«

»

Sep ০২

হাদীস সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

হাদীস সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবদ্দশায় সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদীসসমূহ অত্যান্ত আগ্রহ সহকারে মুখস্ত করে স্মৃতিপটে রাখতেন। আবার অনেকে মহানবী (সাঃ) এর অনুমতি সাপেক্ষে কিছু কিছু হাদীস লিখে রাখতেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবদ্দশায় স্মৃতিপটে মুখস্ত করে রাখার সাথে সাথে কিছু হাদীস লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ ছিল। হযরত আলী, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ কিছু কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন “আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আর কোন সাহাবী আমার অপেক্ষা অধিক হাদীস জানতেননা। কারন,তিনি হাদীস লিখে রাখতেন আর আমি লিখতামনা।”

মহানবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায় ইসলামী রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বহু কাজকর্ম লিখিতভাবে সম্পাদনা করা হতো। বিভিন্ন এলাকার শাসনকর্তা, সরকারী কর্মচারী এবং জনসাধারনের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত নির্দেশ প্রদান করা হতো। তাছাড়া রোম, পারস্য প্রভৃতি প্রতিবেশী দেশসমূহের সম্রাটদের সাথে পত্র বিনিময়, ইসলামের দাওয়াত এবং বিভিন্ন গোত্র ও সম্প্রদায়ের সাথে চুক্তি ও সন্ধি লিখিতভাবে সম্পাদন করা হতো। আর মহানবীর আদেশক্রমে যা লেখা হতো তা হাদীস বলে পরিচিত।

মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পর বিভিন্ন কারনে হাদীস সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কুরআন মাজীদের সাথে হাদীস সংমিশ্রণ হওয়ার আশংকায় কুরআন পুর্ণ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত হাদীস লিপিবদ্ধ করতে কউ সাহস পায়নি। হযরত আবূ বকর (রাঃ) এর আমলে কুরআন মজীদ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ হলে সাহাবীগণ হাদীস লিপিবদ্ধ করার ব্যপারে আর কোন বাধা আছে বলে অনুভব করেননি।
হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে সাহাবি ও তাবেয়ীগণ প্রয়োজন অনুসারে কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করেন।
অতঃপর উমাইয়া খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (র) হাদীস সংগ্রহের জন্য মদীনার শাসনকর্তা আবু বকর বিন হাজম সহ মুসলিমবিশ্বের বিভিন্ন এলাকার শাসনকর্তা ও আলিমগণের কাছে একটি ফরমান জারী করেন যে, আপনারা মহানবী (সাঃ) হাদীসসমূহ সংগ্রহ করুন। কিন্তু সাবধান! মহানবী (সাঃ) এর হাদীস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহন করবেননা। আর আপনার নিজ নিজ এলাকায় মজলিস প্রতিষ্ঠা করে আনুষ্ঠানিকভাবে হাদীস শিক্ষা দিতে থাকুন। কেননা, জ্ঞান গোপন থাকলে তা একদিন বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এই আদেশ জারীর পর মক্কা,মদীনা,সিরিয়া.ইরাক এবং অন্যান্য অন্ঞ্চলে হাদীস সংকলনের কাজ শুরু হয়। কথিত আছে যে, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী (রঃ) সর্বপ্রথম হাদীস সংগ্রহ এবং সংকলনে হাত দেন। কিন্তু তাঁর সংকলিত হাদীসগ্রন্থের বর্তমানে কোন সন্ধান পাওয়া যায়না। এরপর ইমাম ইবনে জুরাইজ (র) মক্কায়, ইমাম মালিক (র) মদীনায়, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব (র) মিসরে, আব্দুর রাজ্জাক ইয়েমেনে, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক খুরাসানে, এবং সূফিয়ান সাওরী ও হাম্মাদ ইবনে সালমা বসরায় হাদীস সংকলনে আত্ননিয়োগ করেন। এ যুগের ইমামগণ কেবল দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় হাদীসগুলো ও স্থানীয় হাদীস শিক্ষাকেন্দ্রে প্রাপ্ত হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাঁদের কউই বিষয়বস্তু হিসেবে বিন্যাশ করে হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ করেননি।

