«

»

Feb ১১

খালেদা জিয়ার জেল গমন আর বাংলাদেশের মানুষের নৈতিকতা

অনুমিত ছিলো খালেদা জিয়া জেলে যাচ্ছেন – কারন পুরো ১০ বছর এই মামলা নিয়ে বিএনপি যতটা আইনী লড়াই করেছে – তার চেয়ে বেশী করেছে কৌশল। সময়ক্ষেপন করে মামলার কার্যক্রম স্থবির করে সরকারের পতন অথবা ক্ষমতার বদলের প্রতি বেশী মনোযোগী ছিলো। বারবার মামলা তারিখ পেছানো – মামলা বিচারক বদল আর নানান বিষয়ে উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলার কার্যক্রম একদশক টেনে অবশেষে রায় হয়ে গেলো। যদি ২য় মেয়াদের আওয়ামীলিগ ক্ষমতায় না আসতো তবে এই মামলাও আরো দশটা মামলার মতো বিলিন হয়ে যতো। তবে কোন সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের এই প্রথম জেল গমনের ঘটনা নয়। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, কাজী জাফর আহমেদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী আর মওদুদ আহমেদের মতো রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীগনও দূর্নীতির দায়ে জেল খেটেছে।

এই মামলার পর সকল প্রতিক্রিয়া দেখে একটা কথা বলা যেতে পারে – বাংলাদেশ থেকে লজ্জা এবং নৈতিকতার বিষয়টা অবলুপাত হয়েছে। বিএনপির প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয় খালেদা জিয়া শিশুর মতো নিষ্পাপ আর সরকার হলো ভিলেন। কিন্তু যখন প্রশ্ন করা হয় – ৯২ সালে প্রাপ্ত অনুদানের এতিম খানা ২০১৮ সালে কোথায় – তখন তারা নিশ্চুপ হয়ে যায়। ১৯৯২ সালে যে এতিম শিশুটার সাহায্যোর দরকার ছিলো – সেই শিশু আজ ৩০-৩৫ বছর বয়সের মানুষ। তার হক্ক কোথায় গেলো। এই প্রশ্নের জবারের চেয়ে এর মধ্যে আওয়ামীলীগের ষড়যন্ত্র কতটা তা নিয়ে গলা ফুলিয়ে চিৎকার করে কথা বলা যে কতটা নির্ল্লজ্জতা তা বুঝার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে দলটি নেতাকর্মীদের।

একজন কানাডা বাসী হিসাবে দেখি – এই ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলেও সেই দলের নেতাকে বিদায় নিতে হতো এবং দল তার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন নেতা নিয়ে তাদের ইমেজ তৈরী করতো। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি চিরজীবনের জন্যে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতো।

আর মুসলিম প্রধান দেশের মানুষের যা জানা আছে তা হলো – (5:38) যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।

এই কথা বলার চেয়ে এর পিছনে রাজনীতির বিষয়টা বেশী আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র। কারনটা কি?   কিন্তু বাংলাদেশের নির্ল্লজ্জতা আর অনৈতিকতা রযে চিত্র দেখলাম তার কিছু চিত্র বলি –

৫ এর বদলে ১০

বিএনপি ভাল করেই জানতো এই মামলার রাযে খালেদা জেলে যাবে – তাই তারা তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দূর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্যে দলে থাকা বাঁধা অপসারন করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তা নির্বাচন কমিশনের জমা দিয়েছে রায়ের আগেই। রায় হ্‌ওয়ার পর তারা পাঁচ বছরে জেলদন্ড পাওয়া খালেদার পরিবর্তে একই মামলায় ১০ বছরের দন্ড পাওয়া তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন করেছে। এই দলের পক্ষে বর্তমান আওয়ামী সরকারের লোকজনের ব্যাংক লুটপাট আর অর্থপাচারের বিষয়ে কথা বলার আর কি কোন নৈতিক ভিত্তি থাকলো কি না তা ভেবে দেখা যেতে পারে। গঠনতন্ত্র সংশোধন দূর্নীতির দায়ে দন্ডপ্রাপত  ফেরারী আসামীকে দলে চেয়ারপার্সন করার পর বিএনপি আওয়ামীলীগের লুটপাট আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছ এতা বলাই বাহুল্য।

