদলীয় সরকার শুরুতে অপারেশ ক্লিন হার্ট করে কিছু নির্মূল করলেও পরে র‍্যাব বানিয়ে তাদের সোজা পরপারে পাঠানো শুরু করেছিলো। বাংলাভাই এবং জেএমবি এই কাজে হাত লাগিয়ে সরকারকে সহায়তা করেছে অবশ্যই। তখনও র‍্যাবের বন্দুক ইসলামের নামে জঙ্গীবাদের দিকে ঘুরেনি। কিন্তু পরবর্তীতে র‍্যাবই বাংলাভাই এবং শায়েখ আব্দুর রহমানের মতো কুখ্যাত জঙ্গী নেতাদের গ্রেফতার করে। ফকরু্দ্দিনের সরকার এসে এদের ফাঁসি দিয়ে জঙ্গীবাদের প্রথম পর্ব সমাপ্ত করে। কিন্তু ইতোমধ্যে সরকার বদল এবং রাজনৈতিক ঢামাডোলের সুযোগে বিপুল সংখ্যক জংগী জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আবার সংঘটিত হতে থাকে। তবে র‍্যাব এবং পুলিশের তৎপড়তায় এরা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বেশ কিছু কাল।

(৪)

অবশেষে এলো জঙ্গীবাদের দ্বিতীয় পর্ব – এবার জঙ্গী সরবরাহের দায়িত্বে কাঁধ লাগায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যায়লগুলো। এই বিষয়ে অনেক সতর্কতা উচ্চারনের পরও সমাজের উচ্চপর্যায়ের মানুষদের একটা ডিনায়াল স্টেজে দেখা যায়। জঙ্গী মানেই মাদ্রাসার ছাত্র – গরীব – ইত্যাদি একটা বায়বীয় ধারনার ভিতরে সবাই ঢুকে ছিলো। কিন্তু জঙ্গীবাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাবা টাকায় কেনা দামী কম্পিউটারের মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতে বাসকরা কিশোরদের সহজেই টার্গেটে পরিনত করে। এরা হয়ে উঠে ভার্চুয়াল জগতের জেহাদী। অনলাইনের আস্তিক-নাস্তিক যুদ্ধকে এরা টেনে আনে বাস্তবে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটা শক্তিশালী চক্র কাজ করেছে বলে ধারনা করা যায়। খেলোয়ার যথারীতি রাজনৈতিক দলগুলো। আওয়ামীলীগ সরকারকে ফেলে দিলেও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা যাবে এই সোজা অংকের হিসাবে এরা জঙ্গীদের মাঠে নামায়। এই ক্ষেত্রে দেখা যায় হিজবুত তাহিরী বা জেএমবি বা আনসারাউল্লাহ বাংলা টিম নামে নানান সংগঠন তৈরী করা হলেও প্রতিটি সংগঠনের পিছনে শিবিরের সাবেক বা বর্তমান নেতারা কাজ করেছে। আর প্রচার-প্রপাগান্ডার কাজটা সরাসরি করেছে জামাত-শিবিরের টিম (বাঁশের কেল্লা ইত্যাদি) – এরা সুপরিকল্পিত ভাবে টার্গেট ঠিক করে হত্যাকান্ড চালিয়েছে। দৃশ্যত প্রচার-প্রপাগান্ডার সুবাদে এই হত্যাকান্ডগুলো বিষয়ে সাধারন মুসলিমদের কাছ থেকে মৌন সন্মতি আদায়ও করতে পেরেছে বটে।

এখানে দেখা যাচ্ছে খেলোয়ার হিসাবে জামাত-শিবির এবং ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন ছিলো – এবং দৃশ্যত আন্তর্জাতিক একটা চক্রই সরাসরি এই কাজে সহায়তা করেছে। বলাই বাহুল্য বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্যে লোভনীয় একটা জায়গা – নানান শক্তি বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করছে। বর্তমান সরকার রাশিয়া-ভারত জোটের সাথে কঠিন বন্ধনে জড়িয়ে আছে – আমেরিকা অনেকটা সতীনের মতো নানান ভাবে দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছে। এইতো গেলো আন্তর্জাতিক বিষয়। আঞ্চলিক ভাবে পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী নিজেদের জাতীয়তাবাদী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করছে এবং ভোটের রাজনীতিতে মুসলিম ভোট নিশ্চিত করার জন্যে বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তিকে অবাধে বিচরনের সুযোগ করে দিয়েছে। মুলত জেএমবি বা অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনগুলো পশ্চিম বংগে ঘাঁটি গেড়ে বসে সংঘঠিত হয়ে বাংলাদেশে আক্রমন গুলো করার সুযোগ পেয়েছে।

এখানে লক্ষ্য করা দরকার – প্রতিটি জঙ্গঅ আক্রমন বাংলাদেশের মানুষকে ভয়ার্ত করে তুলছে এবং তাতে বর্তমান সরকারের জন্যে আরেকটু সুযোগ বাড়ছে টিকে থাকার। মানুষ সরকারের উপরই নির্ভর করতে চাইবে। শুরুতে বলেছি – গুলশানের হামলা সুযোগ সরকার একদিকে তাদের প্রতি বৈরী ইসলামী দল ও গোষ্ঠীকে কাছে টানার সুযোগটা নিয়েছে পিস টিভি বন্ধ করে – অন্যদিকে ভারতও রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ চুক্তিটা বিনা বাঁধায় করে নিতে পারলো। এখানে প্রশ্ন হলো ২০ টি তাজা প্রানে বিনিময়ে এক ঢিলে কে কতটা পাখী মারতে পারলো।

(৬)

শেষ কথা হলো – বাংলাদেশে এই জঙ্গী তৎপড়তার এবং এর বিস্তারে পিছনে কম বেশী সবার অবদান আছে – এখন একদল আরেকদলেই দিকে আগুল দেখাচ্ছে – কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ কেউ এই অপতৎপড়তাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে – কেউ বা চুপ করে থেকেছে – কেউ প্রপাগান্ডা করে উস্কে দিয়েছে – কেউ বা বিচার না করে অপরাধকে সহায়তা করেছে।

তাহলে কি হবে এর ভবিষ্যত? বারবার বলেছি – এইগুলো হচ্ছে কালের চক্র – এক সময় এই জোয়ার শেষ হয়ে যাবে – হয়তো আরেকদল উগ্রপন্থী এদের জায়গা নেবে। মাঝে থেকে কিছু মায়ের বুক খালি হবে – কিছু পরিবার তাদের সদস্যকে লজ্জাজনক ভাবে হারিয়ে সারাজীবন বোঁঝাটা টেনে যাবে। আর খেলারামরা খেলেই যাবে – এই খেলায় কেউ সাময়িক লাভবান হলেও কার্যত সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

(৭)

তাহলে আমাদের করনীয় কি?

