«

»

Mar ৩১

মুসলিম কাকে বলে?… একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হতে কী কী গুণ লাগে?

মুসলিম শব্দটি সালাম শব্দ থেকে উৎপত্তি যার শাব্দিক অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা। মুসলিম শব্দের অর্থ আত্নসর্মপনকারী।

পারিভাষিক অর্থেঃ
যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে মহান প্রতিপালক হিসেবে গ্রহন করবে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবেনা এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশিত পথে নিজের জীবন চালাবে, হালাল কে হালাল বলে মানবে এবং হারামকে বয়কট করবে, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, রোজা রাখবে, নিসাবের অধিকারী হলে যাকাত আদায় করবে এবং হজ্জে গমন করবে। এইসব গুনাবলীর অধিকারী হলে তাকে মুসলিম বলা হয়।

পবিত্র কুরান থেকে বিষদ জানি..
لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا ۖ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ ۗ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
23:2
الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ
যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ
যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
23:4
وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ
যারা যাকাত দান করে থাকে
23:5
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
23:6
إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ

হাদীস থেকে ব্যখ্যাঃ
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ জু’ফী (র)…আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশী। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।।সহীহ বুখারী ১ম খন্ড ঈমান অধ্যায় হাদীস নং ৮
প্রকৃত মুসলিম সে-ই যার হাত ও জিহবা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৯

এখানে হাত থেকে নিরাপদ বলতে কারো উপর আক্রমন করবেনা এবং জিহবা থেকে নিরাপদ বলতে কারো নামে কুৎসা গিবত মিথ্যা অপবাদ এবং অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ফল ফলাদি গ্রাস না করা বুঝানো হয়েছে।।

মুহাম্মদ ইবনুন মুসান্না (র)…আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)থেকে বর্নিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্য থাকে সে ঈমানের স্বাদ পায়। ১.আল্লাহ ও তার রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু হতে প্রিয় হওয়া। ২. কাউকে খালিস আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা। ৩. কূফরীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপসন্দ করা। সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৫ ঈমান অধ্যায়।

আম্মার (রাঃ) বলেন, তিনটি গুণ যে আয়ত্ব করে, সে (পুর্ণ) ঈমান লাভ করে। ১. নিজ থেকে ইনসাফ করা। ২. বিশ্বে সালামের প্রচলন করা। ৩. অভাবগ্রস্হ অবস্হায়ও দান করা। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২৬।

হাদিসটি পড়ে একটু চিন্তা করুনতো….’আমরা কি আসলেই প্রকৃত মুসলিম হতে পেরেছি??…
না-কি জুম্মাবারে মসজিদে হাজিরা আর কুরবানীর গরুর মাংস খাওয়ার দাবীদার মুসলিম??..
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কুরান বুঝার তৌফিক দান করুন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশিত পথে চলার তাওফিক দান করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান পুরোপুরি মেনে চলার তাওফিক দান করুন আমীন।।

চলবে ..>>

৭ comments

Skip to comment form

  1. 6
    আহমদ সারওয়ার

    মুসলীম এর অর্থ হয় জীবনে ইসলাম আনয়নকারী ব্যক্তি। সালাম থেকে ইসলাম । ইসলাম অর্থ যে পদ্ধতি মানুষের জীবনে সার্বিক, প্রকৃত ও পরম সালাম বা শান্তি আনয়ন করতে পারে। এটি শাব্দিক অর্থ। সুতরাং বাহ্যিক ভাবে গবেষণাহীণ সাধারণ ব্যক্তির কাছে শাব্দিক অর্থই কাম্য ও গ্রহনীয় হয়। মুসলীমের সুতরাং শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় শান্তি আনয়নকারী ব্যক্তি। এটি সাধারণ মুসলীম ও গায়ের কওমদের কাছে তুলে ধরার জন্য। কারণ তার আভ্যন্তরীণ অর্থ বুঝতে অক্ষম হবে।

