«

»

Aug ১৩

রিয়েলিটি শো – “গফুর কেন বাসে” – ফলাফল পর্যালোচনা

পশ্চিমা বিশ্বের টিভিগুলোতে নানান পদের রিয়েলিটি শো খুবই জনপ্রিয়। আমাজানের জংগল থেকে মানুষের বেডরুম – সবই এইসকল রিয়েলিটি শোর এর মঞ্চ। বাংলাদেশের টিভিগুলো এই দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে – কারন হয়তো বাজেট। বস্তাপচাঁ নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে মানুষ স্টার জলসা দেখে – আর কিছু মানুষ টক শোর নামের বকবকানী দেখে বটে – কিন্তু এতে রিয়েলিটি শোর এর স্বাদ মিটে না। মাঝে মধ্যে টিভিগুলো মুফতে রিয়েলিটির শোর এর মওকা পেয়ে যায় বটে। যেমন কিছুদিন যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি আর জামাত-শিবিরের তান্ডবের পরে শাহবাগের গরজাগরন মঞ্চ ছিলো সেই ধরনের রিয়েলিটি শোর সর্বোচ্চ সফল প্রর্দশনী। শাহবাগের মঞ্চ থেকে আওয়ামীলীগ নিজেদের সরিয়ে ফেলার পরও কিছু টিভি চ্যানেল সেই শো-কে টানার চেষ্টা করেছে। তখন দেখা যেতো বারজন শ্লোগান দিচ্ছে ২৫টা টিভি ক্যামেরার সামনে। ফ্লপ হবার পর সেই শো বন্ধ হলো।

দীর্ঘদিন সেই ধরনের শো থেকে বঞ্চিত ছিলো বাংলার টিভি দর্শকরা। অবশেষে ফরহাদ মযহার, অতিবাম, চিন্তুা গ্রুপ, হেফাযত আর জামাতের যৌথ প্রযোজনায় – পুলিশের বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশের টিভির দর্শকরা দেখলো শ্বাসরুদ্ধকর একটা রিয়েলিটি শো। এই শো-র অনেক নাম দেয়া যেতো – আমার পছন্দ হলো – “গফুর কেন বাসে”। এইটা একটা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন – কারন ফরহাদ মযহার একজন সেলিব্রেটি – শুধু তাই নয় – জাতীয় রাজনীতির একটা অংশকে নিয়ন্ত্রন করেন। উনার ভাষায় বলা যায় – “আমিই খালেদা জিয়াকে বুঝালাম – নির্বাচন করে লাভ হবে না – দরকার আন্দোলন – স্বৈরশাসকের পতন”। ধারনা করা যায় – জাতিসংঘের এসিসটেন্ট সেক্রেটারীর দুতিয়ালীতে যখন বিএনপির নেতারা সন্মত হয়ে গিয়েছিলো – তখন ফরহাদ মযহারের পরামর্শেই নির্বাচন বর্জন করে ক্ষানত হয়নি বিএনপি জামাত – নির্বাচন প্রতিহত করার জন্যে জঘন্য কর্মকান্ড চালিয়ে দেশের প্রচুর ক্ষতি করেছে – মানুষ পুড়িয়ে বস্তুত বিএনপি নিজেদের কপালই পুড়িয়েছিলো। সেই মহা পন্ডত ব্যক্তির বাসের চড়ার কথা না – চড়লেও গফুর নাম নিয়ে টিকিট কাঁটার কথা না। কিন্তু বাস্তবতা হলো – মযহার গফুর হয়ে বসে চড়েছে। এ্‌ইটাই জাতির কাছে বড় বিষ্ময়। রিয়েলিটি শো এর এই সাসপেন্স জাতিকে অনেক মজা দিয়েছে।

