«

»

May ২৯

মূর্তি না ভাস্কর্য – ধাঁধাঁর মাঝে আমরা

শুরু করি আজকের একটা কথা দিয়েই – টিভি খুলে বসছি – বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত চ্যানেল ৭১ এর সংবাদ শিরোনাম – খবর পাঠিকা বলছেন – আজ মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা রমজানের রোজা রাখা শুরু করেছেন – এদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম উর্দ্ধমুখী … ইত্যাদি ইত্যাদি – লক্ষ্য করুন – "মুসলিম" ধর্ম বলতে কি কোন ধর্ম আছে কি? ধর্মের নাম ইসলাম আর অনুসারীদের নাম মুসলিম – এই সামান্য বিষয়টা তারা জানে না – এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু একটা তাচ্ছিল্য – অবজ্ঞা থেকেই এই ধরনের কথা আসে। যা মুসলিম – তাহাই ইসলাম। যাহা হেফাযত তাহাই জামাত – তাহাই রাজাকার। বস্তুত ইসলামকে অস্বীকার করার জন্যে তাদের একটা সদাসর্বদা প্রচেষ্টা থাকে – যার প্রমান সেই একাত্তরের নিউজ প্রধান সৈয়দ ইসতিয়াক রেজার দৃষ্টিভংগী দেখুন – 

এমন এক গোষ্ঠীর আগমণ ঘটেছে যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ধর্মীয় অন্ধতার পিচ্ছিল কালিপথে দেশকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। ধর্মান্ধ অন্ধকার গোষ্ঠির সাথে সখ্যতা গড়া এই তথাকথিত লেখাপড়া জানা গোষ্ঠীটি ভয়ংকরভাবে রক্ষণশীল ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে জনজীবন নিষ্পেষণ করছে। কিন্তু এদের প্রতিহত করার কোন সামাজিক উদ্যোগ নেই। চিহ্ণিত মৌলবাদিদের চেয়ে এরা বেশি জঙ্গিবাদ ছড়াচ্ছে সমাজের সর্বত্র।

নোট করুন – "ধর্মীয় অন্ধতার পিচ্ছিল কালিপথ"  – খুব ভাল করে কথাগুলো লক্ষ্য করুন। তারপর পড়ুন – 

যারা আপনার বিতরণ করা লিল্লাহ ছদকা খেয়ে জীবন ধারণ করে তাদের কথাই শিরোধার্য হয়ে উঠছে..

সত্য কথাই বলেছেন – যদিও বাস্তবতা নির্মম – কিন্তু সত্য – এই ইসতিয়াক সাহেবদের কাছেই আমাদের মৌলভিরা যাবেন এতিম খানার জন্যে চাঁদা নিতে – মাদ্রাসার জন্যে গরুর চামড়া নিতে অথবা মসজিদের জন্যে সাহায্য নিতে – যার উপরই তাদের বেঁচে থাকা। 

এই যে হাজার হাজার মাদ্রাসা আছে – যেখানে শুধু আরবী কোরান মুখস্ত করিয়ে কর্মসংস্থানের জন্যে মসজিদের ইমাম আর মুয়াজ্জিন বানানোর প্রক্রিয়া চলছে – তার সাথে যদি তাদের কর্ম উপযোগী শিক্ষা দেয়া হতো – তা হলে হয়তো সৈয়দ ইসতিয়াক রেজার মতো প্রবল ইসলাম বিদ্বেষীদের মুখাপেক্ষী হতে হতো না। বাংলাদেশে ইসলামের নামে যে অনাচার চলে (যেমন হিলা বিয়ে, গ্রাম্য শালিশ ইত্যাদি) সেখানে এই মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ইমাম বা মুয়াজ্জিন দুই মুঠো ভাতের নিশ্চয়তার জন্যে প্রভাবশালীদের পাশে বসে মাথা নাড়েন আর সকল অপকর্মের দায় পড়ে ইসলামের উপর। এই পরমুখপেক্ষিতা এবং ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে বের করার চেস্টা করা কি জরুরী নয়? 

অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন – এতে কোরানের হেফাযত বন্ধ হয়ে যাবে – কারন আমাদের ধারনা একদল শিশুকে (এতিম, দরিদ্র বা বাবা-মার বেহেস্তে যাওয়ার সিড়ি তৈরী মানসে) কঠিন ভাবে কোরান হেফজ করার জন্যে কঠিন শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে না রাখলে কোরানের হেফাযত হবে না – সেই সময় আমরা আল্লাহর অংগীকার ভুলে যাই যে কোরান হেফাযতের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নিয়েছেন। যার প্রমানও দেখি কানাডায় – এখানে দেখি অনেক বাচ্চা গ্রেড এইট বা নাইনে সাধারন শিক্ষার স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে কোরান হেফজ করতে যায় – হেফজ শেষ করে আবার সাধারন শিক্ষায় ফিরে এসে রীতিমতো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে চলে যায়। গত এক সপ্তাহে কয়েক জনের সাথে কথা হলো – আরো লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো – টরন্টোতে এতো কোরআনে হাফেজ আছেন যে রমাদানের তারাবী পড়ানোর জন্যে তাদের ব্যস্ত রাখতে টরন্টোর বাইতুল মোকাররমের খবিত মাওলানা ওয়াজেদ সাহেবকে হিমশিম খেতে হচ্ছে – বলা দরকার এই হাফেজদের অধিকাংশই অল্পবয়সী এবং এখানেই হেফজে করেছেন। 

(২)

এক কথা বলতে গিয়ে ভিন্ন প্রসংগে চলে এলাম – কথা হচ্ছিলো হাইকোর্টের সামনে মৃনাল হকের তৈরী মুর্তি নিয়ে। যেহেতু এইটা একটা মুর্তি – তাই সৈয়দ ইসতিয়াক রেজাদের জন্যে পরম পাওয়ার ধন – যার কারনে বিগত ৪৫ বছর ধরে হাইকোর্টের প্রতীক ছিলো সাদা দালান – আর দাঁড়িপাল্লা। কিন্তু তিনমাস আগে এই রুচীহীন একটা নারী মুর্তি বসানোর পর থেকেই বাংলাদেশের টিভিগুলো হাইকোর্টের যে কোন খবর দেখানোর সময় মুর্তিটি এমন ভাবে দেখানো শুরু করলো যে – এইটাই হাই কোর্ট – কোর্ট মানেই এই মুর্তি – মানুষের মগজে গেথে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা দেখলাম। এর মধ্যে হেফাযত বিরোধীতা করলো – প্রধানমন্ত্রীও বিরোধীদের দলে যোগ দিলেন – এতে নাস্তিকরা চরম ভাবে পরাজিত হওয়ার মানসিকতা থেকে বিরোধীতা শুরু করলো। যাই হোক – আওয়ামীলীগতো আর হেফাযত হতে পারে না – তাই মুর্তি সরিয়ে ব্যকডোরে পাঠানো হলো। 

এখানে কিছু প্রশ্ন আসে – এই মুর্তিটি আসলে কিসের প্রতীক?

মৃনাল হকের ভাষ্য আনুসারে এইটা ১% গ্রিক মুর্তি ৯৯% বাঙালী নারী – বাঙ্গালী নারীর হাতে তলোয়ার বিষয়টা কতটা মানানসই – কতটা সংস্কৃতি আর কতটা ঐতিহ্য – এর সাথে বিচারের সম্পর্ক কি – এই বিষয়ে আলোচনার আগেই দুই দল রাখা আর না রাখার পক্ষে জেহাদ ঘোষনা করলো। একদিকে হেফাযতের হাজার হাজার কর্মীর মিছিল – অন্যদিকে ১৬ জন প্রতিবাদীর জন্যে ৩২ টা ক্যামেরা নিয়ে নাটক এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই তাদের পরিচয়টা তুলে ধরছে পক্ষে অথবা বিপক্ষে কথা বলে। কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কথা বলেছেন চারুকলার শিক্ষক নিসার আহমেদ – উনি বলছেন এইটা শিল্পন্মত কোন কাজ হয়নি – এমনকি ঢাকার ৯০% স্থাপত্য কোন শিল্পকর্ম নয়। সেইটার মাঝে বিমানবন্দরের সামনে আল্লাহর নাম আরবীতে লেখা একটা স্থাপত্য আছে – যা মৃনাল হকেরই তৈরী। সেখানে লালনের মুর্তি লাগাতে ব্যর্থ হলে আরবী আল্লাহ লেখে লাগানো হয়েছে। আল্লাহর কোন ইমেজ নেই – তৈরি করা বা রাখা ঠিক না – এইটা আমাদের স্বঘোষিত ইসলামের হেফাযতকারীরা মনে হয় মনে রাখেন না – তেমনি শিরকের আশংকার কথা বলে মুর্তির বিরোধীতা করা এই স্বঘোষিত ইসলাম হেফাযতকারীরা হাজার হাজার মাজার আর পীরদের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ শিরকে লিপ্ত তার বিষয়ে ততধিক নিশ্চুপ। সেই মাজারের পাশে মসজিদের ইমামতি করেন এরাই – মাজারের চাঁদা থেকে বেতন নিয়ে চলেন – তখন শিরক বিষয়টা উনারা ভুলে যান। 