    মুসলীম অর্থ যেখানে আত্মসমর্পণকারী হয় তা হল আভ্যন্তরীণ বা আধ্যাত্মীক অর্থ। মুসলীম হল যে ব্যাক্তি জীবনে পরিপূর্ণ সালাম বা শান্তি আনয়ণকারী পদ্ধতির কাছে নতি স্বীকার করে বা আত্মসমর্পন করে। সালাম আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম মুবারক। সুতরাং আত্মীক অর্থে ইসলাম অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহর নিকট বা সালামের নিকট সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণের পদ্ধতি এবং মুসলীম অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহর নিকট বা সালামের নিকট সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণকারী ব্যাক্তি।

  2. 5
    এম এ জিন্নাহ

    মুসলিম মানে "সমর্পিত"!

    নিজের ইচ্ছায় একবিন্দু চলে না!

    অহংকারীর ধর্ম ইবলিশ!

     

  3. 4
    সিরাজুল ইসলাম

    মুসলিম শব্দের অর্থ আত্নসর্মপনকারী।
     
    মুসলিম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণকারী বলেই, পুরা বিষয়টিকে ব্যাঙ্গ করার জন্য নাস্তিকদের হাতে একটি উপকরণ তুলে দিলেন।মূলতঃ মুসলিম অর্থ শান্তি প্রাপ্ত।সালাম ও ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি।আর মুসলিম শব্দের অর্থ শান্তি প্রাপ্ত অর্থাৎ যিনি শান্তিতে আছেন সেই মুসলিম।
     
    আর শান্তি পেতে হলে প্রয়োজন হবে-
    (১)ব্যাধি মুক্ত শরীর।  (২)ক্ষুধা নিবৃত্তির আহার।  (৩)থাকিবার স্থান ।(৪) ইজ্জত নিবারণের আবরু। (৫) অন্যের দ্বারা অন্যায় আচরণ না পাওয়ার নিশ্চয়তা।
    এই গুলি।অন্য কিছু নয়।
     
    আমি মৌলবাদী।।

  4. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    শুরুতে যে কথাটা বলেছেন সেইটাই "মুসলিম" এর আসল সংজ্ঞা। আর কোরানের যে আয়াতগুলো দিয়েছেন তা হলো মুমিন প্রসংগে বলা হয়েছে। মুমিন আর মুসলিমের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। মুমিন হলো ইমান আনয়নকারী -- যে আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করাসহ অন্যান্য বিষয়ে ( রসুল, ফেরেস্তা, শেষ বিচার ইত্যাদি) বিষয়ে ইমান আনে। তারপর তাকওয়ার পথ ধরে মুমিন মুসলিম হওয়ার জন্যে জীবনে ইসলামের প্রতিফলন ঘটানোর জন্যে জেহাদ করে -- প্রতিনিয়ত মুত্তাকী হিসাবে চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে মুসলিম ( আত্নসমর্পনকারী) হয়ে উঠে। 
     
    একজন মুমিনের জন্যে নির্দেশ 
     
     
     

    সূরা আল ইমরান (The family of Imran )
    (3:102) হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

     

    1. 3.1
      আবদুস সামাদ

       জিয়া ভাই, মূলতঃ মুসলীম ও মুমীন শব্দ দুটি একে অন্যের জায়গায় ব্যবহার হয়ে থাকে৷ সেই হিসেবে পার্থক্য থাকেনা। আবার পার্থক্য হল;- মুসলীমে ইসলাম আচরণে শুরু হয় আর তা অন্তরে গিয়ে স্থান করে নেয়, যেমন, আমরা৷ আরমুমীনে ইমান অন্তর থেকে শুরু হয় আর আচরণে তা স্থান লাভ করে৷ যেমন, সাহাবীরা৷ মুসলীমে মোনাফেক থাকতে পারে৷ যেমন, মদীনায় ছিল৷ আর মুমীনে মোনাফেক থাকেনা বা ছিলনা৷ যেমন, মক্কার সাহাবীরা৷
      আল্লাহ নিজেই কোন যায়গায় কোনটিকে বড় করেছেন, যার একটা উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, অন্যটা আমি দিলাম;-"বেদুইনরা বলে, আমরা ইমান এনেছি৷ আপনি বলেদিন; তোমরাতো ইমান আননি, বরং বল আমরা মুসলীম হয়েছি, আর ইমানতো এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, কাজেই যদি তোমরা আল্লাহ ও তার রসুলের আনুগত্য কর, তবে তিনি তোমাদের কর্মসমুহ থেকে একটুও কম করবেন না৷ নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"৷ (সুা হুজরাত-১৪)  এই আয়াতটিই মূলতঃ আমাদের আশা ভরসা ৷ভাল থাকেন৷ ধন্যবাদ৷