যত কিছুর শেষ আছে – সেই শো শেষ হয়েছে। কিন্তু ছোট গল্পের মতো শেষ হইয়াও হইলনা শেষ – এই ধরনের একটা অবস্থায় এখন জাতি বসে আছে। তাই শো এর দর্শক হিসাবে আমার একটা নৈতিক দায়িত্ব হলো শো এর ফলাফল পর্যালোচনা করা। অবশ্য এইটা অন্তর্বর্তীকালীন ফলাফল – চুড়ান্ত ফল এই ফলাফলের চেয়ে খুব একটা হেরফের হবে না। কারন উঁচু তলার মানুষরা নিজেদের সন্মান রক্ষায় নিজেরা একটা অলিখিত বিধান মেনে চলে। ফরহাদ মযহারের গফুর হওয়া সাময়িক – কারন আমাদের মনে রাখতে এই ফরহাদ মযহারই একসময় বই লিখেছেন – রাজকুমারী হাসিনা – আর গফুর যখন মযহার হিসাবে প্রত্যাবর্তন করেন – তখন উনি সুষ্পষ্ট ভাষায় বলেছেন – উনাকে অপহরন করা হয়েছিলো সরকারকে বিব্রত করার জন্যে – তার মাধ্যমে উনি নিজের একজিট রুট তৈরী করে ফেলেছেন। বুদ্ধিমান মানুষ বটে!

সমস্যা তৈরী করেছে পুলিশকে ভিলেন বানিয়ে – আর তা বানিয়েছে কিছু অস্তিরমতি মানুষ – কিছু বিএনপির পরামর্শক – টকশোজীবি আর অতিবাম গোষ্ঠী। পুলিশ নিজের মুখরক্ষার করার জন্যেই ফরহাদ মযহারের গফুর কাহিনীর কিছু ভিডিও – অডিও জনসমুখে হাজির করেছে। তারপর সব কিছু স্থির হয়ে গেছে – হওয়ারই কথা।

যাই হোক – এবার ফলাফল পর্যালোচনা করার পালা – ক্রমানুসারে সবচেয়ে সরব এবং জানবাজ গ্রুপ থেকে শুরু করা যাক –

১) আন্দাজ-অনুমান নির্ভর টকশোজীবি মহল – এরা তিল থেকে তাল – তাল থেকে গাছ তৈরী করতে পারদর্শী। মাত্র তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এরা জাতিকে জ্ঞান দেয় – এহেন বিষয় নেই উনারা জানেন না বা বলেন না। অবশ্য বেশীর ভাগই হলো সরকারের সমালোচনা আর কাঁঠালের আমসত্ত্বের মতো গনতন্ত্রের সবক দেওয়ায় উনারা পারদর্শী। এই দল চিলে কান নিলো এই গুজবে দ্রুত নেমে পড়ে – সরকার এবং পুলিশ-র‍্যাবকে ভিলেন বানিয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরী করে। ফলে পুলিশ তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে – অবশ্য ফরহাদ মযহার প্রকৃত পক্ষে এনালগ আমলের জ্ঞানী বিধায় ডিজিটাল বিষয়গুলো বুঝতে পারেননি। ফলে এই টকশোজীবিরা ভিডিও-অডিও চাপে পড়ে তাদের মুখ লুকানো ছাড়া আর পথ পায়নি। প্রকৃতপক্ষে এই গ্রুপ আগেও তাদের এই ধরনের আন্দাজ নির্ভর বিবৃতির জন্যে কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে এসেছিলো – কিন্তু লজ্জা বোধ হয় উনাদের অভিধানে নেই – না হলে কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারতেন – কিন্তু এবার আরো জঘন্য কাজ করেছের উনারা – দল ভারি করার জন্যে ড. সিরাজুল ইসলামকে দলে টেনেছে – একজন বয়োবৃদ্ধ সন্মানিত শিক্ষকের জন্যে এই ধরনের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা দুঃখজনক। তার মানে এই দল সবচেয়ে বড় লুজার – তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে উনারা মিথ্যাবাদী রাখাল বালকে রুপান্তরিত হয়েছেন।