এ যুগে লিখিত হাদীস গ্রন্থসমূহের মধ্যে ইমাম মালিকের “মুয়াত্তা” সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান প্রমান্য হাদীসগ্রন্থ। ইমাম মালিকের “মুয়াত্তা” গ্রন্থটি হাদীস সংকলনের ব্যপারে বিপূল-উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি করেছিল। এটি হাদীসশাস্ত্র অধ্যায়নে মুসলিম মণিষীদের প্রধান আর্কষণে পরিনত হয়েছিল। এরই ফলশ্রূতিতে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বে সর্বত্র হাদীসচর্চার কেন্দ্র স্হাপিত হতে থাকে। ইমাম শাফঈ (র) এর কিতাবুল “উম্ম” এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের “মাসনাদ” গ্রন্থদ্বয় হাদীসের উপর গুরুত্বপুর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

অতঃপর হিজরী তৃতীয় শতাব্দীতে বিভিন্ন মণিষী মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অন্ঞ্চল থেকে প্রচুর হাদীস সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত হলেন ইমাম বুখারী (র), ইমাম মুসলিম (র), ইমাম আবূ দাউদ (র), ইমাম তিরমিজী (র), ইমাম নাসাঈ (র), এবং ইমাম ইবনে মাজাহ (র)। এদের সংকলিত হাদীস গ্রন্থগুলো হলো সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবূ দাউদ, জামি’তিরমিযী, সূনানে নাসাঈ এবং সূনানে ইবনে মাজাহ্। এই ছয়খানা হাদীসগ্রন্থকে সন্মিলিতভাবে সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীসগ্রন্থ বলা হয়।

উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এ কথা র্নিদ্বিধায় বলতে পারি যে, মহানবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায় যে হাদীস সমূহ প্রধানত সাহাবীদের স্মৃতিপটে মুখস্ত ছিল তা ধীরে ধীরে লিখিত রুপ নেয় এবং আব্বাসিয় যুগে হাদীস লিপিবদ্ধের কাজ পরিসমাপ্ত হয়। এটিই হলো হাদীস সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

তথ্য সুত্র- মিশকাতুল মাসাবীহ (দাখিল টেক্সবুক হাদীস শরীফ, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড)

৩৪ comments

Skip to comment form

  1. 14
    ROBIUL ISLAM

    অনেকের কথা পড়লাম , ভাই সকলের উদ্দেশ্যে লেখলাম ।কুরআন ও হাদীস সংকলন নিয়ে অনেকে মন্তব্য করেছে , সংকলনের ইতিহাস নিয়ে বেশি বারা বারি করছেন আপনারা , যেভাবেই হক আমাদের মাঝে কুরআন ও হাদীস এসেছে , এটার প্রতি আমার কোন সন্দেহ নাই , আপনারা সংকলন ইতিহাস নিয়ে যে মন তর্ক রকছেন তাতে মনে হয় কিতাবের প্রতি আপনাদের সন্দেহ আছে । যদি না থাকে তাহলে সংকলন নিয়ে এত মত বিরুদ থাকার কথানা । আরে ভাই কুরআনের রক্ষক স্বয়ং আল্লাহতালা । আর হাদীস সংকলন করতে যদি কেও ভুল করে থাকে তাহলে আপনারা কেও তা সঠিক করতে পাড়বেন । না । এগুলো নিয়ে বারা বারি না করে আমরা সবাই কুরআন ও হাদীস মেনে চলি । আরে ভাই আল্লাহতালা কি আমাদেরকে বিচারের দিন হাদীস সংকলন ইতিহাস সম্পকে জিঙ্গাস করবেন । না । তাহলে যে বিষয়ে কোন প্রশ্ন আল্লাহ কর বেনা সেই বিয়ষ নিয়ে এত তর্ক করা ঠিক হবেনা । এত মতানৈক্য হলে আমাদের ইমানের ক্ষতিহতে পারে তাই আমরা সবাই এই সব তর্ক পরি হার করি । কার কথা কার বিশ্বাসের দরকারনাই সবাইকে আল্লাহতালা বুদ্ধি দিয়েছেন কুরাআন ও হাদীস নিজে পড়ে বুজে নিজের জীবন সুন্দর ভাবে পরিচালনা করি প্রয়োজন আল্লাহওয়ালা লোকদের সাহায্য নেই ।

  2. 13
    তারিন

    মিশকাত শরিফের মূল কিতাবের নাম ও লেখকের নাম?