 প্রকৃতপক্ষে হেফাযতের কাঁধে ভর করেছে নেজামে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের নামে কিছু রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসীরা – যারা রাজনৈতিক স্বার্থে ইস্যু তৈরী করছে – এরা বিএনপি জোটকে ছেড়ে এসে এখন আওয়ামীলীগের মিত্র হয়ে ইসলাম রক্ষার নামে রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে – মাদ্রাসা থেকে পাশ করা পরান্নভোগী একদল স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন আবেগনির্ভর সমর্থক নিয়ে হয়তো একটা পর্যায় পর্যন্ত গিয়ে একটা বড় এনার্কি তৈরী করা যাবে – বাস্তবে এতে বাংলাদেশে শুদ্ধ ইসলাম চর্চা আরো ক্ষতিগ্রস্থ হবে – কারন মুফতি মহিবুল্লাহর মতো চতুর রাজনীতিবিদরা কৌশল করে – কিন্তু সেই কৌশল বাস্তবে খুব বেশী এগোয় না – যদি সফল হতোই – তবে বাংলাদেশে ৭০ টা "ইসলামী" রাজনৈতিক দল থাকতো না। 

প্রসংগক্রমে হেফযতের ভিতরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর একটা পরিচয় দেখা যেতে পারে –

:হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ এক নেতা জানান, অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এতে নীতিনির্ধারক স্তরে আছেন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। তারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে আছেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইসহাক। তিনি হেফাজতের একজন নীতিনির্ধারক। কোনো জোটে না থাকলেও হেফাজতের ঢাকা বিভাগের নায়েবে আমির মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ নেতৃত্ব দিচ্ছেন খেলাফত আন্দোলন নামে রাজনৈতিক দলের। আগে বিএনপি জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যুক্ত হন হেফাজতের সাবেক নায়েবে আমির মুফতি ইজহার। তিনি নেজামে ইসলামী পার্টির সভাপতি। হেফাজতের সঙ্গে যুক্ত থাকা মাওলানা হাবিবুর রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের। এ সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক হেফাজত ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমির। ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ফয়জুল্লাহ ও মাঈনুদ্দিন ব্রহী হেফাজতের নেতৃত্বেও আছেন। হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর উপদেষ্টা মুফতি ওয়াক্কাছ নেতৃত্ব দিচ্ছেন জমিয়াতুল ওলামায়ে ইসলাম নামে রাজনৈতিক দলের। এরশাদ আমলে মন্ত্রী ছিলেন তিনি। হেফাজতের নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান যুক্তিবাদী সম্পৃক্ত ছিলেন জাতীয় পার্টির সঙ্গে। এরশাদের জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করলে পদত্যাগ করেন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি আনুগত্য আছে তার। – See more at: http://bangla.samakal.net/2017/05/15/292673#sthash.KjRxkXOJ.dpuf

বরঞ্চ সৈয়দ ইসতিয়াক রেজারা যে কারিগরী শিক্ষার জোরে সমাজের নিয়ন্ত্রন করে – সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা উচিত। মুখস্ত কোরান জানা লোকের কাজ শুধু বিয়ে আর জানাজা পড়ানো – এর চেয়ে বেশী কিছু করতে পারবেও না – যতদিন না এই চক্র থেকে বের হচ্ছে ততদিন ইসতিয়াক সাহেবদের টিভি চ্যানেলে গিয়ে ধমক খেতে হবে মুফতি মহিবুল্লাহকে আর ইসতিয়াক রেজারা ইসলামকে একটা সাম্প্রদায়িক মতবাদ হিসাবে প্রচার চালাবে। এরা মুর্তি না ভাস্কর্য এই বিতর্ক তৈরী করে আমাদের ধাঁধাঁয় ফেলে রাখবে। 

