«

»

Jun ২১

একটা মুসলিম প্রধান দেশ এমন হওয়ার কথা ছিলো না!

মাঝে মধ্যে চরম হতাশ লাগে – ভাবি এর শেষ কোথায়! বাংলাদেশ নিয়ে যখন ভাবি – ভয় হয় – একটা জাতি এতোটা দেউলিয়া হলো কিভাবে? আল্লাহ অসীম রহমতে যে জাতির অধিকাংশ সদস্য মুসলিম – তাদের নৈতিকতা – আদর্শ – দর্শন হওয়ার কথা মানবতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু কার্যত দেখি – বাংলাদেশে শিক্ষিত শ্রেণী সবচেয়ে বড় দুরাচার আর অনৈতিকতায় ভুগছে। কার কথা বলবো – প্রশাসন – রাজনীতিবিদ – পুলিশ – এরাতো দূর্নীতি আর অনৈতিকতায় নিজেদের মধ্যে কটিন প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। আর আমি নিজে যে পেশায় – তার কথা ভাবতেও লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে আসে – ভাবি – এরা কিভাবে পারে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ – নিজের পরিবার বা সন্তানের সামান্য ভোগ বিলাশের বিনিময়ে সাধারন মানুষদের ভাল-মন্দের যে আমানত তাদের উপর অর্পন করা হয়েছে – তার বিষয়ে চরম অবজ্ঞার প্রদর্শন করতে। এরা কি আল্লাহ কঠিন শাস্তির ভয় করে না? কিন্তু দেখি বাহ্যিকভাবে এরা ধর্ম পালক করে – রোজা রাখছে – নিয়মিত তারাবী পড়ছে। শুক্রবার – বিশেষ করে “আখেরি জুমা”র দিন মসজিদে তিল ধারনের জায়গা থাকবে না – “আখেরি মুনাজাত” করার জন্যে পুরো শহর ভেংগে মানুষ টঙগী দিকে হাঁটে। কিন্তু এরা কি তাদের আমলনামার লিখনগুলো নিয়ে সামান্যও চিন্তিত নয়!

বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা সবাই পাশ করার পরই ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যায়। তারপর দ্রুত তাদের উন্নতি। কোন ইঞ্জিনিয়ারকে দেখিনি দারিদ্রতার মাঝে জীবন কাঁটাতে – যদিও সরকারী চাকুরী করে তাদের বিলাশী জীবনের সামান্যই সংস্থান সম্ভব। আর কানাডা এসে যা শিখলাম – একজনকে পাশ করার পর অনেকগুলো পথ পাড়িদিয়ে তবে ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। তার অবশ্যই যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জরুরী তা হলো –

The practice of professional engineering is defined in Section 1 of the Professional Engineers Act. Professional engineering is:

১. any act of planning, designing, composing, evaluating, advising, reporting, directing or supervising (or the managing of any such act);
২. that requires the application of engineering principles; and
৩. concerns the safeguarding of life, health, property, economic interests, the public welfare or the environment, or the managing of any such act.

শেষ লাইনটা লক্ষ্য করুন। একজন প্রকৌশলীকে অবশ্যই মানুষের জীবন, অর্থনৈতিক স্বার্থ, জনগনের কল্যানের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এ্‌ইটাইতো আমানত। এই আমানত রক্ষা করা একজন মুসলমানের জন্যে ফরজ। সেখানে কিভাবে বর্ষা এলেই বাঁধ ভেংগে যায়। তারপরের শীতে সেই বাঁধ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হয় – আবারও তা ভাংগে। ফলাফল ফসল নষ্ট হয় – হাজার হাজার মানুষ ভিক্ষুকে পরিনত হয় – চালের দাম বেড়ে যায় – লুটেরা শ্রেনী সেই সুযোগে কৃতত্রুম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে বাধ্য করে তাদের মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ তৈরী করতে। একটা দুষ্ট চক্র জনগনের উপর চেপে বসে। আর বঅঁধ ভাংগার পিছনে দূর্নীতির বিষয়টি শুরুতে যদিও হৈ চৈ এর কারনে কিছুটা আইওয়াশ করার জন্যে কয়েকজন প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয় – কিন্তু তারা আবার নিজের জায়গা ফিরে আসে – তদন্ত কমিটি হয় – তারা বলে – ইঁদুরে দোষ।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ জিওট্যাকনিক্যাল বলে একটা শাখা আছে – যা মাটির তৈরী কাঠামো নিয়ে কাজ করে। মাটির শক্তি – তার তৈরী স্থাপনা গুলোর ডিজাইন এবং নির্মান কৌশল নিয়ে পড়াশুনা করানো হয় সকল প্রতিষ্টানে। কিন্তু কার্যত মাঠে ঠিকাদার (সেখানেও লুটপাট আর ক্ষমতার প্রভাব) শ্রমিকদিয়ে মাটি কেঁটে নীচের থেকে উপরে ফেলে রাখে। না থাকে কম্পেকশান, মাটির শক্তি পরীক্ষা বা বাঁধরক্ষার কোন ব্যবস্থা।

