«

»

Dec ০৩

বিজয়ের মাসের আহ্বান- শত্রুদের উপর থেকে দৃষ্টি সরানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরী

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তার সুরক্ষা অনেক কঠিন – কথাটা যত কত কঠিন সত্য তা বাংলাদেশের মানুষের চেয়ে আর ভাল কে বুঝবে। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পরপরই বিজয়ী শক্তি বিভক্ত হয়ে পড়ে নানান কারনে। কেউ সমাজতন্ত্র চায় – কেউবা চায় বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র – ইত্যাদি। এদিকে পরাজিত শক্তি – বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের অনেকে দেশের ভিতরে গা ঢাকা দেয় আর অনেকেই বিদেশে চলে যায়। দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিভাজন আর পরষ্পরের বিরুদ্ধে বিবাদের কারনে দেশের মানুষ বিভক্ত হয়ে সমস্ত মনোযোগ দেয় পরষ্পরকে ঘায়েল করতে আর শত্রুরা দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।

বাংলাদেশের জন্মের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে প্রধান ছিলো মুলত মুসলিম লীগ (একাধিক উপদল), কেএসপি, পিডিপি, নেজামে ইসলাম আর জামায়াতে ইসলাম। জামায়াত ছাড়া বাকী সবগুলো দলই বাংলাদেশের বিজয় তথা নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে বিভিন্ন ধারার রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করে – আর দলগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং জামায়াত ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না।

কিন্তু জামায়াত আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অস্তিত্বকে মেনে নেয়নি যদিও জামায়াতের নবীন সদস্য – শিবিরেরকর্মীদের একটা ধারনা দেওয়া হয় যে এরা বাংলাদেশেক মেনে নিয়েছে – কিন্তু শিবিরে দলীয় পতাকায় চাঁদ-তারার প্রতীক কিন্তু তা বলে না।

জামায়াতকে কেন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যে হুমকী মনে করা হয় – তা বুঝার জন্যে আমাদের পিছনের ইতিহাসের দিকে একটু নজর দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে জামায়াতের নেতাদের একটা বিরাট অংশ পাকিস্তানে পালিয়ে যায় – যাদের মধ্যে প্রধান ছিলো গোলাম আজম। আরেকটা অংশ দেশে থেকে যায় – যারা ধীরে ধীরে দেশের ভিতরে সংগঠিত হতে থাকে। এদের নেতৃত্বে ছিলো মাওলানা আব্দুর রহীম। মাওলানা রহীমের গ্রুপ বাংলাদেশের অস্তিত্বকে মেনে নিয়ে জিয়াউর রহমানের ধর্মীয় রাজনীতির সুযোগে "ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ" নামে একটা দল তৈরী করে – যারা ১৯৭৯ এর ২য় সংসদ নির্বাচনে ২০টি আসনও পায়। এরা মুক্তিযুদ্ধের কুখ্যাত জামায়াতের ছাত্র উইং "ইসলামী ছাত্রসংঘ" যা ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর দোসর বাহিনী আল-বদর হিসাবে কাজ করেছে এবং বুদ্ধিজীবি হত্যা মিশনের সাথে জড়িত ছিলো – তাকে ইসলামী ছাত্র শিবির নামে নতুন ভাবে সংগঠিত করে। এদিকে গোলাম আজম আর তার অংশ সৌদি আরব আর লন্ডনে বসে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত। এরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কমিউনিজমের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে উদবুদ্ধকরন সহ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক তৈরীতেও বাঁধা সৃষ্টি করে।

১৯৭৯ সালে জামায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে গোলাম আজম পাকিস্তানী হিসাবে টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসে মায়ের অসুস্থতার অজুহাতে। তৎকালীন সরকারে প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জামায়াতকে পুনরায় সংগঠিত করে। এই প্রক্রিয়া মাওলানা রহীমের গ্রুপের সাথে তাদের মতপার্থক্য হয় এবং মাওলানা রহীম গ্রুপ জামায়াতে যোগ দিতে অস্বীকার করেন এবং জামায়াতের পেট্রোডলারের কাছে তাদের রাজনীতির সমাপ্তি ঘটে।

জামায়ত শুরুতে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমীর বানিয়ে গোলাম আজমের নাগরিকত্বের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। এক সময় তা পেয়েও যায়। এবং জামায়াতের আমীর হিসাবে কাজ শুরু করে।

এখানে যে বিষয়গুলো লক্ষ্যনীয় – জামায়াত দীর্ঘ ৩০ বছর বাংলাদেশে রাজনীতি করলেও – ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের চাপে তাদের গঠনতন্ত্রে মুক্তিযুদ্ধ কথাটি সংযোজন করে। আর মুক্তিযুদ্ধে ওদের ভুমিকা নিয়ে ক্ষমা চাওয়াতো দুরের কথা – সামান্য আলোচনাও করতে রাজী না। ওরা চাচ্ছিলো যে – বিকৃত ইতিহাস চর্চার আড়ালে ওদের কুকর্মগুলো মানুষ ভুলে যাবে। অনেকের হয়তো জানা নেই যে – ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র টিভি চ্যানেল বিটিভি এবং রেডিওতে "পাকিস্তানী সেনা" "রাজাকার", "আলবদর" ইত্যাদি শব্দের উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ছিলো। হুমায়ুন আহমেদ একটা নাটকে "তুই রাজাকার" কথাটা দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে শব্দটা পরিচিত করেন।

অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর মধ্যে থাকা পাকিস্তানপন্থী আর সিভিল প্রশাসনে থাকা আমলারা জামায়াতের পূর্নবাসনে সহযোগিতা করেছে। আর বিভক্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি পরষ্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করে এক সময় শক্তিহীন হয়ে সমঝোতার নীতিতে চলে গেছে। যার ফলে আমরা দেখেছি আওয়ামীলিগ একসময় জামায়াতকে মিত্র হিসাবে বিবেচনা করেছে।

প্রবল অর্থবিত্তের মালিক এই দলটির ধূর্ত নেতারা দ্রুত এদের রং বদলিয়ে যে কোন দলের মিত্র হয়ে যেতে পারে। এরা কোন ভাবেই বাংলাদেশের মিত্র না – এদের চিনে রাখা জরুরী।

(২)

এখনও কি জামায়াত বাংলাদেশের জন্ম মেনে নিয়েছে? উত্তর হলো না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রের মুলনীতি বা সংবিধান ওদের কাছে অর্থহীন। ওরা গনআন্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সংগঠিত করে এক সময় গনতন্ত্রকে হত্যা করবে।

আর জামায়াত রাজনীতি করে গোপনে – মজলিশে সুরা নামক উচ্চ পর্যায়ে যে সিদ্ধান্ত হয় – তা সবাইকে মেনে নিতে হয়। সেই সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়া কোনভাবেই স্বচ্ছ না – যা গনতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী। গোপন রাজনীতি কোন স্বাধীন দেশে চলতে পারে না।

অন্যদিকে ছাত্র শিবিরের বিষয়েও বলা যায় – প্রবল ঘৃনার আবাদ হয় ওদের রাজনীতিতে। কাকে কিভাবে ঘৃনা করতে হবে তারই চর্চা করে এরা প্রচন্ড একমুখী চিন্তার একটা সহযোগী সংগঠন তৈরী করেছে – যারা মুলত জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের রক্ষা করাকেই ইসলাম রক্ষা হিসাবে দেখে।

ইসলামকে সামনে রেখে এই দলের নেতারা নিজেদের সম্পদ বাড়ানো ছাড়া তেমন কিছু করেনি। বিলাস বহুল জীবন যাপনকারী জামায়াতের নেতাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়াশুনা করলেও – এরা মাদ্রাসায় পড়া কোমলমতি ছেলেদের ইসলামের নামে শহীদ হতে উদবুদ্ধ করছে। শিবিরের তাদের শহীদের তালিকায় কোন জামায়াত নেতা বা তাদের ছেলেমেয়ে নেই – যা আছে তা হলো দরিদ্র মেধাবী ছেলেগুলা – যারা জামায়াতের অর্থে পড়াশুনা করে জামায়াতের বৃত্তে বন্দী হয়ে আছে। এদের নিজের স্বাধীন চিন্তার সুযোগও নেই।
 

(৩)

এবার দেখা যাক যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি। জামায়াতের হিসাবে ছিলো না যে এভাবে বিচার শুরু হবে। কারন জামায়াত বিগত তিন দশকে প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছে – নেতারা সমাজের উচুস্তরে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। তাই দেখি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চট্রগ্রামের কসাই আলবদর নেতা মীর কাসেম আলির টিভির জন্মদিনের কেক কাটেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে বিচার বিষয়টা খুব সহজ হবে না। সরকারের সকল জায়গায় জামায়াত লোক রেখেছে – আর বিশেষ করে বিরোধী দলের ভিতরের ওদের পেইড এজেন্ট যে কাজ করছে তা বলাই বাহুল্য।