সোজা হিসাবে – রাষ্ট্র কাউকে রক্ষা করতে পারবে না – রাজনীতির নোংরা খেলায় খেলায়ারড়রা আপনার আমার সন্তানদের দাবা গুঁটি বানাতে চাইবেই। এই ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরই সন্তানদের রক্ষার কাজটা করতে হবে। এই জন্যে পৃথিবীর লাভের পিছনে ছোটাছুটির সময় কিছুটা কমিয়ে সন্তানদের সাথে সময় কাঁটানো এবং সন্তানদের মনজগতের অন্যের প্রবেশের পূর্বেই সটিক শিক্ষার মাধ্যমে ভাল আর মন্দের পার্থক্য করার মতো শিক্ষা দিতে হবে। অন্যের হাতে সন্তানের শিক্ষা পুরো দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিত না হয়ে – নিজেই শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়া এবং এই জন্যে নিজেই আগে শিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা করা। নিজেদের ঘরকেই ইসলাম চর্চার কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা এবং সেখানে মুক্ত আলোচা করে সন্তানদের মতাদর্শ তৈরীতে সহায়তা করার মধ্যমে অনলাইনের ভার্চুয়াল জেহাদীদের হাত থেকে আমরা আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে চেষ্টা করা জরুরী বলে মনে করছি। একজন পিতা হিসাবে আমার উপলদ্ধিটা এমনই।

৩১ comments

Skip to comment form

  1. 15
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আলোচনা করার জন্যে। বস্তুত মুসলমানরা আজ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কাশ্মির থেকে সোমালিয়া -- সর্বত্রই মুসলিমরা কঠিন সময় পার করছে। সিরিয়া, ইরাক আর লিবিয়ার অবস্থা ভয়াবহ। এই সময়ে সবচেয়ে বেশী দরকার ছিলো মুসলিম সমাজের ্‌ঐক্য। কিন্তু আপাতত সেই সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হচ্ছে। যদি এই পোস্টের মন্তব্যগুলোর দিকে নজর দেই তা হলেই তা পরিষ্কার হয়ে যায় যে -- বিভেদ তৈরী সকল সরঞ্জামই আমাদের নখদপর্নে -- কোরান-হাদিসের চর্চার চেয়েও অধিক পরিমানে বিভেদ চর্চাই হয় বলে মনে হচ্ছে। 

     

    জঙ্গিরা মুসলিম দাবীদার -- এদের মধ্যে যারা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাদের ইসলামের প্রতি মমতা এবং আকর্ষনকেই পুঁজি বানিয়েছে একদল মানুষ -- জীবিত দুইজনের বিষয়ে জানা যায় -- তাদেরকে মসজিদ থেকেই রিক্রুট করা হয়েছে। এ্ই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেন সালাফি, কেন দেওয়ানবাগী এই বিভাজন তৈরী করে জঙ্গিবাদের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। দরকার সুষ্পষ্ট ঘোষনা এবং জঙ্গীবাদের উৎসমুখ বন্ধ করা। 

     

    আশা করি দ্রুতই বাংলাদেশের জঙ্গি সমস্যা একটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে -- কিন্তু তার যে পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যাবে তা বলা যায় না। কারন জঙ্গীদের কিছু কিছু কাজের বিষয়ে আমাদের একটা নীরব সমর্থণও থাকে বটে। আর আছে নীতিআদর্শহীন ক্ষমতার রাজনীতি -- এই পরষ্পর বিরোধী দুই লুটেরা শ্রেনীর ক্ষমতার লড়া্ইয়ের সুবাদে জঙ্গিবাদে একটা উপাদান বেঁচে থাকবেই। যেমন কল্যানপুরের ঘটনা পর রাজনৈতিক দলগুলো নোংরা রাজনীতিতে নেমে পড়েছে -- যা জঙ্গিদের কুৎসিত চেহারাটা আড়ালে চলে যেতে সহায্য করবে। তা ছাড়া মিডিয়াগুলো আয়-রোজগার বাড়ানোর জন্যে দেশের ভিতরে সব সময়ই কিছু একটা ঘটা দরকার এবং তারা তার জন্যে চেষ্টা করেই যাবে। 

    আবারো সবাইকে ধন্যবাদ। 

  2. 14
    মাহফুজ

    কেউ কেউ দেশময় একে অপরের রক্ত ঝারায়, আবার কেউ তন্ত্র-মন্ত্রের তালে তালে গোটা পৃথিবীময় নৃত্য করে রক্তের নেশায়। এই রক্ত পিপাসুদের নিস্তার নাই। আসুন! তাদের সকলকে শান্তির স্বার্থে রক্তের নেশা থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। তা না হলে তাদের চরম পরিণতির জন্য তো মহান আল্লাহর ফয়সালা ও শান্তিকামীদের প্রচেষ্টাই যথেষ্ট হবে, ইনশাল্লাহ।

    আল্লাহতায়ালা আল-কোরআনে বলেন-
    (০৪:৭৫) অর্থ- আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর পথে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।
    (০৮:৩৯) আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যে পর্যন্ত না ফেতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থার অবসান হয়, আর দ্বীন/ ধর্মের সবই তো আল্লাহরই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) জন্য। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।
    (০৮:৪৬) আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
    (০৯:২৯) অর্থ- তোমরা যুদ্ধ কর ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না এবং নিষিদ্ধ করে না- যা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রসূল এবং তাদের সত্যধর্ম স্বীকার করে না যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা স্বেচ্ছায় ‘জিযিয়া’ প্রদান করে এবং তারা দমিত হয়।
    (০৯:৭৩) অর্থ- হে নবী, অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যিহাদ অর্থাৎ সংগ্রাম কর এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের ঠিকানা হল দোযখ- নিঃসন্দেহে কত নিকৃষ্ট পরিনাম!
    (০৯:০৬) অর্থ:- আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।

    ‘কিতাল বা যুদ্ধ’, ‘সন্ধি’ এবং ‘জিজিয়া’
    https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/middle-way-is-the-best-madhyapantha-i-uttama/08-war-treaty-zizia-kitala-ba-yud-dha-sandhi-ebam-jijiya

    1. 14.1
      কিংশুক

      @মাহফুজ: আপনি কোরআনের যে আয়াতগুলি উল্লেখ করেছেন তার প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা শানে নুরুল, তাফসির আছে। কিতালের আয়াতগুলি কি তাল অপরিহার্য হওয়ার সময়ে নাজিলকৃত। সবগুলি কিতাল মুসলমানরা নিজেদের ধর্ম,  জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে করেছে। বিশেষতঃ আহলে কিতাবদের ইহুদিদের বিষয়ে কিতালের সুরা আহযাব, হাশর ইত্যাদি সুরা বনু কোরাইজা, বনু নাজির, বনু কাইনুকার বিরুদ্ধে নাজিল হয় । শিশু ইসলামি রাষ্ট্র মদিনায় মুসলিমদের  ধর্ম, জানমাল রক্ষায় কিভাবে বাধ্য হয়ে ঘর শত্রু ইহুদিদের মক্কার ও আরবের ম ুশরিকদের সাথে ষড়যন্রের প্রেক্ষাপটে জিহাদ হয় তা আপনি তো ভালভাবেই জানেন।বনু কোরাইজা বিষয়ে আপনার সামহোয়ার ইন ব্লগের  লেখাটি লাইভ পড়েছিলাম ও এক হিন্দুর ইসলাম বিদ্ধেষ দেখে তাদের ধর্মের নেংটা সংস্কৃতির বিষয়ে আপনার মন্তব্যও মনে আছে। আর আহলে কিতাব খ্রিস্টানদের বিষয়ে সুরা আত তাওবা নাজিল হয় যখন মক্কা,মদিনা সব আরব অঞ্চলের অনেক গোত্র মুসলমান হয়ে যায় তখন অর্থাত্ হিজরী আট নয় সালে। আসলে বর্তমান বিকৃত খ্রিস্টান ধর্ম বা পৌলবাদ প্রচার প্রসার সংরক্ষিত হয়েছে রোমান সম্রাটদের হাতেই। সেই ইস্টার্ন রোমান বাইজেনটাইন সম্রাটরা ইসলামি রাষ্ট্রকে শেষ করে দেবার জন্য মক্কা মদিনার পাশের তাদের অধীন  গাস্সানি  রাজ্য,  বিভিন্ন খ্রিস্টান গোত্র, মুশরিক গোত্রকে সংগে নিয়ে ষড়যন্ত্র পাকায়। মুসলমানদের দুতকে হত্যা করার মাধ্যমে রোমানরা প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করে। মুতার যুদ্ধে লক্ষাধিক রোমান সৈন্যের সাথে প্রাণপণে যুদ্ধ করে মুসলিমরা কামিয়াব হতে পারেনি কিন্তু মুসলিমদের শৈর্য্য বীর্য বুজিয়ে দিয়েছে । এরপর তাবুকে রোমানরা সৈন্য সমাবেশ করে মুসলমানদের ভয় দেখাতে আসলে ম ুসলমানরাও বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রতিহত করতে যায় । এসব যুদ্ধের আয়াতে শত্রুদের মারার, বশ্যতা স্বীকার করাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । যুদ্ধে নরম ভাবে দেখানোর কোন সূযোগ নেই। আবার যখন জিহাদের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়ে যাবে তখন আর ফিতনা সৃষ্টি করা যাবেনা।