একদল পেশাজীবির দূর্নীতি আর অনৈতিকতার কারনে বাংলাদেশ আজ খাদ্য সংকটে পড়েছে। সরকার জনরোষ থেকে বাঁচার জন্যে লুটেরা ব্যবসায়ীদের কাছে অসহায় আত্নসমপর্ন করছে। মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের পকেটে – নিম্নআয়ের মানুষের জীবন দূর্বীসহ হয়ে উঠছে। মুলে একদল পেশাজীবি – যাদের অধিকাংশই মুসলিম – তাদের অনৈতিকতা আর আমানতের খেয়ানতের কারনে।

আর আছে পেশাজীবি প্রতিষ্টান – আইইবি – যাদের কাজ পেশাজীবিদের মান এবং নৈতিকতা নিয়ন্ত্রক করা – এরা কার্যত চুরি এবং চোরদের সহায়ক ভূমিকা পালনে সরকার কাছে বার্গেনিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। সরকারী দলের সমর্থখ হলেতো কথাই নেই – তার জন্যে সাতখুন মাফ – এরা চুরি করে বুক ফুঁলিয়ে ইফতার পার্টিতে যায় – তাদের কেশাগ্র ষ্পর্শ করার ক্ষমতা কারো নেই – কারনে আইইবির কর্তারাও সরকারী দলের ক্যাডার বটে।

সব মিলিয়ে হতাশ – এই জাতিকে কে রক্ষা করবে। কে তাদের আলোর পথে নিয়ে যাবে। এই সন্মিলিত দুরাচারের থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ!

৩ comments

  1. 2
    সুজন সালেহীন

    বর্তমান হাসিনা সরকার তার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার কুমানসে সরকারী কর্মচারীদের বশে রাখার কৌশল হাতে নেয়। এরই অংশ হিসেবে তারা দুদক আইনে এমন একটি ধারা জুড়ে দেয় যাতে সরকারী কর্মচারীদের দূর্নীতি লাগামহীন হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অনুমতি ছাড়া মামলা করা যাবেনা। বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সীমাহীন দলবাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। তারা প্রজাতন্ত্রের চাকুরীর আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেনা। তারা কোন রাখঢাক না রেখে রাজনীতিবিদদের মত কথা বলা শুরু করে দিয়েছে। কিছুদিন আগে এক সরকারদলীয় এমপি যিনি দেশব্যাপী ইয়াবা-গডফাদার হিসেবে পরিচিত, তার আয়বিবরণীতে কোটি-কোটি টাকার সম্পদ গোপনের দায়ে দুদক কর্তৃক মামলায়(সরকারদলীয় অন্যান্যদের মত দুদক হয়তো ইনাকেও সাফাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে!) জামিনপ্রাপ্ত হয়ে সরাসরি সরকারের প্রতাপশালী মন্ত্রী তথা দলের সম্পাদকের সাথে সাক্ষাত করেন। এই এমপি তার এলাকায় পৌছার রাতেই স্হানীয় থানার ওসি সাহেব সদলবল সহকারে বড় সাইজের ফুলের মালা নিয়ে মজলুম এমপি!কে স্বাগত জানাতে গেলেন। স্হানীয় যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। নবনিযুক্ত! যুবলীগের কর্তারা সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলেন স্হানীয় উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার সাথে। সরকারী প্রশাসন এখন ক্ষমতাসীন দলের দেখভালও করে যাচ্ছে। মানে এখন সরকারী প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দল একাকার হয়ে গেছে। এতেকরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও জনগণ। প্রাশসনে কাজের পরিবেশতো থাকবেনা, কাজের গতি থাকবেনা, অযোগ্যরা বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগে থাকবে, ভেঙে পড়বে ‘চেইন অব কমান্ড’।

  2. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আল্লাহ্‌ ভরসা। আল্লাহ্‌ ছাড়া এই জাতির কোন উপায় নেই, সমাধান নেই। দোয়া, আল্লাহ্‌ এই দেশ ও মানুষদের উপর রহমত নাজিল করুন।

     

    জিয়া ভাই, লিখাটির জন্য ধন্যবাদ

    1. 1.1
      Sami

      “সরকার জনরোষ থেকে বাঁচার জন্যে লুটেরা ব্যবসায়ীদের কাছে অসহায় আত্নসমপর্ন করছে।”

      সরকার অসহায় আত্নসমপর্ন করছে? সরকার সাধু হল কিভাবে? সরকারই তো সকল লুটেরাদের সর্দার। আপনি একদিকে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিপরায়ণ  বলছেন- অন্যদিকে সরকারকে অসহায় বলছেন! আপনার আগের লেখাগুলো  থেকে বুঝতে কোন অসুবিধা হবার কথা নয় যে- আপনি এই সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। এমনকি সরকারকে সমর্থন দিতে গিয়ে অনেক অন্যায়, অনৈতিক কাজকে সমর্থন করেছেন! আমার মনে একটা প্রশ্ন বার বার উকি দিত- একজন মানুষ কানাডার মত উন্নত গণতান্ত্রিক পরিবেশে থেকেও শুধুমাত্র একটা দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সরকারের অন্যায়, অনৈতিক কাজকে সমর্থন দেন কিভাবে? যেখানে আপনি অহরহ কোরআন, হাদিস, ইসলাম নিয়ে কথা বলেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.