আর আওয়ামীলীগ দল হিসাবে যে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নয় – তা বিগত আমলেই বুঝা গেছে। গনআদালতের নেতারা শ্রদ্ধেয়া জাহানারা ইমামের অবর্তমানে নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। এমন কি নাস্তিকতা প্রসারের জন্যে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির ব্যনারে জাহানারা ইমামের নামে পুরষ্কার দেওয়ার মতোও অদ্ভুত ঘটনা দেখেছি। ফলাফল আওয়ামী সরকার বিষয়টা এড়িয়ে গেছে।

কিন্তু এবার যতটুকু বিচারে কাজ এগিয়েছে – তার জন্যে যতটুকু কৃতিত্ব আওয়ামীলীগ পাবে তার চাইতে অনেক বেশী পাবে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। এরা পরিষ্কার ভাষায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে মতামত দিয়েছে।

এখন কথা হলো – বিশ্বের ইতিহাসে – এমন কি বাংলাদেশেও দেখা গেছে প্রবল গনআন্দোলনের ফসল ছিনতাই হয়ে যায়। ৯০এর কুখ্যাত স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি এরশাদ এখন আওয়ামী সরকারের মিত্র আর উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ বিএনপির নীতিনির্ধারক – আর ডা: মিলনের মা ছেলে হত্যার বিচারের জন্যে এখনও কাঁদছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও করনীয় ঠিক করতে হবে।

যুদ্ধারাধী বিচারের শেষ দেখার জন্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরী। কোন রকম রাজনীতির খেলায় নিজেদের মত্ত না করে – দাঁবার গুটি না হয়ে – দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করতে হবে – যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই । হতেই হবে। মিশরের তাহরির স্কোয়ারের যোদ্ধাদের মতো লক্ষ্য পুরন না করে ঘরে ফেরা মানেই সুবিধাবাদীদের জন্যে পথ ছেড়ে দেওয়া। জামায়াতের অর্থ – বিত্তের কাছে যেন যুদ্ধাপরাধের প্রক্রিয়া বিক্রি হয়ে না যায় – সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বিজয়ের মাসে আমাদের বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে যেন আমাদের শত্রুদের উপর থেকে চোখ না সরাই – ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের সন্মানকে যে আমরা কখনও আর অবজ্ঞাকারীদের হাতে ছেড়ে না দেই। ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই-এ ইম্পাত দৃঢ় অবস্থান নিতে কুন্ঠিত না হই। রাজনীতির কুটচাল যে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আবারো দেশের ইতিহাস থেকে দূরে না রাখে – যেন নতুন প্রজন্ম জাতির শহীদদের সর্বোচ্চ সন্মান আর বীরদের নিয়ে গর্ব করাকে নিজেদের পরিচয় হিসাবে প্রকাশ করে।

বিজয়ের মাসে এইটুকুই আমার আশা। সবাইকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা।

(একই সাথে সামহোয়ার ইন ব্লগে প্রকাশিত)

২৭ comments

Skip to comment form

  1. 14
    আহমেদ শরীফ

    একটা কথা সবার আগে বুঝে নিতে হবে যে আমি একজন মুসলিম হিসেবে যে কোন দল বা নেতাকে ত্যাগ করতেই পারি মতানৈক্য হলে, কিন্তু প্রভু হিসেবে আল্লাহকে আর নবী হিসেবে আল্লাহর রাসূল(সাঃ) হিসেবে কখনো কোন অবস্থাতেই ত্যাগ করতে পারি না। কারণ সেটা করলে আমি আর মুসলমান থাকি না।
     
    আমীর বা জামাতের আনুগত্য কি জন্য ? আসল আনুগত্য আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) এর আনুগত্য। সেটাকে কার্যকরভাবে বহাল রাখার জন্যই এনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমীর বা জামাতের প্রতি আনুগত্য। এবং এই আনুগত্য ততক্ষণ পর্যন্ত পালনীয় যতক্ষণ পর্যন্ত আমীর বা জামাত সঠিকভাবে আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) এর যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করে।
     
    ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান সৃষ্টি কোন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল না বরং মুসলমানদের স্বার্থ হিন্দুপ্রধান ভারতে বিঘ্নিত হয়েছে বা হতে পারে বা হওয়ার আভাস সুনিশ্চিত_ এই যুক্তিতে মুসলমানদের সম্প্রদায়গত স্বার্থরক্ষা এবং মুসলমানদের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন পাওয়ার জন্যই পাকিস্তানের সৃষ্টি। এর পেছনে উত্তর ভারতীয় অভিজাত মুসলমান গোষ্ঠির অবদানই ছিল নেপথ্যে।
     
    কাজেই এ কথা বলা যায় যে পাকিস্তান চুলচেরা সংজ্ঞা অনুযায়ী সে অর্থে কোন ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ যাকে বলে তা ছিল না। শরীয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা সেখানে নিখুঁতভাবে অনুসৃত হওয়া তো দূরে থাক বরং সিংহভাগই ইংরেজ আইন বলবৎ ছিল, যা একচুয়েলি এখনো আছে উপমহাদেশে। এটুকু বড়জোর বলা যেতে পারে যে পাকিস্তান ছিল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি রাষ্ট্র, ভারত থেকে যার বিচ্ছিন্নতা ও স্বাধীন একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা মুসলমানদের সম্প্রদায়গত স্বার্থরক্ষার জন্য ছিল।
     
    একইভাবে পাকিস্তান ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টিও পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে সময়ের প্রয়োজনে ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতায় এসেছে। বাঙ্গালি মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা ও বাঙ্গালি মুসলিমদের স্বায়ত্তশাসন তাদের মুক্তির উপায় _ এরকম একটি ধারণা ও বিশ্বাস তখনকার পটভূমিতে জনমনে মূর্ত হয়ে উঠেছিল। কাজেই এখানেও কাজ করছে শোষণ থেকে মুক্তি, স্বায়ত্তশাসনের আকাংখা, জাতি বা সম্প্রদায়গত স্বার্থরক্ষার সময়োপযোগী চেতনা।
     
    পাকিস্তান যেহেতু ঠিক আদল ও ইনসাফভিত্তিক খাঁটি ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ ছিল না কাজেই তৎকালীন পরিস্থিতিতে ‘পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে’ ভীষণভাবে শোষিত-অত্যাচারিত সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালি মুসলিমদের ন্যায্য সম্মিলিত দাবির বিপক্ষে গিয়ে অবস্থান নেয়া আসলে ‘ইসলাম’ এর পক্ষের কোন অবস্থান না, বরং নিরস্ত্র অস্তিত্ব-বিপন্ন স্বজাতির অধিকার আদায়ের সর্বাত্মক গণসংগ্রামে বিদেশী সশস্ত্র ভয়ঙ্কর জালিম শোষকশ্রেণীর পক্ষাবলম্বন করা আসলে জুলুম-নির্যাতন এরই সাহায্য করা।
     
    ‘৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে সেটির অবশ্যই একটা মিমাংসা হতে হবে এবং তা না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে যে যুযূধান একটি দ্বিধাবিভক্ত গৃহযুদ্ধের সুত্রপাত হয়েছে তার অবসান হবে না। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর পর্যায়ে অবস্থান করছে। মাঝামাঝি কোন অবস্থানে থাকার সুযোগ বোধহয় এখন আর নেই।

  2. 13
    সাদাত

    যুদ্ধাপরাধের বিচার হতেই হবে, এতে কোন দল মতের প্রশ্ন নাই।

  3. 12
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আলোচনা মনে হয় বেশ দুরে চলে গেছে। যাই হোক -- এম আহাদ যদি প্রশ্নগুলো আরেকটু সংক্ষেপে করতেন তাইলে জবাব দেওয়া সহজ হতো। যাই হোক -- একটা বিষয়েই বলি --
     
    জামায়াত বাংলাদেশকে মেনে নিয়েছ এমন কোন দলিল কোথাও পাইনি। তবে যে এরা মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলে এবং পরের পাক-ভারত যুদ্ধ বলে তার প্রমান অনেক আছে। 
     
    আর জামায়াত কোন ইসলামে বিশ্বাস করে জানি না -- ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে যখন পাক বাহিনী সাধারন অস্ত্রহীন মানুষের নির্বিচারে গুলি চালালো -- তখনও কিসের ভিত্তিতে একটা ভুখন্ডের অখন্ডতা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ন হওয়ার পিছনে কোরান-সুন্নাহর কোন দলিল সমর্থন দিয়েছে -- তা জানিনা। আপনি যদি দয়া করে কোরান সুন্নাহর কোন দলিল সমর্থন করে সেনাবাহিনী অগ্নিকান্ড করবে, লাইন করে মানুষ হত্যা করে -- লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতো -- মেয়েদের ভোগের জন্যে ধরে নিয়ে যেতো -- তখন জামায়াত কোন ইসলামী আইনে একটা ভুখন্ডের অখন্ডতা রক্ষায় নামে এই জুলুমকে সক্রিয় ভাবে সমর্থন দিয়েছে?
     