       

      1. 14.1.1
        মাহফুজ

        মি. কিংশুক,

        আমাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য দিয়েছেন। তাই তার জবাব দিতে হচ্ছে। কারণ আমি কারো মন্তব্যকেই (যদি না তা সরাসরি আমার আল্লাহ এবং রাসূলের (সাঃ) সম্মানের পরিপন্থি হয়) কখনো ইগনর করতে কিংবা মুছে দিতে শিখিনি।

        যদিও আমার মন্তব্য/ বক্তব্য স্বঘোষিত আস্তিক এবং নাস্তিক নির্বিশেষে মুছে দেয়ার জন্য এক হাত এগিয়ে্ই থাকেন। কিন্তু তারপরও সত্যটা তো আমাকে বলতেই হবে।

        ইংরেজি ও বাংলা মিলিয়ে প্রসীদ্ধ তাফসীর গ্রন্থের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে যে তাফসীর গ্রন্থগুলো বেশি বেশি পঠিত হয় আমার জানা মতে সেগুলো হলো- (তাফসীর ইবনে কাসীর, তাফসীর জালালাইন, তফসীর ফী যিলালিল কোরআন, তাফসীর ইবনে আব্বাস, তাফসীর কুরতুবী, তাফসীরে মারেফুল কুরআন, আল তাফসীর আল কাবীর,  তাফসীর ইবনে জারির, তাফসীর আল কুরতুবী, আল তাফসীর আল মাজহারী, তাফসীর আল দার আল মানছুর, তাফসীর আল বাহর আল মুহীত, তাফহীমুল কুরআন) ইত্যাদি।

        কোরআনের আয়াতগুলোর আলাদা আলাদা শানে নুরুল ও তাফসির যে আছে তা আমার অজানা নয়। শানে নযুল একই হলেও তাফসীরকারগণের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসারে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করায় পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থগুলোতে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আর বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাদের মতামত প্রকাশের পার্থক্যটা প্রকটই মনে হয়। যদিও কোন তাফসীরই জঙ্গিবাদী হওয়ার কথা বলেনা। কিন্তু অনেকের ভাষায় জিহাদের ব্যাপারে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। কলের প্রবাহে জীবন যাত্রার সাথে সাথে সংগ্রাম তথা যুদ্ধ কৌশলও পাল্টায়। কিন্তু মৌল নীতিগুলো মোটমুটি বেমালুম পাল্টে যায়না। তাই সেই দিকনির্দেশনা ভুললে বা পাশকাটিয়ে গেলে চলবেনা। যেমন মুতার যুদ্ধ শেষ হলেও দেশে দেশে পতিতা বৃত্তি এখনো আছে, হয়ত ধরণ কিছুটা পাল্টেছে। আর ধর্মের নামে হোক বা অধর্মের নামে, অন্যায় ও নীরিহ মানুষের উপর অত্যাচার কোথাও কোথাও চরমে পৌছুলেও তা যেন অনেকের চোখেই পড়েনা। অথচ আল্লাহতায়ালা আল-কোরআনে বলেন, মুসলিমরা জিহাদ এবং প্রয়োজনে যুদ্ধ করবে আল্লাহর দ্বীন/ ধর্ম কায়েম অর্থাৎ কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। এর অর্থ হলো মহান আল্লাহ তাঁর প্রেরিত রাসূলের (সাঃ) মাধ্যমে (৯:২৯) যা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা নিষিদ্ধ করার এবং (২:১৯৩) ফিতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে (০৪:৭৫) মজলুম মানুষকে (দুর্বল ও অত্যাচারিত পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে) মুক্ত করার জন্য জিহাদ তথা কিতাল করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও কিতাল অনেক গুঢ় এবং বড় বিষয়, তারপরও পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে এটির প্রয়োজনীয়তা অতীতে যেমন ছিল, তেমনি বর্তমান ও ভবিষ্যতেও তা সমভাবেই প্রযোজ্য হতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ এই নির্দেশনা শুধু পাঠ করার জন্য নয়, প্রয়োজনে যথাযথভাবে আমল করার জন্যই আল-কোরআনে বিদ্যমান রয়েছে। এ ব্যাপারে আবেগী, উগ্রতা কিংবা উদাসিনতার স্থান নেই।  

        কে কোন তাফসীরের মতামত ও দিকনির্দেশনা কিভাবে বুঝবেন ও আমল করবেন, তা তাকে মহান আল্লাহ প্রদত্ত বোঝার ক্ষমতা ও মানার সামর্থ দানের উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করবে। যিনি আল্লাহ প্রদত্ত সক্ষমতার যথাযথ ও উত্তম ব্যবহার করার যেগ্যতা অর্জন ও আমলের জন্য সময়, জান ও মাল ঢেলে দিতে পারবেন, পার্থিব প্রাপ্তি যেমনি হোক না কেন মাহন স্রষ্টার বিচারে তিনি নিশ্চয় ততটাই সফলকাম হবেন- ইনশাল্লাহ। তাই সচেতন মুসলিম হিসেবে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাথে স্বচ্ছ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাফসীর গ্রন্থগুলোর বক্তব্যের মধ্য থেকে নিজেকেও আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক ও চেতনা দিয়ে যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। সব সময় মনে রাখতে হবে যে, পবিত্র কোরআনের সকল নির্দেশনাই কিয়ামত পর্যন্ত প্রাণবন্ত ও পালনীয়।

  3. 13
    মজলুম

    এতো সহজ সরল হলে কেমনে হবে। ৮০র দশকে রুশ বিরোধী যুদ্বে সব দেশ হতেই যোদ্বারা যায়। সবচেয়ে বেশী যায় দেওবন্দী পাকিস্তানি মার্দাসা হতে, এর সাথে যায় বাংলাদেশী দেওবন্দী কওমী মাদ্রাসার লোকজন ও যায়। রুশরা বিতাড়িত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা গড়ে আল-কায়েদা, পাকিস্তান/আফগানিস্তানের দেওবন্দিরা কয়েক বছর পর গড়ে তালিবান আর বাংলাদেশী যোদ্বারা গঠন করে হুজি। এজন্যে হুজির মধ্যে ৯০ ভাগের ও বেশী পাবেন কওমী মাদ্রাসার। তালিবান ৯৬ সালে কাবুল দখল নিলে কওমী মাদ্রাসার লোকেরাই ঢাকায় মিছিল করে বলে, আমরা তালিবান, বাংলা হবে আফগান। মূল কারন হলো, তালিবান ও দেওবন্দি, কওমীরাও দেওবন্দি। আর আল-কায়েদা ও তালিবান একে অন্যের সহযোগী। সেই বিন লাদেন হতে আইমান জাওহারি, সবাই তালিবান লিডারদের হাতে বাইয়াত দেওয়া। সৌদি অনেক চেষ্টা করেছে তালিবান ও আল-কায়েদার মধ্যেকার বন্ধন ছুটাতে, কিন্তু এখনো পারে নাই। আল-কায়েদা সালাফিদের গ্রুপ হলেও দেওবন্দি মাজহাবি তালিবানদের সাথে অটুট বন্ধনে আছে। 

