«

»

Jul ০৯

ইসলামপন্থীরা বারবার কি ভুল করেই যাবে?

দীর্ঘদিনেরই পাকভারতেই ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় – ইসলামের নামে রাজনীতি করার নেতুত্ব বারবার ভুল করেছে। কোন কোন সময় ভুল নেতার পিছনে বা কখনও ভুল রাস্তায় হেঁটেছে। ফলে যে পাকভারত উপমহাদেশ একসময় মুসলিমরা শাসন করতো তারা এখন কোথায় সংখ্যালঘু হয়ে অন্যের করুনা ভিক্ষা করছে – নতুবা মতাদর্শে ভাগ হয়ে নিজেদের মাঝে মারামারি করে দূর্বল এবং পরনির্ভশীল একটা গোষ্ঠীতে পরিনত হয়েছে। যেমন একময় ইসলামের সাথে সামান্যই সম্পর্ক থাকা জিন্নাহকে নেতা মেনেছে – মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে বাদ দিয়ে ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নাহর কুটচালকে ইসলামের পক্ষে বিবেচনা করেছে – ফলাফল একসময় বাংলাভাষীরা ভোগ করেছে – লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন আর মা-বোনের সম্ভ্রম ত্যাগ করে সেই ভুলের মাসুল গুনেছে। আজও বেলুচরা সেই ভুলের মাসুল দিযে যাচ্ছে। যাই হোক ইতিহাসের দিকে বেশী না হেঁটে দেখি এরশাদের মতো বিশ্ববেহায়া আর লুচ্চার পিছনে ইসলামপন্থীরা হেঁটেছে – তারপর একসময় বিএনপির ঘনিষ্ট মিত্র হয়ে সকল অপকর্মের বিষয়ে চুপ থেকেছে – আর ভেবেছে উনারা ইসলাম রক্ষা করবে। ইসলাম তো রক্ষা করেন আল্লাহ – কোন রাজনৈতিক দল না বা কোন নেতা না – এই শিক্ষা পেতে আরো সময় লাগবে মনে হচ্ছে।

আধুনা ইসলামের সোল-এজেন্ট হেফাযত (স্বঘোষিত ইসলামের হেফাযতকারী) তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আদর্শিক গুরু হিসাবে এমন একজনের পিছনে হাঁটে যার ইতিহাস আরো জঘন্য। আমি ফরহাদ মযহারের কথাই বলছি। সাম্প্রতিক উনার অন্তর্ধান মতান্তরে গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনা আবারো ইসলামপন্থীদের দেউলিয়াত্বের প্রকাশ প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। ঘটনার বিবরন এবং পরষ্পরবিরোধী ভাষ্য থেকে প্রচুর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন জনাব মযহার সাহেব – এইটাই উনার চরিত্র। ঘটনার জন্ম দিয়ে লাইম লাইটে থাকার একটা প্রবনতা উনার মাঢ়ে প্রবল।

একসময়ের বামচরমপন্থী খুনীদের একজন এই ফরহাদ মযহার যার নামে নিজদলের হুমায়ুন কবির নামক একজনের হত্যা অভিযোগ উঠেছিলো – তার থেকে রক্ষা পেতে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের পালিয়ে আমেরিকা চলে যান। সেখানে খৃষ্টান মিশনারীর সাথে সখ্যতার গড়ে উঠে – একসময় চলে আসেন দেশে – এরশাদের গুনগান করে ক্ষমতাশীনদের কাছে সুবিধা পাওয়া শুরু করেন সাথে সাথে খৃষ্টান মিশনারীদের সহায়তায় এনজিও গড়ে তুলেন। সেই সময় উনি ভক্তিবাদের প্রচার শুরু করেন। কীর্তন করা উনার হবি ছিলো। পরে চরিত্র অনুসারে আবারো বিরোধী জড়িয়ে পড়েন ১৯৯২ সালে আনসার বিদ্রোহের উস্কানীদাতা হিসাবে উনাকে জেলে পাঠায় বিএনপি সরকার। আবারো কবি হিসাবে সুশীলদের প্রভাবে জেলমুক্ত হয়ে কিছুদিন নিরব থাকেন। ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে উনি শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বইপত্র প্রকাশ করে আবারো বিশিষ্ট জন হিসাবে আলোচনায় চলে আসেন। উনাকে প্রায় সব সরকারের সময়কালে সরকারী সুযোগ সুবিধা নিতে দেখা গেছে – দেখা গেছে প্রধানমস্ত্রীর সফর সংগী হিসাবে বিদেশ ভ্রমন করতেও।

উনি প্রথম ভুল করে বসেন ফকরুদ্দিন সরকারের সময়কালে – আর্মিদের বিরুদ্ধে কিছু বক্তব্য দিয়ে সরকারী সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান – পরে নানান বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। তারমধ্যে একটা ছিলো – বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিপক্ষে বক্তব্য – উনি বিচার বিভাগে স্বাধীনতা জনগনের জন্যে ক্ষতিকর বলে সেমিনার করেন।