৬ comments

Skip to comment form

  1. 3
    মজলুম

    বাঙালী মুসলিমদের ধর্ম পরিচয়ে সব সময় একটা আত্ববিশ্বাসের অভাব থাকে, নইলে কি সাধে গত ১০০০ বছরে বাঙালি মুসলিমরা নিজ দেশই শাসন করতে পারিনি। বাংলাদেশের ৯৫% মিডিয়ার মালিকরা সো কলড সেক্যুলার নয়, বরং ব্যবসায়ী মুসলিম। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত যতটুকু পারে করে। কিন্তু এরা তাদের মিডিয়ার দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে সো কলড সেক্যুলারদের, যারা এই দেশে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমসময় অনেক বেশী প্লাটফর্ম  দেয়। মাহফুজুর রহমান ও লুৎফুর রহমানের এটিএন ও প্রথম আলো তার একটা উধাহারন। ইসলাম সম্পর্কে এরা বেশী পড়াশোনা না করায় সো কলড সেক্যুলারদের কাছ হতেই এদের ইসলাম! শিখতে হচ্ছে যে কোনটা ইসলামিক আর কোনটা নয়। সেক্যুলাররা  লাল পানির সাথে একটু লাল বই ও বেশী পড়ে বলে মিডিয়া মালিকরা ওদের অনেক জ্ঞানী ভেবে ভুল করেন। দোষ আসলে আমাদেরই, আমরাতো অন্য বই দূরের কথা, কোরান শরীফটাই ঠিক মতে পড়িনা যে কি লেখা আছে এখানে। 

    আপনি মাজারের কথা বলছেন এখানে বা প্রায়ই বলেন। কিন্তু এই দেশে মাজারীদের রুট অনেক গভীরে যদিও ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব কমে যাচ্ছে। কারন মানুষ যতই শিক্ষিত/ইসলামি শিক্ষিত হবে ততই মাজার হতে দূরে থাকবে। মাজারিদের বিরোধিতা মসজিদের খোতবায় বা ওয়াজ মাহফিলে সব সময় বলা হয়। কিন্তু ওদের উচ্ছেদ করতে গেলে এই দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। ঢাকার যতগুলো কওমী মাদ্রাসা আছে যেমন যাত্রাবাড়ি/মুহাম্মদপুর/বসুন্ধরা/লালবাগ/কামরাঙগিরচর/ফরিদাবাদ। এরা সবাই মিলে যদি ফকিরাপুলের দেওয়ানবাগীর আস্তানা উচ্ছেদে যায় তাহলে ভয়ংকর অবস্হা হয়ে উঠবে। অন্য এলাকাগুলোর কথাতো বাদ দিলাম। 

    কওমীওয়ালাদের কারিগরী শিক্ষা শিখে নিজ পাড়ে দারানোর বিকল্প নেই, সাথে ব্যবসা বানিজ্য ও শিখতে পারে। বড় বড় সাহাবিরা ব্যবসায়ী ছিলেন, ধনী ছিলেন। সবাই আসহাবে সোফ্ফার সাহাবী ছিলেন না। তাহলে আর কারো কথা নিচে থাকতে হবে না। 

    বাংলাদেশে ইসলামি ৭০ টা দল। এটা সব মুসলিম দেশের করুনাবস্হা। সিরিয়াতে আসাদ/রাশিয়া/ইরানের প্রতিদিন ক্যেমিক্যাল অস্র আর ব্যারেল বোম্ব মেরে গনহত্যা করেও ২০০ এর মতো আসাদ ও আইএসআইএস বিরুধী ইসলামি দলকে এক করতে পারেনি। ৫০ লক্ষ লোক দেশ ছেড়ে শরনার্থী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে, ৫ লক্ষকে হত্যা করা হয়েছে তবুও এরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হয়েও, তাহওহীদকে ধারন করেও এরা এক হয় না। অন্য সব কিছু বাদ, এই ২০০ ইসলামি গ্রুপের নেতারা একটা মিটিং করলে সেই মিটিংয়ে কি চা খাবে না কফি খাবে সেই বিষয়েও একমত হতে পারেনা। 

    বিপরীতে, সব শিয়া গ্রুপ যেমন (দ্বাদশী/সপ্তমী/ইসমাইলি/নুসাইরী/হুতি/হাজারা)/সেক্যুলার গ্রুপ/ বাথপার্টি/আরব জাতিয়তাবাদী/ফিলিস্তিনি সেক্যুলার/কম্যুনিষ্ট/সোশালিস্ট/রাশিয়া এরা সবাই ঐক্যবদ্ব হয়ে সিরিয়ার সুন্নিদের বিরুদ্বে গনহত্যা চালাচ্ছে। মিল্লাতে কুফফার ওয়াহেদুন বা একতাবদ্ব কিন্তু মিল্লাতে মুসলিম? স্ক্যাটারড। এখানে এই ছবিটা দেখুন, অনেকগুলো দলের লিস্ট দেওয়া আছে যারা একতাবদ্ব হয়ে সুন্নি মুসলিমদের উপর গনহত্যা চালাচ্ছে এবং সুন্নিদের নিজের এলাকা হতে সম্পূর্ন বিতাড়িত করে শিয়া মুসলিমদের দ্বারা সেই স্হান পূরন করছে।  
     

    1. 3.1
      শামস

       

