«

»

Dec ১৪

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঘাতকদের বিচারের দাবী করছি


গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের – ঘাতকদের অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করার দাবী করছি

আজ ১৪ই ডিসেম্বর ২০১১। আজ থেকে ৪০ বছর আগে এমনই দিনে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারায় পাকিস্তানী হায়না আর তার দেশীয় দোসর আল বদরদের হাতে। বিজয়ে দ্বার প্রান্তে এসে জাতির এই সর্বনাশ যারা করেছে তাদের অনেকেই বেঁচে আছে ঔদ্ধত্যের সাথে নিজের কৃতকর্মকে জায়েজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতি একটা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঘাতকদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অত্যান্ত বেদনার সাথে দেখি – একদল মানুষ সেই বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। খুবই লজ্জার কথা যে – সামরিক শাসকদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে গড়ে উঠা স্বাধীনতা বিরোধীদের সংগঠন জামাত-শিবির সরাসরি হুমকী হয়ে উঠেছে দেশের অস্তিত্বের। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঘাতকদের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধের বিকল্প নাই। শিক্ষা ক্ষেত্রে – অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এরা হুমকীর কারন হয়ে দাড়িয়েছে। দেশকে জংগীমুক্ত করার জন্যে -দেশকে অনর্থক হানাহানি থেকে মুক্ত রাখার জন্যে দেশকে রাজাকারিতা থেকে মুক্তি প্রয়োজন।

(২)
কারা বুদ্ধিজীবি হত্যার সাথে জড়িত ছিলো তা এখন সবার কাছে পরিষ্কার। জামায়াতের মুখপাত্র ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামে
পাতাগুলো সকল বিষয়ের স্বাক্ষী হয়ে আছে। তেমনি একটা খবর দেখুন যেখানে – গোলাম আজম কিভাবে বিরুদ্ধপক্ষকে নির্মূল করার কথা বলছে। বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচারের দাবী উঠেছিলো ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর। শত্রু মুক্ত বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকেই বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচারের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বুদ্ধিজীবি হত্যার বিষয়টি তদন্ত করার জন্যে শহীদ জহির রায়হানকে প্রধান করে একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি কাজ শুরু করতেই জহির রায়হানকে নিঁখোজ হন। জহির রায়হানের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান নির্দেশ দিলেও দুঃখজনক ভাবে সেই রিপোর্ট কখনও প্রকাশিত হয়নি।

সেই সময় ডঃ আজাদকে হত্যার অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়া হয়। কিন্তু সেই মামলার পরিনতি সম্পর্কে পরে কিছু জানা যায়নি।

ড. আলীম চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগে আল-বদর আব্দুল মান্নান ( মাওলানা ও ইনকিলাবের মালিক) কে গ্রেফতার করা হলেও রহস্যজনক কারনে সে ছাড়া পেয়ে যায়।

শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকারী হিসাবে পরিচিত খালেক মজুমদারকে ট্রাইবুন্যাল জজ সাত বছরের কারাদন্ড দিলেও হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে। বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ও সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী তাঁদের রায়ে বলেন –

“In the circumstances, therefore, the opinion is that doubt has crept into the prosecution case and this doubt goes in favour of the accused and we accordingly give benifit of doubt..”

লক্ষ্যনীয় – বেনিফিট অব ডাউট গেল যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে। (সাম্প্রতিক জেল হত্যার মামলার রায়ে বিচারক হত্যাকারীরা জেলের ভিজিটর বুকে সই করেনি সেই অজুহাতে তাদের শাস্তি মওকুফ করেছেন)

বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী একটা আর্গুমেন্ট ছিলো – “Circumstances showing that Abdul Khaleque was a member of Jamat-e-Islami dominated the mind and Judgement of the prosecution withnesses because impresssion was created that Jamat-e-islami was against the movement of the Liberation. Be that as it may, this impression was resposible for influencing the inductive reasonings of withness.”

লক্ষ্য করুন – বিচারক বলছেন – “impresssion was created that Jamat-e-islami was against the movement of the Liberation.” – পুরো যুদ্ধে জামাত ঘোষনা দিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলো আর বিচারক বাদীকে দায়ী করছেন জামাতের বিরুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভাবমূর্তি তৈরী জন্যে। কথা শুনলে মনে হবে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিচারক মঙ্গলগ্রহে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।

এই বিচারকই অবসর নেবার পর প্রেসিডেন্ট হবার জন্যে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের কাছে সমর্থনের জন্যে গিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে দেখা যাবে এই একই ধরনের আর্গুমেন্টে গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

(৩)

তারপরও আশার আলো দেখছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নানান ঝামেলার পরও আশা করি বিচার হবেই – এ্ ই নরঘাতকদের বাস কোন স্বাধীন দেশে হতেই পারে না।

স্বাধীনতার প্রায় চারদশক পরও দেশের শ্রেষ্ট সন্তানদের হত্যার বিচার পায়নি তাদের স্বজনেরা। আমরা সভ্যতার কথা বলি – কিন্তু নিহতদের স্বজনের দ্বীর্ঘশ্বাসের ভারাক্রান্ত বাতাস নিয়ে – ঘাতক আলবদরকে মন্ত্রী বানিয়ে – রাজাকারদের রাজনীতির সঙ্গী করে কি আসলে আমরা একটা সভ্য সমাজের স্বপ্ন দেখতে পারি?