    আমার দৃষ্টিতে জামায়াত বাংলাদেশের জন্মের শত্রু -- তেমনি ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনা প্রচার ও প্রসারের মাধ্যে ইসলামেরও শত্রুরা করছে। দেশ এবং বাংলাদেশের শুদ্ধ ইসলামের স্বার্থে জামায়াতের অস্তিত্ব নির্মুল জরুরী। 
     
     

    1. 12.1
      এম_আহমদ

      আমার দৃষ্টিতে জামায়াত বাংলাদেশের জন্মের শত্রু – তেমনি ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনা প্রচার ও প্রসারের মাধ্যে ইসলামেরও শত্রুরা করছে। দেশ এবং বাংলাদেশের শুদ্ধ ইসলামের স্বার্থে জামায়াতের অস্তিত্ব নির্মুল জরুরী।

      অনেক দিন পর এখানে মন্তব্য রিভিট করতে দিয়ে আপনার মন্তবটি নজরে এল। তাই একটা প্রশ্নের কসরত করছি। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি ‘জামাতিদের অস্তিত্ব’ কিভাবে ‘নির্মুল’ করবেন? ধরুণ, আপনি এমন এক শক্তিধারী ও অস্ত্রধারী পর্যায়ে আছেন যে চাইলে তাদের সবগুলোকে একত্র করে মেরে ফেলতে পারবেন, সেক্ষেত্রে আপনিন কি তাদেরকে মেরে ‘অস্তিত্ব নির্মূল’ করতে পারবেন? অথবা আপনি যদি কাউকে নির্দেশ দিয়ে একাজ করাবার পর্যায়ে থাকেন, তবে কি সে নির্দেশ দিতে পারবেন এবং দেবেন?

      1. 12.1.1
        আহমেদ শরীফ

        নির্মূল করার অর্থ হল তাদের সামাজিক-সাংষ্কৃতিক-রাজনৈতিকভাবে তীব্রভাবে বয়কট করে করে একঘরে করা, তাদের মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের বিপরীত চেতনার পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা, সর্বতোভাবে সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে তাদের ব্রাত্য করে তোলা। এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সবাইকেই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

        উদাহারণস্বরুপ যেমন একজন জিয়াভাই তাঁর নিজের অবস্থান থেকে যখন যেটুকু সম্ভব ছিল করে এসেছেন। ব্লগিং জগতে তীব্র জামায়াতবিরোধী মুক্তিযুদ্ধপক্ষীয় শক্তি ‘এ টিম’ গঠন ও প্রবলভাবে সক্রিয়করণ, সবসময় এ ব্যাপারে অনমনীয় দৃঢ় অবস্থানে থেকে নিয়মিত প্রচুর লেখালেখি, কানাডায় গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনমত গঠন ও সংগঠিতভাবে জামায়াতের বেশ কিছু উদ্যোগ পন্ড করে দেয়া এবং বেশ কিছু স্থানে তাদের কিছুতেই সংগঠিত হতে না দেয়া। এছাড়াও এ ব্যাপারে সর্বদা সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারটি নিয়ে এখনো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবে সবাই যার যার অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে সক্রিয় হলে দেশ ও জাতির নিমিত্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়াটি অল্প সময়ে অনেকদূর এগিয়ে যাবে।

        1. 12.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          @আহমেদ শরীফ:ধন্যবাব। আপনি উত্তরটা দিয়ে দিয়েছেন। নির্মূল বলতে উনি অন্ত্রপাতি নিয়ে হানাহানির বিষয়টা কিভাবে ভাবলেন! জামায়াত বাংলাদেশের যে ভাবে ক্ষতি করেছে -- তেমনি ইসলামের ক্ষতি করেছে। এতো বড় অন্যায় করারপরও এরা দু:খিত না। যতদিন জামায়াত ইসলামের আড়ালে থাকবে ততদিন বাংলাদেশের ধর্মপ্রান মুসলমানরা অসস্বস্থিতে থাকবে। জামায়াতকে রাজনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে নির্মূল করা ছাড়া বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন আগাবে না।   

  4. 11
    সত্তুক

    এম_আহমদ সাহেব, সদালাপ ট্যাগিং করার ব্লগ না, আসুন আলাপ করি, আপনি আমাদের পাঠক দের প্রশ্ন গুলির উত্তর খোলা খুলি দিয়ে জান, অনেকটা আল্লামা ইকবালের মত। মানে পাকিস্থানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবাল লিখে ছিলেন “সিকোয়া” সব মানুষ তার সিকোয়া পড়ে খেপে গেলেন, তিনি তার পর লিখলেন “জবাবে সিকোয়া” তো ভাই দয়া করে শুরু করেন, অন্যদের খবর জানি না, আমি আপনার উত্তর শুনতে আগ্রহী। কিসের জবাব বুঝতে পারছেন না? আপনি যে প্রশ্ন গুলি করেছেন, তার জবাব গুলিই আপনি নিজে দিন। যদি কোন কোন টা উত্তর জানা না থাকে, তাও দিন। আপনার করা প্রশ্ন গুলি ছিল

     সব প্রশ্নের মাঝে এগুলি প্রথমে দেখতে হবে। তাই আপনার প্রশ্নের সাথে আরও কিছু যোগ করলে কেমন হয়? হয়ত বা প্রশ্নই উত্তর হয়ে কাজ করতে পারে।১৯৭১ সালের জুলম, মাজলুম, জালেম: সবের প্রসঙ্গ বা পটভূমি কি? ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে দেশের মাটিতে কি কোন হত্যাকাণ্ড/জুলম সংগঠিত হচ্ছিল? সেখানে কি কোন কোন পক্ষ জালেম ও কোন কোন পক্ষ মাজলুম ছিল? জুলম-জালেমের পটভূমি সৃষ্টি হয় কিভাবে? স্বাধীনতা? স্বাধীনতার কথা কবে থেকে? ১৯৭১? ১৯৬৯? ১৯৬২? ১৯৫৪? ১৯৫২? ১৯৪৭? কোন কোন পক্ষ অনেক অতীত থেকে কাজ করে যাচ্ছিল? তাদের কাজের প্রকৃতি কি ডিম তা দেয়ার মত ছিল, না strategicভাবে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে? একটি রাষ্ট্রকে দ্বিখণ্ড করা বা অখণ্ড অধিকার কার? কারো একার? কোন এক দলের? কোন বিচ্ছিন্ন ‘মহাপণ্ডিতবর্গের’? কার? রাষ্ট্রকে অখণ্ড রাখার অধিকার কি নাগরিকদের আছে?  থাকলে তার জন্য সে কি যুদ্ধ করারও অধিকার রাখে? আবার এটাকে দ্বিখণ্ডিত করার অধিকারও কি নেই? এজন্য কি সে যুদ্ধ করার অধিকার রাখেনা? এখানে আইন, নৈতিকতা, অধিকার, সমাধিকার, ইত্যাদির প্রশ্ন কি আছে? থাকলে সেসব প্রশ্নের উত্তর কোন পক্ষ দেবে? একটি বিশেষ পক্ষ? কোথায় জুলম হলে তা কে নির্ধারণ করবে? যে বা যারা এসব বিষয়ের প্রাথমিক জ্ঞান রাখেনা তারা?না আমাদের মত বেবুঝ সম্প্রদায়? না বিশেষ কোন ধর্মীয় দল? না আইন?
     
     
    সাথে আগে করা প্রশ্ন তো আছেই, মানে জামাত কি মাজলুমের পক্ষ ছিল না জালেমের, স্পেসিফিক ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে।
     
    শুরু করেন ভাই, আমি নোট নিচ্ছি

    1. 11.1
      এম_আহমদ

       
       
       ভাই আপনি আমাকে চেতাচ্ছেন, তাই না? http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif   এগুলো নিয়ে লিখতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন; এগুলো আসতে হবে historiographical মৌলিক নিয়মনীতির আওতায়, সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে। কিন্তু এসব করার সময় আমার হাতে নেই। তবে এক সময় তা করার ইচ্ছা অবশ্য আছে।  সেটা পরের কথা।
      আপনি জুলুম/মাজলুমের প্রশ্ন আবার আনছেন, হয়ত চাচ্ছেন আমাকে engage করতে। সময় থাকলে হয়ে যেতাম। সংক্ষেপে, আগে যে প্রশ্নগুলি করেছি, সেগুলি লক্ষ্য করুন। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, ‘বহুবিষয়ের একত্রিভূত গাঢ়তা ও নিবিড়তা’।  যেখানে দশ পাঁচটা ইস্যু থাকে এবং ইস্যুগুলো একটি অন্যটির সাথে অন্যটির গিট দেয়া থাকে, তখন আপনকে সতর্কভাবে ইস্যু বিবেচনা করতে হয়। প্রত্যেকটি ইস্যুর ন্যায় অন্যায় তার আপন স্থান ও পরিধীতে দেখতে হয়। এই কেপাসিটি না থাকলে কোন অন্যায়ের বিরোদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেই অন্যায়কারী হয়ে পড়তে পারেন। আমি একজনকে একবার প্রশ্ন করেছিলেম, ‘ভাই আপনারা যখন ‘স্বাধীনতা বিরোধী প্রশ্ন তোলেন, তখন ‘কখনকার’ কথা বলেন?’ তিনি বললেন, ‘এই সামান্য জিনিসটি কী আপনাকে বলে দিতে হবে, ১৯৭১’। আমি বললাম, ‘ভাই তাহলে present tense –এ কথা বলেন কেন? ওরা স্বাধীনতা বিরোধী ‘ছিল’ –এভাবে বলেন না কেন?’ বললেন, ‘এত details-এ যাওয়ার কী দরকার।’
      যাক, আগের যে জুলুমের যে ইঙ্গিত করেছি সেখানেও মাজলুমের পাশে দাঁড়ানোর কথা থাকতে পারে। কোথাও ইস্যুগুলির  multi-faceted প্রকৃতির কথা ভুলে গেলে চলবে না। সেদিনের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সবাই কী মাজলুমের পাশে দাঁড়িয়েছিল? কতজন মুক্তি যুদ্ধে গিয়েছিল? ৬৫ হাজারের মত? বাকী ‘নাগরিকরা’ কোথায় ছিল? Fence –এ? অর্থাৎ মাঝখানে? কাদের সিদ্দিকী হয়ত সেদিকেই লক্ষ্য করে ‘বুদ্ধিজীবিদের’ ব্যাপার বলেছিলেন, এদের যদি এতই বুদ্ধি থাকত তাহলে ঢাকায় থাকলেন কেন? পাকিস্তানিদের বেতন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেন কেন? পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কলকব্জা তখন সেদিনের আমলারাই আগের মতই চালিয়ে যাচ্ছিল, তাই না? সেদিন যে গ্রুপ অনেক আগ থেকে মানসিক ভাবে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল তাদের জন্য national discussion ছাড়াই সে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সহজ ছিল। এখানে গ্রুপ/দলীয় psychology-ও দেখতে হবে। সেদিন প্রকাশ্যে বা গোপনে সর্বদলীয় নেতাদের মধ্যে স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনারও কোন ফুরসত আসেনি। এটা ছিল অকস্মাৎ।তাছাড়া  জামাত বিপুল জনতা কর্তৃক mandated কোন entity সেদিনও ছিল না, আজো নয়।
       