    আর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের মূলত দুইটি দ্বারা। একটা হলো তালিবান/আল-কায়েদার দেশীয় সংগঠন হুজি, যা বিভিন্ন নাম পাল্টিয়ে এখন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে পরিনত। কিছুদিন আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট ঘোষনা দেওয়া হলে আনসারুল্লাহ ও সেখানে যোগ দেয়। এবং পরিনত হয় আল-কায়েদার অঙ্গ সংগঠনে। এই গ্রুপে বেশীর ভাগ লোকই কওমী মাদ্রাসার। তবে আশার কথা হলো এরা বেশীর ভাগ কওমী মাদ্রাসার লোক হলেও কওমী আলেমরা মাস এট্রোসিটি, এনার্কিজম সমর্থন করেনা। বা সসস্র যুদ্ব করে দেশে ইসলামি আইন বাস্তবায়ন করতে হবে, পুলিশ মারতে হবে, আর্মি মারতে হবে, এইসবের ঘোর বিরোধী কওমী আলেমরা। মোটা দাগে কওমী আলেমরা শান্তিকামী। 

    আরেক গ্রুপ হলো জেএমবি। ১৯৯৮ সালে কলেজ পড়ুয়া সিদ্দিকুল ইসলাম উরফে বাংলা ভাই  এই গ্রুপ তৈরী করেন। পরে যোগ দেয় আব্দুর রহমান। এরা সবাই এই দেশের সংখ্যালঘু আহলে হাদিস বা সালাফি। এজন্যে এদের নেতা কর্মীর সবাই দেখবেন স্কুল/কলেজ বা আলিয়া মাদ্রাসার লোকজন। গত বছর এরা আই এসের বাগদাদির মাফিয়া স্টেটে যোগদান করে আই এসের অঙ্গ সংগঠনে পরিনত হয়। এরা প্রচন্ড রক্ত পিপাসু  এবং এটেনশান সিকার, আই এসের মতো। হত্যা/রক্ত  ছাড়া আর কিছুই বুঝেনা। শুধু এরে মার, ওরে মার, মার রে মার, নিজের মায়েরেও মার, বাপেরেও মার, নিজেও মর। এদের হত্যা করা ছাড়া বিকল্প নেই। এক হাদিসে রাসূল(সঃ) বলেছেন এই খারেজিদের হত্যা করবে, কোন ভালোবাসা দিয়ে ওদের জয় করা যাবে না। এবং যদি তুমি খারেজিদের হত্যা না করো তাহলে ওরাই তোমাকে হত্যা করে ফেলবে। এই খারেজিরা মুসলমানদের জন্যে চরম ক্ষতিকর। খোলাফায়ে রাশেদার যুগেও এরাই ফেতনা, ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে ইসলামকে বাড়তে দেয় নাই। এই যুগেও এই খারেজিরা মুসলিমদেরই বেশী ক্ষতি করেছে। 

    সরকার গত কয়েক বছরে বিএনপি/জামাত দমাতে গিয়ে জেএমবির পিছনে সময় দিতে পারে নাই। তাই এরা অনেক বেড়ে গেছে। শুধু এক বছর পর দেখবেন জেএমবি আবার ২০০৭ এর মতো এতিম হয়ে পড়বে।  

    তবে আশার কথা হলো, আগামী এক বছরে আই এসের হাতে  ইরাক বা সিরিয়ার কোন জায়গা থাকবে না। ইরাকের শুধু মসুল শহর এবং সিরিয়ার রাকা শহরই এখন আইএসের দখলে আছে। কয়েক বছর পর আই এসের নামক এক রক্ত পিপাসু গ্রুপের নাম মানুষ বলাবলি করবে, কিন্তু রক্ত পিপাসুরা থাকবেনা। শুধু পড়ে থাকবে এদের বিষাক্ত, বর্বর ইতিহাস। 

    1. 13.1
      কিংশুক

      আফগানিস্তানে সোভিয়েত কমুনিষ্টদের বিরুদ্ধে আরব অঞ্চলের বিদেশি মুজাহিদিন গ্রুপের নাম আল কায়েদা। তারা সৌদি আরবের ওয়াহাবি/সালাফি আকিদার । অন্য দিকে সোভিয়েতের সাথে জিহাদের সময় তালেবান নামক কোন গ্রুপই ছিলনা। জিহাদ শেষে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ কালীন চরম অরাজক সময়ে সাবেক মুজাহিদ মোল্লা মোঃ ওমর স্বপ্নে রাসূল সাঃ এর নির্দেশে দেশে ধর্ষণ,  ডাকাতি প্রতিহত করতে ওয়ার লর্ডদের ধরে ধরে ফাঁসি দেওয়া শুরু করে। রাতারাতি অলৌকিক ভাবে মাদ্রাসার ছাত্রদের দ্বারা তালেবান তৈরি হয়ে যায় এবং মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আফগানিস্তান তালেবানদের হাতে চলে যায় । তালেবানরা আলাদা আকিদার আর আল কায়েদা আলাদা জাত ও আকিদার । ওসামা বিন লাদেন আফগান জিহাদ শেষে আফগানিস্তান ত্যাগ করে সৌদি আরবে চলে যায় । সেখানে সাদ্দাম,  ইরাক কুয়েত , সৌদিতে আমেরিকার ঘাঁটি, ;সৌদি রাজতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে সৌদি সরকারের সাথে বিরোধে সৌদি ত্যাগ করে সুদানে গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য ও সাবেক আল কায়েদা সদস্যদের দিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস করাতে থাকে। 9/11 এর পর সুদান বের করে দিলে আফগানিস্তানের তালেবানদের নিকট আশ্রয় চায়। আফগানিস্তানের জিহাদে তার জান মাল দিয়ে সাহায্য করায় এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল কয়েকজনের ওকালতিতে তাঁকে আশ্রয় দেয়। তাই বলে তালেবান আর আল কায়েদা একাকার হয়নি । আল কায়েদা সৌদি উদ্ভূত মতবাদ, ওয়াহাবি সালাফি। তালেবান কোন খিলাফত টিলাফত চায়না, তারা খালি আফগানিস্তানে শ রিয়া আইন চায়। আমেরিকা ও আফগানিস্তান সরকার এ পর্যন্ত অনেক বার তাদের সাথে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব করেছে । এক সময় হুয়তো তালেবানরা অস্ত্র রেখে দেশের জন্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিবে।

      1. 13.1.1
        মজলুম

        আবারো খুব সহজ সরল ভাব ধরলেন। আমার কমেন্ট পুরা না বুঝেই উত্তর দিলেন। আমি লিখেছি, 

         রুশরা বিতাড়িত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা গড়ে আল-কায়েদা, পাকিস্তান/আফগানিস্তানের দেওবন্দিরা কয়েক বছর পর গড়ে তালিবান আর বাংলাদেশী যোদ্বারা গঠন করে হুজি।

        আমি বলিনি যে তালিবান সোভিয়েত বিরোধী যুদ্বের সময় সংগঠিত হয়েছে। আর কয়েক মাসেই আফগানিস্তান দখল হয়নি। তালিবান ১৯৯৪ সালে কান্দাহার দখল করে, তারপর ১৯৯৬ সালে কাবুল দখল করে, মানে রাজধানী। তারপর ১৯৯৮ সালে মাজার-ই শরীফ দখল করে। 

         