(২)

যাই হোক এক সময়ের বামবিপ্লবের চরমপন্থা থেকে হতাশ হয়ে উনি ইসলামী বিপ্লবের থিয়োরী নিয়ে আসেন – যা চরিত্র অনুসারে প্রচার করে তা একদল সহজসরল মানুষকে বোকা বানিয়ে ফেলেছে বলেই মনে হচ্ছে। হেফাযতের ঢাকা অবরোধ – মাহমুদুর রহমান কাবার ছবি নিয়ে মিথ্যাচার ইত্যাদি সকল সময়ই উনি মাহমুদুর রহমানের পাশেই থাকেন। উনি এক সময় হেফাযতের দার্শনিক হযে উঠেন। এইটাই উনার পেশা – বিপ্লব দীর্ঘজীবি করারই উনার জীবনের লক্ষ্য।

মজা বিষয় হলো ব্যক্তিজীবনে উনি ইসলাম শুধু মানেই না – ঘোষনা দিয়ে এর বিরুদ্ধে জীবন যাপন করেছে। বিয়ে নামক প্রথাকে উনি অস্বীকার করে একজন নারীর সাথে জীবন যাপন করছেন – যা সাদামাঠা ভাষা বলা যায় -জ্বেনা – যা হেফাযতের সমর্থকদের মতে মৃত্যুদন্ডই না – পাথর মেরে হত্যার মতো অপরাধ। তা ছাড়া কবিতার নামে শিরক আর কুফর প্রচার – উম্মুল মুমেনিন খাদিজার নামে কুৎসিত কবিতা লেখা ইত্যাদির বিষয়ে কোন রকম অনুতাপ বা পরিত্যাগের ঘোষনা না দিয়েই উনি হয়ে গেলেন হেফাযতের নেতা।

বিষযটা আসলে ভাবায় – ইসলামের নামে রাজনীতি করা মানুষগুলো কি বোকা নাকি অন্ধ। তারা কিভাবে একজন সুবিধাবাদী এবং ইসলাম বিরোধী লোককে তাদের ‘ওলী” বানিয়ে নিলো। অন্যদিকে কোরানে আল্লাহ সুষ্পষ্টভাবে মুসলিম ছাড়া অন্যদের অনুসরন করতে নিষেধ করেছে।

(৩)

অবশেষ হেফাযের এক নেতার একটা ফেইসবুকের স্ট্যাটাস দেখে আরো অবাক -উনি ফরহাদ মযহারকে “আবু তালিব” এর সাথে তুলনা করেছে। আল্লাহ আমাদের গোমারাহ থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ রসুল (সঃ) কে আবু তালিব কোন পরামর্শ দিয়েছিলো ইসলাম রক্ষার তা হয়তো হেফাযতের নেতারা বাতেনি উপায়ে জানেন – কিন্তু বাস্তবতা হলো শুধুমাত্র কর্তব্য আর স্নেহের বশবর্তী হয়ে আবু তালিব মুহাম্মদ (সঃ) এর পক্ষে ছিলেন – মতাদর্শে কখনই এক ছিলেন না – অন্যদিকে ফরহাদ মযহার হেফাযতকে পথ দেখাচ্ছে – ইসলামী বিপ্লবের জন্যে হেফাযতের দার্শনিক হিসাবে কাজ করছে। কি অবাক কথা – শরিয়া আইন চালু হলে সবচেয়ে প্রথমই যে বক্তি জ্বেনার অভিযোগ অভিযুক্ত হব এসে হলো ইসলামী বিপ্লবে দার্শনিক।

(৪)
যারা ফরহাদ মযহারের বিষয়ে এখনও আবেগ তাড়িত তারা একটা বিষয় খেয়াল করেননি মনে হয় – অন্তর্ধান নাটকরে শেষে উনি ফিরে এসে এক বাক্য বিএনপির ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের রাস্তা বন্ধ করেছেন – এতে সরকার উনাকে আর বেশী ঘাটাবে না বলেই আমার বিশ্বাস। উনি বলেছেন – সরকারকে বিব্রত করতেই উনাকে অপহরন করা হয়েছে। প্রশ্ন কে সরকারকে বিব্রত করতে চায়? বিএনপির মতে সরকার তো আর সরকারে বিব্রত করার জন্যে জন্যে উনাকে অপহরন করবে না – বা ভারতের র সরকারকে বিব্রত করার জন্যে এই কাজ করবে না। তাহলে প্রশ্নটা অপেন থেকে যাচ্ছে। মুলত মাহমুদুর রহমান মান্নার এই ঘটনা থেকে বিএনপির কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা নিয়ে আক্ষেপ আরো বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হয়তো বা হয়তোবা না – এইপ্রশ্নগুলোর উত্তর জানার পরই বলা যাবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। হয়তো নিজেই উনি শেষ বয়সটা আরামে কাটানোর জন্যে সরকারের সাথে একটা খেলা খেললো। আমরা আসলেই জানি না।