      এক সময় মাজলুমের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব প্রত্যেক ‘নাগরিকের’ উপর বর্তে। সারা দুনিয়ায় লাঠা-লাঠি না করে আপনি শুধু জিজ্ঞেস করবেন, সেদিন আপনি কোথায় ছিলেন? যুদ্ধ করেছেন? বয়স কম হলে বলবেন, আপনার বাপ-চাচারা কী মাজলুমের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন? এখানে অনেক কথা আছে রে ভাই, যা আরেক জনের ব্লগে এসে না প্যাচিয়ে বাইরে গিয়ে নিজের ব্লগেই করা উচিত। আর ধর্মীয় যে ‘দল’ এ প্রশ্নটি তোলে তাদের অবস্থান অত্যন্ত হাস্যকর।
      আপনার মজলুমের কথাজুলুম মাজলুমের প্রশ্ন উঠেছে নিত্য দিনে। এটা ধর্মীয় পরিভাষা। এটা প্রায়ই শুনা যায় প্রধানত এমন একটি দলের কাছ থেকে যারা নিজেরাই সেদিন মাজলুমের পক্ষে দাঁড়ায়নি। আরেকটি ধর্মীয় দলের offshoot এ কথাটি মাঝে মধ্যে, ভুত কসরত করে,  আওড়ায় যারা নিজেরাই সেদিন ছিল ‘রাজাকার’! এসব কথা বলতে চাইনা রে ভাই কারণ সব দলেই ফ্রেণ্ডব্ধু আছে। কোরানের ‘জিহাদি’ প্রেরণাস্থর ও দায়িত্বানুভূতির যেখানে এই ‘এই পরিভাষাটি’ স্থাপিত, প্রথম দলটির কিতাবাদিতে সে জিহাদের নামগন্ধও নেই। তারা বিশ্বের মজলুম মুসলমানদের পাশে কখনো দাঁড়িয়েছে, এমন নজির আমি দেখিনি। আজকে তাদের পক্ষে থেকে এসব কথা তোলার মূল বিষয় ‘হুব্বে আলী’ নয়, বরং ‘বুখদে আলী’, মানি তাদেরই একাংশ জামাতকে ‘মুসলমানই’ মনে করেনা, ওদের পেছনে নামাজ দূরস্ত মনে করেনা, তাই জামাতের উপর যদি কেউ মার ঢালতে আসে, তারা দেশী হোক অথবা বিদেশী, ইয়াহুদী নাসারা হলেও, ওদেরকে সমর্থন দেবে।  আমি যে কথাগুলো বলছি –এগুলোতে যদি কোন সত্যতা থেকে থাকে তবে অনুমান করতে পারেন যে বিষয়টির আবেগ কত সম্প্রদায়কে স্পর্শ করবে। আমরা যে’ই কথা বলতে যাই না কেন, তাকে সতর্ক হয়ে বলতে হবে। আমার ব্যক্তিগত পলিসি হচ্ছে মুসলমানদের সাথে বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া –আমরা সবাই ভাই ভাই হয়ে চলি, বাইরের শত্রুর দিকে তাকাই, নিজেদের প্রতি করুণা করি। এটাই কোরানী ফরমুলা, কোরান আমাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলছে, ‘রুহামা বাইনাহুম’।  আজকে হনুমানের লেজে আগুন লাগিয়ে লাভ নেই, লঙ্কাপুরীতে কেবল জামাতিদের বসবাস নয়।
      ‘অপণা মাংসে হরিণা বৈরী।’ জামাতের মাংসই হয়ত তার ছোট্ট ভোট ব্যাঙ্ক। তাই হলে, poacherদের লক্ষ্যস্থল হস্তি নয়, তার দাঁত। 
       
       
       
      ভাল থাকবেন। এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছিনা।
       

  5. 10
    জব্বার খান

    @ এম_আহমদ, ভাই আমিও হয়তো আপনার কথা বুঝতে পারিনি । তবে আমরা চাই সকল অন্যায় অত্যাচারীর বিচার হোক, মানসম্মত সঠিক বিচার পদ্ধতিতেই হোক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য না বরং দেশে সূশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইন সঠিক পথে চলুক ।

    1. 10.1
      সত্তুক

      @জব্বার খান:হূম সহ মত।
       

  6. 9
    জব্বার খান

    যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামির নেতাদের বিচার করার পর জামায়াতে ইসলামি দলটিকেও নিষিদ্ধ করা উচিত । এরপর রাজাকার নেতৃত্ব বাদ দিয়ে ভিন্ন কোন নামে রাজনীতি করতে পারলে করুক ।

  7. 8
    জব্বার খান

    ১৯৭১ সালের জুলম, মাজলুম, জালেম: সবের প্রসঙ্গ বা পটভূমি কি? ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে দেশের মাটিতে কি কোন হত্যাকাণ্ড/জুলম সংগঠিত হচ্ছিল? সেখানে কি কোন কোন পক্ষ জালেম ও কোন কোন পক্ষ মাজলুম ছিল? জুলম-জালেমের পটভূমি সৃষ্টি হয় কিভাবে? স্বাধীনতা? স্বাধীনতার কথা কবে থেকে? ১৯৭১? ১৯৬৯? ১৯৬২? ১৯৫৪? ১৯৫২? ১৯৪৭? কোন কোন পক্ষ অনেক অতীত থেকে কাজ করে যাচ্ছিল? তাদের কাজের প্রকৃতি কি ডিম তা দেয়ার মত ছিল, না strategicভাবে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে? একটি রাষ্ট্রকে দ্বিখণ্ড করা বা অখণ্ড অধিকার কার? কারো একার? কোন এক দলের? কোন বিচ্ছিন্ন ‘মহাপণ্ডিতবর্গের’? কার? রাষ্ট্রকে অখণ্ড রাখার অধিকার কি নাগরিকদের আছে?  থাকলে তার জন্য সে কি যুদ্ধ করারও অধিকার রাখে? আবার এটাকে দ্বিখণ্ডিত করার অধিকারও কি নেই? এজন্য কি সে যুদ্ধ করার অধিকার রাখেনা? এখানে আইন, নৈতিকতা, অধিকার, সমাধিকার, ইত্যাদির প্রশ্ন কি আছে? থাকলে সেসব প্রশ্নের উত্তর কোন পক্ষ দেবে? একটি বিশেষ পক্ষ? কোথায় জুলম হলে তা কে নির্ধারণ করবে? যে বা যারা এসব বিষয়ের প্রাথমিক জ্ঞান রাখেনা তারা?না আমাদের মত বেবুঝ সম্প্রদায়? না বিশেষ কোন ধর্মীয় দল? না আইন? পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য যারা যুদ্ধ করেছিল, আইনের দৃষ্টিতে যদি তা বেয়াআইনী হয়, তবে এজন্য আদালতে যাওয়া যেতে পারে। কেউ যদি জুলুম করে থাকে তবে সেটাও আইনের ব্যাপার। এ পর্যন্ত জামাতের বিপক্ষে যে অভিযোগ  দেশের একটি ‘অভিযোগ’ আর তা হল তাদের কিছু লোক যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং এর ‘সুষ্টু’ ‘ন্যায়’ বিচার সবাই প্রত্যাশা করছে।