২) অতি-গনতন্ত্রী মিডিয়া – যারা গনতন্ত্র প্রতিষ্টার জন্যে অগনতান্ত্রিক পদ্ধতির সমর্থক – তারা কোন বাছবিচার না করেই হৈ চৈ শুরু করে। কিন্তু যখন দেখলো – বিষয়টা ভিন্ন তখন চুপ মেরে গেলো – অনেকটা থুথু গেলার মতো। শুধুমাত্র প্রথম আলোই ৪১টা নিউজ-ভিউজ আইটেম করেছে মযহারের ঘটনায় – সবগুলোই ছিলো আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং কিডন্যাপ তত্ত্বকে প্রতিষ্টা করার জন্যে। কিন্তু যখন অডিও-ভিডিওর পসার নিয়ে পুলিশ হাজির – দখন প্রথম আলো ভেজা বেড়াল হয়ে গেলো। আর কোন রাও-চাও নাই। এই ধরনের অনেক ঘটনা এই মিডিয়া গ্রুপ আগেও করেছে এবং বরাবরের মতোই এবারও এরা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো। সেই সুবাদে এরাও এই শো’র লুজার পার্টি।

৩) জামাত-হেফাযত গ্রুপ – খুব বেশীদুর যাওয়া দরকার নেই – সদালাপেই সর্বোচ্চ গতিতে পুরানো-নতুন থিয়োরী নিয়ে হাজির হলেন জামাত-হেফাযত সমর্থক – একজন ভন্ড কবির সমর্থনে মানবতির সে কি কান্না – কিন্তু অন্যদিকে ২০ লক্ষ মানুষের হত্যায় বা ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের মানবতার বিরোধী অপরাধ উনাদের ষ্পর্শ করেনি – কি অবাক বিষ্ময় এই একদর্শী মানবতা। অবশেষ গফুর ফিরে এলো – এলো বললে ভুল হবে – ধরা খেলো। উনারাও চুপসে গেলেন ফুঁটো বেলুনের মতোই। যদি কোর ভাবে মযহার গফুর হিসাবে ধরা না খেয়ে বাসা পৌছতে পারতো – তাহলে এই গল্পের গরু গাছে উঠতো। নানান ধরনের গাজির গীতি আমাদের শুনতে হতো। কিন্তু সেই সুযোগ দেয়নি বেরসিক পুলিশ।

৪) বিএনপি – বিএনপির নেতৃত্বে সম্পর্ক আগেই বলেছি – স্বল্পদর্শী এবং শ্যালো চিন্তা ভাবনার একদল তাবেদার (বিশেষ করে তারেকের মনরক্ষা করাই উনাদের কাজ) নেতৃত্ব বিএনপিকে রাস্তার ক্যানভাসারের দলে পরিনত করেছে। বাস্তবতা হলো ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি একটা বিরাট স্টেকহোল্‌ডার – শুধুমাত্র কিভাবে পাকা-ফসল কেঁটে গোলায় তুলতে হয় – সেই কৌশল না জানার কারনে এখন বস্তুত নালিশ পার্টিতে পরিনত। এরা ফরহাদ মযহারের বিষয়ে এক উগ্রপন্থী আওয়ামীবিদ্বেষী উপদেষ্টার পরামর্শকে অনুকরনীয় বিবেচনা করে সংবাদ সন্মেলন করে ফেললো – কিন্তু পরের দিনগুলোতে যখন থলের বিড়াল বের হতে শুরু করলো – তখন সেই উপদেষ্টা – যনি পরিবেশ বিষয়ক দায়িত্ব পালনের কথা – উনি পরিবেশের বিরুপতা উপলদ্ধি করে গা ঢাকা দিলেন – উনাকে পরবর্তী সপ্তাহ খানেক সোসাল নেটওয়ার্কে দেখা যায়নি বলে শুনা যায়। বিএনপির দেউলিয়াত্বের তকমায় আরেকটা তকমা জুটালেন সেই উপদেষ্টা আর রিজভী সাহেব। এরাও এই রিয়েলিটি শোর লুজার পার্টি।