তবে নিশ্চিত জানি – উনি ইসলামের পক্ষের মানুষ না – শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে ইসলামপক্ষীদের নিয়ে খেলছেন – যিনি ব্যক্তিজীবনে ইসলামকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন – তার পক্ষে হঠাৎ করে ইসলামের নেতা হযে উঠার আর কোন কারন থাকে না – শুধুমাত্র বিপ্লব বিপ্লব খেলার মাধ্যমে নিজেরের অবস্থান শক্ত করার ছাড়া।

প্রসংগত আরেকজনের নাম এসে যায় – মাত্র কিছুদিন আগেও ঘোষনা দিয়ে নাস্তিকতার প্রচারকারী পিনাকী হঠাৎ করে ইসলামের পক্ষের কলম সৈনিক হযে উঠাও একই ধরনের সন্দেহের জন্ম দেয়। উনি বস্তুত চলমান রাজনীতিকে বিরোধীশক্তি হিসাবে হেফাযতের মুখে কুলুপ পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে নিজেই হেফাযতের মুখপাত্র সেজে বসেছে। যেমনটা গয়েশ্বর রায় বিএনপির সকল নেতার থেকে বেশী ভারত বিরোধী বক্তব্যগুলো্ বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আফশোষ – ইসলামপন্থীরা বারবার ভুল মানুষকে অনুসরন করে বাংলাদেশের ইসলামকে একটা বিতর্কিত বিষয়ে পরিনত করেছে। ৭১ এর গনহত্যা থেকে স্বৈরশাসকের সমর্থন দিয়ে এখন বিতর্কিত ইসলাম বিরোধী শক্তির কুটচালে পা দিয়ে বসে আছেন। আল্লাহ এই মহা কুটচাল থেকে বাংলাদেশের মুসলিমদের ঈমান এবং আমলে হেফাযত করুন।

১৫ comments

Skip to comment form

  1. 6
    মজলুম

    আমাকেও সব দল আর মতের লোকেরা অপছন্দ করে। যেহেতু কোন দলের বা মতবাদের  প্রতি আমার কোন ডাইহার্ড সমর্থন নেই, ভুল দেখলে তা ধরিয়ে দেয়, ক্রিটিক্যাল বিশ্লেষন করি। আমি কিন্তু নিজেও ১০০% ঠিক না, কারন আমিও মানুষ, ভুল করবই। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ ক্রিটিক্যাল (সম)আলোচনা মেনে নিতে পারেনা। যেমন ধরুন তুরস্কের এরদোগানকে আমি পছন্দ করি অনেক কারনে, তারপরও দুই বছর আগে আমি তার সমালোচনা করে একটা পোষ্ট লিখেছি তার কিছু ভুল সিরিয়া পলিসি এবং তার থিন স্কিনের (কেউ তার বিরুদ্বে বললেই মামলা করে) জন্যে। কিন্তু গত বছরের ব্যার্থ ক্যুয়ে আমি তার পক্ষে লেখালেখি করি। কারন, সেদিন তাকে উৎখাত করা হলে বিশ্ব মুসলিমদের জন্যে ক্ষতি হয়ে যেতো।

    কেউ প্রিয় হলেই যে তার ভুল নিয়ে বলা যাবেনা, বা ভুল করলেও তাকে ডিফেন্ড করতে হবে কোমর বেধে, এই নীতির পক্ষে আমি নাই।

    আরবরা যতই খারাপ হোক, ওদের একটা জিনিস ভালো লাগে। এদের কারো সাথে যদি সকালে ঝগড়া আর মারামারি করেন, বিকেলে দেখবেন আপনার সাথে একসাথে বসে চা খাবে, গল্প করবে। সকালে কি হয়েছে তা ভুলে যায়। এদের মনে হিংসা কম। কিন্তু বাঙালি কারো সাথে যদি একদিন ঝগড়া হয়, সে মৃত্যু পর্যন্ত আপনাকে এড়িয়ে চলবে, এক ধরনের ক্রোধ মনের মধ্যে ধরে রাখবে। এতই হিংসা আমাদের বাঙালিদের মনে। এগুলো অনলাইনেও দেখবেন। ধরুন আপনার পোষ্টে আপনার সাথে আমার খুব তর্ক বিতর্ক হলো, তারপর হতে আপনি আমার পোষ্টে কোন কমেন্টই করবেন না। এই রকম হিংসা আমাদের মধ্যে। আল্লাহ সবাইকে এই হিংসা হতে রক্ষা করুক।