    ভাই এম_আহমদ, আপনার লেখা আমি ‘আমার ব্লগ’ এ বোধহয় পড়েছিলাম । আপনি যেসব কথা বল্লেন, তা যদি জামায়াতে ইসলামির নেতাদেরও কথা হয় তাহলে জিয়া ভাইয়ের লেখা সব কথাই সত্য প্রমানিত হয়ে যায় ! তাহলে আপনারা মনে করছেন, পশ্চিম পাকিস্তানিরা স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে বাঙ্গালীদের সাথে কোনরুপ অন্যায়-অবিচার করেনি ! স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বাঙ্গালীদের ন্যায্য দাবীর স্বপক্ষে বিভিন্ন আন্দোলন হতে ধীরে ধীরে স্বাধীকার, স্বায়ত্তশাসন হতে স্বাধীনতা যুদ্ধে রুপ নেয়নি ! জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হবার পরও বাঙ্গালীদের হাতে শাসন ক্ষমতা না দিয়ে পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা কোনরুপ অন্যায় করেনি ! পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনৈতিক নেতা, সামরিক শাসকরা যখন প্রায় লক্ষাধিক সৈন্য নিয়ে অতর্কিতে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর গনহত্যা শুরু করলো তখন বাঙ্গালীর সেই গনহত্যা মেনে নেয়া উচিত ছিলো!, সেই সময় পাকিস্তানী হায়েনাদের সাথে যোগ দিয়ে বাঙ্গালী হত্যা করার জামায়াতে ইসলামির কর্মকান্ডও দেশপ্রেমিকের কাজ ছিলো ! মজলুম হিসাবে পশ্চিম পাকিস্তানী রাষ্ট্রযন্ত্র ও সামরিক শক্তিকে এবং জালিম হিসাবে বাঙ্গালীকে বিচার করা যায় ! এখন কি আমাদের অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করা মজলুম, মহান দেশপ্রেমিক, ইসলামের সেবক জামায়াতে ইসলামিকে সমর্থন না করা সকল বাঙ্গালী দূর্ষ্কৃতি, বিচ্ছিন্নতাবাদী, গাদ্দার তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং তাদের সমর্থকদের ইসলামিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসাবে কাফির ঘোষনা করা উচিত ? যেহেতু আমরা এসব বিষয়ে কোন জ্ঞান সেহেতু আশা করছি আপনি জ্ঞানী মানুষ সঠিক একটা ফতোয়া দেবেন।
     

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      হ্যাঁ ভাই, আমি একথাগুলো ‘আমার ব্লগে’ লিখেছি অনেকবার। তবে এখানে আলোচনার মূল স্থান কোথায় –সে পার্থক্যে আমরা লক্ষ্য পারছি বলে মনে হয়না। আপনার উত্তর মূলত আমার আগের প্রশ্নগুলিতেই রয়েছে, নতুন কিছু লিখার দরকার নেই। তবে এতটুকু বলা যেতে পারে  যে সব ব্যাপারে interlined and overlapping issues থাকে সেগুলির nature সামনে না রেখে কেবল কথা বাড়াতে থাকলে কিয়ামত পর্যন্ত কোন বিষয়ের সঠিক আলোচনা হবেনা। আপনি এখানে যত কথা বলেছেন তার কোনটির স্থান আমি বুঝতে পেরেছি বলে মনে হয় না। এগুলো আপনার কথা, যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই বলতে পারেন। তবে আপনি যদি এগুলো এজন্য লিখে থাকেন যে আমার আগের ও পরের লিখা জিয়া ভাইয়ের লেখার সত্যতা প্রমাণ করে যায়, তাহলে তো একদিক থেকে ভালই হয়েছে। অন্তত অবগতির একটা সুখও তো আমি পেতে পারি।
      আর আপনি ফতোয়া চাওয়ার আগে যেসব কথা লিখেছেন তার সাথেও আমি একমত নই। এগুলো মূল আলোচনা থেকে অনেক দূরে। এখানে ফতোয়ার কোন বিষয় নেই। জিয়া ভাইয়ের কথা যদি সঠিক হয় তাহলে এভাবেই চালিয়ে যাওয়া হোক। পদ্ধতি সঠিক হলে জামাত নিঃচিহ্ন হয়ে যাবে, এবং এতেই জাতীয় সমস্যার সমাধান হবে, জাতি পবিত্র হবে। হাজার দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও একটি পবিত্র জাতি পবিত্র হোক –একথায় তো দ্বিমত থাকতে পারেনা।
      ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  8. 7
    সরোয়ার

    জাতির অর্ধেক অংশ নিয়ে গঠিত বিএনপি জামাতের সাথে জোটে আছে, অর্থাৎ জাতির অর্ধেক অংশ জামাতকে মেনে নিয়েছে, এরাও কী ১৯৭১ শত্রু?

    এভাবে জেনালাইজড করলে বলা যায়, যারা ইসলাম পালন করে তারা জমাত সাপোর্ট করে!!! আর যারা আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে তারা সবাই সেকুলার অথবা নাস্তিক অথবা কাফের !!! ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে জামাতিরা ইসলামের ঠিকাদারী নিয়েছে!  এভাবে সরলিকরণ করে জামাতিরা তাদের গুরুতর আপরাধকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত ধোঁকায় লিপ্ত আছে, যাতে ব্যাপক বিনোদন!  এক ধোঁকাবাজ বিএনপি আরেক ধোঁকাবাজ জামাতির মিত্র। এখন দেখা যাক, এই স্বার্থসর্বস্ব বন্ধুত্ব কতদিন বজায় থাকে! 
     

    1. 7.1
      সত্তুক

      পলিটিসিয়ান দিন শেষ পলটি বাজই বের হবে, আমার কাছে আওয়ামীলীগের মত ইতর সর্বশ দল কে কোন দিন সাপোর্ট করতাম মনে হলেই জিদ লাগে। এদের আচার আচরণ, ব্যবহার গন মানুষের বিরুধি, আর বি এন পি জামাত এর কথা তো আপনিই বলেছেন। আমরা প্রবল ভাবে নৈতিক নেত্রিত্তর সঙ্কটে আছি।
      আমার এখন সব কিছুকেই ধোকা বাজী লাগে, আমার এক স্যার ছিলেন ফিজিক্সের, তিনি এক দিন এ কথা টা বলেছিলেন, পলিটিসিয়ান দিন শেষ পলটি বাজই বের হবে, সত্য মিথ্যা জানি না, কিন্তু বলেছিলেন, হোসেন শহীদ সরোয়ারদি ভাষা আন্দোলন করে, কিন্তু নিজের ছেলে মেয়ে গুলিকে পড়ায় ঊরধু আর ইংরেজি মিডিয়ামে, দিন শেষে সব নেতার অবস্থাই ভাল থাকে, আর জনগণ জাতা কলে পিষে, চ্যরা-চিপ্টা হয়ে যায়।
      আমরা পাকিস্থান থেকে আলাদা হয়েছিলাম কেন?? অবজেক্টিভ কি ছিল? আমি যা বুঝি, তা ছিল এই যে, সম্মানের সাথে, দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হওয়া থেকে মুক্তিই ছিল, জন মানুষের দাবী, আজ এই ইতর গণতন্ত্রর নামধারী রাজনৈতিক দল গুলি আমাদের সেই পাকি জুলুম ই সওয়াচ্ছে। আমি আসলেই ঘৃণা করি এদের, এরা অধমেরও অধম।
      সাধারণ জনগণের অধিকার, মান সম্মান, আজ ধুলায় লুটায়, আর অন্ধ জাতি হয়ে আমরা ২ ব্যক্তির(তারা যতই মহান হোক) পুজায় মেতেছি, আসলে জনগণ মাতে নি, মেতেছে ঐ ২ দল, তাদের সাথে করে দেশের বড় ২ গন শত্রু দল নিয়ে, জাতীয় পার্টি আর জামাত।
      আমরা সম্মান নিয়ে মাথা উচু করে, স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই। যা তারা দিতে ইচ্ছুক নয়।

    2. 7.2
      এম_আহমদ

      জাতির অর্ধেক অংশ নিয়ে গঠিত বিএনপি জামাতের সাথে জোটে আছে, অর্থাৎ জাতির অর্ধেক অংশ জামাতকে মেনে নিয়েছে, এরাও কী ১৯৭১ শত্রু?