        আর আপনার কমেন্টে অনেক ভুল তথ্য দেওয়া আছে।   

        ৯/১১ এর পর সুদান থেকে বের করা হয় নি। ১৯৯৬ সালে তাকে সুদান হতে বের করে দেওয়া হয়েছে। সুদান হতে সে ১৯৯৬ সালেই আফগানিস্তানে ফিরে আসে। ৯/১১ হামলার পর তালিবান আমেরিকার হাতে  বিন লাদেনকে হস্তানান্তর করতে অসৃকৃতি জানায়। পরে তালিবান ২০০১ এ ক্ষমতাচ্যুত হয়। বিন লাদেন কে আল-জাজিরার দুটি ডকুমেন্টরী আছে। এটা আমার দেখা সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং কোন বিশ্লেষন করা হয় নি অন্য পশ্চিমা মিডিয়ার মতো।  আই নো  বিন লাদেন  পার্ট ওয়ান  

        আই নো  বিন লাদেন  পার্ট টু

        তালিবান মূলত পশতুন ভিত্তিক দেওবন্দি গ্রুপ, আর আল-কায়েদা সালাফি গ্রুপ।  ওদের মধ্যের সম্পর্ক জানতে আল-জাজিরার এই ভিডিও দেখুন ৪:৩০ মিনিট হতে

        তালিবানের আফগানিস্তানের বাইরে কোন এজেন্ডা নাই। তবে আল-কায়েদার আছে। তবে আল-কায়েদাও খিলাফাত চায় না। আল-কায়েদা মূলত আমেরিকা নিয়ে অবসেসে আছে।মধ্যপ্রাচ্য হতে মার্কিন ঘাঁটি সরানো, ইসরাইলকে সমর্থন বন্ধ করা এবং মুসলিম দেশের শাসকদের উপর মার্কিন সমর্থন বন্ধ করা।  ১৯৯৮ সালে বিন লাদেন তার কুখ্যাত সেই ফতোয়া তার মিশরী অন্ধ শেখ হতে দিয়েছেন যে প্রত্যেক আমেরিকান নাগরিককে যেখানে পাও সেখানেই হত্যা করো, তা করেছে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান হতেই। 

        এরা মূলত ইবনে তাইমিয়ার তাতারী মঙ্গোলিয়ানদের বিরুদ্বে দেওয়া ফতোয়ার ভূল ব্যবহার করতেছে। এবং ইসলামের যুদ্ব নীতির  কিছুই অনুসরন করতেছেনা। 

         

        আল-কায়েদার সাথে তালিবানের সম্পর্ক যতক্ষন না ছিন্ন হবে, কেউই তালিবানকে গ্রহন করবে না, যত আলোচনাই হোক না কেন। । সেটা সৌদি হোক বা আমেরিকা হোক। শান্তি আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো আল-কায়েদা ও তালিবানের সম্পর্ক ছিন্ন করা। আর তালিবানকে সেই সময়ে মাত্র তিনটা দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, সৌদি, আরব আমিরাত এবং পাকিস্তান। 

        1. 13.1.1.1
          কিংশুক

          @মজলুম: যাক আপনার সাথে তর্কে জিতে আমার কোনও লাভ নাই। তালেবান সরকারের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী এমনকি হক্কানি সাহেবকেও মার্কিন সমর্থিত আফগানিস্তান সরকার তাদের সরকারের অংশীদার হয়ে মন্ত্রীত্ব নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। আফগানিস্তানের কাবুলের চতুর্দিকে সেনা প্রহরা রেখে জরুরি অবস্থা বিরাজ করে আফগানিস্তান চালাতে বাধ্য হচ্ছে আফগান সরকার । দেশের অর্ধেক প্রদেশে এখনও তালেবানরাই শক্তিশালী ।প্রায় পাঁচ লাখ সৈন্য,  কয়েক লাখ পুলিশের বাজেটের সংস্থান আফগান সরকার করতে সাম@ সমর্থ্য না হওয়ায় প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়ে মার্কিনিরা সরকার টিকিয়ে রাখছে। আফগান সরকার প্রাণপণে চায় যে, নিজের  দেশের তালেবানদের সরকারে নিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা আনতে। তালেবানদের দাবী মেনে নিয়ে আমেরিকান সৈন্যরা আফগানিস্তান ত্যাগ করুক তা আফগান রাজনৈতিকরাও চায়। অবশ্য আফগানিস্তানে শিয়া, সুন্নি, পাশতুন, তাজিক ইত্যাদি স্বার্থের রাজনীতি আছে। আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো না থাকায় তাঁরাও অনন্ত যুদ্ধ বাদ দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। এজন্য মনে করবেন না আমি তালেবান সমর্থক। তাদের অনেক ফিকাহি বিষয়ে বাড়াবাড়ির ঘোর বিরোধী । আমার আদর্শ দলের মধ্যেও তারা নাই।

        2. 13.1.1.2
          কিংশুক

          আমেরিকানদের কথা বাদ দেন, আল কায়েদা-আইএস এর মতবাদ পড়লে ও তাদের কার্যক্রম দেখলে আমারই অসূস্থ মনে হয়। কিন্তু এই ইউএসএ লিবিয়া, সিরিয়ায় তাদেরকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজেদের কাজে লাগিয়েছে । 

        3. মজলুম

          আগে লিখলেন তর্কে জিতা, তিটা নিয়ে। আমি শুধু কিছু ভুল ঠিক করে দিলাম সেখানে। আসলে আমরা সবাই কম বেশী ভুল  করি। আমরাতো আর ফেরেশতা না, আমরা মানুষ 🙂 ।তবে ঠিক, আল-কায়েদা ও আই এসের চরমপন্হা ভয়ংকর। আর যে মানুষ যত বেশী চরমপন্হী হয়, তার ব্রেইন লেভেল ও তত কমে যায়। আমেরিকা লিবিয়াত, সিরিয়ার সব গ্রুপকে সাহায্য করে নাই, কিছু গ্রুপকে করছে ঠিক সোভিয়েত বিরুধী আফগান যুদ্বের মতো। সিরিয়ায় শুধু নুরুদ্দিন জিংকি এবং নিউ সিরিয়ান আর্মিকে আমেরিকা সাহায্য করছে। যারা আমেরিকানদের কথায় উঠবস করবে শুধু তাদেরকেই সাহায্য করছে। আর ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে সাহায্য করছে তুরস্ক, আহরার-আস শামকে সাহায্য করছে কাতার, জইশ আল-ইসলামকে সাহায্য করছে সৌদি আরব। 

    2. 13.2
      কিংশুক

      আনসারুল্লাহর শ্রষ্টা মুফতি জসিমউদ্দিন রহমানি একসময় ক্বওমী মাদ্রাসায় পড়লেও পরে আকিদা পরিবর্তন করে সালাফি হয়ে যায় এবং প্রচন্ড ভাবে দেওবন্দি ও হানাফি বিরোধিতা করতে থাকে (পুরাপুরি সালাফি চরমপন্থী হয়)। ক্বওমীরা তাকে বাতিল জংগি হিসাবে অনেক আগেই সতর্ক করে দিয়েছে। আন্সারুল্লাহর আকিদা, লক্ষ্য,  উদ্দেশ্য আল কায়েদার আকিদা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এক। 

      1. 13.2.1
        মজলুম

        মুসলিমদের বর্তমান সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো এরা নিজ দল, আকিদা, নেতা এবং ফিকহ কে শরীরের চামড়া কামড়িয়ে হলেও সমর্থন দিয়ে যাবে। সত্যের চেয়ে এই গ্রুপ/দলকে এরা বেশী সমর্থন দেবে। তাইলে মুফতি হান্নান ও কি পরে সালাফিতে যোগ দিয়েছে? হরকাতুল জিহাদের যতো লোক এ পর্যন্ত ধরা খেয়েছে, বেশীরভাগই ছিলো কওমী পড়ুয়া বা কওমী মাদ্রাসা হতে গ্রেজুয়েট। 