  3. 12
    বদরুল হায়দার

    নবীজী কোরআন ব্যাতিত অন্যকিছু লিখে না রাখার জন্যে প্রকৃত বিশ্বাসীদেরকে আদেশ করেছিলেন। তার এ আদেশ খোলাফায়ে রাশেদীন যথাযতভাবেই পালন করেছিলেন। আবু বকর ৫০০টি হাদিস লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। নবীজী তা জানার পর তাকে বলেছিলেন, "ওগুলো পুড়িয়ে ফেল।" এই আদেশের পর আবু বকর ততক্ষণ ঘুমাতে পারেননি যতক্ষণ না তিনি সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। -Tareekh Tadween-e-Hadith by Shaykh 

    জায়েদ ইবনে সাবেত (Zayd Ibn Thabit -নবীজীর ওহী লেখকদের মধ্যে অন্যতম) খলিফা মুয়াবিয়ার সাক্ষাতে যান (এ ঘটনা নবীজীর মৃত্যুর ৩০ বৎসরেরও অধিককাল পরের । অনেকে অবশ্য এমনও বলেছেন এঘটনা ৩০ বৎসর পরের একথা হাদিসে লিপিবদ্ধ নেই। এই জ্ঞানীগণ এটা লক্ষ্য করেন না যে, প্রমানের জন্য মুয়াবিয়া নামের আগে "খলিফা" শব্দই যথেষ্ট।) এবং তাকে নবীজীর সম্পর্কে একটা ঘটনার কথা শুনান। ঐ কাহিনী মুয়াবিয়ার বেশ পছন্দ হয় এবং তিনি কাউকে তা লিখে রাখার আদেশ করেন। কিন্তু জায়েদ বলেছিলেন, "আল্লাহর রসূল কখনও তার হাদিসের কোনকিছু লিখে না রাখার জন্যে আমাদেরকে আদেশ করেছেন।" -Musnad by Ahmed Ibn Hanbal, Sunan of Abu-Dawood, Book 25, Number 3640.

     

  4. 11
    aminul islam

    asslamualikum, dear, muslim brother , please dont wait harey up gone tablig jamat, no have time……….so much larn,

  5. 10
    Muhammad Noman Faruqui

    ভাই একটা হাদিস facebook এ প্রায় দেখা যাই, মুহাম্মদ (সঃ) জিব্রাঈল কে তার বয়স জিজ্ঞাসা করেছে, আর একটা তারা দেখিয়ে তিনি বলেন, ওই তারাটা ৭০,০০০ বছর পর পর একবার দেখা যায়, আর সেটা আমি ৭০০০০ বার দেখেছি, তখন রাসুল (সঃ) কসম করে বলেন যে ওই তারাটা তিনি, আমাকে কি হাদিস নং টা দিবেন আর এটাকি সহিহ হাদিস ?? জানাবেন…আমার mail add fecsctg@gmail.com

  6. 9
    মহিউদ্দিন

    যুবায়ের আহাম্মেদ,
    আস্ সালামু আলাইকুম। অত্যন্ত প্রসংশনীয় একটি উদ্দেগ নিয়েছেন। ধৈর্য্য ধরে চালিয়ে যাবেন বি নাছরিল্লাহ, সে প্রত্যাশা রইল।

  7. 8
    রাতুল

    ছোট মাথায় এসব জিনিস ঢুকাতে গিয়ে শেষে মাথায় না আউট হয়ে যায়। খালি প্যাঁচ আর প্যাঁচ। এর থেকে কি রেহাই নেই।