বুদ্ধিজীবিদের বুদ্ধিনাশ

বাংলাদেশের একদল বুদ্ধিজীবি আছেন যারা ক্ষমতাশীনদের বিরুদ্ধে কথা বলে নিজেদের পপুলার করার চেষ্টা করেন। তাদের ভাষ্য – মাত্র দুই কোটি টাকার জন্যে খালেদা জিয়াকে জেল না দিলেও হতো। কিন্তু এরা ভাবছে না – একজন প্রধানমন্ত্রী মাত্র দুই কোটি টাকার জন্যে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে – এবং আইনের চোখে দোষী প্রমানিত হয়েছে – তার জন্যে দেশের নাগরিক হিসাবে লজ্জিত হওয়া উচিত। প্রধান মন্ত্রী হলেও সে মানুষ – দেবতা না – তার অপরাধও বিচার যোগ্য। কিন্তু স্ট্যাটাসকো ধরে রাখার জন্যে এরা বিচার প্রক্রিয়াকে স্থবির হতে পরামর্শ দিয়েছে। সত্যই যে দেশের বুদ্ধিজীবিরা বুদ্ধি নাশে পতিত এবং নৈতিকতা সীমারেখা ভুলে যেতে পরামর্শ দেন – সেই দেশের জন্যে অনেক দুভোগ রয়েছে – এইটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

বামদের মাতব্বরী 

বামরা হলো সেই গ্রাম্য মাতবরের মতো – সব ভাল দেখেও বলবে – এতো ভাল ভাল না। এরা আওয়াজ দিচ্ছে – এই বিচার ভালই – কিন্তু বর্তমান সরকারের লোকজনের বিচার না হলে এই বিচার শুদ্ধ হবে না। এরা ভুলে যায় – এই বিচার হতে প্রবল রাজনৈতিক ইচ্ছার সাথে দশ বছর সময় লেগেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হতে লেগে ৪০ বছর – শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচারের লেগেছে ২৫ বছর আর জিয়া হত্যার বিচার এখনও হয়নি। সমালোচনা করলেই রাজনৈতিক শক্তি হওয়া যায় না – এর প্রমান রেখেছে বামগন। এরা সব সরকারের সমালোচনা করে কিন্তু একটা ইউনিয়ন কমিশনের মেম্বার হওয়ার মতো ভোট পা্য় না। কিন্তু তাদের বড় বড় বুলির শেষ নেই। লজ্জার বিষযটা এখানেও কাজ করে না।

হাসিনার সাহস এবং ভবিষ্যৎ

শেখ হাসিনাকে একটা বিষয়ে ক্রেডিট দিতে হবে – তিনি এই বিচারের পক্ষে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। বিচারের রায় যদি প্রভাবিত করতেই চাইতেন তবে ২য় মেয়াদ পর্যণ্ত অপেক্ষা করতেন না। সেইটা ভিন্ন প্রসংগ। তবে উনি যে কাজটা করেছে – তা হলো বিগত তিন দশক ধরে আওয়ামীলিগ আর বিএনপিতে একটা অলিখিত নিয়ম ছিলো – এরা পরষ্পরের বিরুদ্ধে যতই হৈ চৈ করুক – দূর্নীতির বিষয়ে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। ২য় মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামীলীগের কথিত অনেক দূর্নীতি নিয়ে কোন আইনী প্রক্রিয়ায় যায়নি – আওয়ামীলিগও তাই করেছে। বরঞ্চ নিজেদের লুটপাটের সম্পদ ভাগাভাগি করার জন্যে পরষ্পরের সন্তানদের বৈবাহিক বন্ধনেও আবদ্ধ করেছে। যদিও খালেদা জিয়া সময় শেখ হাসিনাকে নির্মূল করার করার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো – কিন্তু আইনের বিষয়ে এরা নিরব থাকতো। এইবারের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলে নিশ্চয় শেখ হাসিনাকেও কোর্ট দৌড়াতে হবে এবং জেলেও যেতে হতে পারে। শেথ হাসিনা এই অলিখিত অনৈতিক সমঝোতা ভেংগে দিয়ে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন বটে।