        সত্যকে সমর্থন করুন, দল/নেতা/গ্রুপ/ফিকহ/আকিদা নয়। 

        1. 13.2.1.1
          কিংশুক

          মুফতি জসিমউদ্দিন রহমানি খারেজির কথা বলেছি কিন্তু মুফতি রহমানির বিষয়ে তো আমি এমন দাবী করিনি। ইসলামি আক্বিদা হলো আল্লাহ্, রাসূল সাঃ ইত্যাদি বিষয়ে মৌলিক বিশ্বাস । যেমন আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ্ তায়ালা একই সাথে আরশে, আমার শাহি রগের চেয়েও নিকটে, আমার চতুর্দিক বেষ্টন করে আছেন ও তিনি আমাদের চিন্তার ও বাইরের জিনিস , ওয়াহাবি/সালাফিরা বিশ্বাস করে আল্লাহ্ তায়ালা শুধু আরশেই অবস্থান করেন; তারপর ধরেন আল্লাহ্ তায়ালা কোরআন হাদিসে তাঁর চোখ, হাত, শোনার ব্যাপারে যা উল্লেখ করেছেন তা মানুষের বুজার সুবিধার্থে উদাহরণ স ্বরুপ উ ল্লেখ করেছেন কিন্তু সালাফিরা আক্ষরিক অর্থেই নিয়ে নেয় ইত্যাদি পার্থক্য কোরআন, হাদিস, ইলমুল কালাম, যুক্তি বিদ্যা, দর্শন,  বিজ্ঞান ইত্যাদি দিয়ে ব্যাখ্যার পার্থক্য । কিন্তু তাই বলে যে, শুধু নির্দিষ্ট ধর্মীয় আকিদার লোকই জংগি বাদে জড়াবে তা নয়। ধর্মীয় আকিদা বাদে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিশ্বাস,  ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইজতেহাদি ফতোয়া,  দেশ সমাজের বাস্তবতা ইত্যাদি অনেক কারনেই জংগি বাদে জড়াতে পারে। তবে আন্সারুল্লাহর বেশির ভাগ সদস্যই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং রহমানির সালাফি আকিদার এক খারেজি অপভ্রংশের। 

        2. কিংশুক

          কারেকশন: মুফতি হান্নান ইসলামি আকিদার দিক দিয়ে দেওবন্দি ।

  4. 12
    মহিউদ্দিন

    বাংলাদেশে চলমান জঙ্গি সমস্যাটা বুঝা সত্যিই কঠিন। তবে এখানে এই লিখাটি পড়ে আমি আরো চিন্তিত হয়ে পড়েছি যে এ সমস্যার আদৌ সমাধান হবে কি না? অনেকেই লিখতে দেখি "এখন দেখা যাচ্ছে বাঘের মুখে রাষ্ট্রের অসহায়ত্ব এবং জঙ্গিবাদ সারানোর অযোগ্যতা!" 

     

  5. 11
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ওর দোষ -- তার দোষ -- আমরা নির্দোষ -- এই ধরনের সরলীকরন করে আসলে সমস্যাকে অস্বীকার করার একটা চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এই পর্যন্ত যতগুলো ঘটনা পড়লাম তাতে দেখা যাচ্ছে -- সবগুলো জঙ্গিকে মসজিদ থেকেই রিক্রুট করা হয়েছে। 

    এই বিষয়ে কোন পক্ষই দায় এড়াতে পারে না। শুধুমাত্র ধর্মীয় ব্যাখ্যার উগ্রতা বা রাজনৈতিক কোন্দলই জংগী সমস্যার একমাত্র কারন নয় -- বিষয়টা জটিল এবং সমাধানও জটিল। অবশ্য যদি সবাই এর সমাধান চায় -- তবে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমের এর সমাধান করা সম্ভব। 

    বলা দরকার -- বাংলাদেশে চলমান জঙ্গি সমস্যা চলছে গত ২৫ বছর ধরে -- শুরু হয়েছিলো কবি শামসুর রাহমানের উপর আক্রমন করা থেকে আজ পর্যন্ত শেষ ঘটনা শোলাকিয়ায়। এই ঘটনাগুলোতে নানান মতের লোকজনের যোগসাজস আছে। 

    যাই হোক -- একটা তথ্য বহুল লেখা দেখলাম টরন্টো স্টারে -- 

    “The enemy is new but the problem of terrorism has always been there,” Lefada said. “People just have short memories.”

    এইটা হলো তার শেষ লাইন। (লিংক)

    1. 11.1
      কিংশুক

      হুজি'র আকিদা, আদর্শ, লক্ষ্য এক রকম আর আর আল  কায়েদা/আইএস/আনসারুল্লাহ/জেএমবি'র আকিদা,আদর্শ, লক্ষ্য আরেক রকম। প্রথম দল কাশ্মীর, পাকিস্তান ভিত্তিক আফগান মুজাহিদিন দ্বারা গঠিত বলে ধর্মীয়  আকিদা দেওবন্দী আর দ্বিতীয়টি সম্পূর্ণই মধ্যপ্রাচ্য বিশেষতঃ সৌদি আরবের ওয়াহাবী আন্দোলনের অপভ্রংশ হয়ে সালাফি তথা পুরাই সৌদি । কোন মসজিদ থেকে বাংলাদেশের কোন জংগিকে রিক্রুট করা হয়েছে অন্তত একটি উদাহরণ দেন। এরকম চরম অবাস্তব ও নির্জলা মিথ্যা শুনে হাসতে হাসতে মরার দশা হয়। 

  6. 10

    ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দেশের তরুণ সমাজের একাংশকে বিপথগামী করা হচ্ছে। একটা বিশেষ শ্রেণী এদেরকে এই অন্ধকার পথে নামিয়ে তাদের মনস্কামনা পুরন করছে। বাংলাদেশে যারা জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত তারা এদেশেরই লোক। এরা বিদেশ থেকে আসেনি, এরা হোমগ্রোন জঙ্গি। স্বাধীনতা বিরোধীরা আজ কখনো হুজি, কখনো আনসারুল্লাহ বা কখনো জেএমবি নামে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিদেশ থেকে এসে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিকাশের সুযোগ নেই। গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায়  বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে জঙ্গিরা নানা নামে তাদের তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যারা জড়িত তারা বেশিরভাগই নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বয়সে সকলেই তরুণ। কেন, কী কারণে, কাদের ইন্ধনে ও কিসের আশায় এসব তরুণরা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে তা বোধগম্য নয়। তাদের কিসের অভাব, তাদের তো প্রাচুর্যের অভাব নেই। কিন্তু তার পরও কেন তাদের এই নৈতিক অবক্ষয়!