    1. 8.1
      রাতুল

      যুবায়ের ভাই, হাদিস সংকলন সংক্রান্ত আরও তথ্যসূত্র কি সংযোজন করা যায়না? আপনার লেখায় প্লাস। আরও লিখতে থাকুন।

      1. 8.1.1
        যুবায়ের আহাম্মেদ

        আসসালামু আলাইকুম…………..
        ভাই লিখবো ইনশাআল্লাহ।

  8. 7
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ভাই জুবাইর,
    ওয়ালাইকুম সালাম।
    আপনাকে ধন্যবাদ রিপ্লাই দিবার জন্য। হ্যাঁ, আপনার পরবর্তী লিখার অপেক্ষায় থাকলাম, প্রশ্নগুলো জানার জন্য।  
    আমি  খুবেই নগণ্য জ্ঞ্যান নিয়ে কথা বলছি। আপনি বল্লেন, কোরান সংকলন হযরত আবু বকর(র) খলিফা থাকাকালীন শুরু হয়, আপনি কি আমায় এর রেফেরেন্স দিতে পারেন? আমার জানা মতে, উনি কোরান সংকলনে হাত দেননি। আমাদের নবীজি (স), কোরানের একটি কপি লিখিয়েছিলেন এবং তা বিবি হাফসা(ওমরের কন্যা)-র কাছে রেখে গিয়েছিলেন। উসমান সেটির অস্তিত্ব রাখেননি। পৃথিবী-ব্যাপি যে কোরান এখন আছে, সেটা উসমানের সংকলন করা কোরান। কেন এমন হল? আমার কথা ভুল হলে, দয়েকরে রেফেরেন্স দিয়ে ভুল ধরিয়ে দিবেন। আমার যদি বুঝে ভুল থাকে, তাহলে তাও বলবেন।
    কোরান সম্পর্কে উত্তর না দিলেও চলবে, তবে হাদীস সম্পর্কে আমায় সাহায্য করবেন।
    একটা গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞেসা, মতানৈক্য খুব বড় ধরনের ভিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। আর ভিভ্রান্তি ঈমান নষ্ট করে দেয়। হাদীস সংগ্রহকারী ইমামদের মধ্যে যে পরিমান মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছিল, তা শুধু মর্মাহতই করে না বরং গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
    হাদীস সংকলন করা হয়, উমাইয়া এবং আব্বাসী-দের যমানায়। ওই সময় কতটুকু বিশুদ্ধ ভাবে সংকলিত হয়? ইমাম বূখারীর সর্বনিম্ন রাবীর সংখ্যা ছিল ৭, সর্বোচ্চ ১০০। কথা যখন অন্য মারফত ঘুড়িয়ে আসে, তখন তা প্রকৃত তথ্য থেকে অল্প হলেও বিকৃত হয়।
    সুন্নি মাজহাবের সৃষ্টি হল কিভাবে? কোরানে বলা আছে, মুমিনদের পরিচয় হবে শুধু “মুসলিম”। আমরা সুন্নি, শিয়া, আহমেদীয়া, ওহাবী, রাফেজী…..   এমন দল-উপদলে ভিবক্ত করতেছি, সেটা কি কোনো সঠিক পন্থা?  এই সকল দল-উপদল কি বড় ধরনের ভিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না?
    দয়াকরে আমায় সাহায্য করবেন, সঠিক সত্য তত্ত্ব দিয়ে।    
    আল্লাহ আমাদের সবাই-কে “সিরাতুল মুস্তাকিম” দান করুন।

    1. 7.1
      KALAM

      কোরানে বলা আছে, মুমিনদের পরিচয় হবে শুধু “মুসলিম”

       
       

      1. 7.1.1
        যুবায়ের আহাম্মেদ

        আসসালামু আলাইকুম
        ভাই রেফারেন্সের জন্য মিশকাতুল মাসাবীহ টেক্স হাদিস বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের দাখিল নবম ও দশম শ্রেণীর বই এটা।
        ১১ নং পৃষ্ঠায় দেখুন।

        1. 7.1.1.1
          মোঃ তাজুল ইসলাম

          ভাই জুবায়ের,
          ওয়ালাইকুম সালাম।
          আপনি যে রেফেরেন্স দিলেন, তাতে আমি হতভম্ব। এই রকম রেফেরেন্স দিলে, সামনে আগানো দুষ্কর।
          ভালো থাকুন।

        2. যুবায়ের আহাম্মেদ

          আসসালামু আলাইকুম………….
          ভাই আপনি কি ধরনের রেফারেন্সের কথা বলছেন আমি বুঝতে পারছিনা।
          একটু ক্লিয়ার করবেন কি?