বিএনপির গান্ধীবাদী নীতি

রায় ঘোষনার আগে থেকেই বিএনপির নেতারা বলছেন নেত্রীর নির্দেশ – এবারের আন্দোলন হবে নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ন আর গনতান্ত্রিক। অন্যদিকে আজ দেখলাম বিএনপির এক নেতা বলছেন ২০১৪ সালে যে ভুল করেছি তা আর করবো না। কথা হলো – সেই ভুলের মাসুল যারা দিয়েছে পেট্রোল বোমা পুঁড়ে, রাষ্ট্রীয় সম্পদে ক্ষতিকরে ৯৩ দিনের অবরোধের নামে সহিংস কর্মকান্ড ইত্যাদির জবাব কে দেবে। যাই হোক – বিড়াল সহজে যে মাদার গাছে উঠে না তা প্রমানিত। বিএনপি এখন উচ্চকন্ঠে অহিংস আন্দোলনের কথ  বলছে – যদি সেই সময়ে সরকার পতন হতো – অন্তত ৫ই মে হেফাযতের সহায়তায় সাফল্যটাও আসতো – তাহলেও বিএনপির আজকে গান্ধীবাদী নীতির অনুসরন করতে দেখতাম না। সেই বিবেচনায় খালেদা জিয়া জেল গমন দেশের রাজনীতির জন্যে সুখকর একটা পরিবর্তন আনলো বলে আপাতত মনে হচ্ছে। তবে এই অবস্থা বেশী দিন থাকার কথা না – জামায়াত এখনও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি – তখন বুঝা যাবে জামায়াতের "রিজার্ভ ফোর্স"  কি করে।

কালো কোটে আচ্ছাদিত রাজনীতি

পুরো ঘটনাবলী দেখলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় – খালেদা জিয়ার উকিলরা সবাই বিএনপির নেতা। এরা বহুরূপী – সকালে উকিল – বিকেলে রাজনীতিক। এরা যখন কোন মামলার আইনী ব্যাখ্যা দেয় – তখন তাদের পেশাধারিত্বের চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যটাই বেশী ফুঁটে উঠে। এইটাই অবশ্য তাদের লক্ষ্য। সেই বিবেচনায় এরা পেশাকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক সুবিধাজনক পদ দখলের জন্যে – এইটা একটা ধরনের দূর্নীতি। কিন্তু কে এই বিষয়ে কেয়ার করে। লক্ষ্য রাখা  দরকার – কোন উকিল যখন মামলায় লড়েন – তখন উনি সেই বিচারের অংশ হয়ে যান – তাই কোর্টের বাইরে মামলার বিষয়ে মন্তব্য করা কোর্টকে অবজ্ঞা করা এবং বিচারকের প্রজ্ঞাকে হেয় করার শামিল। অবশ্য বাংলাদেশে এই ঘটনা কোনবিষয়ই না। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি এরা যা করছেন – তা হলো মামলার শুনানীকে কি করছেন তা না বলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙগীতে মামলার ব্যাখ্যা দেওয়ার কারনে সাধারন মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং বিচারের প্রতি মানুষে আস্থা করে যাচ্ছে। ফলে মানুষ এক সময় আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাইবে – আগেও এই ঘটনা দেখেছি হয়তো আবারো দেখবো। অবশ্য এরা তাই চাইছে – কোর্টের রায়কে রাজনৈতিক রং দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন বা ভোটে সুবিধা আদায় করতে চাইছে। সেই বিবেচনায় অসৎ এই উকিলরা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে – যার ফল তাদেরও ভোগ করতে হবে। 