৫) বামপন্থী গোষ্ঠী – এরা বিপ্লব বিলাসী – সব জায়গা বিপ্লব খুঁজে বেড়ায়। এই বিপ্লব এখন বিরোধীতায় পরিনত হয়েছে – তবে কার্যত এই বিপ্লব বিপ্লব খেলায় এরা নিজেদের বাজার মূল্য বাড়িয়ে একসময় কেঁটে পড়ে। বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগের শিক্ষামন্ত্রী এই বিপ্লবের বানিজ্য করেই আজ পদে এসেছে। এরা যখনই কোন ঘটনা ঘটে – দ্রুত সরকারের দোষ খুঁজে পায় আর তা নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। আগে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করতো – এখন সেইটা হয়েছে ফেইসবুকে। যেহেতু তাদের জনগনের কাছে দায় নেই – সুতরাং ঘটনা মিথ্যা প্রমানিত হলে ওরা কোন কিছু মনে করে না – শুরু করে নতুন বিপ্লবী উপাদান খোঁজা। ইদানিং এই বিপ্লবীরা আবার মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে বিপ্লবের উপাদান খুঁজে পেয়েছে – তাই মযহার এবং পিনাকী চক্র বিপ্লবীদের সাথে ইসলামকে মিলিয়ে নতুন রেসিপি বাজারে এনেছে – যা বামদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফরহাদ মযহারের গফুর হয়ে উঠার কারনে হয়তো এই প্রক্রিয়া কিছুটা মন্থ হয়ে যাবে। এই ডান-বাম মিলিয়ে বিপ্লবের আচার ব্যবসায়ীরা এই এপিসোডে পুরো ফ্লপ – এই কারনে পুলিশের থলের বিড়াল প্রদর্শনের পর এই ফ্রন্ট পুরো নীরব হয়ে ভিন্ন ইস্যুতে ফেইসবুক গরম করছে।

৬) পুলিশ আর র‍্যাব – এরা তাদের খুন-গুম বিষয়ক দূর্বলতা ঢাকা দেওয়ার জন্যে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কারনে মযহারের গফুর বিবর্তনের মাঝামাঝি ধরে ফেলে – নতুবা যদি আবারো গফুর মযহার হয়ে এতে পারতো – তবে দেশের মানুষের কাছে পুলিশ-র‍্যাবের মুখ দেখানো জায়গা থাকতো না। তারপরও অর্চনা এপিসোড মানুষ পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি – প্রথম আলো কৌশলে এই এপিসোটকে জজ মিয়া নাটকের কপি-পেস্ট হিসাবে উপস্থাপন করায় পুলিশকে কিছুটা ব্যাকফুটে যেতে হয়েছে – কিন্তু কৌশলে পুলিশ এগিয়ে গেছে। তাতে পুলিশ কর্মদক্ষতার কারনে কিছু পয়েন্ট অর্জন করলেও তাদের কর্মকান্ডের কথা বিবেচনা করে তারা না বিজয়ী না লুজার অবস্থানে এসেছে এই শো-তে। যেহেতু পুলিশের অনেক দূর্বলতা আছে – তাই এরা মযহারের বিষয়ে আর এগুবে না – এইটা হলো পুলিশের সবচেয়ে বড় দূর্নীতি – মুখ দেখে মুগে ডাল দেওয়ার মতো – যদি এই জায়গায় যদু মধূ কেউ হতো – তা হলে রিমান্ডের পর মযহারকে হয়তো আর চলাফেরা করতো হতো না – অথবা মামলার হাজিরা দেওয়া জীবনের অংশ হয়ে যেতো। কার্যত পুলিশ ন্যয়ের পক্ষে না কাজ করে শুধু নিজেদের মুখ রক্ষার বিষয়টা প্রাধান্য দিয়েছে – তাই পুলিশকে বিজয়ী ঘোষনা করা গেলো না।