  9. 6
    এম_আহমদ

    আপনি মাদ্রাসায় যেহেতু পড়াগুনা করেছেন তাই এই একটি লাইনে লিখতে থাকুন। এখানে হাদিসের উপর লেখা আর্কাইভ হওয়া দরকার। আস্তে আস্তে বিষয়ের গভীরে যেতে থাকুন। দোয়া রইল।
    এই লাইনে সামঞ্জস্যশীল আমার একটা লেখা আছে। এটা এখানে লিঙ্ক করলাম। কেউ হয়তে পড়তে পারেন। ধন্যবাদ। 
     
    গুরুমুখী প্রথায় হাদিস শাস্ত্র: সংগ্রহ ও চর্চা 

    1. 6.1
      যুবায়ের আহাম্মেদ

      আসসালামু আলাইকুম………………………..
      ভাই আমি কুরআন এবং হাদিস দুটো নিয়েই লিখছি।
      তবে এখন হাদীস নিয়ে একাধিক লেখা লিখবো ইনশাআল্লাহ।

  10. 5
    KALAM

    ভোরবেলা সূর্য ওঠে শয়তানের মাথায় দুই প্রান্তের মধ্য দিয়ে —Sahih Bukhari

     
     
    এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। Al Quran 2:2
     
     

  11. 4
    ফারুক

     
    সালামুন আলাইকুম।
    আপনি যখন ইতিহাসে আগ্রহী, তখন আপনার বর্তমানে ইংল্যান্ডের চ্যানেল ফোর এ ইসলামের ইতিহাস নিয়ে একটি সিরিজ দেখাচ্ছে। আপনার এটা দেখা উচিৎ।
     
    http://www.channel4.com/programmes/islam-the-untold-story/4od

    1. 4.1
      যুবায়ের আহাম্মেদ

      ভাই আপ্নার চ্যনেল ফোরে দেইখা কি করুম?
      আমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া কালীন কোরআন,হাদীস, ফিকহ, আরবী সাহিত্য, আরবী ব্যকরন এবং ইসলামের ইতিহাস পড়েছি।
      আমি মূলত ওয়েবসাইটের ইসলামিক বিষয়কে গুরুত্ব দেইনা কারন অনেক ইসলামী সাইট ইয়াহুদী খ্রিষ্ট্রানরা চালায় যার মাধ্যমে কুরআন হাদীস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে।

      1. 4.1.1
        ফারুক

        সালামুন আলাইকুম

        ভাই আপ্নার চ্যনেল ফোরে দেইখা কি করুম?

         
        আপনার ইতিহাস জ্ঞানকে ঝালাই করবেন ,  নুতন ইতিহাস জানবেন। সর্বপরি সত্য খুজবেন।

        1. 4.1.1.1
          যুবায়ের আহাম্মেদ

          ভাই আমার ধারনা যদি ভূল না হয় তাহলে আপনি রাশাদ খলিফার অনুসারী।
          এজন্য অনলি কোরান নিয়ে এত উঠে পড়ে লেগেছেন।
           
           
          ইসলামের ইতিহাস নতুন করে লিখিত হয়েছে কি??