অবশেষ দূর্নীতিরই জয় হবে

যে দেশের অধিকাংশ মানুষ দূর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে জড়িত – তারা মুখে যাই বলুক – দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে কোন ঘটনা – বিচার বা অভিযানকে পছন্দ করে না। কারন এরা ভয় পায় – সত্যই যদি দূর্নীতির দায়ে জেলে যেতে হয় তবে তো বিপদই। তাই বিষয়টাকে এরা রাজনৈতিক খেলা হিসাবে দেখতেই বেশী পছন্দ করবে। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই খালেদা জিয়া জামিন পাবে – ফুলের মালা নিয়ে হাত নাড়তে নাড়তে জেল থেকে দল পরিবেষ্টিত হয়ে জিন্দাবাদ শুনতে শুনতে বত্তৃতা দেবেন। সব কিছু ঝুট হ্যায় – সব কিছু পলিট্রিক হ্যায় বলবেন – টিভি চ্যানেলগুলো তা প্রচার করবে। সবাই নিশ্চিত মনে তাদের কাজে ফিরে যাবে। দেশে দূর্নীতি আর অনৈতিকতা আবার স্বাভাবিক হবে। এইটাই্ বাংলাদেশের নিয়তি।

সবশেষ

সবশেষে একটা কথা বলেই শেষ করছি। খালেদা জিয়ার রায়ের দিন টিভি চ্যানেলের "চাঁন রাইত" ছিলো – সব চ্যানেলই সব জান্তা শমসেরদের ডেকে এনেছে – এরা টকশোতে জ্ঞান ঝেড়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির এক নেতা গল ফুলিয়ে তার নেতা হুসেন মুহামদ এরশাদকে অস্ত্র মামলায় অবৈধ ভাবে জেলে পাঠানোর জন্যে বিএনপি আর খালেদা জিয়ার সমালোচনা করছিলো। সে বলছিলো একটা পিস্তল এরশাদ উপহার হিসাবে পেয়েছে – তার জন্যে তাঁকে সাত বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। উপস্থাপন তাকে জিজ্ঞাসা করলো – সেই অস্ত্র উনি নিজের কাছে রাখার জন্যে কি কোন লাইসেন্স করেছিলেন – জাতীয়পার্টির নেতা উত্তর না দিয়ে চুপ করে বসেছিলেন। বাংলাদেশের আইনে অস্ত্র রাখতে হলে লাইসেন্স করতে হয় – সেই আইনের দৃষ্টিতে প্রেসিডেন্ট আর শুক্কর আলি সমান – কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে আই্নের হাত তাকে ষ্পর্শ করতে পারে না। খালেদা জিয়ার মামলায়ও একই কথা খাটে – এতিমের নামে বিদেশ থেকে আনা অর্থ নানান ভাবে হাত বদল করা অন্যায় – এইটাই বাংলাদেশের আইন – কিন্তু আইনের হাত অনেক ছোট তা ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাশীনদের ষ্পর্শ করতে পারে না – এমনকি ক্ষমতার বাইরে থাকা প্রভাবশালীদের ষ্পর্শ করতে পারে না – যদিনা আইনের পিছনে আরো বেশী ক্ষমতা থাকে। এই প্রক্রিয়ায় আওয়ামীলীগও এক সময় আইনের মুখোমুখি হবে – অন্তত গ্রেনেড হামলা করে দিনে দুপুরে হত্যা করার চেয়ে এই প্রক্রিয়াটা অনেক বেশী গ্রহনযোগ্য মানতেই হবে।

 

(সর্বশেষ আপডেট – ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮) 