৭) আর্ন্তজাতিক মানবাধিকারের পাইকারী বানিজ্য কেন্দ্রগুলো – এই গেইমশোর আরেকটা বড় পার্টি ছিলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো – এরা মুলত পাইকারী ব্যবসায়ীর মতো কাজ করে – খুচরা ঘটনা এদের রাডারে ধরা পড়ে না – যখন কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তি – যারা তাদের ক্লায়েন্ট – তাদের কিছু হয় – এরা মানবাধিকারের সংগীত উচু ভলিউমে বাজায়। ফরহাদ মযহারের বিষয়েও এরা এইকাজ করেছে – কিন্তু আগে ভাগে করে ফেলেছে – এরা বিবৃত দিয়ে সরকার আর আইনশৃংখলা বাহিনীর গোষ্টী উদ্ধার করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গফুররূপী ফরহাদ মযহারকে ধরা হলেও এই বিষয়ে কোন সংশোধনী না দিয়ে মৌনব্রত পালনে জন্যে তাদের হেড অফিস হিমালয়ের গুহায় স্থানান্তর করেছে বলে মনে হচ্ছিলো। আজতক এরা এই বিষয়ে নিরব। এইখানে এরাও কার্যত লুজার।

৮) বাঘ রক্ষা সমিতি – এইটা বাংলাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় সমিতি – এই সমিতির নেতারা মানুষের চেয়ে বাঘের প্রেমে বেশী মশগুল থাকে – এই অপবাদকে মিথ্যা প্রমানে সুযোগ নিয়েছিলো মযহারের পালাই পালাই খেলায় – কিন্তু দিন শেষে মযহারের গফুর বিবর্তনের কারনে এরাও তাদের বাঘের ভালবাসাকে আর কারো সাথে ভাগাভাগির সুযোগ হারিয়েছেন। যদি এরাই বেশী সক্রিয় হয়ে পুলিশ-র‍্যাবের কথাবার্তাকে মিথ্যা প্রমানের জন্যে নানান যুক্তি তর্ক দিয়ে ফেইসবুক গরম করে ফেলেছিলো – কিন্তু পুলিশের ভিডিও-অডিও প্রবল চাপে এরা আবার সুন্দর বনে ফিরে গেছে বলে মনে হলেও কার্যত এরা ভিন্ন ইস্যুতে তাদের চ্যানেল পরিবর্তন করেছে। এরাও লুজার পার্টি হিসাবে লিপিবদ্ধ হলো।

৯) বাংলার জনগন – খেঁটে খাওয়া মানুষ – গ্রামের কৃষক – গার্মেন্ট শ্রমিক – রিক্সাওয়ালার মুলত ছিলো দর্শক – তাদের মাঝে একটা বড় অংশ সাধারনত নিজেদের মতামত দেয়না – অন্যের মতামত শুনে – ফলে তাদের হারানোর কিছু থাকে না – তবে যারা ফেইসবুকে পিনাকী আর এপেলো ভাই্ এর ফলোয়ার তারা দ্রুত ফাঁদে পড়ে একটা মতামত তৈরী করেছে – ফলে এরাও লুজার – তবে এদের মাঝে রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয়দের সংখ্যা বেশী – যারা নিজের ব্যক্তিসত্তার চাইতে নেতার ব্যক্তিত্বকে বেশী অনুসরন করে – ফলে তাদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ নেই।