    বিস্তারিত জানতে:http://www.nostiel.com/bangla-newspaper/

  7. 9
    মজলুম

    যে কারণে ওরা জঙ্গি হয়, যেভাবে ওদের ফেরানো যায়

     

    দারুন এক লেখা সাইকোলোজিস্ট ডাঃ তাজুল ইসলাম এর। 

    কিশোর বা তরুণদের একটা অংশের জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে প্রথমে তাদের বয়সগত বৈশিষ্ট্যের দিকটিই তুলে ধরেছেন ড. তাজুল ইসলাম৷ তাঁর মতে, ‘‘যে বয়সে ওরা জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে, এ বয়সে জানার খুব আগ্রহ থাকে৷ তাই এ বয়সে অনেকে মাদকের মতো খারাপ জিনিসের প্রতিও না বুঝে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে৷ এই বয়সে কোনো কোনো আদর্শের প্রতিও কেউ কেউ খুব দ্রুত অনুরক্ত হয়ে পড়ে৷ এই বয়সে বিভিন্ন ফ্যাশন, বিভিন্ন মতধারার সঙ্গেও নিজেকে জড়িত করে ফেলে অনেকে৷ পৃথিবীতে সব বড় পরিবর্তনে এই বয়সের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে৷ আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও তরুণ প্রজন্মই বেশি অংশ নিয়েছিল৷ কিন্তু এখন কথা হচ্ছে, জঙ্গিবাদে যারা জড়াচ্ছে, তারা আসলে কোন মতাদর্শের দিকে এগোচ্ছে? এটার সঙ্গে একটু মিল আছে ড্রাগ অ্যাডিকশন, অর্থাৎ মাদকের নেশার৷ সবাই কিন্তু জেনে-বুঝে ড্রাগ নেয়া শুরু করে না৷ অনেকে কৌতূহল থেকে বা অন্যের প্রলোভনেও ওই পথে পা বাড়ায়৷''

    1. 9.1
      কিংশুক

      ডাঃ তাজুল ইসলামের কথার কিছুটা সত্যতা আছে। মসজিদে জংগিবাদের আলাপ হয়না, ভূয়া অভিযোগ করা হয়েছে ।বাংলাদেশের শতকরা ষাট সত্তর ভাগ মসজিদ দেওবন্দি ক্বওমীদের, বাকি গুলি কথিত সুন্নি তরিকাপন্থীদের। শতকরা দুই তিন ভাগ জামায়াতের এবং আহলে হাদিসের হতে পারে। ক্বওমীদের মসজিদে তাবলিগ জামাতের ঈমাণ ও আমলের আলোচনা হয়, ওনাদের কাছে তাবলিগের মেহনতই এ কালের প্রকৃত জিহাদ,  তাবলিগের পরিশ্রমে জিহাদের সওয়াব হয়। কথিত সুন্নিদের মসজিদে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রঃ প্রমূখ অলী আউলিয়াদের রুহে ইসালে সওয়াল, বিভিন্ন খতম, মিলাদ, জিকির ইত্যাদি হয়। আত্মার পরিশুদ্ধি অর্থাৎ হিংসা,  লোভ, দুনিয়া প্রীতি অন্তর থেকে দুর করে  আমল করার মতো ধৈর্য,  আল্লাহ্ প্রেম অন্তরে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অন্তরে সার্বক্ষণিক আল্লাহর জিকির জারি করানো হয়। এজন্য প্রধান চার তরিকায় বিভিন্ন তসবিহ, লতিফা সিলেবাস অনুযায়ী অনুশীলন করানো হয়। উনাদের কাছে আত্মশুদ্ধি  অর্থাৎ  তাজকিয়া/তাসাউফই আসল জিহাদ ।জংগিবাদের কোনও সূযোগ সেখানে নাই।  উনারাও দ্বিনের প্রতিষ্ঠায় জিহাদে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী, তবে প্রকৃত জিহাদে, জংগিবাদ বিরোধী । ঢাকা শহরের অনেক সুন্নি মসজিদ যেমন কমলাপুর, শাহজাহান পুরের মসজিদে অনেক সময় কাটিয়েছি। অনেক আহলে হাদিস মসজিদে গিয়েছি। সেখানে কোরআনের তাফসির শুনানো হয়, যে তাফসির কিছুটা কড়া মাত্রার । উত্তরার এক মসজিদে আহলে হাদিস হুজুরের তাফসির বৈঠকে উনার অনুসারী তরুন, যুবক, পৌঢ় ক্লিন শেভড ভক্ত দেখেছি। তাঁরা কুফরি,নিফাকের ও রাজনীতির কড়া সংজ্ঞা দেয়। আসলে আল কায়েদা , আইএস, বোকো হারাম, জ েএমবি নব্য সালাফি/ আহলে হাদিস আকিদার এক ক্ষুদ্র অংশ যাঁরা ভিন্ন আকিদার সবাই কে তাকফির করে। তাদের নিজস্ব খারেজি শায়েখ (আমাদের যেমন মাওলানা) বাহিনী আছে, নিজস্ব মত ধারার জিহাদি বইয়ের সিরিজ আছে যেমন : গণতন্ত্র কুফর; , কেন শিয়া, দেওবন্দি,  তরিকাপন্থী, জামায়াতি সবাই কাফের ইত্যাদি বই। তাদের হিসাবে পৃথিবীর কোনও দেশে এমনকী সৌদি আরবেও ইসলাম নাই, সব কাফেরদের সহযোগী । বাংলাদেশে মসজিদে জংগিবাদের কথা হয়- এমন কথা কেবলমাত্র অজ্ঞরাই বলতে পারে। নব্য সালাফি জংগিরা আলাদা দল।

  8. 8
    chaderhut

    আপনি যা লিখেছেন ভালোই লিখেছেন । 

  9. 7
    মম

    সময়োপযোগি লিখা 

    ভাল লাগল …

  10. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    If you really want to prevent more youth going astray, I have only one thing to say. Don’t push anyone away. The terrorist recruiters look for broken people. People who are lonely and isolated. People who are depressed and suicidal. People who have suffered from social injustice and seek revenge. The more they can compartmentalise us, divide us from each other, the easier it is for them to strike and grow in number. Do not let anyone lose hope in humanity. Love. Not oppressively but compassionately. Because only love can win us this war. -- See more at: http://www.dhakatribune.com/weekend/2016/jul/16/i-was-almost-terrorist#sthash.DnHbR8o2.dpuf

     

  11. 5
    কিংশুক

    আপনি যা লিখেছেন ভালোই লিখেছেন । আপনার সাথে আর তর্কের কোনও ইচ্ছে নাই , কোনও দিন আর হবেনা। বাংলাদেশে তা বিএনপি জামাত হোক বা আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি হোক সব সরকারের নিজেদের সময়ে জংগি বাদকে অস্বীকার করতে চাওয়ার প্রধান কারন হলো তারা নিজেদের কোনও ব্যর্থতা,  ভুল স্বীকার করেনা। পারলে সব দোষ বিরোধী দলের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়।বাংলাদেশের সরকার নিজেদেরকে খুব সফল, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে কয়েক বছরের মধ্যে সিংগাপুরে চলে গেল বলে এক ধরনের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে নিজেদের দলের দূর্ণীতিবাজ এমপি মন্ত্রী,  ব্যবসায়ীদের হাজার হাজার কোটি টাকা কামানোকে জণগনের দৃষ্টি ও চিন্তাশক্তির বাইরে ঠেলে রাখে (অবশ্য অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সরকার থাকলে দূর্নীতি অনেক বেশি হয় বলে সারা বিশ্বেই প্রমাণিত । তাদের চাইতে কিছু দূর্ণীতি করলেও গণতান্ত্রিক সরকার অনেক ভাল)। আর শাহরিয়ার কবিরকে জংগিবাদের জন্য ধরা হয়নি। তাঁকে ধরা হয়েছিল চার দলীয় ঐক্য জোট সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু বিশেষত হিন্দুদের উপর মুসলিম মৌলবাদি বিএনপি জামাত সরকার  চরম নির্যাতন অত্যাচার চালাচ্ছে  -এরকম প্রোপাগান্ডা তথ্যচিত্র বানিয়ে ভারতে, পশ্চিমা বিশ্বে প্রচারনা চালানোর দায়ে। ঐ তথ্যচিত্র সহই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইচ্ছা করলে তিনি এখন আওয়ামী লীগের সময়ে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ঐরকম প্রচারনা চালাতে পারেন। তাহলে বাংলাদেশের বিবেকের স্থানে অধিষ্ঠান দেওয়া আওয়ামী লীগই এক হাজার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়ে এক নম্বর দেশদ্রোহি বানিয়ে দিবে। আপনার পরামর্শ সঠিক ।