৪ comments

Skip to comment form

  1. 2
    সুজন সালেহীন

    এ ইস্যুতে সদালাপে জনাব আবু সাঈদ জিয়াউদ্দীন সাহেবের চটজলদি একটা লেখা পেয়ে যাব বলে অনুমিত ছিল। আমার অনুমানের চাইতেও দ্রুতগতিতে লেখাটি পেয়ে গেছি বলে জনাব আবু সাঈদ জিয়াউদ্দীন সাহেবকে ধন্যবাদ। কারণ সদালাপের মোটামুটি নিয়মিত পাঠক হিসেবে আমার একটা ধারণা হয়ে গিযেছে যে, এধরণের মওকা আবু সাঈদ জিয়াউদ্দীন সাহেব ছেড়ে দিবেন না! গেল সপ্তাহের আলোচিত মামলাটিকে কেন্দ্র করে শাসকদলের পক্ষ থেকে যে যুদ্ধংদেহী ত্রাসের পরিস্হিতি আর সমান্তরালে তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুমকী, ধমক আর দেশব্যাপী গণগ্রেফতার তাতে গোটা বাংলাদেশের মানুষ তটস্হ হয়ে উঠেছিল। স্বস্তির বিযয় এই য়ে, বাংলাদেশের মানুষ কথিত দিনটিতে নিজেদের আড়াল করে হলেও শান্তিতে পার করে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো শাসকদল নিজেদের বাঁচাতে পারেনি। যেখানে শাসকদল ও তাদের প্রশাসন প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, তাদের প্রতিপক্ষকে রাস্তায় দাঁড়াতে দিবেনা, জড়ো হতে দিবেনা, পুরো ঢাকা শহরে নিষেধাজ্ঞা জারী করে কেউ রাস্তায় জড়ো হতে পারবেনা, সেখানে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্চের রূপগঞ্চে রাস্তায় মিছিল করা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে এক আওয়ামী কর্মীকে বলি হতে হয়েছে। মামলাটির বিষয়ে যদি বলি রায়ে লঘু পাপে গুরুদন্ড দেয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ মামলাটির ঘটনা বিবরণে জানা যায়, বেগম জিয়া তাঁর পারিবারিক উদ্যেগে বিদেশ থেকে টাকা সংগ্রহ করে জনহিতকর কর্ম করতে চেয়েছিলেন। তহবিলের টাকা লগ্নি করতে সময় ক্ষেপণের জন্য অর্থদন্ডই যথেষ্ট ছিল বলে অনুমিত হচ্ছে, যেহেতু তহবিলের কোনরূপ তছরূপ হয়নি। এখানে স্বেচ্ছায় জনকল্যাণ কর্মে না জড়ালে কথিত অপরাধ সংঘটিত হওয়ারও সুয়োগ নেই। কথিত দূর্নীতিতে রাষ্ট্রের তহবিল ও প্রকল্পের টাকা খেযে ফেলার কিংবা রাষ্ট্র-সমাজকে বঞ্চিত করার কোন বিষয় জড়িত নয়, যা সচরাচর দূর্নীতিতে হয়ে থাকে। তাছাড়া মামলাটি ফখরুদ্দীনের জরুরী সরকারের সময়ে দায়ের হয়েছিল এবং ঐ সময়ের তদন্ত কর্মকর্তাই মামলাটিতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার উপাদান খুঁজে পায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশতঃ মামলাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং নতুন করে তদন্ত করিয়ে দূর্নীতির উপাদান বার