    2. 4.2
      এম_আহমদ

      @ ফারুক -Documentary: Islam, the untold history 
       
      টোম ডারেন কোরানকে বানোয়াট বলেছে। মুহাম্মদের (সা.) বানানো বলেছে –তাহলে এগুলোও আপনার কাছে সত্য? ঘিলু খোলেন, western atheist epistemology কি করতে চাচ্ছে তা বই পুস্তক পড়ে বুঝার চেষ্টা করুন। ইসলামের ইতিহাস পাবার জন্য ডারেন কোন ধরণের প্রশ্ন করেছে? তার ঐতিহাসিক প্রমাণ কোন স্ট্যাণ্ডার্ডে চেয়েছে?  তার প্রশ্নগুলো কি ছিল? রোমানদের মত ঐতিহাসিক বিল্ডিঙের ধ্বংশাবশেষ কই? মুদ্রা কই?  তো মুদ্রা নাই, ঐতিহাসিক বিল্ডিং নাই, তারপর তদানীন্তন রোমানরা মুসলমানদের ব্যাপারে কিছু বলে নাই -সুতরাং?  সুতরাং ইসলাম নামক ধর্ম সাম্রাজ্যবাদীরা এক খোদার নামে দাড় করিয়েছে। (তাদের কাছে যে খোদার কোন ‘evidence’ নেই)
       
          আমার ৫ম দাদার নাম আব্দুল গণী। তার অনেক বিষয়ে আমরা অনেক কিছু জানি। তিনি সেকালে হজ্জও করেছিলেন। অনেককিছু এনেছিলেন। তার পূর্বপুরুষ কোন গ্রাম থেকে এসেছিলেন, তাও আমাদের জানা। আমার ৪র্থ দাদা নাম আব্দুল কাদির। দাদীর নাম মাইমুনা বিবি। কিন্তু কেউ যদি আমাকে বলে যে তাদের ব্যাপারে লিখিত ডক্যুম্যাণ্ট  দেখান। আমি কিন্তু প্রায় দেড় শো বছর আগের এসব কথার লিখিত কিছু দেখাতে পারব না। তাহলে কি আমার পরদাদা পরদাদাদি মিথ্যা, তাদের ইতিহাস মিথ্যা? আমি যদি এসব লিখে রাখি তাহলে এসব অর্থহীন? কেননা আমি তো অনেক পরের? ঘিলুহীন, এসব হচ্ছে empiricist atheist theory oriented approach.   তারপর ইসলামকে ওজন করার মান হচ্ছে রোমান সভ্যতা। ঘিলুকে সামান্য খোলেন। যে চক্রটি তাদের ডক্যুম্যান্ট্রি কোরানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, বানানো বলে, সেটার সত্য আপনার সত্য হয় কিভাবে? আপনি কি সেই আন্তর্জাতিক চক্রের একজন? তাদের টাকায় মুখোশ পরে ডারেনদের অবজারবেবল থিওরির বাইরে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় সবকিছুতে ‘সন্দেহবাদী দর্শন’ প্রমোট করছেন?

      1. 4.2.1
        ফারুক

         

        এম_আহমদ,

         
        সালামুন আলাইকুম।
         
        “They must find it difficult…those who have taken authority as the truth, rather than truth as the authority”. 
         
        আপনার মাথাটা একটু ঠান্ডা করেন। আমি সত্য খুজতে বলেছি। কারো কথা অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করতে বলিনি।  প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন প্রতারনা করতে পারেনা , যেমনটি মানুষ পারে।
         
         
        একমাত্র আল্লাহ জানেন , কে সঠিক পথে আছে এবং কার মনের ভিতরে কি আছে। কাউকে ভন্ড বা টাকা খেয়ে মিথ্যা প্রচারনা করছে , এমন দোষারোপ করার আগে ২ বার ভাবুন।
         

        1. 4.2.1.1
          এম_আহমদ

           
          “They must find it difficult…those who have taken authority as the truth, rather than truth as the authority”.  যে নাস্তিকদের এম্পিরিসিষ্ট ব্যাখ্যায় অহি authority নয়, তাদের কাছে গিয়ে কি “সত্য খুঁজতে বলছেন?’ এটা কি কয়েন (coin) অথবা ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন দিয়ে replace করা হবে? প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দিয়ে কি অহীর সত্যতা দেখা যাবে? বস্তুবাদী নাস্তিক দর্শন মুসলমানদের দুশমন, তাই দুশমনের দুশমনকে অন্ধভাবে বন্ধু হিসেবে নেবার আগে ঘিলুকে জিজ্ঞেস করেন সে কি নিজের দোস্ত হতে পারে। 