  5. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    যিনি মুমিন, তিনি ‘সত্য’-কে জানেন এবং হযরত মুহাম্মাদ(স) সত্য নবী, খুব সহজেই প্রমান করে দিতে পারেন। যার অন্তরে অনু পরিমান ‘সন্ধেহ’ থাকবে, সে প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। আর ‘বিশ্বাস’ দিয়ে অন্তরের সমস্ত সন্ধেহ দূর করা কখনই সম্ভাব নয়। ‘সত্য’-কে না জানা, ইহা নিজেরই ব্যর্থতা। যারা পারিবারিক সুত্রে বা সামাজিকতার জন্য মুসলমান হয়, তারা “সত্য”-কে বের করার জন্য কোরান-হাদীস নিয়ে প্রমান করতে লেগে পরে।
    ইমানের পর এবং নামাজের, রোযা, হজ্জ, জাকাতের আগে ‘জিহাদ’-র  স্থান। সর্বাবস্তায়   নিজের কু-প্রবৃত্তি-র বিরুদ্ধে জিহাদ। যে এই যুদ্ধ করে না বা করার ক্ষমতা নাই, সে কেমন করে নিজেকে ‘মুসলমান’ দাবী করে?

  6. 1
    আবদুস সামাদ

    ভাই, কিছু মনে না করলে আমি দুটো কথা বলি; পরিপূর্ণ মুসলীম আর প্রকৃত মুসলীমের মধ্যে পার্থক্য আছে কিনা তা আমার জানা নেই৷ প্রকৃত মুসলীমের সংজ্ঞা সুরা হুজরাতের ১৫ নং আয়াতে দেওয়া হয়েছে যা এমন;-"প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যারা ইমান এনেছে আল্লাহ ও তার রসুলের প্রতি, পরে কখনও সন্দেহ করেনি এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জেহাদ করেছে; তারাই সত্যবাদী লোক৷" আবার সুরা তওবার ১১১ নং আয়াতে (সংক্ষেপে বলি);  বেহেশ্তের বিনিময়ে আল্লাহ মুমীনদের জান ও মাল (বাকীতে) কিনে নিয়েছেন। তারা হত্যা করে এবং নিহতও হয়৷ সত্যতা তওরাত ও ইঞ্জীলেও আছে৷ আবার ১১২ নং আয়াতে সেই মুমীনদের চরিত্র কেমন হবে তাও বলা হয়েছে, মুমীনের চরিত্রে নয়টি গুন থাকতে হবে, যার ছয়টি ব্যাক্তিগত আর তিনটি সামাজিক৷ প্রথম ছয়টি , কলেমা, নামাজ, রোজা, তবলীগ, হজ্জ ও জাকাত৷ সামাজিক গুলো হল, ভাল কাজের আদেশ, মন্দ কাজে নিষেধ ও আল্লাহর দেওয়া শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন না করতে দেওয়া৷ বা আল্লহর বর্ডার রক্ষক৷ নতুন কিছু অনুপ্রবেশ করতে দেবেনা আর তার বাইরে যেতে বাধা দেবে৷ এর আবার তিনটি স্তর রয়েছে;-শক্তি প্রয়োগ, কথা বা লেখাদিয়ে ও মনে ঘৃণা পোষন করে৷ শেষেরটি দূর্বল ইমানের লক্ষন৷ যদি এখানেই তাদের অবস্থান হয় তবে ক্রমশঃ উপরের ধাপে ওঠার প্রচেষ্টা অবশ্যই থাকতে হবে৷ ধন্যবাদ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.