করে আনে! আদালতের কাছে রাজনৈতিক হয়রানী মামলা প্রায়ই বাতিলয়োগ্য। কারণ এখানে প্রকৃত ঘটনার চাইতে প্রতিহিংসাই মূখ্য। শেখ হাসিনার সরকার তার দলের নেতা-কমীর বিরুদ্ধে পূর্বে দায়েরকৃত ৭৫০০ মামলা যেগুলোর মধো তাদের দূনীতি, চাঁদাবাজি ও খুনাখুনির মত প্রকৃত মামলাও ছিল, সবটিকে রাজনৈতিক হয়রানীর লেবেল লাগিয়ে নির্বাহী আদেশ মূলে বাতিল করে দেয়। সুতরাং বেগম জিয়ার কথিত মামলার রায়ে রাজনৈতিক হয়রানী বিবেচ্য ছিল। অবশ্য বর্তমান বাংলাদেশের বিচারাদলতে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলায় রাজনৈতিক হয়রানীকে বিবেচনায় আনা হয়না। বরং এধরণের মামলার সুয়োগ নিয়ে আদালত-প্রশাসন শেখ হাসিনার মনোরঞ্চন করে হিরো হতে চায়। শেখ হাসিনা কাউকে ডেকে পাটাতে বললে তারা বেঁধে নিয়ে আসে। বর্তমান বিচারাদলতের অবস্হা দেখে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিকুল হক আক্ষেপ করে বলেছিলেন এখন আর আইনের উকিল দিয়ে কাজ হয়না। শেখ হাসিনা তাঁর দূর্র্নীতিবিরোধী পদক্ষেপকে বিতর্কমুক্ত রাখতে দুইটি সূত্র প্রয়োগ করতে পারতেন। সময়ের দূরবর্তীতা অথবা ঘর সামলানো নীতি। সময়ের দূরবর্তীতার সূত্র ধরে শেখ হাসিনা তাঁর মিত্র এরশাদ সাহেবের ২৭ বছরের পুরোনো মামলাগুলোকে দিয়ে শুরু করলে পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক বিবেচনা ব্যতিরেখে অন্যান্য রাঘব বোয়ালরা চলে আসত। অথবা ঘর সামলানো নীতি দিয়ে শুরু করলে শেখ হাসিনা তাঁর দলের দূর্নীতিবাজ মখা আলমগীর, মায়া চৌধুরী, পবন চৌধুরী, ইয়াবা বদি প্রমুখের শাস্তি কার্যকর এবং ব্যাংক, শেয়ারবাজার লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার ইত্যাদি চলে আসত। টকশোওয়ালারা একটা তথ্য বেমালুম ভুলে গেছে। ২০০১ সালেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম বিশ্বের ১নং দূনীতিগ্রস্হ দেশে রূপান্তর করে যা্য়। এবং ঐ বছর থেকেই এই সার্ভে রিপোর্ট চালু হয়। পরবর্তীতে বেগম জিয়ার আমলে ৪ বারের মত ১নং দূনীতিগ্রস্হ দেশের রিপোর্ট আসলেও দূনীতি থেকে সরে আসার স্কোরে পর্যায়ক্রমিক উত্তরণ দেখা যায়। এবং মেয়াদকালের শেষ বছরে অর্থাত ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ১নং দূনীতিগ্রস্হ স্হান থেকে সরে আসে। বেগম জিয়া ফুলের মালা নিয়ে আপাতত বেরোতে পারছেননা। তার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা সাজানো আছে। এজন্য ঢাকার বিশেষ আদালতের রায় ঘোষণা হতে না হতেই বরিশালে অবস্হানরত শেখ হাসিনা বেশ দম্ভ ভরে বলেছেন তিনি আজ কোথায়!