  12. 3
    KALAM

    46:9
    বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

     

    1. 3.1
      যুবায়ের আহাম্মেদ

      ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূল কাদখালাত মিন ক্বাবলিহিররাসূল।
      মুহাম্মদ (সাঃ) একজন রাসূল ব্যতিত কিছু নয়। তার পূর্বে অনেক রাসূল বিগত হয়েছেন।

      1. 3.1.1
        KALAM

        রসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে।25:30

        1. 3.1.1.1
          যুবায়ের আহাম্মেদ

          যালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফিহি হুদাললিল মুত্তাকীন
          ”নিঃ সন্দেহে ইহা আল্লার কিতাব যা মুত্তাকীদের জন্য পথ প্রদর্শক”
          সুরা বাকারা আয়াত ২

  13. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    জনাব, ধন্যবাদ আপনার এই সুন্দর লিখার জন্য। আমার কিছু জানার ছিল, আশা করি, আপনি আমায় উপকার করবেন নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে, যদি আপনার জানা থাকে। তবে আমার প্রশ্নগুলো ভুল-ও হতে পারে। সব আমার বই-এ পরা। কতটুকু সত্যতা নিয়ে বইগুলো  লিখা তা আমার জানা নাই।   
    প্রশ্নঃ
    হাদীস সংগ্রহ এবং কুরানের সংকলন কেন নবীজি(স) সময় হয়নি? কেন উসমান(রা) সময়ে কুরআন এবং অনেক পরে ইমামদের দ্বারা হাদীস সংকলন হয়?
    চার খলিফা এবং পরবর্তী সাহাবীগন  কেন হাদীস লিপিবদ্ধ করে রাখার প্রতি গুরুত্ব দেননি? শিয়া সম্প্রদায় দাবি করে, “নাহজুল বালাগা” নামক হাদীস গ্রন্তটি স্বয়ং হযরত আলী(রা)-র লিখা। তাদের দাবি কি সত্যি? যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা কেন সিহা সিত্তায় স্তান পেল না?
    ইমাম মালিকের “মুয়াত্তা” বা শাফঈ-র “উম্ম” বা হাম্বলীর “মাসনাদ” কেন সিহাহ সিত্তা বা বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ বলা হয় না?
    বূখারী-র ৭২৭৫, মুসলিমের ৪০০০, আবু দাউদের ৪৮০০, তিরমিজির ৩৮১০, ইবনে মাযার ৪৩৪১, নাসাঈ-র ৪০০০ কেন হাদীস সংখ্যার পার্থক্য হল? এটা কি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না?
    সাধারন মানুষ ইমাম বূখারী এবং মুসলিম-কে সিহা সিত্তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রহন করে।  আমার জানামতে, ইমাম বূখারী এবং মুসলিম দুজনেই হাদীস বিশরদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়ার অধীনে হাদীস চর্চা করে এবং ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে  মতবিরুধের কারনে প্রথম ইমাম বূখারী এবং পরে ইমাম মুসলিম তার মজলিশ ত্যাগ করে। ইমাম মুসলিম, ইমাম বূখারীর ছাত্র হিসেবে যোগ দিলেও, পরে তাদের মধ্যেও মতবিরুধ সৃষ্টি হয় এবং দুজনেই আবার পৃথক হয়ে আলাদা আলাদা হাদীস চর্চা, সংকলন ও সংগ্রহ শুরু করে। তাদের মধ্যে এত মতবিরুধ হলে, তাদের উপর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়া খুব স্বাভাবিক। মুহাম্মদ ইনবে ইয়াহিয়ার মজলিস ইমাম বূখারী যখন ত্যাগ করে, তখন তাদের মধ্যে যে, তিক্ততা এবং আক্রমণাত্মক বাক্য বিনিময় হয়, তা অত্যান্ত মর্মাহত করে ।
     

    1. 2.1
      যুবায়ের আহাম্মেদ

      আসসালামু আলাইকুম।
      ভাই আপনার প্রস্ন
      ১.হাদীস সংগ্রহ এবং কুরানের সংকলন কেন নবীজি(স) সময় হয়নি? কেন উসমান(রা) সময়ে কুরআন এবং অনেক পরে ইমামদের দ্বারা হাদীস সংকলন হয়?)
       