    1. 6.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আমার অবস্থা তো আপনার চেয়েও খারাপ। ৫ই মের এর আগে ফেইসবুকে কিছু লেখার সাথে সাথেই লাইক দিয়ে যেতো যারা না পড়েই -- ৫মের পরে আমি ভিলেন। 

      বয়সতো কম হলো না -- এখন আর আবেগ তেমন কাজ করে না -- বাস্তবতাই গুরুত্ব দেই বেশী। তাই কে কি মনে করলো তা নিয়ে ভাবি না। যা মনে আসে তাই বলি। একসময় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লিখতাম -- তখন কোরান পড়া ছিলো না -- কোরান পড়ার পর নাস্তিকতা নিয়ে তেমন ভাবি না। শুধু লক্ষ্য রাখি মৌলিক বিষয়গুলো দিকে। 

      আর ভিন্নমত সহ্য করার কথা বলেন -- এইটা আমাদের কালচারেই নেই। বিতর্ক করার জায়গা সদালাপ না -- এইটা অনেক আগেই বুঝেছি। সদালাপে অনেকে আসে নিজের মতাদর্শ প্রচার করতে -- তা যে কোন মূল্য সঠিক তা প্রমান করতে। এখানে দ্বিতীয় মত গ্রহনের মত মানসিকতা নেই।  হয়তো আমিও সেই দোষে দুষ্ট -- জানি না। তবে বিতর্কের চেষ্টা করে মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর থেকে এড়িয়ে চলি অনেক কিছু। আমি যে পোষ্টটা দিলাম তার প্রয়োজন ছিলো না -- কিন্তু যেখানে ফরহাদ মযহারকে নিয়ে গাজিরগীত গাওয়া হয়েছে সেখানে দুইটা প্রশ্ন করলেই হতো -- কিন্তু সেই সাহস নেই। কারন উনারা প্রমান করে দিছেন যে ফরহাদ মযহার এখন কাবিল মানুষ -- ইসলামী বিপ্লবের পথনির্দেশনা দেওয়ার জন্যেই উনার আবির্ভাব। 

      কিন্তু এখন আর কোন শব্দ নেই -- অল কোয়াইট ইন ওয়েস্টার্ন ফ্রট। ফরহাদ মযহার যে একজন উচুমানের বাটপার এই সহজ কথাটা বুঝার মতো বুদ্ধি কি আমাদের নেই। 
      তা ছাড়া ফরহাদ মযহার একজন কবি -- আর কবিদের অনুসরন করা নিষেদ -- এইটাও আমরা ভুলে যাই। আসলে ইসলামের নামে যারা নানান ফেতনা তৈরী করেছে -- তারা সব সময় অসহায় বোধে ভোগে -- তখন একজন ফরহাদ মযহার বা শামীম ওসমানের মাঝে আবু তালিব অথবা ওমরকে খুঁজে বেড়ায়। 

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে -- ভাল থাকবেন। 

  2. 5
    মজলুম

    যারা ক্ষমতার বাইরে তারা চেচায় আর ক্ষমতায় গেলে তাদের ব্যবহার করে। নিজেদের তৈরী করার এই আযাবের ভোগ তারা করছে — এই নিয়ে আমার কিই বলার আছে।

    আওয়ামীলীগ এই অপকর্ম না করে যদি বিএনপি করতো তাহলে পোষ্ট দিয়ে সদালাপ আর ফেসবুক ভাসিয়ে ফেলতেন। কিভাবে জিয়া শুরু করেছিলো বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড, বিএনপি সব সময় আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করে, তারা তাদের জন্ম হতে এসব শুরু করেছিলো। (লাল আর রক্ষীবাহিনী এখানে হাওয়া)সো অন এন্ড সো অন। দীর্ঘদিন আপনাকে ফলো করে আপনার লেখার প্যাটার্ন গুলো আমার জানা হয়ে গেছে। 

     

    ফরহাদ মাজহার, শফিক রেহমান, পিনাকেদের প্রচলিত রাজনিতী, তাত্বিক বিশ্লেষনে বিজ্ঞ হলেও ইসলামি ধর্ম বিষয়ে ওদের গভীরতা নেই, সেই জনয়ে আমিও চাইনা এরা কোন ইসলামি গ্রুপের বুদ্বিজিবী হোক।

    তবে ইসলামপন্হিরা যদি এদের কথা না শুনে যদি আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে তাদের বুদ্বিজিবী বানাতো, তাহলে হয়তো আপনি খুশি হতেন, যদিও গাফ্ফার বরিশালে থাকার সময় মার্ক্সবাদী দল করতেন। এবং কিছুদিন আগে আল্লাহ, খোদার নাম নিয়ে নিউইয়র্কে জগাখিচুরী বক্তৃতা দিয়েছেন। ঐ কথাগুলো ছিলো আনইনটেনশোনালি, যেহেতু ধর্ম নিয়ে তার গভীর জ্ঞান নাই।
    আপনি তখন বলেছেন, গাফ্ফার নিজেকে মুসলিম দাবী করে তবুও কেন তাকে মুরতাদ বলতে হবে। সেই যুক্তিতে ফারহাদ মাজহার, শফিক রেহমান যদি নিজেদের মুসলিম দাবী করে, আপনি কি তা মেনে নেবেন?