      মাজার নিয়ে যা বললেন, আমার ভাবনার সাথে মিলে গেল। আমার দেখা মাজার পূজা করা লোকগুলো এবং এর সমর্থক মূলত সমাজের অশিক্ষিত শ্রেণিটা। শিক্ষিত লোক, সেটা সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম বা ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম হোক (বেশিরভাগ), তারা মাজার পূজা থেকে দূরে আছে। আমার এলাকাতে এই মাজার পূজা একসময় ছিল ব্যাপক, যা এখন অনেক কম। যে মাজারকে কেন্দ্র কে মাজারপুজার ব্যাপ্তি পেয়েছিল সেখানটার আশেপাশে তাবলীগের কাজ শুরু হবার পর পরিবর্তনটা দ্রুত হয়। অবশ্য প্রথম দিকে দেখতাম, মাজারপূজারীদের কাছ থেকে তাগলীগীরা প্রবল বাধার সম্মুখীন হতো। যাই হোক, মাজারপূজারীদের নিজস্ব আলেম ওলামা আছে, তাদের এতিমখানা এবং মসজিদ আছে। তাদের অন্ধ মুরিদ আছে। এখানে সম্মুখ বিরোধীতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, আমার ধারণা এটা মাজারী এবং মাজারবিরোধী সবাই জানে। তবে কওমীদের সাথে মাজারপন্থীদের প্রায়ই নানা বিষয়ে বাহাস হয় বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে, আমার ধারণা এটাও একটা ভালো জিনিষ যতক্ষণ সাংঘ্রষিক কিছু না হয়। মাজারপূজা এদেশে পড়তির দিকে, যদিও এখন অনেক প্রবল, কিন্তু সেই পড়তিকে আটকানো তাদের পক্ষে সম্ভব বলে মনে হয় না। যেটা কাজটা এফেক্টিভলি সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে করা যায়, তার জন্য আগ বাড়িয়ে কিছু করা নির্বুদ্ধিতা।

       

      1. 3.1.1
        মজলুম

        হ্যাঁ, এটাই। যে জিনিস সহনীয়ভাবে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে তার বিপক্ষে শক্তি প্রয়োগ ঠিক নয়। মাজারতো আর পতিতা পল্লী নয় যে পেটের দায়ে পড়ে এই পেশার মেয়েরা লজ্জায় মুখে ওড়না ঢেকে পালাবে। মাজার চলে কিছু ভন্ড ও তার অন্ধ ভক্ত দ্বারা যারা ভন্ড পীরের কেরামতিতে! বিশ্বাস করে। তাছাড়া মাজারীরা পেশা সন্ত্রাসী পালে। একবার চরমোনাইয়ের মুরিদেরা গিয়েছিলো দেওয়ানবাগ উচ্ছেদ করতে, কাছেই ভিড়তে পারেনি। দেওয়ানবাগের পোষা সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের উপর। 

        1. 3.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          ধন্যবাদ, আপনার কথা শুনে আশাবাদী হলাম। আল্লাহ ইচ্ছা যেন তাই হয় --  মাজার পুঁজা আমার কাছে ভয়াবহ মনে হয় -মানুষ না জেনে-বুঝে কঠিন পাপে লিপ্ত হচ্ছে। 

  2. 2
    মহিউদ্দিন

    "অন্যদিকে ১৬ জন প্রতিবাদীর জন্যে ৩২ টা ক্যামেরা নিয়ে নাটক এগিয়ে যাচ্ছে।"

    সহমত ।

    যাদের দুর্বলতার কথা লিখেছেন তাদেরকে তো আমরা বৃহত্তর মুসলিম সমাজ তথাকথিত ইলিট শ্রেণীরাই এভাবে চলতে সহায়তা করছি। "আওয়ামী লীগ হেফাজত হবেনা" কিন্তু হেফাজতকে শুধু ভোটের  খরিদ্দার না করে তাদেরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে তো দেখিনা।
    ধর্মীয় নেতাদেরকে সমাজে পিছনে পড়ে থাকতে ও একে অন্যের সাথে সমালোচনা ও বিরোধিতার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত না রেখে ধর্মীয় শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষা যুগোপযুগী করতে চাইলে যে কোন সরকারের পক্ষে তা করা সম্ভব। প্রয়োজন সদিচ্ছার। 

  3. 1
    Madhumangal Saha

    আমি কোথাই যেন পড়েছিলাম যে কবি হুমাউন আহহমেদ বলেছিলেন ১৫০০ বছর কোথাই যেন পড়াশোনা করলেও জ্ঞানের জ নাকি জন্মাবেনা । আপনার কি জানা আছে এই মহান লেখক কোথাকার পরাশনার কথা বলেছিলেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published.