     

     

  12. 4
    কিংশুক

    আপনি যা লিখেছেন ভালোই লিখেছেন । আপনার সাথে আর তর্কের কোনও ইচ্ছে নাই , কোনও দিন আর হবেনা। বাংলাদেশে তা বিএনপি জামাত হোক বা আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি হোক সব সরকারের নিজেদের সময়ে জংগি বাদকে অস্বীকার করতে চাওয়ার প্রধান কারন হলো তারা নিজেদের কোনও ব্যর্থতা,  ভুল স্বীকার করেনা। পারলে সব দোষ বিরোধী দলের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়।বাংলাদেশের সরকার নিজেদেরকে খুব সফল, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে কয়েক বছরের মধ্যে সিংগাপুরে চলে গেল বলে এক ধরনের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে নিজেদের দলের দূর্ণীতিবাজ এমপি মন্ত্রী,  ব্যবসায়ীদের হাজার হাজার কোটি টাকা কামানোকে জণগনের দৃষ্টি ও চিন্তাশক্তির বাইরে ঠেলে রাখে (অবশ্য অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সরকার থাকলে দূর্নীতি অনেক বেশি হয় বলে সারা বিশ্বেই প্রমাণিত । তাদের চাইতে কিছু দূর্ণীতি করলেও গণতান্ত্রিক সরকার অনেক ভাল)। আর শাহরিয়ার কবিরকে জংগিবাদের জন্য ধরা হয়নি। তাঁকে ধরা হয়েছিল চার দলীয় ঐক্য জোট সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু বিশেষত হিন্দুদের উপর মুসলিম মৌলবাদি বিএনপি জামাত সরকার  চরম নির্যাতন অত্যাচার চালাচ্ছে  -এরকম প্রোপাগান্ডা তথ্যচিত্র বানিয়ে ভারতে, পশ্চিমা বিশ্বে প্রচারনা চালানোর দায়ে। ঐ তথ্যচিত্র সহই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইচ্ছা করলে তিনি এখন আওয়ামী লীগের সময়ে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ঐরকম প্রচারনা চালাতে পারেন। তাহলে বাংলাদেশের বিবেকের স্থানে অধিষ্ঠান দেওয়া আওয়ামী লীগই এক হাজার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়ে এক নম্বর দেশদ্রোহি বানিয়ে দিবে।

     

     

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      Daily Star: 
      Source: Here

      Although Mamoon was arrested on suspicion of his involvement in the blasts, he was not shown as an accused in the case.

      "But the interrogators were asking me repeatedly about the Mymensingh blasts and what I knew about Awami League's involvement in it," he said.

      Talking to The Daily Star yesterday, Shahriar Kabir said, "The interrogators tortured me repeatedly to force me to furnish in black and white that Awami League and India were involved in the blasts."

      "They told me that they would release me if I submitted such a written statement," he said.

  13. 3
    শামিম

    বুজলাম ভাই সবই খারাপ দল তাহলে ভাল কোন দল? অন্তত একটা নাম বলেন

  14. 2
    মজলুম

    হোয়াটএভারঃ অনলি আলু পোড়া ইজ রিয়েল।  সবাই যার যার আলু নিয়ে পোড়া দিচ্ছেন, যার সেভাবে সুবিধা হয় সেভাবেই। 

    একটা কারেকশানঃ জেএমবির ৬৪ জেলায় একসাথে বোমা হামলার পর নিজামি বলে নাই যে বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি। তার আগে বলেছেন, যদিও তখন বাংলাভাইয়ের জেএমবি পুলিশের সাথে অনেক সংঘর্ষ করেছিলো উত্তরান্চলে, মানুষ পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখছিলেন। 

     

     

     

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার কথায় একমত। আলোপোড়া খাওয়ার মজাই আলাদা। আলু পোড়া খাদকদের দলে মিডিয়া, টকশোজীবি, সুশীল সমাজ থেকে ব্লগারও জড়িত। দ্যাটস রিয়েল ইনডিড। 

      (নিজামীর বিষয়টা ঠিক করে দিলাম -- ধন্যবাদ) 

       

       

  15. 1
    মাহফুজ

    সার্বিকভাবে আপনার এ লেখাটি বেশ গোছালো হয়েছে। সময়োপযুগী লেখার জন্য ধন্যবাদ।
    একজন পিতা হিসাবে আপনার উপলদ্ধির (তাহলে আমাদের করনীয় কি?) সাথে আমিও সহমত।
    তবে মনের কোনে সব সময় যে প্রশ্নটা উঁকি দেয় তা শেয়ার করলাম-
    ঘরে না হয় সন্তানদের নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দিলাম। কিন্তু সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজিত অনৈতিক পরিবেশের সাথে তারা কি খাপ খাওয়াতে পারবে?
    এই রাহুগ্রাসের ছোবল থেকে তারা কি নিজেদের রক্ষা করতে পারবে?
    আমার মনে হয়, ঘরে নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি বাহিরের অনৈতিকতা ও অনাচারের মূলৎপাটনের জন্যও সাধ্যমত কিছু একটা করা চাই।

    আমাদের মনে রাখাতে হবে যে, অনাদর্শীক সমাজে বিরাজিত আক্ষেপ জনিত আদর্শীক দ্বন্দ ও দমন নীতির করাণে যে উগ্র/জঙ্গি/সন্ত্রাসবাদের জন্ম হয়, তা কখনই সম্পূর্ণরূপে দমন করা যায়না। উভয়পক্ষই তাদের যুক্তি ও কর্মকাণ্ডকে যৌক্তিক হিসেবে দাবি করে অনঢ় অবস্থানে থাকে। এক্ষেত্রে দমিতরা তাদেরকে সংগ্রামী আর দমনকারীরা তাদেরকে সন্ত্রাস-বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। পরস্পরের মধ্যে সমঝোতা না হলে বা না করিয়ে দিতে পারলে পরিণতিতে এটি খণ্ডিত কিংবা ব্যপক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং কেবলমাত্র জয়-পরাজয়ের মাধ্যমেই এই অবস্থার একটি দীর্ঘ মেয়াদী সমাপ্তি ঘটে থাকে।

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ মাহফুজ, প্রবল বৈরী পরিবেশে থেকেও যে ইসলাম অনুসরন করা যায় তার উদাহরন হলো কানাডার মুসলিম সমাজ। এখানে সবাই ইসলাম চর্চার বিষয়টা পারিবারিক রুটিন হিসাবে নিয়েছে। সরকার বা রাষ্ট্র কিছু করবে কেন? এরা তো দুনিয়া নিয়েই ব্যস্ত। আপনার আমার জন্যে এই সব ফ্যাতনা বা পরীক্ষা -- এতে পাশ ফেলের দায় আমারই। 

      বাংলাদেশের জঙ্গীবাদ বা উগ্রপন্থা আসলে চলমান রাজনৈতিক খেলার অংশ। কেউ খেলে -- কেউ খেলা দেখে মজা পায় কার প্রতিপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আর কেউবা খেলায় উৎসাহ যোগায়। সবারই মোটামুটি এখানে পার্টিসিপেশন আছে। 

      তবে বেশী দিন এই খেলা চলবে না -- জনগন ভয়কে জয় করে এদের প্রতিরোধ করবে -- তখন অবশ্য নতুন উগ্রবাদীর আসবে বলে মনে করি। 

       

Leave a Reply to মম Cancel reply

Your email address will not be published.