    কিছুদিন আগে আহমেদ ভাইয়ের পোষ্টে উনি হেজবুতের লিডার পান্নাকে বলেছেন যে সে আগে সেক্যুলার দল করতো। মন্তব্যে আপনি বলেছেন, আগে কি করতো তা কেন নিয়ে আসা হবে, সে বর্তমানে কি করছে তাই দেখতে হবে।

    আপনার এই যুক্তি কি ফারহাদ মাজহারের বেলায় প্রযোজ্যে হবে?

    আমি নিজেও হেফাজতের পক্ষে না, তাদের শাপলা চত্বরের আন্দোলনের তীব্র বিরোধী ছিলাম আমি শুরু থেকেই। কারন বস্তবতা এক জিনিস আর উস্কানি মূলক বক্তব্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো আরেক জিনিস। 

    1. 5.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      কিছুদিন আগে আহমেদ ভাইয়ের পোষ্টে উনি হেজবুতের লিডার পান্নাকে বলেছেন যে সে আগে সেক্যুলার দল করতো। মন্তব্যে আপনি বলেছেন, আগে কি করতো তা কেন নিয়ে আসা হবে, সে বর্তমানে কি করছে তাই দেখতে হবে।

      আপনার এই যুক্তি কি ফারহাদ মাজহারের বেলায় প্রযোজ্যে হবে?

      -- অবশ্যই প্রযোজ্য হবে -- তবে শর্ত থাকে উনি কি সেইটা চান কি না! মানে উনি ব্যক্তিগত মতাদর্শ হিসাবে ইসলামকে গ্রহন করেছেন কিনা! আমার জানামতে উনি এখনও ভক্তিবাদে চর্চা করেন -- আবার ব্যক্তিজীবনে উনি কোন ধর্মীয় বিধান মানতে ্অস্বীকার করেছে -- তার কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা? উনি কি উনার লিভ-টুগেদারকে শরিয়াবিরোধী হিসাবে মেনে ইসলাম অনুসরন করে সম্পর্ক ঠিক করেছেন কিনা। সব উত্তর হবে "না"

      সর্বশেষ নাটকের যে অবস্থা -- তারপরও যদিও বলেন উনি ইসলাম পন্থীদের আদর্শ হবার মতো নূন্যতম যোগ্যতা রাখেন -- তাহলে আর বিতর্ক করে লাভ নেই।  আজও উনার ডাই হার্ড অনুসারীরা মুলত মদ-গাঁজা নির্ভর বুদ্ধিজীবি -- তারমাঝে দুর্ভাগ্যবসত হেফযাতকে উনি ফাঁদে ফেলতে পেরেছিলেন -- আশা করি চলমান এই নাটকের পর হেফাযতের স্বপ্ন ভংগ হবে। 
       

      বস্তুত বাংলাদেশে বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে উনি বিপ্লবের গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের মাঝে -- কিন্তু তার মানে এই না যে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র চাইছেন। এমনটা মনে হয়নি। 

      আর সেই পুরোনো রেকর্ড আপনিও বাজানো শুরু করলেন। আপনার আর কষ্ট করে প্রমান করার দরকার নেই আমি আওয়ামীলীগের ভক্ত -- বস্তুত দুই নষ্টের মাঝে কম নষ্টটা সহ্য করার মতো বুদ্ধি নিয়েই চলছি। 

      এই পর্যন্ত হেফাযত আর  জামাত নিয়ে যা বলেছি বা বিএনপি নিয়ে যতটুকু সমালোচনা করেছি -- তার কতটা ভুল -- আর কতটা সত্য সেইটাই মনে হয় আসল। ব্যলেন্স করে বুদ্ধিজীবি হওয়ার মতো অবস্থা বা মানসিকতা আমার নেই। কথা সত্য বলি কিনা -- সেইটাই মুখ্য। 

      অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে। 

       

      1. 5.1.1
        মজলুম

        আপনার রাজনৈতিক অবস্থানটা খুবই মজার, এ ব্যাপারে আরেকদিন বলবো।

         বস্তুত দুই নষ্টের মাঝে কম নষ্টটা সহ্য করার মতো বুদ্ধি নিয়েই চলছি।

        এটা নিয়ে অনেক আগে লিখেছি সদালাপে, বিএনপি পন্হিরাও একই যুক্তিতে বিএনপিকে সমর্থন দেয়। জামাত ও একই যুক্তিতে বিএনপির সাথে জোট করে।
        আপনার ব্যালান্স করে লেখার চেয়ে কোদাল কে কোদাল বলাটাই ভালো নয় কি।