       
      আপনার ১ম মন্তব্য: ‘এভাবে জেনালাইজড করলে বলা যায়, যারা ইসলাম পালন করে তারা জমাত সাপোর্ট করে!!!’
      উত্তর: এখানে কোন generalisation হয়নি, বরং রাজনৈতিক ময়দানের বাস্তবতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় এটাকে বর্ধিত করে বলা যেতে পারে যে জামাত বাংলাদেশের গঠনতান্ত্রিক বিধি মোতাবেক ও ইলেকশন কমিশনের নীতিমালা মেনে ও নিবন্ধিত হয়ে রাজনীতি করছে এবং এমনই একটি দলের সাথের বিএনপি জোট করেছে এবং এই জোটের প্রেক্ষিতেই নেতা-কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে, বিগত দুইবার ইলেকশন করেছে এবং এখনো সবাই সেই আছে দেখতে পাচ্ছি।
      [আর] ‘যারা ইসলাম করে তারা জামাত সাপোর্ট করে’ –এই উদ্ভট কথাটির স্থান আমার উদ্ধৃতিতে নেই। বিএনপি ইসলামের অথবা গণতন্ত্রের একমাত্র কোন কর্ণধার নয়, তাদের সাথে জোট করলেই কোন দল উল্লেখিত দুটি বিষয়ের কর্ণধার হতে পারে। আপনার এসব বেখাপ্পা কথার কী যে কারণ বুঝতে পারছিনা। 
      আপনার ২য় মন্তব্য: আর যারা আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে তারা সবাই সেকুলার অথবা নাস্তিক অথবা কাফের !!!
      উত্তর: এমন কোন কথার স্থান আমার বক্তব্যে নেই।
      আপনার ৩য় মন্তব্য: ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে জামাতিরা ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে!
      উত্তর: আপনি কার ‘ভাবখানার’ কথা বলছেন এবং সে ভাবখানা কীভাবে জামাতিদেরকে ইসলামের ঠিকাদার বানাচ্ছে?
      আপনার ৪র্থ মন্তব্য: এভাবে সরলীকরণ করে জামাতিরা তাদের গুরুতর অপরাধকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত ধোঁকায় লিপ্ত আছে, যাতে ব্যাপক বিনোদন! 
      উত্তর: যদি যুদ্ধের ময়দানের বাইরে গিয়ে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসাত্মক কাজ কেউ করে থাকে অর্থাৎ জামাতের যাদের উপর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এসেছে, তাদের অপরাধ যদি মূল কথা তাহলে তাদের বিচার তো হচ্ছেই। এর পর আর কোন অপরাধ বাধি থাকে যাকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত’ হয় এবং ধোঁকায় থাকার মত হয়?
      আপনার ম৫ম মন্তব্য: এক ধোঁকাবাজ বিএনপি আরেক ধোঁকাবাজ জামাতির মিত্র। এখন দেখা যাক, এই স্বার্থসর্বস্ব বন্ধুত্ব কতদিন বজায় থাকে!
      উত্তর: এটা আপনার অভিমত। you have the right to hold any view you wish.
       
      আমার মনে হয় জামাতের ব্যাপারে আপনার অনেক অভিযোগ উষ্মা আছে, তবে সেগুলো আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমার বক্তব্যকে আপনার উষ্মা প্রকাশের prop হিসেবে ব্যবহার না করলেই বরং খুশী হবো। আর আপনি যদি আমাকে জামাতি মনে করে অনর্থকভাবে এগুলো বলে থাকেন, তবে আপনাকে অগ্রেই বলে রাখি যে আমি জামাতি নই, যাতে এধরনের mistake না হয়, অথবা অসংলগ্ন কথায় যেতে না হয়।   

  9. 6
    আবদুস সামাদ

    আমি রাজনীতি বুঝিনা। ভোটের সময় যাকে ভাল বলে মনে করতাম (যে দলেরই হোক) তাকেই ভোট দিতাম। আজ প্রায় দেড় যুগ সেটাও হয়না, কারণ বাইরে থাকি। বিদেশে বসে রাজনীতি বা দল নিয়ে দলাদলি করে মানুষ কি ফায়দা পায় তাও মোটা মাথায় ঢোকেনা। তবে, সবার কাছে আমার এটা বিষয়ে জানতে ইচ্ছা করে তা হল আমাদের বাপ-দাদারা বৃটিশের সাথে লড়াই করে পূর্ব বাংলার মুসলিমদের, হিন্দু জমিদার, মহাজনদের কবল থেকে বাঁচাবার জন্যে এই অঞ্চলটাকে মুসলিমদের এলাকায় শামিল করে কি অন্যায় করে ছিলেন? (পাকিস্তানের সাথেই থাকতে হবে তা আমি মনে করিনা)। যদি অন্যায় করে থাকেন তবে তাদের মরনোত্তর বিচার হতে হবে। কারণ অবস্থা দেখে মনে হয়, তারা আমাদের ভারত প্রেমে ভাঁটা এনে দিয়েছেন। আর যদি অন্যায় না করে থাকেন, তাহলে আসুন আমরা তাদের উদ্দেশ্য সফল করে মুসলিম হয়ে দেশটাকে সেইমত তৈরী করে বাস করি। এই সাথে বলে রাখা দরকার, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, জাকাত ঠিক ঠিক পালনই ইসলাম নয়। ইসলাম আরও বড় কিছু। তারজন্য একটা ইসলামী সংগঠন অবশ্যই দরকার। খোঁজ করে দেখুন,নয়তো বানাবার চেষ্টা করুন। আর আসুন প্রকৃত ইসলাম কে চেনার ও শেখার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ।

  10. 5
    এম_আহমদ

    আপনার ব্লগটিতে ইসলামের ওয়াজ মিম্বার থেকে যেভাবে করা হয়, দেশ জাতি ও স্বাধীনতা নিয়ে সেভাবেই কিছু প্রতিষ্ঠিত sentiments ব্যক্ত করা হয়ে গেল। এখানে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক বা জাতীয় সমস্যার জটিলতার উপর কোন আলোকপাত হয়নি। বরং একটি বিশেষ দলের লোকেরা রাস্তাঘাটে প্রত্যেহ যেভাবে কথা বলে আর যে ধরনের আস্ফালনি উষ্মা প্রকাশ করে এখানে তাত্থেকে সামান্যতম নতুন কিছু দেখানো হয়েছে বলে অনুভূত হয়নি। বলে ফেললাম বলে মনে কিছু নেবেননা। মাফ করবেন।   
    (১) “জামায়াত ছাড়া বাকী সবগুলো দলই বাংলাদেশের বিজয় তথা নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে বিভিন্ন ধারার রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করে – আর দলগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং জামায়াত ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না।” বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অথবা অন্য কোন ধারায় চলে যাওয়াই কী স্বাধীনতাকে মানার নামান্তর হয়? জামাত কোন কাজটি করলে আপনার স্ট্যাণ্ডারর্ডে স্বাধীনতা মানা হবে, একথাটি ব্যাখ্যা করলে খুশি হবো।
    (২) “কিন্তু জামায়াত আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অস্তিত্বকে মেনে নেয়নি যদিও জামায়াতের নবীন সদস্য – শিবিরেরকর্মীদের একটা ধারনা দেওয়া হয় যে এরা বাংলাদেশেক মেনে নিয়েছে – কিন্তু শিবিরে দলীয় পতাকায় চাঁদ-তারার প্রতীক কিন্তু তা বলে না।”
    কোন দল, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন তাদের নিজেদের পতাকায় কোন প্রতীক গ্রহণ করলো তা’ই কী আপনার দৃষ্টিতে জাতির অস্তিত্ব মানা না মানার প্রতীক হয়ে পড়ে? আপনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ধারণাতা কী এই যে জামাত আর শিবির বাংলাদেশকে পাকিস্তান করে নিচ্ছে?
    (৩) আপনার পিছনের যাওয়ার যে এবারত ব্যক্ত করেছেন তার সবটুকু শুদ্ধ বলে মনে হয়না। গোলাম আজব শান্তি কমিটির মিটিংগে পাকিস্তান যান। ১৯৭১ এর ডিসেম্বরের ১৩/১৪ বা এমন কোন তারিখে বাংলাদেশে ফিরলে তার বিমান ঢাকায় অবতরণ করতে পারেনি। কারণ গুলাগুলি হচ্ছিল।  ব্যর্থ হয়ে বিমান জেদ্দায় ফিরে যায় এবং গোলাম আজম সেখানে থেকে যান। পরে ইংল্যাণ্ড আসেন। জামায়াতের “বিরাট অংশের” যে নেতারা পাকিস্তানে 'পালিয়ে' যায় তাদের একটি লিষ্ট দেইয়া যাবে কি? আপনি হয়ত পরের কথা বলছেন অর্থাৎ অখণ্ড পাকিস্তানের যেসব পশ্চিম পাকিস্তানী জামাতি নেতা পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন তাদের কথা। এদের মধ্যে খুররম জাহ মুরাদ বা এমন পর্যায়ের নেতার কথা বলছেন, এরা তো বাঙালী নন। আমরা যারা বিদেশী থাকি তারা দেশীদের কাছ থাকে নির্ভুল তথ্য পেতে আশা রাখি। আমার আশা ছিল যে দলগতভাবে আপনি যেদিকেই থাকেননা কেন, ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে নিরোপেক্ষ তাথ্যিক আলোচনা করবেন, কিন্তু তা এখানে হল কী তা, তাতে দারুণ সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। তাছাড়া আমার পাঠমতে গোলাম আজম ১৯৭৮ সালে জুন/জুলাই মাসে বাংলাদেশে ফিরেন। একটু চেক করতে পারেন।
    আপনি ব্লগটিতে যেসব কথার অবতারনা করেছেন তার মানিটা কি?  (৪) বাংলাদেশের ৯/১০% লোক জামাতি, এদের সংখ্যা লাখে লাখ। কারা স্বাধীনতা বুঝে আর কারা বুঝেনা, এ সবক কোন বাঙ্গালাদেশী কাদেরকে দেবে? (৫) নাগরিকত্বের অধিকার কারো চাইতে কারো কী বেশী?  যদি ধরনের  প্রশ্ন করাতে সমস্যা থেকে থাকে, তবে এগুলোই প্রকৃত সমস্যা এবং এই সমস্যাগুলোর intelligent discussion বিজ্ঞদের কাছ থেকে আসতে হবে। যে বিরাট জনগোষ্ঠী জামাতি রাজনীতি করে তাদেরকে বিষদগার করে, গালাগালি করে, মনের ঝাল মিটিয়ে কোন পক্ষের কী কোন লাভ আছে? আমার তো বলে মনে হয়না।
    (৬) জামাতির সাথে সম্পৃক্ত এক বিরাট জনগোষ্ঠীর পাশে আরেকটি পক্ষের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর তারা হল  অন্যদিকে “সামরিক বাহিনীর মধ্যে থাকা পাকিস্তানপন্থী আর সিভিল প্রশাসনে থাকা আমলারা।” তারা “জামায়াতের পূর্নবাসনে সহযোগিতা করেছে।” এদেরকে আপনি কী করবেন? জাতির মিত্র কে, আওয়ামীগ? বামপন্থি রাজনীতির এতিম দল? বিএনপি? আপনার মিত্র কারা? বাংলাদেশের একমাত্র শত্রু কি জামাত? জাতির অর্ধেক অংশ নিয়ে গঠিত বিএনপি জামাতের সাথে জোটে আছে, অর্থাৎ জাতির অর্ধেক অংশ জামাতকে মেনে নিয়েছে, এরাও কী ১৯৭১ শত্রু? এখানে যেসব প্রশ্নের অবতারনা করছি, এগুলি যদি জাতীয় পরিস্থিতির জটিল বাস্তবতার প্রেক্ষিতে হয়, তবে যে কোন তাত্তিক আলোচনা এসবের উত্তরে যেতে হবে। কেবল যক্তিসংগত আলোচনা সম্মুখের পথ খোলতে পারে।
     