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আমার লেখার পর আপনার মন্তব্য আসবে তাও অনুমিত ছিলো -- এবং এইটাও অনুমিত ছিলো যে আদালতের চেয়ে বেশী বুঝেন এই ধরনের মন্তব্য। ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় নাম না জানা এক কুয়েতী সৌদী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠায় খালেদার জিয়া ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্যে -- তা চলে যায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে -- সেখান থেকে হাত বদল হয়ে অবশেষে বগুড়ায় একটা সাইনবোর্ডে এতিম খানার নামে রূপান্তরিত হয়েছে। সবচেয়ে মজার কথা হলো -- খালেদা কতটা অনৈতিক কাজ করেছে তা আদালত বিচার করেছে -- বিচার শেষ হয়নি -- বিচার হবে হাইকোর্টে -- বিচার হবে সুপ্রীম কোর্টে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত তাদের বিচার এবং বিচার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার কাজটা করেই চলছে। বস্তুত বিচার এবং বিএনপি দুইটা এক সাথে যায় না। ক্ষমতায় থাকার সময় ১৫ আগষ্টের বিচার আইন করে বন্ধ করা, যুদ্ধাপরাধীর পক্ষ নিয়ে থাকা, জিয়া হত্যার বিচার, মঞ্জুর হত্যার বিচার -- কোথাও বিএনপি নেই। অপরেশ ক্লীন হার্ট নামে মানুষ হত্যার বিচার বন্ধ করে আইন করা, র‍্যাবের ক্রশফায়ারে জন্ম দেওয়া -- সেইটা তাদের চরিত্র। আজকের লুটপাটের জন্যে খালেদা-তারেকের বিচার করা যাবে না -- এইটা হাস্যকর। আর আমরা দেখেছি শেখ মুজিব হত্যার বিচারের জন্যে ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে -- খালেদার এতিমখানার তহবিল তছরুফের বিচারে লেগেছে ১০ বছর -- ইনশাল্লাহ আজকের লুটেরাদের বিচার হবেই। কেউই বিচারে বাইরে না। তবে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সেইটা হবে বলে মনে করি না।  বে মজার বিষয় হলো দূর্নীতির দায়ে ১০ বছর সাজা পাওয়া তারেককে দলের নেতা বানানোর জন্যে বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করা -- একদল অনুগত নেতাকর্মীর সামান্য নীতিবোধ নেই সেই দলে -- একটা পরিবারের দাসত্বে নেমেছে রাজনীতির নামে।  আর আপনি যে বললেন -- প্রথম তদন্তের কোন কিছুই পায়নি -- সেইটাও আংশিক সত্য ( যা মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর) -- প্রথম তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কাগজ পত্র সংগ্রহ করতে না পারায় সময়ের সীমাবন্ধতায় তথ্য না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে -- তথ্য না পাওয়া আর নির্দোষ হওয়া এক নয়। যাই হোক -- আদালত-বিচার এই সবই ভুল -- একমাত্র ম্যাডামই রাইট। আর আওয়ামীলীগ খারাপ। এই কাজটা যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও করে। অন্তত চলমান দূর্নীতিগুলো বিচার করে। সেইটা আশায়ই থাকলাম।  মজার বিষয় হলো আইনজীবি কাম রাজনীতিকরা আপনারদের মতো অন্ধসমর্থকদের বোকা বানাচ্ছে -- কারন এরা জানতোই খালেদা জেলে যাবে -- তাই এরা খালেদাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করেছে জেলে যাওয়া আগে -- শাহজালারের মাজার জিয়ারত, আচমকা নির্বাহী কমিটির বৈঠক, স্থায়ী কমিটি বৈঠক, আর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে খালেদা জেল যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছে। আর জেল গমনকে এরা রাজনৈতিক সিড়ি হিসাবে ব্যবহার করছে। এখন এরা শান্তিপূর্ন আন্দোলনের মহড়া দিচ্ছে -- যা ৯৩ দিনের মানুষ পোড়ানোর আন্দোলনের কথা ভুলানোর চেষ্টা। দেখা যাক কতটা সফল হয় এরা।    রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা বাতিল কি নতুন কিছু -- বিএনপি ক্ষমতায় এসে কতগুলো মামলা বাতিল করেছিলো তার পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টা ভাল বুঝা যেতো -- এইটা হলো আইন আদালত ধ্বংস করার কালচার -- বিচারের মধ্যে এই কালচার ভেংগেছে এই্টা ভাল। হাইকোর্ট শেখ হাসিনার মামলার বাতিল করেছে এইটা সত্য -- তেমনি সত্য হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার মামলাও বাতিল করেছে। সুতরাং এক পক্ষে কথা বলে লাভ নেই। সুবিধা পেলে কোর্ট ভাল -- আর দোষী হলো সরকারের দোষ -- এই কথা মনে হয় বেশী দিন চলবে না। কোর্টে গিয়েই মামলা ডিফেন্ড করতে হয়। বিএনপি আর খালেদার এই মামলা নিয়ে ১০ বছরে অনেক নাটক দেখেছি -- অবশেষে সবই বৃথা হয়ে গেলো। তাই এখন বলা হচ্ছে জেলে থাকা খালেদা মুক্ত খালেদার চেয়ে শক্তিশালী -- আর আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ন -- তাই বলি বিড়াল মাদার গাছে শখ করে উঠে না -- উঠাতে হয় -- শেখ হাসিনা সেই কাজটা করেছে। মওদুদের মতো নষ্ট মানুষদের রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করার কাজটা যেই করুন -- তাদের ধন্যবাদ। 