        1. 5.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          একমত -- কোদালকে কোদাল বলাই ভাল। তবে সব সময় বলা কঠিন -- কারন যখন কোন বিষয়ে  চাওয়া- পাওয়া থাকে। ছাত্রজীবনে অপছন্দের দল ছিলো ছাত্রলীগ -- এদের মনে হতো রিমোট-কন্টোলে চলে। দেশের বাইরে এসেও কখনও আওয়ামীলীগ বা তার কোন নেতার সাথে উঠাবসা নেই একমনকি দুরতম সম্পর্কও নেই। বরঞ্চ তারা আমাকে এড়িয়ে চলে -- কারন আমার কথা ওদের পছন্দ হয় না।

           কিন্তু কিছু কিছু ইস্যুতে আওয়ামীলীগ -- বিশেষ করে শেখ হাসিনার সমর্থন করি -- করি বললে কম হবে -- অন্ধভাবেই করি। তার মধ্যে একটা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার। এইটা আমার প্রানের দাবী। একদিকে যখন শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যে গ্রেনেড হামলা হয় -- শেষ আশাটাও শেষ হয়ে যায় -- বিচার বুঝি আর কখনই হবে না। এক সময় বামরাজনীতি করে জানি যে বামরা হলো ভন্ড -- ওরা মুখে যা বলে অন্তরে রাখে অন্যটা। সুতরাং শেখ হাসিনার সব কিছু পছন্দ না করলেও চেষ্টা করি শেখ হাসিনার সমালোচনা না করতে। অন্যদিকে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের জন্যে অভয়ারন্য তৈরী করে আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে -- এখনও করেই যাচ্ছে -- যুদ্ধাপরাধীর ছেলে কোনদিনও বিএনপির রাজনীতি না করলেও তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দিয়ে জানান দিচ্ছে তারা আগের জায়গাই আছে। সুতরাং আমার বায়াসনেসের বিষয়ে আমি সচেতন -- যদি কোনদিন দেখি আওয়ামীলীগের বিকল্প তৈরী হয় (একসময় গনফোরাম নিয়ে আশাবাদী ছিলাম) তখন ভাবা যাবে। আপাতত আওয়ামীলীগের কাছে আমার ব্যক্তিগত ঋণ অনেক বেশী। 
           

          ধন্যবাদ। 

  3. 4
    সুজন সালেহীন

    হাসিনা সরকার ফরহাদ মজহার সাহেবকে ঠিক গুম না, এনিযে সবাইকে একটা গুম-শিক্ষা দিতে চেয়েছে। যাতে হাসিনা সরকারের বিরোধীমতের লোকজনের মাঝে গুম-আতংক জাগ্রত থাকে। কারণ বেশকিছু দিন হয়ে গেল পাদপ্রদীপে থাকা কোন ব্যক্তির নাম গুম-তালিকায় উঠছেনা। ফরহাদ মজহার সাহেবের ঘটনা কতটুক গড়াবে এবং এর প্রতিক্রিয়া কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তা আগে থেকে ছক করে ফেলা হয়েছে।

    বর্তমান ব্লগার সাহেব ঠিকই বলেছেন ফরহাদ মজহার সাহেবকে না গুম করা হয়েছে, না খুন করা হয়েছে! তাই আপনি ফরহাদ মজহার সাহেবের গায়েব হওয়াকে গুম-ডেমো বলতে পারেন। গুম একজনের, শিক্ষা সবার! জয় বাংলা!

  4. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    জ্বি ভাইজান -- বিনোদন আগের মতো দিতে পারি কই, সেই আমলও নাই -- ট্রাইবুন্যাল সব শেষ করে দিলো। 

  5. 2
    Undisclosed

     ২০০৭ সালে ১/১১ এর পর বাংলাদেশের সকল তথাকথিত ‘সুশীল-ধর্মনিরপেক্ষ-আধুনিক-মুক্তমনা’ ‘রাজনীতিবিদ-বুদ্ধিজীবি-পেশাজিবী’ যখন চোখ বন্ধ করে মইন উ-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকারের প্রশংসায় প্রতিদিন পত্রিকা পাতা টিভি চ্যালেন ভরিয়ে ফেলতেছিল ঠিক তখনই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ১/১১ এর আসল ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দেয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছিল ফরহাদ মজহার। তিনিই প্রথম ‘বিরাজনীতিকরণ’ শব্দটি ব্যবহার করে রাজনীতিকে দূরীভুত করে দেয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছিলেন। এরপর ধারাবাহিক ভাবে ফরহাদ মজহার, মাহমুদুর রহমানরাই ১/১১ এর প্রবল প্রতাপশালী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছিল যেখাবে বিএনপি-আওয়াম লীগ-অন্য সকল সুশীলরা ভয়ে নমঃনমঃ করতেছিল। ফরহাদ মজহারের দূরদৃষ্টি ছিল বলেই ১/১১ এর আসল ষড়যন্ত্র বিরাজনীতিকরণের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরতে পেরেছিলেন। ১/১১ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ফরহাদ মজহার লিখার আগে অন্য কেউ একটি শব্দও লিখেনি-বলেনি কারণ ফরহাদ মজহারের মতো দূরদৃষ্টি বাস্তবেই বাংলাদেশের অন্য কোন বুদ্ধিজীবির নেই।