১০) আওয়ামীলীগ – সবশেষে আওয়ামীলীগের নাম আসার কারন তাদের নিজস্ব মতামত দেবার কিছু নেই – এরা পুলিশ আর সরকারের দিকে চেয়ে থাকে। শুরুতে কিছুটা বিব্রত হলেও লুংগীসহ গফুর ধরা পড়ার পর এরা উল্লসিত হয়েছে – তারপর এরা সামাজিক মাধ্যমে বাম-ডান-জামাত-হেফাযতের সন্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে তাদের উজার করে দিয়ে লড়েছে – কিন্তু এতে এদের বিজয়ী ঘোষনা করা যাচ্ছে না – কারন এরা কার্যত কোন পার্টি না – তাদের কাজটা পুলিশই করে দেয়। কিন্তু যেহেতু এরা তাদের জন্যে কিছু দাবী করবে – তাই তাদের সান্তনা পুরষ্কার হিসাবে সাইড লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

এই হলো অন্তর্বতীকালীন “গফুর কেন বাসে” নামক রিয়েলিটি শোর ফলাফল। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হয়তো এই শো-র দ্বিতীয় পর্ব দেখা যাবে। তবে আপাতত এই শো-র এখানে সমাপ্তি। কারন ফরহাদ মযহার কামেল মানুষ – এরা যেখানে যাবে তাদের পক্ষে খেলবে – অনেকটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্তরায়ের জীবন্ত নেইমার – হয়তো আমরা ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের পক্ষে মুল স্ট্রাইকার পজিশনে নামতে দেখবো।

আর সর্বশেষে ইসলামী রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় ভাই ব্রাদারদের প্রতি অনুরোধ – ইসলাম আমাদের ধৈর্য্য ধারনে শিক্ষা দেয় – কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই উপসংহারে না গিয়ে ধৈর্য্য ধরে পর্যবেক্ষন করা এবং পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না পেয়ে শুধু মাত্র ফেইসবুকের স্ট্যটাসের ভিত্তিকে কোন মতামত প্রচার করার আগে বারবার ভাবুন। পৃথিবীর সকল ঘটনাই আমাদের জন্যে পরীক্ষা – সব পরীক্ষায় আমি অংশ নেবো কিনা সেইটা আমার সিদ্ধান্ত – তবে একবার পরীক্ষার মুখোমুখি হলে পাশ-ফেলের দায় আমার – আর সেই দায় পরিশোধ করতে হয় ইমান দিয়ে। আরো একটা কথা – আল্লাহ কোরানে স্পষ্ট করে বলেছেন –

সূরা আশ-শো’আরা (The Poets )
(26:224) বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।

– দয়া করে মনে রাখবে ফরহাদ মযহার মুলত একজন কবি – এই কবি পরিচয়েই উনি নিজেকে পরিচিত করেছে ভক্তদের মাঝে। সুতরাং তাকে অনুসরন করান সুযোগ নেই।

আল্লাহ আরো বলেছেন –

(26:225)
তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?

(26:226)
এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।

– সুতরাং ফরহাদ মযহারকে বিশ্বাস করা এবং অনুসরন করার আগে ভাবুন – এবং ইতোমধ্যে আল্লাহর এই আয়াত সম্পূর্ন নির্ভূল প্রমান করেছেন উনি নিজেই। সুতরাং আশা করি আমরা এর থেকে সঠিক শিক্ষা নেবো।

২ comments

  1. 1
    সুজন সালেহীন

    পশ্চিমা বিশ্বের মত রিয়েলেটি শো দেখার সুযোগ না হলেও শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের মানুষকে কম বিনোদন দিয়ে যাচ্ছেনা! রিয়েলেটি শো "গফুর কেন বাসে" শেষ হতে না হতেই হাসিনা-সিনহার যৌথ প্রযোজনায় দেশব্যাপী এখন স্বগৌরবে চলছে  আরেক ফাটাফাটি রিয়েলেটি শো "সিনহা বাবুর কেরামতি"!

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      পপ কর্ণ নিয়ে বসে আছি -- উপভোগ করছি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.