      (রাসুলুল্লাহ সাঃ) এর জীবদ্দশায় হাফিজগণ কুরআন মুখস্থ করে রাখতেন। কিছু কিছু আয়াত উটের চামড়া এবং পাথরে খোদাই করে সংকলন করা হয়েছিল। কুরআন এর  আয়াত সমূহ নাযীল রাসূল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় একটা চলমান প্রক্রিয়া ছিল।হযরত আবূ বকর (রাঃ) এর আমলে কুরআন মজীদ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার কাজ শুরু হয় এবং হযরত ওসমান (রাঃ) এর সময়ে কুরআন সংকলনের কাজ শেষ হয়।কুরআন মাজীদের সাথে হাদীস সংমিশ্রণ হওয়ার আশংকায় কুরআন পুর্ণ গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত হাদীস লিপিবদ্ধ করতে কউ সাহস পায়নি। 
      ২.চার খলিফা এবং পরবর্তী সাহাবীগন  কেন হাদীস লিপিবদ্ধ করে রাখার প্রতি গুরুত্ব দেননি?
       
      চার খলিফা কুরঅান সংকলনের কাজ সবচাইতে গুরুত্ব দিয়েছেন। আগে কুরআনের সংকলন তারপর হয়তো হাদীস সংকলনের চিন্তা ভাবনা তাদের ছিলো।

      1. 2.1.1
        যুবায়ের আহাম্মেদ

        শিয়া সম্প্রদায় দাবি করে, “নাহজুল বালাগা” নামক হাদীস গ্রন্তটি স্বয়ং হযরত আলী(রা)-র লিখা। তাদের দাবি কি সত্যি? যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা কেন সিহা সিত্তায় স্তান পেল না?
        ইমাম মালিকের “মুয়াত্তা” বা শাফঈ-র “উম্ম” বা হাম্বলীর “মাসনাদ” কেন সিহাহ সিত্তা বা বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ বলা হয় না?
        উল্লেখিত হাদিস গ্রন্থসমূহ লিপিবদ্ধ করা ছিল তবে এইহাদীস গ্রন্থগুলোতে হাদীস সমূহ কোন পরিচ্ছেদে সাজানো ছিলোনা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হাদীসের বর্ণনাকারী যাকে রাবী বলা হয় সে রাবীর নাম উল্লেখ ছিলোনা। উদাহরন হিসেবে মিশকাত শরীফ এর কিছুটা আলোকপাত করলাম।
         মিশকাত শরীফ পরবর্তীতে এই হাদীসগ্রন্থকে রাবীর নাম সংযোজন এবং হাদীসের বর্ননার সূত্র যাচাই বাছাই করে এবং পরিচ্ছেদে ভাগ করে মিশকাতুল মাসাবীহ নামকরন করা হয়।

        1. 2.1.1.1
          যুবায়ের আহাম্মেদ

          ভাই একটু ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন আমি আরেকটি লিখা লেখতেছি সেটা পড়লে আপনি আরো বিষদভাবে জানতে পারবেন।

  14. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ধন্যবাদ। 
     
    ভাল লাগলো পড়ে। বিস্তারিত লিখুন। 

    1. 1.1
      যুবায়ের আহাম্মেদ

      আসসালামু আলাইকুম।
      ধন্যবাদ ভাই।
      এরপরের লেখাটা লিখবো মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিসগ্রন্থ সংকলনের ইতিহাস।
      মিশকাত শরীফ হাদিস গ্রন্থটি নিয়ে বর্তমানে কিছু মুসলিমদের মধ্য ভূল বুঝাবুঝি হচ্ছে তাই বিষয়টা বিস্তারিত লিখবো ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.