    বিরাজনীতিকরণের ভয়াবহতা নিয়ে আর কেউই ভাবতেও পারেনি। সে সময় ফরহাদ মজহার যা যা বলেছিল তার সবকিছুই সত্য পরিণত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে বলতে গেলে রাজনীতিশূণ্য। ১৯৭২-৭৫ সালে বা ১৯৭৯-১৯৯০ পর্যন্তও এদেশের মানুষ যতটুকু রাজনীতি চর্চা করতে পারতো, নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারতো, সরকারগুলো জনগণের মতকে সম্মান করতো, জনমতকে ভয় পেতো তার কোনকিছুই আজ আর বর্তমান নেই। অকল্পনীয় লুটপাট, প্রতিটি জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম এরপরও পুলিশি প্রটেকশানে থেকে ক্ষমতাশীনদের আস্ফালন, জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা এসব বাংলাদেশে ছিল অকল্পনীয়-অবিশ্বাস্য। তাই বর্তমান বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১/১১ এর বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনা ও ভারত কনটিনিউ করার কারণে। বিরাজনীতিকরণের যে ইফেক্টের কথা ফরহাদ মজহার ওই সময় বলেছিল তার সবকিছুই আজ হাতেনাতে প্রমাণিত হয়েছে।

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      লেখার প্রেক্ষিততো ফরহাদ মযহারের জীবন কাহিনী লেখা নয় -- উনি কিভাবে ইসলামী দলগুলোর পথ প্রদর্শক হয়ে উঠলেন -- আর মুসলিমরা কি কারনে উনার অনুগত হয়ে উঠলো তার জিজ্ঞাসা। ১/১১ এর পর অনেকেই বিরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে এবং তার জন্যে নিগ্রিহীত হয়েছেন বটে। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে ফরহাদ মযহার বিরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারনেই ইসলামী বিপ্লবের নেতা হয়ে উঠেছে।

      আসলে বুদ্ধিবুত্তিক দেউলিয়াত্বের সুযোগে এই ধরনের বহুরুপী বিপ্লবীরা এখন ইসলামী বিপ্লবের দার্শনিক -- এইটাই আফসোশ।

  6. 1
    মজলুম

    আপনার পোষ্ট দেখে কিছুক্ষন হাসলাম। আপনি যেই রকম ইসলাম পালন করেন, যদি ৭১ সালের করুন অভিজ্ঞতা আপনার না হতো আপনিও সেই দলেই থাকতেন। ৪৭ এ দেওবন্দিরা এমন কোন চেষ্টা বাদ রাখে নাই, যাতে দুইটা দেশ সৃষ্টি না হয়। তারা তখন বলেছিলো যদি ভারত ও পাকিস্তান নামক দুই দেশ হয় তাহলে ভারতের মুসলিমরা বিপদে থাকবে আর পাকিস্তানে খোদ ইসলামই বিপদে থাকবে। আর ৭১ এ ভুল পক্ষ নিয়েছে জামাত আর নিজামে ইসলাম পার্টি। ফরহাদ মাজহার খারাপ মানুষ, সে না হয় নাটক করলো, তাহলে বাকি সব গুম, খুন ও কি নাটক নাকি? সাগর-রুনি, ইলিয়াস আলি, বিএনপির প্রেস সচিবকে পাওয়া যায় ভারতে।

    হেফাজতিরা  হয়তো তাদের সমর্থনে বুদ্বীবিত্তিক লেখা, বিশ্লেষন মূলক লেখার জন্যে তারা ফরহাদ মাজহার, শফিক রেহমান বা পিনাকিকে সমর্থন করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা এদের কাছ হতে ইসলাম শিখবে।

    আপনার মতো লোকেরা হয়তো তাদের পক্ষে কলম ধরেনা বা তাদের কি করতে হবে তা লিখেনা বলেই বা বুদ্বিভিত্তিক, বিশ্লেষন মূলক লেখা লিখে না বলেই তাদের ফরহাদ মাজহার, শফিক রেহমান, পিনাকিকে সমর্থন দিতে হয়।

    বর্তমানে দেশে চলা গুম, খুন নিয়ে এই পোস্টে কয়েক লাইন লিখলে কি ভালো হতোনা? তার আগে আরেকটা পোস্ট দিয়েছেন মুসলিম দেশের প্রকৌশলীদের দূর্নিতী। যদি এখন বিএনপির শাসন চলতো, তাহলে মুসলিম দেশের প্রকৌশলী না বলে বিএনপিকে তুলা ধুনা করে ছাড়তেন। প্রত্যেকটা দূর্নিতী, খুন ও গুমের জন্যে আপনার আলাদা আলাদা বিশ্লেষনমূলক পোষ্ট আসতো। কিন্তু কবি এখন নিরব!