    1. 5.1
      সত্তুক

       জাতির অর্ধেক অংশ নিয়ে গঠিত বিএনপি জামাতের সাথে জোটে আছে, অর্থাৎ জাতির অর্ধেক অংশ জামাতকে মেনে নিয়েছে
      আমি গ্যলারিতে বসলাম। আশা করছি প্রোডাক্টিভ কিছু জানব।
       ওয়েটিং

    2. 5.2
      শামস

      বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অথবা অন্য কোন ধারায় চলে যাওয়াই কী স্বাধীনতাকে মানার নামান্তর হয়? জামাত কোন কাজটি করলে আপনার স্ট্যাণ্ডারর্ডে স্বাধীনতা মানা হবে, একথাটি ব্যাখ্যা করলে খুশি হবো।

      বিলুপ্ত হলে স্বাধীনতা মানা না মানার প্রশ্ন আসে না। আর অন্য ধারায় চলে গেলে সমষ্টিগতভাবে স্বাধীনতার বিরোধীতা করার মত শক্তি থাকে না, যা জামাতের আছে ও করছে। আপনার দ্বিতীয় লাইনের ব্যাপারে, আগে উলটা প্রশ্ন করে জানতে হবে, জামাত কি ৭১'এ মজলুম নাকি জুলুমবাজদের পক্ষ নিয়েছিল? তা ইসলামের কোন নীতি মেনে? সেসময়ের পেপার কাটিং ই বলে তাদের অবস্থান। তারা কি ৭১'এ পাকিস্তানী বাহিনীর মজলুমের প্রতি এত অত্যাচার দেখেও একটি ইসলামী সংগঠন হিসাবে প্রতিবাদ করেছিল? আর সবশেষে, তারা কি এখনও অনুতপ্ত, আর যদি অনুতপ্ত হয়ই তাহলে তা কিভাবে বুঝা যাবে?
      ধন্যবাদ।
       

      1. 5.2.1
        এম_আহমদ

        বিলুপ্ত হলে স্বাধীনতা মানা না মানার প্রশ্ন আসে না। আর অন্য ধারায় চলে গেলে সমষ্টিগতভাবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার মত শক্তি থাকে না, যা জামাতের আছে ও করছে।
         

        ১। প্রথমত স্বাধীনতা বিরোধী কাজ হচ্ছে treason. আপনাকে দেশের গঠনতন্ত্র ও দেশের প্রচলিত আইন থেকে স্বাধীনতা বিরোধী treason-এর একটা সংজ্ঞা তুলে ধরতে হবে। তারপর জামাত কীভাবে সেগুলি ভঙ্গ করে যাচ্ছে তার একটা ফিরিস্তি দিতে হবে। তারপর আপনি যদি মনে করেন তারা treason করে যাচ্ছে, আর দেশের পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনী তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাহলে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আপনি নিজেই সে কাজগুলি তাদের দৃষ্টিগোচর করতে হবে। না হলে আপনারটাও হবে treason. কিন্তু মূলত যদি এ বিষয়ের কোন স্থান না থাকে তবে ধরে নিতে হবে কোথায় মিথ্যাচার হচ্ছে, প্রপাগাণ্ডা হচ্ছে।
         

        জামাত কি ৭১'এ মজলুম নাকি জুলুমবাজদের পক্ষ নিয়েছিল? তা ইসলামের কোন নীতি মেনে? সেসময়ের পেপার কাটিং ই বলে তাদের অবস্থান।

         
        ২। যেসব বিষয়ে অনেক অনেক প্রশ্ন রয়েছে, সেখানেগুলি প্রশ্ন একপাশে রেখে, নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সেলেক্ট করে আলোচনা করার আহবানে এক ধরনের বিশেষ সিদ্ধান্ত কাজ করতে পারে। সব প্রশ্নের মাঝে এগুলি প্রথমে দেখতে হবে। তাই আপনার প্রশ্নের সাথে আরও কিছু যোগ করলে কেমন হয়? হয়ত বা প্রশ্নই উত্তর হয়ে কাজ করতে পারে।
         
        ১৯৭১ সালের জুলম, মাজলুম, জালেম: সবের প্রসঙ্গ বা পটভূমি কি? ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে দেশের মাটিতে কি কোন হত্যাকাণ্ড/জুলম সংগঠিত হচ্ছিল? সেখানে কি কোন কোন পক্ষ জালেম ও কোন কোন পক্ষ মাজলুম ছিল? জুলম-জালেমের পটভূমি সৃষ্টি হয় কিভাবে? স্বাধীনতা? স্বাধীনতার কথা কবে থেকে? ১৯৭১? ১৯৬৯? ১৯৬২? ১৯৫৪? ১৯৫২? ১৯৪৭? কোন কোন পক্ষ অনেক অতীত থেকে কাজ করে যাচ্ছিল? তাদের কাজের প্রকৃতি কি ডিম তা দেয়ার মত ছিল, না strategicভাবে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে?
         
        একটি রাষ্ট্রকে দ্বিখণ্ড করা বা অখণ্ড অধিকার কার? কারো একার? কোন এক দলের? কোন বিচ্ছিন্ন ‘মহাপণ্ডিতবর্গের’? কার? রাষ্ট্রকে অখণ্ড রাখার অধিকার কি নাগরিকদের আছে?  থাকলে তার জন্য সে কি যুদ্ধ করারও অধিকার রাখে? আবার এটাকে দ্বিখণ্ডিত করার অধিকারও কি নেই? এজন্য কি সে যুদ্ধ করার অধিকার রাখেনা? এখানে আইন, নৈতিকতা, অধিকার, সমাধিকার, ইত্যাদির প্রশ্ন কি আছে? থাকলে সেসব প্রশ্নের উত্তর কোন পক্ষ দেবে? একটি বিশেষ পক্ষ? কোথায় জুলম হলে তা কে নির্ধারণ করবে? যে বা যারা এসব বিষয়ের প্রাথমিক জ্ঞান রাখেনা তারা?না আমাদের মত বেবুঝ সম্প্রদায়? না বিশেষ কোন ধর্মীয় দল? না আইন?
         
        পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য যারা যুদ্ধ করেছিল, আইনের দৃষ্টিতে যদি তা বেয়াআইনী হয়, তবে এজন্য আদালতে যাওয়া যেতে পারে। কেউ যদি জুলুম করে থাকে তবে সেটাও আইনের ব্যাপার। এ পর্যন্ত জামাতের বিপক্ষে যে অভিযোগ  দেশের একটি ‘অভিযোগ’ আর তা হল তাদের কিছু লোক যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং এর ‘সুষ্টু’ ‘ন্যায়’ বিচার সবাই প্রত্যাশা করছে।
         
        ৩। দৈনিক কাগজের রিপোর্টিং যদি বাস্তবতা নিরিখের একমাত্র উপায় হয়, তবে এ বিষয়ে আমার বলার কিছুই।
        বিলুপ্ত হলে স্বাধীনতা মানা না মানার প্রশ্ন আসে না। আর অন্য ধারায় চলে গেলে সমষ্টিগতভাবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার মত শক্তি থাকে না, যা জামাতের আছে ও করছে।
         
        ১। প্রথমত স্বাধীনতা বিরোধী কাজ হচ্ছে treason. আপনাকে দেশের গঠনতন্ত্র ও দেশের প্রচলিত আইন থেকে স্বাধীনতা বিরোধী treason-এর একটা সংজ্ঞা তুলে ধরতে হবে। তারপর জামাত কীভাবে সেগুলি ভঙ্গ করে যাচ্ছে তার একটা ফিরিস্তি দিতে হবে। তারপর আপনি যদি মনে করেন তারা treason করে যাচ্ছে, আর দেশের পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনী তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাহলে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আপনি নিজেই সে কাজগুলি তাদের দৃষ্টিগোচর করতে হবে। না হলে আপনারটাও হবে treason. কিন্তু মূলত যদি এ বিষয়ের কোন স্থান না থাকে তবে ধরে নিতে হবে কোথায় মিথ্যাচার হচ্ছে, প্রপাগাণ্ডা হচ্ছে।
        জামাত কি ৭১'এ মজলুম নাকি জুলুমবাজদের পক্ষ নিয়েছিল? তা ইসলামের কোন নীতি মেনে? সেসময়ের পেপার কাটিং ই বলে তাদের অবস্থান।
         
        ২। যেসব বিষয়ে অনেক অনেক প্রশ্ন রয়েছে, সেখানেগুলি প্রশ্ন একপাশে রেখে, নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সেলেক্ট করে আলোচনা করার আহবানে এক ধরনের বিশেষ সিদ্ধান্ত কাজ করতে পারে। সব প্রশ্নের মাঝে এগুলি প্রথমে দেখতে হবে। তাই আপনার প্রশ্নের সাথে আরও কিছু যোগ করলে কেমন হয়? হয়ত বা প্রশ্নই উত্তর হয়ে কাজ করতে পারে।
        ১৯৭১ সালের জুলম, মাজলুম, জালেম: সবের প্রসঙ্গ বা পটভূমি কি? ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে দেশের মাটিতে কি কোন হত্যাকাণ্ড/জুলম সংগঠিত হচ্ছিল? সেখানে কি কোন কোন পক্ষ জালেম ও কোন কোন পক্ষ মাজলুম ছিল? জুলম-জালেমের পটভূমি সৃষ্টি হয় কিভাবে? স্বাধীনতা? স্বাধীনতার কথা কবে থেকে? ১৯৭১? ১৯৬৯? ১৯৬২? ১৯৫৪? ১৯৫২? ১৯৪৭? কোন কোন পক্ষ অনেক অতীত থেকে কাজ করে যাচ্ছিল? তাদের কাজের প্রকৃতি কি ডিম তা দেয়ার মত ছিল, না strategicভাবে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে?
         
        একটি রাষ্ট্রকে দ্বিখণ্ড করা বা অখণ্ড অধিকার কার? কারো একার? কোন এক দলের? কোন বিচ্ছিন্ন ‘মহাপণ্ডিতবর্গের’? কার? রাষ্ট্রকে অখণ্ড রাখার অধিকার কি নাগরিকদের আছে?  থাকলে তার জন্য সে কি যুদ্ধ করারও অধিকার রাখে? আবার এটাকে দ্বিখণ্ডিত করার অধিকারও কি নেই? এজন্য কি সে যুদ্ধ করার অধিকার রাখেনা? এখানে আইন, নৈতিকতা, অধিকার, সমাধিকার, ইত্যাদির প্রশ্ন কি আছে? থাকলে সেসব প্রশ্নের উত্তর কোন পক্ষ দেবে? একটি বিশেষ পক্ষ? কোথায় জুলম হলে তা কে নির্ধারণ করবে? যে বা যারা এসব বিষয়ের প্রাথমিক জ্ঞান রাখেনা তারা?না আমাদের মত বেবুঝ সম্প্রদায়? না বিশেষ কোন ধর্মীয় দল? না আইন?
         
        পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য যারা যুদ্ধ করেছিল, আইনের দৃষ্টিতে যদি তা বেয়াআইনী হয়, তবে এজন্য আদালতে যাওয়া যেতে পারে। কেউ যদি জুলুম করে থাকে তবে সেটাও আইনের ব্যাপার। এ পর্যন্ত জামাতের বিপক্ষে যে অভিযোগ  দেশের একটি ‘অভিযোগ’ আর তা হল তাদের কিছু লোক যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং এর ‘সুষ্টু’ ‘ন্যায়’ বিচার সবাই প্রত্যাশা করছে।
         
        ৩। দৈনিক কাগজের রিপোর্টিং যদি বাস্তবতা নিরিখের একমাত্র উপায় হয়, তবে এ বিষয়ে আমার বলার কিছুই।

        1. 5.2.1.1
          সত্তুক

          @এম_আহমদ: কই ভাই জান । উত্তর দেন না কেন?
          দেখন আপনার জন্য কত বড় প্রশ্ন রেখে দিছি, নিচে দেখন।

  11. 4
    জব্বার খান

    বিজয়ের মাসে আমাদের বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে যেন আমাদের শত্রুদের উপর থেকে চোখ না সরাই – ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের সন্মানকে যে আমরা কখনও আর অবজ্ঞাকারীদের হাতে ছেড়ে না দেই। ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই-এ ইম্পাত দৃঢ় অবস্থান নিতে কুন্ঠিত না হই। রাজনীতির কুটচাল যে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আবারো দেশের ইতিহাস থেকে দূরে না রাখে – যেন নতুন প্রজন্ম জাতির শহীদদের সর্বোচ্চ সন্মান আর বীরদের নিয়ে গর্ব করাকে নিজেদের পরিচয় হিসাবে প্রকাশ করে।

    এই দায়িত্ব যেমন বর্তমান সরকারের তেমনি দেশপ্রেমিক সকল জনগনের। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে জামায়াতে ইসলামির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব, কেননা জামায়াতের অর্থ-প্রভাব যতটুকুই থাকুকনা কেন সত্যিকারের জনসমর্থন খুবই কম। সঠিক প্রক্রিয়ায় বিচারকার্য সম্পন্ন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে আওয়ামী লীগের জন্যও অনেক বড় অর্জন হিসাবে সবাই মানতে বাধ্য হবে।

  12. 3
    সরোয়ার

    অন্যদিকে ছাত্র শিবিরের বিষয়েও বলা যায় – প্রবল ঘৃনার আবাদ হয় ওদের রাজনীতিতে। কাকে কিভাবে ঘুনা করতে হবে তারই চর্চা করে এরা প্রচন্ড একমুখী চিন্তার একটা সহযোগী সংগঠন তৈরী করেছে – যারা মুলত জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের রক্ষা করাকেই ইসলাম রক্ষা হিসাবে দেখে।

    কঠিন পর্যবেক্ষন।  অনেকে আবার ইনিয়ে-বিনিয়ে যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে। দিনে দুপরে  অন্যায় করেছে, এটাকে অস্বীকার করতেই প্রশ্ন করে। এরা নিজেদেরকে  আবর বিশ্বের ব্রাদারহুড ভেবে মেকি আনন্দ লাভ কর!
     

  13. 2
    কিন্তু মানব

    আমদের এখন কি করনীয় হতে পারে বলে মনে করেন?
    বর্তমান আওয়ামীলীগ বা বি এন পি, জামায়াত এর কোন বিচার করবে না, তাহলে বিচারের পথ কি?
    আমি এমন একজন কে জানি, যিনি প্রতিনিয়ত গোলাম আজমের দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া করেন। কেন জানেন, বাঙ্গালীরা যেন রাজ পথে ওকে ল্টকিয়ে দিতে পারে, তিনি কি তার আশা পুরন হতে দেখবেন?? আমি সন্দিহান।
    সুন্দর পোস্ট।

  14. 1
    শামস

    এখনও কি জামায়াত বাংলাদেশের জন্ম মেনে নিয়েছে? উত্তর হলো না।

    একাত্তরের জন্য তারা অনুতপ্তও না। কিন্তু বাস্তবতাকে তারাও পড়তে অক্ষম। আর সেজন্যই এতো সংগঠিত থেকেও রাজনীতিতে তাদের অবস্থান তলানীতে।
    অর্থ একটা বিশাল ফ্যাক্টর, সব কিছু কিনে ফেলা যায়, আর তারা সেটা করছেও। জামাত অনেক টাকার মালিক ও সেটাকাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে তা ঠিক। তারা হাসপাতাল, ব্যাঙ্কসহ অনেক লাভজনক প্রতিষ্ঠানও করছে। তাদেরকে ধরতে হলে সেই বিকল্প ব্যবস্থাটা প্রতিষ্ঠা করাটা প্রয়োজন, কিন্তু সেরকমতো কিছু দেখা যায় না। জামাতকে ধরার জন্য সেই শক্তি অর্জন না করতে পারলে, অর্জন আসলে কতটুকু হবে! সেই শক্তি নাই বলেইতো তারা ইচ্ছেমত সবকিছুকে তাদের অনুকুলে নিয়ে নিতে পারছে। তবে কতদিন সেভাবে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      নৈতিকতাবিহীন রাজনীতিতে জামায়াত পুরো সুবিধা নিচ্ছে -- কিন্তু নতুন প্রজন্ম সে্ই সুবিধা দেবে না মনে হয়।  

Comments have been disabled.