আজ এই শোকবাহ দিনে আবারো দাবী জানাই – একই দাবী জানিয়েছে গত চারদশক ধরে – জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যাকারী রাজাকার আলবদরদের বিচার চাই। বাংলাদেশ নামক রাস্ট্রের কাছে দাবী করছি – বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচারের জন্যে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হউক। অবিলম্বে ঘাতকদের বিচারের সন্মুখিন করা হউক। এই কাজটাকে আরো সহজ করার জন্যে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন গনতদন্ত কমিশন করা যেতে পারে – যেখানে শহীদের স্বজন আর স্বাক্ষীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারে। তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে মামলা করা যেতে পারে বিশেষ ট্রাইবুন্যালে – যাতে পুরো বিষয়টিতে স্বচ্ছতা থাকে।

৭ comments

Skip to comment form

  1. 7
    সত্তুক

    সব পাপের বংশ ধংশ কর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_cool.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

  2. 6
    কিংশুক

    গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠনের জন্য জামায়াতে ইসলামী সহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আরো আগেই করা সম্ভব হলে ভালো হতো । এখন যেহেতু বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে , আশায় বুক বেঁধে আছি প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হবে । তবে যেধরনের উদাহরন দিলেন, তাতেতো এতবছর পরে আইনের ফাঁক গলে বর্তমানে অভিযুক্ত যে কারো বেরিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে! বিশেষত: অপরাধীরা যেহেতু অর্থ-প্রভাব,প্রতিপত্তিতে অনেক শক্তিশালী।

  3. 5
    রাতুল

    এদেশে ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা কে বা কারা করেছে? যারা করেছে তারা ইসলামের নামেই এই ক্ষতিটা করেছে। ইসলামের প্রথম জিহাদের নামটিকেও তারা কলংকিত করেছে। …………………………….কঠিনভাবে সহমত পোষণ করছি। আজ ইসলামের কথা বলা ও যেন একটা গুরুতর অন্যায়। অবশ্য সেটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কেননা ইসলামের পথ কখনই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা। এর পথে বাঁধা বিপত্তি ছিল -- থাকবে। তবে জামায়ত ইসলাম এর যে বারটা বাজিয়েছে সেটা খুবই জঘন্য। যেটার ঘানি আমাদের দেশের জন্যে এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর থেকে আমাদের ঊদ্ধার পেতেই হবে। আর এর জন্যে চাই ইসলামের নামে কলঙ্ক লেপনকারী যুদ্ধাপরাধীদের সুষ্ট‌ বিচার। 







  4. 4
    সরোয়ার

    যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি একটি নায্য দাবি, এটা কোন আবদার না। এই বিচার হতেই হবে। যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে তারা তো শুধু যুদ্ধাপরাধই করে নাই, তারা ধর্মাপরাধও করেছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠনের জন্য ধর্মীয় বিচারও হওয়া উচিত।

    কঠিনভাবে সহমত। আর কিছুদিন যুদ্ধ স্থায়ী হলে আমি হয়ত এই মন্তব্য লিখতে পারতাম না। আঞ্চলিক পর্যায়ে বুদ্ধিজীবি হত্যালিস্টে বাবার নাম ছিল। যিনি লিস্ট করেছেন তিনি নাকি বাবার খুব পরিচিত, ক্লাসমেট। 

  5. 3
    সাদাত

    যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি একটি নায্য দাবি, এটা কোন আবদার না। এই বিচার হতেই হবে। যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে তারা তো শুধু যুদ্ধাপরাধই করে নাই, তারা ধর্মাপরাধও করেছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠনের জন্য ধর্মীয় বিচারও হওয়া উচিত।
    এদেশে ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা কে বা কারা করেছে? যারা করেছে তারা ইসলামের নামেই এই ক্ষতিটা করেছে। ইসলামের প্রথম জিহাদের নামটিকেও তারা কলংকিত করেছে। তাদের জন্যই আজ ইসলামের পক্ষে কেউ কথা বললেই তাকে মিথ্যা অপবাদের গ্লানি বইতে হয়। আজ কেউ ইসলামের নামে যুদ্ধাপরাধিদের বাঁচাতে চেষ্টা করলে তাদের পরিণতিও তাদের পূর্বসূরীদের মতোই হবে।

  6. 2
    শাহবাজ নজরুল

    সময় আসছে গোলাম আযমের প্রতিদান পাবার। আওয়ামী লীগ সরকার আশা করি এই ইস্যুটিকে আর জিইয়ে রাখবেনা। ৪০ বছর পরে হলেও রাজাকার, আল্বদরদের প্রাপ্য শাস্তি দেবার সময় এসেছে। এরা ইস্লামকে যার পর নাই কলুষিত করেছে। আমার অসম্ভব অস্বস্তির একটা জায়গা হচ্ছে আল-বদর নামটি নিয়ে। এটা এখন বাংলায় একটা খারাপ নাম হিসেবেই ব্যবহার হয়, কেবলমাত্র জামাতিরা বদর যুদ্ধের নামটিকে হাইজ্যাক করার জন্যে; কিন্তু প্রকৃত অর্থে বদর যুদ্ধ ছিল ইস্লামের সবচেয়ে গৌরবান্বিত যুদ্ধ-- আর বদ্রী সাহাবীরা সবচেয়ে উঁচু মাপের সাহাবী। অথচ জামাতের এইসব কসাইরা মূল বদরী সাহাবীদের কীভাবে পরোক্ষভাবে কলংকিত করলেন ভেবে দেখেন?
    গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ সহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক বিচার প্রক্রিয়া শেষে অনতিবিলম্বে শাস্তি প্রদান করা হোক।
     

  7. 1
    শামস

    একটি স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়াই পারে এনিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ দূর করতে। এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কেউই প্রশ্ন তুলতে পারছে না, এটা শুভলক্ষণ।
    এ বিচার প্রক্রিয়ায় জামাতের উল্টা সহযোগিতা করা উচিত। যেসব দাবী তাদের পক্ষ থেকে করা হয় সেগুলা প্রমাণের সুবর্ণ সুযোগ তারা পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.