    মানুষের জীবন চলে তার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। ৭১ এর করুন অভিজ্ঞতা হয়তো ৪১ বছর পরেও আপনাকে তাড়া করছে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা যেহেতু মুসলিম, ইসলাম আমাদের ধর্ম, জাষ্টিস হবে আমাদের কর্ম। সেই জন্যে আমাদের অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে হবে।

    1. 1.1
      Zahid

      “….আপনার পোষ্ট দেখে কিছুক্ষন হাসলাম।“

      ভাই, উনার লিখা বড়ই বিনোদন! বিনোদনের জন্যই উনার লিখা পড়ি। উনি ভালই হাসির খোরাক জোগান। উনি লিখার মাধ্যমে নিজেকে কত নিচে নিয়ে যাচ্ছেন- তার খবর রাখেন না! 

      1. 1.1.1
        মজলুম

        আপনি বুঝতে পারেন নি, এই হাসি, সেই হাসি নয়। হাসির কনটেক্সট হলো এটা, আপনার পোষ্ট দেখে কিছুক্ষন হাসলাম। আপনি যেই রকম ইসলাম পালন করেন, যদি ৭১ সালের করুন অভিজ্ঞতা আপনার না হতো আপনিও সেই দলেই থাকতেন।  

        উনার স্টাইলেও লেখালেখির দরকার আছে। সবাই যদি একই পারস্পেক্টিভে হুক্কা হুয়া করে তাহলে তাতে সত্যকে দেখা যায় না। সব পারস্পেক্টিভই দেখা দরকার।

        এখন বিএনপির শাসন যদি চলতো তাহলে তথাকথিত ইসলাম পন্হিরাও বিএনপির দূর্নিতী, খুন, গুম নিয়ে চুপ করে বসে থাকতো। দিনশেষে সবাই একই ক্ষেতের মূলা।

        আমাদের সবাইকে এই রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিসটেম (একচোখা)হতে বেরিয়ে আসতে হবে।

    2. 1.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      কেউকি অস্বীকার করেছে যে বাংলাদেশে আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে বেপোড়োয়া বাহিনী -- র‍্যাবের জন্মের আগেই সেনাবাহিনী দিয়ে "অপারেশন ক্লীন হার্ট" নামক অভিযান দিয়েই প্রকাশ্যে হত্যার লাইসেন্স দেওয়ার পর র‍্যাব তৈরী করে গুম-খুন যারা নিয়মে পরিনত করেছিলো আজ তারাই গুমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার -- আইরনিটা এখানেই। আমি শুরুতে অনেক কথা বলতাম -- তারপর দেশে গিয়ে দেখলাম অধিকাংশ মানুষ র‍্যাবের খুনের পক্ষে। যারা ক্ষমতার বাইরে তারা চেচায় আর ক্ষমতায় গেলে তাদের ব্যবহার করে। নিজেদের তৈরী করার এই আযাবের ভোগ তারা করছে -- এই নিয়ে আমার কিই বলার আছে।

      আমার আফসোশ -- ইসলামপন্থীরা এতই দূর্বল যে ফরহাদ মজহারের মতো একজন বহুরুপী লোককের ফাঁদে তাদের পড়তে হলো। 

      কেউই তার মুখ বন্ধ করেনি -- যদিও সদালাপে এই নিয়ে প্রচুর থিয়োরী এবং রিসার্চ দেখছি। বিষয়টা যে কতটা নোংরা -- যারা ফরহাদ মযহার নাটক ধেকে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিলো তারা সবাই লুজার হয়ে গেছে। লজ্জিত হবার মতোই জায়গা থাকবে না। 

      ইসলামপন্থীদের ফরহাদ মযহার আর পিনাকীর উপর ভরসা না করে আ্ল্লাহর উপর ভরসা করা উচিত বলে মনে মনে করি। কেউ একজন ইসলামী বিপ্লবের পক্ষে থিয়োরী দিলেই আহ্লাদে গদ গদ হবার মতো আবেগ আমার নেই -- এইটাই একটা সমস্যা -- কারন এই লোকজন অতীত আর বর্তমান আমাদের জানা। 

       

      1. 1.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        বর্তমানে দেশে চলা গুম, খুন নিয়ে এই পোস্টে কয়েক লাইন লিখলে কি ভালো হতোনা?

         

        -- সেই লেখা অনেকই লিখেছি -- কিন্তু ফরহাদ মযহার না গুম হয়েছেন -- না খুন হয়েছেন -- তো এই প্রসংগ এখন আসে কিভাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.