  2. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    শ্রদ্ধেয় ভাই-বোনেরা,

    আসসালামু আলাইকুম।

    এই সাইটে অনেক বিদ্বান সিনিয়র মানুষজন আছেন, তাই কমেন্ট করতে মাঝে মাঝে সংকোচ বোধ করি। নিজের অজান্তে কখন ভুল এবং খারাপ হয়ে যায়। এখন যা বলব, তার জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চাই। জিয়া ভায়ের কাছে দুই বার ক্ষমা চাই কারন তার লিখায় কমেন্ট করছি। কাউকে আহত বা কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। কেউ আমার ভুল ধরিয়ে দিলে  জানার জ্ঞান আমার জন্য উম্মোচিত হবে।

     

    এই বাংলাদেশের রাজনীতি যারা করে এবং সরাসরি সংযুক্ত বা সাপোর্ট করে, এদের সকলের অন্তর দূষিত, চিন্তাশক্তি অসুস্থ। কোন সত্যিকারের মুসলমানের পক্ষে এই দেশের রাজনীতি সাথে সম্পৃক্ততা সম্ভব না। যারা নিজেদের সম্পৃক্ত করে, তাদের অবশ্যই ঈমান নাই এবং আর ঈমান থাকলেও তা খুবই দুর্বল। আবারো বলি, বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত সকলের ঈমান আমল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশ্নবিদ্ধ এই কারনেই এই দেশের রাজনীতির কোন সততা, নৈতিকতা, মানবতা, সুস্থতা, বোধসম্পন্নতা… কিছুই নাই। আত্মতৃপ্তি, মিথ্যা আর হিংসার চাষ এবং অনুশীলন। মরহুম দুই দলের প্রধান তাদের কোন সৎ আদর্শ ছিল না এবং তারা ছিল স্পষ্টত ক্ষমতা লোভী। একজন মুসলমান জেনেশুনে অস্থিরতা ভিতরে থাকা এবং দেশ ও দেশের মানুষের সাথে বেঈমানী করতে পারে না।

     

    ধন্যবাদ সকলকে।

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনাকেও ধন্যবাদ। মন্তব্য করার সুযোগ দেওয়ার জন্যেই এখানে মন্তব্যের সুযোগ দেওয়া আছে -- সুতরাং নির্ভয়ে মন্তব্য করুন। ব্যক্তিগত ভাবে নেওয়ার মতো ইগো আমার নেই। কারন আমি রাজনীতি করি না -- বা এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। যেহেতু বাংলাদেশ নিয়ে ভাবি -- তাই অনুসংগ হিসাবে রাজনীতি এসে যায়। 

      আর যেহেতু ভাল মানুষ রাজনীতিতে যায় না -- খারাপ মানুষ রাজনীতি দখল করে রেখেছে -- এইটা সহজ হিসাব। 

      আর একটা কথা -- একটা সমাজের নেতা হলো সেই সমাজের প্রতিনিধি -- মানে সেই সমাজের মানুষের চরিত্রের প্রতিফলন। সুতরাং রাজনৈতিক ঘটনাবলী সেই সমাজের সার্বিক চিত্রটা ফুটিয়ে তুলে। 

      আমার প্রচেষ্টা সেইটাই। আশা করি মন খুলে কথা বলবেন। 

      ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.